পরীক্ষা আর্কাইভ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

পরীক্ষাউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
"পরীক্ষা - ৫ বিষয়: কৃষি (টেকনিক্যাল) ১. মাঠ ফসলের চাষাবাদ ২. ফুল ও ফল ও মসলা জাতীয় ফসল চাষাবাদ ৩. সবজি চাষাবাদ"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
মাঠ ফসল বলতে বোঝায় -
  1. সার্বিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
  2. প্রতিটি গাছের জন্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করা
  3. অল্প পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
  4. মাঠে বুনা ফসল
সঠিক উত্তর:
সার্বিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- ধান, পাট, আখ চাষে প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেবার প্রয়োজন হয় না।
- সার্বিকভাবে মাঠের ফসলের যত্ন নেওয়া হয়।
- কিন্তু কলা বা পেঁপে বা আনারসের প্রতিটি গাছের যত্ন না নিলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।
- সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও যত্নে যে ফসল উৎপাদিত হয় তা হলো মাঠ ফসল।

অন্যদিকে,
⇒ যে ফসলের প্রতি গাছের যত্নের প্রয়োজন তা হলো উদ্যানতাত্বিক ফসল। 

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান ১৪৪, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ডালিয়া সাধারণত কী থেকে চারা করা হয়?
  1. বীজ
  2. মূল
  3. পাতা
  4. কন্দমূল
সঠিক উত্তর:
কন্দমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্দমূল
ব্যাখ্যা
ডালিয়া চাষ:
- ডালিয়ার রং আকারের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শীতকালীন মৌসুমি ফুল টবে, গৃহে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণের শোভা বর্ধনের জন্য চাষ হয়ে থাকে।
- ডালিয়া বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে।
- বংশবিস্তার সাধারণত কন্দমূলের মাধ্যমে অথবা শাখা কলমের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। 
- সময়মত স্টপিং, টাইমিং ও থিনিং করা প্রয়োজন।
- ফুল বড় করার জন্য ডিজবাডিং করা হয়ে থাকে।
- ফুল ফোটা শেষ হলে কন্দমুল তুলে সংরক্ষণ করতে হবে।

⇒ মাটি ও জলবায়ু:
- প্রচুর সূর্যালোক সম্পন্ন ঠান্ডা আবহাওয়া ডালিয়া চাষের জন্য উপযোগী।
- উর্বর ও সুনিষ্কাশিত দোঁআশ মাটি উত্তম।

⇒ বংশ বিস্তার:
- সাধারণত অঙ্গজ বংশ বিস্তারের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়।
- কন্দমুল ও শাখা কলম থেকে চারা করা হয়।
- কন্দমুলকে সরাসরি টবে বা জামিতে রোপন করা যায়।
- কন্দমুল থেকে গাছ জন্মালে দুই তিনটি পাতাসহ ৭-৮ সে.মি. কেটে মে থেকে জুন মাসে শাখা কলম করে চারা রোপন করা যায়।

⇒ মাটি বা জমি তৈরি:
- ডালিয়া ফুল বেড ও টবে দুইভাবে চাষ করা যায়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন ধরনের বল তুলা সংগ্রহের জন্য উত্তম?
  1. অতিরিক্ত পরিপক্ক বল
  2. পরিপক্ক বল
  3. আধা-পরিপক্ক বল
  4. কচি বল
সঠিক উত্তর:
পরিপক্ক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপক্ক বল
ব্যাখ্যা
তুলা চাষ:
- তুলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- বস্ত্রখাতে ব্যবহৃত আঁশের ৭০-৭৫% আসে তুলা থেকে।
- বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে বর্তমানে ৫৪ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন যার মাত্র ৩% দেশে উৎপন্ন হয়। এ

⇒ মাটি ও জলবায়ু:
- তুলা উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দ করে।
- চারাগাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ২৪-৩৩° সে. তাপমাত্রা উপযোগী তুলাগাছ অতিবৃষ্টি সহ্য করতে পারে না।
- বার্ষিক ১০০ সে.মি. বৃষ্টি তুলার জন্য উত্তম।
- সবধরনের মাটিতেই তুলাগাছ জন্মে।
- দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটি তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। 

