পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
Exam - 13 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-5 Topic ➝ Review: CPC Test 1-4
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় কোন ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা,আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] বা প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে?
  1. মোকদ্দমার কোন পক্ষের আবেদনক্রমে
  2. স্বপ্রণোদিত হয়ে
  3. ক বা খ
  4. মোকদ্দমায় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ৩য় কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে
ব্যাখ্যা
• ২৪ ধারায় মোকদ্দমা, আপীল, বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer], এবং প্রত্যাহারের [Withdrawal] সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উল্লেখিত ধারায় যে আদালত স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
১. হাইকোর্ট বিভাগ এবং
২. জেলা জজ আদালত

• হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (at any stage of the suit) কোন মোকদ্দমা,আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] বা প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে।

• যে কারণে স্থানান্তরের বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-

১. যদি মামলাকারীর মনে যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা থাকে যে,যে আদালতে মোকদ্দমাটি বিচারাধীন আছে সেই আদালতে সে ন্যায় বিচার নাও পেতে পারে;
২. যে ক্ষেত্রে বিচারক কোন একপক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়;
৩. মামলার বহুত্ব কমানোর জন্য;
৪. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে;
৫. পক্ষদ্বয়ের সুবিধার জন্য ইত্যাদি।
.
প্লিডিংস কর্তন (Strike out) করা যেতে পারে, যদি প্লিডিংস এ উল্লিখিত কোনো বিষয়-
  1. কুৎসাজনক হয় (Scandalous)
  2. অপ্রয়োজনীয় হয় (Unnecessary matter)
  3. বিচারে বাধা বা বিলম্ব করলে (Tend to prejudice,embarrass or delay fair trial of the suit)
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশে প্লিডিংসের বিধানসমূহ রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]। বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে।লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

আদেশ-৬,বিধি-১৬: প্লিডিংস কর্তন (Strike out of pleadings)-

দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১৬ নং বিধিতে প্লিডিংস কর্তনের(Strike out) বিধান রয়েছে। ১৬ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য আদালত যেকোনো পর্যায়ে প্লিডিংস-এ উল্লেখিত কতিপয় বিষয় কর্তন করার (Strike out) আদেশ নিতে পারেন।
আদালত প্লিডিংস কর্তন করাতে পারে যদি প্লিডিংস এ উল্লেখিত কোন বিষয়-
> অপ্রয়োজনীয় (Unnecessary matter) বা
> কুৎসাজনক (Scandalous) হলে অথবা
> বিচারে বাধা বা বিলম্ব করলে (Tend to prejudice,embarrass or delay fair trial of the suit)।
.
মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত কোন পক্ষকে অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশ করার আদেশ দিতে পারে?
  1. বাদী পক্ষকে
  2. বিবাদী পক্ষকে
  3. মোকদ্দমার বাইরে ৩য় কোনো পক্ষকে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

• প্রতিকার:
১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।
.
একটি রায়ে থাকবে-
  1. রায়ে নির্ধারণযোগ্য বিষয়সমূহ এবং সিদ্ধান্ত
  2. মোকদ্দমার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
  3. সিদ্ধান্ত এবং অনুরুপ সিদ্ধান্তের কারণসমূহ
  4. ক,খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ, বিষয়বস্তু, প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।
 
আদেশ ২০ বিধি ৪ অনুসারে,আদালত সমূহের রায়ে থাকবে-
> মোকদ্দমার সংক্ষিপ্ত বিবরণ [a concise statement of the case]
> নির্ধারণযোগ্য বিষয়সমূহ [the points for determination]
> ঐ সকল বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত [the decision thereon] এবং
> অনুরূপ সিদ্ধান্তের কারণসমূহ [the reasons for such decision].

তবে, স্মল ক্লজ আদালতের রায়ে শুধু নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ থাকলেই চলবে-
> নির্ধারণের বিষয়সমূহ [points for determination] এবং
> উহার উপর সিদ্ধান্ত [the decision thereon]।
.
কোন ক্ষেত্রে বিবাদীকে সমন প্রেরণ করার প্রয়োজন নেই?
  1. বিবাদী মোকদ্দমা দায়েরকৃত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বাস করলে
  2. বাদী মোকদ্দমা দায়েরকৃত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বাস করলে
  3. বিবাদী আরজি দাখিলের সময় হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করলে
  4. উল্লিখিত যেকোনো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-

১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হনতাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন। আরো শর্ত থাকে যে,যদি বিবাদী আরজি দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করে নেন,তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না।

২) বিবাদীর উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে, নিম্নোক্ত যেকোন পদ্ধতিতে বিবাদী হাজিরা দিতে পারবে—
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন কৌশুলী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন কৌশুলী কর্তৃক বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশসমূহ (Orders) কত নং তফসিলে উল্লেখ আছে?
  1. ২য়
  2. ৩য়
  3. ১ম
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে মোট ৫১ টি আদেশ(Order) আছে। আদেশসমূহ ১ম তফসিলে উল্লেখ আছে

