পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাসঃ ১৯৫২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরেপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। ফলে ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রূপ দেয়া হয় এবং অন্য ধর্মবলম্বীদের জন্য এর দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এর মূল নেতা নির্বাচিত হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের কতটি স্তর ছিল?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন। ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল: (১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়), (২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে), (৩) জেলা কাউন্সিল এবং (৪) বিভাগীয় কাউন্সিল। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘আইয়ুব বিরোধী মোর্চা বা এন. ডি. এফ’ গঠনের উদ্যোগ নেন কে?
  1. ক) এ.কে. ফজলুল হক
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খান ‘কনভেনশন মুসলিম লীগ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এসময়ে সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে আইয়ুব বিরোধী মোর্চা বা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়। এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘কপ বা সম্মিলিত বিরোধী দল’ এর প্রার্থী ছিলেন-
  1. ক) ফাতেমা জিন্নাহ
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ বা ‘COP(কপ)- Combined Opposition Party’ নামে একটি জোট গঠন করে। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন। তিনি দ্বিতীয় বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন-
  1. ক) কিশোর মতিউর
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) সার্জেন্ট জহুলুল হক
  4. ঘ) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসন ও আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন যখন তীব্র হচ্ছিল তখন নেতৃত্বের পুরো ভাগে চলে আসে ছাত্ররা। এ সময়ে ডাকসুর সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এই পরিষদ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে এগার দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। এগার দফা কর্মসূচির ভেতর ছয় দফাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্রমে ছয় দফা ও এগার দফার মধ্য দিয়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিতে থাকে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়-
  1. ক) ২৬ মার্চ
  2. খ) ৪ এপ্রিল
  3. গ) ১০ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশের বাইরে শহীদ হয়েও যিনি দেশপ্রেমের জন্য বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করেন তিনি হলেন-
  1. ক) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  2. খ) মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
  3. গ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানে থাকাকালে তিনি যুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বৈমানিক মতিউর পিআইএ-এর একটি বোয়িং বিমান ছিনতাই করে দেশে আসার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ আগস্ট সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রবল আকাংখা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত তা পূরণ না হলেও তাঁর বিমান দখলের চাঞ্চল্যকর ঘটনা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ এই ভূমিকার কথা বিবেচনা করেই তাঁকে বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এম.মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম.মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী, চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল(অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুফ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
.
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথ বাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  2. খ) কর্নেল এমএ জি ওসমানী
  3. গ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
সংবিধানে চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়-
  1. ক) সংসদীয় পদ্ধতি সরকার
  2. খ) সামরিক সরকার
  3. গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  4. ঘ) সমাজতন্ত্র সরকার
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে পড়েন। এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা ছিল না। সংবিধানের চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তিনি ইচ্ছানুযায়ী উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারবেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৩-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৪-এর ২২ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৭৪-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙ্গে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ বা বাঙালি মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ৬ দফাকে
  2. খ) ২১ দফাকে
  3. গ) ১১ দফাকে
  4. ঘ) ৩৫ দফাকে
ব্যাখ্যা
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা এবং এর পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ সালে ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে ছয় দফার পক্ষে দ্রুত জনমত গড়ে উঠে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।