⇒  বীজ বপনের সময়:
- রবি মৌসুম: মধ্য শ্রাবণ-ভাদ্র মাস।
- খরিফ মৌসুম: জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাস।

⇒ তুলা সংগ্রহ:
- শুধুমাত্র পরিপক্ক বল থেকে তুলা সংগ্রহ করতে হবে।
- বল ফেটে তুলা বের হলেই বল পরিপক্ক হয়েছে বুঝতে হবে।
- সাধারণ বীজ বপনের ৫-৬ মাস পর তুলা সংগ্রহ করা যায়।
- তুলা সংগ্রহের সময় রৌদ্র উজ্জ্বল দিন তুলা সংগ্রহ করতে হয়।
- সাধারণত রবি মৌসুমে তুলা কার্তিক-অগ্রাহায়ণ মাসে এবং খরিফ মৌসুমের তুলা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে সংগ্রহ করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নের কোনটি মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়
  2. এক সাথে সংগ্রহ করা হয়
  3. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়
  4. শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়
সঠিক উত্তর:
বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসল সাধারণত সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়।
- মাঠ ফসলে সাধারণত বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না।
- মাঠ ফসল সাধারণত এক সাথে পরিপক্ক হয় বিধায় এক সাথেই সংগ্রহ করা হয়।
- মাঠ ফসল সাধারণত শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়, যেমন- ধান, পাট, ডাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• উদ্যান ফসল:
- সাধারণত প্রতিটি গাছকে এককভাবে যত্ন নেয়া হয়, যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসলে বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়। 
- উদ্যান ফসল পর্যায়ক্রমে পরিপক্ক হয় বিধায় ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয়, যেমন- টমেটো, বেগুন ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসল সাধারণত তাজা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়, যেমন-বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আদা কোন মাসে লাগানো হয়?
  1. জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি
  2. মার্চ-মে
  3. জুন-জুলাই
  4. ডিসেম্বর-জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
মার্চ-মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্চ-মে
ব্যাখ্যা
আদা চাষ:
- আদা একটি প্রয়োজনীয় মসলা ফসল যা খাবারকে সুস্বাদু করে।
-- আদা বাড়ির পাশে পতিত জমি, পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায়।
- বিভিন্ন ফসলের সাথে আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করা যায়। 
- কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাত চাষ করে থাকে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- আদার কন্দসহ গাছ আদার বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া উপযোগী।
- আদার জন্য সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়।
- তবে এটেল দোআঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়।

⇒ জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ:
- আদার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে জমি গভীরভাবে ৫-৬ টি চাষ দিতে হবে।
- জমি তৈরি সময় গোবর সার, টিএসপি, অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
- বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ রোপন পদ্ধতি:
- আদার ১-২ কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ মার্চ থেকে মে মাসে রোপন করতে হবে।
- সাধারণত ১৫-২০ গ্রাম ওজনের কন্দ প্রতি গর্তে ১টি করে ৪০-৫০ সে.মি. সারি থেকে সারি, গাছ থেকে গাছে ২৫ সে.মি. দূরত্বে ৫ সে.মি. গভীরে রোপন করতে হবে।
- আদা রোপনের পর গাছ ও শিকড় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলে মাতৃ আদা তুলে নিলে গাছের কোন ক্ষতি হয় না বরং আর্থিক লাভবান হওয়া যায়।
- এই পদ্ধতিকে পিলাই তোলা বলে।

⇒ ফসল সংগ্রহ:
- আদা লাগানোর ৭-১০ মাস পর পাতা ও গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে ফসল তোলার উপযোগী হয়।
- সাধারণত: ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আদা তোলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি মাঠ ফসল?
  1. ধান, গম, ভুট্টা
  2. সরিষা, সয়াবিন, তিল
  3. চা, কফি, কোকো
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- বিভিন্ন ধরনের মাঠ ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ:
১। তন্ডুল বা দানাজাতীয় শস্য:
- এরা গ্রামিনী পরিবারের অন্তর্গত।
- এ পরিবারের খাবার উপযোগী দানা জাতীয় শস্যগুলোকেই তন্ডুল ফসল বলে।
- যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, যব, চীনা, কাওন ইত্যাদি।