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বর্তমানে মোট ১৫৮ টি ধারা এবং ৩টি তফসিল  বলবৎ আছে। তফসিলসমূহ (Schedules]-

প্রথম তফসিল: আদেশ ও বিধিসমূহ [Orders and Rules] 
দ্বিতীয় তফসিল: বাতিল
তৃতীয় তফসিল: কালেক্টর কর্তৃক ডিক্রি জারি
চতুর্থ তফসিল: সংশোধিত আইনসমূহ
পঞ্চম তফসিল: বাতিল
.
কোনো ভুল ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে, তাকে_____বলা হয়?
  1. Wrong- Joinder of Parties
  2. Mis- Joinder of Parties
  3. Non- Joinder of Parties
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)- 

মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ভুল ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে। দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশে পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• ১ নং আদেশের ১০(১) নং বিধিমতে, বাদীর নাম ভুল হলে আদালত অন্য কোন ব্যক্তিকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে।
১ নং আদেশের ১০(২) নং বিধিমতে, ভুল ব্যক্তির(বাদী বা বিবাদী) নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ দিতে পারে।
অপসংযোগ বা অসংযুক্তের কারণে কোন মোকদ্দমা অচল হবে না অর্থাৎ মামলাটি ব্যর্থ হবে না। তবে কোন মোকদ্দমায় ভ্রান্তভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে কোন আপত্তি উঠানোর পরও,বাদী প্রয়োজনীয় পক্ষভুক্ত না করলে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ১২ অনুযায়ী, জবানবন্দি প্রদান কালে আদালত কার আচরণ লিপিবদ্ধ করতে পারেন?
  1. বিবাদীপক্ষের আইনজীবীর
  2. বাদী এবং বিবাদীর
  3. সাক্ষীর
  4. উভয় পক্ষের আইনজীবীর
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৮নং আদেশের ১২নং বিধিতে সাক্ষীর হাব-ভাব বা আচরণ (demeanour of witness) সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বলা হয়েছে যে, জবানবন্দী প্রদান কালে সাক্ষীর আচরণ সম্পর্কে আদালত গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। অর্থাৎ যদি কোনো সাক্ষীর আচরণ মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তখন বিচারক ন্যায় বিচারার্থে উক্ত সাক্ষীর ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।

আদেশ ১৮ বিধি ১২-
আদালতে কোন সাক্ষী জবানবন্দি দানকালে তার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়,এরূপ কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে।
[The Court may record such remarks as it thinks material respecting the demeanour of any witness while under examination.]
.
'ক','খ' এর বিরুদ্ধে দলিল বাতিলের মোকদ্দমা করে। আদালত মোকদ্দমায় 'ক' এর পক্ষে রায় দেন। ঐ একই বিষয়ে উক্ত দলিল বাতিল নিয়ে 'খ' যদি পুনরায় 'ক' এর বিরূদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে, তাহলে আদালত -
  1. পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা খারিজ করবে
  2. পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  3. পরবর্তীতে দায়েরকৃত চালিয়ে যাবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা রেস জুডিকাটা নীতি অনুযায়ী খারিজ করে দিবে

• রেস জুডিকাটা(Res Judicata)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দেওয়ানী মামলায় রেস জুডিকাটার রয়েছে। ১১ ধারা মতে,এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিম্পন্ন কোন মোকদ্দমা পরবর্তীতে যদি পুনরায় দায়ের করা তাহলে আদালত মোকদ্দমাটির বিচার করবে না যদি নিষ্পন্নকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ এবং পরবর্তীতে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ একই হয়।

• রেস জুডিকাটা নীতির শর্ত সমূহ: 
i) ২টি মামলা অর্থাৎ পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত একটি মামলা ও পরবর্তীতে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা থাকতে হবে।
ii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার পক্ষসমূহ এবং বিচার্য বিষয় একই হবে এবং একই স্বত্বের অধীন (Under same title) হবে।
iii) পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত হবে।
iv) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার বিচার্য বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষভাবে না হয় মূলত (directly or substantially) একই হয়ে যায়। অর্থাৎ উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন হতে হবে।

যেমন- উল্লেখিত মোকদ্দমায়  'খ' ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে পুনরায় 'ক' এর বিরূদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে। তাই আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা খারিজ করে দিবে। কেননা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মোকদ্দমা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে ও একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে দায়ের করা হয়েছে।।
১০.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদালত কোন ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে (মোকদ্দমার পক্ষ নয়) সমন দিতে পারেন?
  1. সাক্ষ্য দিতে
  2. দলিল দাখিল করতে
  3. ক,খ উভয় ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে।এই আদেশের বিধি-১৪ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমায় আগন্তুককে(৩য় ব্যক্তিকে) ঐচ্ছিক ক্ষমতায় সাক্ষী হিসাবে সমন দিতে পারে।বলা আছে-

