পরীক্ষা আর্কাইভ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

পরীক্ষাফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্টতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১৯৬
সিলেবাস
Live MCQ ফ্রি সাপ্তাহিক ফুল মডেল টেস্ট: বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর ২০০ নাম্বারের ফুল মডেল টেস্ট। [Live MCQ - তে প্রতি শুক্রবার সবার জন্য ফ্রি একটি ফুল মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯৬ প্রশ্ন

.
"A knavish speech sleeps in a foolish ear."
-This witty line is taken from-
  1. The Merchant of Venice
  2. As You Like It
  3. Hamlet
  4. Othello
ব্যাখ্যা

• "A knavish speech sleeps in a foolish ear."
- This witty line is taken from Hamlet.

- Hamlet, Act IV, Scene ii-তে Hamlet এই লাইনটি Rosencrantz-কে বলেছে, যখন Rosencrantz তার কথার অর্থ বুঝতে পারেনি।
- যখন Rosencrantz বলে “I understand you not, my lord.”—অর্থাৎ, Hamlet-এর ইঙ্গিতপূর্ণ কথার অর্থ সে বুঝতে পারেনি বলে, তখন Hamlet উত্তর দেয়, “I am glad of it. A knavish speech sleeps in a foolish ear.”

• Hamlet:
- William Shakespeare রচিত tragedy গুলোর মধ্যে Hamlet is one of the most celebrated tragedies in English literature.
- এটি একটি 5acts বিশিষ্ট tragedy.
- ১৫৯৯-১৬০১ সালের মধ্যে লেখা এই tragedy টি প্রকাশিত হয় 1603 সালে।
- এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Prince Hamlet ছিলেন 'prince of Denmark' যিনি  জার্মানি থেকে নিজ দেশে ফিরে আসে তাঁর বাবার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ  করতে এবং জানতে পারে যে তার চাচা Claudius তার মাকে বিয়ে করেছে এবং এই চাচাই তার বাবার খুনী।
- সত্য উদঘাটনের পর বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মধ্যে দিয়ে tragedy -এর কাহিনী সামনে এগিয়ে যায় এবং শেষাংশে Hamlet -এর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এই tragedy -র সমাপ্তি ঘটে।

• Main characters of Hamlet:
- Hamlet,
- Ophelia,
- Claudius,
- Gertrude,
- Horatio (Loyal and Best friend of Hamlet),
- Polonius (Ophelia's Father),
- Laertes (Ophelia's brother),
- Rosencrantz,
- Guildenstern, etc.

• Famous quotations from Hamlet:
- "To be or not to be that is the question."
- "Frailty, thy name is woman."
- "Brevity is the soul of wit."
- "Listen to many, speak to a few."
- "Though this be madness, yet there is method in't."
- "Conscience does make cowards of us all."
- "One may smile, and smile, and be a villain."
- "There's a divinity that shapes our ends,
Rough-hew them how we will."
- "There is nothing either good or bad, but thinking makes it so."
- "There are more things in heaven and earth, Horatio,
Than are dreamt of in your philosophy."

• William Shakespeare (1564-1616):
- William Shakespeare একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে 'English National Poet' বলা হয়।
- Stratford-upon-Avon -এ জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে Bard of Avon বা Swan of Avon বলা হয়।
- তাকে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
- Shakespeare occupies a unique position in world literature.
- William Shakespeare মূলত তাঁর Drama and Sonnet -এর জন্য পরিচিত।
- তিনি মোট ১৫৪ টি sonnet এবং ৩৭ টি play লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি Long narrative poem ও লিখেছেন।

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.

.
The poem "The Waste Land" opens with a reference to which season?
  1. Summer
  2. Spring
  3. Autumn
  4. Monsoon
ব্যাখ্যা

• The correct answer: খ) Spring.

- The Waste Land-এর opening lines-এ April এবং spring rain-এর উল্লেখ আছে।

• Opening lines:
"April is the cruellest month, breeding
Lilacs out of the dead land, mixing
Memory and desire, stirring
Dull roots with spring rain.
Winter kept us warm, covering
Earth in forgetful snow, feeding
A little life with dried tubers."
—from “I. The Burial of the Dead,” The Waste Land.

• The Waste Land:
- It is a long poem by T.S. Eliot. 
- কবিতার লাইন সংখ্যা ৪৩৩ টি।
- এই কবিতাটি উৎসর্গ করা হয়েছিল আরেক জন প্রথিতযশা আধুনিক কবি Ezra Pound কে। 
- ২০ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী কবিতা এটি। 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিবর্তিত পরিস্থিতি এই কবিতার আলোচ্য বিষয়। এই কবিতাটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
- কবিতাটি ৫ টি Part -এ বিভক্ত।

• The Five Parts are:
- 'The Burial of the Dead',
- 'A Game of Chess',
- 'The Fire Sermon',
- 'Death by Water' (shortest),
- 'What the Thunder Said'.

• T. S. Eliot (1888-1965):
- তার পুরো নাম Thomas Stearns Eliot.
- T.S. Eliot ছিলেন একজন প্রখ্যাত আমেরিকান কবি, নাট্যকার, এবং সাহিত্য সমালোচক, যিনি আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর অভিনব রচনা এবং গুরত্বপূর্ণ চিন্তাধারার জন্য পরিচিত।
- Eliot -কে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক বিবেচেনা করা হয়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী একজন কবি, যিনি আধুনিক কবিতার ধারায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

• Famous Poems:
- The Waste Land,
- Ash Wednesday,
- Four Quartets,
- The Sacred Wood (Collection of Essays), etc.

• Famous plays:
- Murder in the Cathedral,
- The Cocktail Party,
- The Family Reunion,
- The Elder Statesman, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

.
"Come forth into the light of things, let nature be your teacher" is taken from the poem of-
  1. T. S. Eliot 
  2. S. T. Coleridge
  3. William Wordsworth  
  4. P. B. Shelley
ব্যাখ্যা

• “Come forth into the light of things, let Nature be your teacher.” is taken from the poem of William Wordsworth.
- এই বিখ্যাত লাইনটি তার lyrical poem 'The Tables Turned' থেকে নেওয়া হয়েছে।

• The Tables Turned:
- "The Tables Turned" কবিতাটি William Wordsworth-এর রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা, যেখানে তিনি প্রকৃতির মাহাত্ম্য ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- It is a lyrical poem included in his 1798 collection Lyrical Ballads.
- "The Tables Turned" কবিতায় কবি একজন বন্ধুকে আহ্বান করছেন বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের বদলে প্রকৃতির কোলে গিয়ে শেখার জন্য।
- তিনি বলেন, প্রকৃতি নিজেই এক জ্ঞানের উত্স, যেখানে মানুষ হৃদয় দিয়ে শিখতে পারে। বইপত্র কেবল মুখস্তবিদ্যার মাধ্যম, কিন্তু প্রকৃতি আমাদের সত্যিকার জ্ঞান, আনন্দ ও শান্তি দেয়।

• Famous Lines:
- "Come forth into the light of things,
Let Nature be your teacher."
- "এসো প্রকৃতির আলোতে,
প্রকৃতিই হোক তোমার শিক্ষক।"

• William Wordsworth (1770–1850):
- তিনি Romantic Period -এর একজন English poet ছিলেন।
- তিনি ১৮৪৩ সালে ইংল্যান্ডের Poet Laureate হন এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই ভূমিকা পালন করেন।
- Wordsworth -এর জন্ম Northern England -এর Lake District এ হওয়ায় তাকে Lake Poet বলা হয়।
- He is called the Poet of Nature, the Poet of Childhood.
- তার কবিতায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
- তিনি শৈশবকাল থেকেই প্রকৃতির প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন।
- Wordsworth -এর লেখার শৈলী সহজ ও প্রাকৃতিক, যা সাধারণ মানুষের ভাষা এবং অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে।

• His famous quotations:
- Every great poet is a teacher.
- 'I wandered lonely as a cloud',
- 'Child is the father of man',
- 'Our birth is but a sleep and a forgetting',
- 'Nature never did betray the heart that loved her',
- 'Come forth into the light of things, let nature be your teacher',
- 'Poetry is the breath and the finer spirit of all knowledge',
- 'Poetry is the spontaneous overflow of powerful feelings: it takes its origin from emotion recollected in tranquillity.'
- 'Ten thousand saw at a glance Tossing their heads in sprightly lance'.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

.
Which one is considered the finest example of the absurd play?
  1. Murder in the Cathedral
  2. Waiting for Godot
  3. Pygmalion
  4. The Importance of Being Earnest
ব্যাখ্যা

• "Waiting for Godot" is considered the finest example of the absurd play.

- Samuel Beckett-এর Waiting for Godot-কে Theatre of the Absurd-এর শ্রেষ্ঠ/সেরা উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
- ইংরেজি সাহিত্যে এটি absurd drama-এর সবচেয়ে representative work হিসেবে স্বীকৃত।

• Waiting for Godot:
- It is an Absurd play.
- এটি একটি two-act বিশিষ্ট tragic-comedy too.
- ১৯৫২ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- Waiting for Godot is Beckett's translation of his own original French-language play, En attendant Godot.
- Waiting for Godot was a true innovation in drama and the Theatre of the Absurd’s first theatrical success.

• নাটকের গল্প দুটি প্রধান চরিত্র, Vladimir এবং Estragon কে নিয়ে, যারা একটি গাছের নিচে বসে অপেক্ষা করে একজন ব্যক্তি "Godot"-এর জন্য। তারা বিশ্বাস করে যে Godot তাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করবে, কিন্তু Godot আসে না। নাটকে দেখা যায়, Vladimir ও Estragon এর জীবনের একঘেয়েমি, হতাশা, এবং সমাজের অস্থিরতা উঠে আসে। তারা অপেক্ষা করতে থাকে, কিন্তু Godot আসবে কিনা তা জানে না।

- "Waiting for Godot" মানবজীবনের অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, এবং অস্তিত্বের মানে খোঁজার একটি প্রতীকী কাহিনী।

• Samuel Beckett (1906-1989):
- Samuel Beckett একজন আইরিশ নাট্যকার, লেখক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- Beckett ফরাসি ও ইংরেজি—এই দুই ভাষাতেই সাহিত্য রচনা করতেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হলো "Waiting for Godot" (১৯৫২), যা একটি অস্তিত্ববাদী নাটক এবং আধুনিক থিয়েটারে এক যুগান্তকারী কাজ হিসেবে বিবেচিত।

• Best Works: (play)
- Waiting for Godot,
- Endgame,
- Happy Days.

অন্যদিকে,
ক) Murder in the Cathedral → T. S. Eliot-এর Poetic Drama/verse drama, absurd play নয়।

গ) Pygmalion → George Bernard Shaw-এর social comedy.

ঘ) The Importance of Being Earnest → Oscar Wilde-এর comedy of manners.

- এসব নাটক গুরুত্বপূর্ণ হলেও absurd play-এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ নয়।

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

.
What figure of speech is found in the expression, "O Wild West Wind"?
  1. Simile
  2. Hyperbole
  3. Apostrophe
  4. Metaphor
ব্যাখ্যা

• The correct answer is - গ) Apostrophe.

- “O Wild West Wind”-এ কবি West Wind-কে সরাসরি সম্বোধন করেছেন।
- অর্থাৎ, একটি জড়/অমানবীয় বস্তুকে যেন জীবন্ত সত্তা ধরে তাকে ডাকা হয়েছে। এই ধরনের figure of speech-কে Apostrophe বলে।

• Apostrophe (সম্বোধন অলঙ্কার):
- An address to someone absent or something abstract, as if the person or the thing were present.
- যখন কবি/বক্তা কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তি, মৃত ব্যক্তি, বিমূর্ত ধারণা, বা জড় বস্তুকে সরাসরি সম্বোধন করেন, তখন তাকে Apostrophe বলে।
- By using an apostrophe, a speaker turns from the audience to address a single person or thing.
- অর্থাৎ, এখানে ডাকার ভঙ্গি মুখ্য।

More Example:
- "O Death! where is thy sting?", এখানে Death-কে সরাসরি সম্বোধন করা হয়েছে।

-------------
অন্যদিকে,
ক) Simile (উপমা):
- An explicit comparison between two different things is called a simile.
- Usually, as and like are used in it. In simile, the resemblance is explicitly indicated by the words.
- অর্থাৎ, দুটি ভিন্নধর্মী জিনিসের মধ্যে As  ও Like দ্বারা তুলনা বোঝালে তাকে Simile বলে।
- উপমেয়ের সাথে উপমানের সাদৃশ্য কল্পনা করা।
- যেমন: Love is like a battlefield.

খ) Hyperbole (অতিশয়োক্তি):
- An exaggerated statement or an extreme overstatement.
- অতিশয়োক্তি; অত্যুক্তি; অতিরঞ্জন।
- কমেডিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জিত ভাব প্রকাশের জন্য Hyperbole ব্যবহৃত হয়। 
- Love poetry তে প্রিয়জনের প্রতি তীব্র প্রশংসা জানাতে Hyperbole ব্যবহৃত হয়। 
- Hyperbole হাসির উদ্রেক অথবা কঠিন সমালোচনা প্রকাশ করতে পারে।

- যেমন: "Ten thousand saw I at a glance," (Wordsworth: Daffodils). 

ঘ) Metaphor (রূপকালংকার):
- A metaphor is a direct comparison between two unlike things without using “like” or “as”.
- যখন কোনো বাক্যে দুটি ভিন্ন বা বিজাতীয় জিনিসের মাঝে পরোক্ষভাবে বা রূপকার্থে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় Metaphor.
- সাধারণত Metaphor দ্বারা এমন দুইটি জিনিসের মধ্যে তুলনা দেওয়া হয় যারা একই রকম বা সদৃশ নয় কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ মিল থাকে।
- যেমন: Life is but a walking shadow.

Source:
1. Literary terms.net
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

.
Who composed the poem "Ode to a Nightingale"?
  1. John Keats
  2. William Wordsworth
  3. P. B. Shelley
  4. Lord Byron
ব্যাখ্যা

• John Keats composed the poem "Ode to a Nightingale".

• Ode to a Nightingale:
- John Keats রচিত "Ode to a Nightingale" কবিতাটি প্রকৃতি, সৌন্দর্য, মৃত্যু এবং বাস্তবতা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লেখা এক অনন্য সৃষ্টি।
- আটটি স্তবকে রচিত কবিতা যা "Lamia, Isabella, The Eve of St. Agnes, and Other Poems" (১৮২০) গ্রন্থে প্রকাশিত হয়।
- এটি কবির বাগানে বাসা বাঁধা একটি বুলবুলির গানের দ্বারা অনুপ্রাণিত।
- এই কবিতাটিকে গণ্য করা হয় meditation upon art and life হিসেবে।
- কবিতায় মূলত Nightingale পাখিকে দেখানো হয়েছে অমরত্বের প্রতীক হিসেবে।
- "Ode to a Nightingale" কবিতায় Keats প্রকৃতি ও কল্পনার মধ্য দিয়ে বাস্তব জীবনের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তবে কবি বুঝতে পারেন যে, মানুষকে বাস্তবতা মেনে নিতেই হয়।

• Famous Lines of this Poem:
- "Thou wast not born for death, immortal Bird!"
- "Forlorn! the very word is like a bell"
- "My heart aches, and a drowsy numbness pains
My sense, as though of hemlock I had drunk"

• John Keats (1795-1821):
- John Keats একজন English Romantic lyric poet ছিলেন।
- তিনি প্রকৃতি, সৌন্দর্য, কল্পনা ও মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়ে গভীরভাবে লিখেছেন।
- তিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সে মারা গেলেও, তার লেখা কবিতা তাকে চিরস্মরণীয় কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে, sonnets, odes, and epics ইত্যাদি। 
- তার কাব্য সৌন্দর্য, কল্পনা ও মানব অভিজ্ঞতার গভীর উপলব্ধির জন্য আজও বিশ্ব সাহিত্যে অনন্য স্থান অধিকার করে আছে।

• John Keats এর Title গুলো হলো:
- Poet of Beauty,
- Poet of sensuousness,
- A Death Hunted Poet,
- The Youngest Poet of English Literature.

• His famous poems:
- Ode on a Grecian Urn,
- Ode on Melancholy,
- Ode to a Nightingale,
- Ode to Psyche,
- To Autumn,
- Isabella,
- Hyperion,
- Lamia,
- Bright Star,
- The Eve of St.
- La Belle Dame Sans Merci,
- On First Looking into Chapman's Homer, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

.
In Jane Austen's novel Pride and Prejudice, what is the name of the Bennet Family's home?
  1. Pemberly
  2. Meryton
  3. Longbourn
  4. Netherfield Park
ব্যাখ্যা

- Jane Austen -এর উপন্যাস "Pride and Prejudice"-এ Longbourn হলো Bennet family-র বাড়ির নাম।
- উপন্যাসে Bennet পরিবার Longbourn estate-এ থাকে, যা Hertfordshire, England-এ অবস্থিত।

• Pride and Prejudice:
- Romantic period -এর ঔপন্যাসিক Jane Austen -এর লেখা বিখ্যাত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮১৩ সালে তিনটি ভলিউমে প্রকাশিত হয় এবং এই উপন্যাসের মূল নামকরণ করা হয়েছিল: First Impressions.
- বুদ্ধিদীপ্ত উপমা এবং চরিত্রগুলোর চমৎকার উপস্থাপনা ও বর্ননার কারনে ইংরেজি সাহিত্যে এই উপন্যাসটি একটি classic হিসেবে বিবেচিত।
- কাহিনির শুরু হয় Bennet পরিবারের সদস্য বিশেষ করে পরিবারের বড় মেয়ে Elizabeth Bennet এর সাথে Fitzwilliam Darcy নামক একজন জমিদারের সম্পর্কে নিয়ে।
- Elizabeth Bennet এবং Fitzwilliam Darcy একে অপরের প্রেমে পড়তে চায়, কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় যুক্তিহীন কিছু পূর্ব ধারণার কারণে।
- উপন্যাসে Bennet প্রথমে Mr. Darcy–কে অহংকারী ও গর্বিত মনে করলেও ধীরে ধীরে ভুল ধারণা ভেঙে যায়। এলিজাবেথের চরিত্রের মাধ্যমে জেন অস্টেন নারীর বুদ্ধিমত্তা, নৈতিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

• Main characters:
- Mr. Bennet,
- Mrs. Bennet,
- Elizabeth Bennet,
- Fitzwilliam Darcy,
- Mary Bennet,
- Jane Bennet,
- Catherine Bennet,
- Charles Bingley,
- George Wickham, etc.

• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি-
- 'It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife'.'

• Jane Austen (1775-1817):
- Jane Austen ছিলেন একজন ইংরেজ উপন্যাসিক।
- তিনি একজন English novelist from the Romantic Period and known as an anti romantic novelist.
- যিনি সামাজিক আচরণ, নারীদের জীবন, এবং তাঁর চরিত্রগুলোর রোম্যান্টিক জটিলতা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত।
- তাঁর লেখা উপন্যাসগুলো সাধারণত ১৮শ শতকের শেষ ও ১৯শ শতকের প্রাথমিক সময়ের ব্রিটিশ জমিদার শ্রেণির সমালোচনা করে।
- She first gave the novel its distinctly modern character through her treatment of ordinary people in everyday life.

• Notable works:
- Emma,
- Pride and Prejudice,
- Persuasion,
- Lady Susan,
- Mansfield Park,
- Northanger Abbey,
- Sense and Sensibility, etc.

অন্যদিকে,
- Pemberley হলো Mr. Darcy-র estate.

- Meryton হলো Longbourn-এর কাছে একটি town/village, Bennet family-র বাড়ি নয়।

- Netherfield Park হলো Mr. Bingley যে estate ভাড়া নেয়।

Source: Britannica.

.
“Bury the Dead” is a/an __________.
  1. Romantic comedy
  2. Anti-war drama
  3. Historical tragedy
  4. Farce
ব্যাখ্যা

• “Bury the Dead” is an Anti-war drama.

• Bury the Dead:
- “Bury the Dead” হলো আমেরিকান নাট্যকার Irwin Shaw -এর লেখা একটি যুদ্ধ-বিরোধী নাটক।
- এটি মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানুষের মনস্তত্ত্ব, যুদ্ধের নির্মমতা ও মানবিকতা নিয়ে লেখা।
- নাটকটি দেখায় যে যুদ্ধ শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, বরং মানুষের মানসিক ও নৈতিক ক্ষতি করে।
- He wrote his pacifist one-act play Bury the Dead for a 1935 contest; though it lost, the play appeared on Broadway the next year, the first of his 12 plays that were professionally produced.
- "Bury The Dead" নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে মুনীর চৌধুরীর 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছে।

• Irwin Shaw (1913-1984):
- তার প্রকৃত নাম Irwin Gilbert Shamforoff.
- একজন প্রখ্যাত আমেরিকান সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি গল্প, উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন এবং মূলত মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচিত।
- Shaw studied at Brooklyn College (B.A., 1934) এবং ২১ বছর বয়সে জনপ্রিয় অ্যান্ডি গাম্প এবং ডিক ট্রেসি রেডিও অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট লেখার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

• Notable Works:
- Bury the Dead (play),
- The Big Game (play).

• Novels:
- Rich Man, Poor Man,
- The Young Lions,
- Two Weeks in Another Town,
- Evening in Byzantium,
- Beggarman, Thief, etc.

Source: Britannica.

.
Who created the character "Friday"?
  1. Charles Dickens
  2. Daniel Defoe
  3. E. M. Forster
  4. Henry Fielding
ব্যাখ্যা

• Daniel Defoe created the character "Friday".

- "Friday" চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন ইংরেজ ঔপন্যাসিক Daniel Defoe, তিনি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস Robinson Crusoe-তে এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন।

• Robinson Crusoe:

- "Robinson Crusoe" হলো English novelist - Daniel Defoe রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৭১৯ সালে।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম বাস্তবধর্মী উপন্যাসগুলোর মধ্যে একটি এবং অ্যাডভেঞ্চার সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
- এর কেন্দ্রীয় চরিত্র, Robinson Crusoe -এর নামে novel টি নামকরণ করা হয়েছে।
- Robinson Crusoe হচ্ছে Defoe's first long work of fiction.

• Summary:
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র Robinson Crusoe, একজন ইংরেজ নাবিক, তিনি ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সমুদ্রযাত্রায় গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়।
- জাহাজডুবির ফলে একটি নির্জন দ্বীপে আটকা পড়ে। সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই, নিজের টিকে থাকার চেষ্টা এবং মানব সভ্যতার চিহ্ন তৈরি করার গল্প উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু। পরে সে Friday নামে এক আদিবাসীকে রক্ষা করে এবং তাকে সহচর হিসেবে গ্রহণ করে।
- সেখানেই বাড়ী তৈরী করেন, ফসল উৎপাদন শুরু করেন।
- তারপর একপর্যায়ে জঙ্গলের মানুষখেকোদের সাথেও লড়াই করেন।
- স্পেনের দখলে আসার পর তিনি তিন দশক পর লন্ডনে ফিরেন।
- "Robinson Crusoe" প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম, ধৈর্য, পরিশ্রম, আত্মনির্ভরশীলতা ও বিশ্বাস নিয়ে লেখা একটি ক্লাসিক সাহিত্যকর্ম, যা আজও জনপ্রিয়।

• Main characters:
- Robinson Crusoe,
- Xury,
- Friday, etc.

Daniel Defoe (1660-1731):
- Daniel Defoe ছিলেন ইংরেজ ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
- তিনি আধুনিক ইংরেজি উপন্যাসের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তার সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম "Robinson Crusoe" (১৭১৯), যা তাকে বিশ্বসাহিত্যে অমর করে তোলে।
- তিনি তার লেখায় সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মধ্যবিত্ত সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
- তার রচনাশৈলী সহজ ও প্রাণবন্ত, যা পাঠকদের সহজেই আকৃষ্ট করে।

• Notable works:
- Robinson Crusoe,
- Colonel Jack,
- Captain Singleton,
- Moll Flanders, etc.

Source: Britannica.

১০.
Which of the following works reflects a 'social realism'?
  1. Thyrsis
  2. Ulysses
  3. Dover Beach
  4. Great Expectations
ব্যাখ্যা

• The correct answer is: ঘ) Great Expectations.

- Social realism হলো সমাজের বাস্তব চিত্র—দারিদ্র্য, শ্রেণিবিভাগ, সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক চাপ, অপরাধ-কারাগার ব্যবস্থা, মানুষের বাস্তব জীবনসংগ্রাম—এসবকে বাস্তবধর্মীভাবে দেখানো।

- Charles Dickens-এর Great Expectations–এ Victorian ইংল্যান্ডের class system, poverty, social mobility ইত্যাদি খুব বাস্তবভাবে উঠে এসেছে।

• Great Expectations:
- ১৮৬০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস টি Charles Dickens এর অন্যতম সেরা উপন্যাস।
- গল্প শুরু হয়েছে Kent শহর থেকে।
- ১৮ শতকের গোড়ার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে -এমন একটি সময় যখন, ইংল্যান্ড অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ থাকছে সমাজে, যারা নানা কারণে অসুখী। সমাজে বিদ্যমান শ্রেণী বৈষম্যর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
- Charles Dickens -এর 'Great Expectations' উপন্যাসটি মূলত সামাজিক শ্রেণি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কাহিনিতে এতিম Pip -এর গল্প বলা হয়েছে, যে নিজের সাধারণ জীবন থেকে উঠে একজন ভদ্রলোক হয়ে উঠতে চায়, বিশেষ করে যখন সে এক রহস্যময় আর্থিক সহায়তা পায়।

- এই মূল বিষয়টি উপন্যাসে ফুটে উঠেছে Pip -এর আত্ম-অন্বেষণ ও নৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে। সে শিখতে পারে যে সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদ আসল সুখ বা নৈতিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করে না। Dickens এই গল্পের মাধ্যমে ভিক্টোরিয়ান সমাজের কঠোর শ্রেণিবিন্যাস ও সম্পদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাবের সমালোচনা করেছেন।

• Main characters: 
- Pip (Philip Pirrip),
- Joe Gargery,
- Abel Magwitch,
- Estella Havisham,
- Miss Havisham, etc.

