পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
Exam - 15 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-3 Topic: • Written Statement (Order-8) • Appearance of Parties and Consequences of Non-appearance (Order-9) • Execution of Parties by the Court (Order-10) • Discovery, Inspection and Interrogatories ( Order-11)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
আদেশ-৯ বিধি-৩ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1. কেবল বাদী অনুপস্থিত থাকলে
  2. কেবল বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে
  3. উভয় পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে
  4. বাদী এবং বিবাদী উভয়ই উপস্থিত থাকলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৩: কোন পক্ষই হাজির না হলে মোকদ্দমা খারিজ হবে:
মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে যদি কোন পক্ষই উপস্থিত না হয়, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের নিমিত্তে আদেশ দান করতে পারবে।

Order 9 Rule 3: Where neither party appears, suit to be dismissed:
Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed.
.
প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় প্রনয়নের কত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা  করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে। যথা-
প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং 
দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।
.
আদেশ ৮ বিধি ৩ অনুসারে, বিবাদী কোন বিষয়ে তার লিখিত বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে জবাব দিতে বাধ্য নয়?
  1. আইনি ব্যাখ্যা
  2. ক্ষতিপূরণ
  3. সম্পত্তির বিবরণ
  4. আদালতের আদেশ
ব্যাখ্যা
 আদেশ ৮ বিধি-৩: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে:
বিবাদীকে তার লিখিত বিবৃতিতে বাদীর অভিযোগের কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলোর প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ব্যতীত।

Order 8 Rule 3- Denial to be specific:
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
.
Who may suggest questions during the oral examination under Order 10, Rule 2?
  1. Only the Judge
  2. Either party to the suit
  3. Only the plaintiff’s lawyer
  4. Only the defendant’s lawyer
ব্যাখ্যা
• Order 10 Rule 2- Oral examination or party of companion of party:
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.

আদেশ ১০ বিধি ২- পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি:

মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
.
যদি বিবাদী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল না করে, তবে আদালত কী করবে?
  1. অতিরিক্ত সময় দিবে
  2. মামলাটি খারিজ করবে
  3. বিবাদীকে জরিমানা করবে
  4. একতরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি (১)-
১) ৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না। আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার দখলীয় কিংবা ক্ষমতায় রক্ষিত দলিলসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবী সমন্বয় করার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত বিবৃতি পেশ করার সময় তা আদালতে উপস্থাপন করবে এবং তখনই দলিলসমূহ লিখিত বিবৃতির সাথে নথিভুক্ত করার জন্য দিবে ।

৩) শুনানির সময় বা আদালত তলব করলে তখনই দাখিল করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কিংবা উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে আদালত এরূপ দলিলাদি ফেরত প্রদান করতে পারে।

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা পাল্টা দাবীর অধিকার সমর্থনে তার দখলে ব ক্ষমতায় না থাকা অন্য প্রকার দলিলাদির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে সে লিখিত বিবৃতির সঙ্গে সংযোজন কিংবা যুক্ত করার জন্য একটি তালিকায় অনুরূপ দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ঐ দলিলাদি কার দখলে বা ক্ষমতায় আছে তা বর্ণনা করবে।

