পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
Exam - 84 Daily Quiz: Bangla: Topic: বাংলা সাহিত্য আধুনিক যুগ (গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম) (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যতীত)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের সময়ের প্রেক্ষাপট রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. কখনো আসে নি
ব্যাখ্যা
• "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।

- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তানের দেশভাগের সময় প্রভৃতি চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনা।

- তখনকার দিনে নারীকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। এক কঠোরতার লোকচক্ষুর আড়ালে তাদের যেন লুকিয়ে রাখা হত। কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পুরুষতন্ত্রের নির্যাতন ও ধনবান শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট গ্রামীণ সমাজকে উপেক্ষা করা এক নারী চরিত্র জয়গুনের জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে।

- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

-  বইটি বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র হলো:
- জয়গুন,
- তার ছেলে হাসু,
- মেয়ে মায়মুন,
- শফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোড়ল গদু প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• বাঙালির হাজার বছরের জীবনধারা "হাজার বছর ধরে" উপন‍্যাসে জহির রায়হান তুলে ধরেছেন যুগ-যুগান্তরের বিবর্তনহীন গ্রামীণ জীবনের ছায়াচিত্র।ক্ষুদ্র একটি গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের সংঘাতময় জীবনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেছেন এতে।

• "জীবন থেকে নেয়া" (১৯৭০) একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়। সামাজিক এই চলচ্চিত্রে তৎকালীন বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

• "কখনো আসে নি" ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক বাংলা চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবে এটিই জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র।

উৎস: "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?'- পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসে উক্তিটি কার?
  1. ডাক্তার পরশের
  2. গোপালের
  3. যাদব পণ্ডিতের
  4. ডাক্তার শশীর
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত তৃতীয় উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 

- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন-"সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।

- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয় তাঁর রচিত কোন গ্রন্থের জন্য?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সারদামঙ্গল
  3. সাধের আসন
  4. সঙ্গীত শতক
ব্যাখ্যা
• 'সারদামঙ্গল' কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)। এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।

- পাঁচটি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যে বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

-----------------
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. অনুরূপা দেবী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

--------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা। 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে থামাও,থামাও।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রফিক আজাদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতা 'বাংলাদেশ'।
- এটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 'বাংলাদেশ' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

'বাংলাদেশ' কবিতার সারসংক্ষেপ-

ওরা কারা বুনো দল ঢোকে
এরি মধ্যে (থামাও,থামাও);স্বর্ণশ্যাম বুক ছিঁড়ে
অস্ত্র হাতে নামে সান্ত্রী কাপুরুষ,অধম রাষ্টের
রক্ত পতাকা তোলে কোটি মানুষের সমবায়ী
সভ্যতার ভাষা এরা রদ করবে ভাবে,মরু-পশু
মারীর অন্ধতা ঝড়ে হানে অসহায় নরনারী
অলভ্য জয়ের লোভে,জ্বালায় শহর,গ্রামে গ্রামে
প্রাচীন সংহতি ভেঙে ভগ্নস্তূপে দূরের উল্লুক
বাঁধে কেল্লা,(পারবে না,পারবে না,)পাপাশ্রয়ী পরজীবী
যতই লুণ্ঠন করে শস্য পাট পণ্য,ঘরে ঘরে
ছাড়ায় অমেয় শোক,ধর্মনাশ হত্যার ছায়ায়
ঘেরে আর্ত গৃহস্থালি,চতুর্গুণ হিন্দু মুসলমান
বাংলার বাঙালি তত জানে জন্মমৃত্যুর বন্ধনে
অভিন্ন আপন সত্তা,

------------------
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; অবাংলাদেশ কবিতা।
.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক-
  1. আলোছায়া
  2. রূপলেখা
  3. নয়া খান্দান
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- নৃপেন বোস,
- সুলতা,
- অসীম,
- অমল বাবু,
- ইয়াকুব ইত্যাদি।

----------------
নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'হাজারি ঠাকুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. চাঁদের পাহাড়
ব্যাখ্যা
• "আদর্শ হিন্দু হোটেল" উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র হাজারি ঠাকুর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কি চাহু শঙ্খচিল
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার। এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
পিতার হত্যার-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।

- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। এভাবেই গল্পের কাহিনি অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

অন্যদিকে, 
• মমতাজ উদ্দিন আহমেদ 'কি চাহু শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য । রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ 'নরকে লাল গোলাপ' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. শিবমন্দির
  2. প্রেম প্রবাহিণী
  3. অমিয়ধারা
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- প্রেম প্রবাহিণী। 
- 'প্রেম প্রবাহিণী' বিহারিলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-----------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহ বিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কাব্যে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর উপাধিসমূহ:
- কাব্যভূষণ,
- বিদ্যাভূষণ,
- সাহিত্যরত্ন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. জামাই বারিক
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. সধবার একাদশী
  4. কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক। বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোমান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা 
  2. জীবন আমার বোন 
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস "কাবিলের বোন"। পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস।

- এই উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন, নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।

- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।