পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৯ (নতুন রাউন্ড) টপিক এটমের গঠন, মৌলিক কণিকা, ইলেকট্রন বিন্যাস, পর্যায় সারণী, যোজনী, যৌগের সংকেত [Live Class – 17, 18 & 19]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
পরমাণুকে ভাঙলে কী ঘটে?
  1. নতুন যৌগ তৈরি হয়
  2. নতুন মৌল তৈরি হয়
  3. মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
  4. কোনো পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিউক্লিয়াস থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী শেলটির নাম কী?
  1. N-শেল
  2. L-শেল
  3. M-শেল
  4. K-শেল
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
একইভাবে, 
• ২য় শেলে = 8 টি, 
• ৩য় শেলে = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অধাতু
  2. মুদ্রা ধাতু
  3. ক্ষার ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা এক কথায় অসাধারণ। 
- বর্তমানেও বাজারে ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে, তবে এগুলো সংকর ধাতুর তৈরি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত? 
  1. 16 
  2. 2
  3. 18 
  4. 32 
ব্যাখ্যা
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন ও 1 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1 × 2 + 16 x 1) 
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি কী করে? 
  1. বাড়ে
  2. কমে যায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
.
গ্লুকোজের স্থূল সংকেত কোনটি?
  1. CH2O
  2. C6H10O6
  3. C6H12O5
  4. C6H12O6
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
১। রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

২। আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

৩। স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O

৪। গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
- ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন হলো- ২, ৮, ১৩ এবং ১ । 
অতএব, ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকতে পারবে। 

ইলেকট্রন বিন্যাস: 

- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
- নিম্নে কতগুলো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস দেখানো হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
.
1 amu এর মান কত গ্রাম?
  1. 0.167×10-23 গ্রাম
  2. 1.992×10-23 গ্রাম
  3. 1.66×10-23 গ্রাম
  4. 1.66×10-24 গ্রাম
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয় যারে ঐ সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- 
  1. বিকিরণ করে
  2. শোষণ করে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- বিকিরণ করে। 

বোর মডেলের স্বীকার্যসমূহ: 
(১) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। 
(২) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রনসমূহ কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বা অরবিট বলা হয়। 
(৩) ইলেকট্রন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে নিম্নতর শক্তিস্তর যেমন n = ১ থেকে উচ্চ শক্তিস্তর যেমন n = ২ তে গমন করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে উচ্চতর শক্তিস্তর যেমন n = ২ থেকে নিম্ন শক্তিস্তর যেমন n = ১ এ গমন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. ক্ষারধাতুসমূহ
  2. অবস্থান্তর মৌল
  3. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
  4. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
ব্যাখ্যা
অবস্থান্তর মৌল: 
- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে। 

অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য: 
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 16
  4. 31
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ফসফরাস (P) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 
এখানে, 

- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 31 এবং
- ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা = 15 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (31 - 15) = 16 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর কোনগুলো প্রায় একই রকম হয়?
  1. পরমাণু ভর ও অণুর ভর
  2. আকার ও ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা
  4. ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য: 
- পর্যায় সারণি মৌল গুলোকে সাজানোর এমন একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। 
- পর্যায় সারণির মাধ্যমে আবিষ্কৃত মৌলগুলোকে এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন নবীন বিজ্ঞানী বা শিক্ষানবিশ রসায়নবিদ আবিষ্কৃত মৌল সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারেন। 
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক স্বীকৃত আধুনিক পর্যায় সারণির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূলভিত্তি। 
২. সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
৩. প্রতিটি পর্যায়ের বামদিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
৪. পর্যায় সারণি প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল থাকে। যেমন- একটি H অপরটি He । H-এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ এবং He এর অবস্থান গ্রুপ-১৮ এ। 
৫. দ্বিতীয় পর্যায় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে আটটি করে মৌল বর্তমান। এ আটটি মৌল গ্রুপ-১ থেকে গ্রুপ-২ এবং গ্রুপ-১৩ থেকে গ্রুপ-১৮ এর মধ্যে অবস্থিত। 
৬. ৪র্থ পর্যায় ও ৫ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপের প্রত্যেকটিতে একটি করে ১৮টি মৌল অবস্থান করে থাকে। 
৭. ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ও ৭ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপে মৌলের সংখ্যা ৩২টি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্রুপ-৩ এ ১৫টি করে মৌল অবস্থান করে। বাকী ১৭টি গ্রুপে ১৭টি মৌল অবস্থান করে পর্যায়ে মোট মৌলের সংখ্যা (১৫ + ১৭) = ৩২টি হয়। 
৮. মূল পর্যায় সারণির নিচে ২টি অনুভূমিক সারি এবং ১৪টি খাড়া স্তম্ভ বিশিষ্ট আরো একটি ছক উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায়ের অংশবিশেষ মাত্র। 
৯. সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। 
১০. পর্যায় তালিকায় কোনো মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার ওপর। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. K
  2. Ca
  3. Li
  4. Na
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
স্বর্ণপাতের উপর আলফা কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন কে?
  1. রাদারফোর্ড
  2. জন ডাল্টন
  3. নিলস বোর
  4. ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।  
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়?
  1. F
  2. Br
  3. Cl
  4. O
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির 17 তম গ্রুপের মৌলগুলো হ্যালোজেন নামে পরিচিত। 
- F, Cl, Br, I ও At এ পাঁচটি মৌল এ গ্রুপের মৌল। 
- হ্যালোজেন শব্দের অর্থ লবণ গঠনকারী। 
- এরা প্রত্যেকেই অতিশয় সক্রিয় ও তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল। 
- প্রত্যেকের সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরে 7টি করে ইলেকট্রন বর্তমান থাকায় অতিরিক্ত একটি ইলেকট্রন লাভ করার প্রবণতা যথেষ্ঠ  থাকে। 
- প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে হ্যালাইড আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন হ্যালাইড যৌগ গঠন করে। 
- হাইড্রোজেন হ্যালাইড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিডে পরিণত হয়। 
- এরা তীব্র জারক। 

অন্যদিকে, 
- অক্সিজেন (O) হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়, এটি গ্রুপ-16 এর মৌল

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।