পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: বাংলায় স্বাধীন সুলতানী আমল আফগান শাসন, বাংলায় মোঘল শাসন, নবাবী আমল ও পলাশী যুদ্ধ, উপমহাদেশে মুঘল শাসকগণ-দিল্লি সালতানাত মুঘল সম্রাটদের অবদান, ইতিহাসে ঢাকা নির্মাণ শৈলী ও প্রাচীন নাম। মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি [Live Class - 3 & 4 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি] এছাড়াও [Live Class - 12 ক্লাস মেন্টর: তপন ভট্টাচার্য]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ): 
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কত খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহের সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়?
  1. ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন।
- সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।
- ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া।
- তিনি প্রথম দৃষ্টি দেন বাংলার পশ্চিম দিকে।
- ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে।
- ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।
- ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহের সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়।
- তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলার বাইরেও বিহারের কিছু অংশ- চম্পারণ, গোরক্ষপুর এবং কাশী ইলিয়াস শাহ জয় করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কে মীর জুমলাকে বাংলার সুবাদারের দায়িত্ব দেন?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
- উত্তরাধিকার যুদ্ধে জয়ী হতে আওরঙ্গজেব সেনাপতি মীর জুমলাকে বাংলায় শাহ সুজাকে দমন করার জন্য প্রেরণ করলে মীর জুমলা রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর পর্যন্ত এসেছিলেন।
- সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে (১৬৬০-১৬৬৩ খ্রি.) বাংলার সুবাদারের দায়িত্ব দেন।
- সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মীর জুমলা অহোমরাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালনা করেন।
- এক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত না হলেও কুচবিহার ও আসাম বিজয় মীর জুমলা সামরিক প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে।
- তাঁর সময়েই কুচবিহার সম্পূর্ণরূপে প্রথমবারের মতো মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।
- আসাম অভিযানের দ্বারা তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সীমান্ত আসাম পর্যন্ত বর্ধিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন কে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মনসবদারি প্রথা: 
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

- মনসবদারি ‘মনসব’ থেকে ‘মনসবদারি’ শব্দের উৎপত্তি।
- এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পদবি।
- মুঘল সম্রাট আকবর সমগ্র সামরিক বিভাগকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন এবং তা মনসবদারি প্রথা নামে পরিচিত।
- প্রতিটি মনসবের অধিকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং আদেশ মতো কর্মসম্পাদনে বাধ্য থাকতেন।
- রাষ্ট্রের সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এই প্রথা মতে পদমর্যাদা পেতেন।
- এই প্রথায় ১০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত বাহিনীর পরিচালকগণ ৩৩টি পদমর্যাদায় বিন্যস্ত ছিলেন।
- আকবরের রাজত্বের মধ্যভাগ পর্যন্ত সাধারণ কর্মকর্তাগণ বড়জোর ৫০০০ সৈন্য পরিচালনার পদ পেতে পারতেন।
- ৭০০০ এবং ১০,০০০ সৈন্য পরিচালনার পদমর্যাদা শুধু শাহজাদাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
- আকবরের পরবর্তী সম্রাটদের আমলে এই পদমর্যাদা বেড়ে ২০,০০০ বা তারও বেশিতে পৌঁছায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
দিল্লির কোন শাসক ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
- ইলিয়াস শাহের শাসনামলে দিল্লির শাসক ছিলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। 
- ইলিয়াস শাহ দিল্লির মুসলমান শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নামে খুতবা পাঠ ও মুদ্রা জারি করায় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।
- প্রথম দিকে দিল্লির সুলতান বাংলার এ স্বাধীনতা মেনে নেননি।
- সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৩ থেকে ১৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
- তাঁর চেষ্টা ছিল বাংলাকে দিল্লির মুসলিম অধিকারে নিয়ে আসা। কিন্তু তিনি সফল হননি।
- ইলিয়াস শাহ দুর্ভেদ্য একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- এদিকে বর্ষা এলে জয়ের কোনো সম্ভাবনা না থাকায়, ফিরোজ শাহ সন্ধির মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতাকে মেনে নিয়ে ইলিয়াস শাহের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিল্লি ফিরে যান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ছোট কাটরা কোন মুঘল সুবাদারের সময়ে নির্মিত হয়?
  1. মীর জুমলা
  2. দাউদ খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল:
- শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলে ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার।
- এ আমলে কৃষিকাজের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- শায়েস্তা খান ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশী বণিকদের বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করতেন।
- শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে।
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কার্যের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, পরী বিবির সমাধি-সৌধ, হোসেনি দালান, সুফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সম্রাট শাহ আলম কোন চুক্তি অনুসারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি প্রদান করেন?