• Charles Dickens (1812-1870):
- Charles Dickens was an English novelist, generally considered the greatest of the Victorian era.
- তিনি মূলত তাঁর A Christmas Carol, David Copperfield, Bleak House, A Tale of Two Cities, Great Expectations, Our Mutual Friend ইতাদি উপন্যাসের জন্য তাঁর জীবদ্দশায়ই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।

• Notable Works:
- A Christmas Carol,
- David Copperfield,
- Bleak House,
- A Tale of Two Cities,
- Great Expectations,
- Our Mutual Friend,
- Hard Times, etc.

অন্যদিকে,
• Thyrsis → Matthew Arnold-এর pastoral elegy (লেখকের বন্ধু Clough-এর স্মৃতিতে শোকগাথা), social realism নয়।

• Ulysses → James Joyce-এর modernist উপন্যাস; মূল ফোকাস stream of consciousness/modernist technique.

• Dover Beach → Matthew Arnold-এর lyric poem, faith crisis/modern uncertainty.

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.

১১.
The witty play 'The Importance of Being Earnest' was authored by-
  1. J. M. Synge
  2. Oscar Wilde
  3. G. B. Shaw
  4. Samuel Beckett
ব্যাখ্যা

• The witty play 'The Importance of Being Earnest' was authored by Oscar Wilde.

​• The Importance of Being Earnest:
- Oscar Wilde রচিত একটি three acts play.
- The Importance of Being Earnest, in full The Importance of Being Earnest: A Trivial Comedy for Serious People.
- ১৯৯৫ সালে নাটক টি প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল এবং ১৮৯৯ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত একটি social satire about Victorian social hypocrisy.
- The witty play is considered Wilde’s greatest dramatic achievement.

• ​Oscar Wilde: 
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন Dublin, Ireland এ।
- তিনি একজন Irish Author.
- তিনি একাধারে Irish wit, poet, dramatist and novelist.
- He was a spokesman for the late 19th-century Aesthetic movement in England, which advocated art for art’s sake.

• Notable works: 
​- A Woman of No Importance,
- The Importance of Being Earnest,
- The Picture of Dorian Gray,
- An Ideal Husband,
- Intentions,
- The Happy Prince and Other Tales, etc.

Source: Britannica.

১২.
"An honest man's the noblest work of God."
-This quote is extracted from-
  1. Adonais
  2. Locksley Hall
  3. An Essay on Man
  4. An Essay on Criticism
ব্যাখ্যা

• "An honest man's the noblest work of God."
- This quote is extracted from An Essay on Man.

• Full verses:
- "A wit’s a feather, and a chief a rod;
An honest man’s the noblest work of God.
Fame but from death a villain’s name can save,
As justice tears his body from the grave”

• An Essay on Man:
- Heroic couplet এবং iambic pentameter এ লেখা এই কবিতাটি ১৭৩৩-৩৪ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল।
-  It was conceived as part of a larger work that Pope never completed.
- কবিতাটি চারটি পত্র বা epistles নিয়ে গঠিত।
- প্রথম পত্রটি মানুষ এবং মহাবিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে জরিপ করে, দ্বিতীয়টি একজন ব্যক্তি হিসাবে 'মানুষ'কে নিয়ে আলোচনা করে.
- তৃতীয়টি ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে এবং  চতুর্থটি একজন ব্যক্তির সুখের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
- "An Essay on Man" কবিতাটি মহাবিশ্বের একটি শৃঙ্খলা বা শ্রেণিবিন্যাস (hierarchy/chain of being) অনুযায়ী বিন্যস্ত অবস্থাকে ব্যাখ্যা করে।
- যুক্তি বা চিন্তাশক্তির মাধ্যমে মানুষকে এই শ্রেণিবিন্যাসে প্রাণী ও উদ্ভিদের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- এটি মূলত Alexander Pope এর Poetic style এ লেখা একটি দার্শনিক প্রবন্ধ।

• Famous quotations from An Essay on Man:
- An honest man's the noblest work of God.
- Hope springs eternal in the human breast.
- Act well your part; there all the honour lies.
- Do good by stealth, and blush to find it fame.

• Alexander Pope (1688-1744):
- He is the most famous poet of the Augustan Age.
- The Augustan age is also known/called as the Age of the Pope.
- কারন এই যুগে অন্যতম সাহিত্যিক ছিলেন Alexander Pope যিনি এই যুগে তাঁর লেখনীর দ্বারা আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
- তিনি একজন Mock Heroic Poet হিসাবেও পরিচিত।

• Famous quotations:
- To err is human; to forgive, divine.
- An honest man is the noblest work of God.
- A little learning is a dangerous thing.
- Fools rush in where angels fear to tread.
- Amusement is the happiness of those who cannot think.
- 'Tis Education forms the common mind,
Just as the Twig is bent, the Tree's inclin'd.
- Be not the first by whom the new are tried,
Nor yet the last to lay the old aside.
- Hope springs eternal in the human breast;
Man never is, but always to be blest.
- Know then thyself, presume not God to scan;
The proper study of mankind is man.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

১৩.
The opening scene of Othello mainly shows-
  1. Othello’s victory speech
  2. Iago’s deceit and hatred
  3. Cassio’s marriage
  4. Desdemona’s confession
ব্যাখ্যা

• The opening scene of Othello mainly shows- খ) Iago’s deceit and hatred.

- Othello নাটকের opening scene (Act 1, Scene 1)–এ Othello নিজে মঞ্চে আসে না; বরং Iago ও Roderigo–র কথোপকথনের মাধ্যমে কাহিনী শুরু হয়।
- এই দৃশ্যে Iago প্রকাশ করে যে সে Othello–কে ঘৃণা করে, এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায়।
- সে বাইরে থেকে নিজেকে বিশ্বস্ত দেখালেও ভিতরে ভিতরে চরম প্রতারণাপূর্ণ ও কুটিল মনোভাব পোষণ করে- এটিই দৃশ্যটির মূল ফোকাস।
- তারপর তারা Brabantio–কে উসকানি দিয়ে Desdemona–র বিয়ে নিয়ে গোলমাল বাঁধায়—যা পরে Iago-র villainy শুরু করে দেয়।

• Othello:
- এটি Shakespeare রচিত একটি পাঁচ-অ্যাক্টের Tragedy নাটক।
-  যা ১৬০৩-১৬০৪ সালের দিকে লেখা হয়।
- এটি শেকসপিয়রের অন্যতম শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে একটি।
- It tells the story of 'Othello, A Moor of Venice'.
- নাটকটির মূল চরিত্র Othello, সে ছিল ভেনিসের একজন সেনাপতি।
- এই tragedy এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Othello এবং Othello এর Desdemona হচ্ছে নায়িকা।
- Villan চরিত্রে ছিল lago.
- নাটকে Othello তাঁর নিজ স্ত্রীকে সন্দেহ করে এবং তাকে হত্যা করে।
- In this tragedy, Othello, the hero, was affected by Othello Syndrome (a mental disorder of excessive jealousy) যার বর্শবর্তী হয়ে villain, lago -এর প্ররোচনায় Othello 'Desdemona' কে হত্যা করে।

• William Shakespeare -এর "Othello" নাটকে Othello - Desdemona -কে একটি রুমাল (Handkerchief) উপহার দেন, যা তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া এক বিশেষ রুমাল।
- এটি ছিল ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। পরে, lago চক্রান্ত করে এই রুমাল ব্যবহার করে Othello -এর মনে সন্দেহ জাগায়, যা শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজেডির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

• Main characters:
- Othello,
- Desdemona,
- Brabantio,
- lago,
- Cassio,
- Emilia, etc.

• William Shakespeare (1564-1616):
- William Shakespeare একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে 'English National Poet' বলা হয়।
- Stratford-upon-Avon -এ জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে Bard of Avon বা Swan of Avon বলা হয়।
- তাকে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
- Shakespeare occupies a unique position in world literature.
- William Shakespeare মূলত তাঁর Drama and Sonnet -এর জন্য পরিচিত।
- তিনি মোট ১৫৪ টি sonnet এবং ৩৭ টি play লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি Long narrative poem ও লিখেছেন।

• Tragedy:
- Hamlet,
- Othello,
- King Lear,
- Macbeth,
- Julius Caesar,
- Coriolanus,
- Antony and Cleopatra,
- Timon of Athens (Unfinished Tragedy), etc.

Source: Britannica.

১৪.
Who wrote "The Essays of Elia"?
  1. William Hazlitt
  2. George Chapman
  3. Thomas De Quincey
  4. Charles Lamb
ব্যাখ্যা

• "The Essays of Elia" was written by Charles Lamb.

• The Essays of Elia:
- "The Essays of Elia" হলো ইংরেজ লেখক Charles Lamb -এর লেখা ব্যক্তিগত প্রবন্ধের সংকলন।
- এখানে “Elia” নামটি ছিল Lamb-এর ছদ্মনাম (pen name).
- এই প্রবন্ধগুলো মূলত প্রকাশিত হয়েছিল একটি পত্রিকায়, পরে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- "The Essays of Elia" প্রথম ১৮২৩ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
- "The Last Essays of Elia" নামে দ্বিতীয় সিরিজ ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

• Charles Lamb (1775–1834):
- Charles Lamb ছিলেন একজন English essayist এবং critic.
- তিনি ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রবন্ধকার, যিনি তার সংবেদনশীল, হৃদয়স্পর্শী এবং কল্পনাপ্রবণ লেখার জন্য পরিচিত।
- তিনি Elia ছদ্মনামে (pen-name) লিখতেন।
- তার লেখা "The Essays of Elia" এবং "Last Essays of Elia" সংবেদনশীলতা, কল্পনা, স্মৃতিচারণ ও রসের অপূর্ব মিশ্রণ।

• Notable works:
- The Essays of Elia,
- The Last Essays of Elia,
- Tales from Shakespeare, etc.

• Famous poem:
- Blank Verse,
- The old familiar Faces.

Source:
1. Britannica.
2. English Essence by Live MCQ.

১৫.
“A young woman’s pursuit of romantic fantasy and luxury leads to debt, scandal, and suicide.”
-This is the central theme of-
  1. Jane Eyre by Charlotte Bronte
  2. The Portrait of a Lady by Henry James
  3. Madame Bovary by Gustave Flaubert
  4. Wuthering Heights by Emily Bronte
ব্যাখ্যা

• “A young woman’s pursuit of romantic fantasy and luxury leads to debt, scandal, and suicide.”
- This is the central theme of- গ) Madame Bovary by Gustave Flaubert.

- Emma Bovary–কে কেন্দ্র করে, যিনি বাস্তব জীবনের একঘেয়েমি থেকে পালাতে রোমান্টিক স্বপ্ন, বিলাসিতা ও ভোগবাদী জীবন অনুসরণ করেন।
- এই অতিরিক্ত বিলাসী জীবনযাপন করতে গিয়ে তিনি ঋণে ডুবে যান, সামাজিক কেলেঙ্কারি বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেন।

• Madame Bovary:
- উপন্যাসটি ১৮৫৬ সালে 'Revue de Paris' (রেভিউ ডি প্যারিস) পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরের বছর দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে বিবাহ এবং বিবাহ বহির্ভূত বিভিন্ন সম্পর্ক।
- সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা কিছু সাধারণ ঘটনাকে Gustave Flaubert তাঁর লেখনী দ্বারা একটি শক্তিশালো মানব আবেগ হিসেবে তুলে এনেছেন।
- কীভাবে একটি বিয়ের সম্পর্কের করুণ পরিনতি ঘটে তা উপন্যাসে তুলে ধরেছেন লেখক।
- It is a masterpiece of Gustave Flaubert.
- অনেকের মতে, এই উপন্যাসটির মাধ্যমেই সাহিত্যে বাস্তববাদী আন্দোলনের (Realism) একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

• Main Characters:
- Emma Bovary,
- Charles Bovary,
- Rodolphe Boulanger,
- Léon Dupuis,
- Monsieur Homais.

• Gustave Flaubert (1821-1880):
- একজন French novelist ছিলেন।
- তাকে ”Prime Mover of the Realist School of French literature” বলা হয়।
- তিনি Madame Bovary (1857) উপন্যাসটির জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

• Notable works:
- A Sentimental Education,
- Mémoires d’un fou,
- Madame Bovary,
- The Temptation of Saint Anthony,
- Three Tales.

অন্যদিকে,
ক) Jane Eyre → love-with-dignity নিয়ে রচিত।

খ) The Portrait of a Lady → Isabel Archer-এর স্বাধীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে রচিত।

ঘ) Wuthering Heights → আবেগপ্রবণ প্রেম, প্রতিশোধ, পারিবারিক সংঘাত নিয়ে রচিত; luxury-debt-suidice নিয়ে নয়।

Source: Britannica.

১৬.
What is the most common term for a group of deer?
  1. A pride
  2. A pack
  3. A herd
  4. A flock
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- A herd.

- a group of deer (হরিণের পাল) -কে herd বলা হয়।

• Herd (collective noun):
- English Meaning: A large group of animals, especially hoofed mammals, that live, feed, or migrate together or are kept together as livestock.
- Bangla Meaning: (বিশেষত গবাদিপশুর) দল; পাল।
- যেমন: a herd of cattle/deer/ elephants, etc.

অন্যদিকে,
• Pride (collective noun):
- English Meaning: a group of lions.
- Bangla Meaning: দল; ঝাঁক: (বিশেষত) a pride of lions/peacocks.

• Pack (collective noun):
- English Meaning: a group or pile of related objects; a group of often predatory animals of the same kind.
- Bangla Meaning: দল; গুচ্ছ; একত্রে বিচরণ করা বন্য প্রাণীর দল।

- যেমন: A pack of wolves, a pack of wild dogs, a pack of hounds, etc.

• Flock (collective noun):
- English meaning: A group of sheep, goats, or birds.
- Bangla meaning: ঝাঁক, পাল।

- যেমন: a flock of birds/sheep, etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

১৭.
Choose the correct spelling:
  1. Incremenate
  2. Incrimenate
  3. Increminate
  4. Incriminate
ব্যাখ্যা

• The correct spelling is: ঘ) Incriminate.

• Incriminate (verb)
- English meaning: to charge with or show evidence or proof of involvement in a crime or fault.
- Bangla meaning: অভিযুক্ত/দোষী/দোষারোপ করা।

Example sentence:
- Police found incriminating evidence in his locker.
- Material found at the crime scene incriminates the defendant.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৮.
Which gender is the word "Earl"?
  1. Masculine
  2. Feminine
  3. Common
  4. Neuter
ব্যাখ্যা

• "Earl" is a masculine gender.

• Earl (masculine)
- English Meaning: a member of the British peerage ranking below a marquess and above a viscount.
- Bangla Meaning: উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সম্ভ্রান্ত ইংরেজ ব্যক্তির পদবি।

- এর feminine gender হলো- Countess.

• Countess (feminine gender)
- English Meaning: a woman who holds in her own right the rank of earl or count.
- Bangla Meaning: আর্লের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা; আর্ল-পদমর্যাদা অর্জনকারী মহিলা।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

১৯.
Select the synonym for 'Vindication':
  1. Conviction
  2. Justification
  3. Apprehension
  4. Ostracism
ব্যাখ্যা

• The synonym for 'Vindication' is- Justification.

• Vindication (Noun)
- English Meaning: justification against denial or censure: defense.
- Bangla Meaning: যথার্থতা/সত্যতা প্রতিপাদন।

• Given options:
ক) Conviction (Noun)
- (১) কাউকে দোষী সাব্যস্তকরণ (২) দৃঢ় বিশ্বাস বা প্রত্যয়।

খ) Justification (Noun)
- ন্যায্যতা প্রমাণ; যা কোনো কাজ বা বক্তব্যের সত্যতা প্রতিপাদন করে।

গ) Apprehension (Noun)
- উপলব্ধি; চেতনা; বোধ; আশঙ্কা; (আইন সম্বন্ধীয়) গ্রেফতার।

ঘ) Ostracism (Noun)
- সমাজবিচ্ছিন্নকরণ বা সমাজবিচ্ছিন্ন হওয়া।

- সুতরাং, অপশনের অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায় যে, The synonym for 'Vindication' is- Justification.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

২০.
He embarked _____ a period of restless travel in Europe.
  1. with
  2. for
  3. upon
  4. in
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: He embarked upon a period of restless travel in Europe.
- Bangla meaning: সে ইউরোপে অবিরাম ভ্রমণের একটি পর্যায় শুরু করল।

• Embark on/upon something
- English Meaning:​ (formal) to start to do something new or difficult; to start something new, big or important.
- Bangla Meaning: শুরু করা; অংশগ্রহণ করা।

- Embark on/upon একটি standard phrase, যা কোনো কাজ, যাত্রা, উদ্যোগ বা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করা / শুরু করা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- এখানে a period of restless travel বলতে একটি দীর্ঘ ভ্রমণপর্ব বোঝানো হয়েছে।
- তাই এই বাক্যে embarked upon ব্যবহৃত হবে।

More examples:
- He's embarking on a new career as a writer. 
- We're embarking upon a new project later this year.

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Oxford Learners Dictionary.

২১.
If you make a promise, you must keep it.
The underlined clause is a/an-
  1. noun clause
  2. co-ordinate clause
  3. adjective clause
  4. adverbial clause
ব্যাখ্যা

If you make a promise, you must keep it.
- The underlined clause is an adverbial clause.

- 'If you make a promise' clause টি principal clause-এর verb -এর শর্ত বোঝাচ্ছে।
- অর্থাৎ, এটি condition প্রকাশ করছে। তাই এটি হলো adverbial clause of condition.

- If you make a promise → adverbial clause (subordinate).
- you must keep it → principal clause.

• Adverb Clause of Condition
- এই Clause দ্বারা শর্ত আরোপ করা হয়।
- তাই এ clause গুলো If, whether, unless, incase, whether, on condition that, but, for, otherwise, provided (that), supposing (that) ইত্যাদি Conjunction দ্বারা শুরু হয়।
-----------

• Adverbial clause:
- যে dependent clause টি adverb-এর মত কাজ করে অর্থাৎ স্থান, কাল, কারণ, উদ্দেশ্য, শর্ত, ধরণ, ফলাফল ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে adverbial caluse বলে।
- সহজ ভাষায়, verb কে How, Where, When, Why দ্বারা প্রশ্ন করলে adverbial caluse পাওয়া যায়৷

Source: 
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

২২.
Which 'but' is a conjunction?
  1. She ate nothing but an orange.
  2. There is no mother but loves her child.
  3. It never rains but it pours.
  4. The crew of the ship gave them nothing but bread to eat. 
ব্যাখ্যা

• The correct answer is - গ) It never rains but it pours.

- Here, "but" joins two clauses (It never rains + it pours), meaning “except that/only that.”
- অর্থাৎ, এখানে "but" শব্দটি "except that" অর্থে দুটি clause-কে যুক্ত করতে conjunction হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

• But (conjunction):
- English Meaning: As a that — without the concomitant that; except that.
- Bangla Meaning: (coordinating): কিন্তু; তবে; (subordinating, নঞর্থক ব্যঞ্জনাবহ)।

- দুটি phrase/clause কে যুক্ত করতে বিভিন্ন অর্থে 'But' - conjunction হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
-----------
অন্যদিকে,
• But (preposition):
- English Meaning: except; apart from; other than.
- Bangla Meaning: ‘বতীত’; ছাড়া; নইলে অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• Other options:
ক) She ate nothing but an orange.
- Here, "but" is a preposition meaning "except".
- অর্থাৎ, 'orange' ছাড়া সে কিছুই খাইনি বুঝাতে 'but' preposition হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

খ) There is no mother but loves her child.
- relative pronoun (old use = “who…not”).
- এখানে But (that not: who not) অর্থে Pronoun হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ঘ) The crew of the ship gave them nothing but bread to eat. 
- Here, "but" is a preposition meaning "except".
- অর্থাৎ, 'bread' ছাড়া কিছুই দেয়নি বুঝাতে 'but' preposition হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

Source:
1. Oxford Learners Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

২৩.
The government ______ to comment on the matter up to now.
  1. refusing
  2. has refused
  3. had refused
  4. refused
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: The government has refused to comment on the matter up to now.
- Bangla meaning: সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

- “up to now” indicates an action continuing from the past to the present, so we use the present perfect.
- অর্থাৎ, এখানে up to now আছে, যা বোঝাচ্ছে কাজটি অতীত থেকে এখন পর্যন্ত ঘটেছে বা তার প্রভাব এখনো আছে। তাই এখানে Present Perfect Tense হবে।

- প্রদত্ত বাক্যে 'up to now' এবং Subject 'The government' singular হওয়ায়, has + refused বসবে।

• Present Perfect Tense:
- কোন কাজ পূর্বে শুরু হয়ে বর্তমানে চলছে বুঝালে Present Perfect Tense হয়।
- Structure: Subject + has/have + past participle.

• কোনো বাক্যে up to now, till now, so far, just now, already, yet, never, ever, recently, lately, ইত্যাদি থাকলে সেটি সাধারণত Present Perfect Tense হয়।

More examples:
- He has gone out just now.
- I have not finished my letter yet.

২৪.
What does "Ipso facto" mean?
  1. a slip of the tongue
  2. by the law itself
  3. by that act
  4. right to interfere
ব্যাখ্যা

• "Ipso facto" means- গ) by that act.

• Ipso facto (Latin phrase)
- English Meaning: By that very fact or act: as an inevitable result.
- Bangla Meaning: সেই কারণেই; ঠিক ঐজন্যেই।

অন্যদিকে,
• Lapsus linguae (Latin)
- English Meaning: a slip of the tongue
- Bangla Meaning: বলার ভুল।

• Ipso jure (Latin)
- English Meaning: by the law itself: by the operation of law.
- Bangla Meaning: এই আইনবলে।

• Locus standi (Latin)
- English Meaning: Right to interfere; a right to appear in a court or before any body on a given question.
- Bangla Meaning: হস্তক্ষেপ করার অধিকার; শোনার অধিকার।

Source:
1. Oxford Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

২৫.
I do not like boys playing here.
Here, 'playing' is a ______.
  1. Gerund
  2. Participle
  3. Verbal noun
  4. Finite verb
ব্যাখ্যা

• I do not like boys playing here.
- Here, 'playing' is a Participle.

- Here, "boys playing here" → "playing here" is a reduced relative clause (boys who are playing here).
- এখানে playing শব্দটি 'boys' noun-কে modify করছে।
- অর্থাৎ, playing here = plural noun 'boys'-এর অবস্থা বোঝাচ্ছে, তাই এটি adjective-এর মতো কাজ করছে।
- অর্থাৎ, playing এখানে subject/object হিসেবে কাজ করছে না; বরং boys-কে describe করছে।
- তাই playing এখানে Participle, Gerund নয়।

• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- যেমন: I do not like boys playing here.
- এখানে 'playing' noun 'boys' -কে modify করছে।
---------------

অন্যদিকে,
• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

- আবার noun/pronoun এর possessive এর পরে gerund ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: I do not like children's playing here.
- প্রদত্ত বাক্যে possessive form "children's" এর পরে playing (verb+ing) আসায় এটি হলো gerund.
- এখানে সম্পূর্ণ phrase টি "children's playing here" verb 'like' এর object হিসেবে বসে noun এর কাজ করছে।

Source: 
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Text Book of Higher English Grammar by P. K. De Sarkar.

২৬.
All the parties seem anxious to ______ a ceasefire.
  1. catch up
  2. nail against
  3. nail down
  4. throw off
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: All the parties seem anxious to nail down a ceasefire.
- Bangla meaning: সব পক্ষই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

• Nail down [phrasal verb]
- English Meaning: to reach an agreement or a decision, usually after a lot of discussion.
- Bangla Meaning: সাধারণত অনেক আলোচনার পর একটি চুক্তি বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

- অর্থাৎ, "nail down" দ্বারা কোনো কিছুকে চূড়ান্ত করা, নিশ্চিত করা, স্থির করা বুঝায়।
- এখানে যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে, তাই শূন্যস্থানে "nail down" বসবে।

অন্যদিকে,
- Catch up - পিছিয়ে পড়া অবস্থান থেকে সমান হওয়া / কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা।

- Nail against - এটি standard phrase নয়।

- Throw off - ঝেড়ে ফেলা / মুক্ত হওয়া / বিভ্রান্ত করা।

- এগুলো ceasefire-এর সঙ্গে অর্থগতভাবে মানায় না।

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Oxford Learners Dictionary.

২৭.
The local people are very friendly to visitors.
Here, the underlined word is a /an-
  1. noun
  2. adjective
  3. adverb
  4. conjunction
ব্যাখ্যা

• The local people are very friendly to visitors.
- Here, the underlined word is an adjective.

- এখানে 'friendly' শব্দটি local people-এর গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝাচ্ছে।
- অর্থাৎ, local people কেমন? → very friendly, তাই 'friendly' হলো এখানে adjective.