হাজিরা এবং উপস্থিতি সম্পর্কে উক্ত আইনের বিধানাবলী এবং বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে,যেক্ষেত্রে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে এবং মোকদ্দমার পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসাবেও ডাকা হয়নি,এরূপ কোন ব্যক্তিকে জবানবন্দি করিতে প্রয়োজন বোধ সেক্ষেত্রে আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত কোন তারিখে সাক্ষ্য দানের নিমিত্ত বা তার হস্তগত কোন দলিল দাখিল করতে সাক্ষী হিসাবে ঐ ব্যক্তিকে সমন করাতে পারবে এবং তাকে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবে বা অনুরূপ দলিল দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারবে। 

[Court may of its own accord summon as witnesses strangers to suit-
Subject to the provisions of this Code as to attendance and appearance and to any law for the time being in force, whether the Court at any time thinks it necessary to examine any person other than a party to the suit and not called as a witness by a party to the suit, the Court may, of its own motion, cause such person to be summoned as a witness to give evidence, or to produce any document in his possession, on a day to be appointed, and may examine him as a witness or require him to produce such document]

• অর্থাৎ আদালত উল্লেখিত ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে-
১- সাক্ষ্য গ্রহণ
২- দলিল দাখিল।
১১.
আরজিতে বিবৃত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করলে,ববিবাদী তা-
  1. প্রত্যাখান করেছে বলে গণ্য হবে।
  2. অস্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে।
  3. বর্জন করেছে বলে গণ্য হবে।
  4. স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা
আদেশ-৮,বিধি-৩: সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার [Denial to be specific]-

ক্ষতিপূরণ ব্যতীত আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে,তা না হলে বিবাদী তা স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর দাবি চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করবে না। যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা স্বীকার করেছেন বলেই ধরে নেয়া হবে।

[It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff,but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth,except damages.]
১২.
রায় একবার স্বাক্ষরযুক্ত হয়ে গেলে,তা সংশোধন করা যাবে-
  1. পুনঃরীক্ষণের মাধ্যমে
  2. আপিলের মাধ্যমে
  3. রিভিশনের মাধ্যমে
  4. উল্লিখিত যেকোনো মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২০ নং আদেশের বিধি ৩ অনুযায়ী রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক কর্তৃক তা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনঃরীক্ষণ ব্যতীত তা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।

• আদেশ ২০ বিধি-৩ঃ 
রায় ঘোষণার করার সময় বিচারক কর্তৃক উহা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত উহা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।
[The Judgment shall be dated and signed by the Judge in open Court at the time of pronouncing it and when once signed, shall not afterwards be altered or added to,save as provided by section 152 or on review.]

• উল্লেখ্য যে,দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে-
> করণিক বা গাণিতিক ভুল(clerical or arithmetical mistakes) অথবা
> আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির(accidental slip or omission); কারণে রায়,ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।
১৩.
Civil Courts Act,1887 এর ৩ ধারায় কয় প্রকার দেওয়ানি আদালতের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি আদালতসমূহের গঠন,এখতিয়ার সম্পর্কে সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট,১৮৮৭ এ বর্ণনা করা হয়েছে।অর্থাৎ Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

• সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা-৩ এ নিম্নলিখিত দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ দেয়া হয়েছে-

১. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge]
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত [Court of Additional District Judge]
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge]
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge]
৫. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]
১৪.
শুনানির দিন শুধুমাত্র বিবাদী হাজির হয়ে বাদীর দাবীর কোন অংশ স্বীকার করে নিলে, আদালত কি আদেশ দিতে পারে?
  1. সম্পূর্ণ মোকদ্দমা খারিজ করতে পারেন
  2. বিবাদীর বিরুদ্ধে স্বীকৃত অংশের অনুপাতে ডিক্রি দিবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মোকদ্দমা খারিজ করতে পারেন
  3. সম্পূর্ণ মোকদ্দমা এক তরফা নিষ্পত্তি করতে পারেন
  4. স্বীকৃত অংশের অনুপাতে ডিক্রি দিবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মোকদ্দমা স্থগিত করতে পারেন
ব্যাখ্যা
আদেশ-৯, বিধি-৮: শুনানির দিন বিবাদী উপস্থিত, কিন্তু বাদী অনুপস্থিত-

যদি শুনানির দিন বিবাদী হাজির হয় কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবী বা উহার কোন অংশ স্বীকার না করলে, আদালত মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন। বিবাদী যদি বাদীর দাবি বা উহার অংশ স্বীকার করে নেয়, তবে আদালতে সে অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দিবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন।

• ৮ বিধির অধীন খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীর প্রতিকারঃ
১. মোকদমা খারিজ আদেশ বাতিলের [For setting aside the order of dismissal] জন্য ৯ বিধির অধীন আবেদন করতে পারে;
২. খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly Setting aside dismissal] জন্য ৯ক বিধির অধীন আবেদন করতে পারে।

• ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজ হলে, বাদী উক্ত একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।
১৫.
এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত মোকদ্দমাটি-
  1. খারিজ করবে
  2. স্থগিত রাখবে
  3. ফেরত পাঠাবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে,আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য ফেরত পাঠাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আরজি ফেরত [Return of Plaint] অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া।

আদেশ ৭ বিধি ১০-
যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২. আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩নং আদেশের ১(ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
১৬.
'ক' এবং 'খ' দুই ভাই। 'ক' কুমিল্লায় এবং 'খ' ঢাকায় বাস করে। যৌথ মালিকানায় তাদের একটি জমি খুলনায় রয়েছে। 'ক', সেই জমিতে তার ভাই 'খ' এর স্বত্ব অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় 'খ', কোন আদালতে তার স্বত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মোকদ্দমা দায়ের করবে?
  1. খুলনার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
  2. ঢাকার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
  3. বাংলাদেশের এখতিয়ারভুক্ত যেকোনো আদালতে
  4. কুমিল্লার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে।

ধারা ১৬ অনুযায়ী- যেখানে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু অবস্থিত, সেখানে মোকদ্দমা রুজু করতে হয়। উক্ত ধারায় দেয়া আছে- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক অথবা অন্যান্য সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে,

ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা;
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য মোকদ্দমা;
গ) স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে বা চার্জ সম্পর্কিত দায় পরিশোধ, বিক্রয় অথবা বন্ধক মুক্তির জন্য মোকদ্দমা;
ঘ) হাবর সম্পত্তিতে অন্য কোন প্রকার স্বত্ব বা অধিকার নির্ণয়ের জন্য মোকদ্দমা;
ঙ) স্থাবর সম্পত্তি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা;
চ) আটক অথবা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা;

উপরোল্লিখিত বিষয়ে আনিত মোকদ্দমাসমূহ যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত বা, 'গ' দফায় বর্ণিত (স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে বা চার্জ সম্পর্কিত দায় পরিশোধ, বিক্রয় অথবা বন্ধক মুক্তির জন্য মোকদ্দমা) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে যে স্থানে মোকদ্দমার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়েছে সে সমস্ত আদালতেই রুজু করতে হবে।
১৭.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা [Representative suit] -এর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেয়া-
  1. বাধ্যতামূলক
  2. অনাবশ্যক
  3. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছাধীন
  4. বাদীর ইচ্ছাধীন
ব্যাখ্যা
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে। সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ ১নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule-8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Court sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct.
2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত আদেশ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে (DISPOSAL OF THE SUIT AT THE FIRST HEARING)?
  1. আদেশ ১৫
  2. আদেশ ১৯
  3. আদেশ ১৭
  4. আদেশ ১৩
ব্যাখ্যা
• সাধারণত মোকদ্দমার শুনানী শেষ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ বা ৭ দিন পর আদালত রায় প্রদান করে,তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ নং আদেশ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে (DISPOSAL OF THE SUIT AT THE FIRST HEARING)।উক্ত আদেশের ১নং বিধিমতে-

যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে,পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।
[Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.]
১৯.
৭,০০,০০০,০০ টাকা মূল্যমান সম্পন্ন কোনো মোকদ্দমায় যুগ্ম জেলা জজ ডিক্রি দিলে, তার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে-
  1. জেলা জজের নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. ক বা খ
  4. দায়রা জজের নিকট
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ২০ এবং ২১ ধারায় দেওয়ানি আদালতের আপিল এখতিয়ার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ২০ ধারা অনুযায়ী জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে। 

২১(১) ধারা- যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে যেক্ষেত্রে মূল মামলার মূল্যমান ৫০০০০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক না সেক্ষেত্রে জেলা জজের নিকট আপিল করতে হবে এবং মোকদ্দমার মূল্যমান ৫০০০০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার বেশি হলে আপিল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

২১(২) ধারা- সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল জেলা জজের নিকট করতে হবে।
২০.
________ ১২০ দিনের মধ্যে আদালত মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে।
  1. আরজি দাখিলের
  2. বিচার্য বিষয়াবলী প্রণয়নের
  3. লিখিত জবাব দাখিলের
  4. সাক্ষ্য গ্রহণের
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা।কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
বিচার্য বিষয় দুই প্রকার। যথা-
- ঘটনা বা তথ্য সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of fact); এবং
- আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of law)

কোন তথ্যগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি এক পক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে তবে,তা তথ্যগত বিচার্য বিষয় (issues of fact) হবে। কোন আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি একপক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে,  তবে তা আইনগত বিচার্য বিষয় (issues of law) হবে।