২। ডাল ফসল:
- লিগুমিনোসি পরিবারের প্যাপিলিওনেসি উপ-পরিবারের যে সমস্ত দানাজাতীয় ফসল ডালের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে ডাল ফসল বলা হয়।
- যেমন- মসুর, খেসারি, মুগ, ছোলা, মাসকালাই ইত্যাদি।

৩। তৈল ফসল:
- যে সমস্ত ফসলের বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়।
- সেগুলোকে তৈল ফসল বলা হয়।
- যেমন- সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

৪। চিনি ফসল:
- যে সমস্ত ফসলের রস থেকে মিষ্টিজাতীয় পদার্থ যেমন- চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করা হয়, সেগুলোকে চিনি ফসল বলে।
- যেমন- আখ, বিট, খেজুর, তাল ইত্যাদি।

৫। আঁশ ফসল:
- আঁশ পাওয়ার জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়, সেগুলোকে আঁশ ফসল বলা হয়।
- যেমন- পাট, তুলা, শনপাট, কেনাফ, রামী ইত্যাদি।

৬। নেশা ফসল:
- নেশাজাতীয় দ্রব্য উৎপাদানের জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়, সেগুলোকে নেশা ফসল বলে।
- যেমন- তামাক, গাঁজা, আফিম, কুম্ভি, হেনবেন ইত্যাদি।

৭। পানীয় ফসল: যে সকল ফসল পানীয় দ্রব্য উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে পানীয় ফসল বলে।
- যেমন- চা, কফি, কোকো ইত্যাদি।

৮। পশুখাদ্য ফসল:
- পশুর খাদ্যের জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়।
- সেগুলোকে পশুখাদ্য ফসল বলে।
- যেমন- প্যারা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস, ভুট্টা, জোয়ার, খেসারি, মাসকালাই ইত্যাদি।

৯। সবুজ সার ফসল:
- যে সমস্ত সবুজ ফসল জন্মানোর একটা নির্দিষ্ট সময় পর মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে জৈব সার তৈরির জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে সবুজ সার ফসল বলে।
- যেমন- ধইঞ্চা, শনপাট ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পিঁয়াজ উত্তোলনের কমপক্ষে কত দিন পূর্বে সেচ বন্ধ করা উচিত?
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৩ সপ্তাহ
  3. ৪ সপ্তাহ
  4. ৫ সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ চাষ:
- পিঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত মসলা জাতীয় ফসল।
- সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং আচার, কেচাপ ও সস তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
- এর অনেক ওষধি গুণ রয়েছে।
- উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচিতি পিঁয়াজ একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- তবে আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.

⇒ পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।

⇒ বংশবিস্তার:
- বীজতলায় চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ, সরাসরি ক্ষেতে বীজ বপন বা ছোট ছোট কন্দ রোপণ সাধারণত এ তিনটি পদ্ধতিতে পিঁয়াজের চাষ করা হয়।
- এদের মধ্যে চারা রোপণ পদ্ধতিতে পিঁয়াজের ফলন বেশী হয়।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- সহনশীল তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত দিনের আলো ও মাটিতে রস থাকলে পিঁয়াজের ভাল ফলন পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটি ছাড়া অন্য যে কোন মাটিতে পিঁয়াজের চাষ করা যায়।
- তবে দোঁআশ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা দোআঁশ বা পলিযুক্ত মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির অম্লত্ব বা pH ৫.৮-৬.৫ পিঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উত্তম, অধিক ক্ষার বা অম্ল মাটিতে পিঁয়াজের আকার ছোট হয় ও পুষ্ট হতে বেশী সময় লাগে।