- যদি কোনো শব্দ be verb/ linking verb -এর পরে বসে subject-এর অবস্থা/গুণ প্রকাশ করে, তাহলে তা সাধারণত adjective হয়।
- এ ধরনের adjective-কে অনেক সময় predicate adjectiveও বলা হয়।

• Friendly (adjective):
- English Meaning: behaving in a kind and pleasant way because you like somebody or want to help them.
- Bangla Meaning: বন্ধুত্বপূর্ণ; বন্ধুজনোচিত; বন্ধুভাবাপন্ন; সহৃদয়; মিত্রোচিত; বন্ধুসুলভ; সানুরাগ; প্রীতিপূর্ণ। 

More examples:
- A warm and friendly person.
- Our neighbours have always been very friendly towards us.

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Oxford Learners Dictionary.

২৮.
The passive form of: Do away with it.
  1. Let it has to do done away with.
  2. Let it is to do away with.
  3. Let it be done away with.
  4. Let it is to be done away with.
ব্যাখ্যা

- Active: Do away with it.
- Passive: Let it be done away with.

• মূল verb দ্বারা শুরু Imperative sentence -এর Active voice থেকে Passive করার নিয়ম:
- প্রথমে Let বসে + Object + be + মূল Verb এর past participle + বাকি অংশ বসে।
- Group verb এর সাথে সংযুক্ত preposition টি Passive voice-এ মূল Verb এর past participle এর সাথে বসে।

- প্রদত্ত বাক্যে 'Do away with' phrasal verb টি মূল Verb 'Do' দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এর সাথে preposition 'with' আছে।
- তাই নিয়মানুযায়ী, এর passive form হবে- Let it be done away with.

২৯.
The idiom 'on the spur of the moment' refers to-
  1. To wait for a short time
  2. Suddenly without any planning
  3. A moment of great success
  4. Delaying a decision
ব্যাখ্যা

• The idiom 'on the spur of the moment' refers to- Suddenly, without any planning.

• On the spur of the moment (idiom)
- English Meaning: On impulse; suddenly, without any planning in advance.
- Bangla Meaning: মুহূর্তের (আকস্মিক) তাড়নায় কাজ করা।

- এটি দ্বারা বুঝায় যে, কোনো কিছু তাৎক্ষণিকভাবে বা হঠাৎ করে করা, পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই।

More examples:
- I phoned him up on the spur of the moment.
- On the spur of the moment, we decided to go to the beach.

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Oxford Learners Dictionary.

৩০.
Identify the correct sentence:
  1. If I were to refuse will be very annoyed.
  2. Were I to refuse they'd have been very annoyed.
  3. If I were to refuse they'd have very annoyed.
  4. Were I to refuse they'd be very annoyed.
ব্যাখ্যা

• Correct sentence: Were I to refuse they'd be very annoyed.
- Bangla Meaning: আমি যদি প্রত্যাখ্যান করি, তাহলে তারা খুব বিরক্ত হবে।

- “Were I to refuse …” is an inverted form of a hypothetical (2nd conditional).
- So the main clause should use would + base verb → they would be (= they’d be).

• Second Conditional-এর নিয়মানুযায়ী: 
- শর্তযুক্ত অংশে If + past indefinite যুক্ত clause থাকলে, পরবর্তী clause টিতে subject-এর পরে would/could/might + verb-এর base form বসে। 

• Structure: If + past indefinite + subject + would/could/might + verb -এর base form + extension. 

• Note: 'If' clause-এ be verb হিসেবে সর্বদাই were হবে, If না থাকলে শর্তযুক্ত অংশটি were দ্বারা শুরু হবে। 

• More examples: 
- If it rained, we would stay at home.
- If I were you, I would accept the offer. 

৩১.
প্রথম কে ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন?
  1. আবদুল করিম
  2. স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. ড. পঞ্চানন মণ্ডল
  4. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী 
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্যের কবিগণ:
নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘ময়নামতীর গান', ‘গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়’ নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার ‘গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

এই তিনটি কাব্যের কবিরা স্বতন্ত্র না একই ব্যক্তি এ সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন নামে প্রকাশিত এ সব ভণিতার মধ্যে কোন ঐক্য নেই। কবীন্দ্ৰ, শেখ ফয়জুল্লা, ভীমদাস ও শ্যামদাস সেনের ভণিতা বিক্ষিপ্ত ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করে লিখেছেন, 'নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হইতেছে যে গোরক্ষবিজয় বা গোর্খবিজয়ের কবি শেখ ফয়জুল্লা ভিন্ন অন্য কেহ হইতে পারেন না।' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক নীলদর্পণ নাটকের অনুবাদের নাম কী ছিল?
  1. Nil Darpan, or The Indigo Planting Mirror
  2. The Indigo Mirror
  3. Nil Darpan, or The Indigo Revolt
  4. Nil Darpan, or Indigo Farming Tragedy
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

• বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥' পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা 
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥'- পদটি চর্যার কবি কুক্কুরীপা রচিত। 

অর্থ: 
দুলি [মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৩৪.
'কলমগীর' কোন কবি ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  2. আবদুল হক
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত 'সত্যপীর' ছদ্মনামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি 'ওমর খৈয়াম', 'প্রিয়দর্শী' এবং 'মুসাফির' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় (দেশ, আনন্দবাজার, মোহাম্মদী) কলাম ও লেখা প্রকাশ করতেন।  
• 'কলম সৈনিক' মূলত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবদুল হক-এর উপাধি। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- নীল লোহিত, নীল উপাধ্যায়, সনাতন পাঠক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী 
  2. মোসলেম ভারত
  3. তত্ববোধিনী 
  4. বঙ্গদর্শন 
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- কাজী ইমদাদুল হকের শেষ রচনা 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসের ৩০ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পরে আনোয়ারুল কাদীর বাকি ১১ পরিচ্ছেদ রচনা করেন মূল গ্রন্থকারের
খসড়া-অবলম্বনে। তবে আবদুল কাদির বলেছেন, তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ পার্থক্য ঘটেছে।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের যেসব সমস্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, পিরবাদ তার মধ্যে প্রথম।


উপন্যাসে চিত্রিত সমস্যসমূহ ও কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসের নায়ক আবদুল্লাহ্ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী। তার মতে, পির-মুরিদি ব্যবসাটা হিন্দুদের পুরুতগিরির অনুকরণ, ইসলামে তার স্থান নেই। কাসেম গোলদারের বাড়িতে নিজের পিতৃপুরুষের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প শুনে তার মনে বিস্ময় জাগে: 'পুত্রের পীরত্বে পিতার হৃদয়ে এরূপ সাংঘাতিক হিংসার উদ্রেক আরোপ করিয়া ইহারা পীর-মাহাত্ম্যের কি অদ্ভুত আদর্শই মনে মনে গড়িয়া তুলিয়াছে!' পির হওয়ার সহজ পথ ত্যাগ করে আবদুল্লাহ্ চাকরি করে উপার্জন করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।

• আশরাফ-আতরাফভেদ আরেক সামাজিক সমস্যা। সৈয়দ সাহেবের মাদ্রাসায় এদের পাঠদানের বৈষম্য দেখে আবদুল্লাহ্ বিস্মিত হয় এবং মৌলভী সাহেবকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মৌলভী সাহেব জানান, আতরাফের সন্তানেরা তো মিয়াদের সমান চলতে পারে না, তাই সৈয়দ সাহেব এই বিষম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ যখন বলে, একেবারেই যদি তাদের পড়ানো না হয়, তাহলে কি আরো ভালো হয় না?, মৌলভী সাহেব তখন বলেন, গরিবেরা যখন শিখতে চায়, তখন তাদের একেবারে নিরাশ করলে খোদার কাছে কী জবাব দেবেন, তাছাড়া গোম্বারে এলেমদান করলে অনেক সওয়াব হয়, একথা কেতাবে আছে। এই সমস্যার চরম অভিব্যক্তি দেখা যায় মসজিদের ইমাম জোলা বলে যখন সৈয়দ সাহেব তাঁর পিছনে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন, তখন। এমনকী, সুফী সাহেব পর্যন্ত সৈয়দ সাহেবের এমন বংশাভিমান সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না। এই অশিষ্টতার বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ্ এক মূর্তিমান প্রতিবাদ-সে জোলা ইমামের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বংশমর্যাদা-প্রসঙ্গে মীর সাহেবের কথায় আবদুল্লাহ্‌র মনোভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে: 'কবরের ওপারের দিকে তাকাবার আমি কোন দরকার দেখি নে।'

• পর্দাপ্রথার শ্বাসরুদ্ধকর কড়াকড়ির বিরুদ্ধেও আবদুল্লাহ্ সাহস করে দাঁড়িয়েছে। পল্লীসমাজের পরনিন্দা-প্রবৃত্তি এবং খাতকের প্রতি মহাজনের অত্যাচারের চিত্র-উদ্‌ঘাটনে কাজী ইমদাদুল হক অকুণ্ঠ। হিন্দু-মুসলমান-বিরোধের পর্যালোচনাও তিনি করেছেন, সেখানে তিনি দায়ী করেছেন সম্প্রদায়কে নয়, ব্যক্তিকে। 

---------------------
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস। 

৩৬.
মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. রামকৃষ্ণ রায় 
  2. রামপ্রসাদ সেন 
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত। কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ - আগম- পারসী নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন ।
- রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পাণ্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৭.
চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল কোন রাজ বংশের আমলে?
  1. বর্মণ
  2. পাল 
  3. সেন 
  4. গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ ও রাজ বংশ:
বাংলার পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। তাঁদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। পাল বংশের পরে বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার স্বয়ংকৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়। সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাইরে নেপালে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩৮.
'জাহাঙ্গীর' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. বিষাদ সিন্ধু
  3. বাঁধান হারা 
  4. রত্নাবতী
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ সিন্ধু' উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।
• 'বাঁধান হারা' উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।
• 'রত্নাবতী' গ্রন্থটের দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. নৌকাডুবি 
  2. কালান্তর 
  3. গোরা
  4. চতুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির অন্তর্ভুক্ত চরিত্রগুলো হলো: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
• 'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০.
'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের নবম কাব্যগ্রন্থ এটি। প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৪৬টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলোতে আছে স্বপ্নলোক, প্রতিবেশ ও সমকালের অন্তর্গত নানা অনুষঙ্গ, নিঃসঙ্গতা, ব্যর্থতা, যুদ্ধোত্তর হতাশা ইত্যাদি বিষয়।
- গ্রন্থটিতে টানা গদ্যে লেখা কবিতা যেমন আছে তেমনি আছে অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার।

--------------------------
• শামসুর রাহমান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন উপন্যাসে দেশভাগের পটভূমি রয়েছে?
  1. সুতীর্থ
  2. জলপাইহাটি
  3. মাল্যবান
  4. বাসমতীর উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস:
দেশভাগের পটভূমিতে জীবনানন্দ দাশের লেখা দীর্ঘ উপন্যাস ‘জলপাইহাটি’। এখানেও চরিত্র একজন নাজুক মানুষ, যিনি অধ্যাপনা করেন। একদিন যিনি জলাপাইহাটি ছেড়ে কলকাতায় ফেরার স্বপ্ন দেখেন। জলাপাইহাটি নামে আদৌ কোনো শহর আছে? উপন্যাসে জীবনানন্দ কল্পিত যে মফস্বল শহরের জীবন-ছবি এঁকেছেন, মনে গাঢ় দাগ রেখে যায়।

অন্যদিকে,
--------------------
• ‘সুতীর্থ’ জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাস। এখানে রয়েছে দাম্পত্যের শীতল ছবি ও অভাবের গল্প। একগ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খাওয়ার ছবি দিয়ে উপন্যাস শুরু হয়। লম্বা সময় ধরে খাওয়া চলে। তিনি ঝরা ও গলিত সময়ের কথা বলছেন। যে সময়ও তার অভিঘাত আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না, কেবল অনুভব করতে পারি।

• কলকাতা শহরের শীতের বর্ণনা দিয়ে জীবনানন্দের ‘মাল্যবান’ শুরু হয়েছে, শেষ হয় শীত ফুরোবে না উপমা দিয়ে; মাঝখানে বীভৎস এক জীবনের গল্প। পড়তে পড়তে হৃদয় কেঁপে কেঁপে থেঁতলে যায়। সামান্য একটি উপন্যাসের পরিসরে এত আলো ও অন্ধকার, এত গোলকধাঁধা, গলিঘুঁজি ও হাওয়া বয়ে চলে, থেমে থেমে এগোতে হয়। পাঠ থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকতে হয়। মাল্যবান চরিত্রটি কী ভয়ানক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে জীবনকে বয়ে নিয়ে চলে, তবু সে সংসার থেকে কেটে পড়ে না। কিভাবে পেরে ওঠে? এসব ভেবে শ্বাস ঘন হয়ে আসে। বুকের বাতাস থেমে যায়।

• ‘বাসমতীর উপাখ্যান’ উপন্যাস পড়তে ধরলে মনে হয়, বরিশালের জীবনের কথা তিনি লিখছেন। একপর্যায়ে বলছেন, কারুবাসনা আমার সব সাফল্য নষ্ট করেছে।

---------------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "জলপাইহাটি" ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার রিপোর্টস। 

৪২.
‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  4. আল মাহমুদ 
ব্যাখ্যা

• ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস:
- আবুল মনসুর আহমদের ‘জীবনক্ষুধা’ রচনার দিক থেকে প্রথম হলেও প্রকাশের দিক থেকে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস।
- হালিম চরিত্রের মাধ্যমে লেখক এ উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং উচ্চাশার স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উচ্চবিত্ত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এক তরুণের আদর্শচ্যুতির বর্ণনার পাশাপাশি একটা সময়ের বাঙালি মুসলমান সমাজের ধারাবাহিক গল্প এখানে বর্ণিত হয়েছে।

------------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত: আত্মকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং প্রথম আলো রিপোর্টস। 

৪৩.
'শ্রীচৈতন্যভাগবত' কোন কবির রচনা?
  1. গোবিন্দদাস
  2. লোচনদাস 
  3. বৃন্দাবনদাস
  4. কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
ব্যাখ্যা

• বৃন্দাবনদাসের 'শ্রীচৈতন্যভাগবত':
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবনদাসের ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত'। কবি সম্ভবত ১৫১৮ সালের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যমঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল, পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা-পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।

- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল। এ কাব্য রচনায় কবি বৃন্দাবনদাস তাঁর গুরু নিত্যানন্দের কাছ থেকে অধিকাংশ উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন। কবির আমলে জীবিত এমন অনুচরদের কাছ থেকেও তিনি তথ্যাদি পেয়েছিলেন । তাছাড়া তিনি ভাগবত থেকেও উপকরণ নিয়েছিলেন।

- বৃন্দাবনদাস চৈতন্য ও নিত্যানন্দকে কৃষ্ণ ও বলরামের অবতার বলে বিবেচনা করতেন। এই বৈশিষ্ট্য কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। কবি চৈতন্যদেবের বাল্য ও কৈশোরলীলা খুব বাস্তবতা ও সরলতা সহকারে বর্ণনা করেছেন। চৈতন্যদেবের চরিত্রে কবি করুণ কোমলতার সঙ্গে সুকঠোর চরিত্র ও পৌরুষের পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৪৪.
'বঙ্গদর্শন' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. দৈনিক 
  4. ত্রৈমাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “বন্দে মাতরম্‌' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

• বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও এই পত্রিকায় অন্যান্য পন্ডিতগণও নিয়োমিত লিখতেন, এরা হলেন-
- গঙ্গাচরণ,
- রামদাস সেন,
- অক্ষয় সরকার,
- চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. রেইনকোট 
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. জীবন আমর বোন 
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' হলো প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক, যা ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন (১৯৭১) পটভূমিতে ভয়ার্ত মধ্যবিত্তের মানসিকতা ও সাহসিকতার রূপান্তর তুলে ধরে। গল্পের কথক ও প্রধান চরিত্র, কলেজের শিক্ষক নুরুল হুদা, শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট পরে এক ভিন্ন সাহসী মানুষে রূপান্তরিত হন এবং অবচেতনভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় শামিল হন।

• 'চিলেকোঠার সেপাই' প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে ঢাকার বস্তি ও সাধারণ মানুষের জীবনের জট, শোষণ, শ্রেণী-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক মহাকাব্যিক চিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ওসমানের মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক উপন্যাসের ধারায় এক অনন্য সংযোজন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৬.
নিচের কোনটি নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি?
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

৪৭.
নিচের কোনটি নাম পুরুষের উদাহারণ?
  1. আমি
  2. আপনি
  3. তিনি
  4.  তুই
ব্যাখ্যা

• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে।
আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি।

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮.
'মন্বন্তর' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনো + অন্তর
  2. মনব + অন্তর
  3. মন্ব + অন্তর
  4. মনু + অন্তর
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার বা উ-কারের পর ঊ-কার। ঊ-কার ছাড়া অন্য স্বর থাকলে উ বাউ স্থানে ব-ফলা হয়। ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়।

সূত্র: উ + অ = ব্‌ + অ:
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর। 

এই নিয়মের আরো কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ:
• অনু + অয় = অন্বয়,
• পশু + আচার = পশ্বাচার,
• অনু + অয় = অন্বয়,
• অনু + এষন = অন্বেষণ,
• সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৯.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. খাসমহল
  2. কারবার
  3. বদহজম
  4. হরহামেশা
ব্যাখ্যা

• আরবি উপসর্গ 'খাস' যোগে বিশেষ অর্থে গঠিত শব্দ- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 

অন্যদিকে, 
• ফারসি 'কার্' উপসর্গ যোগে 'কাজ' অর্থে গঠিত শব্দ- কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি। 
• ফারসি 'বদ্' উপসর্গ যোগে 'মন্দ' অর্থে গঠিত শব্দ- বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম। 
• উর্দু/হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে 'প্রত্যেক' অর্থে গঠিত শব্দ- হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

------------------
• বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:g
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হিন্দি উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫০.
'অনিল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পানি 
  2. বাতাস 
  3. আকাশ 
  4. সমুদ্র 
ব্যাখ্যা

• 'অনিল' শব্দের সমার্থক শব্দ- বাতাস। 

• 'বাতাস' এর অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ, গন্ধবহ/গন্ধবাহ, অনিল, মারুত, বাত, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, নভঃশ্বাস, শব্দবহ, অগ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা, জগদ্বল, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৫১.
'ঈক্ষিত' শব্দের অর্থ কী?
  1. ঈর্ষাপরায়ণ
  2. পেতে ইচ্ছুক
  3. দেখা হয়েছে এমন
  4. নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন
ব্যাখ্যা

• 'ঈক্ষিত' অর্থ - দেখা হয়েছে এমন।

অন্যদিকে, 
• 'ঈর্ষী' অর্থ - ঈর্ষাপরায়ণ।
• 'ঈপ্সু' অর্থ - পেতে ইচ্ছুক।
• 'ঈক্ষমাণ' অর্থ - নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫২.
'প্রগতি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস 
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা

• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
• প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
• 'প্র'থাকলে 'প্রকৃষ্ট' হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
• 'পরি' থাকলে 'চতুর্দিকে' হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
• 'অনু' থাকলে 'পশ্চাত' হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩.
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. নিয়ত
  2. বিরক্ত
  3. বিনীত
  4. সংহত
ব্যাখ্যা

• 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত। 

অন্যদিকে, 
• 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরত। 
• 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত। 
• 'বিভক্ত' এর বিপরীত শব্দ - সংহত। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫৪.
অর্থ অনুসারে 'কুশল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. যোগরূঢ়
  3. মিশ্র 
  4. রূঢ় 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫.
'সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. ঘটমান অতীত 
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত 
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ:
• অতীত সময় বোঝাতে:
- দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন।
- গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।

• ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে:
- সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
- সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।

• অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৬.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যজো + মান = যজমান
  2. √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান
  3. √দীপ্য + মান =  দীপ্যমান
  4. √বৃত + মান = বর্তমান
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান =  দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭.
ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জনে সন্ধি হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. উচ্ছেদ
  2. একচ্ছত্র
  3. অনুচ্ছেদ
  4. মুখচ্ছবি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
ত্ ও দ্–এর পর চ্ ও ছ, থাকলে ত্ ও দ্‌ স্থানে চ্ হয়।
যেমন:
ত্ + চ = চ্চ: সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
ত্ + ছ = চ্ছ: উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
প্ + চ = চ্চ: বিপদ + চয় = বিপচ্চয়৷
দৃ + ছ = চ্ছ: বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
---------------------------
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ: এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ: কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ: পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ-
মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৮.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. অসমীকরণ
  2. প্রগত সমীভবন
  3. অন্তর্হতি
  4. বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। 
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৯.
ফারসি ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. বরফি 
  2. বরখাস্ত 
  3. বরগা 
  4. বরবাদ 
ব্যাখ্যা

• 'বরগা' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- ঘরের ছাদ বা চালের নিচে স্থাপিত প্রস্থবরাবর কাঠ যা ছাদকে ধরে রাখে,
- আড়কাঠ,
- কড়িকাঠ। 

অন্যদিকে, 
বরফি, বরখাস্ত ও বরবাদ ফারসি ভাষার শব্দ। 

এরূপ কিছু ফারসি শব্দ হলো- বরখেলাফ, বরদাস্ত, বরফ, বরতরফি, বরদার। 

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬০.
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অদ্যাবধি
  2. বাগেশ্বরী
  3. বিপদুদ্ধার
  4. অনটন
ব্যাখ্যা

সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি: 
অশুদ্ধ - শুদ্ধ

অনাটন - অনটন,
অদ্যবধি - অদ্যাবধি,
পৃথকন্ন - পৃথগন্ন,
বাগেশ্বরী - বাগীশ্বরী,
বক্ষোপরি - বক্ষ-উপরি,
বিপদোদ্ধার - বিপদুদ্ধার
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৬১.
A = {x ∈ N : 5 ≤ x < 11} এবং B = {x ∈ N : x বিজোড় সংখ্যা এবং x < 12} হলে A ∩ B এর মান কত?
  1. {6, 8, 10}
  2. {5, 7, 9}
  3. {1, 3, 5}
  4. {7, 9, 11}
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: A = {x ∈ N : 5 ≤ x < 11} এবং B = {x ∈ N : x বিজোড় সংখ্যা এবং x < 12} হলে A ∩ B এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
A = {x ∈ N : 5 ≤ x < 11}
এখানে, x এর মান 5 এর সমান বা বড় এবং 11 এর ছোট স্বাভাবিক সংখ্যা।
∴ A = {5, 6, 7, 8, 9, 10}

আবার,
B = {x ∈ N : x বিজোড় সংখ্যা এবং x < 12}
এখানে, x এর মান 12 এর ছোট স্বাভাবিক বিজোড় সংখ্যা।
∴ B = {1, 3, 5, 7, 9, 11}

প্রদত্ত রাশি,
A ∩ B = {5, 6, 7, 8, 9, 10} ∩ {1, 3, 5, 7, 9, 11}
= {5, 7, 9}

∴ A ∩ B এর মান {5, 7, 9}

৬২.
কোনো সংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ ঐ সংখ্যার তিন পঞ্চমাংশ অপেক্ষা ১২ বেশি। সংখ্যাটি কত?
  1. ৬০
  2. ৯০
  3. ১০০
  4. ১২০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো সংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ ঐ সংখ্যার তিন পঞ্চমাংশ অপেক্ষা ১২ বেশি। সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
মনে করি, সংখ্যাটি ক

প্রশ্নমতে,
ক এর ৮০% - (৩ক/৫) = ১২
⇒ (৮০ক/১০০) - (৩ক/৫) = ১২
⇒ (৪ক/৫) - (৩ক/৫) = ১২ 
⇒ (৪ক - ৩ক)/৫ = ১২
⇒ ক/৫ = ১২
⇒ ক = ১২ × ৫
∴ ক = ৬০

∴ সংখ্যাটি হলো ৬০

৬৩.
পিথাগোরাস ত্রয়ীর একটি সদস্য ৯ হলে অন্য সদস্যজোড় নিচের কোনটি?
  1. ৮, ১৩
  2. ৮, ১৭
  3. ১২, ১৫
  4. ১২, ১৩
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: পিথাগোরাস ত্রয়ীর একটি সদস্য ৯ হলে অন্য সদস্যজোড় নিচের কোনটি?

সমাধান:
পিথাগোরাস ত্রয়ী:
পিথাগোরাস ত্রয়ী হলো তিনটি ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যার একটি সেট, যা পিথাগোরাসের উপপাদ্যকে সিদ্ধ করে।
তিনটি ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা a, b, c (যেখানে c > a, b) যদি c2 = a2 + b2 শর্ত মানে, তবে তাদেরকে (a, b, c) পিথাগোরাস ত্রয়ী বলা হয়।

উদাহরণ:
(৩, ৪, ৫)
(৬, ৮, ১০)
(৯, ১২, ১৫)
(৮, ১৫, ১৭)

এখানে,
+ ১২ = ১৫
⇒ ৮১ + ১৪৪ = ২২৫
⇒ ২২৫ = ২২৫

∴ পিথাগোরাস ত্রয়ীর একটি সদস্য ৯ হলে অন্য সদস্যজোড় হলো (১২, ১৫)।

৬৪.
13 + 23 + 33 + ............ + 243 = কত?
  1. 64009
  2. 90000
  3. 44100
  4. 105625
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 13 + 23 + 33 + ............ + 243 = কত?