৫) যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

৬) বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
.
যদি সমন জারি না হয়ে ফেরত আসে, আদেশ-৯, বিধি-৫ অনুযায়ী বাদীকে কত দিনের মধ্যে নতুন সমনের জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১৫ দিনের মধ্যে
  3. ১ মাসের মধ্যে
  4. ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯, বিধি-৫:
(১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেওয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দেবে। তবে, যদি উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোনো কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও সেই বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছেন; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।
.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার কোন পক্ষ তলবকৃত লিখিত জবাব পেশ করতে ব্যর্থ হলে, আদেশ ৮ বিধি ১০ অনুযায়ী আদালত-
  1. মামলা খারিজ করবে
  2. তার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে
  3. মামলা সম্পর্কে অন্য কোন আদেশ দিতে পারে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১০ বিধি- লিখিত জবাব আদালত কর্তৃক দাখিলের জন্য বলা হলে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে পদ্ধতিঃ
কোন পক্ষের থেকে লিখিত জবাব তলব করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে বা মোকদ্দমা সম্পর্কে অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারে।
.
আদেশ ৯ বিধি-২ অনুসারে, কোন পরিস্থিতিতে বাদীর মামলা খারিজ হবে?
  1. বাদী আদালতে উপস্থিত না হলে
  2. বাদী লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে
  3. সময়মতো মামলার নথিপত্র দাখিল না করলে
  4. কোর্ট ফি প্রদান না করার ফলে বিবাদীর উপর সমন জারি না হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-২:
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
.
নিম্নলিখিত কোনটি আদেশ ৮ বিধি ২ অনুযায়ী বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য গ্রহণযোগ্য কারণ?
  1. বাদী প্রতারণা করেছে
  2. বাদী তার মামলা যথাসময়ে দায়ের করেননি
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি ২-
বিবাদী তার জবাবে ঐ সমস্ত বিষয়াবলী উত্থাপন করবে যা থেকে দেখা যাবে যে, মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয় অথবা বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বা বাতিলযোগ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ঐ সমস্ত হেতু উত্থাপন করবেন, যা উত্থাপন না করলে অপর পক্ষ বিস্মিত হত কিংবা আরজিতে উল্লেখ করা হয়নি এরূপ বিষয়াবলী উপস্থাপন করবেন যথা- প্রতারণা, তামাদি, মুক্তি, পরিশোধ, কার্য সম্পাদন কিংবা আইনবিরুদ্ধ প্রমাণকারী তথ্যসমূহ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে,
বিবাদী তার জবাবে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করবে যা দেখাবে যে, মামলা টিকসই নয় বা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বা বাতিলযোগ্য। এছাড়াও, এমন কারণগুলো তুলে ধরবেন, যা আগে উল্লেখ করা হয়নি এবং না বললে অপর পক্ষ আশ্চর্য হতে পারত। যেমন: প্রতারণা, মামলা দায়েরের সময়সীমা (তামাদি) পেরিয়ে যাওয়া, ঋণ পরিশোধ, চুক্তি পালন, বা অন্য কোন আইনগত প্রতিবন্ধকতা। এগুলো মামলা খারিজ করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিবাদীর প্রধান কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।.]
১০.
What type of allegations does the Court examine under Order 10 Rule 1?
  1. Witness statements
  2. The personal opinions of the plaintiff
  3. Oral arguments made by both parties
  4. Allegations mentioned in the plaint or written statement
ব্যাখ্যা
Order 10 Rule 1: Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied-
At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials.

• বিধি-১ (আরজি জবাবের অভিযোগাদি স্বীকৃত না অস্বীকৃত তা নিশ্চিতকরণ)-
আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে প্রত্যেক পক্ষ কিংবা পক্ষের উকিল হতে নিশ্চিত করবে যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে কিংবা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তি সমূহ স্বীকার না কি অস্বীকার করে, এবং যা সংশ্লিষ্ট পক্ষ দ্বারা প্রকাশ্য কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি-আদালত একই ধরণের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিসমূহ রেকর্ড করবে।
১১.
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয় এবং আইনজীবী যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আদালত-
  1. আইনজীবীকে জরিমানা করতে পারে
  2. মোকদ্দমার শুনানি মুলতুবি রাখতে পারে
  3. পক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে,
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে,
আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১২.
যদি বাদী আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দলিল উপস্থাপন না করে, তাহলে আদালত আদেশ-১১, বিধি-২১ অনুসারে-
  1. মোকদ্দমা খারিজ হতে পারে
  2. বাদীর জন্য জরিমানা নির্ধারণ করবে
  3. বাদীকে নতুন মামলা দায়েরের সুযোগ দেবে
  4. মামলার শুনানি স্থগিত করবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে, এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশ ও বিধিতে Legal Set-off সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. আদেশ ৮, বিধি ৬
  2. আদেশ ৯, বিধি ৬
  3. আদেশ ১১, বিধি ৭
  4. আদেশ ১১, বিধি ৯
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।
১৪.
আদেশ-১১ এর বিধি-২৩ অনুসারে নিম্নের কারা এই আদেশের আওতাভুক্ত?
  1. কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক বাদী ও বিবাদী
  2. কেবলমাত্র নাবালক বাদী ও বিবাদী
  3. শুধুমাত্র আদালতের আদেশ অনুযায়ী নিযুক্ত প্রতিনিধি
  4. নাবালক বাদী ও বিবাদী এবং অক্ষম ব্যক্তিদের আসন্ন বন্ধু ও অভিভাবকগণ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধিতে প্রকাশ (Discovery) অর্থ হলো এক পক্ষ কর্তৃক অন্য পক্ষকে তার দখলে বা এখতিয়ারে যে বিষয় রয়েছে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করা। বিরোধী পক্ষের দখলে আছে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত এমন কোন দলিল বা বিষয় বিরোধী পক্ষকে প্রকাশ করতে মোকদ্দমার কোন পক্ষ ১১ আদেশ অনুসারে আবেদন করতে পারে।

