পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৫৭
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা সাহিত্য (সম্পূর্ণ সিলেবাস) উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৭ প্রশ্ন

.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস-
  1. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও উত্তরের খেপ
  2. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পিঙ্গল আকাশ
  3. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা
• "দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন" উপন্যাস ত্রয়ী:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর ‘ত্রয়ী উপন্যাস’ বলে স্বীকৃত। উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

 - ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- আলাদা করে শুধু পূর্বরাত্রি পূর্বদিন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। এর প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন হাশেম খান। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, “প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে’।

- বইটির মূল্য ছিল সাদা কাগজে ৪০.০০ টাকা এবং লেখক কাগজে ৩০.০০ টাকা। বিশ শতকের আশির দশকে ঢাকার প্রকাশনা জগতে ‘লেখক কাগজ’ নামে একপ্রকার নিম্নমানের কাগজে বই প্রকাশিত হতো, যা ‘নিউজপ্রিন্ট’ থেকে সামান্য উন্নত ছিল।

• 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের এই প্রথম প্রকাশনায় লেখক ছোট্ট এক ভূমিকাপত্রে জানিয়েছিলেন-
১৯৭৬, ১৯৭৭ এবং ১৯৭৮-এ সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র ঈদ সংখ্যায় দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন যথাক্রমে প্রকাশিত হয়। একই পাত্র-পাত্রী থাকলেও রচনা তিনখানি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিলো। পূর্বরাত্রি পূর্বদিন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ ত্রয়ী রচনার শেষ উপন্যাস হিসেবে ঈষৎ পরিমার্জনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো।

উপন্যাসগুলোর উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রাখী,
- রাখীর ভাই মনি,
- সেজান
- নিজামউদ্দিন। 

উৎস: 'দক্ষিণায়নের দিন' উপন্যাসের ভূমিকা এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাস।
.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুথির সূচনায় সংস্কৃত শ্লোক থেকে চর্যার কোন নামের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
  1. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাপদ
  4. বৌদ্ধগান ও দোহা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয় তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. আমি বিরঙ্গনা বলছি
  4. দ্রৌপদী
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন- 
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 

• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'The Origin and Development of the Bengali Language' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
• "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ":
- "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ" (ওডিবিএল) বাংলা ভাষা সংক্রান্ত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় The Origin and Development of the Bengali Language নামে ইংরেজিতে গ্রন্থটি রচনা করেন। সংক্ষেপে এটি ODBL নামেই সমধিক পরিচিত।

- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ক যে মৌলিক গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থখানি প্রণীত এবং ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- প্রকাশের পর থেকেই এটি ভারতীয় ও ইউরোপীয় পন্ডিতবর্গের উচ্চ প্রশংসা ও অনুমোদন লাভ করে আসছে। এখনও ইন্দো-আর্য ভাষার বিজ্ঞানসম্মত পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে এটি বিশিষ্ট গবেষণা কর্মরূপে বিবেচিত হয়।

- সুবৃহৎ এ গ্রন্থের প্রধানত দুটি অংশ: Part-I: Introduction, Phonology এবং Part-II: Morphology, Bengali Index। পরবর্তী সংস্করণে (১৯৭১) সংযোজিত হয় Part-III: Supplementary, Additions, Correction etc. বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের স্বরূপ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে এ গ্রন্থে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাংলা ভাষার প্রকৃতি তথা ধ্বনি (বর্ণ ও ছন্দ), রূপমূল (শব্দ) ও ব্যাকরণগত ধারাসমূহ উপস্থাপনে সুনীতিকুমার যে কৌশল অবলম্বন করেছেন তা একই সঙ্গে বর্ণনামূলক ও তুলনামূলক উভয়ই।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- Original and Development of Bengali language,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাংবাদিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

----------------------
• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
-আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. পশ্চিমের যাত্রী
  3. বন্দর থেকে বন্দরে
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে':
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- ভ্রমনকাহিনিটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- উনিশ শ পঞ্চাশের দশকের প্রথমে সানাউল হক জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'।

অন্যদিকে, 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের "পশ্চিমের যাত্রী” নামে ইউরোপ-ভ্রমণের কথা, ১৩৪২ সালের "প্রবাসী” পত্রিকায় ও ১৩৪২-১৩৪৪ সালের "ভারতবর্ষ” পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম-চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত “প্রবাসী” প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে এই ভ্রমণ-কাহিনি পুনর্মুদ্রিত হয় ১৩৪৫ সালে। 

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে লন্ডন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপ ভ্রমণের চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
সুফিয়া কামাল তাঁর কোন সংকলনটি বেগম রোকেয়াকে উৎসর্গ করেন?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  3. মায়া কাজল
  4. মন ও জীবন
ব্যাখ্যা
• ১৯২৯ সালে সুফিয়া কামাল বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত মুসলিম মহিলা সংগঠন ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম’-এ যোগ দেন। এখানে নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারসহ নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

• বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন। তিনি ‘রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি’ গঠনে সহায়তা করেন, যার প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হল ‘রোকেয়া’ তাঁর নামে করা হয়।

অন্যদিকে, 
- সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'। ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি শামসুদ্দীন আবুল কালাম উপন্যাস?
  1. অনেক দিনের আশা
  2. জলাঙ্গী
  3. সংশপ্তক
  4. কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- 'কাশবনের কন্যা' শামসুদ্দীন আবুল কালাম সবচেয়ে বিখ্যাত ও মিথিক্যাল উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, হাসিকান্না, স্বপ্নকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি রচিত।
- প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 'কাশবনের কন্যা' দ্বিতীয় মুদ্রণ করতে হয় প্রথম প্রকাশের মাত্র দুই বছর পরে এবং তৃতীয় মুদ্রণ হয় ১৯৬৮ সালে। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:  অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু।

