পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১১ টপিক: রিভিশন [ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ সিলেবাস]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
’দিবা রাত্রি হ্রাস-বৃদ্ধি’ ঘটে কিসের ফলে?
  1. বার্ষিক গতি
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. আহ্নিক গতি
  4. মৌলিক গতি
ব্যাখ্যা
• আহ্নিক গতির ফল (Results of Rotation):
-পৃথিবীতে দিবারাত্রি সংঘটন।
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্ট।
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি।
- সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ সৃষ্টি।

•বার্ষিক গতির ফল (The results of Revolution):বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১)দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন।

• দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
(ক) পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি;
(খ) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ;
(গ) পৃথিবীর অবিরাম আবর্তন পরিক্রমণ গতি;
(ঘ) পৃথিবীর মেরুরেখার সর্বদা একই মুখে অবস্থান;
(ঙ) পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
’লালমাই পাহাড়’ কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইসটোসিন
  3. টারশিয়ারি
  4. পাদদেশীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি 

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
-  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ?
  1. গ্রানাইট
  2. মার্বেল
  3. চুনাপাথর
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

এছাড়াও,
• আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

যেমন: ব্যাসন্ট,রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ,।

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
যেমন:
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
ফুজিয়ামা কী?
  1. শহর
  2. চিত্রকর্ম
  3. আগ্নেয়গিরি
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরি (Volcano):
- কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, গলিত শিলা, ধাতু, ভস্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখণ্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়।
- ভূপৃষ্ঠে ঐ ছিদ্রপথ বা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
- আগ্নেয়গিরির মুখকে জ্বালামুখ এবং জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থকে লাভা বলে।

আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ (Types of Volcanoes):
অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।

২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; তাদেরকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
জাপানের ফুজিয়ামা।

৩। মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোকেইমৃত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
ইরানের কোহিসুলতান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
কোনো বিশেষ দ্রাঘিমায় অবস্থিত স্থান সেই স্থানের বিপরীত দ্রাঘিমারেখায় দূরত্ব হবে-
  1. ৯০°
  2. ৩৬০°
  3. ১৭০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা
• প্রতিপাদ স্থান (The antipodes):-
- পৃথিবী গোল তাই এর কোনো একটি স্থানের বিপরীত দিকে অন্য কোনো একটি স্থান রয়েছে।
- ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কোনো কল্পিত ব্যাস ভূকেন্দ্র ভেদ করে অপরদিকে ভূপৃষ্ঠকে যে বিন্দুতে স্পর্শ করে, সেই বিন্দুকে প্রথম বিন্দুটির প্রতিপাদ স্থান বলে ।
-কোনো বিশেষ দ্রাঘিমায় অবস্থিত স্থান সেই স্থানের বিপরীত দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত হয়। অর্থাৎ দুই দ্রাঘিমার যোগফল হবে ১৮০° ।
- যেহেতু দুই দ্রাঘিমার দূরত্ব হবে ১৮০° সেহেতু দুটির মধ্যে সময়ের পার্থক্য হবে (১৮০ × ৪ মিনিট = ৭২০ মিনিট বা ১২ ঘণ্টা) ১২ ঘণ্টা।
• ঢাকার প্রতিপাদ স্থান -চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে-
  1. শীতকাল
  2. গ্রীষ্মকাল
  3. বসন্তকাল
  4. হেমন্তকাল
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল:
- ২১এ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
- উত্তর গোলার্ধের অংশগুলোকম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অংশগুলো বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে।
- এভাবে ২৩এ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবেকিরণ দেয়।
- তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযোগ পায়।
- ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- ২৩ এ সেপ্টেম্বরের দেড় মাস আগে থেকেই উত্তর গোলার্ধে শরৎকালের সূচনা হয় এবং দেড় মাস পর পর্যন্ত এই শরৎকাল স্থায়ী থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
.
বিশ্বের বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ কোনটি?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. সুপিরিয়র হ্রদ
  4. এরি হ্রদ
ব্যাখ্যা
• লেক সুপিরিয়র:
অবস্থান:
- লেক সুপিরিয়র উত্তর আমেরিকার গ্রেট লেকস শৃঙ্খলের চরম উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন, মিনেসোটা ও মিশিগান রাজ্যের উচ্চ উপদ্বীপ দ্বারা ঘেরা।
আয়তন ও স্থান: প্রায় ৮২,১০৩ বর্গ কিলোমিটার
- এটি গ্রেট লেকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়
- ভূপৃষ্ঠের দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠা পানির হ্রদ।
- আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হ্রদ।
- পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে থাকা মিঠা পানির প্রায় ১০% এই হ্রদে সংরক্ষিত।

