পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
Exam - 17 The Evidence Act, 1872: Test-4 Topic ➝ Review: EA Test 1-3
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় কয়টি বিষয়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারার বিধান: উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ (Motive, preparation and previous subsequent conduct): কোন ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি, এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক ব্যা বিবেচিত হবে। কারণ ঘটনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অভিযুক্তের আচরণ ঘটনা প্রমাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

⇒ যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় ৩টি বিষয়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-(i) অভিপ্রায় (Motive) (ii) প্রস্তুতি (Preparation) (iii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct).

⇒ সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।

⇒ এই প্রশ্নের ঘটনাটি ৮ ধারা অনুযায়ী বিচার্য বিষয়ের পরবর্তী আচরণ ও বিচার্য ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত।

----------------
Motive, preparation and previous or subsequent conduct:
Section 8. Any fact is relevant which shows or constitutes a motive or preparation for any fact in issue or relevant fact. 
 
The conduct of any party, or of any agent to any party, to any suit or proceeding, in reference to such suit or proceeding, or in reference to any fact in issue therein or relevant thereto, and the conduct of any person an offence against whom is the subject of any proceeding, is relevant, if such conduct influences or is influenced by any fact, in issue or relevant fact, and whether it was previous subsequent thereto.
.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
  1. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
  2. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।
  3. সরকারের বিরুদ্ধে হলে
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ ধারাঃ ২৩। দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক (Admissions in civil cases when relevant): দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না। 

⇒  অর্থাৎ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

------------
Admissions in civil cases when relevant:
Section
23. In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.

Explanation.–Nothing in this  section shall be taken to exempt any 17[Advocate] from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
.
আসামী পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তির ফলাফল কি?
  1. প্রাসঙ্গিক হইবে
  2. আংশিক প্রাসঙ্গিক ও আংশিক অপ্রাসঙ্গিক হইবে
  3. অপ্রাসঙ্গিক হইবে
  4. চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে প্রাসঙ্গিক
সঠিক উত্তর:
অপ্রাসঙ্গিক হইবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রাসঙ্গিক হইবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারামতে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে আসামীর প্রদত্ত স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না (Confession by accused while in custody of police not to be proved against him): পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকাকালে কোন ব্যক্তি দোষ স্বীকার করলে, তা যদি কোন ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে না হয়, তাহলেতা ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় 'ম্যাজিস্ট্রেট' বলতে ম্যাজিস্ট্রেটের কার্য সম্পাদনকারী গ্রামপ্রধানকে বুঝাবে না। তবে গ্রামপ্রধান যদি ১৮৯৮ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন, তবে তাকে বুঝাবে।

-----------
⇒ Confession by accused while in custody of police not to be proved against him:
Section 26. No confession made by any person whilst he is in the custody of a police-officer, unless it be made in the immediate presence of a Magistrate, shall be proved as against such person. 
 
⇒ Explanation:– In this section "Magistrate" does not include the head of a village discharging magisterial functions unless such headman is a Magistrate exercising the powers of a Magistrate under the Code of Criminal Procedure,1898.
.
সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারায় কয় ধরনের ব্যক্তিগণের স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হয়েছে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৪ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ধরনের
ব্যাখ্যা
⇒ মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধির স্বীকৃতি (Admission by party to proceeding or his agent)- সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারামতে নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে। যথা-

ⅰ)) মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধির স্বীকৃতি;

ii) প্রতিনিধিত্বমূলক মামলার ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা বিবাদীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রদত্ত স্বীকৃতি;

iii) মামলার বিষয় বস্তুতে মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থের অধিকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য অথবা তাদের নিকট থেকে স্বার্থ প্রাপ্ত ব্যক্তিতে বক্তব্য অর্থাৎ মামলার বিষয়বস্তুতে কোনভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বীকৃতি; অথবা

iv) মামলার কোন পক্ষের বিরুদ্ধে যার অবস্থান বা দায় রয়েছে তেমন ব্যক্তির স্বীকৃতি বা বক্তব্য।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারায় ৪ ধরণের ব্যক্তিগণের স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হয়েছে।

-----------
⇒ Admission -by party to proceeding or his agent;
Section18. Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.
by suit or in representative character;
Statements made by parties to suits suing or sued in a representative character, are not admissions, unless they were made while the party making them held that character.
by party interested in subject-matter;
Statements made by– 
(1) persons who have any proprietary or pecuniary interest in the subject-matter of the proceeding, and who make the statement in their character of persons so interested, or
by person from whom interest derived
(2) persons from whom the parties to the suit have derived their interest in the subject-matter of the suit, are admissions, if they are made during the continuance of the interest of the persons making the statements.
.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি বেঁচে গেলে ঐ ঘোষণা কী হবে?
  1. সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে
  2. সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার হবে
  3. জীবিতকালীন ঘোষণা বলে গণ্য হবে
  4. আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ধারা ৩২(১) এর অধীন মৃত্যুকালীন ঘোষনা দেয়ার পর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুবরণ করতে হবে।

⇒ Evidence Act  এর ধারা-৩২(১) এর বিধান মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ মৃত্যুকালীন ঘোষণা [Dying Declaration); কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে তার  মৃত্যুর কারণ,  মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা যে সকল ঘটনার ফলে মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক ঘোষণা/বিবৃতি প্রদান করে, তাকেই মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলে।

⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয়ক্ষেত্রেই।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।

⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। 
.
Estoppel এর ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. আইনের বিরুদ্ধে Estoppel দাবি করা যায় না
  2. Estoppel এর নীতি দ্বারা শুধুমাত্র পক্ষদ্বয় বাধ্য তৃতীয় কোন ব্যক্তি নয়
  3. Estoppel ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  4. Estoppel দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
Estoppel ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Estoppel ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনে Estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি। অর্থাৎ Principle of Estoppel দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না”।

⇒ আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারে কিনা- প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর নিয়মটি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য হয়, আইন বিষয়ে নয়। অর্থাৎ আইন বলে কেউ যদি কোন অধিকার লাভ করে সেক্ষেত্রে Estoppel নীতি প্রয়োজ্য হবেনা।