অন্যদিকে, 
• 'সংশপ্তক' শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। 
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস।
.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টিকাকার ছিলেন-
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. মুনিদত্ত
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
•  চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১০.
'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানুষের মানচিত্র' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- তাঁর 'মানুষের মানচিত্র' (১৯৮৪) কাব্যগ্রন্থে লক্ষ করা যায় নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে আকাঙ্ক্ষার সৃদুঢ় অভিব্যক্তি। যেমন-

‘তোমার অরণ্যে আছে অপরূপ স্বপ্ন-আঁকা চিতল হরিণ।
তন্দ্রাতুল হড়িয়াল-ডাকা ফাল্গুনের রাত।
শাদা খরগোশ।
তোমার কিনারে আছে পাললিক নোনাজল, জলের পরশ,
সরল শিশিরে ধোয়া সোনালিম শস্যময় হেমন্তের দিন।’


কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে কবি লিখেন- 
মানুষের মানচিত্রে' প্রধানত ভাঙাচোরা জীবনের মানুষদের উপস্থিত করতে চেষ্টা করেছি। এখন তাদের কণ্ঠে দিতে হবে জীবনের দাবি আর সংগ্রামের ভাষা। সমাজের চূড়ান্ত শোষনের অবস্থাটা জানা যায় সেই সমাজের একটি নারীর জীবন উন্মোচন করলে। শোষিত পুরুষও তার ঘরের নারীর উপর শোষন চালায়। এই বই-এ এ-রকম অনেক নারীচরিত্রের সাথে পাঠকের দ্যাখা হবে।

অন্যদিকে, 
- আলাউদ্দিন আল আজাদের রচিত 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ।
১১.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ:
- কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিবিশ্বের এক অনুপম নিদর্শন 'হৃৎকলমের টানে'; তাঁর সাহিত্যকলামের সংকলন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে 'সংবাদ' এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম 'হৃৎকলমের টানে'। সাহিত্যের সূত্রে এসেছে সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ-স্বদেশ ও বিশ্বভাবনা। জগৎ ও জীবনকে তাঁর দৃষ্টির নিজস্বতায় যেভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারই শিল্পভাষ্য ধরা রইল এইসব খণ্ড রচনায়।

- ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ হিসেবে নতুন করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই এই বইভুক্ত লেখাগুলাে যেমন আলােড়ন তুলেছিল তেমনি আজও পাঠক এইসব লেখায় খুঁজে পান সৈয়দ শামসুল হকের জগৎ ও জীবনদর্শনের সারবত্তা। বাংলা মননশীল সাহিত্যের ধারাও এই রচনা-সিরিজ যােগ করেছে নতুন মাত্রা।

- সৈয়দ শামসুল হকের রচনার এক পুরােধা প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স নতুন কলেবরে, অখণ্ড অবয়বে প্রকাশ করছে হৃৎকলমের টানে। পাঠক নিশ্চয়ই বইটি পড়তে পড়তে নতুন করে আবিষ্কার করবেন সৈয়দ শামসুল হককে।

-------------
• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
"শ্রীকৃষ্ণবিজয়" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. মালাধর বসু
  3. কাশীরাম দাশ
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু বা গুণরাজ খানের 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়':
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন। 

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৩.
মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ মাধব
  3. মাণিক দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিবেচনা করে দ্বিজ বংশীদাস সতের শতকের মধ্যভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মনে করেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতানুসারে বংশীদাসের পদ্মাপুরাণের রচনাকালজ্ঞাপক শ্লোক থেকে ১৫৭৫ সাল পাওয়া যায়।

বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে:

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায় ।
ভট্টাচার্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী।
বাঁশের পালার ঘর ছনের ছাউনী।
ধারা স্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহে যায়।
ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।
কোপ করি সেই হেতু লক্ষ্মী ছাড়ি যায়।
দ্বিজ বংশী পুত্র হৈলা মনসার বরে।
ভাসান গাহিয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।

অন্যদিকে, 
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ মাধব ও মাণিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৪.
মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. রাখালী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।

- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'মেঘনাদবধ' কাব্যের কাহিনি কয়টি সর্গে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ছয়টি
  2. সাতটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

 রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযােধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছােটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গােদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বােন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূৰ্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়ােজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশােকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• বাংলায় সর্বাধিক সংখ্যক নাটক রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ মঞ্চাভিনয়ের প্রথম যুগে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় প্রতিভাবলে এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮৭৭ সালে মেঘনাদবধ কাব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দেখে সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাঁকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন।

-------------------
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।

- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন। পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৮৭১ সালে বাগবাজার দল ন্যাশনাল থিয়েটার নামে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চ স্থাপন করে অভিনয় আরম্ভ করে। ১৮৮০ সালে তিনি পার্কার কোম্পানির চাকরি ত্যাগ করে কম বেতনে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার হন। তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।

-  গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন। তিনি অধিকাংশ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছেন এবং বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ করে দিয়ে একটি অভিনয় স্কুল গড়ে তুলেছিলেন।

- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 

- তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০। সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো: অভিমন্যুবধ (১৮৮১), সীতার বনবাস (১৮৮১), সীতাহরণ (১৮৮২), পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২), প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪), আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪), সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫), মীরকাশিম (১৯০৬), ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭), শঙ্করাচার্য (১৯১০), বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৭.
‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