উৎস: worldatlas. লিংক
.
কীসের সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়?
  1. সন্ধ্যাতারা
  2. ধ্রুবতারা
  3. ধূমকেতু
  4. লুব্ধক
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো-
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে।
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ১০০ (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিষুবলম্ব)।

বিষুবলম্ব:
সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটাই সেদিনের সূর্যের বিষুবলম্ব।
কোনো একদিন দক্ষিণ গোলার্ধে মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ৫০০ এবং বিষুবলম্ব ১২০ দক্ষিণ হলে ঐ স্থানের অক্ষাংশ হবে-
অক্ষাংশ = ৯০°- (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিষুবলম্ব) ৯০০ (৫০০+ ১২০) ১০০ ৬২০= ২৮° দক্ষিণ।
স্থানটি যদি উত্তর গোলার্ধে হয় তবে উত্তরবাচক বিষুবলম্ব যোগ করতে হবে এবং দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে। দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব যোগ এবং উত্তরবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে।

২। ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
এর সাহায্যে শুধু উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি ০০ এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০° হয়।
সুতরাং উত্তর গোলার্ধে কোনো স্থানের অক্ষাংশ ধ্রুবতারার উন্নতির সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
.
’কালপুরুষ’ কী?
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. অধিবাসী
  3. প্রণালী
  4. চিত্রকর্ম
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্রমণ্ডলী (Constellation):
- মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেঁধেছে।
- এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে দেখা নক্ষত্রদলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে। প্রাচীনকালে
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক একটি নক্ষত্রদলকেকাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করে বিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নামদিয়েছেন।
- এদের কোনোটা দেখতে ভল্লুকের মতো, কোনোটা শিকারির মতো।
- এদের মধ্যে সপ্তর্ষিমন্ডল (GreatBear),
- কালপুরুষ (Orion),
- ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia),
- লঘুসপ্তর্ষি (Little Bear), বৃহৎ কুকুরমণ্ডল (Canis Major) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• কালপুরুষ:
- আকাশের সবচেয়ে পরিচিত তারামন্ডল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- এই মন্ডলটি খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
- শিকারী নামে সুপরিচিত এই মন্ডলের উল্লেখযোগ্য তারাগুলো মহাকাশের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করায় পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে একে দেখা যায়।
- উত্তর গোলার্ধে শীত শেষ সময় হতে বসন্তের প্রাথমিক সময় পর্যন্ত কালপুরুষ মন্ডলটি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
১০.
পৃথিবীর ভূত্বক তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে-
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. হাইড্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- তৃঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়।
যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১১.
ব্ল্যাক ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. নরওয়ে
  3. জার্মানি
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
• পর্বত (Mountains):
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

• ভঙ্গিল পর্বত:
- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। 

• আগ্নেয় পর্বত:
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে আপ্লেয়জাত সমভূমি সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে।
- এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে।
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো-
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

• চ্যুতি-স্থপ পর্বত:
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভুত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভুত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়।
- ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে। ভুত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়।
- চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।

- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমণ্ডেলের কোন স্তরে শুষে নেয়?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
•এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
• এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet rays) শুষে নেয়।
• ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
• এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
• ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
•  প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৩.
ভোরের আকাশে শুকতারা হিসেবে পরিচিত-
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শুক্র
  4. শনি
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়। শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা।
- তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি। শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে একছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও একমাত্র শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৪.
নদ-নদী, সমুদ্রের পানি থেকে কোন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প সৃষ্টি হয়?
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. বারীপাত
  4. তুষারপাত
ব্যাখ্যা
• বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল হয়ে যায় ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা থাকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
- মূলত পানির কণাগুলো যখন বড় বড় কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে তাকেই বলা হয় বৃষ্টিপাত।
- সমুদ্র, নদ-নদী, জলাশয়, উদ্ভিদ প্রভৃতি থেকে পানি জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।
- বাষ্পীভবন (Evaporation) প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা নির্দিষ্ট।
- যেমন- ১০° সেলসিয়াস উত্তাপে প্রতি ঘনমিটার বায়ু ৯.৪১ গ্রাম বাষ্প ধারণ করে এবং এই অবস্থাকে বলা হয় বায়ুর সম্পৃক্ত।
- বায়ুর তাপমাত্রা ১০° সেলসিয়াস থেকে কম হলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
- এই ধরনের ঘনীভবনের (Condensation) সাহায্যে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বৃষ্টিপাত কঠিন ও তরল দুই ধরনেরই হতে পারে।
- জলীয়বাষ্পের শিশিরাংক যদি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা হিমাংকের নিচে নেমে যায় তখন জলীয়বাষ্প তুষার ও বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
- আবার হিমাংক শিশিরাংকের ওপর থাকলে ঘনীভবনের মাধ্যমে শিশির, কুয়াশা বা বৃষ্টি আকারে পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়?
  1. পরিবেশ দূষণ
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. জলাবদ্ধতা
  4. বনাঞ্চল ধ্বংস
ব্যাখ্যা
- ’ঘূর্ণিঝড়’ একটি মানব-সৃষ্ট আপদ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আপদ।

উল্লেখ্য,
- আপদ হলো এমন এক ধরনের অপ্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর ঘটনা, যা মানুষের জীবন, সম্পদ বা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
-  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
 যেমন:
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়,
- জলোচ্ছাস,
- টর্নেডো,
- ভূমিকম্প,
- খরা,
- নদীভাঙন,
- সুনামি,
- আগ্নেয়গিরির,  ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন:
- জলাবদ্ধতা,
- অগ্নিকাণ্ড, 
- রাসায়নিক দূষণ, 
- যুদ্ধ-বিগ্রহ,
- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,
- বনাঞ্চল ধ্বংস,
- পরিবেশ দূষণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয় কী সুত্র অনুযায়ী?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. কেপলারের সূত্র
  3. চার্লসের সূত্র
  4. ফেরেলের সূত্র
ব্যাখ্যা
• বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind):
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।
১। নিম্নচাপমণ্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হলে বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়।
এ কারণে উচ্চচাপমণ্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সর্বদা নিম্নচাপমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।

২। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
এ উভয় কারণে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়।

• বায়ুপ্রবাহ বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
যেমন-
নিয়ত বায়ু, সমুদ্র ও স্থলবায়ু ও মৌসুমি বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৭.
ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ে?
  1. ২০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- তৃঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়।
যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৮.
ঢাকা থেকে পশ্চিমে অবস্থিত একটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকায় যখন সকাল ৯টা তখন সেই স্থানের স্থানীয় সময় কত?
  1. সকাল ১২.০০ টা
  2. বিকেল ৩.০০ টা
  3. সন্ধ্যা ৬.০০ টা
  4. ভোর ৬.০০টা
ব্যাখ্যা
• ঢাকা থেকে স্থানটির ব্যবধান = ৪৫°
= (৪৫×৪) মিনিট 
= ১৮০ মিনিট 
= ৩ ঘন্টা

সময়ের ব্যবধান হবে ৩ ঘণ্টা 

এখানে যে স্থানটির স্থানীয় সময় নির্ণয় করতে হবে সেটা ঢাকার পশ্চিমে দিকে অবস্থিত। সুতরাং স্থানীয়
সময় ঢাকার সময়ের চেয়ে কম হবে কারণ পূর্ব দিকে সূর্য আগে উদিত হয়েছে। তাই ঢাকার সময়ের সঙ্গে
৩ ঘণ্টা বিয়োগ করতে হবে।
.স্থানটির সময়
= ঢাকার সময় - সময়ের পার্থক্য
= সকাল ৯টা -  ৩ ঘণ্টা 
= ভোর ৬ টা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৯.
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন কত?
  1. ৩৬০°
  2. ০°
  3. ৯০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন- ৯০° কোন।

• অক্ষরেখা (Latitude):
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে।
- এই নিরক্ষরেখাকে ০° ধরে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে দুই মেরু পর্যন্ত ৯০° বা এক সমকোণ ধরা হয়।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য নিরক্ষরেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো অক্ষরেখা।
- এই অক্ষরেখাগুলো আসলে কল্পনা করা হয়েছে।
- এদের সমাক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে (Angular Distance) ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে।
- একই গোলার্ধের একই অক্ষাংশ মানসমূহের সংযোগ রেখাকে অক্ষরেখা বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।