প্রকাশ [Discovery] ২ (দুই) প্রকার-
১. প্রশ্ন দ্বারা কোন ঘটনা বা বিষয় প্রকাশ করা[Discovery by Interrogatories]
২. কোন দলিল প্রকাশ করা [Discovery of Documents]

• ১১নং আদেশে উদঘাটন এবং পরিদর্শন সম্পর্কে যাবতীয় বিধি-বিধান রয়েছে। সেই সাথে উক্ত আদেশের বিধি ২৩ এ বলা হয়েছে-
এই আদেশ নাবালক বাদী এবং বিবাদীগণের ক্ষেত্রে এবং অক্ষম ব্যক্তিদের মোকদ্দমার জন্য তাদের আসন্ন বন্ধু ও অভিভাবকগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
[This order shall apply to minor plaintiffs and defendants, and to the next friends and guardians for the suit of persons under disability.]
১৫.
যদি আদালতে বিবাদী উপস্থিত না হয় এবং প্রমাণিত না হয় যে সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তাহলে আদালত কী করবেন?
  1. বাদীকে জরিমানা করবেন
  2. মামলাটি খারিজ করে দেবেন
  3. বিবাদীর ওপর দ্বিতীয়বার সমন জারি করার নির্দেশ দেবেন
  4. মামলাটি একতরফা বিচার করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৬:
১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বাদী উপস্থিত হয় এবং বিবাদী উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে আদালত-
ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, একতরফা বিচার করতে পারবেন।

খ) যদি প্রমাণিত না হয় যে, যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর উপর দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণ এবং জারি করার নির্দেশ দান করবেন।

গ) যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারি হয়, কিন্তু উপযুক্ত সময়ের মধ্যে নয়ঃ যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তবে বিবাদীকে সমনে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা হয়নি, তবে আদালত পরবর্তী কোনো নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করবে।
১৬.
আদেশ-৯ বিধি-৪ অনুযায়ী, মোকদ্দমা খারিজ হলে বাদী কী করতে পারেন?
  1. আপিল করতে পারেন
  2. মামলাটি স্থগিত করতে পারেন
  3. নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি ৪: বাদী নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে কিংবা আদালত কোন মোকদ্দমা পুনরায় চালু করতে পারবে:
উপরোক্ত ২ অথবা ৩ বিধি অনুযায়ী মোকদ্দমা খারিজ হলে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা রুজু করতে পারবে; কিংবা খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারবে; উক্ত ক্ষেত্রে বাদী যদি আদালতের সন্তুষ্টিক্রমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্ট ফি কিংবা সমন জারির ডাক মাশুল (যদি লাগে) দিতে না পারার বা উপস্থিত হতে না পারার যথেষ্ট কারণ দর্শাতে পারে, তবে আদালত মোকদ্দমার খারিজ রদের আদেশ দান করবে এবং মোকদ্দমার কার্যপদ্ধতি পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।

⇒ যদি আদেশ-৯ বিধি-২ বা বিধি-৩ অনুযায়ী কোনো মোকদ্দমা খারিজ হয়ে যায়, তবে বাদী তামাদি আইনের শর্তসাপেক্ষে নিম্নলিখিত দুটি পদক্ষেপ নিতে পারেন—
- নতুন মোকদ্দমা দায়ের করা;
- মোকদ্দমা খারিজের আদেশ রদের আবেদন করা।

বাদী যদি যথাযথ কারণ দেখাতে পারেন যে-
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্ট ফি বা সমন জারির ফি দিতে পারেননি, অথবা
- আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি,