সমাধান:
এখানে, শেষ পদ n = 24
আমরা জানি, প্রথম n সংখ্যক স্বাভাবিক সংখ্যার ঘনের সমষ্টির সূত্র,
Sn = {n(n + 1)/2}2
⇒ S24 = {24(24 + 1)/2}2
⇒ S24 = {24 × 25/2}2
⇒ S24 = (12 × 25)2
⇒ S24 = (300)2
∴ S24 = 90000

∴ ধারাটির সমষ্টি হলো 90000

৬৫.
একটি দ্রব্যের বিক্রয়মূল্য এবং ক্রয়মূল্যের পার্থক্য ২৪০ টাকা। একজন যদি ১৫% হারে লাভ করতে চায় তবে দ্রব্যটির বিক্রয়মূল্য কত হবে?
  1. ১৭৫০ টাকা
  2. ১৬০০ টাকা
  3. ১৮৪০ টাকা
  4. ২০৬০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি দ্রব্যের বিক্রয়মূল্য এবং ক্রয়মূল্যের পার্থক্য ২৪০ টাকা। একজন যদি ১৫% হারে লাভ করতে চায় তবে দ্রব্যটির বিক্রয়মূল্য কত হবে?

সমাধান:
মনে করি,
দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
১৫% লাভে বিক্রয়মূল্য = (১০০ + ১৫) টাকা = ১১৫ টাকা
∴ লাভ = (১১৫ - ১০০) = ১৫ টাকা

এখন,
১৫ টাকা লাভ হলে বিক্রয়মূল্য = ১১৫ টাকা
∴ ১ টাকা লাভ হলে বিক্রয়মূল্য = ১১৫/১৫ টাকা
∴ ২৪০ টাকা লাভ হলে বিক্রয়মূল্য = (২৪০ × ১১৫)/১৫) টাকা
= (৮০ × ২৩) টাকা = ১৮৪০ টাকা

৬৬.
একটি আয়তাকার ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য 20 মিটার, প্রস্থ 4 মিটার ও উচ্চতা 5 মিটার হলে এর কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
  1. 19 মিটার
  2. 21 মিটার
  3. 18√3 মিটার
  4. 23 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি আয়তাকার ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য 20 মিটার, প্রস্থ 4 মিটার ও উচ্চতা 5 মিটার হলে এর কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
আয়তাকার ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য, a = 20 মিটার
প্রস্থ, b = 4 মিটার
উচ্চতা, c = 5 মিটার

আমরা জানি,
আয়তাকার ঘনবস্তুর কর্ণের দৈর্ঘ্য = √(a2 + b2 + c2)
= √(202 + 42 + 52) মিটার
= √(400 + 16 + 25) মিটার
= √441 মিটার
= 21 মিটার

৬৭.
করিম ৮০০০ টাকা দিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করে। ৬ মাস পর রহিম কিছু টাকা নিয়ে ঐ ব্যবসায় যোগ দেয়। এক বছর পর ৪ : ৩ অনুপাতে ব্যবসার লভ্যাংশ ভাগ করা হয়। রহিমের বিনিয়োগ কত টাকা ছিলো? 
  1. ১০০০০ টাকা
  2. ১২০০০ টাকা
  3. ১৫০০০ টাকা
  4.  ১৮০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: করিম ৮০০০ টাকা দিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করে। ৬ মাস পর রহিম কিছু টাকা নিয়ে ঐ ব্যবসায় যোগ দেয়। এক বছর পর ৪ : ৩ অনুপাতে ব্যবসার লভ্যাংশ ভাগ করা হয়। রহিমের বিনিয়োগ কত টাকা ছিলো? 

সমাধান:
দেওয়া আছে, লভ্যাংশের অনুপাত = ৪ : ৩
ধরি, রহিমের বিনিয়োগ = ক টাকা
করিমের বিনিয়োগ নিয়োজিত ছিলো = ১২ মাস
এবং রহিমের বিনিয়োগ নিয়োজিত ছিলো = (১২ - ৬) মাস = ৬ মাস

প্রশ্নমতে,
(৮০০০ × ১২)/(ক × ৬) = ৪/৩
⇒ ৯৬০০০/৬ক = ৪/৩
⇒ ১৬০০০/ক = ৪/৩
⇒ ৪ক = ১৬০০০ × ৩
⇒ ৪ক = ৪৮০০০
⇒ ক = ৪৮০০০/৪
⇒ ক = ১২০০০

∴ রহিমের বিনিয়োগ = ১২০০০ টাকা

৬৮.
x - 1/x = 3 হলে {x2 + (1/x2)}{x4 + (1/x4)} এর মান কত?
  1. 1309
  2. 329
  3. 2176
  4. 1139
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x - 1/x = 3 হলে {x2 + (1/x2)}{x4 + (1/x4)} এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
x - 1/x = 3
⇒ (x - 1/x)2 = 32
⇒ x2 - 2 . x . (1/x) + 1/x2 = 9
⇒ x2 + 1/x2 = 9 + 2
∴ x2 + 1/x2 = 11

আবার,
x2 + 1/x2 = 11
⇒ {x2 + (1/x2)}2 = 112
⇒ (x2)2 + 2 . x2 . (1/x2) + (1/x2)2 = 121
⇒ x4 + 1/x4 = 121 - 2
∴ x4 + 1/x4 = 119

সুতরাং,
{x2 + (1/x2)}{x4 + (1/x4)} = 11 × 119 = 1309

৬৯.
একটি সেমিনার কক্ষে প্রতি সারিতে ১০ জন করে বসলে ৩টি সারি খালি থাকে। কিন্তু প্রতি সারিতে ৮ জন করে বসলে ৬ জন দর্শককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঐ সেমিনার কক্ষে মোট দর্শক সংখ্যা কত?
  1. ১২৮ জন
  2. ১৫০ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ২১০ জন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সেমিনার কক্ষে প্রতি সারিতে ১০ জন করে বসলে ৩টি সারি খালি থাকে। কিন্তু প্রতি সারিতে ৮ জন করে বসলে ৬ জন দর্শককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঐ সেমিনার কক্ষে মোট দর্শক সংখ্যা কত?

সমাধান:
ধরি, সারির সংখ্যা = ক

প্রতি সারিতে ১০ জন করে বসলে ৩টি সারি খালি থাকে।
∴ দর্শক সংখ্যা = (ক - ৩) × ১০ জন

প্রতি সারিতে ৮ জন করে বসলে ৬ জন দাঁড়িয়ে থাকে।
∴ দর্শক সংখ্যা = ৮ক + ৬ জন

প্রশ্নমতে,
(ক - ৩) × ১০ = ৮ক + ৬
⇒ ১০ক - ৩০ = ৮ক + ৬
⇒ ১০ক - ৮ক = ৬ + ৩০
⇒ ২ক = ৩৬
⇒ ক = ১৮

অতএব, সেমিনার কক্ষে সারির সংখ্যা = ১৮টি
∴ দর্শক সংখ্যা = (ক - ৩) × ১০ জন
= (১৮ - ৩) × ১০
= ১৫ × ১০ = ১৫০ জন

∴ ঐ সেমিনার কক্ষে মোট দর্শক সংখ্যা হলো ১৫০ জন।

৭০.
5 টি পোস্ট বাক্সে 4 টি চিঠি কতভাবে ফেলা যায়?
  1. 256
  2. 625
  3. 1024
  4. 1296
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 5 টি পোস্ট বাক্সে 4 টি চিঠি কতভাবে ফেলা যায়?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
পোস্ট বাক্সের সংখ্যা, n = 5
চিঠির সংখ্যা, r = 4
∴ চিঠি ফেলা যায় = (পোস্ট বক্স)চিঠি 
= nr
= 54
= 625 টি উপায়ে 

৭১.
৮, ২৭, ৬৪ এর গুণোত্তর গড় কত?
  1. ২৪
  2. ২৭
  3. ৩২
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৮, ২৭, ৬৪ এর গুণোত্তর গড় কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
n সংখ্যক সংখ্যার জ্যামিতিক বা গুণোত্তর গড় (GM) = (x . x . x.........xn)১/n

সুতরাং, ৮, ২৭, ৬৪ এর গুণোত্তর গড় = (৮ × ২৭ × ৬৪)১/৩
= (২ × ৩ × ৪)১/৩
= (২ × ৩ × ৪)৩ × ১/৩
= ২৪

৭২.
জনাব রহিম একটি সঞ্চয় স্কিমে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেন। ব্যাংক তাকে বার্ষিক ১০% হারে মুনাফা প্রদানের নিশ্চয়তা দিল। ২ বছর পর তিনি দেখলেন যে, মুনাফা যদি সরল হারের বদলে চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করা হতো, তবে তিনি কিছু টাকা বেশি পেতেন। মুনাফার সেই পার্থক্যের পরিমাণ কত?
  1. ৮৪ টাকা
  2. ১২০ টাকা
  3. ১৫০ টাকা
  4. ২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: জনাব রহিম একটি সঞ্চয় স্কিমে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেন। ব্যাংক তাকে বার্ষিক ১০% হারে মুনাফা প্রদানের নিশ্চয়তা দিল। ২ বছর পর তিনি দেখলেন যে, মুনাফা যদি সরল হারের বদলে চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করা হতো, তবে তিনি কিছু টাকা বেশি পেতেন। মুনাফার সেই পার্থক্যের পরিমাণ কত?

সমাধান:
মূলধন, P = ১৫,০০০ টাকা
সুদের হার, r = ১০%
সময়, n = ২ বছর

সরল মুনাফার ক্ষেত্রে,
SI = (P × r × n)/১০০
= (১৫,০০০ × ১০ × ২)/১০০
= ৩,০০০ টাকা

আবার,
চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় সবৃদ্ধি মূলধন, C = P(১ + r/১০০)n
= ১৫,০০০ × (১ + ১০/১০০)
= ১৫,০০০ × (১১০/১০০)
= ১৫,০০০ × (১১/১০) × (১১/১০)
= ১৫০ × ১২১
= ১৮,১৫০ টাকা

∴ চক্রবৃদ্ধি মুনাফা = C - P = ১৮,১৫০ - ১৫,০০০ = ৩,১৫০ টাকা

∴ মুনাফার পার্থক্য = ৩,১৫০ - ৩,০০০ = ১৫০ টাকা

৭৩.
  1. 5/12
  2. 7/12
  3. 8/15
  4. 11/30
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:

সমাধান:

৭৪.
একটি বৃত্তের পরিধি ও ক্ষেত্রফল যথাক্রমে 264 সেন্টিমিটার ও 5544 বর্গসেন্টিমিটার। বৃত্তটির বৃহত্তম জ্যা এর দৈর্ঘ্য কত?
  1. 56 সেন্টিমিটার
  2. 84 সেন্টিমিটার
  3. 100 সেন্টিমিটার
  4. 140 সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বৃত্তের পরিধি ও ক্ষেত্রফল যথাক্রমে 264 সেন্টিমিটার ও 5544 বর্গসেন্টিমিটার। বৃত্তটির বৃহত্তম জ্যা এর দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
বৃত্তের পরিধি: 2πr = 264 সেন্টিমিটার .......................(1)
ক্ষেত্রফল: πr2 = 5544 বর্গসেন্টিমিটার ....................(2)

(2) নং সমীকরণকে (1) নং দ্বারা ভাগ করি,
(πr2)/(2πr) = 5544/264
⇒ r/2 = 21
⇒ r = 21 × 2
⇒ r = 42

∴ বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা = বৃত্তের ব্যাস = 2r = 2 × 42 = 84 সেন্টিমিটার

৭৫.
2 + 6 + 18 + 54 + ....… ধারার n সংখ্যক পদের সমষ্টি 728 হলে, n এর মান কত?
  1. 5
  2. 6
  3. 7
  4. 8
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 2 + 6 + 18 + 54 + ....… ধারার n সংখ্যক পদের সমষ্টি 728 হলে, n এর মান কত?

সমাধান:
প্রদত্ত ধারাটি হলো,
2 + 6 + 18 + 54 + …

এটি একটি গুণোত্তর ধারা।
প্রথম পদ, a = 2
সাধারণ অনুপাত, r = 6/2 = 3 ; r > 1

আমরা জানি,
n সংখ্যক পদের সমষ্টি, Sₙ = a × (rn - 1)/(r - 1)
= 2 × (3n - 1)/(3 - 1) ; [এখানে a = 2, r = 3]
= 2 × (3n - 1)/2
= (3n - 1)

প্রশ্নানুসারে,
3n - 1 = 728
⇒ 3n = 728 + 1
⇒ 3n = 729
⇒ 3n = 36
∴ n = 6

৭৬.
যদি f(x) = 2x3 - 7x2 + kx - 3 এর একটি উৎপাদক (x - 3) হয়, তবে k এর মান কত?
  1. 4
  2. - 5
  3. 6
  4. 3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি f(x) = 2x3 - 7x2 + kx - 3 এর একটি উৎপাদক (x - 3) হয়, তবে k এর মান কত?

সমাধান:
ধরি, f(x) = 2x3 - 7x2 + kx - 3
যেহেতু (x - 3) রাশিটি f(x) এর একটি উৎপাদক, সেহেতু উৎপাদক উপপাদ্য অনুযায়ী f(3) = 0 হবে।

এখন,
f(3) = 2(3)3 - 7(3)2 + k(3) - 3
= 2(27) - 7(9) + 3k - 3
= 54 - 63 + 3k - 3
= 3k - 12

শর্তমতে, f(3) = 0
⇒ 3k - 12 = 0
⇒ 3k = 12
∴ k = 4

৭৭.
একটি ত্রিভুজের তিনটি কোণের মান যথাক্রমে x, (2x/3) ও (x/3)। ক্ষুদ্রতম কোণের মান রেডিয়ান এককে কত?
  1. π/6
  2. π/3 
  3. π/2
  4. 2π/3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের তিনটি কোণের মান যথাক্রমে x, (2x/3) ও (x/3)। ক্ষুদ্রতম কোণের মান রেডিয়ান এককে কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ত্রিভুজের তিনটি কোণ যথাক্রমে,
x, (2x/3) ও (x/3)

এখন,
x + (2x/3) + (x/3) = 180°
⇒ (3x + 2x + x)/3 = 180°
⇒ 6x/3 = 180°
⇒ 2x = 180°
⇒ x = 180°/2
∴ x = 90°

সুতরাং তিনটি কোণের মান হবে যথাক্রমে,
x = 90°
2x/3 = (2 × 90°)/3 = 60°
এবং x/3 = 90°/3 = 30°

∴ ক্ষুদ্রতম কোণ = 30°

আমরা জানি,
1° = π/180 রেডিয়ান
∴ 30° = 30° × (π/180) রেডিয়ান
= π/6 রেডিয়ান

∴ ক্ষুদ্রতম কোণের মান = π/6 রেডিয়ান

৭৮.
  1. 2
  2. 3/5
  3. 9/4
  4. 5
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:

সমাধান:

৭৯.
|3x - 9| ≤ 6, যেখানে x ∈ N, অসমতাটির সমাধান সেট কোনটি?
  1. (1, 5)
  2. {1, 3, 5, 7}
  3. {1, 2, 3, 4, 5}
  4. (1, 5]
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: |3x - 9| ≤ 6, যেখানে x ∈ N, অসমতাটির সমাধান সেট কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
|3x - 9| ≤ 6
⇒ - 6 ≤ 3x - 9 ≤ 6
⇒ - 6 + 9 ≤ 3x ≤ 6 + 9   [উভয় পক্ষে 9 যোগ করে]
⇒ 3 ≤ 3x ≤ 15
⇒ 1 ≤ x ≤ 5   [উভয় পক্ষকে 3 দ্বারা ভাগ করে]

যেহেতু x ∈ N (স্বাভাবিক সংখ্যা), সেহেতু x এর মান 1 থেকে 5 এর মধ্যে (1 ও 5 সহ) হতে হবে।
অতএব সমাধান সেট = {1, 2, 3, 4, 5}

উল্লেখ্য:
অপশন ক: (1, 5) ভুল কারণ এটি একটি খোলা ব্যবধি যা কেবল বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে এবং এতে 1 ও 5 অন্তর্ভুক্ত নয়।
অপশন খ: {1, 3, 5, 7} ভুল কারণ এই মানগুলো অসমতার সীমার (1 থেকে 5) বাইরে চলে গেছে এবং সব পূর্ণসংখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়।
অপশন ঘ: (1, 5] ভুল কারণ এটি অর্ধেক খোলা ব্যবধি যা 1 কে বাদ দিয়ে 5 পর্যন্ত সকল বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে।

৮০.
P(A) = 1/3, P(B) = 2/5, A ও B স্বাধীন হলে, P(A ∪ B) = ?
  1. 1/2
  2. 2/3
  3. 3/5
  4. 5/8
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: P(A) = 1/3, P(B) = 2/5, A ও B স্বাধীন হলে, P(A ∪ B) = ?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
P(A) = 1/3
P(B) = 2/5

যেহেতু A ও B স্বাধীন ঘটনা,
∴ P(A ∩ B) = P(A) × P(B)
= 1/3 × 2/5
= 2/15

আমরা জানি,
P(A ∪ B) = P(A) + P(B) - P(A ∩ B)
= 1/3 + 2/5 - 2/15
= (5 + 6 - 2)/15
= 9/15
= 3/5

∴ P(A ∪ B) = 3/5

৮১.
বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয়- 
  1. তড়িৎ প্রবাহের মাধ্যমে
  2. শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে
  3. আলোক সংকেতের মাধ্যমে
  4. চৌম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয় আলোক সংকেতের মাধ্যমে। অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরণের পাতলা তন্তু, যার মধ্য দিয়ে তথ্য পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) প্রক্রিয়ায় আলোর গতিতে যাতায়াত করে। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২.
মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে- 
  1. শ্বেত রক্তকোষ
  2. লোহিত রক্তকোষ
  3. রক্তরস
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে লোহিত রক্তকোষ (Red Blood Cells) প্রধান ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক এক প্রকার লৌহঘটিত রঞ্জক পদার্থ থাকে, এই হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

রক্তরস: 
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। 
- রক্তরসের প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

রক্তকোষ: 
- রক্তকোষ তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। 
- মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩.
গামা রশ্মিকে কোন মাধ্যমে প্রভাবিত করা যায়?
  1. বিদ্যুৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. বিদ্যুৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র উভয়ই
  4. কোনো মাধ্যমে নয়
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তির একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো গামা রশ্মি বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা আধানহীন, তাই এটি কোনো বৈদ্যুতিক আধান বহন করে না। আধানহীন হওয়ার কারণে গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র (Electric Field) বা চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. ভূ-গর্ভস্থ জলধারা
  4. সমুদ্রের গভীরতা 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও নিযত বায়ুপ্রবাহই এর প্রধানতম কারণ। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর মতো নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণের ফলে পানিকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে নিয়ে যায়, যা স্থায়ী সমুদ্রস্রোত তৈরি করে

সমুদ্রস্রোত: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৪। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৫। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৬। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫.
প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Embryology
  2. Ecology
  3. Genetics 
  4. Endocrinology
ব্যাখ্যা

- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক এবং বিভিন্ন পরিবেশগত উপাদানগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে Ecology (বাস্তুবিদ্যা বা পরিবেশবিদ্যা) বলা হয়। 

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬।  বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৭। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৮। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৯। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১০। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

১১। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬.
বৈদ্যুতিক শক্তি কোন যন্ত্রে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. এলইডি
  2. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  3. টিউবলাইট 
  4. বৈদ্যুতিক পাখা 
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে তার ভেতরে থাকা মোটরের সাহায্যে ঘোরে। এই ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মূলত বৈদ্যুতিক মোটরই হলো সেই যন্ত্র যা এই রূপান্তরটি ঘটায়। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭.
কাঠের দহনের প্রধান উৎপাদিত গ্যাস কোনটি? 
  1. O3
  2. O2
  3. CO2
  4. CO
ব্যাখ্যা

- কাঠের দহনের ফলে উৎপন্ন প্রধান গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। যখন কাঠ পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, তখন মূলত এই গ্যাসটি নির্গত হয়

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
উদ্ভিদের জন্য মাইক্রো উপাদানের উদাহরণ কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. সালফার
  3. কার্বন 
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদের মাইক্রো উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলা হয়। ম্যাঙ্গানিজ (Mn) একটি অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ, ক্লোরোফিল উৎপাদন এবং এনজাইম সক্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে শব্দের বেগ কেন বৃদ্ধি পায়?
  1. তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় 
  2. চাপ বেড়ে যাওয়ায়
  3. বাতাসের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় 
  4. বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় 
ব্যাখ্যা

- বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকার ফলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, কারণ জলীয়বাষ্পের ঘনত্ব শুকনো বায়ুর চেয়ে কম। শব্দের বেগ যান্ত্রিক তরঙ্গ হিসেবে মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘনত্বের বিপরীত অনুপাতের ওপর নির্ভর করে। তাই ঘনত্ব কমলে শব্দ দ্রুত চলে ফলে বেগ বৃদ্ধি পায়

শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T  
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়, কেলভিন স্কেইলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না, তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি। 
যেমন- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ দেখানো হয়েছে- 
• বাতাস ⇒ 330 m/s, 
• হাইড্রোজেন ⇒ 1284 m/s, 
• পারদ ⇒ 1450 m/s, 
• পানি ⇒ 1493 m/s, 
• লোহা ⇒ 5130 m/s এবং 
• হীরা ⇒ 12000 m/s ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০.
বৃহস্পতিকে কী বলা হয়?
  1. নক্ষত্র
  2. গ্রহরাজ
  3. সূর্য 
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

- বৃহস্পতি হলো সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। এর বিশাল আয়তন ও ভরের কারণে একে 'গ্রহরাজ' বা 'গ্রহদের রাজা' বলা হয় 

বৃহস্পতি (Jupiter): 

- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ, তাই একে গ্রহরাজ বলে। 
- বৃহস্পতির ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। 
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। 
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। 
- বৃহস্পতির গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১.
MRI-যন্ত্রে মূলত কোন অণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI যন্ত্রে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়। 

এমআরআই (MRI): 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104° F হলে, ঐ রোগীর দেহের তাপমাত্রা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
  1. 38° C
  2. 39° C
  3. - 40° C
  4. 40° C
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104° F হলে, ঐ রোগীর দেহের তাপমাত্রা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা, F = 104°F
সেলসিয়াস তাপমাত্রা, C = ?