⇒ উৎপাদন মৌসুম:
- বাংলাদেশে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে অর্থাৎ সারা বছরই পিঁয়াজ চাষ করা সম্ভব।
- জীবনকাল চারা রোপণের ৯০ থেকে ১০৫ দিন পর পিঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়।

⇒ সেচ:
- মাটির রস স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে পিঁয়াজের ফলন কমতে থাকে।
- এজন্য পিঁয়াজের জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
- চারা মাটিতে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ৩ দিন অন্তর সেচ দেওয়া প্রয়োজন।
- পিঁয়াজ উত্তোলনের ৩ সপ্তাহ পূর্ব থেকে সেচ বন্ধ রাখতে হয়।
- নতুবা পিঁয়াজের গুণাগুণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
- পিঁয়াজের সম্পূর্ণ জীবন চক্রে ৮-১০ বার সেচের প্রয়োজন হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কীসের মাধ্যমে কুলকে মিষ্টি জাতে রূপান্তরিত করা যায়?
  1. বীজের মাধ্যমে
  2. কুড়ি সংযোজন
  3. কাটিং
  4. লেয়ার গ্রাফটিং
সঠিক উত্তর:
কুড়ি সংযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়ি সংযোজন
ব্যাখ্যা
কুল চাষ:
- কুলকে ইংরেজিতে Ber বা Jujube বলে।
- বর্তমানে কুল চাষ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উৎকৃষ্ট জাত উদ্ভাবনের ফলে বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাষ বেড়েছে।
- কুলে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও খণিজ লবণ আছে।

⇒ কুলের ফুল পেটের গ্যাস ও রুচি বর্ধকের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কুল ও পাতা উভয়েই ক্ষত রোগের জন্য উপকারী।
- কুল কাচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া হয়।
- বাংলাদেশে বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহে উৎকৃষ্ট জাতের চাষ হয়ে থাকে। 

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- কুল জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া প্রয়োজন।
- কুল আর্দ্র আবহাওয়ায় চাষ অনুপোযোগী।
- উঁচু বা মাঝারি জমি, দোআশ মাটিতে কুলের চাষ ভালো হয়, তবে সব মাটিতেই চাষ করা যায়।

⇒ বংশবিস্তার:
- কুল বীজ ও কলম উভয় মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়।
- কুঁড়ি সংযোজন করে যেকোন কুল গাছকে মিষ্টি জাতে বা উন্নত জাতে রূপান্তরিত করা যায়।
- সেজন্য কুড়ি সংযোজনই সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি।
- বীজের মাধ্যমে চারা গাছে মাতৃগুণ থাকে না এবং ফল আসতে সময় বেশি লাগে।
- সাধারণত কুলে রিং বা টি বাডিং করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়?
  1. বেলে মাটি
  2. দোঁআশ মাটি
  3. এঁটেল মাটি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এঁটেল মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এঁটেল মাটি
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
- এদেশের প্রায় সব জেলায় পাটের চাষ হয়।
- গত কয়েক বছরে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন, ব্যাগ, বস্তা, জুতা এমনকি শাড়ী বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদেশের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি উৎপাদনের জন্য এর আধুনিক চাষপদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জলবায়ু:
- পাট উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হল ২৫-৩৫° সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০%।
- পাট চাষের সময় সুষমভাবে বর্ণিত ১২৫-২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত উপকারী, চাষ অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ক্ষতিকর।

⇒ মাটি:
- পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব পদার্থযুক্ত দোঁআশ মাটি পাটের জন্য ভাল।
- বেলে দোআশ বা এটেল দোঁআশ মাটিতে পাট চাষ করলেও ভাল ফসল পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটিতে পানি জন্মে থাকে বলে তা পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়।

⇒ জমি নির্বাচন:
- উঁচু, মাঝারি নিচু এবং মাঝারি নিচু জমি অর্থাৎ যে জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না বা জমে গেলেও নিষ্কাশন করা সম্ভব তেমন জমিই পাট চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