-  বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই ‘সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা’, ‘প্ৰদীপ’ প্রভৃতি পত্রিকাতে প্ৰবন্ধাবলী প্ৰকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও ‘সুধা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃষ্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় ‘কথাসাহিত্যে’র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্ৰ সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্ৰতকথা—এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’, ‘দাদামশায়ের থলে’, ‘ঠানদিদির থলে’ প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
নাথ সাহিত্যের কবি নন কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লা
  2. শ্যামদাস সেন
  3. ভীম সেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্যের কবি নন- রামপ্রসাদ সেন। 

--------------------------
• নাথ সাহিত্যের কবিগণ:

- নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে 'ময়নামতীর গান', 'গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।

- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়' নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

- গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৯.
সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কাব্য সুধাকর' উপাধি প্রদান করা হয় কাকে?
  1. মীর মশররফ হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম।

অন্যদিকে, 
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
"অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত মোট কবিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১তি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
• "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বর-ধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামাল পাশা,  আনোয়ারা, রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী এবং  মহররম।

উৎস: "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'লিপিমালা':
- রামরাম বসু রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

- গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

----------------
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩) ছিলেন উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী। আ জীবন ছিল বৈচিত্র্যধর্মী।

- প্রথমে তিনি ফারসি-নবিস মুনশী এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সহকারী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রতি বাহ্যিক অনুরাগ দেখিয়ে পাদ্রিদের বিভ্রান্ত করলেও খ্রিস্টধর্ম প্রচারে প্রভূত সাহায্য করেছেন, কিন্তু নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেন নি। নৈতিক অধঃপতনের জন্য বিতাড়িত হলেও উইলিয়াম কেরি তাঁর বদান্যতা দয়াধর্ম শাস্ত্রীয় বিচারবুদ্ধির বারংবার প্রশংসা করেছেন এবং ধর্মপ্রচারে ও গ্রন্থরচনায় বিশেষ সাহায্য নিয়েছেন।

- রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি-  রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)।

- ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল। বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
• ‘রাজাবলি’ ও ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ। 
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২২.
"প্রবাসের দিনলিপি" গ্রন্থের লেখিকা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• "প্রবাসের দিনলিপি":
- ঘাতক ক্যান্সার ব্যাধির সঙ্গে লড়তে গিয়ে জাহানারা ইমামকে প্রায় প্রতি বছরই যেতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে। যখনি কোন উপসর্গ দেখা দেয় তখনি ডাক্তারের নির্দেশে তাকে ছুটে যেতে হয় সেখানে। এর আগে ক্যান্সারের সাথে বসবাস' বইতে জাহানারা ইমাম লিখেছেন কিভাবে এই ঘাতকের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের সূচনা করেছেন। 'প্রবাসের দিনলিপি' সেই যুদ্ধেরই সম্প্রসারিত প্রেক্ষাপট।

- তবে এ বইতে তিনি শুধু নিজের কথাই লেখেন নি, লক্ষ লক্ষ আমেরিকান তরুণ তরুণী, শিশু-কিশাের কিভাবে লড়ছে। অন্য সব ঘাতক ব্যাধির সঙ্গে তারও অন্তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ এতে পাওয়া যাবে। যদিও দিনলিপির আঙ্গিকেই লেখা হয়েছে পুরাে বই, শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনের কর্মপ্রবাহের বিবরণের ভেতর লেখক সীমাবদ্ধ থাকেন নি।

- একজন অনুসন্ধিৎসু লেখকের পক্ষে তা সম্ভবও নয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই গ্রন্থে পরিবেশিত হয়েছে আমেরিকান সমাজ, নর-নারীর বিচিত্র সম্পর্ক, প্রবাসী বাঙালীদের জীবন এবং আরাে বহু কিছু। এসবই বর্ণিত হয়েছে উপন্যাসের মতাে চিত্তাকর্ষক এবং দিনলিপির নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গিতে যা এই গ্রন্থের আবেদনকে বহুমাত্রিক করেছে।

উৎস: "প্রবাসের দিনলিপি"।
২৩.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ কে সম্পাদনা করেন?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
- ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ এর সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 

সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান ভূমিকাতে লিখেছেন—
‘ইতিহাস রচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এই প্রকল্প স্বাধীনতা যুদ্ধ-সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যগুলো প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর কারণ, সমকালীন কোনও ঘটনার, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো একটি যুগান্তকারী ঘটনার ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা এবং বিকৃতির সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া বস্তুত অত্যন্ত দুরূহ। এ জন্যই আমরা ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি।’

দলিলপত্রের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পটভূমি (১০৫-১৯৫৮), দ্বিতীয় খণ্ডেও পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১), তৃতীয় খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রশাসন’, চতুর্থ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা’, পঞ্চম খণ্ডে ‘মুজিবনগর: বেতারমাধ্যম’, ষষ্ঠ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: গণমাধ্যম’, সপ্তম খণ্ডে ‘পাকিস্তানি দলিলপত্র: সরকারি ও বেসরকারি’, অষ্টম খণ্ডে ‘গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা’, নবম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (১)’, দশম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (২)’, একাদশ খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)’, দ্বাদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: ভারত’, ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বিশ্ব জনমত’, চতুর্দশ খণ্ডে ‘বিশ্ব জনমত’, পঞ্চদশ খণ্ডে ‘সাক্ষাৎকার’, ষোড়শ খণ্ডে ‘কালপঞ্জী, গ্রন্থপঞ্জী ও নির্ঘণ্ট’ সন্নিবেশিত আছে।