আমরা জানি,
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (104 - 32)/9
বা, C/5= 72/9
বা, C = (72 × 5)/9
বা, C = 8 × 5
∴ C = 40

সুতরাং, সেলসিয়াস স্কেলে রোগীর দেহের তাপমাত্রা = 40° C ।

৯৩.
কাচ শিল্পে প্রধানত কোন খনিজ উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. সিলিকা বালু 
  3. তেজস্ক্রিয় বালু 
  4. নুড়ি পাথর
ব্যাখ্যা

- কাচ শিল্পের প্রধান এবং মৌলিক খনিজ উপাদান হলো সিলিকা বালু (Silica Sand)। সাধারণত কাচের অধিকাংশ অংশই এই সিলিকা দিয়ে গঠিত। 

অধাতব খনিজ (Non-Metallic Minerals):

১। চুনাপাথর: 
- সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, সাবান, কাগজ, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি প্রস্তুত করার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। এছাড়া গৃহনির্মাণে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও রং তৈরি করতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। 

২। সিলিকা বালু: 
- এটি এক ধরনের বালু যা কাচ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, রং, অগ্নিচুল্লির ইষ্টক নির্মাণে এর দরকার হয়। 

৩। চীনামাটি: 
- বাসনপত্র, কাগজ, রাবার বস্তু, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র প্রভৃতি নির্মাণের জন্য চীনামাটি ব্যবহৃত হয়। 

৪। কঠিন শিলা: 
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-গর্দস্থ খনি। এই গ্রানাইট পাথর আধুনিক সুউচ্চ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, নদী-শাসন, রেললাইন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 

৫। খনিজ বালু/ভারী মানিক: 
- এই খনিজ বালুর মধ্যে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেটাইট এবং ম্যাগনেটাইট প্রধান। 

৬। পাথর বা কঠিন শিলা: 
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ, নদীর বাঁধ তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কঠিন শিলার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। 

৭। নুড়ি পাথর: 
- নুড়ি পাথর প্রধানত রাস্তাঘাট, গৃহ, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণে প্রয়োজন হয়। সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, পিয়ানগঞ্জ, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া; লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। 

৮। ইউরেনিয়াম আকরিক: 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। এছাড়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এক ভূ-বিজ্ঞানী কক্সবাজার উপকূলে এ তেজস্ক্রিয় বালুর অবস্থান আবিষ্কার করেন। 

৯। গন্ধক: 
- রাসায়নিক শিল্পে গন্ধকের ব্যবহার অধিক। সালফিউরিক এসিড, বারুদ, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে গন্ধকের উৎপাদন নেই বললেই চলে, কেবল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

৯৪.
কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. সংকোচন
  2. ছাঁকনি কাজ
  3. শোষণ ও পরিশোষণ
  4. রক্ষা ও আবরণ
ব্যাখ্যা

- কিউবয়ডাল (Cuboidal) বা ঘনক্ষেত্রাকার আবরণী টিস্যুর কোষগুলো দেখতে ঘনকের মতো এবং এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় সমান। এই টিস্যুর প্রধান কাজগুলো হলো শোষণ ও পরিশোষণ এবং ক্ষরণ (Secretion)। 

আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। 
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা। 
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন- 
(১) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে। 

(২) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে। 

(৩) কলামনার আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে। 

- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫.
তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ও ব্যাপক বিকাশের সূচনা মূলত কোন ঘটনার মাধ্যমে ঘটে?
  1. উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা
  2. মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার
  4. ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার — ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার ও সফল কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ শুরু হয়।

• তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ:
- আধুনিক যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ।
- এ প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল।
- প্রাচীনকালে মানুষ আকার-ইঙ্গিতে তথ্য আদান-প্রদান করত।
- পরবর্তীতে দেয়ালে আঁচড় কেটে, পাথর খোদাই করে তথ্য সংরক্ষণ করা হতো।
- কাগজ-কলমের আবির্ভাব তথ্য সংরক্ষণে নতুন ধাপ সৃষ্টি করে।
- আধুনিক সভ্যতার উন্নয়ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল।

• ইলেক্ট্রনিক্স ও উপগ্রহ যোগাযোগ:
- ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ, কম্পিউটার প্রযুক্তির সমন্বয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে।
- ইলেক্ট্রনিক্স প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটিং, কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্সকে পৃথকভাবে কল্পনা করা যায় না।
- ষাটের দশকে উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগে নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৬৫ সালে প্রতিটি ইন্টেলস্যাট উপগ্রহে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট অথবা একটি টেলিভিশন চ্যানেল পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল।

• তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ:
- ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার তথ্য প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
- ১৯৭৬ সালে মাইক্রোকম্পিউটার, ১৯৮১ সালে পার্সোনাল কম্পিউটার, ১৯৮৪ সালে মেকিনটোশ, ১৯৯৬ সালে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- আধুনিক টেলিযোগাযোগ, ডাটা নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এ প্রযুক্তির ভিত্তি।

• ডিজিটাল যুগ ও ফাইবার অপটিক:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বশেষ ধারা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি।
- ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তি বাইনারি পদ্ধতি।
- বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ বলা হয়।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
- ফাইবার অপটিক সংকেতের মান উপগ্রহ সংকেতের তুলনায় উন্নত।

• অন্যান্য অপশন:
- উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা → ষাটের দশকে টেলিযোগাযোগে নতুন ধাপের সূচনা করে।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার → আন্তর্জাতিক যোগাযোগে উচ্চগতির ডাটা পরিবহনে ব্যবহৃত।
- ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ → ১৯৬৫ সালে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট পরিবহনের সক্ষমতা ছিল।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬.
হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে বাস্তবসম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ উপস্থাপনকে কী বলা হয়?
  1. কম্পিউটার গ্রাফিক্স
  2. সিমুলেশন
  3. ডাটা নেটওয়ার্ক
  4. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
ব্যাখ্যা

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি — হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে বাস্তবসম ত্রিমাত্রিক পরিবেশের কৃত্রিম রূপায়ণই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা, পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণ।
- এটি প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয়, তবে ব্যবহারকারীর কাছে বাস্তবের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে জটিল বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজও নিরাপদভাবে সম্পাদন করা সম্ভব।

• ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশের উপকরণ:
- হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (Head Mounted Display-HMD)।
- ডাটা গ্লোভ (Data Glove)।
- বডি স্যুট (Body Suit)।
- এসব যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল পরিবেশে প্রবেশ করে এবং বাস্তবসম অভিজ্ঞতা লাভ করে।
- এ প্রক্রিয়ায় কোনো শারীরিক ঝুঁকি বা বিপদের সম্ভাবনা থাকে না।

• প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগক্ষেত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে।

• চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োগ:
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রশিক্ষণ ও ঝুঁকি হ্রাসে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।
- উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের আধুনিক প্রশিক্ষণে এটি কার্যকর।
- শিক্ষানবীশ সার্জনরা মেডিক্যাল ট্রেনিং টুল হিসেবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে।
- ভার্চুয়াল অপারেটিং কক্ষে অপারেশন পরিচালনার মতো বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।
- কৌশলগত দক্ষতা, অপারেশন পদ্ধতি, রোগ-সম্পর্কিত তাত্ত্বিক বিষয় অনুশীলন সম্ভব।
- চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করা যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পিউটার গ্রাফিক্স → কম্পিউটারের মাধ্যমে চিত্র বা ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন প্রযুক্তি।
- সিমুলেশন → বাস্তব প্রক্রিয়া বা পরিবেশের অনুকরণভিত্তিক মডেল।
- ডাটা নেটওয়ার্ক → কম্পিউটারসমূহের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭.
নিম্নের কোনটি আচরণগত বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি?
  1. ফিঙ্গারপ্রিন্ট
  2. আইরিস স্ক্যান
  3. ভয়েস রিকগনিশন
  4. ডিএনএ টেস্ট
ব্যাখ্যা

• ভয়েস রিকগনিশন — এটি আচরণগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, যেখানে ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
 
• বায়োমেট্রিকস:
- ‘Metron’ অর্থ পরিমাপ এবং ‘Bio’ অর্থ জীবন; এ দুটি শব্দ থেকে Biometrics শব্দের উৎপত্তি।
- বায়োমেট্রিকস হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ব্যক্তির শারীরিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচয় নির্ধারণ করা যায়।
- কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুযায়ী এটি ব্যক্তির সনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল।
- দেহের গঠন ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্যভিত্তিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট (Fingerprint),
- হ্যান্ড জিওমেট্রি (Hand geometry),
- আইরিস ও রেটিনা স্ক্যান (Iris and retina scan),
- ফেস রিকগনিশন (Face recognition),
- ডিএনএ টেস্ট (DNA test)।

• আচরণগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
- ভয়েস রিকগনিশন (Voice recognition),
- সিগনেচার ভেরিফিকেশন (Signature verification),
- কীস্ট্রোক ভেরিফিকেশন (Keystroke verification)।

• বায়োমেট্রিক ডিভাইসের কার্যপ্রণালি:
- ডিভাইস ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ডিজিটাল কোডে রূপান্তর করে কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে তুলনা করে।
- মিল পেলে ব্যবহারকারীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়, না মিললে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

• ব্যবহারক্ষেত্র:
- অফিস, আদালত, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম নিবন্ধন, উপস্থিতি নির্ধারণে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।

• অন্যান্য অপশন:
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট → আঙুলের ছাপভিত্তিক শারীরিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি।
- আইরিস স্ক্যান → চোখের আইরিসের নকশা বিশ্লেষণভিত্তিক পদ্ধতি।
- ডিএনএ টেস্ট → জিনগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮.
নিম্নের কোনটি ইনপুট-আউটপুট উভয় ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. মনিটর
  2. মাউস
  3. পেনড্রাইভ
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

• পেনড্রাইভ — এটি ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইস, কারণ এতে ডেটা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উভয় কাজ করা যায়।

• কাজের ধরনের ভিত্তিতে হার্ডওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ:
- কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যার প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত: ইনপুট ডিভাইস, প্রসেসিং ডিভাইস (CPU), আউটপুট ডিভাইস।

• ইনপুট ডিভাইস:
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারকে তথ্য বা নির্দেশ প্রদান করা হয়।
- কম্পিউটার এদের মাধ্যমে ডেটা গ্রহণ করে।
- উদাহরণ: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, জয়স্টিক।

• প্রসেসিং ডিভাইস (CPU):
- CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক।
- ইনপুট ডেটা গ্রহণ করে গণনা, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফলাফল প্রস্তুত করে।
- CPU-এর তিনটি অংশ:
- CU (Control Unit) → কম্পিউটারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- ALU (Arithmetic Logic Unit) → গাণিতিক ও যুক্তিগত কাজ সম্পাদন করে।
- Memory Unit → প্রসেসিং চলাকালে সাময়িকভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে।

• আউটপুট ডিভাইস:
- প্রক্রিয়াজাত ডেটা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল প্রদর্শন বা সরবরাহ করে।
- উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্রজেক্টর।

• ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস:
- কিছু ডিভাইস ইনপুট ও আউটপুট উভয় কাজ করে।
- উদাহরণ: টাচস্ক্রিন, পেনড্রাইভ, মডেম, প্রিন্টার-স্ক্যানার, সিডি বা ডিভিডি।

• অন্যান্য অপশন:
- মনিটর → আউটপুট ডিভাইস, দৃশ্যমান ফলাফল প্রদর্শন করে।
- মাউস → ইনপুট ডিভাইস, নির্দেশ প্রদান করে।
- স্পিকার → আউটপুট ডিভাইস, শব্দ আকারে ফলাফল প্রদান করে।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১ এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল), মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
একটি শহরের বিভিন্ন LAN নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. LAN
  2. MAN
  3. WLAN
  4. PAN
ব্যাখ্যা

• MAN — এটি একটি শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, যা একাধিক LAN-কে সংযুক্ত করে।

• MAN (Metropolitan Area Network):
- MAN-এর পূর্ণরূপ Metropolitan Area Network.
- এটি সাধারণত প্রায় ১০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- একটি শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভিন্ন LAN নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে MAN গঠিত হয়।
- নেটওয়ার্ক পরিচালনায় হাব, গেটওয়ে, সুইচ, ব্রিজ, রাউটার ইত্যাদি ডিভাইস ব্যবহৃত হয়।

• WLAN:
- তারবিহীন প্রযুক্তির সাহায্যে LAN তৈরি করা হলে তাকে WLAN (Wireless Local Area Network) বলা হয়।

• MAN-এর ব্যবহার:
- একটি শহরের ব্যাংক শাখাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান।
- শহরের পুলিশ স্টেশনসমূহকে সংযুক্ত করা।
- টেলিকম কোম্পানির শহরজুড়ে পরিষেবা প্রদান।

• অন্যান্য অপশন:
- LAN → সীমিত এলাকা, যেমন একটি অফিস বা ভবনের মধ্যে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক।
- WLAN → তারবিহীন LAN।
- PAN → ব্যক্তিগত ডিভাইসসমূহের স্বল্প পরিসরের নেটওয়ার্ক।

উৎস:
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মাহবুবুর রহমান।

১০০.
ই-মেইল ঠিকানার কোন চিহ্নটি ব্যবহারকারীর নাম ও ডোমেন অংশকে পৃথক করে?
  1. ডট (.)
  2. স্ল্যাশ (/)
  3. হাইফেন (-)
  4. এ্যাট (@)
ব্যাখ্যা

• এ্যাট (@) — ই-মেইল ঠিকানায় ব্যবহারকারীর নাম (Username) ও ডোমেন অংশকে পৃথক করতে @ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• E-mail:
- E-mail এর পূর্ণরূপ Electronic Mail।
- এটি ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ আদান-প্রদান ব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে চিঠি, ডকুমেন্ট, তথ্য দ্রুত পৃথিবীর যে কোনো স্থানে প্রেরণ করা যায়।

• ই-মেইল এ্যাড্রেস:
- মেইল পাঠানোর জন্য প্রাপকের নাম বা পরিচিতিমূলক শব্দসম্বলিত ঠিকানাকে ই-মেইল এ্যাড্রেস বলে।
- উদাহরণ: xyz@yahoo.com, abc@gmail.com.
- ই-মেইল এ্যাড্রেসের অক্ষর ইংরেজি ছোট হাতের হয়।

• ই-মেইল এ্যাড্রেসের গঠন:
- ই-মেইল এ্যাড্রেস তিনটি অংশে বিভক্ত।
- প্রথম অংশ → ব্যবহারকারীর নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম।
- দ্বিতীয় অংশ → ডোমেন বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী সার্ভারের নাম।
- প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মাঝে @ (এ্যাট) চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশের মাঝে ডট (.) চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: rahim123@gmail.com; rahim123 → Username, gmail.com → Domain part.

• অন্যান্য অপশন:
- ডট (.) → ডোমেন অংশের ভেতরে ব্যবহৃত বিভাজক চিহ্ন।
- স্ল্যাশ (/) → ওয়েব ঠিকানায় ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন (-) → শব্দ সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত চিহ্ন।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০১.
যে আক্রমণে নির্দিষ্ট কোনো ইভেন্ট সংঘটিত হলে প্রোগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর কার্য সম্পাদন করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. লজিক বম্ব
  2. ট্রোজান এ্যাটাক
  3. ডাটা ডিডলিং
  4. সালামি এ্যাটাক
ব্যাখ্যা

• লজিক বম্ব হলো ইভেন্ট নির্ভর ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে আক্রমণ চালায়।

• সাইবার অপরাধ (Different cyber crimes):
- কোন অপরাধমূলক কাজ যেখানে কম্পিউটারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় কিংবা অপরাধের জন্য কম্পিউটারকে টার্গেট করা হয় অথবা কম্পিউটারের দ্বারা অপরাধ করার পরবর্তীতে তার সাপেক্ষে অন্য কোনো অপরাধ করা হয়, এ সকল অপরাধই সাইবার ক্রাইমের অন্তর্ভুক্ত।

• বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- ই-মেইল বম্বিং।
- বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।
- Data diddling: কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।
- Salami Attack: অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।
- Denial of Service (DoS) Attack: অতিরিক্ত অনুরোধ পাঠিয়ে সিস্টেম অকার্যকর করা।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- লজিক বম্ব: ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা।
- ট্রোজান এ্যাটাক: পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

• অন্যান্য অপশন:
- ট্রোজান এ্যাটাক → পরোক্ষভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের কৌশল।
- ডাটা ডিডলিং → প্রসেসিংয়ের আগে ও পরে ডেটা পরিবর্তন সংক্রান্ত অপরাধ।
- সালামি এ্যাটাক → ক্ষুদ্র পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর করে আর্থিক ক্ষতি সাধন।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

১০২.
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)-এর প্রধান কাজের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ডেটাবেজ তৈরি
  2. ডেটাবেজ ইন্টারোগেশন
  3. ডেটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণ
  4. ডেটা কম্প্রেশন অ্যালগরিদম ডিজাইন
ব্যাখ্যা

• ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রধান কাজ হলো ডেটাবেজ তৈরি, ইন্টারোগেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ; ডেটা কম্প্রেশন অ্যালগরিদম ডিজাইন এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

• ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:
যে সফটওয়্যার ডেটা সংরক্ষণ, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে তা হচ্ছে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

• ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর প্রধান ৩টি কাজ:
- ডেটাবেজ তৈরি,
- ডেটাবেজ ইন্টারোগেশন ও
- ডেটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণ।

• কয়েকটি DBMS উদাহরণ:
- মাইএসকিউএল (MySQL),
- ওরাকল (Oracle),
- মাইক্রোসফট অ্যাকসেস (Microsoft Access),
- মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার (Microsoft SQL Server),
- পোস্টগ্রি এসকিউএল (Postgre SQL),
- এসকিউলাইট (SQLite) ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
- ডেটাবেজ তৈরি → নতুন ডেটাবেজ কাঠামো নির্মাণের প্রক্রিয়া।
- ডেটাবেজ ইন্টারোগেশন → সংরক্ষিত ডেটা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান ও ব্যবহার।
- ডেটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণ → ডেটার হালনাগাদ, সুরক্ষা ও ত্রুটি সংশোধন।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মাহবুবুর রহমান।

১০৩.
কম্পিউটারের স্টার্টআপ সফটওয়্যার কমিয়ে গতি বৃদ্ধির জন্য কোন টুল ব্যবহার করা হয়?
  1. msconfig
  2. Disk Defragmenter
  3. Norton Disk
  4. Cleaner
ব্যাখ্যা

• msconfig ব্যবহার করে স্টার্টআপ সফটওয়্যার কমানো যায়, ফলে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম চালু না হয়ে কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি পায়।

• কম্পিউটার ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ:
- উপযুক্ত স্থান নির্বাচন: ধুলাবালি ও স্যাঁতসেঁতে মুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে কম্পিউটার রাখতে হবে।
- অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও সফটওয়্যার অপসারণ: Cleaner সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফাইল ও অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার মুছে ফেলতে হবে।
- আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার: সর্বশেষ ভার্সনের অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল ও নিয়মিত স্ক্যান চালাতে হবে।
- বাড়তি RAM সংযোজন: কম্পিউটারের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত RAM লাগানো উচিত।
- সলিড স্টেট হার্ড ড্রাইভ (SSD) ব্যবহার: SSD ব্যবহারে কম্পিউটার দ্রুত চালু হয় ও দ্রুত কাজ করে।
- স্টার্টআপ সফটওয়্যার কমানো: msconfig দিয়ে স্টার্টআপ সফটওয়্যার কমিয়ে গতি বাড়ানো যায়।
- তথ্য ব্যাকআপ রাখা: প্রয়োজনীয় ফাইল সিডি/ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখতে হবে।
- ডায়াগনস্টিক সফটওয়্যার ব্যবহার: Norton Disk, MakeApp, PC Tools দিয়ে ডিস্ক ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান করতে হবে।
- ক্লিন উইন্ডোজ ইনস্টল: ভাইরাস ও সফটওয়্যার বেশি থাকলে নতুনভাবে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে হবে।
- ব্রাউজারের ক্যাশ পরিষ্কার: Regular ক্লিয়ার হিস্টরি অপশনে গিয়ে ক্যাশ মুছে ফেলতে হবে।
- সার্চ ইনডেক্স রিফ্রেশ: দ্রুত ফাইল খুঁজতে ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টার চালু রাখতে হবে (সপ্তাহে ১ বার)।
- রিস্টার্ট করা: দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর রিস্টার্ট করলে গতি ঠিক থাকে।
- রাউটারের যত্ন: নিয়মিত পরিচর্যা ও সংযোগ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনায় রাখতে হবে।

• অন্যান্য অপশন:
- Disk Defragmenter → হার্ডডিস্কের খণ্ডিত ডেটা পুনর্বিন্যাস করে।
- Norton Disk → ডিস্কের ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানকারী ডায়াগনস্টিক সফটওয়্যার।
- Cleaner → অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও সফটওয়্যার অপসারণে ব্যবহৃত টুল।

উৎস: শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৪.
যে ক্লাউড জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে ব্যবহার করা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. ইন্ট্রানেট ক্লাউড
  2. হাইব্রিড ক্লাউড
  3. প্রাইভেট ক্লাউড
  4. পাবলিক ক্লাউড
ব্যাখ্যা

• পাবলিক ক্লাউড হলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ক্লাউড, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে ব্যবহার করা যায়।

• ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing):
- তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী বিশাল কম্পিউটার সিস্টেম ভাড়াভিত্তিতে ব্যবহার ও তথ্য সংরক্ষণের ধারণাই ক্লাউড কম্পিউটিং।
- ‘ক্লাউড’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত।
- ব্যবহারকারী পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাউডের তথ্যভান্ডার ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে পারে।
- বিনামূল্যে এবং অর্থের বিনিময়ে উভয় ধরনের সার্ভিস এতে অন্তর্ভুক্ত।
- হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ইত্যাদি রিসোর্স সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ব্যবহারকারী নিজস্ব ডিভাইস ব্যবহার করে সার্ভিসদাতা সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে।
- এটি সমন্বিত টেকনোলজি, যা ব্যবহারকারী ও সার্ভিস প্রদানকারী উভয়ের জন্য ব্যাবসায়িকভাবে লাভজনক।
- ক্লাউড কম্পিউটিং প্রধানত তিন প্রকার।

• প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud):
- একক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত ক্লাউড।
- নিজস্ব বা থার্ড পার্টির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতে পারে।
- পরিচালনা ব্যয়বহুল হলেও বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টার সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে।

• পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud):
- জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে অ্যাপ্লিকেশন, স্টোরেজ ও অন্যান্য রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে।
- Amazon, Microsoft ও Google তাদের নিজস্ব ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে পাবলিক ক্লাউড সার্ভিস প্রদান করে।

• হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud):
- দুই বা ততোধিক ক্লাউড (প্রাইভেট, পাবলিক বা কমিউনিটি)-এর সমন্বয়।
- পৃথক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেও সমন্বিতভাবে কাজ করে।
- সার্ভিসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে একাধিক ক্লাউড একীভূত করা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- প্রাইভেট ক্লাউড → একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো।
- হাইব্রিড ক্লাউড → একাধিক ক্লাউডের সমন্বিত ব্যবস্থা।
- ইন্ট্রানেট ক্লাউড → অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কভিত্তিক সেবা কাঠামো।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি।

১০৫.
মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য তৈরি প্রথম অপারেটিং সিস্টেম কোনটি?
  1. UNIX
  2. CP/M
  3. MS-DOS
  4. WINDOWS 95
ব্যাখ্যা

• CP/M হলো ১৯৭১ সালে মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য তৈরি প্রথম অপারেটিং সিস্টেম।

• অপারেটিং সিস্টেম (Operating System):
- কম্পিউটারকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন অপারেটিং সিস্টেম, যা সিস্টেম সফটওয়্যার নামে পরিচিত।
- কম্পিউটারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যে প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি ব্যবহার করা হয় তাকে অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
- এটি কম্পিউটারের ইনপুট ও আউটপুট হার্ডওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাথে সেতুবন্ধন রক্ষা করে।
- ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী ডেটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ফলাফল প্রদানে সহায়তা করে।
- অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে।
- এটি এমন প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বদা নির্বাহ হয় এবং অন্যান্য প্রোগ্রামের নির্বাহের পরিবেশ তৈরি করে।

• অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাস:
- ১৯৫১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মটর রিসার্চ ল্যাবরেটরি কর্তৃক IBM কর্পোরেশনের জন্য প্রথম অপারেটিং সিস্টেম আবিষ্কৃত হয়।
- এটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারে ব্যবহার করা হতো।
- ১৯৭১ সালে মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য তৈরি প্রথম অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে CP/M।

• প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম:
- MS-DOS or PC-DOS,
- WINDOWS 95/98/2000/XP/7,
- OS/2,
- UNIX,
- LINUX,
- MAC OS,
- Solaries,
- XENIX,
- WINDOWS NT ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
- UNIX → মাল্টিইউজার ও মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম।
- MS-DOS → মাইক্রোকম্পিউটারে ব্যবহৃত ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম।
- WINDOWS 95 → গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৬.
কোন টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে যেতে পারে?
  1. স্টার টপোলজি
  2. ট্রি টপোলজি
  3. রিং টপোলজি
  4. মেশ টপোলজি
ব্যাখ্যা

• রিং টপোলজিতে কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে যেতে পারে।

• বাস টপোলজি:
- একটি মূল ব্যাকবোন বা মূল লাইনের সাথে সবগুলো কম্পিউটার যুক্ত থাকে।
- একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করলে তথ্য সব কম্পিউটারের কাছেই পৌঁছে যায়।
- নির্দিষ্ট প্রাপক কম্পিউটার তথ্য গ্রহণ করে, অন্যগুলো উপেক্ষা করে।
- মূল বাস/ব্যাকবোন নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে যায়।

• রিং টপোলজি:
- গোলাকার বৃত্তের মতো যোগাযোগ কাঠামো।
- প্রত্যেক কম্পিউটার অন্য দুটির সাথে যুক্ত থাকে।
- তথ্য এক নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়।
- কম্পিউটারগুলো শারীরিকভাবে বৃত্তাকারে না থাকলেও বৃত্তাকার যোগাযোগ থাকলেই এটি রিং টপোলজি।
- কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে যায়।

• স্টার টপোলজি:
- সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় হাব/সুইচের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- সহজ ও দ্রুত নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য উপযোগী।
- একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও অন্যগুলো সচল থাকে।
- কেন্দ্রীয় হাব/সুইচ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
- কম্পিউটারগুলোকে স্টারের মতো সাজানো বাধ্যতামূলক নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- স্টার টপোলজি → কেন্দ্রীয় হাব/সুইচ নির্ভর নেটওয়ার্ক কাঠামো।
- ট্রি টপোলজি → স্তরভিত্তিক শাখা-প্রশাখা কাঠামো।
- মেশ টপোলজি → প্রতিটি নোড একাধিক নোডের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অষ্টম শ্রেণি।

১০৭.
নিচের কোনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদাহরণ?
  1. লিঙ্কডইন
  2. MS-DOS
  3. লিনাক্স কার্নেল
  4. ওরাকল ডেটাবেজ
ব্যাখ্যা

• লিঙ্কডইন (LinkedIn) হলো একটি পেশাভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা ২০০৩ সালে চালু হয় এবং বর্তমানে Microsoft–এর মালিকানাধীন; এটি মূলত পেশাগত নেটওয়ার্ক গঠন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম:
- আইসিটিতে সামাজিক যোগাযোগ বলতে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষে মানুষে মিথস্ক্রিয়াকে বোঝায়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ যোগাযোগ ও ভাব প্রকাশের জন্য যা সৃষ্টি, বিনিময় বা আদান-প্রদান করে তাই সামাজিক যোগাযোগ।
- আইসিটির বিকাশের ফলে এই যোগাযোগ বর্তমানে সহজ, সাশ্রয়ী এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ হয়েছে।
- ইন্টারনেট, ই-মেইল, মোবাইল ফোন, মেসেজিং সিস্টেম, ব্লগিং এবং সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
- ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নামে পরিচিত।
- উদাহরণ: ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রাম।
- ফেসবুক ও টুইটার জনপ্রিয় সাধারণ সামাজিক মাধ্যম, আর লিঙ্কডইন পেশাভিত্তিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।