⇒ পাটের জাত:
- পাটের প্রধান প্রজাতি ২টি:
১। দেশী পাট: Corchorus capsularis
- ডি-১৫৪-২' সিভিএল-১ (সবুজ পাট), সিভিই-৩ (আশু পাট), সিসি-৪৫ (জো পাট); এটম পাট-৩৮, বিজেআরআই দেশিী পাট-৫; বিজেআরআই দেশি-৬, বিজেআরআই দেশি পাট-৭, বিজেআরআই দেশি
২। তোষা পাট: Corchorus olitorius
- ফাল্গুনী তোষা (ও-৯৮৯৭), ওএম-১, ৩-৪, ৩-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআর আই তোষা পাট-৫, ৩-৭৯৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০)।

⇒ বীজ বপনের সময়:
- বাংলাদেশের কৃষি ঋতুর ভিত্তিতে পাট উৎপাদনের জন্য খরিপ-১ ঋতু হল উপযুক্ত সময় (মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত)।
- দেশি পাট সাধারণত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে এই সময়ের মধ্যে বুনতে হয়।
- তবে কোন জমিতে যদি জুলাই আগষ্টের দিকে বর্ষার পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সে জমিতে কিছুটা আগাম বীজ বোনা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
রবি মৌসুমে সূর্যমুখী বীজ বপনের সময় কোনটি?
  1. মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর
  2. মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
  3. মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট
  4. মধ্য মে-মধ্য জুন
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
সূর্যমুখী চাষ:
- যে সমস্ত মাঠ ফসলের বীজ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায় তাদেরকে তেলজাতীয় ফসল (Oil seed crops) বলা হয়।
- সূর্যমুখীর ইংরেজি নাম Sunflower এবং Helianthus annus হলো এর বৈজ্ঞানিক নাম। 

⇒ জলবায়ু:
- সূর্যমুখী আলো নিরপেক্ষ ফসল হওয়ায় সারা বছর এর চাষ করা যায়।
- এ ফসলে তাপমাত্রার প্রভাব অনেকটা কম।

⇒ মাটি বা জমি নির্বাচন:
- সূর্যমুখী সাধারণত সব ধরনের মাটিতেই জন্মানো যায়।
- তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি উত্তম।
- বৃষ্টি বা সেচের পানি জমে থাকে না এমন জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য ভালো।

⇒ বপন সময়:
- সব মৌসুমেই সূর্যমুখী চাষ করা যায়।
- রবি মৌসুমে অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর), খরিফ ১ মৌসুমে বৈশাখ মাসে (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) এবং খরিফ ২ মৌসুমে ভাদ্র মাসে (মধ্য আগস্ট- মধ্য সেপ্টেম্বর) বীজ বপন করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
কতদিন বয়সের ধানের চারা রোপণ করা ভালো?
  1. ৬৫-৭৫ দিন
  2. ৫০-৬৫ দিন
  3. ২৫-৪৫ দিন
  4. ১০-২০ দিন
সঠিক উত্তর:
২৫-৪৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫-৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
ধানের চারা তৈরি:
- ধানের চারা তৈরির জন্য সাধারণত চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়:
১। শুকনা বীজতলা;
২। ভিজা বীজতলা;
৩। ভাসমান বীজতলা;
৪। দাপোগ বীজতলা।
- জাত ও মৌসুম ভেদে ২৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করা ভালো।
- চারা তোলার পূর্বে বীজতলাতে পানি সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নেয়া ভালো।
- এতে চারা তুলতে সুবিধা হয়।
- চারা তোলার পর তা ছোট ছোট আঁটি আকারে বেঁধে নিতে হয়।

⇒ চারা রোপণ পদ্ধতি:
- সমান জমিতে ছিপছিপে পানি থাকা অবস্থায় চারা রোপণ করতে হয়।
- লম্বা রশির সাহায্যে সোজা সারি করে চারা রোপণ করা উত্তম।
- এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সে.মি. এবং সারিতে গুছি থেকে গুছির দূরত্ব হবে ১৫-২০ সে.মি.।
- প্রতিটি গুছিতে ২-৩টি চারা দিতে হয়।
- দেরিতে রোপণ করলে চারার সংখ্যা বেশি ও ঘন করে লাগাতে হয়।