এবং আদালত যদি এই কারণগুলো যথেষ্ট বলে মনে করে, তাহলে-
- আদালত মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন;
- নতুন শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।
১৭.
প্রশ্নমালা সম্পর্কে আপত্তি কীভাবে জানাতে হয়?
  1. লিখিত আবেদনের মাধ্যমে
  2. মৌখিকভাবে আদালতে জানাতে হয়
  3. হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে
  4. আইনজীবীর মাধ্যমে মৌখিক আপত্তি জানাতে হয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে।যথা-
১- প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং
২- দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

• আদেশ-১১, বিধি-৬:
প্রশ্নমালা সম্পর্কে আপত্তি-প্রশ্নমালা সম্পর্কে কোন আপত্তি (objections) হলফনামার (affidavit) মাধ্যমে করতে হয়।
১৮.
আদালত কোন পরিস্থিতিতে পক্ষগণকে অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. বাদী চাইলে
  2. বিবাদী চাইলে
  3. পক্ষগণ পারস্পরিক চুক্তি করলে
  4. আদালত যদি প্রয়োজন মনে করেন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.
১৯.
আদালতের অনুমতি ব্যতীত এক পক্ষ অপর পক্ষকে সর্বোচ্চ কত সেট প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারে?
  1. ৩ সেট
  2. ২ সেট
  3. ১ সেট
  4. সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

বিধি ১: প্রশ্নাবলী দ্বারা আবিষ্কার-
কোন মোকদ্দমায় বাদি কিংবা বিবাদিপক্ষ অপর পক্ষসমূহকে অথবা তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক জনকে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে লিখিতরূপে প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারে এবং অনুরূপ প্রশ্নমালা প্রদান করা হলে এর মধ্যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর অনুরূপ ব্যক্তির কাউকে প্রদান করতে হবে তা প্রশ্নমালার পাদটিকায় লিখিত থাকবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ অপর পক্ষকে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে এক প্রস্থের অধিক প্রশ্নমালা প্রদান করবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার সাথে কোনভাবেই সম্পর্কীত নয়, এরূপ প্রশ্নমালা সাক্ষীর মৌখিক জেরায় জিজ্ঞাসা করা চললেও এক্ষেত্রে তা অবান্তর বলে গণ্য হবে।
২০.
যদি বাদী উপস্থিত না থাকে এবং বিবাদী বাদীর দাবি স্বীকার না করে, তাহলে আদালত কী করবেন?
  1. বিবাদীর পক্ষে রায় দেবেন
  2. মোকদ্দমা খারিজ করে দেবেন
  3. নতুন সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেবেন
  4. মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য স্থগিত করবেন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি ৮: শুধু বিবাদি হাজির হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বিবাদী হাজির হয়, কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবী বা উহার অংশ স্বীকার না করলে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ প্রদান করবেন; কিন্তু বিবাদী যদি বাদীর দাবী কিংবা উহার অংশ স্বীকার করে, তাহলে আদালত ঐ অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দান করবেন, এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবী সম্পর্কে মোকদ্দমা খারিজ করবে।

Order 9 Rule 8: Procedure where defendant only appears:
Where thedefendant appears and the plaintiff does not appear when the suit is called on for hearing, the Court shall make an order that the suit be dismissed, unless the defendant admits the claim, or part thereof, in which case the Court shall pass a decree against the defendant upon such admission, and, where part only of the claim has been admitted, shall dismiss the suit so far as it relates to the remainder.
২১.
প্রশ্নমালা রদের জন্য আবেদন কতদিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১১ বিধি ৭- প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন:
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে-এই অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, বা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন দরখাস্ত করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের ভিতর পেশ করা যেতে পারে।

