পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫৩
সিলেবাস
Exam - 15 Subject: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৩ প্রশ্ন

.
বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল-
  1. অনার্য
  2. অস্ট্রিক
  3. বৈদিক
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা- কেন্তম ও শতম।
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা। আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত/তৎসম ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি 'দ্বিতীয় খণ্ড'।

.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
  2. সাধু ভাষারীতিতে সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি। 
  3. এই রীতি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত।
  4. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বক্তৃতা, সংলাপ ও আলাপ আলোচনার জন্য উপযোগী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯-সংস্করণ)।

.
বিপ্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. স্বপ্ন > স্বপন
  2. ধাইমা > দাইমা
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি। 
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
• 'স্কুল> ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
• অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ-  ফাল্গুন > ফাগুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
কোনটি বস্তুবাচক বিশেষ্য?
  1. গাছ
  2. পর্বত
  3. মাটি
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি, আকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিক,
------------------
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. হাসিখুশি
  2. চিঠিপত্র
  3. ঘরদুয়ার
  4. দুধে-ভাতে
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি

এরূপ- মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
'অপযশ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. নিকৃষ্ট
  2. বিপরীত
  3. অভাব 
  4. বিকৃত
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' তৎসম উপসর্গের প্রয়োগ:
• বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন।
• বিকৃত- অপমৃত্যু।

• তৎসম/সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে। তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'অগাধ জলের মাছ' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. সুচতুর ব্যক্তি
  3. কূটবুদ্ধি
  4. নির্ভীক
ব্যাখ্যা

• 'অগাধ জলের মাছ' অর্থ- সুচতুর ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
• 'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি। 
• 'জিলাপির প্যাঁচ' অর্থ - কূটবুদ্ধি। 
• 'ডাকাবুকো' অর্থ - নির্ভীক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)

.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. নীয়
  2. ইল
  3. ইয়া
  4. বিন্
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।
যথা:
- মনু + ষ্ণ = মানব।
- পরলোক + ফিক = পারলৌকিক। 
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- জল + নীয় = জলীয়। 

অন্যদিকে,
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়- ইয়া > ইয়ে: বিশেষণ গঠনে ইয়া। ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
মর্ + ইয়া = মরিয়া,
বল্ + ইয়ে = বলিয়ে (বাকপটু)।

এরূপ-  নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'শোনা যায় এমন' এক কথায় বলে-
  1. শ্রুতধর
  2. শ্রুতিগোচর
  3. শ্রুতপূর্ব
  4. শ্রুতমাত্র
ব্যাখ্যা

• 'শোনা যায় এমন' এক কথায় বলে- শ্রুতিগোচর।

অন্যদিকে, 
• যে শুনেই মনে রাখতে পারে -  শ্রুতধর।
• যা পূর্বে শোনা হয়েছে এমন - শ্রুতপূর্ব।
• শোনার সঙ্গে সঙ্গে - শ্রুতমাত্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
'পদ্ম' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. সৌদামিনী
  2. শম্পা
  3. দামিনী
  4. নলিনী
ব্যাখ্যা

'পদ্ম' শব্দের কিছু প্রতিশব্দ:
শতদল, উৎপল, নলিনী, অরবিন্দ, পঙ্কজ, সরোজ, কমল, কুবলয়, তামরস, কোকনদ, কুমুদ, পুণ্ডরীক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের প্রতিশব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা, শম্পা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
চ-বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
  1. য 
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় (ক-ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।
যথা:
ক-বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি। 
চ-বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ) ৫টি তালব্য ধ্বনি। 
ট-বর্গীয় (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি। 
ত-বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) পাঁচটি দন্ত ধ্বনি। 
প- বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২.
'কৃতঘ্ন' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কৃতজ্ঞ
  2. অকৃতজ্ঞ
  3. কৃতান্ত
  4. কৃতার্থ
ব্যাখ্যা

• কৃতঘ্ন (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
উপকারীর অপকার করে এমন।

কৃতজ্ঞ (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উপকারীর উপকার স্বীকার করে এমন।

'কৃতঘ্ন' এর বিপরীতার্থক শব্দ- কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে, 
---------------
অকৃতজ্ঞ অর্থ- উপকারীর উপকার স্বীকার করে না এমন; কৃতঘ্ন।
কৃতান্ত অর্থ-  মৃত্যুদূত, আজরাইল।
কৃতার্থ অর্থ - সফলকাম, সিদ্ধকাম, চরিতার্থ; ধন্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. কান
  3. আগুন
  4. পক্ষী
ব্যাখ্যা