⇒ সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি দেওয়ানি মামলায় প্রযোজ্য, কিন্তু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
⇒ এস্টপেল আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন বা বিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়। এস্টপেল সুস্পষ্ট হতে হবে।
-----------------
⇒ প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর উপাদান: এস্টপেল কার্যকরী হতে হলে নিম্নলিখিত উপাদান থাকতে হবে-
ⅰ) যার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক কার্যকরী করতে চাওয়া হচ্ছে তিনি বা তার প্রতিনিধি কোন ঘোষনা বা কর্ম বিরতি করেছিলেন।
ii) কিন্তু পরে ঐ ব্যক্তি কিংবা তার প্রতিনিধি এমন কোন দাবী উত্থাপন করলেন যা তার পূর্ব বর্ণিত ঘোষনা বা কর্ম বিরতি প্রভৃতির পরিপন্থি।
iii) মূল ঘোষনা প্রভৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তি তার পূর্বের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন।
iv) মূল ঘোষণা প্রভৃতির দ্বারা প্রতিবন্ধক উত্থাপনকারী পক্ষ কিছু করতে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
ⅳ) মূল ঘোষনা প্রভৃতি দ্বিতীয় ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির নিকট করা হয়েছিল।
.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় প্রমাণিত (proved), মিথ্যা প্রমাণিত (disproved) এবং অপ্রমাণিত (not to be proved) এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ২ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় কতিপয় শব্দের ব্যাখ্যা রয়েছে যার, ঐ গুলাতে প্রমাণিত (proved), মিথ্যা প্রমাণিত (disproved) এবং অপ্রমাণিত (not to be proved) এর সংজ্ঞা রয়েছে।

⇒ প্রমাণিত (proved):
কোন ঘটনা তখনই প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘাটনাটির অস্তিত্ব আছে বলে হয় বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্ব এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব অনুমান করতে পারেন। 

⇒ মিথ্যা প্রমানিত (disproved): কোন ঘটনা তখনই মিথ্যা প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘটনাটির অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্বহীনতা এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব নেই বলে অনুমান করতে পারেন।

⇒ অপ্রমাণিত (not to be proved): কোন ঘটনা তখনই অপ্রমাণিত বলা হয় যখন তা প্রমাণিত বা মিথ্যা প্রমাণিত কোনটিই হয় না। (A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved).

----------------
The Evidence Act,1872: Section 3- Interpretation-clause:
⇒ A fact is said to be proved when, after considering the matters before it, the Court either believes it to exist, or considers its existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it exists.

⇒ A fact is said to be disproved when, after considering the matters before it, the Court either believes that it does not exist, or considers its non-existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it does not exist.

⇒ A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved.
.
সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে?
  1. Fact in Issue
  2. Relevant Facts
  3. Conclusive proof
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী বিচার্য বিষয় এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় ব্যতীত আদালতে অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া যাবেনা
(Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are declared to be relevant, and of no others)

⇒ সুতরাং ৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ২টি বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে। যথা-
ⅰ) বিচার্য বিষয় (Fact in Issue) সম্পর্কে।
ii) প্রাসঙ্গিক বিষয় (Relevant Facts) সম্পর্কে।

⇒ বিচার্য বিষয় (Facts in Issue)- বিচার্য বিষয় হলো এমন কোন ঘটনা যাকে কোন মামলার মূল বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, যে বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আদালত তার সিদ্ধান্ত প্রদান করে তাকে বিচার্য বিষয় বলে। কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় মামলার এক পক্ষ স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। যে কোন মামলার প্রকৃত বিষয় ও সত্যতা উদঘাটনে বিচার্য বিষয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

⇒ প্রাসঙ্গিক বিষয় (Relevant Facts)- যে ঘটনাটি অন্য কোন ঘটনার অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতা প্রমাণ করে, তাই প্রাসঙ্গিক ঘটনা বা Relevant Fact। কোন বিষয়কে প্রাসঙ্গিক হতে হলে উক্ত ঘটনাকে কোন না কোন দিক হতে বিচার্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। সাক্ষ্য আইনের ৫ থেকে ৫৫ ধারায় বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা (Relevance of Facts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
.
"A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death." এখানে সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারার
  3. সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারার
  4. সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।

⇒ যেমন- 'B' একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে এখানে 'A'-কে অবশ্যই 'B'-এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে; কেননা মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রাসঙ্গিক এবং গ্রহণযোগ্য হবে যদি ঘোষণাকারী মৃত হয়। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণাটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে ঘোষণাকারী মৃত কিনা সেই তথ্যের উপর। আর ঘোষণাকারী মৃত কিনা তা প্রমাণের ভার সেই ব্যক্তির উপর বর্তাবে যে মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ হিসাবে দিতে চায়। যেহেতু এখানে 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায় সুতরাং মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ করার জন্য, 'B'-এর মৃত্যু সংক্রান্ত প্রমাণ দাখিলের দায়ভার 'A',-এর উপর বর্তাবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্বঃ- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

⇒ উদাহরণ:

(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

--------------------
Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.

(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death. 

(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.
১০.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না-
  1. দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা বিনষ্ট হয়
  2. দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয় 
  3. দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ২২ক: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু  হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।

⇒ সাধারণভাবে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু মৌখিক স্বীকৃতি দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। তবে ডিজিটাল রেকর্ডটি জাল বা কৃত্রিম কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: ডিজিটাল রেকর্ডের বিবরণ বিষয়ে মৌখিক বিবৃতি যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক [When oral admissions as to contents of digital records are relevant]:

⇒ The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা ২২ক ধারাটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ডের বিবরণ বিষয়ে মৌখিক বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত ২২ক ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২২ক ধারায় বলা হয়েছে, উত্থাপিত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা বিচারের বিষয়ীভূত না হওয়া পর্যন্ত ডিজিটাল রেকর্ডের বিবৃতি বিষয়ে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক না [Oral admissions as to contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question].
১১.
"শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত" সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার
  3. সাক্ষ্য আইনের ৪৬ ধারার
  4. সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত: -
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।

