পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) সত্তরের নির্বাচন iii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করে বঙ্গবন্ধু কত সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন?
  1. ক) ৮ জন
  2. খ) ১০ জন
  3. গ) ১২ জন
  4. ঘ) ১৫ জন
ব্যাখ্যা
- ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করে ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

- বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। 
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযোদ্ধের সময় পিস বা শান্তি কমিটি গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯ জুলাই ১৯৭১
  2. খ) ৯ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ মে ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- পিস কমিটি বা শান্তি কমিটি ৯ এপ্রিল ১৯৭১ ঢাকায় ডান পন্থী বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ এক সভায় মিলিত হয়ে ১০৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি নাগরিক শান্তি কমিটি গঠন করে। 
- ১৪ এপ্রিল কমিটির নাম পরিবর্তন করে করা হয় পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি। 
- পরে জেলা, মহকুমা, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি কমিটির শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। 

- শান্তি কমিটি সাধারণ মানুষের কাছে পিস কমিটি নামে বেশি পরিচিত হলেও পিস কমিটির সদস্যদেরকে দালাল বলা হয়। 

- এখন ও মানুষ রাজাকার ও দালালকে আলাদা নামে চেনে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান কোনটি?
  1. ক) জয় বাংলা 
  2. খ) জয় বাংলা  জয় বঙ্গবন্ধু
  3. গ) সদা জাগ্রত জনতা
  4. ঘ) আমরা সবাই বাঙ্গালী
ব্যাখ্যা
- উপরোক্ত প্রশ্নের উওর বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান  জয় বাংলা।
- ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে ‘জয় বাংলা’ কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয়  পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- ‘জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি, দেশে ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন। 

উৎস: প্রথমআলো
.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয়-
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  2. খ) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  3. গ) ৩ নভেম্বর ১৯৬৯
  4. ঘ) ৭ ডিসেম্বের ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমান সহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

- ঢাকা সেনানিবাসে মামলার ১৭নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। 

 - এ হত্যাকান্ডের খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুদ্ধ জনতা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ও অন্যান্য ভবনে অগ্নিসংযোগ করে।

- অতিথি ভবনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এস.এ রহমান ও সরকার পক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মঞ্জুর কাদের অবস্থান করতেন। তারা উভয়েই পালিয়ে যান এবং সেখানে মামলার কিছু নথিপত্র পুড়ে যায়।

- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। 

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বঙ্গবন্ধু আগরতলা মামলার নামকরণ করেছিলেন?
  1. ক) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  2. খ) ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. গ) রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান 
  4. ঘ)  রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে।

- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটিত হয়েছে। 

- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জন আওয়ামীলীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুই জন বাঙালি কর্মকর্তা সহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং
আসামী বলে ঘোষণা করা হয়। এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। 

- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’। 
- লোক মুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারী
  4. ঘ) ১৯৭০ সালের ২৭ জানুয়ারী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর, এই দিনটিতে তৎকালীণ অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

- শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

-  ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ও জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন পিছিয়ে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

(উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস বোর্ড বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা এবং  BBC NEWS বাংলা)
.
নিচের কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে?
  1. ক) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
  2. খ) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন 
  3. গ) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  4. ঘ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন 
ব্যাখ্যা
- পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রথমে নির্বাচন মন্ডলী তৈরি করে এবং নির্বাচক মন্ডলীরা পরবর্তীতে তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচন হলো:
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন 
- জেলা পরিষদ নির্বাচন 
- সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন 
- জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট জেলার সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোটাধিকার মাধ্যমে জেলা পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করে থাকে।


অন্যদিকে,
- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচন হলো:
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন 
-ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
-সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন 
-পৌরসভা নির্বাচন 


(উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা: নবম-দশম শ্রেণী)।
.
১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’কে পছন্দ করেন?
  1. ক) মাওলানা ভাষানী
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- ১ এপ্রিল ১৯৭০ আওয়ামী লীগের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
 
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন করে।

- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২৯৮টি আসন লাভ করে। 

- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ - ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬) যিনি মওলানা ভাসানী  নামেই সমধিক পরিচিত।

- ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে পুলিশের গুলিতে ছাত্রদের মৃত্যুতে ভাসানী তৎকালীণ সরকারের পাশবিকতার বিপরীতে শক্ত অবস্থান করেন। ২৩ তারিখ তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার ফলে যুক্ত ফ্রন্ট গঠনে মাওলানা ভাসানী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্ত ফ্রন্ট ২২৩ টি আসন লাভ করে।

- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী (জন্ম: সেপ্টেম্বর ৮, ১৮৯২ - মৃত্যু: ডিসেম্বর ৫, ১৯৬৩) ছিলেন একজন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি রাজনীতি বিদ ও আইনজীবী, যুক্তফ্রন্ট গঠনের মুলনেতা দের মধ্যে অন্যতম।

(উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা:নবম-দশম)।
.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. ক) জুলফিকার আলী ভু্ট্টো
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন।
• এর আগে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে জোরপূর্বক সরিয়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ তে কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী কে ছিলেন?
  1. ক) ড. মহিউদ্দিন আলমগীর
  2. খ) মহিউদ্দিন আহমদ
  3. গ) ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন 
  4. ঘ) মইন উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ আত্মজীবনী লেখেন।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ আত্মজীবনী লেখেন।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভা কখন গঠিত হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১ সালের এই দিনে গঠিত হয় বাংলাদেশর প্রথম সরকার যা মুজিবনগর সরকার হিসাবে পরিচিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭০ এর নির্বাচনের রায়কে ভিত্তি করে এই সরকার গঠন করা হয় এবং ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ শপথ গ্রহণ করে।

- ১০ এপ্রিল ১৯৭১,আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী। 

- বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ নামের এই দলিল যতদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলেছে ততদিন মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল।

- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি মাইলস্টোন। এদিন তিনি সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতিসহ সব নির্দেশাবলি দান করেছিলেন।

- ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

(উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট )।
১২.
বাংলাদেশের কোন নারী-মুক্তিযোদ্ধা ‘মুক্তিবেটি’ নামে পরিচিত?
  1. ক) কাকঁন বিবি
  2. খ) তারামন বিবি
  3. গ) সেতারা বেগম 
  4. ঘ) নীলিমা বেগম
ব্যাখ্যা
- উপরোক্ত প্রশ্নের উওর কাকঁন বিবি, বাংলাদেশের নারী-মুক্তিযোদ্ধা তিনি ‘মুক্তিবেটি’ নামে পরিচিত।

- খাসিয়াকন্যা কাঁকন বিবি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীর সশস্ত্র যোদ্ধা ও গুপ্তচর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকবাহিনীকে হটাতে ৫ নম্বর সেক্টরের হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন এবং গুপ্তচরের কাজ করেন।

- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীরপ্রতীক খেতাব ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তাকে বীরপ্রতীক উপাধী ভূষিত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু আজও তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি।

- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ ২৫ বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তারামন বিবি। তাঁর নাম ছিল শুধু গেজেটের পাতায়। ১৯৯৫ সালে প্রচারের আলোয় আসেন। তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম।বর্তমানে তিনি আছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে। তাঁর স্বামী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. আবিদুর রহমান, যিনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা।

(উৎস: প্রথমআলো)।
১৩.
Nine Months To Freedom  প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান 
  2. খ) বাবুল চৌধুরী
  3. গ) তারেক মাসুদ 
  4. ঘ) এস সুখদেব
ব্যাখ্যা
- Nine Months To Freedom  প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা এস সুখদেব।

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অন্যান্য প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যে রয়েছে:

- Stop Genocide (জহির রায়হান)
- Innocent Millions (বাবুল চৌধুরী)
- A State is Born জহির রায়হান)
- ১৯৭১ (তানভীর মোকাম্মেল)
- স্মৃতি একাওর (তানভীর মোকাম্মেল)
- Deadline Bangladesh (গীতা মেহতা)।

(উৎস: প্রথম আলো)
১৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ক) পিলখানা
  2. খ) আগারগাঁও
  3. গ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  4. ঘ) ঢাকা দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে?
  1. ক) নূর হোসেন
  2. খ) আসাদুজ্জামান
  3. গ) ড. শামসুজ্জোহা
  4. ঘ) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে ১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।