"পক্ষী" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়। চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "পাখি" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত- দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জগৎব্যাপী
  2. জগদ্‌ব্যাপী
  3. জগতব্যাপী
  4. জগত্‌ব্যাপী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: জগদ্‌ব্যাপী। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
-  পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত,
- বিশ্বময়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
'Manifesto' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি 
  1. ইশতেহার
  2. পাণ্ডুলিপি
  3. সারগ্রস্থ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'Manifesto' শব্দের বাংলা পরিভাষা- ইশতেহার।

অন্যদিকে,
'Manuscript' অর্থ- পাণ্ডুলিপি।
'Manual' অর্থ - সারগ্রস্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  2. আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  3. চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
'পুনরুক্ত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনর্‌ + উক্ত
  2. পুনঃ + রুক্ত
  3. পুন্‌ + উক্ত
  4. পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- পুনঃ আয় পুনরায়,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ অহরহ।

এরূপ- পুনর্জন্ম, পুনর্বার, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

১৮.
'Mod' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. মিতাচার
  2. কেতাদুরস্ত
  3. শিষ্টাচার
  4. শালীনতা
ব্যাখ্যা

• 'Mod' অর্থ - হালনাগাদ ও ফিটফাট; কেতাদুরস্ত।

অন্যদিকে,
• 'Modesty' অর্থ - শালীনতা।
• 'Etiquette' অর্থ - শিষ্টাচার।
• 'Moderation' অর্থ - সংযম; মিতাচার; সংযতাচার; পরিমিতি বোধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

১৯.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- উক্তিটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. নয়া বসত
  3. দু রঙা প্রজাপতি
  4. শাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. হরিণের হাড়
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. নতুন লেখা
ব্যাখ্যা

• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো- মুহূর্তের কবিতা, নতুন লেখা। 
• 'হরিণের হাড়' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-----------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ 'ধর্ম' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'মায়ের কবর পাড়ে কিশোর' ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
'গাভী বিত্তান্ত' লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি বাস্তবিক গভীর পর্যবেক্ষণে রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে একজন উপাচার্যের গোলামি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নোংরা কদর্য রূপ।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
রসায়নের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ দেশের সেরা ও প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচিত হয়েছেন। রসায়ন বিভাগের সুন্দরী শিক্ষিকা দিলরুবা খানমের আকর্ষণে জুনায়েদ ডোরাকাটা দলের শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী উপাচার্যের উপর ক্ষোভবশত দিলরুবা খানম তাঁর নারীপ্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জুনায়েদকে উপাচার্য প্যানেলে ঢুকিয়ে দেন। স্বৈরাচারী সরকারের অবাধ্য হবে না বলে রাষ্ট্রপতি (যিনি পদাধিকারবলে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও) জুনায়েককেই উপাচার্য নিয়োগ দেন। এই উপাচার্যের পদে আসীন হওয়ার পর জুনায়েদের চরিত্রের বিবর্তনকে ঘিরে আবর্তিত হয় উপন্যাসের কাহিনি।

ঠিকাদার শেখ তবারক আলী উপাচার্যকে হাতে রাখতে জুনায়েদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে একটি দুর্লভজাতের গাভী কিনে দেন এবং ভিসির বাংলোতে শেখ তবারক আলী নিজ জামাতা বুয়েটপাস সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবেদ হোসেনকে দিয়ে গোয়ালঘর বানিয়ে দেন। পরবর্তীতে উপাচার্য আবু জুনায়েদের জীবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সবটাই হয়ে পড়ে গোয়ালঘরকেন্দ্রিক। এই গোয়ালঘরকে রঙ্গমঞ্চ বানিয়ে আহমদ ছফা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দৈন্যদশা এবং শিক্ষকরাজনীতির নোংরা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

উৎস: "গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

২২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ-
  1. বোধোদয়
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. কথামালা
ব্যাখ্যা

• বেতাল পঞ্চবিংশতি:
- 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি হিন্দি বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ।
- গ্রন্থটি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
"রেইনকোট" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস 
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক 
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে। -
- এই গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
-দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
'নব কবিশেখর' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।

- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।

- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। অপরদিকে স্মার্ত পণ্ডিত হিসেবে মিথিলার শিথিলীকৃত ব্রাহ্মণ সমাজকে নতুন করে নিয়মপাশে বদ্ধ করার প্রয়োজনে স্মৃতি সংহিতার বিধিনিষেধকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন।

- কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

অন্যদিকে, 
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

২৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চক্রবাক
  2. মুক্তি
  3. সিন্ধুহিন্দোল
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' (বঙ্গীয়' মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা। 

--------------------------
•  কাজী নজরুল ইসলাম:

- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম এর তিনটি উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