(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষী দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে।
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
---------
⇒ Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.- ( 1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
১২.
একজন ব্যক্তি জীবিত মর্মে যে দাবী করে তা তাকেই প্রমান করতে হবে, যদি ঐ ব্যক্তির কোন সংবাদ পাওয়া না যায়-
  1. ০৭ বছর যাবৎ
  2. ১০ বছর যাবৎ
  3. ১৫ বছর যাবৎ
  4. ৩০ বছর যাবৎ
সঠিক উত্তর:
০৭ বছর যাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০৭ বছর যাবৎ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৭ ধারায় বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে আদালত জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মৃত বলে দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি মৃত।
⇒ অন্যদিকে ১০৮ ধারা অনুযায়ী ৭ বৎসর যাবৎ খবর পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তিকে আদালত মৃত অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দাবী করে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে।
-----------
⇒  Section 107 Burden of proving death of person known to have been alive within thirty years:  When the question is whether a man is alive or dead, and it is shown that he was alive within thirty years, the burden of proving that he is dead is on the person who affirms it.
⇒  Section 108 Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years: Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
১৩.
নিম্নলিখিত কোন বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করার প্রয়োজন হয়?
  1. অনুমিত বিষয়
  2. জুডিশিয়াল নোটিশ
  3. প্রাসঙ্গিক বিষয়
  4. স্বীকৃতি বিষয়
সঠিক উত্তর:
প্রাসঙ্গিক বিষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাসঙ্গিক বিষয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় বা বিচার্য বিষয় সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। তবে আদালতে তিন ধরনের বিষয় প্রমান করার প্রয়োজন হয় না। যথা- অনুমিত বিষয়াদি (Presumption), জুডিশিয়াল নোটিশ এবং স্বীকৃতি (Admission)।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারামতে মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধি যে সকল বিষয় বা ঘটনা মোকদ্দমার শুনানীর সময় বা মোকদ্দমার শুনানীর পূর্বে লিখিত আকারে স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে অথবা প্লিডিংসের (Pleadings) মাধ্যমে স্বীকার করেছে, সে সকল বিষয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।

⇒ The Evidence Act 1872 এর ৫৬, ৫৭ ও ৫৮ ধারায় বলা হয়েছে যে সকল বিষয়ে পক্ষগণ স্বীকৃতি দেয়, এবং যে বিষয় আদালত বিচারিক নজরে নিতে পারেন সেই বিষয় আদালতে প্রমাণ করার আবশ্যকতা নাই। বাংলাদেশের আইনের বিষয়ে আদালত নিজেই বিচারিক নজিরে নিতে পারবেন।
১৪.
সাক্ষ্য আইনে কয়টি বিষয়কে জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice) হিসেবে তালিকায় অন্তর্গত করা হয়ছে?
  1. ৩ টি
  2. ৭ টি
  3. ৯ টি
  4. ১১ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা
⇒ জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)- যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জুডিশিয়াল নোটিশ প্রমানের প্রয়োজন নেই (Fact judicially noticeable need not be proved)। তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন। সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে।

৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহঃ
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।

[ বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিকা স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
------------------------
Facts of which Court must take judicial notice:
Section 57. The Court shall take judicial notice of the following facts:- 
(1) All Bangladesh Laws:
(2) Articles of War for the Armed Forces: 
(3) The course of proceeding of Parliament and of any Legislature which had Power to legislate in respect of territories now comprised in Bangladesh. 
(4) The seals of all the Courts in Bangladesh: the seals of Courts of Admiralty and Maritime Jurisdiction and of Notaries Public, and all seals which any person is authorized to use by any law in force in Bangladesh:
(5) The accession to office, names, titles, functions and signatures of the persons filling for the time being any public office in Bangladesh, if the fact of their appointment to such office is notified in any official Gazette: 
(6) The existence, title and national flag of every State or Sovereign recognized by the Government: 
(7) The divisions of time, the geographical divisions of the world, and public festivals, fasts and holidays notified in the official Gazette: 
(8) The territories of Bangladesh: 
(9) The commencement, continuance and termination of hostilities between Bangladesh and any other State or body of persons: 
(10) The names of the members and officers of the Court and of their deputies and subordinate officers and assistants, and also of all officers acting in execution of its process, and of all advocates  and other persons authorized by law to appear or act before it: 
(11) The rule of the road on land or at sea. 

In all these cases and also on all matters of public history, literature, science or art, the Court may resort for its aid to appropriate books or documents of reference. 
If the Court is called upon by any person to take judicial notice of any fact, it may refuse to do so unless and until such person produces any such book or document as it may consider necessary to enable it to do so.
১৫.
সাক্ষ্য আইন কখন থেকে কার্যকর হয়?
  1. ১ সেপ্টেম্বর ১৮৭২
  2. ১৫ মার্চ ১৮৭২
  3. ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
  4. ১ মার্চ ১৮৭২
সঠিক উত্তর:
১ সেপ্টেম্বর ১৮৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ সেপ্টেম্বর ১৮৭২
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৭২ সালের আগে উপমহাদেশে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য আইন ছিল না। ১৮৭১ সালে স্যার জেমস স্টিফেন সাক্ষ্য আইন প্রণয়ন করার আগে ১৮৬৮ সালে স্যার হেনরি সামারও একটি খসড়া প্রণয়ন করেছিলেন তা সহায়ক ছিল না বলে বর্জন করা হয়।

⇒ সাক্ষ্যের ইংরেজী প্রতিশব্দ Evidence। Latin শব্দ Evidence বা Evidere শব্দ হতে Evidence শব্দটি উদ্ভুত হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের মূল বিষয় হলো সাক্ষ্য দ্বারা কোন বিষয় বা ঘটনাকে প্রমাণ করা। সাক্ষ্য আইন অনেকাংশেই পদ্ধতিগত আইনের (Adjective Law) অংশ। মামলা পরিচালনার যাবতীয় পদ্ধতি এবং তার প্রয়োগ তথা পদ্ধতিগত আইনের সাধারণ নিয়মাবলী দেওয়ানি কার্যবিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। পদ্ধতিগত আইনের অবশিষ্ট অংশ তথা “প্রমাণ” পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে সাক্ষ্য আইন।
⇒ সুতরাং সাক্ষ্য আইন হল পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/Adjective Law)

⇒ সাক্ষ্য আইনকে সাক্ষ্য সম্পর্কে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বলা যায় না। কারণ সাক্ষ্য গ্রহণ সংক্রান্ত বিধান সাক্ষ্য আইন ছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, রেজিস্ট্রেশন আইন, উত্তরাধিকারী আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, স্ট্যাম্প আইনেও রয়েছে।