Order 11 Rule 7: Setting aside and striking out interrogatories:
Any interrogatories may be set aside on the ground that they have been exhibited unreasonably or vexatiously, or struck out on the ground that they are profix, oppressive, unnecessary or scandalous; and any application for this purpose may be made within seven days after service of the interrogatories.
২২.
আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী, যদি বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন যথাযথভাবে জারি না হয়, তাহলে আদালত -
  1. মামলাটি খারিজ করবে
  2. একতরফা ডিক্রি প্রদান করবে
  3. পুনরায় সমন জারির আদেশ দেবে
  4. বাদীকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলবে
ব্যাখ্যা
একতরফা ডিক্রি:
আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী বিবাদীর অনুপস্থিতিতে যে ডিক্রি প্রদান করা হয় তাহলো এক তরফা ডিক্রি। যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে বাদী হাজির হয় কিন্তু বিবাদী হাজির হয়না, সেই ক্ষেত্রে যদি এটা প্রমাণ করা যায় যে, বিবাদী বরাবর সমন যথাযথভাবে জারি করা হয়েছিল, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা বিচার করতে পারবে বা আদালত একতরফা ডিক্রি দিতে পারবে। আর যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদী বরাবর সমন যথারীতি জারি করা হয়নি, তাহলে আদালত বিবাদী বরাবর দ্বিতীয় বার সমন জারির আদেশ দিতে পারে।

আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী, বিবাদীর হাজির না হওয়ার কারণে, আদালত একতরফা ডিক্রি দিলে, বিবাদী নিম্ন লিখিত প্রতিকার পেতে পারে-
১. বিধি ১৩ এর অধীন একতরফা ডিক্রি রদকরণের আবেদন করতে পারবে;
২. বিধি ১৩ক এর অধীন এবতরফা ডিক্রি সরাসরি রদকরণের আবেদন করতে পারবে;
৩. যেহেতু একতরফা ডিক্রি একটি ডিক্রি তাই ৯৬ ধারা অনুযায়ী আপীল করা যেতে পারে;
৪. ৪৭ আদেশের ১ বিধির অধীন রিভিউর জন্য আবেদন করতে পারে।
২৩.
সেট অফ কে দাবি করতে পারে?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. মোকদ্দমায় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো পক্ষ
  4. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত পক্ষ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

• ৮ নং আদেশের বিধি-৬ঃ লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ দিতে হবে—
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে পেশকৃত মোকদ্দমায় বাদীর নিকট হতে তার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করত বাদীর দাবী পরিশোধ করতে চায়, উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ যদি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয় এবং বাদির মোকদ্দমার ন্যায় বিবাদির দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তাহলে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে তার পরে নয়, বিবাদী তার পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্যঃ আদালতকে মূল দাবী ও পারস্পরিক দাবী সমন্বয় সঙ্গে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা দিতে ক্ষমতা প্রদান করতে পারে এমন ধরণের পাল্টা মোকদ্দমার আরজির ন্যায় লিখিত বর্ণনার একই প্রকার ক্রিয়া হবেঃ
কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে এদের খরচা বাবদ কোন উকিলের দাবী থাকলে তা এতদ্বারা প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের দাবীতে বিবাদির লিখিত বর্ণনা সম্পর্কিত নিয়মাবলীসমূহ প্রদত্ত বিবৃতির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
২৪.
বিবাদী প্রশ্নমালার উত্তর দানে ব্যর্থ হলে, আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. বিবাদীর জবাব কর্তন করা হবে
  2. বিবাদীকে জরিমানা করা হবে
  3. মোকদ্দমা স্থগিত করা হবে
  4. বিবাদীকে নতুন সময় দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে, এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
২৫.
আদেশ-৯, বিধি-১৩ক কী সম্পর্কিত?
  1. আপিল দায়ের করা
  2. নতুন মামলা দায়ের করা
  3. একতরফা ডিক্রি প্রদানের শর্তসমূহ
  4. একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিল করা
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
২৬.
আদালতের অনুমতি ব্যতীত পারস্পরিক দায় শোধ বা সেট অফের দাবি কখন জানাতে পারে?
  1. যেকোনো সময়
  2. বাদীর সম্মতির ভিত্তিতে
  3. মামলার রায় ঘোষণার পর
  4. মামলার প্রথম শুনানির তারিখে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি-৬: লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ দিতে হবে-
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে পেশকৃত মোকদ্দমায় বাদির নিকট হতে তার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করত বাদীর দাবী পরিশোধ করতে চায়, উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ যদি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয় এবং বাদির মোকদ্দমার ন্যায় বিবাদির দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তাহলে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে তার পরে নয়, বিবাদি তার পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্যঃ আদালতকে মূল দাবী ও পারস্পরিক দাবী সমন্বয় সঙ্গে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা দিতে ক্ষমতা প্রদান করতে পারে এমন ধরণের পাল্টা মোকদ্দমার আরজির ন্যায় লিখিত বর্ণনার একই প্রকার ক্রিয়া হবেঃ কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে এদের খরচা বাবদ কোন উকিলের দাবী থাকলে তা এতদ্বারা প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের দাবীতে বিবাদির লিখিত বর্ণনা সম্পর্কিত নিয়মাবলীসমূহ প্রদত্ত বিবৃতির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
২৭.
আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুসারে, যদি বিবাদীকে সমন যথাযথভাবে জারি করা হয় কিন্তু নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়ার যথেষ্ট সময় না দেওয়া হয়, তাহলে আদালত-
  1. মামলার রায় ঘোষণা করবেন
  2. বিবাদীকে জরিমানা করবেন
  3. বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন
  4. পরবর্তী একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৬:
১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বাদী উপস্থিত হয় এবং বিবাদী উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে আদালত-
ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, একতরফা বিচার করতে পারবেন।

