পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বিষয় - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১) বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব। ২) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরন, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ----------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টর কোনটি?
  1. শিল্প
  2. কৃষি
  3. শিক্ষা
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
কৃষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি
ব্যাখ্যা

দেশের পরিবেশ ও উৎপাদন প্রেক্ষাপটসমূহ বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি খাত।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে বিভিন্ন রকম বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে; যেমন-
১। গ্রীষ্মকালে অতি উচ্চ তাপমাত্রা
২। অনিয়মিত ও অসময়ে বৃষ্টিপাত
৩। অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টি এবং তার ফলে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস
৪। শুষ্ক মৌসুমে কম বৃষ্টিপাত
৫। বন্যার ভয়াবহতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি
৬। আকস্মিক বন্যা ও খরার ফলে ফসলহানি
৭। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম
৮। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও ভূমিক্ষয়
৯। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি
১০। কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব কী?
  1. মরুকরণ
  2. লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
  3. বন্যা হ্রাস
  4. চর জাগা
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততার প্রভাব:
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব লবণাক্ততা বৃদ্ধি।

- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব দেখা যায়।
- ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দিয়ে জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। - আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে।
- ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।
১৯৭৩ সালে ৮.৩৩ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত ছিল।
২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০.২০ লাখ হেক্টরে।
বর্তমানে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ১০.৫৬ লাখ হেক্টর।
অর্থাৎ প্রায় ১৬.৮৯ লাখ হেক্টর উপকূলীয় জমির ৬২.৫২% বর্তমানে বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
খরা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের কৃষি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
  2. পূর্ব দক্ষিণাঞ্চল
  3. পশ্চিম দক্ষিণাঞ্চল
  4. মধুপুর অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
ব্যাখ্যা

ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
- ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়।
- দেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় কবলিত হয়ে থাকে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে তীব্র খরা প্রবণ এলাকা।
রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার কিছু অংশ মাঝারি খরাপ্রবণ এলাকা।
তবে বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা অববাহিকায় খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
কোনো স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ- 
  1. কমে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. বৃদ্ধি পায় 
  4. বিলুপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা:
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত।
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়।
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের মৌসুমি পুকুরে মাছ ছাড়ার সময়বিলম্বের প্রধান কারণ হলো—
  1. মাছের প্রজাতি কম হওয়া
  2. জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
  3. হ্যাচারিতে তাপমাত্রা কমে যাওয়া
  4. নদীর পানি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
ব্যাখ্যা

 মাছ চাষ ও পোনা উৎপাদনে প্রভাব:
১) আমাদের দেশে মৌসুমি পুকুরগুলোতে এপ্রিল-মে মাসে বৃষ্টির পানি জমলে চাষিরা মাছ ছাড়ে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। অথবা বৃষ্টিপাত শুরু হতে দেরি হচ্ছে। এতে করে পোনা ছাড়তে দেরি হচ্ছে। আবার দেরিতে পোনা ছাড়ার পর পুকুর শুকিয়েও যাচ্ছে তাড়াতাড়ি। ফলে চাষের সময় কমে যাচ্ছে এবং মাছ বড় হওয়ার আগেই ছোট মাছ বাজারজাত করতে হচ্ছে। এতে করে চাষিরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।
২) জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে হ্যাচারিতে মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রজননের অনুকূল পরিবেশ না পাওয়া ও তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে হ্যাচারিতে মাছ কৃত্রিম প্রজননে সাড়া দিচ্ছে না। পেটে ডিম আসলেও ডিম ছাড়ছে না। ডিম শরীরে শোষিত হয়ে যাচ্ছে। আবার মাছ ডিম ছাড়লেও তা নিষিক্ত হচ্ছে না বা কম হচ্ছে। আবার নিষিক্ত হওয়া ডিমফোটার হারও কম হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন এভাবে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন ব্যাহত করছে।
৩) স্বল্প গভীর পুকুরে অধিক তাপমাত্রায় মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কম হচ্ছে ও চাষিদের আয় কমে যাচ্ছে।
৪) কম বৃষ্টির কারণে চাষের পুকুরে কম পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পুকুরে বা খামারে পানি সরবরাহে চাষিকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।
৫) জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা এবং সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মৎস্য সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে চাষিদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পুকুর থেকে মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে।
৬) সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের চাষের পুকুরগুলো ডুবে যেতে পারে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
জলবায়ুর পরিবর্তনে হালদা নদীর ব্রুডমাছের ডিমের কী হচ্ছে?
  1. ডিমের পরিপক্বতা পিছিয়ে যাচ্ছে
  2. ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে
  3. ডিম সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে
  4. ডিম নিষিক্ত হচ্ছে না
সঠিক উত্তর:
ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে
ব্যাখ্যা

অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে প্রভাব:
১) কম বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে কম পানি হচ্ছে ফলে অল্প পানিতে সহজেই মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে ছোট-বড়, প্রজননক্ষম সব মাছ ধরা পড়ছে। ফলে নদীতে মাছের জীববৈচিত্র্য ও স্থায়ী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

২) তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে ফলে লবণাক্ততা ঢুকে পড়ছে মূল ভূ-খণ্ডের দিকে। এতে করে উপকূলীয় এলাকার স্বাদুপানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। সেই সাথে কমে যাচ্ছে উৎপাদনও।

৩) আমাদের দেশে বিল, বাঁওড়, প্লাবন ভূমিতে এপ্রিল-মে মাস হচ্ছে দেশীয় জাতের ছোট মাছের প্রজননকাল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বা কম হওয়ার কারণে জুলাই মাস পর্যন্তও এসব জলাশয়ে পানি হচ্ছে না। ফলে এসব মাছের প্রজনন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র মৎস্য উৎপাদনে এবং যারা মাছ আহরণ করে তাদের পুষ্টি ও জীবীকার ক্ষেত্রে।

৪) আমাদের দেশে একমাত্র হালদা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। বৈশাখ মাসে প্রচণ্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি শুরু হলে এরা ডিম ছাড়ে। তখন নদী থেকে জেলেরা নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে এবং এই ডিম ফুটিয়ে পোনা উৎপাদন করে। জলবায়ুর পরিবর্তনে তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে ব্রুডমাছের ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সময় দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে করে মাছের শারীরবৃত্তীয় অবস্থার সাথে বৃষ্টিপাতের সময়ের অমিল হচ্ছে। ফলে ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী খরায় কবলিত হয় কখন?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4.  ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯৯৪-৯৫ বাংলাদেশে সমসাময়িক কালের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা, ব্যাপক শস্যহানি ঘটে।

ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়। দেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় কবলিত হয়ে থাকে।
খরাপ্রবণ এলাকায় ফসলের ফলন নির্ভর করে খরার তীব্রতা, খরার স্থিতিকাল এবং ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ের উপর।
ফসলে ক্ষতির মাত্রার উপর নির্ভর করে খরাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
১। তীব্র খরা (৭০-৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)
২। মাঝারি খরা (৪০-৭০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)
৩। সাধারণ খরা (১৫-৪০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)

ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- রবি খরা, খরিপ-১ খরা ও খরিপ-২ খরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  2. দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  3. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে কী বলা হয়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. স্বাভাবিক বন্যা
  3. মৌসুমী বন্যা
  4. জোয়ার-ভাঁটা জনিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা

• পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।

• বন্যা:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ভূমির ঢাল
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. অক্ষাংশ
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা

জলবায়ুর নিয়ামক:
- দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়। দ্রাঘিমাংশ দ্বারা কোন স্থানের সময় নির্ধারন করা হয়।

- পৃথিবীর সব স্থানের জলবায়ু একধরণের হয় না। কিছু ভৌগৌলিক কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয় গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
- জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হল-
• অক্ষাংশ,
• উচ্চতা,
• সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
• বায়ুপ্রবাহ,
• সমুদ্রস্রোত,
• পর্বতের অবস্থান,
• ভূমির ঢাল,
• মৃত্তিকার গঠন।
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি জলবায়ুর নিয়ামক।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছ কোন দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে?
  1. মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
  2. উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চলের দিকে
  3. সমুদ্রের গভীর অংশের দিকে
  4. নদীতে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
ব্যাখ্যা

• সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রে প্রভাব:
১) বায়ুমণ্ডলে দিন দিন কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে ফলে বেড়ে যাচ্ছে বাতাসের ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা।
ফলে বাতাসের গতি প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে, বৃষ্টির ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। এতে করে সাগরে মাছের বিচরণ ও উৎপাদশীলতায় প্রভাব পড়ছে।
ফলে সমুদ্রের কোনো অংশে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার মাছের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র বলে খ্যাত কিছু এলাকা মাছশূন্য হয়ে যেতে পারে।

২) বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মাছ উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে সরে যাচ্ছে।
- অনেক মাছ তার অভিপ্রায়ন (Migration) পথ, প্রজননক্ষেত্র এবং বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন করে ফেলছে।
- ফলে জেলেরা সুদূর অতীত থেকে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে সমুদ্রের যে সব সামুদ্রিক এলাকায় মাছ আহরণ করতে যেত, সেগুলোর পরিবর্তন হলে জেলেরা বিপাকে পড়বে।

৩) কোরাল রীফ বা প্রবাল সামুদ্রিক মাছের উৎকৃষ্ট আবাসস্থল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ বাস করে এবং প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করে।
- পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঢেউয়ের তারতম্য, সমুদ্রের অম্লত্ব বৃদ্ধি, দূষণ, স্রোতের গতি পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে প্রবাল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। 
- এর ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য তথা মৎস্য বৈচিত্র্যের উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

১৩.
বাংলাদেশে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়-
  1. এপ্রিল - মে 
  2. জুন - জুলাই
  3. জুলাই - আগস্ট
  4. ফেব্রুয়ারি - মার্চ
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল - মে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল - মে 
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
হিমালয়ের অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীতের তীব্রতা—
  1. ইউরোপের মতোই
  2. ইউরোপের চেয়ে কম
  3. ইউরোপের চেয়ে বেশি
  4. একই রকম
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা

জলবায়ুতে ভূ-প্রকৃতির প্রভাব:
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- যেমন- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়। - তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।
- হিমালয় পবর্তের অবস্থানের জন্য শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের উত্তরাংশের চীন ভূ-খন্ডে উষ্ণতা-১০° সেলসিয়াস থেকে -৫০° -সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
অতএব বলা যায় যে, ভূ-প্রকৃতির উপর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভরশীল।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বন্যার প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. সম্পদহানি
  2. ফসল উৎপাদন হ্রাস
  3. রোগ-ব্যাধির বিস্তার
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বন্যার প্রভাব:
- বন্যার ফলে বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
- যেমন-সম্পদহানি, ফসল উৎপাদন হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি লবণাক্ত হওয়া, রোগ-ব্যাধির বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া, সুপেয় পানির সংকট, খাদ্য ও পুষ্টির অভাব প্রভৃতি।
- বিগত অর্ধশতাব্দীর কিছু বেশি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়।
- এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫৪, ১৯৬৩, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭ সালের বন্যা।
- ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং দেশের অধিকাংশ জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. বিএনসি
  2. সিপিপি
  3. প্রশিকা
  4. রেড ক্রিসেন্ট
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি) প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি): 
- ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এর পর দীর্ঘ দুই মাসের অধিক সময়কাল উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শনের পর মিঃ হেগষ্ট্রম ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির’ রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- তদানীন্তন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, নোয়াখালী জেলা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) জেলা ও পটুয়াখালী জেলার মেটি ২৩ টি থানায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১,৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ২৩ টি থানার ১৮৬ টি ইউনিয়নের আওতাধীন ১,৯২৭ টি ইউনিটের মোট ১৯,২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগে সারা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা।
- সমাজ কল্যাণে ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দক্ষতা, স্পৃহা, অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও আত্মত্যাগী মনোভাব সৃষ্টি করা।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী এবং উন্নয়ন করা।
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্যোগে দ্রুত সারা প্রদানের জন্য বেতার যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
- আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বোধগম্য ও প্রতিষ্ঠিত করা এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেত এর সহিত সস্পৃক্ত জনসাধারণকে কার্যকরী সাড়া প্রদানে নিশ্চিত করা।

- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
কক্সবাজারের জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. চরমভাবাপন্ন
  2. অনিয়তভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. নিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

• সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।