পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়18 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
বাংলাদেশ বিষয়াবলী (৫০ নম্বর): বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ এর দেশ ভাগ পর্যন্ত), ভাষা আন্দোলন, জনসংখ্যা ও উপজাতি, সাগর, নদী, চর, দ্বীপ ও পাহাড় ইত্যাদি সোর্স: যেকোনো গাইড বই, বোর্ড বই, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, পরিসংখ্যান গ্রন্থ, SSC & HSC বোর্ড বই, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সাইটের সাধারণ তথ্যাবলী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
'পুন্ড্রনগর' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। 

উৎস: বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সেন্টমার্টিনস দ্বীপ ভৌগোলিকভাবে কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- সেন্টমার্টিনস ৭.৩১৫ কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-উত্তরপশ্চিম এবং দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক জুড়ে বিন্যস্ত।
- ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত।
- উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া এবং এ অংশ ২,১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১,৪০২ মিটার প্রশস্ত।
- দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশটি দক্ষিণ পাড়া হিসেবে পরিচিত, যা ১৯২৯ মিটার দীর্ঘ এবং - এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ পূর্ব দিকে বিস্তৃত একটি সংকীর্ণ লেজের মতো এলাকা, যার সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ৯৭৫ মিটার। - একটি সংকীর্ণ কেন্দ্রীয় অঞ্চল বা মধ্য পাড়া দুইটি অংশকে সংযুক্ত করেছে।
- বেল্ট বা ফিতার মতো এই অঞ্চলটির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ১৫২৪ মিটার ও ৫১৮ মিটার এবং সংকীর্ণতম অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
.
সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জন্যসংখ্যা -
  1. ক) ১৬ কোটি ৮২ লাখ
  2. খ) ১৬ কোটি ২৮ লাখ
  3. গ) ১৬ কোটি ২৪ লাখ
  4. ঘ) ১৬ কোটি ৪২ লাখ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুসারে,
- বাংলাদেশের মোট জন্যসংখ্যা - ১৬ কোটি ৮২ লাখ। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.৩৭%
- জনসংখ্যা ঘনত্বের হার - ১১৪০
- গড় আয়ুষ্কাল - ৭২.৮ বছর 
- স্বাক্ষরতার হার - ৭৫.২%।
.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান’ বনভূমি কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বৃহত্তর খুলনা বিভাগ প্রাকৃতি সম্পদে সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান’ বনভূমি সুন্দরবন এ বিভাগে অবস্থিত।
- এ বিভাগের দক্ষিণাংশ জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান।
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ‘‘ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট’’ বা লবনাক্ত জলাভূমির বন।
- পৃথিবীতে এটি একটি বিরল জাতির বন।
- এ বনটি বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি।
- এ বন থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় হয়।
- এ বন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা প্রভৃতি জেলাকে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
.
বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহ কয়টি প্রধান ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের নদীগুলি প্রতিবছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন টন পলি বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে যার ফলে সমুদ্রমুখ বরাবর গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভূমি।
- মৌসুমি বায়ু প্রবাহকালীন নদীগুলি সাগরে অতিরিক্ত পানি নির্গমন করে থাকে।
- এভাবে বিশাল নদী প্রণালীসমূহ একই সঙ্গে দেশের জন্য আশীর্বাদ আবার বিপর্যয় সৃষ্টিকারীও বটে।
- বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়:
        -  (১) ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী প্রণালী
        -  (২) গঙ্গা-পদ্মা নদী প্রণালী
        -  (৩) সুরমা-মেঘনা নদী প্রণালী এবং
        -  (৪) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীমালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
.
মারমা উপজাতির বসবাস কোন পাহাড়ে?
  1. ক) আসামের পাহাড় অঞ্চলে
  2. খ) চিম্বুক পাহাড়ে
  3. গ) গারো পাহাড়ে
  4. ঘ) জৈয়ন্তিকা পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
পাহাড়ভিত্তিক উপজাতিদের বাসস্থানঃ
গারো পাহাড়ে - গারো
চিম্বুক পাহাড়ে- মারমা
জৈয়ন্তিকা পাহাড়ে- খাসিয়া
আসামের পাহাড় অঞ্চলে- মণিপুরী
(রেফারেন্সঃ nrigostisanad.gov.bd)
.
‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলায়
  2. খ) বাগেরহাটে
  3. গ) চট্টগ্রামে
  4. ঘ) কক্সবাজারে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী। এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
সূত্র : প্রথম আলো।
.
কোন মুগল সম্রাট বাংলার রাজধানী হিসেবে 'জান্নাতাবাদ' নামকরণ করেন?
  1. ক) বাবর
  2. খ) আকবর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬)  মুগল সম্রাট  বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
-  সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন ‘জান্নাতাবাদ’ এবং হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।
উৎস: বাংলা পিডিয়া।
.
'পাঙন' উপজাতির মূল বসবাস কোথায়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র মুসলিম উপজাতি গোষ্ঠী পাঙন।
- এদের বসবাস মৌলভীবাজার জেলায়।
উৎসঃ মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
১০.
ভাষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন -
  1. ক) আবদুল জব্বার
  2. খ) শফিউর রহমান
  3. গ) রফিক উদ্দিন
  4. ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার।
- আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন।
- ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্ণে ঢাকার নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আবারও বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে।
- এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া]
১১.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম কবে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  2. খ) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  3. গ) ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  4. ঘ) ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
ভাষা আন্দোলন  বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন।
- পশ্চিম পাকিস্তানে শতকরা ৯৭ ভাগ এবং পূর্ব বাংলায় শতকরা ৮০ ভাগ অধিবাসী ছিল মুসলমান। অধিকাংশ অধিবাসীর ধর্ম এক হলেও ভাষা ছিল ভিন্ন। তাই পাকিস্তান সৃষ্টির সময় রাষ্ট্রভাষা কী হওয়া উচিত এ বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করলে পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবীমহল, ছাত্রসমাজ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রমুখ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পাল্টা প্রস্তাব করে।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জ্ঞানগর্ভ যুক্তি দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি সমর্থন জানান। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নবগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন পূর্বপাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগের কর্মী সম্মেলনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষাকে পূর্বপাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন-আদালতের ভাষা করার দাবি জানানো হয়।
- একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়। সংগঠনটির নাম ছিল ‘তমাদ্দুন মজলিস’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে উক্ত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। পুস্তিকাটির নাম ছিল : ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা - বাংলা না উর্দু’।
- তমাদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বাঙালিদের দাবি উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়।
- যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

- ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৯৪৮)। অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব দেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন যে, যেহেতু পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের মাতৃভাষা বাংলা, সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত।
- কিন্তু তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান। গণপরিষদের অধিবেশনে লিয়াকত আলী খান মন্তব্য করেন যে, যেহেতু পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র তাই পাকিস্তানের সরকারি ভাষা মুসলমানের ভাষা হওয়া উচিত।
- লিয়াকত আলী খান আরও যুক্তি দেন যে, যেহেতু পাকিস্তানের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা উর্দু, অতএব উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়। গণপরিষদে অন্যান্য মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবকে দেশের সংহতি ও অখন্ডতা বিনষ্ট করার প্রয়াস বলে মন্তব্য করেন।
- গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনীত প্রস্তাব ভোটে দেয়া হলে অগ্রাহ্য হয়। সে সময় পূর্ববাংলার মুসলিম লীগ দলীয় বাঙালি মুসলমান সদস্যগণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি গণপরিষদে অগ্রাহ্য হওয়ায় পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

- উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হয়। বাংলা ভাষার সংগ্রামকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ (১৯৪৮) ঢাকার ফজলুল হক হলে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম। পরিষদে নিম্ন লিখিত সংগঠনের প্রত্যেকটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
যথা: তমাদ্দুন মজলিশ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হল সহ অন্যান্য ছাত্রাবাস, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ফেডারেশন।