  1. কারা চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. পাটনা চুক্তি
  4. দিল্লী চুক্তি
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি: 
- দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৬১-১৮০৫) দিল্লির মুঘল সম্রাট আজিজুদ্দীন দ্বিতীয় আলমগীরের পুত্র।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম মীর কাসিমকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবাহদার হিসেবে অভিষিক্ত করেন এবং বিনিময়ে নওয়াব কর্তৃক বার্ষিক ২৪ লক্ষ টাকা কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।
- ১৭৫১ সাল থেকে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত বাদশাহ শাহ আলম অযোদ্ধার নওয়াব  সুজাউদ্দৌলার আশ্রয়ে ছিলেন।
- বক্সারের যুদ্ধের পর সম্রাট শাহ আলম এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দীউয়ানি প্রদান করেন।
- কোম্পানি কারা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
কার সময় থেকে বাংলার সকল অংশের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  4. রুকনউদ্দিন বরবক শাহ
ব্যাখ্যা
- শাসক হিসেবে ইলিয়াস শাহ ছিলেন বিচক্ষণ ও জনপ্রিয়।
- তাঁর শাসনামলে রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজিত ছিল।
- ইলিয়াস শাহ লখনৌতির শাসক হিসেবে বঙ্গ অধিকার করলেও গোটা ভূখণ্ডকে একত্রিত করে আঞ্চলিক বৃহত্তর বাংলা সৃষ্টি করেছিলেন।
- এ সময় থেকেই বাংলার সকল অংশের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়।
- ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
মুর্শিদ কুলি খানকে প্রথমে বাংলার কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়?
  1. দেওয়ান
  2. সুবাদার
  3. নবাব
  4. নায়েব নাজিম
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- মুর্শিদ কুলি খান যখন বাংলায় আগমন করেন, তখন বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল।
- এ পরিস্থিতির মুখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাংলায় মুঘল শাসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হন।
- স্বীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তিনি বাংলার ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করেছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
কার সময়ে 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
আফগান শাসন ও বারোভূঁইয়া (১৫৩৮-১৫৭৬ সাল): 
- ১৫৩৮ সালে আরব এবং পারস্যের অভিজাত মুসলমানদের হাতে প্রতিষ্ঠিত বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হলে বাংলাকে একে একে অন্যান্য বিদেশি শক্তিসমূহ গ্রাস করতে থাকে।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুন অল্প কিছুকাল বাংলার রাজধানীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আফগান নেতা শের শাহের কাছে পরাজয় মানতে হয়।
- শেষ পর্যন্ত মুঘল সম্রাট আকবর আফগানদের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা কেড়ে নেন।
- অবশ্য রাজধানী দখল করলেও মুঘলরা বাংলার অভ্যন্তরে অনেক দিন পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
- এ সময় বাংলায় অনেক বড় বড় স্বাধীন জমিদার ছিলেন।
- 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত এ সকল জমিদার মুঘলদের অধিকার মেনে নেননি।
- সম্রাট আকবরের সময় মুঘল সুবাদারগণ 'বারোভূঁইয়া'দের দমন করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
- 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয় সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. নাসিরুদ্দিন বরবক শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা: 
- হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। 
- তিনি ছিলেন আরবের সৈয়দ বংশের লোক। 
- তিনি হাবশি সুলতান বরবক শাহের আমলে বাংলায় আসেন এবং চাকুরি গ্রহণ করেন। 
- সর্বশেষ হাবশি সুলতান মুজাফ্ফর শাহ তাঁকে উজির নিযুক্ত করেন।
- মুজাফ্ফর শাহের স্বৈর শাসনে দেশে বিদ্রোহ দেখা দেয়।
- গৌড়ের অনেক অধিবাসীকে তিনি নির্মমভাবে হত্যা করেন।
- দেশের এরূপ পরিস্থিতিতে হোসেন শাহ হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- তিনি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারেই তাঁর বংশের নাম হয় হোসেন শাহী বংশ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মীর নেসার আলী
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
 ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩.
কত সালে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৬১০ সালে
  3. ১৬৬০ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সুবার রাজধানী: 
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলার উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- এ লক্ষে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. তিতুমির
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. সৈয়দ আহমদ শহীদ
ব্যাখ্যা
তিতুমিরের সংগ্রাম: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমির নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।