• আদেশ ১৪ বিধি ৮-
বিচার্য বিষয়াবলী প্রণয়নের পর একশত বিশ দিনের ভিতর আদালত ঐ মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ স্থিরীকৃত করবে।
[After the issues are framed,the Court shall within one hundred and twenty days thereof,fix a date for final hearing of the suit.]
২১.
বাদী প্রশ্নমালার উত্তর বা দলিল প্রকাশ ও নিরীক্ষণের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে মোকদ্দমা-
  1. একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  2. খারিজ হবে
  3. দো-তরফা নিষ্পত্তি হবে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• যদি কোন পক্ষ যাকে মামলা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার [to answer Interrogatories) বা কোন দলিল প্রকাশ (discovery of documents) বা দলিল নিরীক্ষণের (inspection of documents) আদেশ দেওয়া হয়েছে, যদি সে বাদী হয় এবং সে যদি উক্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তার মামলা খারিজ (Dismissed the suit) করে দিবে এবং যদি সে বিবাদী হয় তাহলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন (Right to defence) বাতিল করবে।

আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।

Rule-21: Non-compliance with order for discovery-
Where any party fails to comply with any order to answer interrogatories or for discovery or inspection of documents, he shall if a plaintiff be liable to have his suit dismissed for want of prosecution and if a defendant to have his defence, if any, struck out, and to be placed in the same position as if he had not defended, and the party interrogating or seeking discovery or inspection may apply to the Court for an order to that effect, and an order may be made accordingly.
২২.
নিম্নোক্ত দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় মোকদ্দমার খরচ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৩
  2. ধারা ৩৫
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৪০
ব্যাখ্যা
• প্রত্যেক মোকদ্দমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু খরচ/ব্যয় থাকে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫,৩৫ক এবং ৩৫খ ধারায় খরচের বিষয়ে বিধান রয়েছে।খরচ প্রদানের আদেশ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।

ধারা-৩৫ (মোকদ্দমার খরচ)

১) নির্ধারিত হতে পারে এরূপ শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে মোকদ্দমার খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় আদালতের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে এবং কার দ্বারা বা কোন সম্পত্তি হতে ও কি পরিমাণ খরচ দিতে হবে তা নির্ধারণ করার এবং উক্ত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের ব্যাপারে আদালতের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগে মোকদ্দমা বিচারে আদালতের এখতিয়ার নেই বলে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না।

২) যখন কোন আদালত নির্দেশ দেন যে মোকদ্দমার ফলে কোন খরচ দেওয়া হবে না,তখন আদালত উহার কারণ লিখিতভাবে বর্ণনা করবে।

৩) আদালত মোকদ্দমার খরচের উপর অনধিক শতকরা বার্ষিক ৬% হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে এবং এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে ও যথারীতি আদায়যোগ্য হবে।
২৩.
The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় কয় ধরনের আদালতকে আপিলে গ্রহণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার বিধান রয়েছে। ২১ ধারামতে শুধুমাত্র ২টি আদালত আপিলের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-

i) জেলা জজ আদালত এবং
ii) হাইকোর্ট বিভাগ।

• এই আইন সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০২১ সালের ১১ই জানুয়ারি এবং উক্ত দিন হতে সংশোধনী আইনটি কার্যকর হয়। উক্ত সংশোধনী দ্বারা ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধন করা হয় এবং দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়।
২০২১ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধন আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালত ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারেন। অর্থাৎ জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা পর্যন্ত। ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক মূল্যমানের ডিক্রির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ২ অনুযায়ী- আদালত কার জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে?
  1. পক্ষগণ
  2. পক্ষগণের সহযোগী
  3. ৩য় কোনো পক্ষের
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

আদেশ ১০ বিধি ২ (পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি)-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

Order 10 Rule 2 (Oral examination or party of companion of party)-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.
২৫.
ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে-
  1. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় কার্য সম্পাদন হয়েছে
  2. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বাদী বাস করে
  3. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বিবাদী বাস করে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে। তবে ধারা ১৯ এ ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে  ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করতে হবে তা বলা হয়েছে-

ধারা ১৯-
কোন ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে ক্ষতিসাধন করা হলে এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা করলে বা লাভজনক কাজ করলে, বাদী দুই আদালতের যে কোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

উদাহরণঃ
ক) 'এ'-চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে 'বি'-কে ঢাকায় মারধর করে। 'বি' ঢাকায় বা চট্টগ্রামে 'এ' এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।
খ) চট্টগ্রামে বসবাসকারী 'এ' ঢাকায় 'বি' সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। 'বি' ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে 'এ' এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।
২৬.
সমন অমান্যের জন্য আদালত অনধিক কত টাকা জরিমানা করতে পারে?
  1. ৩০০
  2. ৫০০
  3. ১০০
  4. ২০০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশসমূহ দিতে পারে-
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
২৭.
আপিল বা রিভিশন পর্যায়ে আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে-
  1. পক্ষদ্বয় আবেদন করলে
  2. ন্যায় বিচারের স্বার্থে
  3. পক্ষদ্বয়ের সুবিধা বিবেচনা করে
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ২১- এখতিয়ারে আপত্তি (Objections to jurisdiction):

যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়,সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে,আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি উত্থাপন করতে হবে। যদি তা না করা হয় এবং ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হলে কোন আপিল বা রিভিশন আদালত মামলা দায়ের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আপিল বা রিভিশনের সময় আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে।

[No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement and unless there has been a consequent failure of justice].
২৮.
বাদী আদালত কর্তৃক নির্দেশিত মুলতবির খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে, আদালত-
  1. মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে
  2. মোকদ্দমাটি একতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি করতে পারে
  3. ক বা খ
  4. মোকদ্দমা স্থগিত করতে পারে
ব্যাখ্যা
• আইনে মুলতুবি [Adjournment] অর্থ হলো আদালতের কার্যপ্রণালিতে কোনো মামলার শুনানি পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত স্থগিত বা মুলতুবি করা। সাধারণত কোন মোকদ্দমার শুনানী শুরু হলে তা চলমান থাকবে। কিন্তু অনিবার্য অবস্থার প্রেক্ষাপটে মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির নাও হতে পারে এবং তখন শুনানী মুলতবির আবেদন করা প্রয়োজনীয় হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশে [Adjournment] বা মুলতবির বিধানসমূহ রয়েছে।আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে। মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

খরচ প্রদানে ব্যর্থতার ফলাফল- [আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) এবং ১(৪) বিধি]

⇒ ১৭ আদেশের ১নং বিধির অধীন আদালত বাদী পক্ষকে খরচ প্রদানের আদেশ দিলে এবং যদি বাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি খারিজ [Dismissed the suit] করে দিতে পারে;

⇒ আবার, বিবাদী পক্ষকে খরচ প্রদানের আদেশ দিলে এবং যদি বিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা সূত্রে নিষ্পত্তির [Disposed of ex parte] আদেশ দিতে পারে।
২৯.
লিখিত জবাব দাখিলের ক্ষেত্রে আদালত সর্বোচ্চ কত দিন অতিরিক্ত বাড়াতে পারে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে।দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ৮ বিধি(১)-
৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদী তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।
অর্থাৎ আদালত অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে।

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।
৩০.
লিখিত জবাব [written statement] কে সত্যাখ্যান [Verification] করবে?
  1. বাদী এবং বিবাদী
  2. বিবাদী
  3. আদালত
  4. বিবাদীর উকিল
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-

সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সই হলে, অন্য কোনো ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন, যে স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

[Verification of pleadings.-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
2 ) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.]
৩১.
________ হতে ৭ দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।
  1. রায় প্রস্তুতের তারিখ
  2. চূড়ান্ত শুনানির তারিখ
  3. রায় ঘোষণার তারিখ
  4. সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের তারিখ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা রয়েছে-
আদালতের এমন কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যা মোকদ্দমার তর্কিত/বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে তাকে ডিক্রি (Decree) বলে।
• কার্যবিধির ৩৩ ধারা মতে,কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে।
রায় হল ডিক্রির ভিত্তি তাই রায় আগে প্রদান করা হয় এবং ডিক্রি পরে দেয়া হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ৫ক তে ডিক্রি প্রণয়নের সময় দেয়া হয়েছে। এ বিধিমতে-
''রায় ঘোষণার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।''
[The decree shall be drawn up within seven days from the date of pronouncement of the judgment.]
৩২.
কত জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়?
  1. ৩ জন
  2. ৬ জন
  3. ৫ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
• ধারা-২ (১৮): বিধি বলতে প্রথম সিডিউলে বর্ণিত নিয়ম বা ফর্ম বা দেওয়ানী কার্যবিধির ১২২ ধারার অধীন প্রণীত নিয়ম [Rules] বুঝায়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে নিম্নলিখিত ২টি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে- সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের (হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিধি প্রণয়ণের ক্ষমতা এবং দেওয়ানী আদালতের পদ্ধতি সম্পর্কে এবং প্রথম তফসিলের যেকোন নিয়ম বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করার ক্ষমতা।

• ধারা-১২৩ অনুযায়ী সর্বমোট ৬ জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। সদস্যগণ হলো-

ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন (৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে;
খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে প্রাক্টিস করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট;
গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানী আদালতের একজন বিচারক।