⇒ বর্তমান সাক্ষ্য আইন (১৮৭২ সালের ১ নং আইন) পাশ হয় ১৮৭২ সালের ১৫ই মার্চ। কার্যকর হয় একই বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর।
⇒ Commencement of Act: it shall come into force on the first day of September, 1872.
⇒ স্যার জেমস স্টিফেনকে সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়।

⇒ ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনটি ১১টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ১৬৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। এছাড়াও সাক্ষ্য আইনে ৩টি ভাগ (Part) রয়েছে।
⇒ ১৮৫০ সালে সর্ব প্রথম স্যার হেনরি সামার মেইন সাক্ষ্য আইনের খসড়া বিল তৈরি করলেও তা ভারতে ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৭১ সালে স্যার জেমস স্টিফেনকে (Fitz-James Stephen) সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয় এবং স্যার জেমস স্টিফেন ১৮৭১ সালে সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করেন। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতকারী হলো স্যার জেমস স্টিফেন।

⇒  ১৮৭২ সালের ১৫ই মার্চ সাক্ষ্য আইন প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়) এবং ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
⇒ ৩য় আইন কমিশন সাক্ষ্য আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছিল।
১৬.
Confession বা স্বীকারোক্তি কখন গ্রহনযোগ্য নয়?
  1. পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
  2. প্ররোচনা বা ভয় বা ভীতির মাধ্যমে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ কোন ফৌজদারী মামলার আসামী তার কৃত অপরাধ স্বীকার করে যে বিবৃতি প্রদান করে, তাকে বলা হয় স্বীকারোক্তি। ইংরেজিতে এটাকে Confession বলা হয়। সাক্ষ্য আইনে স্বীকারোক্তির কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে ২৪, ২৫ ও ২৬ ধারায় তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ স্বীকারোক্তি কত প্রকার: কার কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়া হচ্ছে সেদিক বিবেচনা করলে-ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে judicial Confession এবং ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কাউকে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে Extra-judicial Confession বলা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারামতে প্ররোচনা বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গৃহীত স্বীকারোক্তি (Confession caused by inducement, threat or promise) গ্রহনযোগ্য হবে না।

⇒ তবে সাক্ষ্য আইনের ২৮ ধারামতে প্ররোচনা বা ভীতি অপসারনের পর গৃহীত স্বীকারোক্তি (confession) প্রাসঙ্গিক হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারামতে পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (confession) অগ্রহনযোগ্য হবে, তবে সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারামতে পুলিশের নিকট আসামীর প্রদত্ত confession বা তথ্যের ভিত্তিতে কোন আলামত উদ্ধার হলে তা প্রাসঙ্গিক হবে।

যেমন- আসামীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করলে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

⇒ পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত Confession প্রাসঙ্গিক হবে, যাকে Judicial confession বলে।
১৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য হবে?
  1. Courts-martial convened under the Army Act, 1952
  2. Judicial proceedings in courts
  3. Proceedings before the arbitrator
  4. All the above
সঠিক উত্তর:
Judicial proceedings in courts
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Judicial proceedings in courts
ব্যাখ্যা
⇒ Extent: It extends to the whole of Bangladesh and applies to all judicial proceedings in or before any Court, including Courts-martial, other than Courts-martial convened under the Army Act, 1952, the Naval Discipline Ordinance, 1961 or the Air Force Act, 1953 but not to affidavits presented to any Court or officer, nor to proceedings before an arbitrator;

⇒ এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে বলবৎ হবে ও ১৯৮২ সালের সেনাবাহিনী আইন বা ১৯৬১ সালের নৌ- শৃঙ্খলা আইন বা ১৯৫৩ সালের বিমান বাহিনী আইন অনুসারে গঠিত সামরিক আদালত ব্যতীত সকল আদালত এবং সামরিক আদালতে যাবতীয় বিচার কার্যে প্রযোজ্য হবে। তবে অত্র আইন কোন আদালতে অথবা কোন কর্মকর্তার নিকট উপস্থিত হলফনামা অথবা সালিসের কার্যধারায় প্রযোজ্য হবে না।
 
⇒ Case Law:
Judicial proceedings-The term "Judicial proceedings" is not defined by the Evidence Act, but it is defined by section 4(m) of the Criminal Procedure Code as a "proceeding in the course of which evidence is or may be legally taken on oath. "An enquiry is judicial if the object of it is to determine a jural relation between one person and another or a group of persons or between him and the community.
-QE vs Tulja. 12 ILR (BOM) 36. P42. 

Departmental enquiries-In departmental enquiries the strict laws of evidence according to the Evidence Act are not applicable.
-Sisir Kumar Das vs State, 1955 AIR (Cal) 183.
১৮.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ক্ষেত্রে আদালত কোন বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য দিতে দিবেন না?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
Conclusive proof
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Conclusive proof
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে অনুমান করতে পারে (May presume): যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

⇒ অনুমান করবে (Shall presume): যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন। 

⇒ চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।

⇒ অনুমান (Presumption) - অনুমান ৩ প্রকার:-
১) অনুমান করতে পারে (May presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নিতে পারেন প্রমাণিত।

২) অনুমান করবে (Shall presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই ধরে নিবেন প্রমানিত।

৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে ঘোষণা করা, যা অবশ্যই প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত করার জন্য কোন প্রকার সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
১৯.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় Plea of Alibi কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ Plea of Alibi- সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। Alibi অর্থ হলো অন্যত্র (Elsewhere), আর Plea of Alibi এর আক্ষরিক অর্থ হল অন্যত্র অবস্থানের অজুহাত। এই শব্দটি ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

⇒ যেসব ঘটনা অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে যদি সেগুলো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয় অথবা কোনোভাবে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে অর্থাৎ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করে তুলে।
 ⇒ নিম্নোক্ত পাঁচ প্রকারের ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যথা-
i) অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থলে আসামীর অনুপস্থিতি (Plea of Alibi) অর্থাৎ যদি দেখা যায় আসামী অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থল হতে বহু দূরে ছিল তাহলে তা প্রাসঙ্গিক হবে;
ii) সন্তান জারজ কি-না এই প্রশ্নে স্ত্রীর নিকট হতে স্বামীর দূরে থাকার ঘটনা;
iii) কথিত মৃত ব্যক্তি জীবিত আছে এমন ঘটনা;
iv) অভিযুক্ত ব্যক্তি খুন করেছে এই প্রশ্নে, অন্য ব্যক্তি খুন করেছে-এরূপ ঘটনা; অথবা
v) অভিযুক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে এ প্রশ্নে, আহত ব্যক্তি নিজে আঘাত (Self-harming) করেছে-এরূপ ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি মামলায় আসামী এই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে, অপরাধ সংঘটনকালে সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বা যে ঘটনার জন্য কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, ঘটনার সময় সে অন্যত্র ছিল। ফলে সে ঐ অপরাধের জন্য দায়ী নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে অপরাধ সংঘটনকালে আসামী অন্যত্র অবস্থানের দাবি করলে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ তাকেই উপস্থাপন করতে হয়। অর্থাৎ অন্যত্র থাকার অজুহাত বা Plea of Alibi প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
২০.
ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান কী হবে?
  1. Shall presume
  2. Conclusive proof
  3. May presume
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
Shall presume
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Shall presume
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:- বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 

⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।

⇒ Section 85C Presumption as to Digital Signature Certificates.- The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.
২১.
সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান কী?
  1. সরকারি দলিল
  2. বেসরকারি দলিল
  3. ব্যক্তিগত দলিল
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার অনুযায়ী বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
------------------------ 
⇒ Private documents
Section 75. All other documents are private.

⇒ Public documents
Section 74. The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
২২.
সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী নিচের কোনটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব
  2. শারীরিক অবস্থার অস্তিত্ব
  3. শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব
  4. সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
সবগুলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারা মতে:যেসব ঘটনা হতে ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা, উগ্রতা অথবা কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সদিচ্ছা/অসদিচ্ছা (intention, knowledge, good faith, negligence, rashness, ill-will, or good-will towards any particular person) প্রভৃতি মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়; অথবা কোন শারীরিক অবস্থা বা শারীরিক অনুভূতির (any state of body or bodily feeling) অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান: মনের বা দেহের অবস্থা বা দৈহিক উপলব্ধির অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রদর্শন করেঃ- ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা হঠকারিতা, কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতি বিদ্বেষ অথবা কল্যাণ কামনার মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রকাশ করে অথবা কোন শারীরিক অবস্থা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসকি অথবা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়।

⇒ ব্যাখ্যা-১: কোন প্রাসঙ্গিক মানসিক অবস্থা প্রকাশ করার নিমিত্তে যে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়, তাকে সংশ্লিষ্ট মানসিক অবস্থাটি সাধারণভাবে নয়, নির্ধারিতকোন বিচার্য বিষয় প্রসঙ্গে বিদ্যমান রয়েছে এরূপ প্রকাশ করতে হবে।

⇒ ব্যাখ্যা-২: তবে যখন কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিচারকালে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পূর্বে- কৃত কোন অপরাধ এ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, তখন উক্ত ব্যক্তির পূর্বে দণ্ডিত হওয়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়।
২৩.
ফৌজদারি মামলায় বিবাহ বজায় থাকাকালে স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে-
  1. বাধ্য করা যাইবে।
  2. তৃতীয় ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে।
  3. বাধ্য করা যাইবে না।
  4. কোনটাই নয়।
সঠিক উত্তর:
বাধ্য করা যাইবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধ্য করা যাইবে না।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা: কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে। 
--------------
⇒ Communications during marriage:
Section 122. No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
২৪.
'Character as affecting damages' এর বিধান আছে কত ধারায়?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৪২ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৫২ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারার বিধান: ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে (Character as affecting damages)- সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারামতে দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে চরিত্র প্রাসঙ্গিক হবে।

⇒ Character as affecting damages:
Section 55. In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant. 
 
⇒ Explanation.– In sections 52, 53, 54 and 55, the word "character" includes both reputation and disposition; but, except as provided in section 54, evidence may be given only of general reputation and general disposition, and not of particular acts by which reputation or disposition were shown.
২৫.
'খ', 'ক'- কে একটি অপরাধ করতে দেখেছে, 'খ'-নিজে আদালতে না এসে 'গ' কে এটি বলে। 'গ' আদালতে এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'খ' 'ক'- কে অপরাধ করতে দেখেছে। তাহলে 'গ' এর সাক্ষ্য হবে-
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. জনশ্রুত সাক্ষ্য
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জনশ্রুত সাক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনশ্রুত সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য (indirect/hearsay evidence)- পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য হলো তাই যা আদালতে উপস্থিত সাক্ষী পূর্বে অন্য সাক্ষীর নিকট থেকে শোনাক্রমে প্রদান করে। অর্থাৎ নিজে না দেখে অন্যের কাছ থেকে শুনে যে সাক্ষ্য দেয়া হয়। তাকে পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য বা hearsay evidence বলে। জনশ্রুত সাক্ষ আদালতে গ্রহনযোগ্য নয়।

⇒ এখানে 'খ', 'ক'- কে একটি অপরাধ করতে দেখে তাহলে নিয়ম হলো, 'খ'-নিজে ৬০ ধারার অধীনে আদালতে এসে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে। কিন্তু 'খ' না এসে 'গ' এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'খ' 'ক'- কে অপরাধ করতে দেখেছে তাহলে এটি জনশ্রুত সাক্ষ বল্যে গণ্য হবে, যা গ্রহনযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবেঃ মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ জনশ্রুত সাক্ষ্য (hearsay evidence) ধরনের মৌখিক সাক্ষ্য সাধারণতঃ গ্রহণযোগ্য নয়।
----------------
⇒ Oral evidence must be direct.
Section 60. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
২৬.
কোন আইনে Special Rules of Evidence সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারায়
  2. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ থেকে ৫১২ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ৩১ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারায়
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ থেকে ৫১২ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ থেকে ৫১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ Special Rules of Evidence- ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ থেকে ৫১২ ধারায় Special Rules of Evidence সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারায় মেডিকেল উইটনেস ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১০ ধারায় কেমিক্যাল এগজামিনার ও সেরোলোজিস্টের সাক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় প্রমাণের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৯৩ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৯৬ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৯৮ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা থেকে ১১৪ ধারা পর্যন্ত প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০১ অনুযায়ী- যিনি কোন বিষয়ের অস্তিত্বের দাবি করে এর উপর নির্ভরশীল কোন আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে আদালতের রায় কামনা করেন, তিনি সেই বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই প্রমাণ করবেন।