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে। কিন্তু পূর্ববাংলার সরকার বাংলাভাষার আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করে। সরকারী পুলিশ বাহিনী ছাত্রদের মিছিল ও সমাবেশে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল আলমসহ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
১২.
কোন জেলার উত্তর সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে 'সুসাং পাহাড়' অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বান্দরবন
ব্যাখ্যা
- সুসাং পাহাড়  ভারতের পশ্চিম মেঘালয়ের গারো পাহাড়-এর দক্ষিণমুখী সম্প্রসারিত পাহাড়শ্রেণী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে এটি পশ্চিমে কুরি বিল থেকে পূর্বে ভোগাই নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- গারো পাহাড়ের পাদদেশীয় এই সুসাং পর্বতমালা গারো পাহাড় উদ্ভূত নদনদী সৃষ্ট উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন  প্রলম্বিত টিলা দ্বারা গঠিত।
- গারো পাহাড়, খাসিয়া পাহাড় ও জৈন্তিয়া পাহাড় নিয়ে গঠিত সুউচ্চ শিলং ম্যাসিফ-এর (Shillong massif) দক্ষিণ দিকের সরু পাহাড়-টিলার একটি অংশ বাংলাদেশ ভূখন্ডে ঢুকেছে।
- প্রায় ১৮ কিলোমিটার প্রলম্বিত বৃহৎ ডাউকি চ্যুতি (Dauki fault) এই পাদদেশীয় পাহাড়সমূহকে মেঘালয় মালভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৩.
বাংলার বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন কে?
  1. ক) ভাওয়াল গাজী
  2. খ) চাঁদ রায়
  3. গ) ঈশা খান
  4. ঘ) পরমানন্দ রায়
ব্যাখ্যা
- মুঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনচেতা জমিদারগণ ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
- বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।
- সম্রাট আকবরের সময় রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানী পরাজিত হলেও সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধিকারে আসেনি। বারোভূঁইয়ারা স্বাধীনভাবেই তাদের জমিদারি বজায় রাখে।
- পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে আনেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
  2. খ) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
  3. গ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
  4. ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

তমদ্দুন মজলিশের গঠনতন্ত্রে বিধৃত এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ:
১. কুসংস্কার, গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে ‘সুস্থ ও সুন্দর’ তমদ্দুন গড়ে তোলা;
২. যুক্তিবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেওয়া;
৩. মানবীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক সাহিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা;
৪. নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
উক্ত পুস্তিকায় নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয় -

