পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) সত্তরের নির্বাচন; iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি; iv) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
'এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি রাড়ি গেলেন, রাফি এসেছিল ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
'লড়াকু' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লড় + অকু
  2. √লড় + আকু
  3. √লড় + ওকু
  4. √লড়া + কু
সঠিক উত্তর:
√লড় + আকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√লড় + আকু
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-আকু':
- √লড় + আকু = লড়াকু,
- √উড়ু + আকু = উড়াকু > উড়ুক্কু। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'জম্ ও ঝুল্‌' কোন ধরনের ধাতু?
  1. বাংলা ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বিদেশি ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্‌, কাট্, নাচ, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়, ধর্, পড়, রাখ, শুন, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ, কৃৎ, খাদ, হস্, পঠ, দৃশ, বুধ, স্থা, শ্রু, ধূ, বন্ধু, ঘুষ, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট, চেঁচু, জম্, ঝুল্‌ , টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'আমি এখন পড়ব।' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
  2. সাধারণ বর্তমানকাল
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎকাল
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎকাল
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎকাল
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• সাধারণ ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া এখনো ঘটেনি অথচ ভবিষ্যতে ঘটবে এমন বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমি এখন পড়ব।

• ঘটমান ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।

• এ ধরনের যৌগিক ক্রিয়ার সাহায্যেও এই অর্থ প্রকাশের বিকল্প উপায় আছে- পূর্বক্রিয়া + চল্ ব্যবহার করে- বলে চলব, কেঁদে চলবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
বাংলা ধাতুযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কথিত
  2. কর্তন
  3. অঙ্কন
  4. কওয়া
সঠিক উত্তর:
কওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কওয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধাতু 'কহ্' যোগে গঠিত শব্দ - কওয়া, কহন। 

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত ধাতু 'অক্' যোগে গঠিত শব্দ - অঙ্কন, অঙ্কিত। 
• সংস্কৃত ধাতু  'কৃৎ' যোগে গঠিত শব্দ - কর্তন, কর্তিত। 
• সংস্কৃত ধাতু 'কথ্‌' যোগে গঠিত শব্দ -  কথ্য, কথিত। 

-------------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্‌, কাট্, নাচ, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়, ধর্, পড়, রাখ, শুন, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ, কৃৎ, খাদ, হস্, পঠ, দৃশ, বুধ, স্থা, শ্রু, ধূ, বন্ধু, ঘুষ, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট, চেঁচু, জম্, ঝুল্‌ , টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভাত
  2. চলা
  3. পথ
  4. হাত
সঠিক উত্তর:
চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলা
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• মৌলিক শব্দ:

ভাষার যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যাদের সঙ্গে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দের বৈশিষ্ট্য হল- স্পষ্ট অর্থবোধকতা ও অবিভাজ্যতা। কখনো মৌলিক শব্দ ভেঙে দেখানোর চেষ্টা করলে ভাঙা বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না। যেমন: মা, ভাত, পথ, চল, গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
পথিক বা চলা শব্দ; এগুলোকে মৌলিক শব্দ বলা যায় না, কারণ (পথিন্ + ক) বা (চল্ + আ)-এভাবে এদের ভাঙা যায়।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি);
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ) ইত্যাদি।

আবার,
পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
'করিয়া' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কর্ + ইয়া
  2. √কর্ + ইয়ে
  3. √করি + ইয়া
  4. √করি + আ
সঠিক উত্তর:
√কর্ + ইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কর্ + ইয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ইয়া': অনন্তর অর্থে। যেমন:
- √কর্ + ইয়া > এ = করিয়া > করে,
- √খাই + ইয়া  =  খাইয়া > খেয়ে,
- √দেখ্‌ + ইয়া  = দেখিয়া > দেখে ইত্যাদি।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ইয়ে': কর্তৃবাচ্যে দক্ষ অর্থে। যেমন:
- √খা + ইয়ে = খাইয়ে,
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে,
- √মর্ + ইয়ে = মরিয়ে।

