পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 12” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৫ পার্ট-১: ১) গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাধারণ তথ্য এবং ইতিহাস (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়ার, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান)। ২) NATO, Warsaw Pact, INTERPOL, ANZUS, নিরাপত্তা সম্মেলন সমূহ, FBI, CIA, FSB, RAW, Fairfax, মোসাদ, আমান, M16, হামাস, হিজবুল্লাহ, আল শাবাব, আইরিস রিপাবলিকান আর্মি, টুপাক আমারু, ফার্ক, আবু শায়াফ, শাইনিং পাথ, M-23, উলফা, খেমারুজ, পিকেকে, ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর, গডস আর্মি, ইসলামিক স্ট্যাট, হুথি বিদ্রোহী, লস্কর-ই তৈইব্যা, জইশ মোহাম্মদ, হিজবুত তাহরীর, JKLF, নকশাল, তানজিম আল জিহাদ, M19. পার্ট-২) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals. ------------------ পার্ট–১ সোর্স: যেকোনো গাইড বই। তবে, সংস্থাগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলো সম্ভব হলে একটু দেখে নিবেন। গাইডে অনেক সময় ভুল থাকে। পার্ট-২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC পৌরনীতি বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশটি চির বসন্তের দেশ নামে পরিচিত?
  1. চিলি
  2. পেরু
  3. ইকুয়েডর
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
ইকুয়েডর:
- দেশটির নামের অর্থ ‘নিরক্ষীয় অঞ্চল’।
- ইকুয়েডর উত্তর-পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকার দেশ।
- দেশটির আয়তন ৯৯,১১২ বর্গ মাইল (২৫৬,৭০০ বর্গ কিমি)।
- এর রাজধানীর নাম কুইটো।
- বর্তমানে ইকুয়েডর যা আছে তার বেশিরভাগই ইনকা সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত।
- ইকুয়েডর নিরক্ষরেখায় অবস্থিত , সিয়েরা ব্যতীত বেশিরভাগ দেশই আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু অনুভব করে।
- ওরিয়েন্ট সারা বছর ধরে একটি অস্থির সামুদ্রিক গ্রীষ্মমন্ডলীয় বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার চির বসন্তের দেশ।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
.
সেভেন সিস্টার্সের কোন রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই?
  1. আসাম
  2. নাগাল্যান্ড
  3. মিজোরাম
  4. মেঘালয়
ব্যাখ্যা
⇒ সেভেন সিস্টার্সের নাগাল্যান্ড রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

সেভেন সিস্টার্স:

- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলো হচ্ছে - আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড।
- ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল রাজ্য।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।
.
ANZUS এর সদস্য দেশ নয় কোনটি? (মে, ২০২৫)
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
⇒ নেদারল্যান্ডস ANZUS এর সদস্য দেশ নয়।

ANZUS:
- ANZUS একটি সামরিক জোট।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সালে।
- ANZUS এর সদস্য সংখ্যা ৩টি দেশ। (মে, ২০২৫)
- এই জোটের সদস্য দেশ: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র - ANZUS-এর ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।
.
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবনের নাম কী?
  1. হোয়াইট লজ
  2. ব্লু হাউজ
  3. ক্রেমলিন
  4. এলিসি প্রাসাদ
ব্যাখ্যা
রাশিয়া:
- আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া।
- রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী: মস্কো।
- রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ভাষা রুশ।
- দেশটির মুদ্রার নাম রুবল।
- রাশিয়ার সম্রাটদের বলা হয় জার।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
- রাশিয়ার সরকারব্যবস্থা বহুদলীয় গণতন্ত্র।
- দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নাম ডুমা।
- রাশিয়া একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দেশটি।
- সাংবিধানিকভাবে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়া।
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন: ক্রেমলিন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
.
FBI কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯০৬ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
Federal Bureau of Investigation:
- FBI এর পূর্ণরূপ Federal Bureau of Investigation.
- FBI মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২৬ জুলাই, ১৯০৮ সাল।
- সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন পেনসিলভানিয়া এভিনিউ, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান পরিচালক: ক্যাশ প্যাটেল। (মে, ২০২৫)
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- FBI মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত অপরাধের অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি যেকোন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা ও সুরক্ষা প্রদানে নিয়োজিত।

