পরীক্ষা আর্কাইভ

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

পরীক্ষাসিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬ টপিক: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস) [মার্কস-৫০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ) · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'ধ’ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

----------------
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ,, শ, ক, ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫)।

.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চক্ষুস্মান
  2. চক্ষশ্মান
  3. চক্ষুষ্মান
  4. চক্ষুষ্মাণ
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - ‘চক্ষুষ্মান’।
--------------------------------------------------
‘চক্ষুষ্মান’ - শব্দটির সঠিক উচ্চারণ- চোক্খুশমান।

শব্দের অর্থ, ,
- চোখ আছে এমন; তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
- সত্যদ্রষ্টা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. কৃষক
  2. স্পষ্ট
  3. ভবিষ্যৎ
  4. তোষণ
সঠিক উত্তর:
তোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোষণ
ব্যাখ্যা

• কতোগুলো শব্দে স্বভাবতই ষ হয়।
যেমন-
আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, ঔষধ, ঔষধি, কলুষ, কোষ, তোষণ, দ্বেষ, পাষণ্ড, পাষাণ, পোষণ, পৌষ, ভাষা, ভাষ্য, ভাষণ, ভূষণ, মানুষ, রোষ, শোষণ।
--------------- 
অন্যদিকে, 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, দৃষ্টি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. সম্‌+ লাপ= সংলাপ
  2. পর + পর = পরস্পর
  3. বাক্ + দান = বাগদান
  4. সম + সার = সংসার
সঠিক উত্তর:
পর + পর = পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর + পর = পরস্পর
ব্যাখ্যা

• পর + পর = পরস্পর -  নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।

 • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো+অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র+এষণ = প্রেষণ,
কুল+অটা = কুলটা,
পর+পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

অন্য অপশনে, নিয়ম সাধিত সন্ধি হয়েছে।
• সন্ধির নিয়ম: 
ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার ( ং) হয়।  
যেমন,
সম্‌ + লাপ= সংলাপ, 
সম্‌ + সার= সংসার, 
সম্‌ + রক্ষন= সংরক্ষণ। 

• বাক্ + দান = বাগদান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

.
'আমি' - কোন লিঙ্গবাচক শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. উভয় লিঙ্গ
  4. ক্লীব লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'আমি' - উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ।
-------------------- 
• উভয়লিঙ্গ: 
- যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------- 
• লিঙ্গ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি ।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।

.
'অরুণরাঙা' - শব্দটি কোন সমাসসাধিত?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. সাধারণ কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'মধুমাখা' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মধু ও মাখা
  2. মধু রূপ মাখা
  3. মধুকে মাখা
  4. মধু দিয়ে মাখা
সঠিক উত্তর:
মধু দিয়ে মাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধু দিয়ে মাখা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'পুস্তক' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুস্তক' (বিশেষ্য) — তৎসম শব্দ।

• 'পুস্তক' অর্থ:
- একসঙ্গে সেলাই করে গাঁথা বা আঠা দিয়ে যুক্ত সমমাপের লিখিত বা মুদ্রিত কাগজের সংকলন,
- বই,
- গ্রন্থ।
------------------ 
তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

তৎসম শব্দের উদাহরণ: 
- হস্ত, 
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

.
'অন্ধকার' - এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অমানিশা
  2. শর্বর
  3. কৃশানু
  4. আঁধারি
সঠিক উত্তর:
কৃশানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃশানু
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 

• 'কৃশানু' অন্ধকারের সমার্থক শব্দ নয়।
• কৃশানু অর্থ: আগুন।

• অন্ধকার এর সমার্থক শব্দ:
- আঁধার, আঁধারি, তিমির, অমানিশা, তমিস্র, তম, শর্বর, নভাক প্রভৃতি।

• 'অগ্নি'- এর সমার্থক শব্দ:
- অনল, পাবক, আগুন, বিশ্বপা, সর্বভুক, পাবক, কৃশানু, জগন্নু প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
'প্রাচ্য এর বিপরীত শব্দ- 
  1. অপ্রাচ্য
  2. রদ
  3. স্ততি
  4. প্রতীচ্য
সঠিক উত্তর:
প্রতীচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীচ্য
ব্যাখ্যা

• 'প্রাচ্য এর বিপরীত শব্দ- প্রতীচ্য।

• 'প্রাচ্য' শব্দের অর্থ:
১. পূর্বদিকস্থ।
২. পূর্বদেশীয়।
৩. ইউরোপের পূর্বদিকস্থ দেশসমূহ