উল্লেখ্য,
- জমি সমান হলে মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে এবং ঢালু হলে আইলবদ্ধ মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিতে হয়।
- দেশী জাতের ধানে পানি সেচ অবশ্যই প্রয়োজন।
- চারা রোপণ করার পর ৬-৭ দিন পর্যন্ত ৩-৫ সে.মি. সেচ দিতে হয়।
- এতে আগাছা দমন হয়।
- এরপর কুশি উৎপাদন পর্যায়ে ২-৩ সে.মি. এবং চারার বয়স ৫০-৬০ দিন হলে ৭-১০ সে.মি. পরিমাণ পানি সেচ দেয়া উত্তম।
- থোড় আসার সময় পানি সেচ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- দানাপুষ্ট হতে শুরু করলে আর সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোন পোকা ধানের টুংরো ভাইরাস ছড়ায়?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. বাদামি গাছ ফড়িং
  3. গান্ধী পোকা
  4. পামরি পোকা
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
ব্যাখ্যা
ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়:
- প্রায় ৩৩টি প্রজাতির পোকাকে ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- তিন মৌসুমেই প্রায় একই ধরনের পোকা আক্রমন করে যদিও আক্রমনের মাত্রা ভিন্ন।
- আউশ ও আমন মৌসুমে পোকার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ সবুজ পাতা ফড়িং (Green leaf hopper):
- ক্ষতির লক্ষণ:
১) পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা উভয় অবস্থায় এ পোকা ধানের পাতার রস শুষে খায়।
২) গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়।
৩) এ পোকা টুংরো ভাইরাস ছড়ায়।

- দমন ব্যবস্থা:
১) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২) হাতজাল ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-২, বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-১০, বিআর-১২ জাতের ধান চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা কত?
  1. ২০-২৫° সে
  2. ২২-২৮° সে
  3. ২৩-২৮° সে
  4. ২৫-৩০° সে
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
ব্যাখ্যা
ধান চাষ: 
- ধান বাংলাদেশের প্রধান দানা জাতীয় ফসল এবং প্রধান খাদ্য।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯২ শতাংশ ধান এশিয়া দেশ গুলোতে উৎপন্ন হয়।

⇒ চাষাবাদের মৌসুম অনুযায়ী ধানের ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১। আউশ ধান: মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
২। আমন ধান: জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
৩। বোরো ধান: নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।

⇒ জলবায়ু:
- ব্যাপক ও বিস্তৃত জলবায়ুতে ধান চাষ করা যায়।
- ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা হলো ২০-২৫° সে.।
- বৃষ্টিপাত কম হলে সেচ দিতে হবে।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০% এর কম ও ৯৫% এর বেশি হলে পুষ্পায়ন ব্যাহত হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কলার চারা পরপর কত দূরত্বে লাগানো উচিত?
  1. ৩ মি. × ৩ মি.
  2. ২ মি. × ২ মি.
  3. ২ মি. × ৩ মি.
  4. ৩ মি. × ৪ মি.
সঠিক উত্তর:
২ মি. × ২ মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মি. × ২ মি.
ব্যাখ্যা
কলা চাষ:
- কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল।
- কলা জনপ্রিয়, সস্তা ও সুস্বাদু ফল।
- এতে মানবদেহের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
- কলার অনেক জাত সেগুলো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কলা গাছের গুড়ি কন্দ মাটির নীচে থাকে এটিই আসল কান্ড।
- পাতার পাতাগুলি শক্ত ও ঘনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভুয়াকান্ডে পরিণত হয়।

⇒ কলার জমি নির্বাচন:
- কলার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমি নির্বাচন করতে হবে।
- সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন জমি কলা চাষের জন্য উপযোগী।
- তবে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা আছে এমন জমি উত্তম।

