পরীক্ষা আর্কাইভ

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]

পরীক্ষাপেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৭ বিষয়: বাংলা - ৬ টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ, ২. প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ, ৩. মধ্যযুগের গুরত্বপূর্ণ তথ্য ও সাহিত্যকর্ম ৪. সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি, সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভোদয়া’ কোন শতাব্দীর রচনা?
  1. একাদশ শতাব্দী
  2. দ্বাদশ শতাব্দী
  3. ত্রয়োদশ শতাব্দী
  4. চতুর্দশ শতাব্দী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. ব্রজবুলি
  4. অবহট্‌ঠ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি ও কবিগণ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় তবে তাঁর রচিত পদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
.
পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি-
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্য কোন কোন রচনার পথ ধরে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে প্রবেশ করে?
  1. নাটক-প্রহসন ও গীতিকাব্য
  2. আখ্যনকাব্য ও মহাকাব্য
  3. সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র
  4. উপরের সবগুলোই
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. আদি যুগ :
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

২. মধ্যযুগ :  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

৩. আধুনিক যুগ: 
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন - শবরপা।
--------------- 
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

- শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি?
  1. কালিকলম
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. হিতবাদী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।
-------------------------------
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

অন্যদিকে, 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম' 
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
.
দ্বিতীয় অন্ধকার যুগের সময়কাল কত ছিল?
  1. ১৮৬০-১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৩০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০-১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৩০-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।
--------------------- 
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
.
‘সাহিত্য বিশারদ’ কার উপাধি?
  1. নজিবর রহমান
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শেখ ফজলল করিম
  4. মালাধর বসু
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শেখ ফজলল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি - সাহিত্য রত্ন। 
'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান 

উল্লেখ্য, 
আবদুল করিমেও ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
কোন কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ'- কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

•'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
‘প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব’ উপাধি লাভ করেন কে?
  1. আশুতোষ চৌধুরী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. নগেন্দ্রনাথ বসু
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  5. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
নগেন্দ্রনাথ বসু:
- বাংলা তথা ভারতীয় ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ রচয়িতা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক।
- ১৮৬৬ সালে কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- নগেন্দ্রনাথ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও তাঁর প্রধান পরিচয় বাংলা বিশ্বকোষ রচয়িতা হিসেবে।
- রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়ের সংকলন এবং তাঁর ভ্রাতা ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় এর প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়।
- পরে দীর্ঘ ২৭ বছরের পরিশ্রমে নগেন্দ্রনাথ বিশ্বকোষের ২২টি খন্ড প্রকাশ করেন।
- শেষ খন্ডটি প্রকাশিত হয় ১৯১১ সালে। ১৯১৬-৩১ সালে ২৪ খন্ডে এর একটি হিন্দি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৩-৩৮ সালের মধ্যে বিশ্বকোষের দ্বিতীয় সংস্করণের চারটি খন্ড প্রকাশের পর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভারতীয় পুরাতত্ত্বে অসাধারণ গবেষণার জন্য তাঁকে ‘প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ হলো:
- বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কয়েক খন্ড),
- কায়স্থের বর্ণপরিচয়, শূন্যপুরাণ,
- Archaeological Survey of Mayurbhanja,
- Modern Buddhism and its Followers in Orissa,
- Social History of Kamrup ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।