পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৬ বিষয়: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ৩ ব্যাকরণ অংশের টপিক: প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
 'বিপচ্চয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপদ + চয়
  2. বিপৎ + চয়
  3. বিপঃ + চয়
  4. বিপদ + অয়
ব্যাখ্যা

• 'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বিপদ + চয়'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া, 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়, 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

.
'জ্বিন-পরি' কোন ধরনের শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থক 
  2. বিপরীতার্থক
  3. বিরোধার্থক
  4. সমার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. √দা+তৃ = দাতা
  2. √মা + তৃচ্ = মাতা
  3. √ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা
  4. √কৃ + তৃচ = ক্রেতা
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- তৃচ্- প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।

যেমন-
- √দা + তৃচ্ =√দা+তৃ = দা+তা = দাতা।
- √ মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
 ‘তদ্রুপ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + রূপ
  2. তদ + রূপ
  3. তৎ + রুপ
  4. তদ + রুপ
ব্যাখ্যা

 • ‘তদ্রুপ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + রূপ = তদ্রুপ।

এরুপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন।
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ। 
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন। 
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

.
'নরাধম' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
- বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- কু যে আচার - কদাচার,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'কণ্টক + ইত = কণ্টকিত' কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা  কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। এ প্রত্যয় যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে:
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল = ঊর্মিল
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
 'ক্ষুৎপিপাসা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুধ্ + পিপাসা
  2. ক্ষুধা + পিপাসা
  3. ক্ষুদ্‌ + পিপাসা
  4. ক্ষুৎ + পিপাসা
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
দ্ ও ধ্ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্ > ত্ = তদ্ + কাল = তৎকাল,
- ধ্ > ত্ = ক্ষুধ্ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
এরূপ হৃৎকম্প, তৎপর ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা
  2. ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ
  3. ঘর + আমি = ঘরামি
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'আশ্চর্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আঃ + চর্য
  2. আস্‌ + চর্য
  3. আ + চর্য
  4. আঃ + চার্য
ব্যাখ্যা

• 'আশ্চর্য' একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে-  আ + চর্য।

• আরো কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো-
- মনীষা = মনস্‌ + ঈষা,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- তস্কর = তৎ + কর,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর,
- একাদশ = এক্‌ + দশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

১০.
প্রকৃতি কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. প্রকারভেদ নেই
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু,
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- √চল্, √পড়, √রাখ, √দৃশ্, √কৃ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।

নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১১.
'চন্দনচর্চিত' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• চন্দনচর্চিত = চন্দন দ্বারা শোভিত; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

- উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: এক দ্বারা উন =একোন, বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য, পাঁচ দ্বারা কম =পাঁচ কম।

- উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: স্বর্ণ দ্বারা মন্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। এরূপ-হীরকখচিত, চন্দনচর্চিত, রত্নশোভিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২.
'ধার্য' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ধৃ + ঘ্যণ
  2. √ধা + অর্য
  3. √ধৃ + আর্য
  4. √ধা + ঘ্যণ
ব্যাখ্যা

• ঘ্যণ-প্রত্যয় [ঘ,ণ-ইৎ, য (য-ফলা) থাকে]:
- কর্ম ও ভাববাচ্যে 'ঘ্যণ' হয়।
যথা-
- √কৃ + ঘ্যণ = কার্য্য = কার্য,
- √ধৃ + ঘ্যণ = ধার্য।
এরূপ-পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৩.
'কমলাক্ষ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• 'কমলের মতো অক্ষি যার = কমলাক্ষ' মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয়।
- বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দের স্থলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। এরূপ ঊর্ণনাভ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪.
'মহৈশ্বর্য' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হবে-
  1. মহো + ঐশর্য
  2. মহা + ঐশ্বর্য
  3. মহা + ঐশর্য
  4. মহো + ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা

• মহা + ঐশ্বর্য =মহৈশ্বর্য; স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + এ = ঐ;  জন + এক = জনৈক।
- আ + এ = ঐ; সদা + এব = সদৈব।
- অ + ঐ = ঐ; মত + ঐক্য = মতৈক্য।
- আ + ঐ = ঐ; মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. দয়া + মতুপ্ = দয়ামান
  2. বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান
  3. শ্রী + মতুপ্ = শ্রীমান
  4. গুণ + বতুপ্ = গুণবান
ব্যাখ্যা

• বতুপ্ (বৎ) এবং মতুপ্ (মৎ)-প্রত্যয় :
- প্রথমার এক বচনে যথাক্রমে 'বান্ এবং 'মান্' হয়।
- বিশেষণ গঠনে,
- গুণ + বতুপ্ = গুণবান, দয়া + বতুপ্ = দয়াবান।
- শ্রী + মতুপ্ = শ্রীমান, বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬.
'পরিভ্রমণ' কোন সমাস?  
  1. প্রাদি সমাস 
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• 'পরিভ্রমণ' = পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ'- প্রাদি সমাস এর উদাহরণ। 

• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, 
- প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৭.
'সতীশ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি হবে?
  1. সতী + ঈশ
  2. সতি + ঈশ
  3. সতী + ইশ
  4. সতি + ইশ
ব্যাখ্যা

 • ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন- 
• ই+ ই = ঈ;  অতি + ইত = অতীত।
• ই+ঈ= ঈ;  পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
• ঈ+ ই = ঈ;  সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
• ঈ+ঈ= ঈ ;  সতী + ঈশ = সতীশ।
এরূপ- গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
ই-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘাটতি
  2. বাড়তি
  3. উঠতি
  4. বেড়ি
ব্যাখ্যা

• ই-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে 'ই' প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়।

যেমন:
- √ভাজ্ + ই = ভাজি,
- √বেড় + ই = বেড়ি

অন্যদিকে,
তি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'তি' প্রত্যয় হয়।

যেমন
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি,
- √বাড় + তি = বাড়তি।
এরূপ – কাটতি, উঠতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৯.
'বোঁটাখসা' কোন সমাস?  
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- বীণা পানিতে যার = বীণাপাণি।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন -
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
অনুরূপভাবে - ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবস্তু, কমবস্তু ইত্যাদি।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যথা: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এমনি ভাবে -চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। এমনি ভাবে গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০.
'উ+ উ = ঊ' এই নিয়মে কোন শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. মরূদ্যান
  2. বহূর্ধ্ব
  3. বধূৎসব
  4. ভূর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সুত্র:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়;
- উ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- উ+ উ = ঊ; মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
- উ+ ঊ = ঊ; বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- ঊ+ উ = ঊ; বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ঊ+ ঊ = ঊ; ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. মিথ্যুক
  3. নিন্দক
  4. চড়ক
ব্যাখ্যা

•  কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২২.
'জলদ' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৩.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. মার্তণ্ড
  2. প্রৌঢ়
  3. গবাক্ষ
  4. শুদ্ধাদোন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধাদোন সঠিক নয়।
• শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন সঠিক শব্দ।

• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:

- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন -
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)।
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)।
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড।
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর
  2. √জাগরণ + ঊক = জাগরূক
  3. √ নম্ + রো = নম্র
  4. √ স + ইষ্ণু = সহিষ্ণু
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উক/ঊক-প্রত্যয়:
• ভৌ + উক = ভাবুক;
• জাগর + ঊক = জাগরূক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫.
'যথারীতি' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয়ীভাব সমাস হলো এমন এক প্রকার সমাস যেখানে পূর্বপদের অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং সমাসবদ্ধ পদটি অব্যয়ের অর্থযোগে গঠিত হয়। 
বৈশিষ্ট্য: 
এই সমাসে সাধারণত অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়।
ব্যাসবাক্যটি কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে রচিত হয়। 
উদাহরণ: 
- সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ (কণ্ঠের কাছাকাছি), কূলের সমীপে = উপকূল।
- বিপ্সা (অনু, প্রতি): দিন দিন = প্রতিদিন (প্রতিটি দিন), ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
- অভাব (নিঃ = নির): আমিষের অভাব = নিরামিষ (আমিষবিহীন)
- পর্যন্ত (আ): মরণ পর্যন্ত = আমরণ (মরণ পর্যন্ত)
- সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর (শহরের মতো)
- অনতিক্রম্যতা (যথা): রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি (রীতি অনুযায়ী)
- অতিক্রান্ত (উৎ): বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল (বেলা পেরিয়ে গেছে এমন)
- বিরোধ (প্রতি): বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ (বিরুদ্ধ মত)
- পশ্চাৎ (অনু): পশ্চাৎ গমন = অনুগমন (পেছনে যাওয়া), অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৬.
'দুস্তর' শব্দের  সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুসত্‌ + অর
  2. দুঃ + তর
  3. দু + তর
  4. দুস্‌ + তর
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়।

যেমন:
সূত্র: ( + ত/ থ = স + ত / থ)-
• দুঃ + তর = দুস্তর।
• দুঃ + থ = দুস্থ।

সূত্র: (+চ/ছ = শ+চ / ছ)-
• নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
• শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

সূত্র: ( + ট / ঠ = ষ + ট/ ঠ)-
• ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
• নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৮)।

২৭.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. চলন্ত
  2. প্রাণী
  3. কলু
  4. ছাত্রী
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √ চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত,
- √ কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

অন্যদিকে,
• 'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ'
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ।

• 'উ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- কলু = কল + উ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

২৮.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. তেপায়া
  2. জীবন্মৃত
  3. ঘরমুখো
  4. বিড়ালচোখী
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা-
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
এরকম দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের চৌচালা। এরূপ - চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি:
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস যা কোনো সাধারণ ব্যাকরণগত নিয়মের অধীনে থাকে না এবং এর ব্যাসবাক্য বা বিশ্লেষণ স্বাভাবিক নিয়মে হয় না। এগুলি বিশেষ বা ব্যতিক্রমী প্রয়োগ।  
উদাহরণ:
- দ্বীপ = দু দিকে অপ (জল) যার.
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ (জল) যার.
- নরপশু = নরাকারের পশু যে.
- জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত.
- পণ্ডিতমূর্খ = পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ. 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি :
- মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরণের বহুব্রীহি সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের (যে বাক্য দিয়ে সমাসবদ্ধ পদকে ব্যাখ্যা করা হয়) মধ্যবর্তী কোনো অংশ সমস্তপদে (সমাসবদ্ধ পদ) লোপ পায় বা বাদ পড়ে যায়। 
উদাহরণ: 
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী (এখানে 'চোখের ন্যায়' অংশটি লোপ পেয়েছে)।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি (এখানে 'দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে' অংশটি লোপ পেয়েছে)। 
অন্যান্য উদাহরণ: 
- গায়ে হলুদ।
- মেনিমুখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. অহঃ + নিশা = অহর্নিশ
  2. অহঃ + নিশ = অহর্নিশ
  3. অহঃ + নিশা = অহর্নিশা
  4. অহ + নিশ = অহর্নিশ
ব্যাখ্যা

• 'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - অহঃ + নিশা।

• বিসর্গ সন্ধি:
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩০.
'ছিন্ন' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ছিদ্ + ক্ত
  2. √ছিন্ + ন
  3. √ছিদ্ + ন
  4. √ছিদ্ + ন্ন
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয়:
- ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

৩১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1.  চলৎ + শক্তি = চলৎশক্তি
  2.  চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি
  3.  চলৎ + শক্তি = চলতশক্তি
  4.  চলৎ + শক্তি = চলচ্চক্তি
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
- ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ - এর স্থলে চ এবং শ - এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়।

যেমন -
- চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল,
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।