পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
[For iPad Mania: Season - 2] --------------------------- বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। উৎস: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
ভারতবর্ষকে 'বিধর্মীর রাজ্য' বলে ঘোষণা করেছেন কে?
  1. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  4. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
ব্যাখ্যা
•ফরায়েজি মতবাদ:
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব’ অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি। 
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয়(ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি বিধর্মী বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।নুন-ভাতের দাবিও উত্থাপন করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
-  ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এছাড়াও,
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
-  দুদু মিয়া ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন দল -
  1. বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  3. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
  4. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
ব্যাখ্যা
- নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক দল - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি -আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন।
- সদর দপ্তর - বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ঢাকা
- সংবাদপত্র- উত্তরণ।
- ছাত্র শাখা - বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
- মতাদর্শ - বাঙালি জাতীয়তাবাদ,ধর্মনিরপেক্ষতা,গণতন্ত্র, মুজিববাদ, সমাজতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এর নিবন্ধন বাতিল করে।
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় - ২৫ জুলাই ১৯৫৭।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় -১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮।

উৎস: নির্বাচন কমিশন, দলের ওয়েবসাইট ও পত্রিকার রিপোর্ট।
.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় পদ অলংকৃত করেন -
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এস এম সায়েম
  3. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
•শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- আর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন।

এছাড়াও,
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে  জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
.
“আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।” - রাজনৈতিক দল সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন?
  1. অধ্যাপক ফাইনার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।

- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, “আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”

- অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”

- অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার - এর মতানুসারে, “বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।”

উৎস: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তিতে মুসলমানদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. আকরম খাঁ
  2. এ.কে ফজলুল হক
  3. আব্দুল করিম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল।
-  চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. এ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মুসলিম মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা - 
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. বেগম ফজিলাতুন্নেছা
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া  সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়ার সময়কালে মেয়েরা ছিল খুবই পর্দানশিন।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। 
- বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ অবরোধ বাসিনী, পদ্মরাগ, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতিতে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। 
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। 
- বেগম রোকেয়া  সাখাওয়াত হোসেন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৫৭  খ্রিস্টাব্দে 
  4. ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে 
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখার সুযোগ পায়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক' দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জওহরলাল নেহেরু
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  3. ইয়ার মোহাম্মদ খান
  4. মহাত্না গান্ধী
ব্যাখ্যা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:
- ১৮৯৭ সনের ২৩ জানুয়ারি  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু উড়িষ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করার পরও দেশসেবার ও স্বদেশের মুক্তির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি চাকুরি গ্রহণ করেননি।
- ১৯৩৮ সালে মহাত্না গান্ধীর বিরোধীতার মধ্যেই সুভাষ বসু কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন, গান্ধীর সাথে মতদ্বৈততার কারণে কংগ্রেস ত্যাগ করে অল ইন্ডিয়া ফরয়ার্ড ব্লক নামে দল গঠন করেন।
- ১৯৪৩ সালে তিনি 'আজাদ হিন্দ' ফৌজের দায়িত্ব নেন এবং আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন।
- সুভাষ বসুর লক্ষ্য ছিল সামারিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করা।
- সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সনের ১৮ আগস্ট রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন দেশে আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়?
  1. ইতালিতে
  2. ইংল্যান্ডে
  3. জার্মানিতে
  4. গ্রিসে
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি ও বিকাশ:
- আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে
- রাণী প্রথম এলিজাবেথের রাজত্বকালে হুইগ  ও টোরি  নামক দুইটি দলের সৃষ্টি হয়। 
- বর্তমানে দলব্যবস্থা হল গণতন্ত্রের প্রাণস্বরূপ। রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা মূলত: শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
- রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” নামে পরিচিত।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় -
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত।
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
নিচের কে ''চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে সংগঠিত গোষ্ঠী" দুটি শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন?
  1. অ্যালেন পটার
  2. জেইন এ্যাডামস
  3. এইচ জিগলার 
  4. রেমন্ড এ্যারন
ব্যাখ্যা
সংগঠিত গোষ্ঠী:
- অ্যালেন পটার চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে ‘সংগঠিত গোষ্ঠী’ (Organized group) দুটি শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।

এছাড়াও,
-  এইচ জিগলার এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক শ্রেণির মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ 
  2. ফকির মজনু শাহ
  3. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
•মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন একাধারে একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক শ্রেণির মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়। 
- দুদুমিয়া ছিলেন ফরায়েজিদের গুরু বা ওস্তাদ।
- পিতার আমলের লাঠিয়াল জালালউদ্দিন মোল্লাকে সেনাপতি নিয়োগ করে এক সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন।
- ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী, যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রবৃতি অঞ্চলগুলো নীল চাষের জন্য ছিল উৎকৃষ্ট।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে  দুঃসাহসী বিপ্লবীর মৃত্যু ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কোন সরকার ক্ষমতায় থাকলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে?
  1. বহুদলীয় সরকার
  2. অভিজাততন্ত্র সরকার
  3. সামরিক সরকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
 