⇒ প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) - দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রেই প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব শব্দদ্বয় বিশেষ তাৎপর্য এবং পক্ষগণের আইনগত অধিকার বহন করে। সাধারণ অর্থে প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো প্রমাণ দাখিলের দায় বা দায়িত্ব। প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক আদালতের বিচার্য বিষয় সংশ্লিষ্ট তথ্য বা তথ্যাবলি প্রমাণ করার দায়িত্ব। সুতরাং প্রমাণের দায়ভার (Burden of proof) কথাটির অর্থ হল মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর অস্তিত্ব সাক্ষ্যের দ্বারা আদালতের সন্তুষ্টি অনুযায়ী প্রমাণ করে মামলাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব।

⇒ কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য থাকেন, তখন বলা হয় যে, বিষয়টি প্রমাণ করার দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যস্ত। তবে এর ব্যতিক্রম আছে, যেমন- যে বিষয় বিরূদ্ধ পক্ষের ভাল জানা আছে তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
২৮.
'Relevancy of facts forming part of same transaction' সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা-৬: একই কার্যক্রমের অংশরূপে গণ্য বিষয়সমূহ (Relevancy of facts forming part of same transaction)- "একই কার্যের অংশ যে সমস্ত বিষয় সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা" সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে। যে বিষয়সমূহ বিচার্য বিষয় নয়, কিন্তু এগুলো বিচার্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, উভয় বিষয়ই একই কার্যক্রমের অংশরূপে গণ্য হতে পারে সেক্ষেত্রে ঐ বিষয়সমূহ একই সময়ে এবং একই স্থানে অথবা বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হোক না কেন উত্ত বিষয়সমূহ সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারামতে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে। সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারা Res Gestae নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।

⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।

⇒ অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যেসব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
------------
⇒ Relevancy of facts forming part of same transaction:
Section 6. Facts which, though not in issue, are so connected with a fact in issue as to form part of the same transaction, are relevant, whether they occurred at the same time and place or at different times and places.
২৯.
বিচারিক দোষ স্বীকার [Judicial Confession] অর্থ হলো-
  1. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  2. অভিযোগকারীর নিকট দোষ স্বীকার
  3. তৃতীয় ব্যক্তির নিকট দোষ স্বীকার
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ কোন ফৌজদারী মামলার আসামী তার কৃত অপরাধ স্বীকার করে যে বিবৃতি প্রদান করে, তাকে বলা হয় স্বীকারোক্তি। ইংরেজিতে এটাকে Confession বলা হয়। সাক্ষ্য আইনে স্বীকারোক্তির কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে ২৪, ২৫ ও ২৬ ধারায় তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ স্বীকারোক্তি কত প্রকার: কার কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়া হচ্ছে সেদিক বিবেচনা করলে-ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে judicial Confession এবং ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কাউকে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে Extra-judicial Confession বলা হয়।

⇒ অপরাধ স্বীকারের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে স্বীকারোক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়-

i) Inculpatory Confessional Statement; ও

ii) Ex-culpatory Confessional Statement.

⇒ আসামি নিজেকে অপরাধের সাথে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারমূলক বিবৃতি প্রদান করলে তাকে Inculpatory Confessional Statement বলা হয়।

⇒ আর আসামী নিজেকে অপরাধের সাথে না জড়িয়ে অন্য কোন ব্যক্তিকে অপরাধের সাথে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারমূলক বিবৃতি প্রদান করলে তাকে Ex-culpatory Confessional Statement বলা হয়।

⇒ অপরাধ স্বীকারের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বীকারোক্তিকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়, যথা-

i) বিচারিক (Judicial) স্বীকারোক্তি;

ii) বিচার বহির্ভূত (Extra-judicial) স্বীকারোক্তি; ও

iii) প্রত্যাহৃত স্বীকারোক্তি।

⇒ আসামী তার দোষ স্বীকারমূলক বিবৃতি যদি কোন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রদান করে, তবে তাকে বলা হয় বিচারিক স্বীকারোক্তি।

⇒ আর তা যদি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট প্রদান করা হয়, তবে তাকে বলা হয় বিচার বহির্ভূত স্বীকারোক্তি।

⇒ এছাড়া দেখা যায়, আসামী প্রথমে বিচারিক বা বিচার বহির্ভূত স্বীকারোক্তি করার পর পরবর্তীতে তার ঐ পূর্বের স্বীকারোক্তি আদালতে অস্বীকার করছে। এটাকে বলা হয় প্রত্যাহৃত স্বীকারোক্তি।
৩০.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান কী?
  1. "Professional communications"
  2. "Official communications"
  3. "Information as to commission of offences"
  4. "Communications during marriage"
সঠিক উত্তর:
"Professional communications"
উত্তর
সঠিক উত্তর:
"Professional communications"
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদানকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

⇒ তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহিত দিবেন না।

(১) বেআইনী উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,

(২) ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকিবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।

⇒ The Evidence Act, 1872 এর ১২৬ ধারা মতে কোন বেআইনি উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা হিসাবে কোন তথ্য প্রকাশ করা হলে এডভোকেট এমন তথ্য প্রকাশ করতে পারে এবং তা গোপন রাখতে বাধ্য না।
------------
Section 126 Professional communications: No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment: 
 
Provided that nothing in this section shall protect from disclosure– 
 
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose: 
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment. 
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client. 

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
৩১.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান মতে কোন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞর মতামত (expert opinion) প্রাসঙ্গিক হবে না?
  1. হাতের তালুর ছাপ
  2. ব্যবসায়িক প্রথা
  3. টেকনিক্যাল শব্দ
  4. বাংলাদেশী আইন
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশী আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশী আইন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান: বিশেষজ্ঞদের মতামত (Expert Opinion):-
যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয় তখন বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির এই ধরনের বিদেশী আইন, বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড বা চারুকলায় বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, টাইপ রাইটিং, ব্যবসায়িক প্রথা, টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।

⇒  Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

⇒  The Evidence Act 1872 এর ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে বিদেশী আইন, বিজ্ঞান, কলা বিজ্ঞান, হস্তরেখা, আঙ্গুলের ছাপ ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষ্য মোকদ্দমায় প্রাসঙ্গিক হবে। কিন্তু বাংলাদেশী আইনের কথা সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারায় বলা হয়নি।
৩২.
আদালত কীভাবে ডিজিটাল স্বাক্ষর (Digital Signature) যাচাই করতে পারেন?
  1. সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিলের আদেশের মাধ্যমে
  2. অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে আদেশের প্রদানের মাধ্যমে
  3. 'জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল' এর অনুমোদনের মাধ্যমে
  4. 'ক' এবং 'খ' উভই
সঠিক উত্তর:
'ক' এবং 'খ' উভই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'ক' এবং 'খ' উভই
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-

(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,

(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।

ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।

-------------------
⇒ Proof as to verification of digital signature.
Section  73A.  In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-

(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;

(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
৩৩.
No confession made to ____________ shall be proved as against a person accused of any offence.
  1. a police-officer
  2. a Magistrate
  3. Ordinary people
  4. None of them
সঠিক উত্তর:
a police-officer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
a police-officer
ব্যাখ্যা
⇒ Confession to police-officer not to be proved
Section 25. No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.

