পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৪ বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান -------------------- টপিক: i) বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখা (যেমন, মাইক্রোবায়োলজি, সেরিকালচার ইত্যাদি), ii) বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র। iii) মানবদেহ, রোগের কারণ ও ভ্যাক্সিন। iv) উদ্ভিদ ও প্রাণির পুষ্টি, পরাগায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি, সালোকসংশ্লেষণ। v) তেজস্ক্রিয়তা, X-Ray, MRI, CT Scan ইত্যাদি। vi) গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক নাম ও সংকেত, কার্বন, এসিড ও ক্ষার। vii) চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ ও শব্দ, আলো, ইলেকট্রনিক্স, [নম্বর কাভার - ১০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠ থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে দেহের কোষে সরবরাহ করা হয়? 
  1. ডান নিলয় 
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. বাম অলিন্দ
সঠিক উত্তর:
বাম নিলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সিটি স্ক্যান (CT Scan) এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Computed Thermal Scan
  2. Comprehensive Tissue Scan
  3. Computerized Testing Scan
  4. Computed Tomography Scan
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা

সিটি স্ক্যান: 
- সিটি স্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটি স্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটি স্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটি স্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটি স্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটি স্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হরে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সমষ্টিগত অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের সংখ্যা কতটি? 
  1. ৭ টি 
  2. ৯ টি 
  3. ১৬ টি
  4. ১২ টি 
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।
- এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো- 
  1. অণুজীববিজ্ঞান
  2. বিবর্তনবিদ্যা
  3. এনটোমোলজি
  4. ভ্রূণবিদ্যা 
সঠিক উত্তর:
অণুজীববিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুজীববিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
MRI যন্ত্রে কোন ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয়?
  1. আলোক বিকিরণ
  2. এক্স-রে
  3. গামা বিকিরণ
  4. রেডিও তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্রটি কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই এমআরআই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আধুনিক চাষ বিষয়ক নিচের কোন জোড়াটি সঠিক? 
  1. হর্টিকালচার — মাছ চাষ
  2. এভিকালচার — রেশম চাষ
  3. প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ
  4. সেরিকালচার — মৌমাছি পালন
সঠিক উত্তর:
প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ
ব্যাখ্যা

- আধুনিক চাষ বিষয়ক সঠিক জোড়াটি হচ্ছে প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ । 

আধুনিক কৃষি ও চাষ বিষয়ক বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 

.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফল ও বীজ উৎপাদনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. অঙ্কুরোদগম
  2. পরাগায়ন 
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. আলোক সংশ্লেষণ 
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন হচ্ছে ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা-
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়। 
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 
 
২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উল্লেখ্য যে, 
- সরিষা ও কুমড়ায় স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন দুইভাবেই পরাগ সংযোগ ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. ওডোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ম্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে অডিওমিটার ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০.
কোন রক্ত কণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. ফাইব্রিনোজেন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- রক্ত হৃদপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি ও কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে (Bone marrow) রক্ত কণিকার জন্ম। 

রক্তের উপাদান (Blood Corpuscles): 
- রক্ত এক প্রকার লাল তরল যোজক কলা। 
- ইহা (ক) রক্তরস ও (খ) রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত। 

(ক) রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- রক্তের শতকরা ৫৫ ভাগই রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি, বাকি অংশে কিছু আমিষ, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এর মধ্যে যে পদার্থগুলো থাকে তা হলো- আমিষ (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন এবং ফাইব্রিনোজেন), গাড়ুকোজ, চর্বি কণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, অ্যান্টিবডি এবং বর্জ্য পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি)। 
- এছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড সামান্য পরিমাণে থাকে। 

(খ) রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়। 
যথা- ১। লোহিত রক্ত কণিকা, ২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা (R.B.C): 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্ত কণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দেহে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম। তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে এর পরিমাণ বেশি থাকে। 
- জীবনের প্রতি মুহুর্তে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে উপন্ন হয়। 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (Anemia) দেখা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি এক্স-রের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. ভেদন ক্ষমতা কম
  2. জীবন্ত কোষে কোনো প্রভাব ফেলে না
  3. গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে
  4. চুম্বকীয় বিকৃতির মাধ্যমে দিক পরিবর্তন করে
সঠিক উত্তর:
গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
মানবদেহে কোন ধরনের শর্করা সরাসরি শোষিত হয়?
  1. সরল শর্করা
  2. দ্বি-শর্করা
  3. বহু শর্করা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সরল শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল শর্করা
ব্যাখ্যা