⇒ জাত নির্বাচন:
- পৃথিবীতে অনেক চাষযোগ্য জাত রয়েছে।
- বাংলাদেশে কলার জাত সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. পাকা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী কলা: অমৃত সাগর, সবরী, অগ্নীসর, মেহের সাগর, চাম্পা, চিনি চাম্পা, কবরী, এঁটে কলা।
২. আনাজী বা সবজি কলা: ভেড়ারভোগ, চোয়াল পউশ, বেহুলা, মন্দিরা ইত্যাদি।

⇒ জমি তৈরি:
- কলার মূল ততটা গভীর না হলেও বিস্তারশীল।
- মাটিতে শিকড় যাতে ভালোভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে সেজন্য ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে।
- এরপর ২ মি. × ২ মি. দূরত্বে কাঠি পুঁতে রোপণের অবস্থান ঠিক করে নিতে হবে।
- কাঠিকে কেন্দ্র করে ৫০ সে.মি.× ৫০ সে.মি. গভীর করে গর্ত খুঁড়তে হয়।
- ১০-১৫ দিন গর্ত উম্মুক্ত রাখতে হবে।
- উপরের মাটির সাথে জৈব সার মিশিয়ে গর্তে দিতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কীসের মাধ্যমে সাধারণত গোলাপের বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. কলম
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
গোলাপ:
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে।
- এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না।
- সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে।
- এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
- পৃথিবী জুড়ে গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে।
- জাতগুলোর কোনোটির গাছ বড়, কোনোটি ঝোপালো, কোনোটি লতানো।
- শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।

⇒ মাটি, জলবায়ু ও জমি নির্বাচন:
- গোলাপের জন্য রৌদ্যজ্জল, সুনিষ্কশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির পিএইচ ৬.০-৭.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।
- পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের স্থান পরিত্যাগ করা উচিত।

⇒ গোলাপের বংশ বিস্তার:
- বীজ, শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম-এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।
- তবে সংকর জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়।
- সাধারণত: উন্নত জাতের গোলাপ এর মাধ্যমে চোখ কলম বংশ বিস্তার করানো হয়।
- বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় এ চোখ কলম করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
কোন মাটিতে শিম সবচেয়ে ভাল জন্মে?
  1. এঁটেল মাটি
  2. বেলে মাটি
  3. দোআঁশ মাটি
  4. বেলে-দোআঁশ মাটি
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
শিম চাষ:
- শিম আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি।
- শিম এবং এর বীজ উভয়ই জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি।
- এটি উচ্চ আঁশযুক্ত, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ যা মানুষের জন্য খুবই উপকারী।
- এর মূলে নডিউল জাত আছে তা বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে নাইট্রোজেন মাটিতে যুক্ত করতে পারে।

⇒ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি শিম-১, বারি শিম-২, বারি শিম-৩, বারি শিম-৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত ইপসা শিম, এছাড়া কার্তিকা, বারমাসি জনপ্রিয় জাতের মধ্যে অন্যতম।
- এছাড়াও বিভিন্ন বীজ কোম্পানি থেকে নিত্য নতুন জাত বাজারজাত করছে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- শিম শীতকালীন এবং খরা সহিষ্ণু সবজি।
- দোআঁশ মাটি শিমের জন্য ভালো তবে সার ও পানি ব্যবস্থাপার মাধ্যমে যেকোন মাটিতে ভালো জন্মে।
- মাটির pH ৬.৫-৮.৫ হলে ভালো।
- ফসলের অঙ্গজবৃদ্ধি ও পুষ্পায়ন জন্য তাপমাত্রা ও দিবস দৈর্ঘ্য যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
- এ সবজি গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দীর্ঘ দিবস প্রয়োজন।
- কিন্তু প্রজননের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা ও কম দিবস দৈর্ঘ্য প্রয়োজন।
- শীতকালীন জাতগুলোতে কেবল শীতের প্রভাবেই পুষ্পায়ন ঘটে.
- গ্রীষ্মকালীন জাতগুলো দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় বছরের যে কোনো সময় বীজ বপন বা চারা রোপন করা হউক না কেন যথাসময়ে পুষ্পায়ন ঘটে থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।