এরূপ- নাচিয়ে, বাজিয়ে, লিখিয়ে, গাইয়ে ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন ধাতুটি সোজাসুজি সংস্কৃত থেকে আসেনি?
  1. দৃশ
  2. পঠ
  3. খাদ
  4. গড়
সঠিক উত্তর:
গড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গড়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্‌, কাট্, নাচ, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়, ধর্, পড়, রাখ, শুন, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্‌ , কৃৎ, খাদ, হস্, পঠ, দৃশ, বুধ, স্থা, শ্রু, ধূ, বন্ধু, ঘুষ, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট, চেঁচু, জম্, ঝুল্‌ , টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ঘটমান বর্তমানকালের উদাহরণ কোনটি?
  1. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. চিন্তা করো না, কালই আসছি।
  4. আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই।
সঠিক উত্তর:
চিন্তা করো না, কালই আসছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিন্তা করো না, কালই আসছি।
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল:
সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।

ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• ঘটমান বর্তমানকাল:
যে কাজ শেষ হয় নি, এখনো চলছে, সে কাজ বোঝাবার জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সুমি বই পড়ছে।
- মেয়েরা গান গাইছে।

ঘটমান বর্তমান কালের প্রয়োগ:
• বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বক্তা বললেন, 'শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।'

• ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'বাঁচোয়া' শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ওয়া': বিশেষণ শব্দ গঠন করে। যেমন:
- √বাঁচ্ + ওয়া = বাঁচোয়া,
- √লাগ্ + ওয়া = লাগোয়া ইত্যাদি।

------------------
এরূপ কিছু বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় হলো:
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উক' প্রসারে-উকা: কর্তৃবাচ্যে করতে 'অভ্যস্ত' অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √মিশ্ + উক্ = মিশুক,
- √খা + উকা  = খাউকা > খেকো ইত্যাদি।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উয়া > –ও': কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √খা + উয়া = খাউয়া, 
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ নয় কোনটি?
  1. কলম
  2. সাদা
  3. চশমা
  4. কাজি
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
• কলম (বিশেষ্য পদ),
- আরবি শব্দ। 

অন্যদিকে, 
ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
'জলীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. জল + ইয়
  2. জল + এয়
  3. জল + ঈয়
  4. জলী + অ
সঠিক উত্তর:
জল + ঈয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জল + ঈয়
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় '-ঈয়' (ষ্ণীয়, ছ):
জাত সম্পর্কিত 'ব্যাপ্তি' অর্থে- একই বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- জল + ঈয় = জলীয়,
- বংশ + ঈয় = বংশীয়;
- দেশ + ঈয় = দেশীয়,
- ভারত + ঈয় = ভারতীয়,
- ইউরোপ + ঈয় = ইউরোপীয় ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় '-এয়' (ষ্ণেয়, ঢক্):
জাত বা উৎপন্ন এবং পরায়ণ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- ভগিনী + এয় = ভাগিনেয়,
- অগ্নি + এয় = গাঙ্গেয়,
- রাধা + এয় = রাধেয়,
- অতিথি + এয় = আতিথেয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
কোনটি পুরাঘটিত অতীতকালের উদাহরণ?
  1. তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
  2. সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  3. তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।
  4. আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
সঠিক উত্তর:
সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

অন্যদিকে, 
• ঘটমান ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
- ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
- সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
'আনা, আনি ও পনা' কোন ধরনের তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা;
- হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
'চাউল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. বিদেশি শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, টোপ, ডিঙা, চাউল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬.
অনুজ্ঞা বর্তমানকালের ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সুমি বই পড়ছে।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
  4. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল:
সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।

ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• ঘটমান বর্তমানকাল:
যে কাজ শেষ হয় নি, এখনো চলছে, সে কাজ বোঝাবার জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সুমি বই পড়ছে।
- মেয়েরা গান গাইছে।