• লিঙ্কডইন (LinkedIn):
- প্রতিষ্ঠা: ৫ মে, ২০০৩।
- প্রতিষ্ঠাতা: Reid Hoffman ও তার সহ-প্রতিষ্ঠাতারা।
- ২০১৬ সালে Microsoft লিঙ্কডইন অধিগ্রহণ করে।
- ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল তৈরি করে, দক্ষতা (skills) উল্লেখ করে এবং পেশাগত সংযোগ (connections) গড়ে তোলে।
- চাকরি অনুসন্ধান, নিয়োগ কার্যক্রম এবং পেশাগত কনটেন্ট শেয়ারিংয়ের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- MS-DOS → একটি ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম।
- লিনাক্স কার্নেল → লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ।
- ওরাকল ডেটাবেজ → একটি ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি; LinkedIn Official Website; Microsoft Press Release (2016 Acquisition)।

১০৮.
ChatGPT ব্যবহারকারীর ইনপুট প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে প্রথমে কোন ধাপে কাজ করে?
  1. টোকেনাইজেশন
  2. ইমেজ রেন্ডারিং
  3. ডেটাবেজ ফরম্যাটিং
  4. হার্ডওয়্যার এনক্রিপশন
ব্যাখ্যা

• টোকেনাইজেশন হলো ChatGPT–এর কাজের প্রথম ধাপ, যেখানে ব্যবহারকারীর ইনপুটকে ছোট ছোট Token–এ বিভক্ত করে পরবর্তী বিশ্লেষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

• ChatGPT-এর কাজের প্রক্রিয়া:
- ChatGPT একটি Generative Pre-trained Transformer (GPT) ভিত্তিক Language Model।
- এটি OpenAI কর্তৃক উন্নয়নকৃত একটি Artificial Intelligence সিস্টেম।
- ব্যবহারকারী যখন কোনো প্রশ্ন বা নির্দেশ প্রদান করে, তখন সিস্টেম প্রথমে ইনপুটকে Token–এ বিভক্ত করে (Tokenization)।
- Token হলো শব্দ বা শব্দাংশের ক্ষুদ্র একক, যা মডেল বিশ্লেষণ করে।
- এরপর Transformer Architecture ব্যবহার করে ইনপুটের প্রসঙ্গ (Context) ও শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।
- মডেলটি পূর্বপ্রশিক্ষিত (Pre-trained) বৃহৎ পরিমাণ টেক্সট ডেটার উপর ভিত্তি করে ভাষার প্যাটার্ন শিখে থাকে।
- প্রশ্নের প্রেক্ষাপট বুঝে সম্ভাব্য পরবর্তী শব্দ নির্ধারণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ উত্তর তৈরি করে।
- এই প্রক্রিয়াটি Probability Distribution–এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সর্বাধিক উপযুক্ত শব্দ নির্বাচন করা হয়।
- Natural Language Processing (NLP) ও Deep Learning প্রযুক্তি এই প্রক্রিয়ার ভিত্তি।

• Transformer প্রযুক্তি:
- এটি Self-attention Mechanism ব্যবহার করে বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ধারণ করে।
- দীর্ঘ ইনপুটেও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সক্ষম।

• Pre-training ও Fine-tuning:
- Pre-training ধাপে বিশাল টেক্সট ডেটা থেকে ভাষার কাঠামো শেখানো হয়।
- Fine-tuning ধাপে নির্দিষ্ট কাজের জন্য মডেলকে উন্নত করা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- ইমেজ রেন্ডারিং → গ্রাফিক্স বা ছবি প্রদর্শনের প্রযুক্তি।
- ডেটাবেজ ফরম্যাটিং → ডেটাবেজ কাঠামো বিন্যাসের প্রক্রিয়া।
- হার্ডওয়্যার এনক্রিপশন → ডিভাইস স্তরে তথ্য সুরক্ষার কৌশল।

উৎস: OpenAI Official Documentation, Encyclopaedia Britannica (ChatGPT article)।

১০৯.
গত পরশুর আগের দিন যদি মঙ্গলবার হয়, তবে আগামী পরশুর পরের দিন কী বার হবে?
  1. রবিবার
  2. সোমবার
  3. মঙ্গলবার
  4. বুধবার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: গত পরশুর আগের দিন যদি মঙ্গলবার হয়, তবে আগামী পরশুর পরের দিন কী বার হবে?

সমাধান:
গত পরশুর আগের দিন যদি মঙ্গলবার হয়, তাহলে:
গত পরশুর আগের দিন = মঙ্গলবার
গত পরশু = বুধবার
গতকাল = বৃহস্পতিবার
আজ = শুক্রবার
আগামীকাল = শনিবার
আগামী পরশু = রবিবার
আগামী পরশুর পরের দিন = সোমবার

১১০.
যদি কোনো কোড ‘MOUNTAIN’ শব্দটিকে ‘NPVOUBJO’ হিসেবে প্রকাশ করে, তবে ‘NOTEBOOK’ শব্দটিকে কী লেখা হবে?
  1. OPVFCPLM
  2. OPUFCPPL
  3. OPUFBPPL
  4. OPUFCQPL
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি কোনো কোড ‘MOUNTAIN’ শব্দটিকে ‘NPVOUBJO’ হিসেবে প্রকাশ করে, তবে ‘NOTEBOOK’ শব্দটিকে কী লেখা হবে?

সমাধান:
এখানে প্রতিটি অক্ষরের পরবর্তী বর্ণটি কোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে (প্যাটার্ন: +১)।
M → N (+১)
O → P (+১)
U → V (+১)
N → O (+১)
T → U (+১)
A → B (+১)
I → J (+১)
N → O (+১)

একই নিয়ম অনুযায়ী ‘NOTEBOOK’ শব্দটির কোড হবে:
N → O (+১)
O → P (+১)
T → U (+১)
E → F (+১)
B → C (+১)
O → P (+১)
O → P (+১)
K → L (+১)

∴ কোড: OPUFCPPL

১১১.
P, Q, R, S ও T পাঁচজন বন্ধু। P, Q এর চেয়ে খাটো কিন্তু T এর চেয়ে লম্বা। R সবার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা। S, P এর চেয়ে লম্বা কিন্তু Q এর চেয়ে খাটো। উচ্চতায় সবচেয়ে খাটো কে?
  1. Q
  2. P
  3. S
  4. T
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: P, Q, R, S ও T পাঁচজন বন্ধু। P, Q এর চেয়ে খাটো কিন্তু T এর চেয়ে লম্বা। R সবার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা। S, P এর চেয়ে লম্বা কিন্তু Q এর চেয়ে খাটো। উচ্চতায় সবচেয়ে খাটো কে?

সমাধান:
শর্ত অনুযায়ী সম্পর্কগুলো পাই:
১. P, Q এর চেয়ে খাটো কিন্তু T এর চেয়ে লম্বা ⇒ Q > P > T
২. S, P এর চেয়ে লম্বা কিন্তু Q এর চেয়ে খাটো ⇒ Q > S > P
৩. R সবার থেকে লম্বা ⇒ R সবার উপরে থাকবে

সবগুলো একত্র করলে পাই:
R > Q > S > P > T

∴ উচ্চতায় সবচেয়ে খাটো হলো T

১১২.
জাহিদ সাহেব প্রথমে উত্তর দিকে ১০ কিলোমিটার হাঁটলেন। সেখান থেকে তিনি দক্ষিণ দিকে ৬ কিলোমিটার হাঁটলেন। এরপর তিনি পূর্ব দিকে ৩ কিলোমিটার হাঁটলেন। শুরুর অবস্থান থেকে জাহিদ সাহেব বর্তমানে কত দূরে এবং কোন দিকে অবস্থান করছেন?
  1. ৭ কিমি, পশ্চিমে
  2. ৫ কিমি, উত্তর-পূর্বে
  3. ৭ কিমি, পূর্বে
  4. ৫ কিমি, দক্ষিণ-পূর্বে
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: জাহিদ সাহেব প্রথমে উত্তর দিকে ১০ কিলোমিটার হাঁটলেন। সেখান থেকে তিনি দক্ষিণ দিকে ৬ কিলোমিটার হাঁটলেন। এরপর তিনি পূর্ব দিকে ৩ কিলোমিটার হাঁটলেন। শুরুর অবস্থান থেকে জাহিদ সাহেব বর্তমানে কত দূরে এবং কোন দিকে অবস্থান করছেন?

সমাধান:

চিত্র অনুযায়ী, প্রথমে জাবের O বিন্দু থেকে উত্তর দিকে ১০ কিমি গিয়ে A বিন্দুতে পৌঁছায়।
এরপর A থেকে দক্ষিণ দিকে ৬ কিমি গিয়ে B বিন্দুতে আসে।
অতএব, উত্তর দিকে নিট অগ্রগতি = ১০ - ৬ = ৪ কিমি।
পুনরায় B থেকে পূর্ব দিকে ৩ কিমি গিয়ে C বিন্দুতে পৌঁছায়।

পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী,
OC = √(OB2 + BC2)
= √(৪ + ৩)
= √(১৬ + ৯)
= √২৫
= ৫ কিমি

∴ শুরুর অবস্থান থেকে তিনি ৫ কি.মি., উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান করছেন।

১১৩.
প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
  1. 197
  2. 212
  3. 240
  4. 253
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?


সমাধান:
উপরের বাম দিক থেকে শুরু করে চিত্রটির মধ্যে Z আকারে এগোলে দেখা যায়, প্রতিটি পরবর্তী সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে আগের সংখ্যাকে 2 দ্বারা গুণ করে তার সাথে 3 যোগ করলে।
অর্থাৎ,পরবর্তী সংখ্যা = (পূর্বের সংখ্যা × 2) + 3
এখানে,
(1 × 2) + 3 = 5
(5 × 2) + 3 = 13
(13 × 2) + 3 = 29
(29 × 2) + 3 = 61
(61 × 2) + 3 = 125

একই নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সংখ্যাটি হবে:
(125 × 2) + 3 = 250 + 3 = 253

∴ প্রশ্নবোধক চিহ্নের স্থানে 253 বসবে।

১১৪.
নিচের কোনটি 'FLAGITIOUS' শব্দের বিপরীত শব্দ?
  1. Innocent
  2. Vicious
  3. Immoral
  4. Wicked
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোনটি 'FLAGITIOUS' শব্দের বিপরীত শব্দ?

সমাধান:
FLAGITIOUS শব্দের অর্থ হলো অত্যন্ত জঘন্য, পাপিষ্ঠ বা অপরাধমূলক (Extremely wicked or villainous)।

- Innocent - নির্দোষ, নিস্পাপ
- Vicious - হিংস্র বা দুশ্চরিত্র 
- Immoral - অনৈতিক বা নীতিহীন
- Wicked - দুষ্ট বা পাপিষ্ঠ

যেহেতু FLAGITIOUS দ্বারা চরম পাপাচার বা অপরাধ বোঝায়, তাই এর বিপরীত শব্দ হলো Innocent (নির্দোষ)।
∴ সঠিক উত্তর: ক) Innocent

১১৫.
'M' গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে 'X' গিয়ারটি কোন দিকে ঘুরবে?
  1. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  3. উভয় দিকে
  4. স্থির থাকবে
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'M' গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে 'X' গিয়ারটি কোন দিকে ঘুরবে?

 

সমাধান:
'X' গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার দিকে (Counter-clockwise) ঘুরবে।


এখানে,
- 'M' গিয়ার ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে N গিয়ার ক্রসিং বেল্ট দিয়ে যুক্ত থাকায় ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে।

- 'O' গিয়ারটি 'N'এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় 'N'-এর বিপরীত দিকে অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরবে।

- 'P' গিয়ারটি 'O'-এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে।

- 'X' গিয়ারটি 'P'-এর সাথে সমান্তরাল বা ওপেন বেল্ট দিয়ে যুক্ত থাকায় দিক একই থাকবে অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটার দিকে।

সুতরাং, 'X' গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে।

১১৬.
বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে একটি ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণের মান কত?
  1. ১২.৫°
  2. ১৫°
  3. ১৭.৫°
  4. ২২.৫°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে একটি ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণের মান কত?

সমাধান:
এখানে, ঘণ্টা (H) = ৪ এবং মিনিট (M) = ২৫

আমরা জানি, ঘড়ির কাঁটা দুটির মধ্যবর্তী কোণ নির্ণয়ের সূত্র:
θ = |(১১M - ৬০H)/২|
= |{(১১ × ২৫) - (৬০ × ৪)}/২|
= |(২৭৫ - ২৪০)/২|
= |৩৫/২|
= ১৭.৫°

∴ ৪টা ২৫ মিনিটের সময় ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণ ১৭.৫°

১১৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. অভ্যুত্থান
  2. লজ্জাকর 
  3. স্বরস্বতী 
  4. পিপীলিকা 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 

সমাধান:
সঠিক উত্তর: (গ)
• অশুদ্ধ বানান: স্বরস্বতী 
- শুদ্ধ বানান: সরস্বতী

প্রদত্ত অপশনগুলোতে শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
- 'অভ্যুত্থান': যার অর্থ উত্থান, উদয়, ওঠা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, বিদ্রোহ।
- 'লজ্জাকর': যার অর্থ লজ্জাজনক, লজ্জার বিষয়ীভূত।
- 'পিপীলিকা'।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

১১৮.
নিচের চিত্রে মোট কয়টি ত্রিভুজ আছে?
  1. ১০টি 
  2. ১২টি
  3. ১৪টি 
  4. ১৭টি
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের চিত্রে মোট কয়টি ত্রিভুজ আছে?


সমাধান:

সবচেয়ে সহজ ত্রিভুজগুলো হলো AHG, AIG, AIB, JFE, CJE এবং CED অর্থাৎ ৬টি।

দুটি উপাদান বিশিষ্ট ত্রিভুজগুলো হলো ABG, CFE, ACJ এবং EGI অর্থাৎ ৪টি।

তিনটি উপাদান বিশিষ্ট ত্রিভুজগুলো হলো ACE, AGE এবং CFD অর্থাৎ ৩টি।

কেবল একটি ত্রিভুজ রয়েছে, অর্থাৎ AHE, যা চারটি উপাদান দিয়ে গঠিত।

অতএব, দেওয়া চিত্রে মোট ৬ + ৪ + ৩ + ১ = ১৪টি ত্রিভুজ রয়েছে।

১১৯.
দুই যমজ ভাইয়ের মধ্যে একজন রকেটে চড়ে আলোর গতির কাছাকাছি বেগে মহাকাশে ভ্রমণ করে কয়েক বছর পরে পৃথিবীতে ফিরে এলেন। অন্য ভাইটি শুরু থেকেই পৃথিবীতে অবস্থান করছিলেন। ফিরে আসার পর তাদের বয়সের তুলনামূলক অবস্থা কী হবে?
  1. দুই ভাইয়ের বয়স সমান থাকবে
  2. মহাকাশচারী ভাইয়ের বয়স পৃথিবীর ভাইয়ের চেয়ে বেশি হবে
  3. মহাকাশচারী ভাইয়ের বয়স পৃথিবীর ভাইয়ের চেয়ে কম হবে
  4. মহাকাশচারী ভাইয়ের বয়স অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুই যমজ ভাইয়ের মধ্যে একজন রকেটে চড়ে আলোর গতির কাছাকাছি বেগে মহাকাশে ভ্রমণ করে কয়েক বছর পরে পৃথিবীতে ফিরে এলেন। অন্য ভাইটি শুরু থেকেই পৃথিবীতে অবস্থান করছিলেন। ফিরে আসার পর তাদের বয়সের তুলনামূলক অবস্থা কী হবে?

সমাধান:
সঠিক উত্তর: গ) মহাকাশচারী ভাইয়ের বয়স পৃথিবীর ভাইয়ের চেয়ে কম হবে
• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Special Relativity) অনুযায়ী, কোনো বস্তু যদি আলোর গতির কাছাকাছি বেগে ভ্রমণ করে, তবে তার জন্য সময় ধীরগতিতে চলে। একে 'টাইম ডাইলেশন' বা কাল দীর্ঘায়ন বলা হয়।

- মহাকাশচারী ভাইটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করায় তার অতিবাহিত সময় পৃথিবীর সময়ের তুলনায় ধীরে চলেছে।
- ফলে পৃথিবীতে থাকা ভাইয়ের ঘড়িতে যখন কয়েক বছর পার হয়ে যাবে, মহাকাশচারী ভাইয়ের ঘড়িতে তখন হয়তো মাত্র কয়েক মাস পার হয়েছে।
- এই ঘটনাকে Twin Paradox বলা হয়।

∴ ফিরে আসার পর মহাকাশচারী ভাইটি তার পৃথিবীতে থাকা যমজ ভাইয়ের তুলনায় বয়সে তরুণ বা কম বয়সী থাকবেন।

১২০.
Entomology : Insects :: Ichthyology : ?
  1. Reptiles
  2. Birds
  3. Mammals
  4. Fish
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: Entomology : Insects :: Ichthyology : ?

সমাধান:
এখানে সম্পর্কটি হলো 'গবেষণার শাখা : গবেষণার বিষয়'।
- Entomology (পতঙ্গবিদ্যা) হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে Insects (পতঙ্গ) নিয়ে পড়াশোনা করা হয়।
- একইভাবে, Ichthyology (মৎস্যবিজ্ঞান) হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে Fish (মাছ) নিয়ে গবেষণা ও পড়াশোনা করা হয়।

অন্যান্য অপশন:
- Reptiles - সরীসৃপ (এর গবেষণার শাখাকে বলা হয় Herpetology)।
- Birds - পাখি (এর গবেষণার শাখাকে বলা হয় Ornithology)।
- Mammals - স্তন্যপায়ী প্রাণী (এর গবেষণার শাখাকে বলা হয় Mammalogy)।

∴ সঠিক উত্তর: ঘ) Fish

১২১.
একজন ব্যক্তি একটি উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরির সুযোগ পেলেন, কিন্তু চাকরিটি গ্রহণ করলে তাকে তার পরিবার ছেড়ে অনেক দূরে দুর্গম এলাকায় থাকতে হবে। এটি কোন ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব?
  1. আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব
  2. বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
  3. আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
  4. দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি একটি উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরির সুযোগ পেলেন, কিন্তু চাকরিটি গ্রহণ করলে তাকে তার পরিবার ছেড়ে অনেক দূরে দুর্গম এলাকায় থাকতে হবে। এটি কোন ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব?

সমাধান:
সঠিক উত্তর: গ) আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
• মনোবিজ্ঞানে যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পরিস্থিতির মধ্যে একই সাথে ইতিবাচক (আকর্ষণীয়) এবং নেতিবাচক (অপ্রীতিকর) উভয় দিক বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব (Approach-Avoidance Conflict) বলা হয়।

- এখানে লক্ষ্যবস্তু একটিই (নতুন চাকরি), যার দুটি দিক আছে:
১. ইতিবাচক দিক: উচ্চ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা (আকর্ষণ)।
২. নেতিবাচক দিক: পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা ও দুর্গম এলাকা (বিকর্ষণ)।
- ব্যক্তি যখন এই একই বিষয়ের ভালো ও মন্দের মধ্যে পড়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, তখনই এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

• দ্বন্দ্ব (Conflict):
- পরস্পর বিরোধী দুটি বা দু'এর অধিক প্রেষণা একই সাথে উপস্থিত হলে ব্যক্তির মধ্যে উভয়মুখী যে মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয় তাকে দ্বন্দ্ব বলে।

• দ্বন্দ্বের প্রকারভেদ (Types of Conflict):
- কার্ট লিউয়িন (Kurt Lewin, 1935) মূলত বিভিন্ন প্রকার দ্বন্দ্বের বর্ণনা করেন। নীল মিলার (Neal Miller. 1959) তিন প্রকার দ্বন্দ্বের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন এবং কীভাবে তা সমাধান করা যায় তা আলোচনা করেন। দ্বন্দুসমূহকে প্রধানত ৪টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১। আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব, 
২। বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব, 
৩। আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব, 
৪। দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।

অন্যান্য অপশন:  
- আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব: এটি তখন হতো যদি ব্যক্তিকে দুটি সমান আকর্ষণীয় চাকরির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হতো।
- বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব: এটি তখন হতো যদি তাকে বেকারত্ব এবং অপছন্দের চাকরি—এই দুটি খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে একটি বেছে নিতে হতো।
- দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব: এখানে দুটি ভিন্ন বিষয়েরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত থাকে।

উৎস: মনোবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, প্রফেসর যোগেন্দ্র কুমার মণ্ডল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২২.
প্রদত্ত চিত্র (X)-এর আয়নায় প্রতিফলিত রূপ নিচের কোনটি?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: প্রদত্ত চিত্র (X)-এর আয়নায় প্রতিফলিত রূপ নিচের কোনটি?


সমাধান: 
প্রদত্ত চিত্র (X)-এর আয়নায় প্রতিফলিত রূপটি হবে:

∴ সঠিক উত্তর: খ) 

১২৩.
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাংলাদেশ কত সাল পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে? 
  1. ২০২৭ সাল
  2. ২০২৮ সাল
  3. ২০২৯ সাল
  4. ২০৩০ সাল 
ব্যাখ্যা

• স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণ:
- এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ECOSOC) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
- এই সুপারিশ ECOSOC-এ অনুমোদিত হয় এবং পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। 

- তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা— এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। 
- যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়।
- বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়।
 - ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে।
 - তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়।
- ফলে, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। 
- তবে, ২০২৬ সালে নতুন সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। 

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো। 

১২৪.
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কত শতাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে?  
  1. ৮%
  2. ১০% 
  3. ১৫%
  4. ৯০% 
ব্যাখ্যা

• মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তারাই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। 
- তবে শর্ত থাকে যে, তাদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।  অর্থাৎ, নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনি আইনগতভাবে অযোগ্য হতেন না।

- সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীই মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের মনোনীত করেন।
- তবে তাকে নির্বাচিত এমপিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার ১০ ভাগের ৯ ভাগ (অর্থাৎ ৯০ শতাংশ) সদস্য রাখতেই হবে।
- বাকি এক ভাগ তিনি চাইলে টেকনোক্র্যাট সদস্য রাখতে পারেন।
- সাধারণত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। 
- নিয়মানুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।
- টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীগণ যা যা সুযোগ পান: 
• তারা সংসদে বক্তব্য রাখতে পারেন, কিন্তু ভোট দিতে পারেন না।
• তারা পূর্ণ মন্ত্রীর সমান বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পান।
• সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং সামগ্রিকভাবে মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। 

উল্লেখ্য, 
- ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন।
- এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে।
- মন্ত্রী হিসেবে আছেন আমিনুর রশিদ ইয়াছিন এবং ড. খলিলুর রহমান। আর আমিনুল হককে করা হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও ইত্তেফাক। (Link) 

১২৫.
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যে মোট কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে?  
  1. ১৮ শতাংশ 
  2. ২০ শতাংশ 
  3. ৩৪ শতাংশ 
  4. ৩৫ শতাংশ 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade): 
- বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। 
- ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। 
- চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা বাড়তি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। 
- এতে করে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ। আগের ১৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে বাংলাদেশকে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক দিতে হবে। 
- চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে।
- ফলে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত বা বিশেষ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে। 
- তবে চুক্তিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাসহ এক ধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে রাজি হয়েছে।

- এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপের এয়ারবাসের বদলে মার্কিন কোম্পানিই অগ্রাধিকার পাবে। কৃষিখাতে বাংলাদেশ অন্তত ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য, যেমন গম ও সয়াবিনের মতো পণ্য আমদানি করবে।

উল্লেখ্য, 
- একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশী রফতানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে ৮৩৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের। - একই সময়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রফতানির অর্থমূল্য ছিল ২২৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ হিসাবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতির পরিমাণ ৬০৬ কোটি ৩৫ লাখ, যা কমিয়ে আনতেই ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। 

তথ্যসূত্র: 
i) বনিক বার্তা। (Link)
ii) ডেইলি স্টার।(Link) 
iii) সমকাল। (Link)
iv) ইত্তফাক। (Link)

১২৬.
ট্যাক্স হেভেনে সাধারণত কী থাকে না?
  1. শূন্য কর্পোরেট ট্যাক্স
  2. শেল কোম্পানি সুবিধা
  3. উচ্চ আয়কর হার
  4. ব্যাংক গোপনীয়তা 
ব্যাখ্যা

- ট্যাক্স হেভেনে উচ্চ আয়কর হার থাকেনা। বরং,  করের হার খুব কম বা শূন্য থাকে। 
- অন্যদিকে, 
- ট্যাক্স হেভেনগুলো শেল কোম্পানি, ব্যাংক গোপনীয়তার মাধ্যমে কাজ করে।

• ট্যাক্স হেভেন : 

- ট্যাক্স হেভেন হলো এমন দেশ বা অঞ্চল যেখানে বিদেশি ব্যক্তি বা কোম্পানিগুলোর জন্য করের হার খুব কম বা শূন্য, এবং আর্থিক গোপনীয়তা উচ্চমাত্রায় নিশ্চিত করা হয়।
- সাধারণত বিনিয়োগকারীদের আয়ের উৎস গোপন করে এসব কোম্পানি পরিচালিত হয় এবং একইভাবে কিছু ব্যাংকিং চ্যানেল গোপনে অর্থ লেনদেন করে থাকে।
- এ ধরনের কোম্পানি ও ব্যাংককে বলা হয় অফশোর কোম্পানি ও অফশোর ব্যাংক। 
- এ ধরনের ট্যাক্স হেভেন দেশে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিয়েই ডলার বা সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আর ওই সম্পদকে বলা হয় অফশোর সম্পদ।
- তবে নিজ নিজ দেশের আইন মেনে পরিচালিত হলে এ ধরনের কোম্পানি বা ব্যাংক বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

