পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes১৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৯: বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. মধ্য-যুগের সাহিত্য ধারা; ২. মধ্যযুগের প্রধান প্রধান লেখক ও তাঁদের সাহিত্য কর্ম; ৩. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৪. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৫. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের চরিত্র। এবং বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে 'পরমাত্মা' ধরা হয় কোন চরিত্রকে?
  1. ক) অর্জুন
  2. খ) রাধা
  3. গ) বড়াই
  4. ঘ) কৃষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগে  রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি:
- কৃষ্ণ (পরমাত্মা),
- রাধা (জীবাত্মা),
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) নরেন
  2. খ) সতীশ
  3. গ) সুরেশ
  4. ঘ) রমেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রমেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রমেশ
ব্যাখ্যা
• পল্লীসমাজ (১৯১৬)
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাঙলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• শরৎচন্দ্রের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ও তার চরিত্র:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 
-  চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র।
- নরেন ও রমা - দত্তা উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ড. সুকুমার সেন ‘উপকথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নিচের কোনটিকে?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ধর্মমঙ্গল' কাব্যকে ‘উপকথা’ বা ‘কেরামতি কাহিনি’ বলে উল্লেখ্য করেছেন।
• এছাড়া তিনি বলেন-
- বাংলা সাহিত্যে যদি মহাকাব্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তবে তাহা ধর্মমঙ্গল।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। 
- এই কাব্যে প্রায় বিশ জন কবি ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয়-
  1. ক) নবম শতকে
  2. খ) ত্রয়োদশ শতকে
  3. গ) ষোড়শ শতকে
  4. ঘ) উনিশ শতকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• বংলা গদ্যের সূচনা ও সাহিত্যে এর বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

- তবে বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি: ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং বলা যায় বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক বাংলা নাটক কোনটি?
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) লিপিমালা
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কীর্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা
ভদ্রার্জুন
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
"ভানুমতি-চিত্তবিলাস" - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস - শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখচিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
তার আরো দুটি নাটক - কৌরব বিয়োগ ও রজতগিরিনন্দিনী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
.
‘মজিদ’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - মজিদ।
• 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মজিদ নামের এক কূটচরিত্র গারোপাহারি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে শোষণ করে। সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'নগেন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. যোগাযোগ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- মৃণালিনী  উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ  উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
খ) কীর্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
-  ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। 
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
মনসামঙ্গল কাব্যগুলোকে অন্য কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) কেতকামঙ্গল
  2. খ) পদ্মাপুরাণ
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মাদেবী
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
• ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’

• মনসামঙ্গল
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- মঙ্গলকাব্যের প্রাচীন্তম ধারা।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১১.
'চৈতন্য-মঙ্গল' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) লোচনদাস
  2. খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. গ) বৃন্দাবন দাস
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ক) লোচনদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লোচনদাস
ব্যাখ্যা
• বাঙালীর জীবনে যেমন, বাঙলা সাহিত্যও তেমনই চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম। তার জীবনী নিয়েই প্রথম বাংলা সাহিত্যে জীবনী সাহিত্য রচিত হয়।
- চেতন্যদেবের মৃত্যুর পর তার দুটি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয় সংস্কৃত ভাষায়।

• বাংলা ভাষায় প্রথম চৈতন্যদেবের যে জীবনী-লেখা হয়, তার নাম চৈতন্যভাগবত।
- যিনি লেখেন, তার নাম - বৃন্দাবন দাস।
- এটি লেখা হয়েছিল চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পনেরো বছরের মধ্যে।
- বৃন্দাবন দাসকে এ লেখায় উৎসাহ দিয়েছিলেন নিত্যানন্দ প্রভু।

• চৈতন্য দেবকে নিয়ে পরে যে গ্রন্থটি রচিত হয় সেটির নাম - চৈতন্যমঙ্গল।
- লেখক - লোচনদাস।
- এটি চৈতন্যভাগবতের চেয়ে ছোট।

• চৈতন্যদেবের জীবনী হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গ্রন্থটি, তার নাম - চৈতন্যচরিতামৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
- এ বইটিতে চৈতন্যদেবের জীবনী বর্ণনার সাথে সাথে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার দর্শন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
বাংলায় প্রবন্ধ রচনায় প্রথম কৃতিত্ব কার?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
- বাংলা প্রবন্ধ রচনার প্রথম কৃতিত্ব রাজা রামমোহন রায় এর।
- তিনি হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক।

রাজা রামমোহন রায়
- জন্মগ্রহণ করেন ২২ মে, ১৭৭২ সালে এবং  ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- রামমোহনের প্রথম দিকের রচনাসমূহ ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায়।
- তিনি দিল্লির বাদশাহ কর্তৃক ১৮৩০ সালে রাজা উপাধি পান।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন

তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলো হলো:
» বেদান্তগ্রন্থ
» বেদান্তসার
» ভট্টাচার্যের সহিত বিচার- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত ‘বেদান্তচন্দ্রিকার’ব জবাবে লিখিত।
» সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
» গৌড়ীয় ব্যাকরণ- বাঙ্গালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩.
‘আজহার’ -চরিত্রটি জসিম উদ্‌দীন এর কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ক) পদ্মাপাড়
  2. খ) বোবা কাহিনী
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) গ্রামের মায়া
সঠিক উত্তর:
খ) বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্দীন রচিত ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।। 

- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র : বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• ‘মধুমালা’, ‘গ্রামের মায়া’, ‘পদ্মাপাড়’ তাঁর রচিত নাটক সমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
লৌকিক ধারার প্রথম কবি কে?
  1. ক) কোরেশী মাগন
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
গ) দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী তিনি লৌকিক ধারার প্রথম কবি।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন। 
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’ - এটি কার উক্তি?
  1. ক) জন লক
  2. খ) টি এইচ গ্রিন
  3. গ) জোনাথন সুইফট
  4. ঘ) জোনাথান হেইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোনাথান হেইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- জোনাথান হেইট এর মতে, ‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।"   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬.
সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) ন্যায়বিচার
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না। উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

- একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে। যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ। এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।

- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না। যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কী ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) আইনগত
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮.
নিচের কোনটি মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ?
  1. ক) মানবিকতা
  2. খ) সৌজন্যবোধ
  3. গ) শৃঙ্খলা
  4. ঘ) নীতিবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
ব্যাখ্যা
 মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। 

• মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

• মূল্যবোধের কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:
• নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে
পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে। 
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন মূল্যবোধ