• সদস্যগণের নিয়োগ:
এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবে এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে।এই কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক উল্লেখিত মেয়াদ পর্যন্ত পদে বহাল থাকবে।
৩৩.
বিচারক কখন ডিক্রিতে স্বাক্ষর করবেন?
  1. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছানুসারে ডিক্রি প্রণয়ন করা হলে
  2. ইংরেজি ভাষায় ডিক্রি প্রণয়ন করা হলে
  3. রায় অনুসারে ডিক্রি প্রণয়ন করা হলে
  4. আদালতের ভাষায় ডিক্রি প্রণয়ন করা হলে
ব্যাখ্যা
• ডিক্রি হচ্ছে-
> আদালতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত (Formal expression of an adjudication); এবং
> পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারন করে (To determine the Rigths of the parties conclusively)।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ,বিষয়বস্তু,প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।
 
• আদেশ ২০ বিধি ৭ অনুসারে-
যে তারিখে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, ডিক্রিতে ঐ তারিখ উল্লেখ থাকবে এবং বিচারক যদি স্বয়ং পরিতুষ্ট হন যে, রায় অনুসারে ডিক্রি প্রণয়ন করা হয়েছে তবে তিনি ডিক্রি স্বাক্ষর করবেন।
[The decree shall bear date the day on which the judgment was pronounced, and when the Judge has satisfied himself that the decree has been drawn up in accordance with the judgment, he shall sign the decree]
৩৪.
আদালত কর্তৃক গৃহীত জবানবন্দীর সারমর্ম লিখিত হবে-
  1. বিচারক কর্তৃক
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবীদের কর্তৃক
  3. আদালতের অফিসার কর্তৃক
  4. বাদী পক্ষের আইনজীবী কর্তৃক
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-৩ঃ জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত হতে হবে-
জবানবন্দির সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।
[Rule.-3: Substance of examination to be written-
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record]
৩৫.
অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে-
  1. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  2. মিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  3. অর্থের পরিমাণ না লিখলেও চলে
  4. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিমান (precise amount) লিখতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

> যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
> বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
> বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে, সেই মর্মে বিবৃতি
> মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
> কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়।
> প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।

• বিধি-২: অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে-
৭ নং আদেশের ২ নং বিধিমতে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে দাবিকৃত অর্থের যথাযথ পরিমান (precise amount) কিন্তু অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে।

[In money suits-Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.]
৩৬.
সমন জারি না হওয়ায় ফেরত আসলে, কে নতুন করে সমন দেয়ার আবেদন করতে পারে?
  1. বিবাদীর উকিল
  2. বিবাদী
  3. বাদী
  4. মোকদ্দমায় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
যখন সমন জারি না হওয়ায় ফেরত আসে এবং অতঃপর এক মাস পর্যন্ত বাদী নতুন করে সমন দেয়ার আবেদন না করে, তখন মোকদ্দমা খারিজ হয়।
 
আদেশ ৯ বিধি-৫ঃ

১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোন একজনের প্রতি সমন দেয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারি বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন,তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেয়ার জন্য আবেদন না করেন,তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দিবে।যদি না উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোন কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদি যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও ঐ বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছে; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়াতে কোন সঙ্গত কারণ রয়েছে,তাহলে আদালত সমন দেয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।
৩৭.
আদালত তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করতে পারে-
  1. মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দেয়া হয়েছে
  2. কোনো পক্ষ যে সকল সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে, তা কারণ ছাড়া দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে
  3. ক এবং খ
  4. পক্ষদ্বয় আবেদন করলে
ব্যাখ্যা
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দেওয়া হয়েছে এবং কোন পক্ষ যে সকল সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে সেটা দাখিল করতে কোন কারণ ছাড়া উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করতে পারে।

আদেশ ১৫ বিধি ৪ মতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন প্রদান করা হয়ে থাকে এবং কোন পক্ষ যে সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে উক্ত সাক্ষ্য দানে যথার্থ কারণ ব্যতীত ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তৎক্ষণাৎ মোকদ্দমার রায় ঘোষণা করতে পারেন বা আদালত সঙ্গত মনে করলে- উক্তরূপ বিচার্য বিষয়ের উপর উহার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে,এমন সাক্ষ্য দানের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করার পর মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে পারে।

[Where the summons has been issued for the final disposal of the suit and either party fails without sufficient cause to produce the evidence on which he relies, the Court may at once pronounce judgment or may if it thinks fit,after framing and recording issues adjourn the suit for the production of such evidence as may be necessary for its decision upon such issues.]
৩৮.
কোনটি অন্তবর্তীকালীন মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে?
  1. অপর ব্যক্তির সম্পত্তি অবৈধ দখল করলো এবং সেখানে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিলে
  2. নিজের জমিতে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিলে
  3. অপর ব্যক্তির সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেলে
  4. অনুমতি সাপেক্ষে অপর ব্যক্তির জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করলে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(১২) অনুসারে,

বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা(Mesne Profits) বলে।
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received there from,together with interest on such profits.

