পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন iv) পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও শাসন বিরোধী আন্দোলন v) ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন vi) ছয়দফা উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------- নির্দেশিকা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 10” এর জন্য প্রযোজ্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫২ সালের কত তারিখে নির্মিত হয়?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে এই স্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত।
- শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
- এর পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও নির্মাণকাজ সবই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।
- বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের রক্তভেজা স্থানে সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর ছোট স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর গায়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লেখা একটি ফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- নির্মাণের পরপরই এটি শহরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে; প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতীকী মর্যাদা লাভ করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ওই দিনই বিকেলে পুলিশ হোস্টেল ঘেরাও করে এটি ভেঙ্গে ফেলে।

উল্লেখ্য,
⇒ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। 
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহিদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
যুক্তফ্রন্টের কোন দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার' দাবি জানানো হয়?
  1. ১ম দফা
  2. ২য় দফা
  3. ৩য় দফা
  4. ৪র্থ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

উল্লেখ্য,
- যুক্তফ্রন্টের ১ম দফা ছিল - বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।

অন্যদিকে,
২য় দফা- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩য় দফা- পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪র্থ দফা- সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকা ছিল -
  1. রাষ্ট্রভাষার দাবির পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন
  2. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশ নেন
  3. পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেন
  4. সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার প্রস্তাব দেন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- সেদিন কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো।
.
ছয়দফা আন্দোলনের শহীদ নন কে?
  1. আসাদ
  2. মুজিবুল হক
  3. মনুমিয়া
  4. উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা
আসাদ ছয়দফা আন্দোলনের শহীদ নন।

ছয় দফা কর্মসূচি:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

⇒ ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ।
- বিপরীতে সেদিন ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানিরা।
- কিন্তু ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও রাজপথে নেমে আসে ছয় দফার সমর্থনে।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন।
- জান্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ১১ জন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে -
  1. ২১১টি
  2. ২০৭টি
  3. ২২৩টি
  4. ২২১টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন:
- চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয় এবং মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে।
- নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।

অন্যদিকে -
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
সম্মিলিত বিরোধী জোট (COP) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৪ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
সম্মিলিত বিরোধী জোট:
- সম্মিলিত বিরোধী জোট বা Combined Opposition Party (COP)।

⇒ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয় যা 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' (Combined Opposition Party-COP) নামে পরিচিত।
- এ জোটের শরিক দলগুলো:
১. পাকিস্তান আওয়ামী লীগ,
২. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী),
৩. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল),
৪. নেজাম-ই-ইসলাম,
৫. জামায়াতে ইসলামী।

উল্লেখ্য,
- 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই ফাতেমা জিন্নাহর প্রতি জনসমর্থন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- এর মূল কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের ফলে জনগণের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ, মৌলিক গণতন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের তোষামোদি ও চাটুকারিতা, বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি।
- কিন্তু ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীকে (Basic Democrats) নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান পূর্বের মতোই তার সপক্ষে ধরে রাখতে সমর্থ হন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
যুক্তফ্রন্টে মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন দল কোনটি ছিল?
  1. নিজাম-ই-ইসলামী
  2. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  3. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
  4. আওয়ামী মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

⇒ এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান রচিত হয় -
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬৩ সালে
  3. ১৯৬৪ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের ২য় সংবিধান:
- ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে আইয়ুব খান পাকিস্তানের নতুন সংবিধান ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ১ মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং ক্লাশ বর্জন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ঐদিন সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়।
- এর ফলে রাজনীতিবিদগণ ও ছাত্র সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়।

উল্লেখ্য,
- এ সংবিধানটি ছিল এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক।
- এই সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের আইনসভা মন্ত্ৰী পরিষদ ও গভর্নরের ক্ষমতাকে সংকুচিত করে প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়।
- এতে বিচার বিভাগের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়।
- ঢাকাকে নাম মাত্র দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়।
- এটি পাকিস্তানের ২য় সংবিধান।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ছয়দফা কর্মসূচির কোন দফায় 'আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৩য় দফা
  2. ৪র্থ দফা
  3. ৫ম দফা
  4. ৬ষ্ঠ দফা
ব্যাখ্যা
ছয়দফা কর্মসূচির দাবিসমূহ:
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

• প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।

• দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

• তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
- দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে।
- অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।

• চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।

• পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসাব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।

• ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
- অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটির বাংলা তারিখ ছিল -
  1. ৭ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  3. ৯ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  4. ১০ ফাল্গুন, ১৩৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন -
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রেসিডেন্ট মির্জা দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- প্রেসিডেন্ট মির্জা সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- তখন সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- প্রেসিডেন্ট মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।