- ট্যাক্স হেভেনগুলো সাধারণত কম কর, তথ্য বিনিময়ের অভাব, স্বচ্ছতার অভাব এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপের প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবের মাধ্যমে কাজ করে। 

• কার্য কৌশল: 
- ট্যাক্স হেভেনগুলো বিদেশি আয়ের উপর কম বা শূন্য কর আরোপ করে, এবং আর্থিক লেনদেনের গোপনীয়তা রক্ষা করে।
- উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি বা কোম্পানি তাদের সম্পদ বা লাভকে এই দেশগুলোতে স্থানান্তর করে কর এড়াতে পারে।
- এগুলোতে প্রায়ই শেল কোম্পানি বা ট্রাস্ট তৈরি করা হয়, যা মালিকানার তথ্য গোপন রাখে।

• প্রভাব:
- ট্যাক্স হেভেনগুলো বিশ্বব্যাপী কর অপব্যবহার সহজ করে, মানি লন্ডারিং বা জালিয়াতির সম্ভাবনা তৈরী করে। 
- অফশোর কোম্পানির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো —  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র দেশগুলোর প্রভাবশালীরা তথ্য গোপন করে এসব কোম্পানির মাধ্যমে উন্নত দেশে বৈধ ও অবৈধভাবে অর্থ পাঠিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে।
- উদাহরণস্বরূপ,
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশ্যে-গোপনে বিপুল পরিমাণ মূলধন স্থানান্তর হচ্ছে ইউএইতে। 
- বিশেষ করে এশিয়ায় আর্থিক খাতের অন্যতম বৃহৎ হাব হিসেবে পরিচিতি দুবাইয়ে পুঁজি পাচারের মাত্রা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে বারবার।

উল্লেখ্য,
- দুবাইয়ে পাচারকৃত অর্থের অন্যতম উৎস দেশ এখন বাংলাদেশ।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য বারবার সামনে এসেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরির (ইইউট্যাক্স) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাংলাদেশে তথ্য গোপন করে দুবাইয়ে প্রপার্টি কিনেছেন ৪৫৯ বাংলাদেশী।

তথ্যসূত্র:
i) Unbiased. (Link)
ii) Kuvera. (Link)
iii) সমকাল। (Link)
iv) বনিক বার্তা। (Link)

১২৭.
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপির আকার কত?
  1. ৪২০ বিলিয়ন ডলার
  2. ৪৫০ বিলিয়ন ডলার
  3. ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার
  4. ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

 • ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব: 
- দেশের অভ্যন্তরের আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়সহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। 
- সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়। এটি দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয়।
- দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। 
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই তথ্য দিয়েছে।

- আগের বছরের চেয়ে মাথাপিছু আয় ৩১ ডলার বেড়েছে। আগের অর্থবছরের (২০২৩–২৪) মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার।
- বিবিএসের হিসাবে গণ–অভ্যুত্থানের বছরে অর্থাৎ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। 
- পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার আগের বছরের ৪৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 
- যদিও এটি প্রাথমিক প্রাক্কলন ৪৬২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম।

তথ্যসূত্র: বিবিএস, প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ। (Link)

১২৮.
ভৌগলিক পন্য নিবন্ধনে কাজ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন
  2. পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর
  3. বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড
  4. ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন
ব্যাখ্যা

• ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য/ (Geographical Indication - GI): 
- কোনো দেশের পরিবেশ, আবহাওয়া ও সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে – একই সঙ্গে ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যগতভাবে যে পণ্যগুলোকে ‘নিজস্ব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, তাহলে সেটিকে ওই দেশের ‘ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- জিআই সনদ পাওয়া অর্থ সেগুলো ঐ দেশটির নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করবে। 
- যেসব পণ্য এই স্বীকৃতি পায়, সেগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক গুণ, মান ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে। 
- একটা পণ্য যখন জিআই স্বীকৃতি পায়, তখন সেটিকে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করা সহজ হয়।
- সনদ প্রাপ্তির পর ওই অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে পণ্যটি একাধারে উৎপাদন করার অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা পায়। 
- অন্য কোনো দেশ বা অন্য কেউ তখন আর এই পণ্যের মালিকানা বা স্বত্ব দাবি করতে পারে না।

• ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য  নিবন্ধন: 
- ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধনের কাজ বাংলাদেশে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (Department of Patents, Designs and Trademarks - DPDT) দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- DPDT-এর মধ্যে একটি বিশেষ ইউনিট এই কাজের জন্য দায়িত্বশীল। 
- ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন ২০১৩ ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৫ মোতাবেক ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধন করা হয়।
- আইন অনুযায়ী, ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধনের জন্য কোনো ব্যক্তি, সংঘ, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে ডিপিডিটিতে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তসহ আবেদন করতে হয়। 
- আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর সেগুলোকে নানানভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। 
- কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে আবেদনকারীকে পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। 
- আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করার পর সব ঠিক থাকলে সেই জার্নালে প্রকাশ করা হয়। 
- জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর কেউ যদি সেই পণ্যের বিরোধিতা করতে চায়, তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ দুই মাস সময় ধরা আছে।
- এসবকিছুর সর্বশেষ ধাপ হলো জিআই সনদ বা নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি। 

তথ্যসূত্র: 
i) DPDT ওয়েবসাইট। 
ii) World Intellectual Property Organization
iii) বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়। 

১২৯.
জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে কোন সাল থেকে? 
  1. ২০৫০ সাল 
  2. ২০৬২ সাল 
  3. ২০৬৫ সাল 
  4. ২০৭০ সাল 
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- নতুন এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না। 
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

১৩০.
'কাজলা' কোন ফসলের উন্নতজাতের নাম?
  1. টমেটো
  2. পেঁয়াজ 
  3. বেগুন
  4. কুমড়া
ব্যাখ্যা

• বেগুনের জাতসমূহ:
- বারি বেগুন-১ (উত্তরা)
- বারি বেগুন-২ (তারাপুরি)
- বারি বেগুন-৩ (শুকতারা)
- বারি বেগুন-৪ (কাজলা)
- বারি বেগুন-৫ (নয়নতারা)

অন্যদিকে, 
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা , শ্রাবণী,মহুয়া।
- পেঁয়াজের উন্নত জাত: সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি। 
- কুমড়ার উন্নত জাত: বারি মিষ্টি কুমড়া-১, বারি মিষ্টি কুমড়া-২। 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩১.
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন কে?  
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার 
ব্যাখ্যা

- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশ আহবান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। 

• জাতীয় সংসদের অধিবেশন: 

- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন। 
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১৩২.
বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচে জয় লাভ করে কবে? 
  1. ২০০১ সালে 
  2. ২০০২ সালে 
  3. ২০০৪ সালে 
  4. ২০০৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• প্রথম টেস্ট:` 
- বাংলাদেশ ২৬ জুন, ২০০০ সালে আইসিসির দশম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে টেস্ট খেলার মর্যাদা অর্জন করে।
- প্রথম অধিনায়ক - নাঈমুর রহমান।
- প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে বাংলাদেশ।
- টেস্ট অভিষেকের পর প্রথম জয় পেতে ৩৫ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে।
-  ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ৩৫তম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।

• টেস্টে প্রথম:
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান।
- ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় পায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
- প্রথম টেস্ট উইকেট শিকার করেছেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন হাবিবুল বাশার।
- প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি: মুশফিকুর রহিম।
- প্রথম ৫ উইকেট শিকার করেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম ১০০ উইকেট মোহাম্মদ রফিকের।
- প্রথম ব্যক্তিগত হাজার রান সংগ্রাহক হাবিবুল বাশার।
- একমাত্র ১০ উইকেট’ শিকার করেন এনামুল হক জুনিয়র।

তথ্যসূত্র: ক্রিক ইনফো ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো।

১৩৩.
বাংলাদেশের কোন জেলা 'সয়াল্যান্ড' নামে পরিচিত? 
  1. বরিশাল 
  2. দিনাজপুর
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে 'সয়াবিন' উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- লক্ষ্মীপুর জেলা।
- এটি দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৮০% সরবরাহ করে, যার কারণে লক্ষ্মীপুরকে "সয়াল্যান্ড" (Soyaland) বলে ডাকা হয়।
-  জেলায় এবার ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে এর চেয়ে আরও ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে শীর্ষ জেলা সমূহ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ এবং প্রথম আলো। (Link) 

১৩৪.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে কতজন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন?  
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ৯ জন
  4. ১৬ জন
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ নারী প্রার্থী: 
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে মোট ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি সিট রয়েছে — যার মধ্যে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- এবার নির্বাচনে ৭ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জনই বিএনপির। একজন স্বতন্ত্র। 
- সে হিসাবে সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা হবে ৫৭।
- অর্থাৎ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হবে ১৬ শতাংশ। 

উল্লেখ্য, 
- এবার ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।
-  যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ শতাংশ।
- এবার নারীর তুলনায় পুরুষেরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।
- মনোনয়নের তুলনায় জয় পেয়েছেন ৮ শতাংশের বেশি নারী।
-  পুরুষেরা যত মনোনয়ন পেয়েছেন, তার তুলনায় জয় পেয়েছেন ১৫ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

১৩৫.
দেশের বর্তমান সর্বোচ্চ জাতীয় পতাকা-স্তম্ভ কোথায় অবস্থিত? 
  1. পঞ্চগড় 
  2. চট্টগ্রাম
  3. গাজীপুর
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা

• চির উন্নত বিজয় নিশান:
- 'চির উন্নত বিজয় নিশান' গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে অবস্থিত।
- এটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ (ফ্ল্যাগ পোল)।
- উচ্চতা: ১২০ ফুট। 
- এতে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট এবং প্রস্থ ১৬.৮ ফুট। ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে জাতির গৌরবগাথাকে বহন করছে।

- ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে নবনির্মিত এ পতাকা-স্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এ পতাকা-স্তম্ভের উদ্বোধন করেন। 

উল্লেখ্য,
এর পূর্বে সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ ছিল পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্তে অবস্থিত পতাকা-স্তম্ভ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

১৩৬.
মণিপুরি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. চৈত্রসংক্রান্তি
  2. মাঘীপূর্ণিমা
  3. ওয়ানগালা
  4. মহারাসলীলা
ব্যাখ্যা

• মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহারাসলীলা'। 

অন্যদিকে,
- চৈত্র সংক্রান্তি হলো বাংলা বছরের শেষ দিনের উৎসব। 
- গারোদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- মাঘী পূর্ণিমা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। 

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩৭.
বাংলাদেশে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবদুস সাত্তার
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

- গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। 

• গ্রাম সরকার ব্যবস্থা: 
-  জিয়াউর রহমান গঠন করেন গ্রাম সরকার।
 - তার মধ্যে এই বোধ ও প্রতীতি বিশেষভাবে জাগ্রত হয় যে, গ্রামকে ভিত্তি করেই নিশ্চিত করতে হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। একটি সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় গ্রামগুলোকে আনতে হবে। 
১৯৮০ সালের ১৯ মে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এক স্মারকে স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠনের বিস্তারিত নির্দেশাবলী জারি করেন। 
- ব্রিটিশ চৌকিদার মডেলে গ্রাম পুলিশ গঠন করা হয়।   
- এজন্য তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাদের নেতৃত্ব, সততা ও কর্মস্পৃহায় অনুপ্রাণিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠনের।
- এই গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাদের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেত। এতে ১৪ জন সদস্য থাকতেন, এর মধ্যে ৬ জন নারী সদস্য থাকতেন।  
- ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ থানাগুলোকে উপজেলায় উন্নীত করে গঠন করেন উপজেলা পরিষদ।  

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।

১৩৮.
প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কোন জনপদটি পরিচিত ছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ 
  2. বঙ্গ 
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

• জনপদ: 
- তাম্রলিপ্ত জনপদ প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল।
- তাম্রলিপ্ত (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুক),
- চন্দ্রদ্বীপ (বর্তমান বরিশাল জেলার অন্তর্গত),
- বঙ্গাল (বাখেরগঞ্জ ও খুলনা জেলার সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চল) উল্লেখযোগ্য।
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩৯.
উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন কে? 
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৪০.
২০২৬ সালে চলচ্চিত্রে ‘একুশে পদক’ লাভ করেছেন কে?
  1.  ফরিদা আক্তার ববিতা
  2. আফরোজা সুলতানা রত্না
  3. রোজিনা আক্তার 
  4. সারাহ বেগম কবরী
ব্যাখ্যা

• একুশে পদক ২০২৬:
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরববোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 
- প্রতিষ্ঠান হিসেবে- ব্যান্ড সংগীতের দল ওয়ারফেজ মনোনীত হয়েছে।

• একুশে পদক ২০২৬ প্রাপ্ত ব্যক্তি:
- চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফরিদা আক্তার ববিতা,
- চারুকলায় অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার,
- স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম,
- সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু,
- নৃত্যে অর্থি আহমেদ,
- নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার,
- সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান,
- শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার ও
- ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা ও প্রথম আলো।

১৪১.
সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত কোথায় হয়েছিল? 
  1. কানপুর
  2. ব্যারাকপুর
  3. মিরাট
  4. লখনৌ
ব্যাখ্যা

• সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪২.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত “চরমপত্র” ধারাবাহিকটির পরিকল্পনাকারী কে?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  3. আব্দুর রব চৌধুরি
  4. আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- ২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৪৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেকার যুবকের সরকারি সাহায্যলাভের অধিকার রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬ 
  4. অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ) অনুযায়ী বেকার যুবকের সরকারি সাহায্যলাভের অধিকার রয়েছে। 

• সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: 

- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ)  এর আলোকে গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়। 
- এই অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করবে। 
- অনুচ্ছেদটি সামাজিক নিরাপত্তাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ইত্যাদি) চালু ও সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রদান করেছে।
- 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রম এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

• অনুচ্ছেদ ১৫: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷


অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৪ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ ১৬ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব। 
- অনুচ্ছেদ ১৮ : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

১৪৪.
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কোন সালে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2.  ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ৯ মে ১৯৫৪।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
বাংলার ইতিহাসে কররানি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আসগর কররানি
  2. দাউদ কররানি
  3. সুলেমান কররানি
  4. তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

• কররানি শাসন:
- কররানি উপাধি ধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- সর্দার তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন ১৫৬৪ খ্রি.।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- আদিল শাহের আমলে তাজ খান বাংলার তাণ্ডায় জায়গীরদার হিসেবে ছিলেন।
- তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান (১৫৬৫ খ্রি.)।

অপরদিকে, 
- তাজ খানের তাঁর ভাই সুলেমান কররানি সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- গৌড় নগরী বাসযোগ্যতা হারালে সুলেমান কররানি তান্ডাতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৬.
বাংলাদেশ প্রথম বানিজ্যিকভাবে জাহাজ রপ্তানি শুরু করে কত সালে? 
  1. ২০০৫ সালে 
  2. ২০০৬ সালে 
  3. ২০০৭ সালে 
  4. ২০০৮ সালে 
ব্যাখ্যা

• জাহাজ নির্মাণ শিল্প:
- জাহাজ নির্মাণ শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্পখাত।
- বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাণ কারখানা খুলনায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের ২০০শ'র মতো জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি রয়েছে যেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- বর্তমানে দেশে নৌপথে ছোট-বড় ১২৫০০ অধিক সংখ্যক জলযান মালামাল ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
- এই সকল নৌযান তৈরিতে ২০টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ১০০টি স্থানীয় মানের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিপইয়ার্ডগুলো বছরে গড়ে ১০০টি জাহাজ নির্মাণে সক্ষম।
- দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০০০০ DWT ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে।
- বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরের একটি দীর্ঘ উপকূলীয় সীমারেখা ছাড়াও প্রায় ৭০০টি ছোট-বড় নদী রয়েছে।
- দেশের তিন-চতুর্থাংশ মালামাল নৌপথে পরিবহন হয়।
- ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কে বাংলাদেশ প্রথম জাহাজ রপ্তানি শুরু করে।
- বিগত কয়েক বছরে দেশের শিপইয়ার্ডগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ৪০টি জাহাজ রপ্তানি করে ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয়ের মাধ্যমে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়নে অবদান রেখেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও সমকাল। 

১৪৭.
অমর একুশে বইমেলার উদ্যোক্তা কে? 
  1. আহমদ ছফা
  2. অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ 
  3. চিত্তরঞ্জন সাহা
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

• অমর একুশে বইমেলা: 
- অমর একুশে বইমেলা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। 
- এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে। 
- বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্যোক্তা চিত্তরঞ্জন সাহা।

- ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি প্রথম একুশে বইমেলার আয়োজন করে।
- ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় চটের ওপর ৩২টি বই সাজিয়ে বিক্রি শুরু করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় আশ্রিত বাঙালি সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের লেখা ওই ৩২টি বই প্রকাশ করে স্বাধীনতার পর দেশে এসে তিনি যেভাবে সেগুলো বিক্রি শুরু করেন, সেটাই ছিল আজকের বইমেলার বীজ।

- ১৯৭৯ সালের মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি।
- সেবারই প্রথম বাংলা একাডেমি সিদ্ধান্ত নেয় একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বইমেলা আয়োজনের। নাম দেওয়া হলো ‘একুশে গ্রন্থমেলা’।
- ১৯৮৪ সালে এসে গ্রন্থমেলার জন্য বিধিবদ্ধ নীতিমালা প্রণীত হয় এবং গ্রন্থমেলার নাম হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। 

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার ও যুগান্তর। (Link) (Link) 

১৪৮.
Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় গৃহীত হয়েছিল?
  1. স্টকহোম সম্মেলন, ১৯৭২
  2. রিও আর্থ সামিট, ১৯৯২
  3. কিয়োটো প্রোটোকল, ১৯৯৭
  4. প্যারিস চুক্তি, ২০১৫
ব্যাখ্যা

Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতি:
- Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে (Earth Summit/UNCED) গৃহীত হয়।


• CBDR (Common but Differentiated Responsibilities) হলো আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনের একটি মূলনীতি।
- এই নীতি অনুযায়ী, বিশ্বের পরিবেশ রক্ষা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করা বিশ্বের সকল দেশের একটি সাধারণ দায়িত্ব। তবে সব দেশের দায়িত্ব সমান নয়। উন্নত দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে বেশি দূষণ করেছে এবং তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেশি। তাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তাদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। 
- এই নীতিটি প্রথম গৃহীত হয় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ‘ধরিত্রী সম্মেলনে’ (Earth Summit)।
- এটি মূলত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষার একটি মাধ্যম।
- এটি রিও ঘোষণার "নীতি ৭" হিসেবেও পরিচিত।
- পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতেও এই CBDR নীতিটির প্রয়োগ করা হয়েছে।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.
iii) IPCCওয়েবসাইট।

১৪৯.
World Trade Organization (WTO)-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা কোনটি?
  1. Ministerial Conference
  2. General Council 
  3. Dispute Settlement Body
  4. Trade Policy Review Body
ব্যাখ্যা

World Trade Organization (WTO):
- WTO-এর Marrakesh Agreement অনুসারে Ministerial Conference হলো সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা।
- এটি সকল সদস্যকে একত্রিত করে এবং যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উল্লেখ্য,
- WTO বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।

অন্যদিকে,
- General Council জেনেভায় নিয়মিত মিলিত হয় এবং Ministerial Conference-এর অনুপস্থিতিতে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
- Dispute Settlement Body (বিবাদ নিষ্পত্তি), Trade Policy Review Body (বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা) – এগুলো General Council-এর অধীনে কাজ করে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

১৫০.
‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলতে আফ্রিকার কোন অঞ্চলকে বোঝায়?
  1. উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা
  2. পশ্চিম আফ্রিকা
  3. উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

Horns of Africa:
- ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বা আফ্রিকার শিং হলো আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে, আরব সাগরের দিকে প্রসারিত একটি উপদ্বীপ এবং ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল।
- আরব সাগরের দিকে প্রসারিত শিং-এর মতো আকৃতির কারণে এই অঞ্চলকে "আফ্রিকার শিং" বলা হয়। 
- হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলো হলো: ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি এবং সোমালিয়া।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Britannica.

১৫১.
‘ফার্টাইল ক্রিসেন্ট’ অঞ্চলটি কোন সভ্যতার জন্মভূমি?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

ফার্টাইল ক্রিসেন্ট:
- ‘ফার্টাইল ক্রিসেন্ট’ অঞ্চলটি মূলত প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার (সুমেরীয়, আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়) জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত।
- এটি পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নীল নদ উপত্যকা থেকে শুরু করে টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এক অর্ধচন্দ্রাকৃতির অঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি আধুনিক ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং তুরস্ক ও ইরানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। 

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি ৷ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫২.
মধ্য এশিয়ার গ্রেট গেমের সময় কোন দেশটি ‘বাফার স্টেট’ হিসেবে কাজ করেছিল?
  1. ইরান
  2. চীন
  3. তুর্কমেনিস্তান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

মধ্য এশিয়ার গ্রেট গেম (Great Game):
- মধ্য এশিয়ার 'গ্রেট গেম' হলো ১৯শ শতাব্দীর একটি বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
- এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে মধ্য এশিয়ায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। 
- রাশিয়া যখন এশিয়ার দিকে প্রসারিত হচ্ছিল, তখন ব্রিটিশরা ভারত রক্ষায় আফগানিস্তান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। রাশিয়া চেয়েছিল মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে, আর ব্রিটেন চেয়েছিল রাশিয়াকে ভারতের সীমান্ত থেকে দূরে রাখতে।  
- এর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আফগানিস্তান, পারস্য (ইরান), তিব্বত এবং মধ্য এশিয়ার বুখারা ও খিভা অঞ্চল।
- ১৯০৭ সালের অ্যাংলো-রাশিয়ান কনভেনশন এর মাধ্যমে ইরান ও আফগানিস্তানে প্রভাবের ক্ষেত্র নির্ধারণের মাধ্যমে এই গেমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

উল্লেখ্য,
- মধ্য এশিয়ার ‘গ্রেট গেম’ ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আফগানিস্তান প্রধান ‘বাফার স্টেট’ বা মধ্যবর্তী নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছিল।
- ব্রিটিশ ভারত এবং রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাত এড়াতে আফগানিস্তানকে একটি নিরপেক্ষ বাফার বা বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

উৎস: Britannica.

১৫৩.
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস
  2. সিজেপি
  3. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক:
- 'ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স' বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন Reporters Without Borders (RSF) প্রকাশ করে।
- ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছর ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এই সূচকটি প্রকাশ করা হয়।
- বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলে সাংবাদিকতার পরিবেশ, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি বিচার করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক-২০২৫ অনুযায়ী শীর্ষ দেশ -
১. নরওয়ে।
২. এস্তোনিয়া। 
৩. নেদারল্যান্ডস। 
৪. সুইডেন। 
৫. ফিনল্যান্ড।

উৎস: Reporters Without Borders ওয়েবসাইট।

১৫৪.
বসনিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটে কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. ওয়াশিংটন চুক্তি
  2. ডেটন চুক্তি
  3. আলজিয়ার্স চুক্তি
  4. ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি
ব্যাখ্যা

বসনিয়া যুদ্ধ:
- বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের প্রেক্ষাপটে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সংঘটিত এক ভয়াবহ জাতিগত ও গৃহযুদ্ধ।
- সংঘটনের সময়কাল: ১৯৯২-১৯৯৫ সাল।
- ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে, বসনীয় সার্বরা তা প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল এবং একটি পৃথক সার্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু করে, যা মূলত মুসলিম নিধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ছিল।
- এই যুদ্ধে সার্বদের জাতিগত নিধনযজ্ঞে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নিহত এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
- ন্যাটো (NATO) বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করে।
- ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে দুটি ফেডারেশনে ভাগ করা হয়।

• ডেটন চুক্তি:
- ডেটন চুক্তির পূর্ণরূপ: The General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina.
- চুক্তির প্রাথমিক স্বাক্ষর: ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ (স্থান: ডেটন, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র)।
- চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ (স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স)।
- পক্ষসমূহ: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
- চুক্তিতে বলা হয়, চুক্তি সইকারী পক্ষগুলো পরস্পরকে স্বীকৃতি দেবে, জাতিগত ঐক্য বজায় রাখবে, একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সবাই মধ্যস্থতা করবে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতাও মেনে নেবে এমন শর্ত রাখা হয় চুক্তিতে।

উৎস: i) OSCE.org.
ii) Britannica.

১৫৫.
৪৯তম সমান্তরাল রেখা কোন দুটি দেশের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. ফ্রান্স ও জার্মানি
  3. পোল্যান্ড ও জার্মানি
  4. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th parallel north):
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যবর্তী সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি এই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা, যা প্রায় মাইল বিস্তৃত এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
- এটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচোয়ান এবং ম্যানিটোবা প্রদেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করে।
- ১৮১৮ সালের অ্যাংলো-আমেরিকান কনভেনশন এবং ১৮৪৬ সালের ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। 

উৎস: Britannica.