⇒ ধারাঃ-২৫। পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদান করা স্বীকারোক্তি প্রমাণ করা হবে নাঃ- পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি দেয় স্বীকার করে থাকলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

⇒ পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি- সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারামতে পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (confession) অগ্রহনযোগ্য হবে, তবে সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারামতে পুলিশের নিকট আসামীর প্রদত্ত confession বা তথ্যের ভিত্তিতে কোন আলামত উদ্ধার হলে তা প্রাসঙ্গিক হবে।

⇒ যেমন- আসামীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করলে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

⇒ পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত Confession প্রাসঙ্গিক হবে, যাকে Judicial confession বলে।
৩৪.
সরকারী বই, এজহার বা এফআইআর বিবরণ, বিবাহ, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারী রেকর্ড প্রভৃতি সরকারী দলিলের বিষয় কত ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক?
  1. সাক্ষ্য আইন ৩৪ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইন ৩৫ ধারার
  3. সাক্ষ্য আইন ৩৬ ধারার
  4. সাক্ষ্য আইন ৩৭ ধারার
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইন ৩৫ ধারার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইন ৩৫ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী কোন সরকারী বা অন্য অফিসের কোন খাতায়, রেজিস্টারে বা নথিতে যদি কোন বিচার্য ঘটনা বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকে এবং কোন সরকারী কর্মচারী যদি তার চাকরির কর্তব্য পালনকালে তা লিখে থাকে অথবা অপর কোন ব্যক্তি যদি যে দেশে উক্ত খাতা, রেজিষ্টার বা নথি রাখা হয়েছে সেখানকার আইনের বিধান অনুসারে তার উপর আরোপিত কর্তব্য পালন প্রসঙ্গে তা লিখে থাকে তবে উক্ত লেখাই একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

⇒ যেমন- সরকারী বই, এজাহার বা এফ,আই, আর বিবরণ, বিবাহ, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারী রেকর্ড, বিদ্যালয়ের খাতা, নথি ও প্রমাণপত্র, মিউটেশন, বেতার বার্তা প্রভৃতি সরকারী দলিলের বিষয় ৩৫ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক।

⇒ অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তা কর্তৃক কর্তব্য সম্পাদন কালে সরকারী দলিলে বা ডিজিটাল রেকর্ডে লিখিত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক, যেমন: জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, বিবাহের রেজিস্ট্রি ইত্যাদি।
৩৫.
সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে জেরায় কয় ধরণের প্রশ্ন বৈধ করা হয়ছে?
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৫ ধরণের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরণের
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা-১৪৬: জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:

১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।

২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা

৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।

⇒অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারা অনুযায়ী জেরায় ৩ ধরনের প্রশ্ন বৈধ বা আইনসম্মত।
৩৬.
'ক' ১০০০ টাকার দাবিতে 'খ' এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করল। 'খ' এর নিকট তার উক্ত টাকা পাওনা আছে এটি প্রমাণ করার জন্য 'ক' তার খাতায় লেখা হিসাব দেখাল। এক্ষেত্রে-
  1. খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক নয়
  2. খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক
  3. কিন্তু প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারার বিধান হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ অথবা ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয় যখন প্রাসঙ্গিক - সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবসা প্রসঙ্গে নিয়মিত যে হিসেবের খাতা বা ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হয় , উক্ত খাতায় লিখিত বা ডিজিটাল রেকর্ড কোন কিছুতে যখন এমন বিষয়ের উল্লেখ থাকে, যে বিষয়ে অনুসন্ধান করা আদালতের কর্তব্য, তখন হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ অথবা ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয় প্রাসঙ্গিক। কিন্তু কেবলমাত্র এরূপ বিবৃতি কারও উপর দায় আরোপ করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে না।

⇒  যেমন- ক ১০০০ টাকার দাবিতে খ এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করল। খ এর নিকট তার উক্ত টাকা পাওনা আছে এটি প্রমাণ করার জন্য ক তার খাতায় লেখা হিসাব দেখাল। এক্ষেত্রে খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক। কিন্তু যদি অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকে তবে খ এর দেনা প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারামতে ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিতভাবে কোন হিসাবের খাতা বা ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হয় এবং তাতে যদি এমন কিছু থাকে যে বিষয়ে আদালত বিচার্য বিষয় হিসেবে অনুসন্ধান করে তাহলে তা প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে। কিন্তু এরূপ বিবৃতি কোন ব্যক্তির উপর দায় আরোপ করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে না।
৩৭.
সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় সাক্ষ্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২ টি ভাগে
  2. ৩ টি ভাগে
  3. ৪ টি ভাগে
  4. ৫ টি ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ টি ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ সালের সংশোধনী অনুসারে সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় সাক্ষ্য ৩ প্রকার। যথা:
১) দালিলিক সাক্ষ্য,
২) মৌখিক সাক্ষ্য,
৩) শারীরিক বা ফরেনসিক।

⇒  সাক্ষ্য (Evidence): 'সাক্ষ্য' শব্দের অর্থে অন্তর্ভুক্ত হবে-

(১) বিচার্য বিষয়ের অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত যে সকল বিবৃতি দেওয়ার জন্য আদালত অনুমতি দেন বা সাক্ষীর যে সকল বিবৃতি আদালতের প্রয়োজন হয়; এ ধরনের বিবৃতিকে মৌখিক সাক্ষ্য বলে।

(২) যে সকল দলিল আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত করা হয়, এ ধরণের দলিলপত্রকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে।