দলিলপত্রের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান আরও লিখেছেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, এমন অনেকের কাছেই দলিল ও তথ্যাদি রয়েছে, যা তারা হাতছাড়া করতে রাজি নন। অনেকেই কিছু ছেড়েছেন, কিছু হাতে রেখে দিয়েছেন। আবার কারও কারও প্রত্যাশা- দলিলাদি পুরোনো হলে সেগুলো অনেক বেশি লাভের উৎস হয়ে উঠতে পারে। আমরা মূল দলিলের ফটোকপি রেখে অনেককেই তার মূল কপি ফেরত দিয়েছি।’

উৎস: ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ গ্রন্থ।
২৪.
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। 

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫.
"সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. মােতাহের হােসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ লুত্‌ফর রহমান
ব্যাখ্যা
• "সংস্কৃতি কথা":
সংস্কৃতির পূর্বাপর বিশ্লেষণে মােতাহের হােসেন চৌধুরী কোনাে দুঃসাধ্য পথের যাত্রী নন। তাঁর কাছে সংস্কৃতিই জীবন। অর্থাৎ, যত উন্নত সংস্কৃতি তত উন্নত জীবন। যেখানে থাকবে প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দ। মােতাহের হােসেনের এ বিষয়ক বিস্তারিত চিন্ত-চেতনার পরিচয় আছে তার 'সংস্কৃতি-কথা’ শীর্ষক বহুখ্যাত প্রবন্ধটিতে।

এখানে তিনি বলেছেন-
একশ্রেণির মানুষ শিক্ষিত, অশিক্ষিত নির্বিশেষে কালচার বা সংস্কৃতি অর্থে সংকীর্ণ চিত্তে কেবল নাচ, গান, সাহিত্য, শিল্প, সিনেমা, থিয়েটার প্রভৃতিতে বিবেচনা করেন। তারা জানতে চেষ্টা করেন না যে, সংস্কৃতি কথাটি আরাে ব্যাপক ও গভীর তাৎপর্য বহন করে। মােতাহের হােসেন মনে করেন, চিত্তগঠনের যাবতীয় উপাদানই সংস্কৃতি।

মােতাহের হােসেন চৌধুরীর মতে, যারা সাংস্কৃতিবান তাঁদের জীবনে বাইরের কোনাে আদেশ-নিষেধের প্রয়ােজন হয় না। তাঁরা আদেশপন্থী নন-অনুপ্রেরণাপন্থী। এসব বিষয়াদি বিবেচনায় তিনি ঘােষণা করেন, সংস্কৃতি শিক্ষিত, মার্জিত মানুষের ধর্ম। শিক্ষিত মানুষ প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দের পূজারি-যা তারা গ্রহণ করে সংস্কৃতি থেকে। আর সাধারণ মানুষ বিষয়গুলাে পায় বা সন্ধান কর ধর্মের মধ্যে। তিনি ধর্মকে বাইরে থেকে গ্রহণের ঘােরবিরােধী। কেননা বাইরের ধর্মকে যারা গ্রহণ করে তারা আল্লাকে জীবনপ্রেরণারূপে পায় না, ঠোটের বুলি রূপে পায়।

উৎস: "সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধ।
২৬.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা-
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. জীবন বিনিময়
  3. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  4. আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি।
• ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর রক্তের মশালে জ্বলে উঠেছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বহ্নিশিখা। শামসুর রাহমান লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

----------------
আসাদের শার্ট
- শামসুর রাহমান
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

অন্যদিকে, 
• 'বাতাসে লাশের গন্ধ' ও 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা।
• ‘জীবন বিনিময়’ গোলাম মোস্তফা রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'আসাদের শার্ট' কবিতা।
২৭.
কামিনী রায়ের কোন কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে দেন?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. আলো ও ছায়া
  3. জীবনপথে
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. গভর্নমেন্ট গেজেট
  2. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  3. সমাচার দর্পণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র।
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।

- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
কালীপ্রসন্ন সিংহের 'পুরাণসংগ্রহ' পৌরাণিক কোন গ্রন্থের গদ্যানুবাদ?
  1. ভাগবাদের
  2. রামায়ণের
  3. মহাভারতের
  4. মঙ্গলকাব্যের
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী। কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে তাঁর জন্ম। 

- খুব অল্প বয়সেই বহুগুণে গুণান্বিত কালীপ্রসন্নের বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 

- নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রথম মঞ্চস্থ হয় বেণীসংহার নাটক এবং কালীপ্রসন্ন স্বয়ং এতে অভিনয় করেন।

- ১৮৫৭ সালে তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক বিক্রমোর্বশীয় অনুবাদ করেন এবং ১৮৫৮ সালে তিনি রচনা করেন সাবিত্রীসত্যবান নাটক। বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে উভয় নাটকই মঞ্চস্থ হয় এবং তিনি দুটিতেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

তৎকালীন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। তিনি নিজ সম্পাদনায় কিছুদিন পরিদর্শক নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) এবং 'পুরাণসংগ্রহ'-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

- 'পুরাণসংগ্রহ' (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬) সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, কালীপ্রসন্ন মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে তাঁর এ সকল কৃতিত্ব অর্জন করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩০.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসে নির্যাতিতা কালো মেয়েটি কে?
  1. আমেনা
  2. নাজমা
  3. জীবন
  4. রেণু
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়। কর্তব্যের তাগিদেই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধুনা বিস্মৃত এই উপন্যাসটি পুনর্প্রকাশিত হলো।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে: 
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস।
৩১.
'নূরজাহান ও সাজাহান' ঐতিহাসিক নাটকদ্বয় কার রচনা?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'নুরজাহান' নাটক:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'নুরজাহান' নাটক ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা। 