⇒ আইয়ুব খান:
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।
- ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন।
- অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ - হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- আইয়ুব খান ৫ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
- তাঁর প্রশাসনিক কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্যরা ছিলেন ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য।
- এরাই জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ভোট দানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি
  3. শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি
  4. শুধু সরকারি স্কুলে শিক্ষার সুযোগ
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯। 

⇒ ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
- যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১৩.
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কোথায় ভাষণ দেন?
  1. রেসকোর্স ময়দানে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সম্পর্কে জিন্নাহ:
- ১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে ভাষণ দেন তিনি।
- তিনি ঢাকার দুটি সভায় বক্তৃতা দেন এবং দুই জায়গাতেই তিনি বাংলা ভাষার দাবিকে উপেক্ষা করে একমাত্র উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। 
- তিনি ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' (Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan)।
- জিন্নাহর এ বক্তব্য পেশের সময় উপস্থিত ছাত্ররা 'না' 'না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়; এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৫২ সালের শুরু থেকে ভাষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে থাকে। এ সময় জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খান উভয়েই পরলোকগত।
- লিয়াকত আলী খানের জায়গায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন খাজা নাজিমুদ্দীন।
- রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৪.
ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. শিল্পকলা একাডেমি
  3. বাংলা একাডেমি
  4. শিশু একাডেমি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি:
- বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম প্রতিষ্ঠান এটি।
- এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আবু হোসেন সরকার বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- ১৯৬০ সালে ‘দি বেঙ্গলী একাডেমী অ্যাক্ট’ গৃহীত হলে এটি সরকারি অর্থে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে।

⇒ বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।

উল্লেখ্য,
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালক ড. মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৫.
যুক্তফ্রন্টের কোন দফায় বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের প্রতিশ্রুতি ছিল?
  1. ৯ নং
  2. ১৮ নং
  3. ১৫ নং
  4. ৩ নং
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ১৫ নং দফা: বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,

অন্যদিকে,
৩নং দফা: পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৯ নং দফা: অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১৮ নং দফা: একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’ পুস্তিকা প্রকাশ করে কে?
  1. পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টি
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. পাকিস্তান গণপরিষদ
  4. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’।

• ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।

• ১৯৪৮ সালে ‘বাংলা ভাষা আরবি হরফে’ লেখার প্রস্তাব দিলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর প্রতিবাদ করেন।

• ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এ ঘোষণা দেন।
- এর প্রতিবাদে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
১৭.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে কে শহিদ হয়েছিলেন?
  1. মোস্তফা
  2. বাবুল
  3. ওয়াজিউল্লাহ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।

⇒ ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষেধ করার মধ্যে সবাই আইয়ুবের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মতলব আঁচ করেছিলেন।

 উল্লেখ্য,
- কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুবের শিক্ষক ছিলেন।
- ১৯৫৯ সালে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, পুলিশের বাধার মুখেও ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
- এতে মোস্তফা ও বাবুল নামের দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১৮.
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. আগস্ট বিপ্লব
  2. জুলাই বিপ্লব
  3. নভেম্বর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল (১৯৫৮):
- পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দর মির্জা ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
- গণতন্ত্র ধ্বংসে তাঁর অপতৎপরতার অন্যতম সহযোগী ছিলেন প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান।
- কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাঁর একান্ত পার্শ্বচর আইয়ুব খানের হাতেই তাঁর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
- সামরিক শাসন জারির ২১ দিন পরেই আইয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭ আক্টোবর আইয়ুব খান নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- একই সংগে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল থাকেন।
- আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে অক্টোবর বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. গোলাম মুহাম্মদ
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

⇒ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
১৯৪৮ সালে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন -
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. আবদুল মতিন
  4. শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
২১.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করে -
  1. Bangla Academy
  2. Mother Language Lover of the World
  3. Asiatic Society of Bangladesh
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়:
- আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-এ বসবাসরত Mother Language Lover of the World নামের একটি বহুভাষী ও বহুজাতিক ভাষাপ্রেমী গ্রুপ ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন।
- জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ২৭ ধারার উপর ভিত্তি করে তারা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীকে মাতৃভাষা ব্যবহার না করার জন্য, মাতৃভাষা ভুলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে; বল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
- যা 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ'-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
- পত্রে তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য বাঙালির ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পটভূমি তুলে ধরেন যা সারাপৃথিবী জুড়ে অনন্য।
- তারা ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানান যাতে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিবস পাবে।
- এ আবেদনে বিভিন্ন ভাষাভাষী ১০ জন স্বাক্ষর করেন।
- ইউনেস্কো তথা জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রস্তাবটি মেনে নেয়।
- ২৮টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রস্তাবে লিখিতভাবে সমর্থন জানায় এবং Draft Resolution-35 হিসেবে চিহ্নিত করে এক্সিকিউটিভ বোর্ডে প্রেরণ করে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২২.
'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক আদেশ জারি করেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলই ভুট্টো
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান জনগণের কিছু আস্থা অর্জনের পর রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনের পথে ধীর পদক্ষেপে অগ্রসর হন।
- তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নেন।
- ১৯৫৯ সালের ৭ আগস্ট 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।