খ) যদি প্রমাণিত না হয় যে, যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর উপর দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণ এবং জারি করার নির্দেশ দান করবেন।

গ) যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারি হয়, কিন্তু উপযুক্ত সময়ের মধ্যে নয়ঃ যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তবে বিবাদীকে সমনে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা হয়নি, তবে আদালত পরবর্তী কোনো নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করবে।
২৮.
একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে কোথায় আবেদন করতে হবে?
  1. উচ্চ আদালতে
  2. আপিল ট্রাইব্যুনালে
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯, বিধি ১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১০নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি;
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারে নি।

⇒ আদেশ ৯ বিধি-১৩ অনুযায়ী,
একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে, আপিল করা যাবে (বিধি-১, আদেশ-৪৩); আবেদন মঞ্জুর হলে রিভিশন করা যায়।
২৯.
বিবাদী তার লিখিত জবাবে সেই বিষয়গুলো উত্থাপন করবে, যা থেকে দেখা যাবে যে-
  1. মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয়
  2. মোকদ্দমা দায়েরের যথেষ্ট কারণ নেই
  3. মোকদ্দমাটি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি ২-
বিবাদী তার জবাবে ঐ সমস্ত বিষয়াবলী উত্থাপন করবে যা থেকে দেখা যাবে যে, মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয় অথবা বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বা বাতিলযোগ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ঐ সমস্ত হেতু উত্থাপন করবেন, যা উত্থাপন না করলে অপর পক্ষ বিস্মিত হত কিংবা আরজিতে উল্লেখ করা হয়নি এরূপ বিষয়াবলী উপস্থাপন করবেন যথা- তক্ষকতা, তামাদি, মুক্তি, পরিশোধ, কার্য সম্পাদন কিংবা আইনবিরুদ্ধ প্রমাণকারী তথ্যসমূহ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে,
বিবাদী তার জবাবে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করবে যা দেখাবে যে, মামলা টিকসই নয় বা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বা বাতিলযোগ্য। এছাড়াও, এমন কারণগুলো তুলে ধরবেন, যা আগে উল্লেখ করা হয়নি এবং না বললে অপর পক্ষ আশ্চর্য হতে পারত। যেমন: প্রতারণা, মামলা দায়েরের সময়সীমা (তামাদি) পেরিয়ে যাওয়া, ঋণ পরিশোধ, চুক্তি পালন, বা অন্য কোন আইনগত প্রতিবন্ধকতা। এগুলো মামলা খারিজ করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিবাদীর প্রধান কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
৩০.
আদেশ-১০, বিধি-৩ অনুযায়ী, পক্ষগণের জবানবন্দির সারমর্ম কে লিখবেন?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. বিচারক
  4. উভয় পক্ষের আইনজীবী
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

বিধি-৩: জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত হতে হবে-
জবানবন্দির সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।

[Rule.-3: Substance of examination to be written-
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record]
৩১.
আদেশ-৯, বিধি-৮ এর অধীন প্রদত্ত মামলার খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিল করতে চাইলে, কোন বিধির অধীনে আবেদন করতে হবে?
  1. আদেশ ৯, বিধি ৮ক
  2. আদেশ ৯, বিধি ৯
  3. আদেশ ৯, বিধি ৯ক
  4. আদেশ ৯, বিধি ১০
ব্যাখ্যা
আদেশ-৯, বিধি-৮: শুনানির দিন বিবাদী উপস্থিত, কিন্তু বাদী অনুপস্থিত:
যদি শুনানির দিন বিবাদী হাজির হয়, কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবি বা তার কোনো অংশ স্বীকার না করলে, আদালত মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দেবেন।
বিবাদী যদি বাদীর দাবি বা তার কোনো অংশ স্বীকার করে নেয়, তবে আদালত সেই অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দেবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দেবেন।