• ব্যতিক্রমঃ
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
৩৯.
"Witnesses to be examined in open Court"-কোন আদেশে দেয়া আছে?
  1. আদেশ ১৮ বিধি ৬
  2. আদেশ ১৮ বিধি ৪
  3. আদেশ ১৮ বিধি ২
  4. আদেশ ১৮ বিধি ৩
ব্যাখ্যা
• মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ১৮ বিধি ৪ (প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি)-
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

[Witnesses to be examined in open Court-
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.]
৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ এর অধীন নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. উক্ত ধারায় শুধু বিবাদী মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে
  2. উক্ত ধারায় বাদী এবং বিবাদী উভয়ে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে
  3. একাধিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা হবে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। ধারা ২২ এ যে মোকদ্দমাটি একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে, যদি মোকদ্দমাটি দুই বা ততোধিক আদালতের যে কোন একটিতে দায়েরযোগ্য হয় এবং তার মধ্যে যে কোন একটি আদালতে দায়ের করা হয়।

• যখন আবেদন করতে পারে:
যে কোন বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (At the earliest possible opportunity) এবং যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ হয়ে গেছে,সেই ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা তার পূর্বে অপর একটি আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে। আদালত এইরুপ আবেদন পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে,এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতসমূহের কোনটিতে মামলা অগ্রসর হবে তা স্থির করবে।

Section 22: Power to transfer suits which may be instituted in more than one Court-
Where a suit may be instituted in any one of two or more Courts and is instituted in one of such Courts,any defendant,after notice to the other parties, may,at the earliest possible opportunity and in all cases where issue are settled at or before such settlement,apply to have the suit transferred to another Court and the Court to which such application is made,after considering the objections the other parties(if any), shall determine which of the several Courts having jurisdiction the suit shall proceed.
৪১.
দলিলের সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ প্রদানের পর যদি তা স্বীকার করতে অবহেলা করে,তাহলে
  1. ডিক্রিদায়িক মোকদ্দমার খরচ বহন করবে
  2. ডিক্রিদার মোকদ্দমার খরচ বহন করবে
  3. অবহেলাকারী পক্ষ মোকদ্দমার খরচ প্রদান করবে
  4. আদালত মোকদ্দমার খরচ বহন করবে
ব্যাখ্যা
• মোকদ্দমার কোন পক্ষ,অপর পক্ষকে কোন দলিলের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করলে, নোটিশ প্রদানের ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত পক্ষকে জবাব দিতে হবে।তবে উক্ত সময়ের মধ্যে দলিল স্বীকার না করলে, অস্বীকারকারী পক্ষকে মামলার খরচ প্রদান করতে হবে।

আদেশ-১২, বিধি-২: দলিলের সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-

সকল ন্যায়সঙ্গত ব্যতিক্রম ছাড়া যে কোন পক্ষ অপর পক্ষকে নোটিশ জারির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে স্বীকার করতে আহ্বান জানাতে পারে; এবং অনুরূপ নোটিশ প্রদানের পর যদি সে পক্ষ স্বীকার করতে অস্বীকার বা অবহেলা করে, তাহলে মোকদ্দমার ফলাফল যেটাই হোক অনুরূপ দলিলাদি প্রমাণ করতে খরচাদি উক্ত অস্বীকারকারী কিংবা অবহেলাকারী পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোন রকম নির্দেশ দেন; এবং
আদালতের মতে খরচ বাঁচানোর জন্য নোটিশ দিতে বাদ দেয়া হলে তা ব্যতীত দলিল প্রমাণের কোন খরচ মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না অনুরূপ নোটিশ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪২.
মোকদ্দমা শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখ বাদী এবং বিবাদী কেউ হাজির না হলে, আদালত মোকদ্দমা ______ করে দিতে পারে।
  1. দো-তরফা শুনানী
  2. খারিজ
  3. স্থগিত
  4. এক-তরফা শুনানী
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ আদেশে মোকদ্দমার প্রথম শুনানীতে পক্ষগণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির সম্পর্কিত পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৯ বিধি ৩ অনুসারে মোকদ্দমার কোন পক্ষই উপস্থিত না হলে-
মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে যদি বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ হাজির না হলে,আদালত মোকদ্দমা খারিজ করে দিতে পারে
[Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed]

• প্রদত্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার (আদেশ ৯ বিধি ৪)-

১- উল্লিখিত কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে,উক্ত খারিজের বিরুদ্ধে বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে [May bring fresh suit]।
২-খারিজ আদেশ রদ করতে আবেদন করতে পারে [apply for an order to set the dismissal aside]।তবে, এমন আবেদন খারিজ আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের হবে।
৪৩.
আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে-
  1. মোকদ্দমার শুরুতে
  2. আপিল পর্যায়ে
  3. মোকদ্দমার শেষে
  4. উল্লিখিত যেকোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• প্লিডিংসের সংজ্ঞা (Definition of Pleadings)-দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে।প্লিডিংস(Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]।

• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে।এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে।লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি(Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে,সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। 

• প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of pleadings)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদন করা যায়।এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে,আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।