২৬.
সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।

- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। 
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে, 
• 'রাজর্ষি' উপনাসের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস এটি। 

• 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭.
বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে মধ্যযুগে রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. গীতগোবিন্দ 
  2. সেক শুভোদয়া
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ-গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।

- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুম্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।' এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

- ইসলাম সম্পর্কে অপরিণত ধারণা থেকে মনে হয় যে এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারণের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি রচিত। ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মত প্রকাশিত হওয়াতে এতে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার।

অন্যদিকে, 
----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য, যা চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্য নিদর্শন। কাব্যের মূল উপজীব্য হলো রাধা ও কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি। 

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

• জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যে কৃষ্ণ-রাধার প্রেম, বিরহ ও মিলনের লীলাময় অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

২৮.
'মাতুল' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতুলানি 
  2. মাতুলাইন
  3. মাতুলানী
  4. মাতুলা 
ব্যাখ্যা

• 'মাতুল' অর্থ- মায়ের ভাই, মামা; মাতার ভ্রাতৃস্থানীয় ব্যক্তি।
• 'মাতুলানী' অর্থ- মামার পত্নী, মামি।

• 'আনী/আনি' প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ হলো:
শূদ্র - শূদ্রাণী,
মাতুল - মাতুলানী,
মেথর - মেথরানি,
নাপিত - নাপিতানি ইত্যাদি।

২৯.
শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সমূহ
  2. নিকর
  3. মণ্ডল
  4. পুঞ্জ
ব্যাখ্যা

অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
রাশি, রাজি, মালা, ব্রজ, নিকর, দাম, জাল, গ্রাম, গুচ্ছ, উচ্চয়, আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
চয়,
সমূহ,
দল,
নিচয়,
পুঞ্জ,
মণ্ডল,
মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
সঙ্ঘ,
যূথ,
ব্রাত,
বৃন্দ,
পাল,
গণ,
কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
'উন্নত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? 
  1. অনর্থ
  2. দরিদ্র
  3. নির্ধন
  4. অবনত
ব্যাখ্যা

• 'উন্নত' এর বিপরীতার্থক শব্দ- অবনত, অনুন্নত।

অন্যদিকে,
অর্থ - অনর্থ।
ধনী - নির্ধন, দরিদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩১.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. তুমি কাল যেও।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো।
ব্যাখ্যা

তুমি কাল যেও।- বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে। 

-----------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়;
- আপনি কি আসবেন?
-সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক
- বর্তমান কালে: চুপ কর।
- ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্বক
- বর্তমান কালে; অন্যায় কাজ করো না।
- ভবিষ্যৎ কালে, মিথ্যা বলবে না।

লা, অনুরোধসূচক-
- বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
- ভবিষ্যৎ কালে। আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক
- বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
- ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব।
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীলক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো। 
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
প্রযমন:
-সে যাক।
- যা হয় হোক।
-সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।' এখানে 'গাছ' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. করণ 
  3. কর্ম 
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।

[অপাদান কারক হলো সেই কারক যা কোনো কিছুর উৎস, বিচ্ছেদ, বা প্রস্থান বোঝায়। এখানে “গাছ থেকে” বলতে পাতার পতনের উৎস বা স্থান (গাছ) বোঝানো হচ্ছে। সুতরাং, “গাছ থেকে” বাক্যাংশে “গাছ” শব্দটি অপাদান কারকে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং “থেকে” পঞ্চমী বিভক্তি। 

এরূপ-
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৩.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।'- বাক্যে 'ছম ছম' দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. অনুভূতি
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার: 
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ। 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯-সংস্করণ)।

৩৪.
'দ্রব্যের গুণ জানতে হয়'- বাক্যে 'গুণ' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকর্ষ
  2. ধর্ম 
  3. ক্রিয়া
  4. উপকার 
ব্যাখ্যা

নিচে "গুণ" শব্দটির বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ এর উদাহরণ দেওয়া হলো:
- 'তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো' এখানে "গুণ" শব্দটি উৎকর্ষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'দ্রব্যের গুণ জানতে হয়' এখানে "গুণ" শব্দটি ধর্ম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'ওষুধে গুণ করেছে' এখানে "গুণ" শব্দটি ক্রিয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে' এখানে "গুণ" শব্দটি দড়ি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ওখানে
  2. ইহা
  3. গতকল্য
  4. তখন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ পরোক্ষ রূপ:
আগামীকাল - পরদিন, 
এই - সেই,
ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
আজ - সেদিন,
গতকল্য - পূর্বদিন,
এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
এ- সে।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. বিবিধ
  2. কনিষ্ঠ
  3. পৌরুষত্ব
  4. নিরভিমান
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ শব্দ- পৌরুষত্ব।
- 'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে কনিষ্ঠ।

