পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১০ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: ভূগোলের ধারণা ও বিভিন্ন শাখা, বিগত সালের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি (বিগ ব্যাং), বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক সম্পর্কে ধারণা [Live Class - 1 & 2]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
'সূর্য' সম্পর্কিত নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সূর্য একটি জ্যোতিষ্ক
  2. এর পৃষ্ঠের উত্তাপ ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি
  4. সূর্য একটি নক্ষত্র
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সুর্য্য সম্পর্কিত প্রদত্ত সকল অপশনই সত্য।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
-------------------------------

সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম -
  1. অ্যালকিয়োনেস
  2. এনাক্সিমিয়া
  3. এন্ড্রোমিডা
  4. আকাশগঙ্গা
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, নিউজবাংলা২৪।
.
জ্যোতিষ্ক কয় প্রকার?
  1. ১১
ব্যাখ্যা
জ্যোতিষ্ক:
- মহাশূন্যে অবস্থিত বস্তুসমূহকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়ে থাকে।
- জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার
- যথা:
• নক্ষত্র।
• নীহারিকা।
• গ্রহ।
• উপগ্রহ।
• ছায়াপথ।
• ধূমকেতু।
• উল্কা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দূরত্ব
  2. সময়
  3. ওজন
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। 
.
গ্রহরাজ বলা হয় কোন গ্রহকে?
  1. পৃথিবী
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter) গ্রহ:
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ গুণ বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭টি।
- বৃহস্পতির বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়?
  1. খনিজ ও শক্তিসম্পদ
  2. শিল্প
  3. কৃষিকাজ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব ভূগোলের শাখাসমূহ:
- আঞ্চলিক ভূগোল,
- জনসংখ্যা ভূগোল,
- নগর ভূগোল,
- অর্থনৈতিক ভূগোল,
- পরিবহন ভূগোল,
- বাণিজ্যিক ভূগোল,
- সাংস্কৃতিক ভূগোল,
- পরিবেশ ভূগোল,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
- বসতি ভূগোল,
- ব্যবহারিক ভূগোল।

অর্থনৈতিক ভূগোল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন ধারণের নিমিত্তে সকল প্রকার অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বিকাশ, বিস্তার, বিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে, তাই অর্থনৈতিক ভূগোল বলবো।
- অর্থনৈতিক ভূগোল বিশ্বব্যাপী কৃষি, শিল্প, খনিজ ও শক্তিসম্পদ প্রভৃতি উৎপাদন, উৎপাদনের ভৌগোলিক নিয়ামক ও বণ্টন প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
- এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য প্রভৃতির ব্যাখ্যাও অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বর্তমানে সৌরজগতে মোট গ্রহ রয়েছে -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ এবং গ্রহসমূহ:
- মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বা বিশ্বভ্রহ্মান্ড বলে।
- সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
- মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূনর্ণরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে।
- সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ
- যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

উল্লেখ্য,
- প্লুটো গ্রহকে বর্তমানে গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয় না, কারণ প্লুটো গ্রহের সাথে গ্রহের বৈশিষ্ট্যের মিল নেই।

উৎস: i) NASA (.gov).
        ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি ইউরেনাসের উপগ্রহ?
  1. অ্যারিয়েল
  2. ওবেরন
  3. অ্যামব্রিয়েল
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিন্কুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়ান্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) NASA ওয়েবসাইট।
.
কত বছর পূর্বে মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১২.২৫ বিলিয়ন বছর
  2. ১২.৭৫ বিলিয়ন বছর
  3. ১৩.২৫ বিলিয়ন বছর
  4. ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের বয়স:
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুর প্রচলিত হল ‘বিগব্যাঙ’ তত্ত্ব।
- বাংলায় একে বলা হয় ‘মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব’।
- এই তত্ত্বের মতে মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘনরূপে বা ঘন অবস্থায় ছিল যা অতি দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল।
- দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
- জানা গেছে, বিগব্যাঙ বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) আগে।
- এটাই মহাবিশ্বের বয়স।

উৎস: i) Las Cumbres Observatory.
         ii) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. অলিভার শেলডন
  2. গ্রেকিউনাস
  3. ল্যামেটার
  4. এরাটোস্থেনিস
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে।
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে -
  1. ১৫ হাজার বছর
  2. ২৫ হাজার বছর
  3. ৩৩ হাজার বছর
  4. ৪৮ হাজার বছর
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- আমাদের গ্যালাক্সির নাম মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর।

উৎস: Britannica.