ঘটমান বর্তমান কালের প্রয়োগ:
• বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বক্তা বললেন, 'শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।'

• ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• অনুজ্ঞা বর্তমানকাল:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৭.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ৫ অক্টোবর
  3. ৭ ডিসেম্বর
  4. ১৭ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
৭ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮.
‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’-উক্তিটি কে করেন?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
জেনারেল টিক্কা খান:
- জেনারেল টিক্কা খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় সামরিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার জন্য তিনি ‘বাংলাদেশের কসাই’ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬২ সালে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টিক্কা খানকে পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন ।
- ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পাকিস্তানে পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’।
- ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি।
- ২৫শে মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন না -
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  4. মাওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন না।

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:

- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় কীভাবে?
  1. ৬ দফা দাবির মাধ্যমে
  2. ৮ দফা দাবির মাধ্যমে
  3. ১১ দফা দাবির মাধ্যমে
  4. ২১ দফা দাবির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
১১ দফা দাবির মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ দফা দাবির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা। 
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২১.
বাংলাদেশ প্রথম কোন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. কমনওয়েলথ
  2. জাতিসংঘ
  3. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  4. ওআইসি
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ প্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে।

কমনওয়েলথ (Commonwealth):
- কমনওয়েলথ মূলত ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- এক সময় যে সকল অঞ্চল বা জনপদগুলো ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়ে পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেসব রাষ্টের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কমনওয়েলথ।
- বাংলাদেশ‌ ৩৪তম দেশ হিসেবে কমনওয়েলথের সদস্য পদ লাভ করে ১৮ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে ।
- বাংলাদেশ এর ৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে যোগ দেয়।

অন্যদিকে,
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সাল। 
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা:
- WHO জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত হয়।

OIC:
- এটি একটি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা।
- এটি মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২২.
গণপরিষদে প্রথম অধিবেশন কখন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮ মার্চ ১৯৭২
  2. ২৩ মার্চ ১৯৭২
  3. ১০ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ১২ এপ্রিল ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার মাত্র ১১৬ দিন পর গণপরিষদের এ প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ অধিবেশনে গণপরিষদের স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়।
- শাহ আব্দুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পীকার নির্বাচিত হন।
- তাঁর মৃত্যুর পর নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ।

⇒ এ অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়।
- এটি হল "সংবিধান কমিটি"।
- এ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
‘অপারেশন সার্চলাইট’ কী?
  1. ১৯৭১ সালের যুদ্ধপ্রস্তুতি
  2. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিকল্পিত গণহত্যা
  3. নৌঘাঁটি আক্রমণ
  4. ১৯৬৯ সালের পাকিস্তানিদের পরিকল্পিত গণহত্যা
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিকল্পিত গণহত্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিকল্পিত গণহত্যা
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.
২৪.
১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণে কে নেতৃত্ব প্রদান করেন?
  1. জগজিৎ সিং অরোরা
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. জেনারেল ওসমানী
  4. জেনারেল স্যাম মানেকশ
সঠিক উত্তর:
জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণে জগজিৎ সিং অরোরা নেতৃত্ব প্রদান করেন।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ দুর্বার আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- আত্মসমর্পণ ব্যতীত বিকল্প কোন পথ না পেয়ে বিপর্যস্ত পাক-বাহিনী ১৫ ডিসেম্বর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
- দেশের অন্যান্য জায়গায় স্থানীয়ভাবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হতে থাকে।

⇒ ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টা ১৯ মিনিটে পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- উল্লেখ যে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নির্বাসিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) প্রথম আলো।
২৫.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ১৯৬৯ এর আন্দোলনে
  2. ১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে
  3. মুক্তিযুদ্ধে
  4. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
নূর হোসেন:
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- মিছিল রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালালে শহিদ হন নূর হোসেন।
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দেয়া ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ ১০ নভেম্বর।