⇒ মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন:
- ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান তাঁর বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর উদ্ভাবিত পরিকল্পনা মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।
- আইয়ুব খান প্রচার করেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্য সংসদীয় গণতন্ত্র পাকিস্তানের স্বল্প শিক্ষিত মানুষের জন্য অনুপযোগী।
- তাঁর প্রবর্তিত 'মৌলিক গণতন্ত্র' সর্বসাধারণের উপযোগী।
- এতে জনগণ সহজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
- মৌলিক গণতন্ত্র কার্যকর করার জন্য তিনি পাকিস্তানের দুই অংশ থেকে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
- এরা ছিলেন ৫ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনের সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য।
- এ ৮০ হাজার ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য মৌলিক গণতন্ত্রীরাই প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদসহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র ভোট প্রদান ক্ষমতার অধিকারী ছিল।
- ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থাসূচক ভোটে আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
শরিফ শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুবের শিক্ষক ছিলেন।
- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, পুলিশের বাধার মুখেও ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
- এতে মোস্তফা ও বাবুল নামের দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
২৪.
বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ কে?
  1. আবদুস সালাম
  2. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. আবদুল জব্বার
  4. শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুস সালাম, বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান।

⇒ রফিকউদ্দিন আহমদ:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া তিনটা। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২৫.
৬ দফাকে আইয়ুব খান কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. বাঁচার দাবি
  2. ম্যাগনাকার্টা
  3. বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচী
  4. বিল অব রাইটস
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি:
- ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি অখণ্ড পাকিস্তানের সব বিরোধী দলের কনভেনশন/সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল লাহোরে।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
- পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্য নীতির বিরুদ্ধে ছয় দফা কর্মসূচি সর্বস্তরের বাঙালিকে উজ্জীবিত করে।

⇒ ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭ দিনের এই যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত ছিল।
- এ দেশের মানুষ উপলব্ধি করেন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিধানে কিছুই করেনি।
- এরপর ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে পশ্চিম পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচি শঙ্কিত করে তোলে।
- আইয়ুব খান নিজেও ছয় দফাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ধ্বংসাত্মক, বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ইত্যাদি আখ্যায়িত করেন।
- তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের এক নম্বর দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করে ছয় দফাপন্থীদের দমনে অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগের হুমকি দেন।
- এমনকি পূর্ব পাকিস্তানেও অনেকে ছয় দফার সমালোচনা করতে থাকেন। 

উৎস: প্রথম আলো।
২৬.
মহান শিক্ষা দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ৩০ ডিসেম্বর
  2. ২৬ আগস্ট
  3. ৭ জুন
  4. ১৭ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
শিক্ষা দিবস:
- ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস।

⇒ পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী, শিক্ষা সংকোচনমূলক শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ ও একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রবর্তনের দাবিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত দিন।
- ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া ‘শরীফ কমিশনে’র শিক্ষানীতি প্রতিহত করতে গড়ে উঠেছিল ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ‘অল-পার্টি স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটি’ দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা লেলিয়ে দেয় পুলিশ বাহিনী। এক পর্যায়ে হাইকোর্ট মোড়ে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজীউল্লাহ প্রমুখ শহীদ হন।
- সেই থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন প্রতি বছর দিনটিকে ‘মহান শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
২৭.
কোন প্রতিষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. বাংলা একাডেমি
  2. কমনওয়েলথ
  3. ইউনেস্কো
  4. ইউনিসেফ
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৮.
ছয়দফা প্রথম কোথায় উত্থাপন করা হয়?
  1. করাচি
  2. লাহোর
  3. দিল্লি
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

⇒ ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কবে কার্যকর হয়?
  1. ২১ মার্চ, ১৯৫৬
  2. ২২ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  4. ২৪ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে।
- আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করার দাবি করা হয় -
  1. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে
  3. বরেন্দ্র জাদুঘরকে
  4. বর্ধমান হাউসকে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করার দাবি করা হয় বর্ধমান হাউসকে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ১৬ নং দফা: বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
১৯৪৮ সালে ‘বাংলা ভাষা আরবি হরফে’ লেখার প্রস্তাব দিলে কে প্রতিবাদ করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. ফজলুল হক
  3. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ভাষা আন্দোলন:
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’।

• ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।

• ১৯৪৮ সালে ‘বাংলা ভাষা আরবি হরফে’ লেখার প্রস্তাব দিলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর প্রতিবাদ করেন।

• ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এ ঘোষণা দেন।
- এর প্রতিবাদে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: প্রথম আলো।