পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২২ ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক: সম্পূর্ণ সিলেবাস উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
'সাকা হাফং' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

সাকা হাফং: 
- সাকা হাফং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত একটি পাহাড়।
- স্থানীয়ভাবে এই শৃঙ্গকে 'মদক তং' নামেও ডাকা হয়।
- এর অবস্থান ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে, যেগুলোর অবস্থান মূলত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকায়।
- এদের মধ্যে তাজিংডং অন্যতম, এটা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত এবং সরকারিভাবে একে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: প্রথম আলো। 

.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কোন দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. কানাডা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- বিশ্বের আবহাওয়া ও ঋতুগত ধরন দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোনো ঋতুতেই এখন আর আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না। বৃষ্টির সময়ে অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, গরমের সময় ঠান্ডা হাওয়া, আর শীতকালে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে একটি এলোমেলো আবহাওয়া আজ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যেমন: কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।
- কিন্তু এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সমান সুফল আনবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বহু দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু বিখ্যাত শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কঠিন শিলা
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​প্রধান খনিজ সম্পদ:
- বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
​-  ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র (২৯তম)।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজতেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

​এছাড়াও, 
​- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
​- জাফলং ও তামাবিল অঞ্চলে চুনাপাথর পাওয়া যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং পেট্রোবাংলা।

.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান?
  1. মধুপুর গড়
  2. ভাওয়াল বন
  3. সুন্দরবন
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সুন্দরবন ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, এটি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় বিস্তৃত এবং ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো এই বনভূমিকে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। 

​ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য:
- বাংলাদেশের তিনটি স্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনটি স্থান হলো:
১. নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (১৯৮৫ সালে)।
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

২. বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে)।
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

৩. সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

.
'হর্ন অফ আফ্রিকা' অঞ্চলে কোন দেশটি অবস্থিত নয়? 
  1. ইথিওপিয়া
  2. সোমালিয়া
  3. ইরিত্রিয়া
  4. নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

- 'হর্ন অফ আফ্রিকা' অঞ্চলে অবস্থিত নয় নাইজেরিয়া। 

​হর্ন অব আফ্রিকা:
১। ইরিত্রিয়া
২। সোমালিয়া
৩। জিবুতি এবং
৪। ইথিওপিয়া।
​- এই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে আফ্রিকার শৃঙ্গাকৃতি প্রান্তে অবস্থিত বলে একে "হর্ন অফ আফ্রিকা" বলা হয়।  

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস & ব্রিটানিকা।

.
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. জয়পুরহাট
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।

কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

সূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. একটি সামুদ্রিক গিরিখাত
  2. একটি দ্বীপ
  3. একটি চর
  4. একটি পর্বতশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা

→ 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' হলো বঙ্গোপসাগরের-একটি গিরিখাত।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে "গঙ্গা খাদ" নামেও ডাকা হয়।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে এটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

.
"পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয় কোন বনকে?
  1. সিনহারাজা ফরেস্ট
  2. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
  3. আমাজন রেইনফরেস্ট
  4. বোর্নিও রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা

 "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয় অ্যামাজন রেইনফরেস্টকে।

​আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনের নাম।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট পৃথিবীর ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- আমাজন রেইনফরেস্টকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

উল্লেখ্য,
- কঙ্গো রেইনফরেস্ট: কঙ্গো রেইনফরেস্ট পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। এটি পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত।
- সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ: শ্রীলঙ্কার সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ ১৯৭৮ সালে ইউনেসকো দ্বারা অভয়ারণ্য এবং ১৯৯৮ সালে জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

.
'রামসার কনভেনশন' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বন সংরক্ষণ
  2. জীববৈচিত্র্য
  3. জলাভূমি সংরক্ষন 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- রামসার কনভেনশন জলাভূমি সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত।

​রামসার কনভেনশন:
- রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention) বা রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- এটি একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি যা শুধুমাত্র জলাভূমি সংরক্ষণের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এটি কার্যকর হয় ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে।
- রামসার কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য: জলাভূমি সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহারের প্রচার, বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।

সূত্র: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

১০.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫: 
​- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
- পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান হবে- একজন মহাপরিচালক। 
- এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
- ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
- জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।

সূত্র: Laws of Bangladesh

১১.
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস
  2. মঙ্গল
  3. শনি 
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র। এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।

উল্লেখ্য,
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১২.
বাংলাদেশের কোন নদী প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত?
  1. কর্ণফুলী
  2. হালদা
  3. সাঙ্গু
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো হালদা নদী।
- খাগড়াছড়ির বাদনাতলী পর্বতশৃঙ্গে উৎপত্তি লাভ করা হালদা নদী কর্ণফুলী নদীর একটা উপনদী।
- এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত যা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- এছাড়া সম্প্রতি সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী এবং এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো। 

১৩.
BCCSAP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh Climate Change System and Action Plan
  2. Bangladesh Climate Control Strategy and Action Plan
  3. Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
  4. Bangladesh Coastal Climate Strategy and Action Plan
ব্যাখ্যা

BCCSAP: 
​- BCCSAP-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan.
​- এটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৯ সালে প্রণীত একটি নীতিগত দলিল, এর উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সুসংগঠিত কৌশল নির্ধারণ করা। 
​- এই কর্মপরিকল্পনা ছয়টি মূল ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গঠিত: খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা, কম-কার্বন উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
​- BCCSAP-এর আওতায় ৪৪টি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। 
​- এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।  