• 'প্রতীচী' শব্দের অর্থ:
১. পশ্চিম দিক।
২. পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।

• অন্যদিকে,
• 'রদ' এর বিপরীত শব্দ- চালু। 
- 'অগ্র' এর বিপরীত শব্দ -পেছনে।
- 'বামপন্থী' এর বিপরীত শব্দ-ডানপন্থী।
- 'পদস্থ' এর বিপরীত শব্দ- নিম্নস্থ।
- 'বাড়তি' এর বিপরীত শব্দ - কমতি।
- 'নিন্দা' এর বিপরীত শব্দ- স্ততি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
'যষ্টী' শব্দের অর্থ কী?
  1. লাঠি 
  2. গাছের ডাল 
  3. দণ্ড
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'যষ্টি' শব্দের অর্থ - লাঠি; গাছের ডাল; দণ্ড।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুসারে, কোনটি উচ্চ স্বরধ্বনি?
  1. ও 
  2. এ 
  3. ই 
  4. অ 
সঠিক উত্তর:
ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই 
ব্যাখ্যা

• 'ই'- উচ্চ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

১৩.
"আমদরবার" শব্দটির 'আম' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. উর্দু-হিন্দি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
আরবি উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• 'আমদরবার' শব্দে 'আম' — আরবি ভাষার উপসর্গ।
 
আরবি উপসর্গ:
আম - সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমােক্তার।
খাস - বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসদখল, খাসকামরা, খাসদরবার।
লা - না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা।
গর - অভাব অর্থে - গরমিল, গরহাজির, গররাজি।
----------------------------
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।   
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। 

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি: 
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।  

২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি:  
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি,  অপি, অভি, উপ, আ। 

৩. বিদেশি উপসর্গ: 
• ফারসি উপসর্গ: কার্‌, দর্‌, না, নিম্‌, ফি, বদ্‌, বে, বর্‌, ব্‌, কম্‌।  
• আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর্‌।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
"বিড়ালের আড়াই পা" বাগ্‌ধারাটির অর্থ-
  1.  আনন্দ প্রকাশ করা
  2. ক্ষণস্থায়ী রাগ
  3. ভান করা
  4. অতিরিক্ত চালবাজি
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী রাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী রাগ
ব্যাখ্যা

• বিড়ালের আড়াই পা - ক্ষণস্থায়ী রাগ।
বাক্য গঠন: তাঁর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছ কেন? তাঁর রাগ তো বিড়ালের আড়াই পা।

অন্যদিকে,
• বগল বাজানো - আনন্দ প্রকাশ করা।
বাক্য গঠন: পরকে বিপদে পড়তে দেখলে বগল বাজিয়ো না। 

• ‘ভেক ধরা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভান করা।
বাক্য গঠন: কোনো কাজ ভালো ভাবে না পারলেও সে ভেক ধরে যে সব পারে।

• ‘ফোঁপর দালালি' বাগধারাটির অর্থ- অতিরিক্ত চালবাজি।
বাক্য গঠন: সবসময় ফোঁপর দালালি করাই মোহিতের অভ্যাস। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যটি অনুবাদ করা হয়-
  1. ফার্সি উপাখ্যান থেকে
  2. হিন্দি উপাখ্যান থেকে
  3. আরবি উপাখ্যান থেকে 
  4. ভারতীয় পুরাণ থেকে
সঠিক উত্তর:
হিন্দি উপাখ্যান থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি উপাখ্যান থেকে
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ। অর্থ্যাৎ, এটি হিন্দি উপাখ্যান নির্ভর।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬.
বাংলা ভাষায় কোন অনুসর্গটি পঞ্চমী বিভক্তিরূপে কাজ করে?
  1. দ্বারা
  2. কর্তৃক
  3. হতে
  4. পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হতে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' কোন লেখকের নকশা জাতীয় রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. প্রমথনাথ বিশী
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী 
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত নকশা জাতীয় রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮.
"মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য 
  4. মিশ্র বাক্য 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- আঁখি রাতে রুটি খায় আর মোহন খায় ভাত।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯.
'মধ্যস্বরাগম' এর অপর নাম কী?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অভিশ্রুতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগমের অপর নাম - বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।

• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:

মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২০.
কোন যতিচিহ্নের অপর নাম- 'দৃষ্টান্তচ্ছেদ'?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. কমা
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা

• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

অন্যদিকে, 
• 'কমা' এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।
• 'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
কোন সমাসের ক্ষেত্রে "বিপরীত ও অনুরূপ" শব্দের সংযোগ ঘটে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন –
‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন –
মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ।
অনুরূপভাবে,
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. নৃত্যনাট্য
  2. উপন্যাস 
  3. গীতিনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

২৩.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. গুটিশুটি
  3. হাতে হাতে
  4. ঘুম ঘুম
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - হাতে হাতে; ঘুম ঘুম।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক, কুটুস-কুটুস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২৪.
"তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা 
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২৫.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি?
  1. নম্র
  2. বড়াই
  3. শীতল
  4. সম্রাট
সঠিক উত্তর:
সম্রাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট
ব্যাখ্যা

•  প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি- 'সম্রাট' শব্দটি।

• সম্রাট: সম্রাট একটি তৎসম শব্দ, যা সংস্কৃত উপসর্গ সম্ (সম্পূর্ণ) এবং রাজ্ (রাজা) থেকে এসেছে। এটি একটি উপসর্গযুক্ত শব্দ (সম্- উপসর্গ), কিন্তু এখানে কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়নি।
- এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয়।

অন্যদিকে,
• নম্র = নম্‌ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ।
• বড়াই (বড় + আই) — বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আই' যোগে গঠিত শব্দ।
• শীতল = শীত + ল - 'ল' প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে কী বলা হয়?
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. ধাতু
  3. মৌলিক শব্দ
  4. ক্রিয়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা

- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল: 
- ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে ক্রিয়ামূল বা ধাতু বলে।

• ক্রিয়া বিভক্তি।

যেমন
'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ;
এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।

সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ শিক্ষাবর্ষ সংস্করণ)।

২৭.
গদ্য সাহিত্য প্রকৃতপক্ষে কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা

• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।

২৮.
"তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ভুল নেই
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যে ‘উদ্ধতপূর্ণ’ শব্দটির প্রয়োগ সঠিক নয়। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - উদ্ধত/ঔদ্ধত্য (বিশেষ্য);
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দৃঢ়তা, স্পর্ধা, অবিনয়, উগ্রতা, দর্প, গর্ব।
 
• "তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - ভুল বাক্যটির সঠিক রূপ -
- তাহার উদ্ধত/ঔদ্ধত আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।

সঠিক উত্তর: গ) শব্দের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৯.
'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. ফুটকি
  2. নুড়ি
  3. ফুসকুড়ি
  4. নালি
সঠিক উত্তর:
ফুসকুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসকুড়ি
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুসকুড়ি'।

অন্যদিকে,
• 'ক্ষুদ্র বিন্দু' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুটকি'। 
• 'ক্ষুদ্র নালা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'নালি'।
• 'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ - 'নুড়ি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
সকল নির্বাচককে সমষ্টিগতভাবে কী বলা হয়?
  1. ভোটারগণ
  2. নির্বাচক
  3. ভোটারমণ্ডলী
  4. নির্বাচকমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
নির্বাচকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো - গ) নির্বাচকমণ্ডলী।

অর্থ্যাৎ,
সকল নির্বাচককে একত্রে "নির্বাচকমণ্ডলী" বলা হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. চেপে রাখা
  4. উদয় হওয়া
সঠিক উত্তর:
চেপে রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেপে রাখা
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” কোন কবিতার চরণ?
  1. নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় 
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. কবিতা, তোমার দরজায়
  4. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
ব্যাখ্যা

• “যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে' ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
-------
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা।

৩৩.
"শিকল-পরার গান" - কে লিখেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শাহ আব্দুল করিম
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. শেখ ফজলল করিম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• "শিকল-পরার গান" - লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম,

   এই  শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
   এই  শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল॥
  
তোদের  বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দি হতে নয়,
  ওরে  ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।
   এই  বাঁধন পরেই বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়,
   এই  শিকলবাঁধা পা নয় এ শিকলভাঙা কল॥
তোমার  বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস,
  আর  ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস।
  সেই  ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ,
 এবার  আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র বলহীনের বল॥
---------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম।

