পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৭০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
"গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।" - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. গাড়িঘোড়া চড়ার ইচ্ছা হলে লেখাপড়া করতে হবে।
  2. যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
  3. লেখাপড়া করলেই গাড়িঘোড়া চড়তে পারবে।
  4. গাড়িঘোড়া চড় এবং লেখাপড়া কর।
ব্যাখ্যা
সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।
জটিল বাক্য: যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. হাত
  2. গাছ
  3. ফিসফিস
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ - ফিসফিস

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
  3. সে ঘুমায়।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে
দ্বিকর্মক ক্রিয়া - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
অকর্মক ক্রিয়া - সে ঘুমায়।
সকর্মক ক্রিয়া - সে বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাগীশ্বরী
  2. বিপদোদ্ধার
  3. অনটন
  4. পৃথগন্ন
ব্যাখ্যা
• 'বিপদোদ্ধার' শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বিপদুদ্ধার।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বাগীশ্বরী।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অস্তায়মাণ
  2. অস্তমান
  3. অস্তয়মান
  4. অস্তায়মান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অস্তায়মান'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- অস্তমিত হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ নয়?
  1. ধৌত
  2. ঘৃত
  3. মস্তক
  4. ধোয়া
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: করিয়াছি, গিয়াছি।
২. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: তাহার, তাহারা, তাহাদের।
৩. সাধু ভাষায় অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হইতে, দিয়া।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত
৫. সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর।
৬. সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী। এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়।
৭. সাধু ভাষা বক্তৃতা ও নাট্য সংলাপের অনুপযোগী।

অন্যদিকে,
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী?
  1. আনন্দ
  2. কুটিল
  3. দুঃখ
  4. পুলক
ব্যাখ্যা
• 'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - দুঃখ

উল্লেখ্য,
- 'হর্ষ' শব্দের অর্থ - আনন্দ, উল্লাস, পুলক
- 'বিষাদ' শব্দের অর্থ - দুঃখ, বিষণ্ণতা।

অন্যদিকে,
- 'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
"ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।" - বাক্যে 'ঘরেতে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে। ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
'Attendant' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. প্রত্যয়ন
  2. পরিচারক
  3. প্রত্যয়িত
  4. সংযোজন
ব্যাখ্যা
• 'Attendant' এর বাংলা পরিভাষা - পরিচারক।

অন্যদিকে,
- 'Attested' এর বাংলা পরিভাষা - প্রত্যয়িত।
- 'Attachment' এর বাংলা পরিভাষা - সংযোজন।
- 'Attestation' এর বাংলা পরিভাষা - প্রত্যয়ন।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'কুযশ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
'কুযশ' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।

'কু' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম, কুযশ।

বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১১.
'Disbursement' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. দাতা
  2. প্রেরণ করা
  3. অর্থপ্রদান
  4. মূল্যহ্রাস
ব্যাখ্যা
'Disbursement' এর বাংলা পরিভাষা - ব্যয়ন/ অর্থপ্রদান।

অন্যদিকে,
- 'Devaluation' এর বাংলা পরিভাষা - মূল্যহ্রাস।
- 'Despatch' এর বাংলা পরিভাষা - প্রেরণ করা।
- 'Donor' এর বাংলা পরিভাষা - দাতা।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড' নয়?
  1. ড্যাস
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময়চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
কোন দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জন?
  1. থ, দ
  2. ঢ়, ট
  3. ড, ধ
  4. ড়, ত
ব্যাখ্যা
• ঢ়, ট - দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জন।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:

- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- , ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
'ডিঙি টেনে বের করতে হবে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
কোনটি অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. সর্বনাম
  2. বিপরীত শব্দ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অম্যদিকে,
রূপতত্ত্বে আলোচিত হয় - বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয় - যতিচিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬.
'বিদুষী' কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. ক্লীবলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয় লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৭.
'ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. ঋষিতুল্য
  2. উত্তমর্ণ
  3. ঋষিকল্প
  4. অধমর্ণ
ব্যাখ্যা
• 'ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ - উত্তমর্ণ

অন্যদিকে,
- 'ঋষির ন্যায়' এর এক কথায় প্রকাশ - ঋষিকল্প।
- 'ঋণ নেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধমর্ণ।
- 'ঋষির তুল্য' এর এক কথায় প্রকাশ - ঋষিতুল্য।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
শুদ্ধ বানান -
  1. জাত্যাভিমান
  2. জাত্যাভিমাণ
  3. জাত্যভিমান
  4. জাত্যভীমান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'জাত্যভিমান'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত

শব্দের অর্থ:
- উচ্চবংশে জন্মের অহংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কী?
  1. চপলা
  2. অশনি
  3. পবন
  4. বিজুরি
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে:
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, চপলা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২০.
মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
১. স্বরধ্বনি ও
২. ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১.
উৎসগতভাবে 'কসাই' কোন শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• উৎসগতভাবে 'কসাই' 'আরবি' শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মাংস বিক্রয় যার পেশা।
- অত্যন্ত নির্মম ও স্বার্থপর ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
'বাসর' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. নদী
  2. দিন
  3. বিহগ
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
'দিন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- দিবস, দিবা, অহ, অহ্ন, বার, রোজ, বাসর, অষ্টপ্রহর।

অন্যদিকে,
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ, গাঙ, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী, নির্ঝরিণী, কল্লোলিনী।

'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গ, খগ, খেচর, চিড়িয়া, পাখপাখালি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৩.
কোন শব্দটি বাংলা ধাতুযোগে গঠিত?
  1. কর্তব্য
  2. দৃশ্য
  3. আঁকা
  4. অঙ্কন
ব্যাখ্যা
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।

যেমন:
আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

অন্যদিকে
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৪.
"স্মরণীয়" শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি কৃৎ প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: 

যেমন:
অ (অচ্):
√পট্ + অ = পাঠ,
√জি + অ = জয়।

অনীয় (অনীয়র্):
√কৃ + অনীয় = করণীয়, 
√পা + অনীয় = পানীয়, 
√স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
√দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৫.
কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক নয়?
  1. ষ্‌ + ণ = ষ্ণ
  2. ক্ + ণ = ক্ম
  3. ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
  4. ক্ + স = ক্স
ব্যাখ্যা
• সঠিক যুক্তবর্ণ নয় - ক্ + ণ = ক্ম
- এর শুদ্ধরূপ - ক্ + ম = ক্ম।

অন্যদিকে,
- ক্ + স = ক্স,
- ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো সঠিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
২৬.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. ফ, ত
  2. স, ট
  3. ছ, শ
  4. ম, দ
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭.
কোনটি হিন্দি ভাষার শব্দ?
  1. বুর্জোয়া
  2. জনাব
  3. খারাপ
  4. দাঙ্গা
ব্যাখ্যা
• 'দাঙ্গা' হিন্দি ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- দলবদ্ধ হানাহানি।

অন্যদিকে,
'জনাব' এবং 'খারাপ' - আরবি শব্দ।
'বুর্জোয়া' - ফরাসি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮.
'মিলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. গ্রহণ
  2. সন্ধি
  3. বিযুক্ত
  4. বিরহ
ব্যাখ্যা
'মিলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরহ।

উল্লেখ্য,
'মিলন' শব্দের অর্থ - সংযোগ, বিচ্ছেদের অবসান।
'বিরহ' শব্দের অর্থ - প্রিয়জনের সঙ্গে বিচ্ছেদ।

অন্যদিকে,
- 'যুক্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিযুক্ত।
- 'সন্ধি' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিচ্ছেদ।
- 'গ্রহণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বর্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৯.
'কুৎসিত আকার যার' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. বন্ধুর
  2. দুরতিক্রম্য
  3. কালীন
  4. কদাকার
ব্যাখ্যা
• 'কুৎসিত আকার যার' এর এক কথায় প্রকাশ - কদাকার

অন্যদিকে,
- 'কালে যা ঘটে' এর এক কথায় প্রকাশ - কালীন।
- 'কষ্টে অতিক্রম করা যায় যা' এর এক কথায় প্রকাশ - দুরতিক্রম্য।
- 'কোথাও উঁচু কোথাও বা নিচু' এর এক কথায় প্রকাশ - বন্ধুর।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
'তেসরা' কোন প্রকার শব্দ?
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. তারিখ পূরণবাচক
  3. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১.
'যে মেয়ের বয়স দশ বৎসর' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. যৌবত
  2. লাস্য
  3. কানীন
  4. কন্যকা
ব্যাখ্যা
• 'যে মেয়ের বয়স দশ বৎসর' এর এক কথায় প্রকাশ - কন্যকা

অন্যদিকে,
- 'কুমারীর পুত্র' এর এক কথায় প্রকাশ - কানীন।
- 'নারীর লীলাময়ী নৃত্য' এর এক কথায় প্রকাশ - লাস্য।
- 'উত্তম বস্ত্রালঙ্কারে সুসজ্জিত নটীগণের নৃত্য' এর এক কথায় প্রকাশ - যৌবত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
কোনটি সংকোচক অব্যয়?
  1. তাই
  2. বরং
  3. নতুবা
  4. কিংবা
ব্যাখ্যা
সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 

- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. আষাঢ়
  2. উৎকৃষ্ঠ
  3. পৌষ
  4. দ্বেষ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - উৎকৃষ্ঠ।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪.
"ব্যাকরণ" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ব্যাকরোণ্‌
  2. ব্যাকরোন্‌
  3. ব্যাকরন্‌
  4. ব্যাকোরন্‌
ব্যাখ্যা
অ্যা ধ্বনির উচ্চারণ:
- পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে 'অ্যা' ধ্বনির কোনো স্বতন্ত্র ধ্বনি-চিহ্ন নেই। কয়েকটি ক্ষেত্রে আ ধ্বনির উচ্চারণ অ্যা হয়।

১. শব্দের শুরুতে যুক্ত ব্যঞ্জনের জ্ঞ আ-কার থাকলে জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপন]।

২. য-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনের সঙ্গে আ-কার বা আ-ধ্বনির উচ্চারণ প্রায় ক্ষেত্রেই অ্যা হয়।
যেমন: খ্যাতি [খ্যাতি], ব্যাপার [ব্যাপার], ত্যাগ [ত্যাগ্‌], ব্যাকরণ [ব্যাকরোন্‌]

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৫.
'কড়া' শব্দের অর্থ -
  1. হাতি
  2. কোমর
  3. কৃত
  4. আংটা
ব্যাখ্যা
'কড়া' শব্দের অর্থ - আংটা

অন্যদিকে,
- 'করা' শব্দের অর্থ - কৃত।
- 'কটি' শব্দের অর্থ - কোমর।
- 'করী' শব্দের অর্থ - হাতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৩৬.
"বাক্‌স > বাস্‌ক" কোন ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭.
"মাছুুয়া > মেছো" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮.
"পরমেশ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. পরম + ঈশ
  2. পরম + ইশ
  3. পরমঃ + ঈশ
  4. পরম + এশ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
→ শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
→ যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
পরম + ঈশ = পরমেশ
→ মহা + ঈশ = মহেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
'নোল + অক = নোলক' এটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
ঢোল + অক = ঢোলক, 
নোল + অক = নোলক,
গোল + অক = গোলক।

অল:
হাত + অল = হাতল, 
দীঘ + অল = দীঘল,
শীত + অল = শীতল।

আ:
কাঁচ + আ = কাঁচা, 
চোর + আ = চোরা, 
গাছ + আ = গাছা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪০.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  3. আমি অপমানিত হয়েছি।
  4. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অন্যদিকে,
- আমি অপমানিত হয়েছি।
- সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পিপীলিকা
  2. অভীভূত
  3. অভিভূত
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'পিপীলিকা' এবং 'অভিভূত'।

উল্লেখ্য,
- 'পিপীলিকা' শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ। এবং এর অর্থ - পিঁপড়া।
- 'অভিভূত' শব্দটি একটি বিশেষণ পদ। এবং এর অর্থ - পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২.
"বিদ্যাহীন" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. দ্বিতীয়া
  4. ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন ইত্যাদি।

উতস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরন্তন
  2. অভিযান
  3. কল্পনা
  4. চিরন্তনতা
ব্যাখ্যা
'চিরন্তন' শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

অন্যদিকে,
- 'চিরন্তনতা' - বিশেষ্য পদ।
- 'কল্পনা' - বিশেষ্য পদ।
- 'অভিযান' - বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪.
'আমার হারানো কলমটি ফিরে পেয়েছি।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- আমার হারানো কলমটি ফিরে পেয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫.
'আশীবিষ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৬.
তৎসম উপসর্গ নয় -
  1. অধি
  2. ঊন
  3. উৎ
  4. উপ
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ - ঊন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন?
  1. ড্যাস
  2. সেমিকোলন
  3. বিস্ময়বোধক
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পাগলামি
  2. বিবিয়ানা
  3. ফনিল
  4. কণ্টকিত
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ভরা + অট = ভরাট;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: - কণ্টক + ইত = কণ্টকিত; ফেন + ইল্ = ফনিল। 
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ -  বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. সরে দাঁড়ানো
  2. চেপে রাখা
  3. কথা দেওয়া
  4. এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫০.
'তুষারধবল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- তুষারের ন্যায় ধবল = তুষারধবল,
- তুষারের ন্যায় শীতল = তুষারশীতল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।