তথ্যসূত্র - FBI অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
.
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ 'সিনেট' এর মেয়াদ কত?
  1. ২ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
কংগ্রেস:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আইন সভার নাম কংগ্রেস।
- আইন প্রণয়ন করাই এর প্রধান কাজ।
- কংগ্রেস একটি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা।
- কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি সভা' (The House of Representative) এবং উচ্চকক্ষ 'সিনেট' (The Senate) নামে পরিচিত।

⇒ নিম্নকক্ষ:
- কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি সভা' বা 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ' নামে পরিচিত।
• আসন সংখ্যা - ৪৩৫টি।
• মেয়াদ - ২ বছর।
• 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ' সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য, একজন ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

⇒ উচ্চকক্ষ:
- কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ 'সিনেট' নামে পরিচিত।
• আসন সংখ্যা - ১০০টি।
• মেয়াদ - ৬ বছর।
• 'সিনেট' সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য, একজন ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ৩০ বছর হতে হবে।

তথ্যসূত্র - যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট।
.
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা কোনটি?
  1. ISI
  2. RAW
  3. MI6
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
RAW:
- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা।
- RAW - এর পূর্ণরূপ- Research and Analysis Wing (RAW).
- এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৬৮ সালে।
- RAW প্রতিষ্ঠার পূর্বে Intelligence Bureau ভারতের অভ্যন্তরীন এবং বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে তৎপরতা চালাতো।
- প্রতিষ্ঠাকালিন পরিচালক ছিলেন - রামেশ্বর নাথ কাও।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
.
'হামাস' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া সিনওয়ার
  2. ইসমাইল হানিয়া
  3. খালেদ মাশাল
  4. শেখ আহমাদ ইয়াসিন
ব্যাখ্যা
হামাস:
- হামাসের পূর্ণরূপ হারাকাত আল-মুকাওয়ামাহ আল-ইসলামিয়াহ।
- হামাস ফিলিস্তিন এর গেরিলা সংগঠন।
- হামাস ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- শেখ আহমাদ ইয়াসিন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- সংগঠনটি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৯৩ সালের শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
- ২০০৬ সালে হামাস ফিলিস্তিন আইন পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ফাতাহ-এর বিরুদ্ধে আশ্চর্যজনক বিজয় লাভ করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
.
'কোয়াড' এর সদস্য দেশ কয়টি? (মে, ২০২৫)
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কোয়াড (QUAD):
- QUAD-এর পূর্ণরূপ: Quadrilateral Security Dialogue.
- কোয়াড হল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কূটনৈতিক জোট।
- এটি একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত নিরাপত্তা ফোরাম।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০০৭ সালে।
- সদস্য দেশ: ৪টি। (মে, ২০২৫)
• যুক্তরাষ্ট্র,
• অস্ট্রেলিয়া,
• ভারত,
• জাপান।
- কোয়াডের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য কাজ করা।

তথ্যসূত্র - অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ওয়েবসাইট।
১০.
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রবার্ট জিয়ুস
  2. গেব্রিয়াল জেসুস
  3. ডেভিড বেনগুরিয়ন
  4. ডেভিড ফার্গুসন
ব্যাখ্যা
মোসাদ:
- মোসাদ ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
- ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে মোসাদ গঠিত হয়।
- তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেনগুরিয়ন এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- এর সদর দপ্তর তেলআবিবে অবস্থিত।
- মোসাদকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বিবেচনা করা হয়। এটি বহির্বিশ্বে জুয়িশ কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।

উল্লেখ্য:
- মোসাদ ব্যতীত ইসরাইলের অপর দুটি গোয়েন্দা সংস্থা হলো আমান এবং শিনবেত।

তথ্যসূত্র - মোসাদ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১১.
উলফা ভারতের কোন রাজ্যের স্বাধীনতাকামী সংগঠন?
  1. মনিপুর
  2. মিজোরাম
  3. আসাম
  4. মেঘালয়
ব্যাখ্যা
উলফা:
- ULFA এর পূর্ণরূপ United Liberation Front of Assam.
- ULFA ভারতের আসাম রাজ্যের স্বাধীনতাকামী সংগঠন।
- এটি ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উলফার নেতাদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেটিয়া, অরবিন্দ রাজখোয়া প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
- বাংলাদেশের আলোচিত দশট্রাক অস্ত্রের চোরাচালানের সাথে উলফা জড়িত ছিলো।

তথ্যসূত্র - South Asia Terrorism Portal.
১২.
পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রীকরণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রীকরণ করা হয় ১৯৯০ সালে।

জার্মান একত্রীকরণ:

- পূর্ব জার্মানির সৃষ্টি হয় ৭ অক্টোবর, ১৯৪৯ সালে।
- বার্লিন দেয়াল তৈরি করা হয়: ১৩ আগস্ট, ১৯৬১ সালে।
- এই দেয়াল কৃত্রিমভাবে জার্মানিকে বিভক্ত করে।
- বার্লিন দেয়ালের পতন হয়: ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে।
- জার্মান একত্রীকরণের পথ এতে করে ত্বরান্বিত হয়।
- দুই জার্মানির একত্রীকরণের ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৯০ সালে।
- পূর্ব জার্মানির অবলুপ্তি ঘোষণা করা হয়: ৩ অক্টোবর, ১৯৯০ সালে।
- এতে করে দুই জার্মানি একত্রিত হয়।
- ২ ডিসেম্বর (১৯৯০) যুক্ত জার্মানির প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১৩.
CIA এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Chief Intelligence Agency
  2. Central Intelligence Agency
  3. Core Investigative Agency
  4. Central Information Agency
ব্যাখ্যা
CIA:
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
- CIA এর পূর্ণরূপ হল Central Intelligence Agency.
- সদর দপ্তর: ভার্জিনিয়ার ল্যাংলিতে অবস্থিত।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে।
- বর্তমান পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস। (মে, ২০২৫)
- CIA বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় বহুমাত্রিক তৎপরতায় নিয়োজিত।

তথ্যসূত্র - CIA ওয়েবসাইট।
১৪.
দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত পুস্তকের নাম -
  1. The Prince
  2. Animal Liberation
  3. The Republic
  4. Political Ideals
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - The Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- The Prince-এর লেখক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি।
- Animal Liberation-এর লেখক পিটার সিঙ্গার।
- Political Ideals-এর লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
১৫.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -
  1. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
  3. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬.
সুশাসনের পথে অন্তরায় রয়েছে -
  1. জবাবদিহিতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. আইনের শাসন
  4. স্বেচ্ছাচারিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য,
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ এই চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (নির্বাচন কমিশন, দুদক) স্বাধীনতা ও সক্রিয়তা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা, তথ্য অধিকার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি সুশাসনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৭.
‘সুশাসন’ শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. UN
  2. World bank
  3. IMF
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. গণমাধ্যম
  3. স্থানীয় সরকার
  4. জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৯.
নৈতিক মূল্যবােধের উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবােধের উৎস নৈতিক চেতনা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২০.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্তের উল্লেখ করেছেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সহমর্মিতা
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

⇒ সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য কোনটি?
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায় -
  1. ঐকমত্য
  2. সংবেদনশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
• স্বচ্ছতা:
- সাধারণভাবে স্বচ্ছতা বলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায়।
কেবল তাই নয়, স্বচ্ছতা দ্বারা এটিও বুঝানো হয় যে, আইনসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যারা প্রভাবিত হবে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তথ্য প্রবাহ অবাধ করা এবং তথ্য জানার অধিকার উন্মুক্ত করা। একথার অর্থ হচ্ছে তথ্য প্রবাহ যেন সকল স্তরের জনগণের কাছে সহজবোধ্য হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছায়।

• আইনের শাসন:
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আইনের শাসন। সুশাসনের জন্য এমন আইনগত কাঠামোর উপস্থিতি প্রয়োজন যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম। নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের বিশেষভাবে প্রয়োজন মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিশেষ করে চরম দরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। আবার এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

• সংবেদনশীলতা:
- সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

• ঐকমত্য:
- যেকোন রাষ্ট্রেই নানা মত ও স্বার্থের উপস্থিতি বিদ্যমান। এই সব মত ও স্বার্থের মাঝে সমন্বয় সাধন করে সামাজিক ঐক্য ধরে রাখা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। সুশাসনের ক্ষেত্রে এরূপ সমন্বয় সাধন কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল অংশ লাভবান হয়। এভাবে মত ও স্বার্থের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক একরূপতা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
নিচের কোনটি পরিবর্তনশীল?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫.
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে কোনটি বেশি প্রতিষ্ঠা পায়?
  1. সরকারের স্বচ্ছতা
  2. সরকারের জবাবদিহিতা
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬.
কোন মতবাদ অনুযায়ী, 'মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল'?
  1. ভাববাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।

⇒ মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২৭.
সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে -
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮.
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা হয়
  2. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করা হয়
  3. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে
  4. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
ব্যাখ্যা
Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

⇒ সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।