- নাটকের উৎসর্গপত্রে লিখা ছিল: বঙ্গসাহিত্যের গুরুহিন্দুর হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠাতা প্রাজ্ঞ, মনীষী, দেশভক্ত, স্বধৰ্ম্মব্রত ভারতের গৌরব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সি, আই, ই-র পুণ্যস্মৃতি উদ্দেশে এই সুরজাহান নাটক উৎসর্গীকৃত হইল। 

-----------------
• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। 
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------
তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: 'নুরজাহান' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মীর মশাররফ হোসেনের নীলদর্পণ নাটক
  2. বুদ্ধদেব বসুর কমলে কামিনী কাব্যগ্রন্থ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিয়ে পাগলা বুড়ো প্রহসন
  4. দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী প্রহসন
ব্যাখ্যা
• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী'। প্রহসনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছ। দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করেই প্রহসনটি রচনা করা হয়েছে।
- ‘সধবার একাদশী' ও প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসনের অনুসরণে রচিত।

• প্রহসনটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় চর্যাপদের কোন কবিকে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্নপা। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কাহ্নপা রচিত পদ সংখ্যা-১৩ টি, কিন্তু প্রাপ্ত পদ সংখ্যা-১২ টি। তার রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।

- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহ্নিল্য প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।

- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কাহ্নপার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন। রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল তিনি বর্ণে ব্রাহ্মণ এবং ভিক্ষু ও সিদ্ধ। তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন।

- চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'কাঙ্গুর চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৪.
১৯২১ সালে ভারত সরকার দীনেশচন্দ্র সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার
  2. লোক-সাহিত্যবিশারদ
  3. বাংলার মিল্টন
  4. রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তাঁর জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’ পেয়ে (১৯১৩) তিনি মৈমনসিংহ-গীতিকাসহ পূবর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) এবং এর ইংরেজি ভাষ্যে Eastern Bengal Ballads (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সংকলন ও সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য বিলুপ্তি থেকে উদ্ধার এবং এ সাহিত্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়,
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড),
-আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

অন্যদিকে, 
• বাংলার মিল্টন বলা হয় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. The Captive Ladie
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।

- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 

- মাদ্রাজে অবস্থানকালেই 'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie' (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

- পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

- মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। তারা পুরুষের নিকট নিজেদের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ এবং কামনা-বাসনা প্রকাশে হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
'শূন্যপুরাণ' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
  2. গানের সংকলন
  3. অলৌকিক তত্ত্বের গ্রন্থ
  4. পৌরাণিক নাটক
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ-গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।

- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুম্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।' এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

- ইসলাম সম্পর্কে অপরিণত ধারণা থেকে মনে হয় যে এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারণের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি রচিত। ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মত প্রকাশিত হওয়াতে এতে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৭.
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদ সেনের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান। 

অতুলপ্রসাদ সেন ও তাঁর সঙ্গীতভাণ্ডার: 
বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন। এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।

জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।

হিন্দুস্থানি লঘু খেয়াল, ঠুংরি ও দাদরা সঙ্গীতের সুষমামন্ডিত সুরের সঙ্গে অতুলপ্রসাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। হিন্দুস্থানি সুর সংযোজনায় বাংলা গানের কাব্যিক মর্যাদা কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করলেও একটি স্বতঃস্ফূর্ত সাঙ্গীতিক ভাব তাঁর সকল গানে পরিলক্ষিত হয়। যেখানে সুর সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত মাধুর্য নিয়ে কথার ভাবকে ছাড়িয়ে গিয়েছে সেখানেই অতুলপ্রসাদের সার্থকতা।

তাঁর ঠুংরি ও দাদরা ভঙ্গির গানগুলি শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। এমন কয়েকটি গান হলো: ‘কি আর চাহিব বলো’ (ভৈরবী/টপ খেয়াল), ‘ওগো নিঠুর দরদী’ (মিশ্র আশাবরী-দাদরা/টপ ঠুংরি), ‘যাব না যাব না ঘরে’ (ঠুংরি) ইত্যাদি। তাঁর রাগপ্রধান গানের মধ্যে ‘বঁধু ধর ধর মালা’ (কালিংড়া), ‘তবু তোমায় ডাকি বারে বারে’ (সিন্ধু কাফি) ইত্যাদি গান আজও সঙ্গীতবোদ্ধাদের নিকট সমান প্রিয়।

১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন, তাতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে: ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’।

এভাবে বাণীপ্রধান গীতি রচনা, সুললিত সুর সংযোজন, সুরারোপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রচলন ও করুণরস সঞ্চারের মাধ্যমে অতুলপ্রসাদ বাংলা সঙ্গীতভান্ডারকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
'হারানো অর্কিড ও পালাবদল' কাব্যগ্রন্থদ্বয় কোন পঞ্চকবির রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• হারানো অর্কিড ও পালাবদল অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

----------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।

- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)। তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

-  অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

------------------
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
উপহার (১৯২৭), খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), হারানো অর্কিড (১৯৬৬), পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭), অমরাবতী (১৯৭২), অনিঃশেষ (১৯৭৬), নতুন কবিতা (১৯৮০)। 

• তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
চলো যাই, সাম্প্রতিক, পুরবাসী, পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
চর্যার কোন কবির পদের ভাষা প্রাচীন মৈথিলি?
  1. কম্বলাম্বর পা
  2. আর্যদেব পা
  3. কঙ্কণ পা
  4. মহীধর পা
ব্যাখ্যা
• মহীধর পা:
- মহীধরপা কাহ্নপার শিষ্য। তাঁর পদের ভাষা প্রাচীন মৈথিলি।
- তাঁর জীবৎকালের নিম্নসীমা ৮৭৫ সাল।
- তিনি বিগ্রহ পাল-নারায়ণ পালের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন। তাঁর জন্মস্থান মগধ।
- তিনি বর্ণে শূদ্র। কারও মতে তিনি দারিক পার শিষ্য।

অন্যদিকে, 
-------------------
• কম্বলাম্বর পা:
কম্বলাম্বর বা কম্বল ইন্দ্রভূতি পার গুরু। তিনি কনকারামের বা কঙ্করের রাজপুত্র বলে কথিত। তাঁর জীবৎকাল ৮৪০ সাল অবধি। তিনি দেবপালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা। তিনি ছিলেন রাজকুমার, ভিক্ষু ও সিদ্ধা।

• আর্যদেব পা:
আর্যদেব কম্বলাম্বরের সমকালীন। তারানাথের মতে তিনি ছিলেন মেবারের রাজা এবং গোরক্ষনাথের শিষ্য। তাঁর পদের ভাষা উড়িয়া। তিনি আট শতকের প্রথম পাদের লোক বলে অনুমিত।

• কঙ্কণ পা:
কঙ্কণ কম্বলাম্বরের বংশজ। তিনি প্রথম জীবনে বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন। তাঁর চর্যাপদের ভাষায় অপভ্রংশের ছাপ আছে। তাঁর জীবৎকাল নয় শতকের শেষভাগ। তিনি দারিকের শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৪০.
'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'মেহের-নেগার'
- 'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প। 
- গল্পটি তাঁর 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
গায়ক হওয়ার বাসনায় ওয়াজিরিস্তানের বিখ্যাত ওস্তাদের কাছে তালিম নিতে আসা এক তরুণের সাথে দেখা হয় প্রসিদ্ধ বাঈজি খুরশীদ জানের কন্যা গুলশানের, ভিন্ন গোত্রের হৃদয় দুটির পবিত্র ভালোবাসায় জন্ম হয় অমর এক প্রেমগাথার।

----------------
১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির নিকট তিনি ফারসি ভাষা শেখেন, সঙ্গীতানুরাগী সহসৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতচর্চা করেন এবং একই সঙ্গে সমভাবে গদ্যে-পদ্যে সাহিত্যচর্চা করেন।

করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা, প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) এবং অন্যান্য রচনা: গল্প-  ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’; কবিতা-  ‘আশায়’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।

উৎস: 'মেহের-নেগার' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১.
'রাজর্ষি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• "রাজর্ষি" উপন্যাস:
'রাজর্ষি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটি মানবতা পক্ষে ধর্মীয় কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে ।পরবর্তীতে এ উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে রচিত হয় তার বিখ্যাত নাটক "বিসর্জন" উপন্যাসটি বালক পত্রিকা কর্তৃক ১২৯৩ বঙ্গাব্দ (১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বালক অদ্যায় । জীবনস্মৃতি তে তার রাজর্ষি উপন্যাস রচনা সম্পর্কে বলেন-
ছবি ও গান এবং কড়ি ও কোমল এর মাঝখানে বালক নামে একখানি মাসিক পত্রিকা এক বৎসরের ওষধি গাছের মত ফল ফলাইয়া লীলাসম্বরণ করিল । ... দুই এক সংখ্যা বাহির হইবার পরে এক-দুইদিনের জন্য দেওঘরে রাজনারায়ণ বাবুকে দেখতে যাই । কলিকাতায ফিরিবার সময় রাত্রের গাড়িতে ভিড় ছিল; ভালো করিয়া ঘুম হৈতেছিল না-ঠিক চোখের উপরে আলো জ্বলিতেছিল। মনে করিলাম ঘুম যখন হইবে না তখন এই সুযোগে বালকের জন্য একটা গল্প লিখিয়া রাখি। গল্প ভাবিবার ব্যর্থ চেষ্টার টানে গল্প আসিল না, ঘুম আসিয়া পড়িল। স্বপ্ন দেখিলাম, কোন এক মন্দিরের সিঁড়ির রক্তচিহ্ন দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুন ব্যাকুলতায় তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে- বাবা, একি! এ যে রক্ত! বালিকার এই কাতরতায় বাপ অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে। জাগিয়া উঠিয়ায় মনে হইল এটি আমার স্বপনলব্ধ গল্প। এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্য এর পুরাবৃত্ত মিশায়ে রাজর্ষি গল্প মাসে মাসে লিখিতে লিখিতে বালকে বাহির করিতে লাগিলাম। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- ইন্দ্রনারায়ন,
- পুরোহিত বিল্বন,
- হাসি ও
- তাতা। 

উৎস: "রাজর্ষি" উপন্যাস।
৪২.
মধ্যযুগের কোন কবি বাঙালি না হয়েও বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয় হয়ে আছেন?
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।

- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।

- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। অপরদিকে স্মার্ত পণ্ডিত হিসেবে মিথিলার শিথিলীকৃত ব্রাহ্মণ সমাজকে নতুন করে নিয়মপাশে বদ্ধ করার প্রয়োজনে স্মৃতি সংহিতার বিধিনিষেধকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন।

- কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৪৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক "রেইনকোট" ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
  2. খোঁয়ারি
  3. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এই গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
জহির রায়হান রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. আর কতদিন
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• পঞ্চাশের দশকে ছাত্র অবস্থায় জহির রায়হান রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ 'সূর্যগ্রহণ' (১৩৬২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো:
- সূর্য গ্রহণ,
- নয়া পত্তন,
- মহামৃত্যু,
- ভাঙ্গাচোরা,
- অপরাধ,
- স্বীকৃতি,
- অতি পরিচিতি,
- ইচ্ছা-অনিচ্ছা,
- জন্মান্তর,
- পোস্টার,
- ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি,
- কতগুলো কুকুরের আর্তনাদ,
- কয়েকটি সংলাপ,
- দেমাক,
- ম্যাসাকার,
- একুশের গল্প। 

-------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০),
- হাজার বছর ধরে (১৯৬৪),
- আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯),
- বরফ গলা নদী (১৯৬৯),
- আর কতদিন (১৯৭০),
- কয়েকটি মৃত্যু।


•প্রবন্ধ:
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৭১)।এছাড়া তিনি অনেক গল্প রচনা করেছেন।

উৎস: 'সূর্যগ্রহণ' গল্পগ্রন্থ এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' গ্রন্থের সম্পাদক ছিলেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান':
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমদ শরীফ (১৯২১ - ১৯৯৯) 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' সম্পাদনা করেন, যা ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯২ সালে অভিধানটি প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা একাডেমী একটি বানাননীতি প্রণয়ন করে। অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণে বিষয়টি মনে রাখা হয়েছে।
- বর্তমান পরিমার্জিত সংস্করণের কাজেও প্রফেসর আহমদ শরীফ সর্বতোভাবে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে অভিধানের কাজকে সহজ করেছেন। তবে এ সংস্করণের পরিমার্জনা, নতুন ভুক্তির সংযোজন ও তার অর্থ নির্ণয়, বিন্যাসগত ও পদক্রমের ত্রুটি দূরীকরণের কতিপয় কাজ সম্পন্ন করেছেন একাডেমীর জ্যেষ্ঠ পরিচালক শামসুজ্জামান খান ও তাঁর সহকর্মী সহযোগী সম্পাদকগণ।

অন্যদিকে,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদনা করেন 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' (দুই খণ্ড)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান।
৪৬.
'মতিচূর' গ্রন্থের প্রবন্ধগুলো কয়টি খণ্ডে সংকলিত হয়েছে?
  1. টারটি খণ্ডে
  2. তিনটি খণ্ডে
  3. দুইটি খণ্ডে
  4. একক খণ্ডে
ব্যাখ্যা
"মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)":
- ‘মতিচূর’ রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধ গ্রন্থ। ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রােকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলােও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতােই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মােট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি। প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-‘পিপাসা’, ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’, ‘নিরীহ বাঙালি’, ‘অর্ধাঙ্গী’, ‘সুগৃহিণী’, ‘বােরকা’ ও ‘গৃহ'। দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

- এসেছে বাঙালির খাদ্যাভাস। এখানে সৌন্দর্যপ্রিয় বাঙালির সম্পদের অভাব নেই, কিন্তু অলস্য ও আরামপ্রিয়তা, তাদের সামনে বড় বাধা। বীরের জাতি বাঙালি তাদের বীরত্বকে কাজে না লাগিয়ে সহজ পথের সন্ধান করে বেড়ায়। আমাদের কাব্যে বীররসের চেয়ে করুণরসের প্রাধান্য আছে। ফলে আমাদের অগ্রগতির চেয়ে অবনতি হচ্ছে বেশি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে বাঙালির যাবতীয় সুন্দর বৈশিষ্ট্যকে আরাে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে হবে।

- ‘মতিচূর' গ্রন্থের আরাে একটি উল্লেখযােগ্য প্রবন্ধ অর্ধাঙ্গী'। এই রচনায় উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গােড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষ শাসিত সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাদপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রােকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি-আকাঙ্ক্ষায় প্রবুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

- ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্যে পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি। এ রচনায় নারী জাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত তিনি ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে ধারালাে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ জীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্যে নারী জাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের প্রতিটি প্রবন্ধে বেগম রােকেয়া সমাজের অগ্রগতির প্রয়ােজনে নারী জাগরণের কথা বলেছেন। সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

উৎস: মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।
৪৭.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. মহাপতঙ্গ
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী':
• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫) উপন্যাসটি।

• উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।

• দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি, দুর্ভোগ বেড়েছে।

• উভয় বাংলার অল্পক’টি সার্থক উপন্যাসের মধ্যে সূর্য-দীঘল বাড়ী একটি। একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছ'টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• জীবন থেকে নেয়া একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান এর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।
• হাজার বছর ধরে প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
• আবু ইসহাক রচিত ছােট গল্পগ্রন্থ ‘মহাপতঙ্গ'। 

উৎস: 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
'অশ্রুমালা' কবি কায়কোবাদ রচিত কোন ধরনের কাব্য রচনা?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. নাট্যকাব্য
  4. চতুর্দশপদী কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

---------------
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনার বিশেষত্ব কী ছিল?
  1. প্রেম ও বিপ্লব
  2. প্রকৃতি প্রেম
  3. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
  4. ধর্মীয়নীতি
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ব্যবহৃত ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। 

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০.
'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে কোন গ্রন্থকে?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. চৈতন্যদেবের জীবনী
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
• কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি।

- কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই ব্যুৎপত্তির অনুরূপ-খসড়া রচনা, স্মারক লিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।' কড়চাকে দিনপঞ্জি বা রোজনামচা হিসেবে বিবেচনা করা চলে।