'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে বিবিধ।

'নিরভিমানী'- সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে নিরভিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুলটা
  2. কুমারী
  3. বিধবা
  4. এয়ো
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• জাতি বা শ্রেণিবাচক: সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩৮.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটক
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. শর্মিষ্ঠা নাটক
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসন
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

-------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মগুলো-
• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

• মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

• তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। এ কাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় চর্যার কোন কবিকে?
  1. কুক্কুরীপা 
  2. বীণাপা 
  3. লুইপা 
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্নপা। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কাহ্নপা রচিত পদ সংখ্যা-১৩ টি, কিন্তু প্রাপ্ত পদ সংখ্যা-১২ টি। তার রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহ্নিল্য প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।

- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কাহ্নপার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন। রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল তিনি বর্ণে ব্রাহ্মণ এবং ভিক্ষু ও সিদ্ধ। তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন।

- চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'কাঙ্গুর চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৪০.
মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত ওসমান 
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

-আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
'দ্রৌপদী' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রাজিয়া খান
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে,
• রাবেয়া খাতুনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'ফেরারী সূর্য', 'ঘাতক রাত্রি', 'মেঘের পর মেঘ', এবং 'একাত্তরের নিশান'।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। আবার 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২.
মুনিদত্ত চর্যাপদ কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করেন?
  1. সংস্কৃত 
  2. তিব্বতি 
  3. হিন্দি 
  4. বাংলা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র  মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' চরিত্রের দেখা মিলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. চরিত্রহীন
  3. পরিণীতা 
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

"চরিত্রহীন" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষ পর্যন্ত সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলো সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শ্বাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'শেষ প্রশ্ন' উপন্যাসের চরিত্র- কমল, শিবনাথ। 
• 'পরিণীতা' উপন্যাসের চরিত্র- ললিতা, চারুবালা, শেখর রায়। 
• 'গৃহদাহ উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- শেষ প্রশ্ন,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪.
'গুপী গাইন বাঘা বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. সুকুমার রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'গুপি-গাইন, বাঘা-বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

• 'গুপী গাইন বাঘা বাইন':

'গুপী গাইন বাঘা বাইন' বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প, যা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচনা করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত শিশু-সাহিত্য পত্রিকা 'সন্দেশ'-এ ১৯১৫ সালে। এই গল্পটি পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' (১৯৬৯) এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

------------------------
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

তাঁর উলেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
'পঞ্চাশ টাকা'- এখানে 'পঞ্চাশ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল,
- বাজে কথা,
- পঞ্চাশ টাকা,
- হাজার সমস্যা,
- তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪৬.
'বাক্যের ব্যঞ্জনা' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. শব্দতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'বাক্যের ব্যঞ্জনা' - ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৪৭.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
  2. সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
  3. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
  4. তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৮.
'তালপাতার সেপাই' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. ছিপছিপে
  2. কাণ্ডজ্ঞানহীন
  3. নেশাগ্রস্ত
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা

• 'তালপাতার সেপাই' অর্থ- রুগ্‌ণ/ছিপছিপে।

অন্যদিকে,
'তালকানা' অর্থ- কাণ্ডজ্ঞানহীন।
'টুপ ভুজঙ্গ' অর্থ- নেশাগ্রস্ত।
'অকালকুষ্মাণ্ড' অর্থ- অপদার্থ/অকেজো লোক। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চৌথ
  2. ৪র্থ
  3. চৌঠা
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক। 

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম, চতুর্দশ ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই),
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫০.
'গানে গানে মন ভরেছে।'- এখানে 'গানে গানে' কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণ কারক 
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি।

যেমন:
- এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।
- গানে গানে মন ভরেছে।
[ প্রদত্ত বাক্যকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গানে গানে'। সুতরাং 'গানে গানে' করন কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভূমিষাৎ
  2. ধূলিষাৎ
  3. অগ্নিষাৎ
  4. ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২.
'টোপ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. দেশি
  3. তৎসম 
  4. হিন্দি 
ব্যাখ্যা



• দেশি শব্দ:

বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
টোপ, ডাব, ডাবা, ডাঙর, কুঁড়ি, খুঁটি, কামড় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৩.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. সিংহপুরুষ
  2. বিষাদসিন্ধু
  3. ক্রোধানল
  4. সিংহাসন
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।


অন্যদিকে, 
-------------------
• উপমিত কর্মধারয়:
উপমিত কর্মধারয় সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে। যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

• রূপক কর্মধারয়:
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
 যেমন- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।