৩৪.
"শুনিয়া > শুনে" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৫.
কোন পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দজোড় অশুদ্ধ?
  1. কাঙাল- কাঙালিনি
  2. যোগী- যোগিনী
  3. কোকিল- কোকিলারা
  4. ঠাকুর- ঠাকুরানি
সঠিক উত্তর:
কোকিল- কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকিল- কোকিলারা
ব্যাখ্যা

• 'কোকিল' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ 'কোকিলা'। 'কোকিলারা' - সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

অন্যদিকে,
- 'কাঙাল' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- কাঙালিনি।
-  'যোগী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'যোগিনী'।
- 'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৬.
নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ?
  1. ফ 
  2. ড 
সঠিক উত্তর:
ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড 
ব্যাখ্যা

• 'ড’ - ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫)।

৩৭.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর 
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন 
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. প্রত্যয়
  2. বচন
  3. পুরুষ
  4. সন্ধি
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, বচন, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• অর্থ্যাৎ, 'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় - সন্ধি
- এটি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
-------------

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৯.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সংকলনটি কে লিখেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়  ধূসরতার কবি; তিমির হননের কবি; নির্জনতার কবি; রূপসী বাংলার কবি;  
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
- তার বিখ্যাত কবিতা 'বনলতা সেন'।

• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- ‘কবিতার কথা’ পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪০.
"নৈয়ায়িক" বলতে বোঝায় - 
  1. যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি
  2. বিবিধ বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ
  3. ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি
  4. মায়া জানে না যে
সঠিক উত্তর:
ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি
ব্যাখ্যা

• 'ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি' - নৈয়ায়িক।

অন্যদিকে, 
• 'যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি' - যুধিষ্ঠির।
• 'মায়া জানে না যে' এক কথায় বলে - অমায়িক।
• 'বিবিধ বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ' এক কথায় বলে - বহুদর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪১.
'যাহা' - এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. যারা
  2. যাহারা
  3. যাকে
  4. যা
সঠিক উত্তর:
যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতি:
- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত। বাংলা ভাষা প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন রূপের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সব ভাষাতেই দুটো রূপ দেখা যায়।

সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা, 
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪২.
"স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
• স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩.
"কোথা থেকে এসেছ?" - এখানে 'কোথা থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক :
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
-  গাছ থেকে পাতা পড়ে । (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- নদী থেকে জল পাই। (কোথা থেকে পাই? নদী থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বিপদ থেকে বাঁচাও। (কী থেকে বাঁচাও? বিপদ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বাঘকে ভয় পায় না কে? (কী হতে ভয় বের হলো? বাঘ হতে) : অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন। (কোথা থেকে পলায়ন? স্কুল থেকে) : অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কোথা থেকে এসেছেন? চট্টগ্রাম থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
- বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। (কীসে থেকে ফেলা হয়েছিল? বিমান থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

• "কোথা থেকে এসেছ?" - এ বাক্যে "কোথা থেকে" অপাদানে (কারণ, এখানে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে) কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪৪.
"সাহসী মানুষ মৃত্যুকে ডরে না।" - বাক্যে ‘ডর্’ কোন প্রকার ধাতু?
  1. সংস্কৃত ধাতু
  2. বাংলা ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. বিদেশি ধাতু 
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু 
ব্যাখ্যা

• "সাহসী মানুষ মৃত্যুকে ডরে না।" - বাক্যে ‘ডর্’ বিদেশি ধাতু। এখানে, ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ফির্ (পুনরাগমন ও পুনরাবৃত্তি) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চাহ্ ( প্রার্থনা করা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বিগড় (নষ্ট হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ভিজ্ (সিক্ত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডাক্ (আহ্বান করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৫.
কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. কামাল বললেন যে, সে আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  2. কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. কামাল বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  4. কামাল বললেন, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৬.
"এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• "এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' বিশেষ্য পদ। 



বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭.
"অমল, সুধা" - কোন নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. অচলায়তন
  2. ডাকঘর
  3. চিরকুমার সভা
  4. তাসের দেশ
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক। 
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

• এ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৪৮.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' - কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো শতকের
  2. উনিশ শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকের
ব্যাখ্যা

• 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- এটি উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- যদিও প্রকাশের পরের বছর থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালি থেকে প্রকাশ হয়।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
- আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করার পর সাংবাদিকতা ত্যাগ করে হরিনাথ ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  2. আমি সাক্ষী দিব না।
  3. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  4. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।