১৫৬.
কোন সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও IMF-এর Articles of Agreement গৃহীত হয়?
  1. ব্রেটন উডস সম্মেলন
  2. সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন
  3. ইয়াল্টা সম্মেলন
  4. জেনেভা সম্মেলন
ব্যাখ্যা

ব্রেটন উডস সম্মেলন (Bretton Woods Conference):
- ব্রেটন উডস সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে United Nations Monetary and Financial Conference নামে পরিচিত।
- ১৯৪৪ সালের ১ - ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ব্রেটন উডস নামক স্থানে মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনে ৪৪টি দেশের ৭৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব দ্য স্টেটের বিশেষ সহকারী হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় বিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল করা। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিশ্বব্যাংক ও IMF গঠনের Articles of Agreement অনুমোদন করে।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- মোট ২৯টি দেশের অনুমোদন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাংক ও IMF প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) World Bank Group ওয়েবসাইট।
ii) U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।

১৫৭.
Nuclear Non-proliferation Treaty (NPT) অনুযায়ী পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে স্বীকৃত রাষ্ট্র কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

'NPT' চুক্তি:
- Nuclear Non-proliferation Treaty (NPT) অনুযায়ী পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে স্বীকৃত রাষ্ট্র মোট ৫টি। এগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন। 

উল্লেখ্য,
- Nuclear Non-Proliferation Treaty (NPT) হলো পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।
- এর মূল লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা, পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিরস্ত্রীকরণ উৎসাহিত করা

উল্লেখ্য,
- আনুষ্ঠানিকভাবে NPT দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র (NWS) হলো ৫টি। চুক্তিটি এই দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্বীকৃতি দেয়।
-  ১ জানুয়ারি, ১৯৬৭ সালের আগে যে ৫টি দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন) পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে এই চুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং অন্য দেশগুলো এ ধরনের অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করতে সম্মত হয়েছে।
- কিন্তু NPT-এর ৬ নং অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের চিরস্থায়ীভাবে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখার উল্লেখ নেই।
- এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল কখনই NPT-এ যোগ দেয়নি কিন্তু এরা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে পরিচিতি।

উৎস: i) Stockholm International Peace Research Institute ওয়েবসাইট।
ii) Arms Control Association ওয়েবসাইট।

১৫৮.
রিমল্যান্ড তত্ত্ব অনুসারে বিশ্বশক্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য কী দরকার?
  1. উত্তর আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ
  2. আফ্রিকা নিয়ন্ত্রণ 
  3. ইউরেশিয়ার অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র
  4. ইউরেশিয়ার উপকূলীয় প্রান্ত
ব্যাখ্যা

রিমল্যান্ড তত্ত্ব (Rimland Theory):
- এটি নিকোলাস স্পাইকম্যান প্রস্তাবিত। ১৯৪২ সালে নিকোলাস স্পাইকম্যান তার "America's Strategy in World Politics" গ্রন্থে এই মতবাদ দেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে, হার্টল্যান্ডের চেয়ে ইউরেশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল অর্থাৎ রিমল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

- এই ধারণা অনুসারে ইউরেশীয় ভূখণ্ডের প্রান্তিক উপকূলীয় অঞ্চল বা 'রিমল্যান্ড' (Western Europe, Middle East, Asia) নিয়ন্ত্রণই বিশ্ব শাসনের চাবিকাঠি। এটি হ্যালফোর্ড ম্যাকিন্ডারের হার্টল্যান্ড তত্ত্বের পরিমার্জিত রূপ যা সমুদ্র ও স্থলশক্তির সমন্বয়ে রিমল্যান্ডের গুরুত্বকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

উল্লেখ্য,
- হার্টল্যান্ড বা হৃদভূমি (ইউরেশিয়ার কেন্দ্রভাগ)-এর চারপাশে ঘিরে থাকা উপকূলীয় এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে রিমল্যান্ড বলা হয়।
- স্নায়ুযুদ্ধের সময় (Cold War) যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নকে (হার্টল্যান্ড) ঠেকাতে এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে 'পলিসি অফ কন্টেইনমেন্ট' বা রিমল্যান্ড অঞ্চলে সামরিক জোট (যেমন: NATO, SEATO, CENTO) তৈরি করেছিল।

এছাড়াও,
- হার্টল্যান্ড তত্ত্ব (Heartland Theory):
- বিখ্যাত ব্রিটিশ ভূগোলবিদ স্যার হ্যালফোর্ড জন ম্যাকিন্ডার (Sir Halford John Mackinder) ১৯০৪ সালে প্রথম হার্টল্যান্ড তত্ত্ব প্রস্তাব করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, ইউরেশিয়ার কেন্দ্রীয় অংশের (হার্টল্যান্ড) নিয়ন্ত্রণই বিশ্ব আধিপত্যের চাবিকাঠি।  এটি ২০শ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ধারণা। হার্টল্যান্ড হলো ইউরেশিয়ার একটি বিশাল এলাকা যা উত্তর দিকে আর্কটিক মহাসাগর, দক্ষিণে হিমালয়, পশ্চিমে ভলগা নদী এবং পূর্বে পূর্ব সাইবেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ইউরোপ মহাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি।

উৎস: i) Britannica.
ii) Encyclopedia.com

১৫৯.
আইসিসি T20 বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কত?
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ২০টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা

আইসিসি T20 বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৬:
- এটি T20 ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১০ম আসর।
- আয়োজক দেশ: ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
- সময়: ৭ ফেব্রুয়ারি - ৮ মার্চ, ২০২৬।
- অংশগ্রহণকারী দেশ: ২০টি।
- চ্যাম্পিয়ন: ভারত।
- গ্রুপ: ৪টি।
- মোট ম্যাচ: ৫৫টি।
- ফাইনাল ম্যাচ: ৮ মার্চ, ২০২৬ (নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদ)।

উৎস: ICC Cricket ওয়েবসাইট।

১৬০.
ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ জাতিসংঘ সনদের কোন অনুচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. অনুচ্ছেদ-২
  2. অনুচ্ছেদ-১৭
  3. অনুচ্ছেদ-২১
  4. অনুচ্ছেদ-৫১ 
ব্যাখ্যা

NATO:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।

• উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ন্যাটোর একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ সকল সদস্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রতিটি সদস্যের জন্য তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। এই সহায়তায় সশস্ত্র শক্তির ব্যবহার জড়িত থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং বজায় রাখার জন্য মিত্ররা প্রয়োজনীয় মনে করলে যে কোনও পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ (Article 5) জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ-৫১ (Article 51)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর North Atlantic Treaty-এর Article 5-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এটি জাতিসংঘ সনদের Article 51-এ স্বীকৃত individual or collective self-defence (ব্যক্তিগত বা সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার)-এর অধীনে কাজ করে।
- অর্থাৎ, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে সে রাষ্ট্র (এবং অন্যরা) আত্মরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারে, যতক্ষণ না নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

• ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো তার ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্রবারের মতো ৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে। যদিও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদটি মাত্র একবার প্রয়োগ করা হয়েছে, এটি প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ন্যাটোর সমস্ত বৃহত্তর কার্যক্রমকে সমর্থন করে, যার মধ্যে নিয়মিত সামরিক মহড়া পরিচালনা এবং ন্যাটোর স্থায়ী সামরিক বাহিনীর মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬১.
কোন দেশ জাতীয় উন্নয়নের মূল্যায়নের জন্য Gross National Product (GNP)-এর পরিবর্তে Gross National Happiness (GNH) ব্যবহার করে?
  1. ভুটান
  2. জার্মানি
  3. রাশিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

Gross National Happiness (GNH):
- Gross National Happiness (GNH) বা 'মোট জাতীয় সুখ' হলো একটি উন্নয়ন দর্শন ও সূচকযা জিডিপি (GDP)-র পরিবর্তে জনগণের সামগ্রিক সুখ ও কল্যাণ পরিমাপ করে।
- ভুটান বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে জাতীয় উন্নয়নের মূল্যায়নের জন্য Gross National Product (GNP) বা GDP-এর পরিবর্তে Gross National Happiness (GNH) ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৭২ সালে ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক (Jigme Singye Wangchuck) প্রথম এই ধারণা প্রচার করেন। ভুটান সরকার GNH-কে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
- এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে টেকসই উন্নয়নপরিবেশ সংরক্ষণসুশাসন এবং সংস্কৃতি রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়। 

• GNH-এর মূল স্তম্ভসমূহ:
১. সুশাসন (Good Governance): স্বচ্ছ ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা,
২. টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন: পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি,
৩. সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ ও প্রচার: নিজস্ব সংস্কৃতির সুরক্ষা,
৪. পরিবেশ সংরক্ষণ: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা।

অন্যদিকে,
- জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এসব দেশে প্রধানত GDP/GNP ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- Gross National Product (GNP) বা মোট জাতীয় উৎপাদন হলো একটি দেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের দ্বারা এক বছরে উৎপাদিত চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যতা সে দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে। 

উৎস: i) Investopedia.
ii) OPHI ওয়েবসাইট।
iii) Asian Development Bank ওয়েবসাইট।

১৬২.
শান্তিতে নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি কোন দেশের নাগরিক?
  1. ইরান 
  2. পাকিস্তান 
  3. তুরস্ক 
  4. ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা

শিরিন এবাদি:
- শিরিন এবাদি প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী ও শিশু অধিকার এবং শরণার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি প্রথম ইরানের নাগরিক যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি একজন প্রখ্যাত ইরানী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং লেখক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২১ জুন ইরানের হোমায়ুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিরিন এবাদি তার জীবনব্যাপী ইরানের মানবাধিকার, নারী অধিকার, এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
- ২০০৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, বিশেষভাবে ইরানে নারী ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তার কাজের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- শিরিন এবাদির সাহিত্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর প্রতি গভীর মনোযোগ দেখা যায়, এবং তার লেখাগুলি ইরানের সমাজ ও রাজনীতির পরিবর্তনের প্রতিফলন।
- তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বই 'জেগে উঠছে ইরান (Iran Awakening)' একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা যা তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত সংগ্রাম এবং ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে। এই বইতে শিরিন এবাদি ইরানে নারী ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেছেন। শিরিন এবাদি তার লেখার মাধ্যমে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ন। তার সাহিত্যের মধ্যে তিনি বিশ্বের সামনে ইরান ও এর জনগণের প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট।

১৬৩.
Convention on Biological Diversity (CBD) কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

Convention on Biological Diversity (CBD):
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রধান ও সবচেয়ে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক চুক্তিটি হলো Convention on Biological Diversity।
- গৃহীত হয়: ১৯৯২ সালে ব্রাজিলে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত 'আর্থ সামিট' বা ধরিত্রী সম্মেলনে।
- কার্যকর হয়: ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৬টি। 
- সম্পর্কিত প্রটোকল: কার্টাগেনা প্রটোকল (জৈব নিরাপত্তা) এবং নাগোয়া প্রটোকল (জেনেটিক সম্পদের সুফল বন্টন) এর আওতাভুক্ত।

• মূল উদ্দেশ্য:
- জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ,
- জীববৈচিত্র্যের টেকসই ব্যবহার,
- জেনেটিক সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধার ন্যায্য ও সমতামূলক ভাগাভাগি।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৬৪.
স্থায়ী সালিশি আদালত কোথায় অবস্থিত?
  1. লন্ডন
  2. প্যারিস
  3. হেগ
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা

Permanent Court of Arbitration (PCA):
- Permanent Court of Arbitration (PCA) বা স্থায়ী সালিশি আদালত একটি আন্তঃসরকারী সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৮৯৯।
- সদরদপ্তর: হেগ, নেদারল্যান্ডস।
- স্বাক্ষরকারী: ১২৭টি।
- বর্তমান মহাসচিব: ড. হাব. মার্সিন চেপেলাক।

⇒ আদালতের সদস্যরা ছয় বছরের মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হন।
- কাজ: রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করা। 

উৎস: International Criminal Court ওয়েবসাইট।

১৬৫.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কোন জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত হয়?
  1. ২১তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  2. ২৫তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  3. ২৭তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  4. ২৯তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
ব্যাখ্যা

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি (Paris Agreement):
- প্যারিস চুক্তি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে। 
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।
- চুক্তির মূল লক্ষ্য: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

১৬৬.
কোন ঘটনাটি কার্টার মতবাদের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছিল?
  1. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  2. কিউবা মিসাইল সংকট
  3. ইরান ইসলামি বিপ্লব
  4. সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

কার্টার মতবাদ (Carter Doctrine):
- কার্টার ডকট্রিন হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কর্তৃক ঘোষিত একটি পররাষ্ট্রনীতি।
- ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কার্টার ডকট্রিন ঘোষণা করেন।
- কার্টার ডকট্রিন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।
- পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের নিরাপদ প্রবাহ রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্টার ডকট্রিন অনুসরণ করে।

• ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আগ্রাসন ও আক্রমণ কার্টার মতবাদের (Carter Doctrine) প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছিল।
- এই আক্রমণের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায়মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করেন যেকোনো বাহ্যিক শক্তি পারস্য উপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তা প্রতিহত করবে।
- এই নীতি ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অস্ত্র সীমাবদ্ধতা আলোচনা (SALT- II) পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এই ডকট্রিনের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Rapid Deployment Joint Task Force গঠন করে। 

উৎস: i) Britannica.
ii) Office of the Historian (.gov) ওয়েবসাইট। 

১৬৭.
‘টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’কোন দেশের নির্মিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. তুরস্ক
  3. ইসরায়েল
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

‘টমাহক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র:
- টমাহক হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অত্যন্ত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

• টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দীর্ঘ পাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়।
- নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। নিচু উচ্চতায় ওড়ে বলে এটি রাডারে ধরা পড়ে না। এতে আছে উন্নত জিপিএস ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, ফলে ত্রুটির সীমা মাত্র ১০ মিটার।
- টমাহক প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে। এরপর সিরিয়াসহ একাধিক অভিযানে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- এ ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে পারে।
- প্রতিটি টমাহকের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ফুট, ওজন তিন হাজার পাউন্ডের বেশি এবং দাম প্রায় ২০ লাখ ডলার। এতে এক হাজার পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক বসানো থাকে।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

১৬৮.
বিশ্বব্যাংকের প্রথম ঋণ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়?
  1. Credit National of France
  2. Government of India
  3. Bank of Japan
  4. US Treasury
ব্যাখ্যা

বিশ্ব ব্যাংক (World Bank):
- বিশ্ব ব্যাংক হলো একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নদারিদ্র্য বিমোচন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
- ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক গঠিত হয়।
- বিশ্বব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয়: ৪ জুলাই, ১৯৪৪।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫।
- কার্যক্রম শুরু করে: জুন, ১৯৪৬।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৮৯টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: অজয় বঙ্গ।
- প্রধান অঙ্গসংস্থা: ৫টি।

 উল্লেখ্য,
- বিশ্বব্যাংকের প্রথম ঋণ ১৯৪৭ সালে ফ্রান্সকে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্যবিশেষ করে 'মনেট প্ল্যান'-এর অধীনে অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এই ঋণ প্রদান করা হয়েছিল।
- ঋণের পরিমাণ: ২৫০ মিলিয়ন ডলার।
- উদ্দেশ্য: যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন।
- ঋণটি সরাসরি ফরাসি সরকারের পক্ষে Credit National of France নামক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল, যা ফরাসি সরকারের গ্যারান্টিতে কাজ করছিল। 
- বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল কঠোর নজরদারীর মধ্যে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ অবলোকন করছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশটি বিশ্বব্যাংকের শর্তসমূহ সঠিকভাবে পালন করছে কিনা। এছাড়া ঋণ অনুমোদনের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ফরাসি সরকারকে আদেশ দিয়েছিল যে সরকারে যেসব কমিউনিস্ট সদস্য রয়েছে তাদের সবার আগে বিদায় করতে হবে।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

১৬৯.
‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)’ কোন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী?
  1. ইয়েমেন
  2. সিরিয়া
  3. ফিলিপাইন
  4. সুদান
ব্যাখ্যা

সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC):
- সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) হলো ইয়েমেনের একটি রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- গঠিত হয়: ১১ মে, ২০১৭।
- প্রধান নেতা: আইদারুস আল-জুবাইদি (Aidarus al-Zubaydi)।
- এরা দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা বা বিচ্ছিন্নতার দাবিতে কাজ করে।
- এরা সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-এর সমর্থনপুষ্ট ছিল।

উল্লেখ্য,
- STC ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে। 
- সাম্প্রতিক সময়ে এটি একটি বড় অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেয়, কিন্তু সৌদি-সমর্থিত সরকারের প্রত্যুত্তরে পরাজিত হয়।

উৎস: Britannica.

১৭০.
অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury) কোথায় পরিচালিত হয়েছে?
  1. ইরান
  2. ইসরায়েল 
  3. কাতার 
  4. সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury): 
- Operation Epic Fury পরিচালিত হয়েছে ইরানে। 
- এই অপারেশন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

• এই অপারেশন ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ইরানে পরিচালিত হয়েছে।
- পেন্টাগন এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।
- মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য,
- ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের (অপারেশন এপিক ফিউরি) জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও দেশসমূহের মূলত ওইসব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে অথবা যেখান থেকে ইসরায়েলি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর এই বৃহৎ আকারের প্রতিশোধমূলক অভিযান ঘোষণা করে। এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড।

উৎস: দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা। 

১৭১.
ইউনেস্কো কোন শহরকে ২০২৬ সালের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে? 
  1. রাবাত, মরক্কো
  2. বার্লিন, জার্মানি
  3. তিরানা, আলবেনিয়া
  4. বাকু, আজারবাইজান 
ব্যাখ্যা

ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল:
- ২০২৬ সালের 'ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল' (World Book Capital) হলো মরক্কোর রাজধানী রাবাত।
- ইউনেস্কো এই শহরকে নির্বাচিত করেছে কারণ রাবাতের বই ও প্রকাশনা শিল্পের প্রতি অঙ্গীকার, লাইব্রেরির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান বই মেলা আয়োজনের অভিজ্ঞতা।

উল্লেখ্য,
- ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল ইউনেস্কো আয়োজিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান।
- এর মাধ্যমে সকল সংস্কৃতি ও সকল ভাষায় বই পড়ার গুরুত্ব প্রচার করা হয়।
- ২০০১ সাল থেকে এই খেতাব দেওয়া হচ্ছে।
- এর আগে এই স্বীকৃতি পেয়েছিল, মাদ্রিদ (২০০১), আলেকজান্দ্রিয়া (২০০২), নয়াদিল্লি (২০০৩), অ্যান্টওয়ার্প (২০০৪), মন্ট্রিল (২০০৫), তুরিন (২০০৬), বোগোতা (২০০৭), আমস্টারডাম (২০০৮), বৈরুত (২০০৯), লুব্লিয়ানা (২০১০), বুয়েনস আইরেস (২০১১), এরেভান (২০১২), ব্যাংকক (২০১৩), পোর্ট হারকোর্ট (২০১৪), ইনচিওন (২০১৫), রোকলা (২০১৬), কোনাক্রি (২০১৭), অ্যাথেন্স (২০১৮), শারজাহ, (২০১৯), কুয়ালালামপুর (২০২০), তিবিলিসি (২০২১), গুয়াদালাজারা (২০২২), আক্রা (২০২৩), স্ট্রাসবার্গ (২০২৪), রিও ডি জেনিরো (২০২৫)।  

উৎস: i) UNESCO ওয়েবসাইট। 
ii) Times of India. 

১৭২.
OIC-এর বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা কত? [মার্চ, ২০২৬]
  1. ১৭টি
  2. ২২টি
  3. ৩৩টি
  4. ৫৭টি
ব্যাখ্যা

OIC:
- OIC-এর পূর্ণরূপ: The Organisation of Islamic Cooperation.
- এটি একটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা।
- এটি মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- গঠিত হয়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়: রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।
- ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ওআইসি।

- OIC-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ২৪টি।
- বর্তমান সদস্য: ৫৭টি।
- সদরদপ্তর: জেদ্দা, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: ইব্রাহিম তাহা।
- অফিসিয়াল ভাষা: আরবি, ইংরেজি এবং ফরাসি।

উৎস: OIC ওয়েবসাইট।

১৭৩.
মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭৪.
নিচের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. পৃথিবীর আবর্তন
  2. স্থলভাগের অবস্থান
  3. সমুদ্রের গভীরতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

'সমুদ্রস্রোত:
- পানির উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা পানির স্বাভাবিক ধৰ্ম । পানি স্বাভাবিক নিয়মে সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানির সমতা রক্ষার জন্য একস্থান হতে অন্যস্থানে নির্দিষ্ট ও নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়। পানির এইরূপ প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে৷

→ সমুদ্রস্রোতের কারণসমূহ:
• বায়ুপ্রবাহ,
• পৃথিবীর আবর্তন,
• উষ্ণতার তারতম্য,
• লবণাক্ততার তারতম্য,
• স্থলভাগের অবস্থান,
• শৈলশিরার অবস্থান,
• অসম বাষ্পীভবন,
• সমুদ্রের গভীরতা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
স্পারসো কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

স্পারসো:
- বাংলাদেশ  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৮০ সালে।
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়: ১৯৮৫ সালে।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- প্রধান উদ্দেশ্য: প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করা।
- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ।

তথ্যসূত্র - স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৭৬.
২১ শে মার্চ দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় উত্তর গোলার্ধে কোন ঋতু বিরাজ করে?
  1. বর্ষাকাল
  2. শরৎকাল
  3. গ্রীষ্মকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী ২২শে ডিসেম্বরের পর নিজ কক্ষপথে অগ্রসর হতে হতে ২১শে | মার্চ এমন অবস্থানে পৌঁছায় যখন সূর্য রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পতিত হয়৷
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়।
- এই সময়কালে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
নিচের কোন দুটি দেশের মধ্যে পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত বিদ্যমান?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. কাজাখস্তান ও রাশিয়া
  3. আর্জেন্টিনা ও চিলি
  4. চীন ও মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্থল সীমান্ত হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।
- যার দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।

→ উল্লেখ্য:
- ২য় দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা কাজাখস্তান ও রাশিয়া, যার দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
- ৩য় দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা আর্জেন্টিনা ও চিলি, যার দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
- ৪র্থ দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা চীন ও মঙ্গোলিয়া, যার দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
- ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা ভারত ও বাংলাদেশ, যার দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - Statistica.com

১৭৮.
আহ্নিক গতির বেগ কোন অক্ষাংশে সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. সুমেরু বিন্দুতে
  2. মেরু প্রদেশে
  3. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  4. নিরক্ষরেখায়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয় ৷
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্ৰায়)।
- এই গতিবেগ মেরুদ্বয়ের দিকে ক্রমশ কমে আসতে থাকে এবং ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুবিন্দু দ্বয়ে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়৷
- ঢাকায় আহ্নিক গতির বেগ প্রায় ১৬০০ কি.মি./ঘন্টা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন নয় কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. নদী খনন
  4. প্রশিক্ষণ
ব্যাখ্যা

→ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

→ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
- অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮০.
নিচের কোন বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. সাময়িক বায়ু
  2. অনিয়মিত বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু,
• মেরু বায়ু।

→ উল্লেখ্য:
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।
- স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।
- অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়৷ এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮১.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. অস্তরীভূত শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. স্তরীভূত শিলা
  4. আদি শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।
- যেমন-কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. উইড্রো উইলসন
  3. লর্ড অ্যাকটন
  4. আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা

→ 'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার ।

→ সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩.
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ হচ্ছে -
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. সহনশীলতা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজানা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৪.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. বিদেশীদের
  2. সামরিক বাহিনীর
  3. আমলাদের
  4. নাগরিকের
ব্যাখ্যা

→ সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব নাগরিকের।

সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা।
- এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৫.
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে কত সালে?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন ৷
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন ।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি। যথা:
• সৎ ইচ্ছা,
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
• শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয় ৷

→ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সরকারি চাকুরি
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  4. দায়মুক্তি
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৮.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. সামাজিক ন্যায় বিচার
  3. মূল্যবোধ
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজি ন্যায়বিচারের অর্থ ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধনের সকলের প্রতি বিচারের মানদন্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচার।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

১৮৯.
নিচের কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. নৈতিকতা
  2. ধর্ম
  3. মূল্যবোধ
  4. আইন
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সেজন্য আইন প্রণয়ন করে।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
- আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯০.
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ
করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৯১.
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
  1. মূল্যবোধ
  2. শুদ্ধাচার
  3. সফলতা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা ও নিষ্ঠা।
- নীতির বিপরীত হলো দুর্নীতি।
- নীতিশাস্ত্রের বিকাশ করেন এরিস্টটল।
- নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

১৯২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. নৈতিকতা
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি - উদারতাবাদ ।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমতসহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায় ।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৩.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. স্বাধীনতা
  2. মৈত্রী
  3. সাম্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্ৰ:
- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার গুরুত্ব 'সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা'-এ তিনটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত।
- গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায় ৷
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান ৷
- গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায় বলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
- অন্যভাবে আমরা বলতে পারি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া
  3. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

→ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়৷
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

→ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

→ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫.
নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের -
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. জীবন যাপন
  4. আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ৷
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে৷
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১৯৬.
'নির্বাচনে অংশগ্রহণ' কোন ধরণের সাম্য?
  1. আইনগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।