- এতে লেখক নিজের জীবনের ঘটনা বা তাঁর দেখা বা শোনা ঘটনার বিবরণ প্রতিদিন লিখে রাখতেন। পরবর্তী কালে কোন রচনার উপকরণ হিসেবে তা ব্যবহৃত হত। তবে চৈতন্য জীবনীকে কড়চা নামে অভিহিত করাতে কথাটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৫১.
কোন পত্রিকার মাধ্যমে কবি নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে?
  1. সওগাত
  2. মোসলেম ভারত
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা
- এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য 'দৈনিক নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই কাজী নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

-----------------
• 'দৈনিক নবযুগ':
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

- নবযুগে প্রকাশিত নজরুলের আবেগময় ও বলিষ্ঠ ভাষায় ব্রিটিশবিরোধী সম্পাদকীয় ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করে। দেশ, জনগণ ও সাম্প্রদায়িক ঐক্যের এমন সম্পাদকীয় বক্তব্য সেকালে দুর্লভ ছিল। নজরুলের চেষ্টায় এতে কবিতা ও সাংবাদিকতার অপূর্ব মিলন ঘটেছিল। নজরুলের রচনাগুণে নবযুগ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; এমনকি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পত্রিকাটি কোনোদিন দুবারও ছাপাতে হতো।

- নবযুগে স্বাধীনতা ও গণজাগরণবিষয়ক লেখা প্রকাশিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করে দেয়; এক পর্যায়ে জামানতের ১,০০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২,০০০ টাকা জামানত দিয়ে নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু অল্পকাল পরে ফজলুল হকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে এক বছরের মধ্যে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

- ১৯৪২ সালে ফজলুল হক যখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁর উদ্যোগে এবং নজরুলের সম্পাদনায় নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হয়। এ সময় কবি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে খুলনার মাওলানা আহমদ আলী সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ পর্বে মোট দুবছর চালু থাকার পর পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বিলাসিনী
  2. বিধুমাস্টার
  3. অভাগীর স্বর্গ
  4. মাস্টারমশায়
ব্যাখ্যা
• "বিধুমাস্টার" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প। 
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র পিন্টু  ও তার গৃহশিক্ষক বিধুমাস্টার। 

"বিধুমাস্টার" গল্পের সারসংক্ষেপ:
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিন্টু ও তার ভাই-বোনদের পড়ানোর জন্য বিধুভূষণ চট্টোপাধ্যায় নামে এক গৃহশিক্ষক (বিধুমাস্টার) আসেন। প্রথমে পিন্টু মাস্টারমশাইকে অপছন্দ করত, কারণ তিনি খুবই সাধারণ, লাজুক ও অল্পশিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে মাস্টারমশাই শিশুদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করে নেন। তিনি নিজের সামান্য উপার্জন থেকেও ছাত্রদের ঘুড়ি, লাটাই ও কুলফি কিনে দিতেন।

একদিন পিন্টু মাস্টারমশাইয়ের ছোট, জরাজীর্ণ ঘর দেখে তাঁর প্রতি সহানুভূতি বোধ করে এবং ঠিক করে যে মাস্টারমশাই যাতে অযথা খরচ না করেন, তা দেখবে। কিন্তু তার আগেই মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষাগত অযোগ্যতা মেজোকাকার চোখে পড়ে। মেজোকাকা বুঝতে পারেন যে তিনি ভালোভাবে পড়াতে পারেন না, তাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। পিন্টু বুঝতে পারে যে সে-ই মাস্টারমশাইয়ের ভুলত্রুটি খুঁজে কাকার কাছে বলে বলে তাঁর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ফলে সে তীব্র অপরাধবোধে ভুগতে থাকে

অন্যদিকে, 
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প 'বিলাসিনী'।
• 'অভাগীর স্বর্গ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছোটগল্প।
• 'মাস্টারমশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

উৎস: "বিধুমাস্টার" ছোটগল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. ফররুখ আহমদ
  3. শওকত ওসমান
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি  ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

• আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. বামুনের মেয়ে
  2. শেষের পরিচয়
  3. দেনা পাওনা
  4. শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
• "শেষের পরিচয়" উপন্যাস:
- 'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদে 'রাখাল এ প্রশ্নে নীরবে বাহির হইয়া গেল' পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা। বাকি অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
"আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।"- পদটি চর্যার কোন কবির রচনা?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'আপণা মাংসে হরিণা বৈরী'- ভুসুকু পা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ।

-----------------
• ভুসুকু পা:

- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু-এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন।

- তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা-

কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৫৬.
‘শিক্ষার হেরফের’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. গদ্য সংকলন
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ:
- শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিষয়ে কবির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ। ‘শিক্ষার হেরফের’ (১৮৯২) প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন। 
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক এই প্রবন্ধ রচনা করেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।

অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।

উৎস: ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫৭.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত "তিতাস একটি নদীর নাম" কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. আঞ্চলিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. মহাকাব্যিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক উপন্যাস:
কোনো বিশেষ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি, তাদের হাসি-কান্না এমনকি তাদের আচরণ ও উচ্চারণ অবিকৃত ভঙ্গিতে যে-সকল উপন্যাসে স্থান পায় সেগুলোকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক'; তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা'; সতীনাথ ভাদুড়ির 'ঢোঁড়াই চরিত মানস'; দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপারের বৃত্তান্ত'; আলাউদ্দীন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'; অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।

---------------------
• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:

- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।