​সূত্র: International Climate Finance Cell ওয়েবসাইট।  

১৪.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সিলিকা বালি পাওয়া যায় না?
  1. হবিগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সিলিকা পাওয়া যায়নি।

সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু:
- সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়।
- খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ২ (২৫) অনুযায়ী যে সমস্ত বালুতে ৯০% এর অধিক সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2) রয়েছে সে বালুকে ‘‘সিলিকা বালু” বলা হয়। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া পায়।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ প্রথম কোন জেলায় শনাক্ত হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. চাঁদপুর
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে আর্সেনিক:
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় শনাক্ত করা হয়।
- জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সেখানে কয়েকটি নলকূপে পরীক্ষা চালিয়ে এ দূষণ শনাক্ত করে।
- এরপর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের পর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আবিষ্কার বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ নিয়ে গবেষণা ও সতর্কতার সূচনা করে।
- এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এনজিওগুলোর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আর্সেনিক দূষণ শনাক্তের কাজ শুরু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। 

১৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন বাংলাদেশে কত সালে পাস হয়?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন পাস হয় ২০১২ সালে।

​বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৭.
'চলন বিল' কোন কোন জেলার অংশ?
  1. নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ
  2. পাবনা ও নাটোর
  3. বরিশাল ও পটুয়াখালী
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

চলন বিলের অবস্থান - পাবনা ও নাটোর জেলায়।

চলন বিল:
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১৮.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত?
  1. গ্যাস
  2. তেল
  3. কয়লা
  4. বায়ু
ব্যাখ্যা

অনবায়নযােগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

নবায়নযােগ্য সম্পদ:
- যে জ্বালানি পুনঃপুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, নদীর বহমান পানি, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

সূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের (NDMC) সভাপতি কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. ত্রাণ মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

NDMC: 
​- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (NDMC) বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি, 
​- এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী। 
​- এই কাউন্সিল দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া, পুনর্বাসন এবং অভিযোজন কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
​- NDMC-এর অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো গঠিত হয়েছে।
​- প্রধানমন্ত্রী সভাপতি হিসেবে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ, এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করেন।  

​বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের কমিটি: 
- NDMC = National Disaster Management Council.
- NDMAC = National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC = District Disaster Management Committee
- UZDMC = Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC = Union Disaster Management Committee

সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও পত্রিকা রিপোর্ট। 

২০.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) কোন সংস্থার সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হয়?
  1. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  2. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  3. অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
  4. আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা
ব্যাখ্যা

CPP: 
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) একটি যৌথ উদ্যোগ যা বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) একসঙ্গে পরিচালনা করে থাকে।
- এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদান।
- ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় দেখা যায়, BDRCS এবং CPP যৌথভাবে পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তহবিল সক্রিয় করে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে।
- তাদের Early Action Protocol অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির জন্য IFRC-এর Forecast-based Action Fund থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালানো হয়।
- তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে খাদ্য, পানি এবং জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে জনগণকে পৌঁছে দেয়।

সূত্র: Bangladesh Red Crescent Society ওয়েবসাইট। 

২১.
'ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?
  1. বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

১. আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়।
- এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

২. পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে। উদাহরণ: চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা, শেল, কাদাপাথর ইত্যাদি।

৩. রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা

- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উত্তর-পূর্ব উপকূলে, কোরাল সাগরে। 

​গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হল বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম।
- এটি উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের তীরে প্রবাল সাগরে অবস্থিত।
- এটি আনুমানিক ৩৪৪,৪০০০ কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি ২,৯০০টিরও বেশি পৃথক রিফ সিস্টেম, ৭৬০টি ফ্রেঞ্জ রিফ, ৩০০টি প্রবাল রশ্মি এবং ৯০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- এটি অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপবাসীরা ব্যবহার করত।

সূত্র - Worldatlas.com

২৩.
'​দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ' কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত ছিল?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা
  4. নাফ
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলে, হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। 
​- এটি ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপানে জেগে ওঠে। দ্বীপটি গঙ্গা-পদ্মা নদীপ্রণালীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গঠিত হয় এবং এর অবস্থান ছিল বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড তালপট্টির দক্ষিণে।
​- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিভাজক হিসেবে কাজ করে, এবং নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতির (Thalweg Doctrine) ভিত্তিতে দ্বীপটির অধিকারের প্রশ্ন ওঠে। 
​- বাংলাদেশ দ্বীপটিকে “দক্ষিণ তালপট্টি” নামে অভিহিত করে, আর ভারত একে “নিউমুর দ্বীপ” বলে দাবি করে। দ্বীপটি ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আশপাশে তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ছিল।
​- ২০১০ সালের পর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্বীপটি সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশ-ভারতের সামুদ্রিক সীমা বিরোধের কারণ ছিলো।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৪.
বাংলাদেশের কোন জেলায় চা বাগান সবচেয়ে বেশি?
  1. চট্টগ্রাম
  2. মৌলভীবাজার
  3. পঞ্চগড়
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

চা শিল্প:
- ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।
- বর্তমানে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০টি।[আগস্ট - ২০২৫]

উল্লেখ্য,
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।