• ৮ বিধির অধীন খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীর প্রতিকারঃ
বাদী হাজির না হওয়ার কারণে ৮ বিধির অধীন আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদী নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে-
১. মোকদমা খারিজ আদেশ বাতিলের [For setting aside the order of dismissal] জন্য ৯ বিধির অধীন আবেদন করতে পারে;
২. খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly Setting aside dismissal] জন্য ৯ক বিধির অধীন আবেদন করতে পারে।
৩২.
আদেশ ৯ বিধি-১৩ক এর অধীন একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হলে, আদালত কাকে নোটিশ প্রদান করবে?
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. সাক্ষীদের
  4. ক ও খ উভয় পক্ষকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯ বিধি-১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল:
(১) বিধি-১৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানোর এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিবাদীকে বিধি-১৩ অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি ডিক্রি রদ করতে পারবে, তবে আদালত বিবাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে:
শর্ত থাকে যে, আদালত এই বিধির অধীনে ডিক্রি রদ করবে না, যদি না বিবাদী, যিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন, ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রি রদের জন্য একটি আবেদনপত্র, অফিডেভিট সহ, আদালতে জমা দেন।
আরও শর্ত থাকে যে, একই বিবাদীর পক্ষ থেকে এই বিধির অধীনে একাধিকবার ডিক্রি রদ করা যাবে না।

(২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হওয়ার সাথে সাথে আদালত বাদীকে এ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করবে, এবং এর খরচ বিবাদী বহন করবে।
৩৩.
আদেশ-৯, বিধি-১৫ কী বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া
  2. নতুন মামলা দায়ের করার নিয়ম
  3. আদালতের আপিল বিধান
  4. খারিজকৃত মামলা পুনর্বহালের নিয়ম
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি ১৫:
যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমার খারিজ সংক্রান্ত আদেশ ৪ কিংবা ৯নং বিধির অধীনে কিংবা ১৩নং বিধির অধীনে কোন ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার পরিপ্রেক্ষিতে, খারিজ করার আদেশ দান কিংবা ডিক্রি দেয়ার অব্যবহিত পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থায় ছিল, উক্ত পর্যায় হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে।

[Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9, or a decree is set aside under rule 13, the suit shall, on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]
৩৪.
If there are many defendants and some do not appear, what will the court do?
  1. Stop the case
  2. Dismiss the case
  3. Restart the case
  4. proceed with the case
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি ১১: কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants]:
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয় এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

[Where there are more defendants than one, and one or more of them appear, and the others do not appear, the suit shall proceed, and the Court shall, at the time of pronouncing judgment, make such order as it thinks fit with respect to the defendants who do not appear.]
৩৫.
বিবাদী সর্বমোট কত কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন লিখিত জবাব দাখিলের জন্য?
  1. ১৫ কার্যদিবস
  2. ২০ কার্যদিবস
  3. ৩০ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮ নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ বিবাদীর সমন প্রাপ্তির পর ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

⇒ বিবাদী যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি হবে। বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়ার কারণে একতরফা নিষ্পত্তি করলে আপিল করা যাবে।

⇒ সাক্ষ্য হিসাবে দাবির সমর্থনে ব্যবহারের জন্য বিবাদীর দখলে থাকা দলিলসমূহ লিখিত জবাব পেশ করার সময় আদালতে হাজির করবেন এবং তখন দলিলগুলো লিখিত জবাবের সাথে নথিভুক্ত করবেন। তবে উক্ত দলিল দখলে না থাকলে, সেক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতির সাথে দলিলাদির তালিকা অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উক্ত দলিলসমূহ কার দখলে আছে তা বর্ণনা করবেন। এরুপ দলিলসমূহ লিখিত জবাব দাখিলের সময় তালিকাভুক্ত না করলে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে না।