(৩) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, বীর্য, চুল, সকল দৈহিক উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ; এবং পায়ের ছাপ সম্পর্কিত সকল উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ বা অনুরুপ প্রকৃতির অন্যকোন উপাদান বা বস্তু শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে যদি এমন উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ-
i. প্রতিষ্ঠা করে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; বা
ii. অপরাধ এবং এর ভুক্তভোগীর মধ্যে বা অপরাধ এবং এর অপরাধীর মধ্যেকার কোন সংযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে; এবং 
iii. কোন ঘটনা প্রমাণ করে বা মিথ্যা প্রমাণ করে।
৩৮.
প্রতিপক্ষ কর্তৃক জেরাকৃত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য একই বিষয় এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পরবর্তী যে কোন বিচারিক কার্যক্রমে প্রাসঙ্গিক হবে, যখন উক্ত সাক্ষী হন-
  1. সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য
  2. মৃত ব্যক্তি
  3. সরকারী কর্মচারী
  4. জীবিত ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৩ ধারার বিধান কখন পূর্ববর্তী সাক্ষ্যে প্রদত্ত বিবৃতি পরবর্তীতে মামলা প্রমানের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারেঃ- কোন মামলার সাক্ষী মামলার কোন পর্যায়ে সাক্ষ্য দেয়ার পর যদি মারা যায়, নিখোঁজ হয়, সাক্ষ্য প্রদানে অসমর্থ হয়, প্রতিপক্ষ দ্বারা আটক হয় অথবা উক্ত সাক্ষীর হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে; এই ধরনের সাক্ষীর পূর্বে দেওয়া সাক্ষ্য পরবর্তী কোন মামলায় বা ঐ একই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে কোন ঘটনার সত্যতা প্রমানের জন্য নিম্নলিখিত কিছু শর্ত সাপেক্ষে প্রাসঙ্গিক হবে।
শর্তগুলো হল- ১. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলা একই বিচার্য বিষয়ে এবং একই পক্ষদ্বয়ের বা প্রতিনিধিদের মধ্যে হবে; এবং
২. পূর্ববর্তী মামলার সাক্ষ্যে জেরার (cross-examination) সুযোগ বিদ্যমান ছিল।
৩৯.
পুলিশ 'ক' কে অবৈধ মাদক আমদানির জন্য গ্রেফতার করে। 'ক' পুলিশের নিকট বলে যে, তার উত্তরার বাড়িতে আরও ১০ বস্তা মাদক আছে। পুলিশ 'ক' এর বাড়ি তল্লাশী করে ১০ বস্তা মাদক উদ্ধার করে। এই ক্ষেত্রে ক-এর স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় প্রাসঙ্গিক হবে।
  1. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ২৮ ধারায়
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারার বিধান: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে: পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।

⇒ অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে পুলিশকে দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে পুলিশ যদি কোন আলামত উদ্ধার করে, যতটুকু আলামত উদ্ধার হবে তা আদালতে প্রাসঙ্গিক এবং প্রমাণযোগ্য হবে।

⇒ ধারাঃ-২৫। পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদান করা স্বীকারোক্তি প্রমাণ করা হবে নাঃ- পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি দেয় স্বীকার করে থাকলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

⇒ পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি- সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারামতে পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (confession) অগ্রহনযোগ্য হবে, তবে সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারামতে পুলিশের নিকট আসামীর প্রদত্ত confession বা তথ্যের ভিত্তিতে কোন আলামত উদ্ধার হলে তা প্রাসঙ্গিক হবে।

⇒ ২৫ ও ২৬ ধারার ব্যতিক্রম বলা আছে ২৭ ধারায়।
---------------
How much of information received from accused may be proved:
Section 27. Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.
৪০.
মৃত্যুকালীন ঘোষণার সময় নিম্নের কোন বিষয় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না?
  1. মৃত্যুর কারণ
  2. সম্পত্তি দান
  3. বৈবাহিক সম্পর্ক
  4. পিতৃত্বের দাবী
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি দান
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒  সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;

iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

⇒ অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সম্পত্তি দান বিষয় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪১.
নিচের কোনটি ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড (electronic record) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সফটওয়্যার
  2. ভিডিও
  3. ডিএনএ
  4. অপটিক্যাল
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
ব্যাখ্যা
⇒ দলিল (Document): ব্যবহার হতে পারে অথবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন পদার্থের উপর কোন অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের সাহায্যে বর্ণিত কোন বিষয়কে দলিল বলে এবং এটি ডিজিটাল রেকর্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।

⇒ ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড (Digital record or electronic record): ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড অর্থ ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমোরি, মাইক্রো ফিল্ম, কম্পিউটার দ্বারা উদ্ধৃত মাইক্রোফিস, যা অন্তর্ভুক্ত করে অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক বা ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের (সিসিটিভি) রেকর্ডসমূহ, ড্রোন উপাত্ত, সেল ফোন দ্বারা রেকর্ডসমূহ, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এ বর্ণিত যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসে উদ্ভূত, প্রস্তুতকৃত, প্রদত্ত, প্রাপ্ত বা মজুদকৃত যেকোন রেকর্ড, উপাত্ত বা তথ্য।

⇒ যে কোন প্রকারের লেখা একটি দলিল। মুদ্রিত, লিথোগ্রাফকৃত অথবা ফটোগ্রাকৃত সকল শব্দই দলিল। কোন মানচিত্র বা নকশা একটি দলিল; কোন ধাতুখণ্ড বা প্রস্তর খণ্ডের কিছু খোদিত থাকলে তা দলিল; একটি ব্যঙ্গচিত্রও দলিল।

⇒  শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, বীর্য, চুল, সকল দৈহিক উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ; এবং পায়ের ছাপ সম্পর্কিত সকল উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ বা অনুরুপ প্রকৃতির অন্যকোন উপাদান বা বস্তু শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে যদি এমন উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ-
i. প্রতিষ্ঠা করে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; বা
ii. অপরাধ এবং এর ভুক্তভোগীর মধ্যে বা অপরাধ এবং এর অপরাধীর মধ্যেকার কোন সংযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে; এবং 
iii. কোন ঘটনা প্রমাণ করে বা মিথ্যা প্রমাণ করে।

⇒ অর্থাৎ চোখের কনীনিকার ছাপ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য যা ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড (electronic record) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়।