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?
- তমদুন মজলিশ

১. বাংলা ভাষাই হবে:
(ক) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন।
(খ) পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা।
(গ) পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা।
২. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা হবে দুটি - উর্দু ও বাংলা।
৩. বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের প্রথম ভাষা। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা একশতজনই শিক্ষা করবেন।
(খ) উর্দু হবে দ্বিতীয় ভাষা। যারা পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে চাকরী ইত্যাদি কাজে লিপ্ত হবেন, তারাই শুধু এ-ভাষা শিক্ষা করবেন। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা ৫ হইতে ১০ জন শিক্ষা করলেও চলবে। মাধ্যমিক স্কুলের উচ্চতর শ্রেণীতে এই ভাষা দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে শিক্ষা দেওয়া যাবে।
(গ) ইংরেজী হবে পূর্ব পাকিস্তানের তৃতীয় ভাষা বা আন্তর্জাতিক ভাষা। পাকিস্তানের কর্মচারী হিসাবে যাঁরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চাকরী করবেন বা যারা উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় নিয়ােজিত হবেন তাঁরাই শুধু ইংরেজী শিক্ষা করবেন। তাদের সংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানের হাজারকরা ১ জনের চেয়ে কখনাে বেশী হবে না। ঠিক একই নীতি হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদাশেগুলিতে ওখানের স্থানীয় ভাষা বা উর্দু ১ম ভাষা, বাংলা ২য় ভাষা, আর ইংরেজী ৩য় ভাষার স্থান অধিকার করবে।
৪. শাসনকার্য ও বিজ্ঞান-শিক্ষার সুবিধার জন্য আপাততঃ কয়েক বৎসরের জন্য ইংরেজী ও বাংলার উভয় ভাষাতেই পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য চলবে। ইতিমধ্যে প্রয়ােজন অনুযায়ী বাংলা ভাষার সংস্কার সাধন করতে হবে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
তবে, এই ক্ষেত্রে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া অনেকগুলো বোর্ড বইগুলোতেও তারিখটি ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া।
তাই সঠিক উত্তর হিসাবে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ অধিকগ্রহণযোগ্য।
তবে অপশনে ২ সেপ্টেম্বর, না থাকলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে।
১৫.
'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
• 'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
• হামহাম, ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
• আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১৬.
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার উপনদী কোনটি?
  1. ক) পুনর্ভবা
  2. খ) তিস্তা
  3. গ) মাথাভাঙ্গা
  4. ঘ) সিলোনিয়া
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনার চারটি প্রধান উপনদী রয়েছে: দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা এবং করতোয়া-আত্রাই নদীপ্রণালী।
- এদের মধ্যে দুধকুমার, ধরলা এবং তিস্তা নদী তিনটি খরস্রোতা প্রকৃতির এবং ভারতের দার্জিলিং ও ভূটানের মধ্যবর্তী হিমালয়ের দক্ষিণপার্শ্বে অত্যধিক ঢালবিশিষ্ট অববাহিকা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- শাখানদীসমূহের মধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র দীর্ঘতম এবং দুইশত বছর পূর্বে এটিই ছিল ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা।
উৎস: বাংলা পিডিয়া। 
১৭.
শেরে বাংলা ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপন করেন কবে?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  2. খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
  3. গ) ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  4. ঘ) ২১ মার্চ ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন।
এ প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮.
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুপাত -
  1. ক) ১০০ : ১০০.২
  2. খ) ১০০ : ১০০.৩
  3. গ) ১০০ : ১০০.৪
  4. ঘ) ১০০ : ১০০.৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বশেষ (পঞ্চম) আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী,
- নারীর সংখ্যা ৭,৪৭,৯১,৯৭৮ জন এবং পুরুষের সংখ্যা ৭,৪৯,৮০,৩৮৬ জন।
- নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০০ : ১০০.৩।
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুযায়ী পুরুষ-মহিলা অনুপাত = ১০০.২ : ১০০।
উৎস; জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১
১৯.
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সবচেয়ে প্রাচীন নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) লুসাই
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো মুরং বা ম্রো সম্প্রদায়।
- এরা আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান রাজ্য থেকে বান্দরবান জেলায় এসে বসতি স্থাপন করে।
- বান্দরবান জেলায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজারের অধিক মুরং জনগোষ্ঠী বাস করে যা সংখ্যায় বান্দরবানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায়।
- জনসংখ্যায় দেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- মারমা সম্প্রদায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং লুসাই সম্প্রদায় ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী – সপ্তম শ্রেণী এবং বান্দরবান জেলা ও নৃগোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট)
২০.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
- এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
- ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
- ১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।
(সূত্রঃ ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট)
২১.
চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন -
  1. ক) হেডম্যান
  2. খ) মৌজা
  3. গ) পুঞ্জি
  4. ঘ) কারবারি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি চাকমা।
- চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি।
- চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- চাকমা মৌজার প্রধান হলেন হেডম্যান।
- খাসিয়া গ্রামগুলো পরিচিত পুঞ্জি নামে।
উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২২.
নিচের কোনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা নয়?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত।
- আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়।
- এগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৩.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ক) কাজী গোলাম মাহবুব
  2. খ) আবদুল মতিন
  3. গ) অলি আহাদ
  4. ঘ) গাজীউল হক
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) করা হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)
২৪.
কোন অঞ্চলগুলো পূর্বববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) বিহার, রাজশাহী, কলকাতা
  2. খ) ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য ত্রিপুরা
  3. গ) আসাম, উড়িষ্যা, চট্টগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা, পার্বত্য ত্রিপুরা, কলকাতা
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয়।
- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জলপাইগুড়ি, মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা ও আসাম নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়।
- এর রাজধানী ছিলো ঢাকা।
- অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ।
- যার রাজধানী ছিলো কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতার কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)