উল্লেখ্য,
⇒ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
২৬.
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম সংঘটিত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে কোনটি?
  1. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  4. ১৯৭০ সালের নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালের নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি:
- বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করে জেনারেল ইয়াহিয়া খান জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
- ২৮ নভেম্বর তিনি এক ভাষণে দেশে পুনরায় সর্বজনীন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের ঘোষণা দেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল ছিল ছয় দফাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়।

⇒ কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ইচ্ছুক ছিল না। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ মানুষের উপর আক্রমণ করে।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- বিজয় অর্জনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম সংঘটিত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ১৯৭০ সালের নির্বাচন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. কলকাতা
  3. নিউইয়র্ক
  4. লন্ডন
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কলকাতায় স্থাপিত হয়।

প্রবাসে বাঙালিদের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা:

- বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।
- এতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাঙালি মহিলাদের একটি প্রতিবাদ মিছিল লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।
- জুন মাসে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে লন্ডনে মিছিলের আয়োজন করে।
- মিছিল শেষে এই প্রতিবাদকারীগণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে।
- কলকাতাতেই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২৮.
আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কী গঠন করা হয়?
  1. বিশেষ আইন
  2. বিশেষ আইনজ্ঞ
  3. বিশেষ ফৌজ
  4. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
সঠিক উত্তর:
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে।

উল্লেখ্য,
⇒ আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।
- ১৯৬৮ সালের ৫ আগস্ট ব্রিটিশ আইনজীবী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টমাস উইলিয়ম শেখ মুজিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করেন।
- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৯.
খালেদ মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধে কোন ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন?
  1. কে ফোর্সের
  2. জেড ফোর্সের
  3. এস ফোর্সের
  4. বি এম ফোর্সের
সঠিক উত্তর:
কে ফোর্সের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে ফোর্সের
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
- নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- ১৪ এপ্রিল কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার স্থাপিত হয় কোলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে।

⇒ মে ও জুন মাসে মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল।
- ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
(ক) 'কে' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর খালেদ মোশাররফ),
(খ) 'এস' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর কে. এম সফিউল্লাহ),
(গ) 'জেড' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর জিয়াউর রহমান)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' কে ছিলেন?
  1. একজন সাংবাদিক
  2. একজন গায়ক
  3. একজন রাষ্ট্রদূত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
একজন সাংবাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন সাংবাদিক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' ছিলেন একজন সাংবাদিক।

মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক:

- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার সময় থেকে বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।
- তারাই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার খবর ছড়িয়ে দেয়।

• সাইমন ড্রিং এরকমই একজন সাংবাদিক।
- ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সরকার কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা সফর করিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন লেখানোর ফব্দি আঁটে।
- কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
- নিজ চোখে সব দেখে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সত্য কথা লিখে পত্রিকা ও বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে তা অবহিত করে।
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
= আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩১.
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় -
  1. ১ মার্চ
  2. ২ মার্চ
  3. ৩ মার্চ
  4. ৪ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
ব্যাখ্যা
একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে ২ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতারভাবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- যা ইতিহাসে 'মার্চের অসহযোগ আন্দোলন' নামে পরিচিত হয়ে আছে।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।

উল্লেখ্য,
- শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ১ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে।
- ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় ২ মার্চ তারিখে। সেদিন শুধু ঢাকায় এই আন্দোলন শুরু হয়।
- সমগ্র বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় ৩ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে।

[বিস্তারিত জানার জন্য Live MCQ তথ্যকল্পদ্রুম-৩১ দেখুন।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২.
জর্জ হ্যারিসন কীসের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করেন?
  1. চলচ্চিত্র তৈরি করে
  2. ফুটবল খেলার মাধ্যমে
  3. ছবি এঁকে 
  4. গান গেয়ে
সঠিক উত্তর:
গান গেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গান গেয়ে
ব্যাখ্যা
জর্জ হ্যারিসন গান গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করেন।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) BBC।