শর্করা বা শ্বেতসার: 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 

উৎস: 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে।
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- নিম্নের সারণিতে তিন ধরনের শর্করার গঠন ও উৎস দেখানো হলো- 

- সাধারণতঃ চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার বেশি পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়, কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
নিম্নলিখিত কোনটি মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকার উদাহরণ?
  1. ধনুষ্টংকার ভ্যাকসিন
  2. কলেরা ভ্যাকসিন 
  3. ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন
  4. হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন
সঠিক উত্তর:
কলেরা ভ্যাকসিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলেরা ভ্যাকসিন 
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
নিচের কোনটি ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. প্লাটিনাম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic elements): 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ (magnedisation) থাকে না। 
- এ সকল পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে দ্বিপোলসমূহ ক্ষেত্রের অভিমুখ বরাবর সজ্জিত হওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু তাপীয় উত্তেজনা এ সজ্জিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। 
- ফলে কিছু দ্বিপোল সজ্জিত হয় এবং ক্ষেত্রের দিকে কিছু চুম্বকায়ন ঘটায় অর্থাৎ নীট ফল হিসেবে পদার্থটি একটি চৌম্বক মোমেন্ট অর্জণ করে এবং এ চৌম্বক মোমেন্টের অভিমুখ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে হয়। 

ফেরোচৌম্বকীয় পদার্থ (Ferromagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকে। ফলে, সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 

ডায়াচৌম্বকীয় পদার্থ (Diamagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয় এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- একজোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
কোন বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি?
  1. বেগুনি
  2. সবুজ
  3. লাল 
  4. নীল 
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
ব্যাখ্যা

- বেগুনি বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 

- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর হচ্ছে 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
কয়লা কোন ধরনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. হাইড্রোজেন জ্বালানি
  2. তেজস্ক্রিয় জ্বালানি
  3. পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
p-n জাংশন কোন ডিভাইসের মূল উপাদান?
  1. রেজিস্টর
  2. ডায়োড
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ক্যাপাসিটর
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
ব্যাখ্যা

- p-n জাংশন মূলত ডায়োডের মূল উপাদান। 

ডায়োড: 

- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত।
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
চুনের রাসায়নিক নাম কোনটি?
  1. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO)
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2. চুন (CaO) এর সাথে পানির (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার জলযুক্ত রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকাহাইড্রেট সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক নাম হচ্ছে হাইড্রেটেড আয়রন(III) অক্সাইড বা জলযোজিত ফেরিক অক্সাইড এবং সংকেত হলো Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
কোন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. তামা 
  2. রূপা 
  3. সিলিকন
  4. কাচ
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

- সিলিকন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যার নাম কী?
  1. পিসিকালচার
  2. মেরিকালচার
  3. এভিকালচার
  4. এপিকালচার
সঠিক উত্তর:
এপিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিকালচার
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত। 
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে এপিকালচার বলা হয়। 

রাণী মৌমাছির জীবনমান: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২১.
শব্দের তীব্রতা এবং তরঙ্গের বিস্তার কিভাবে সম্পর্কিত?
  1. তীব্রতা বিস্তারের বিপরীত
  2. তীব্রতা সরাসরি এক ধরনের বিস্তার
  3. তীব্রতা বিস্তারের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Evolution
  2. Entomology
  3. Ecology
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Ecology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ecology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু উল্লিখিত শাখা নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩.
ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. সিসমোগ্রাফ
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. পাইরোমিটার 
সঠিক উত্তর:
সিসমোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- সিসমোগ্রাফ (Seismograph) হলো সেই যন্ত্র যা ভূমিকম্প ও ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রা ও প্রকৃতি পরিমাপ করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।