পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা] বাংলা পরীক্ষা (ব্যাকরণ) পরীক্ষার টপিক: ১. ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, ২. প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ৩. ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, ৪. ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ------------------------ [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
কোন বর্গের শব্দের আগে কখনো 'ন' হয় না?
  1. ক বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
সঠিক উত্তর:
ট বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট বর্গ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে কখনো 'ন' ব্যবহৃত হয় না।
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'বিলাতি > বিলিতি' কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যান্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত (Progressive):
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন - মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
• পরাগত (Regressive):
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
• মধ্যগত (Mutual):
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
• অন্যোন্য (Reciprocal):
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অনূসূয়া
  2. স্বাক্ষরতা
  3. গড্ডালিকা
  4. স্বতঃস্ফূর্ত
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'স্বতঃস্ফূর্ত' বানানটি শুদ্ধ।
 
অন্যদিকে,
- 'অনূসূয়া' এর শুদ্ধ বানান 'অনসূয়া'।
- 'স্বাক্ষরতা' এর শুদ্ধ বানান 'স্বাক্ষর/ সাক্ষরতা'।
- 'গড্ডালিকা' এর শুদ্ধ বানান 'গড্ডলিকা'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. গৃহিণী
  2. কৃপাণ
  3. পণ্য
  4. কণ্টক
সঠিক উত্তর:
পণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পণ্য
ব্যাখ্যা
'পণ্য' স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:

১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), 

- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'পদ প্রকরণ' বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব:
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)।
- রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় - শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ- প্রকরণ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু  ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধাঁধাঁ
  2. সৌজন্যতা
  3. আপাদামস্তক
  4. দুরবস্থা
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দুরবস্থা' বানানটি সঠিক।

অন্যদিকে,
- 'ধাঁধাঁ' এর সঠিক বানান 'ধাঁধা'।
- 'সৌজন্যতা' এর সঠিক 'সৌজন্য'।
- 'আপাদামস্তক' এর সঠিক বানান 'আপদমস্তক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সহযোগীতা
  2. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  3. পুণ্য
  4. হরীতকী
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সহযোগীতা' বানানটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান হবে-  সহযোগিতা।

• 'সহযোগিতা' শব্দের অর্থ: সহয়তা, সাহায্য।

অন্যদিকে,
হরীতকী, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুণ্য বানান গুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কাঁদনা > কান্না কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
  4. ব্যঞ্জন-বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে।
- এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জন্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান
  2. পদ পরিবর্তন
  3. সমাস
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ -
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পদ পরিবর্তন- বাক্যতত্ত্ব  এবং সমাস ও প্রত্যয়   - রূপতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক নয়?
  1. প্রতিষেধক
  2. পোষাক
  3. সুষমা
  4. প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা
• 'পোষাক' এর সঠিক বানান পোশাক কারণ বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' হয় না।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।

যেমন:
- অভিসেক >অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ,
- প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, প্রতিস্থান >প্রতিষ্ঠান,
- অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পুরস্কার
  2. তিরষ্কার
  3. পরিষ্কার
  4. আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
তিরষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরষ্কার
ব্যাখ্যা
• 'তিরষ্কার' এর সঠিক বানান হবে 'তিরস্কার'।

সূত্র:
• র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
'শব্দগঠন' নিয়ে আলোচনা করা হয় ব্যাকরণের কোন অংশে?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব:
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)।
- রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।
- রূপতত্ত্বে শব্দের গঠন ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় -
- শব্দ,
- দ্বিরুক্ত শব্দ,
- বচন,
- সমাস,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- অনুসর্গ,
- পদ- প্রকরণ,
- অনুজ্ঞা,
- ক্রিয়ার কাল,
- পুরষ,
- লিঙ্গ,
- বচন,
- ধাতু  ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৩.
সত্য > সইত্য কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অপিনিহিতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি >আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য >বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ভবিষ্যদ্বাণী
  2. মুহুর্মুহ
  3. শারীরীক
  4. আদ্যক্ষর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যদ্বাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যদ্বাণী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ভবিষ্যদ্বাণী' বানানটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'মুহুর্মুহ' শব্দের সঠিক বানান 'মুহুর্মুহু'।
- 'শারীরীক' শব্দের সঠিক বানান 'শারীরিক'।
- 'আদ্যক্ষর' শব্দের সঠিক বানান 'আদ্যাক্ষর'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. কবাট > কপাট
  3. পিশাচ > পিচাশ
  4. লাল > নাল
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
- জাপানি রিক্সা> বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
- অনুরূপ পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
- ফাল্গুন > ফাগুন অন্তর্হতির উদাহরণ।
- কবাট > কপাট ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ।
- লাল > নাল  বিষমীভবনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬.
নিচের কোনটি তালব্য স্পর্শধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে।
এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

অন্যদিকে,
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক,খ,গ,ঘ,ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি:
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রণয়ণী
  2. শিরচ্ছেদ
  3. গোধূলী
  4. সুকেশীনী
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
অপশনের সবগুলো বানান ই অশুদ্ধ। অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সুকেশীনী' বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান - সুকেশিনী।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ: প্রণয়ণী।
• শুদ্ধ: প্রণয়ন।

• অশুদ্ধ:শিরচ্ছেদ। 
• শুদ্ধ: শিরশ্ছেদ । 

• অশুদ্ধ:গোধূলী। 
• শুদ্ধ: গোধূলি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ নির্ণয় করুন-
  1. শীতাতপ, ভদ্রাচিত, নৈর্ঋত
  2. শীততাপ, ভদ্রাচিত, নৈঋত
  3. শীততাপ, ভদ্রোচিত, নৈঋত
  4. শীতাতপ, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
সঠিক উত্তর:
শীতাতপ, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতাতপ, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শীতাতপ, ভদ্রোচিত, নৈর্ঋত বানানগুলো শুদ্ধ।

- শীতাতপ অর্থ: শীত ও গ্রীষ্ম।
- ভদ্রোচিত অর্থ: ভদ্রলোকের পক্ষে শোভনীয়।
- নৈর্ঋত অর্থ: দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী দিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৯.
পাকা > পাক্কা কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. সমীভবন
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
- যেমন: পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়।
- এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন- বউদিদি বউদি, বড় দাদা বড়দা ইত্যাদি।

• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমন ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোনটি অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ এবং ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি:
- স্পর্শধ্বনি বা বর্গীয় ধ্বনিগুলোকে উচ্চারণরীতির দিক থেকে অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ, অঘোষ ও ঘোষ প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা হয়।
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় না। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Unaspirated)। যেমন-ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি (Aspirated)। যেমন- খ, ঘ ইত্যাদি।

• অঘোষ ধ্বনি:
কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না। তখন ধ্বনিটির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি (Unvoiced)। যেমন- ক, খ ইত্যাদি।

• ঘোষ ধ্বনি:
ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘোষ ধ্বনি (Voiced) হয়। যেমন- গ, ঘ ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।