• রাজনৈতিক দল সর্ম্পকিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য: 
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই।
যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে।
-তবে শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন- দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-  দ্বাদশ শ্রেনি, মোজাম্মেল হক।
১৪.
কার প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. সৈয়দ আমীর আলি
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ:
 - নওয়াব আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়। সেখানে উর্দু এবং বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হয়।
- আবদুল লতিফের প্রচেষ্টার কারণে ১৮৭৩ সালে মহসীন ফান্ডের টাকা শুধু বাংলার মুসলমানদের শিক্ষায় ব্যয় হবে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- আব্দুল লতিফের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হচ্ছে ১৮৬৩ সালে কলকাতার মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
'সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. শেখ রেহানা
  3. সিমির হোসেন রিমি
  4. মোনায়েম সরকার
ব্যাখ্যা
• শেখ হাসিনা:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।
- তার আগে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের ১০ম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।

• মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
১. শেখ মুজিব আমার পিতা,
২. দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা,
৩. ওরা টোকাই কেন?
৪. বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম,
৫. আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম,
৬. আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি,
৭. সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র,
৮. সাদা কালো,
৯. সবুজ মাঠ পেরিয়ে,
১০. Miles to Go,
১১. The Quest for Vision - 2021,

উৎস:
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।
- আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
 - প্রথম আলো।
১৬.
নিচের কোনটিকে ‘স্বার্থকামী গোষ্ঠী’ বলা হয়?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. জনগণ
  3. সরকার 
  4. রাজনৈতিক দল 
ব্যাখ্যা
স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
● অধ্যাপক মাইনর ওয়েনারের মতে,“চাপ সৃষ্টিকারী বা স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলতে এমন এক গোষ্ঠীকে বুঝায় যা স্বেচ্ছামূলক ভাবে সংগঠিত,যা সরকারি কাঠামোর বাইরে অবস্থান করে, সরকারি নীতিমালা গ্রহণ, পরিচালনা ও নির্ধারণের ক্ষেত্রেপ্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকে।”

● আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, “চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় পত্র,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বাংলায় হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কার প্রচেষ্টায় স্বাক্ষরিত হয়েছিলো?
  1. সুভাষচন্দ্র বোস
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল। 
- চুক্তির উদ্যোক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলিমদের সাথে হিন্দুদের রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এই চুক্তিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী‌র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- চুক্তিটি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির ১৯২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখের সভায়ও অনুমোদন লাভ করে।

• চুক্তিটির বিভিন্ন শর্ত ছিল নিম্নরূপ:
- বঙ্গীয়-আইন সভায় প্রতিনিধিত্ব পৃথক নির্বাচক মন্ডলীর মাধ্যমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
- স্থানীয় পরিষদসমূহে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত হবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শতকরা ৬০ ভাগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতকরা  ৪০ ভাগ।
- কোন সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের সম্মতি ব্যতিরেকে এমন কোন আইন বা সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা যাবে না, যা ঐ সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বার্থের পরিপন্থী।
- মসজিদের সামনে বাদ্য সহকারে শোভাযাত্রা করা যাবে না।
- আইন সভায় খাদ্যের প্রয়োজনে গো-জবাই সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না এবং আইন সভার বাইরে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতা আনার প্রচেষ্টা চালানো অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় প্রয়োজনে গরু জবাইয়ের ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
কোনটি রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. জনগণ
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দল:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং কর্মসূচির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী হিসেবে কাজ করে।
- জনগণকে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯.
নিচের কোনটি 'যুক্ত বাংলার প্রস্তাব' নামে পরিচিত?
  1. বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব
  2. কাশিম- হক প্রস্তাব
  3. মুজিব-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব 
  4. কাশিম-বসু প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
• অখন্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে চলে গেলে তা এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাসে বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র বসু এক প্রস্তাবে অখন্ড বাংলাকে একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান  জানান।
-  অখন্ড বাংলা রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর বাংলাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি, ২০২৩ সংস্করণ।
২০.
রাজনৈতিক দল কিসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত  পদ্ধতিতে
  2. ব্যক্তি স্বার্থে
  3. আন্তর্জাতিক চাপে
  4. সরকারি নীতিতে
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়
- রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকান্ড আঞ্চলিক অথবা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন। লক্ষ্য পূরণের জন্য রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ থাকে সদস্য নিয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিচালনা,সরকারের কর্মসূচি নির্ধারণ ও প্রয়োগ। 
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রাভাবিত করা। 

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী?
  1. সিপিডি
  2. দুদক
  3. এনবিআর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

এছাড়াও,
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
২২.
দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে -
  1. সামরিক বাহিনী
  2. সরকারি দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালা গুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।

এছাড়াও,
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
- যে কোন আপত্তিকর সিদ্ধান্ত বা নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেন। 
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সর্তক থাকবে।
- বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।