পরীক্ষা আর্কাইভ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

পরীক্ষা৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮: পার্ট-১) বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: ১. বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী সংক্রান্ত বিষয়াদি। ২. জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। ৩. স্বাধীনতা ও অন্যান্য আন্দোলন সংগ্রাম সংশ্লিষ্ট সাহিত্য ও চলচ্চিত্র। পার্ট-২) বিষয়: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক: ১. আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি: i) পরিবেশগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ii) পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ও জোট [UNEP, IMO, WMO, IPCC, EEA, Greenpeace, ICAN ইত্যাদি] iii) পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন। ২. বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনা প্রবাহ: পার্ট-৩) বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ টপিক: ১. বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) ২. ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
তালব্য ব্যঞ্জন কোনটি?

  1. জ 
  2. ধ 

ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
পরাগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1.  পক্ব > পক্ক
  2.  সত্য > সচ্চ
  3. তৎ + হিত  > তদ্ধিত
  4. মারি > মাইর
ব্যাখ্যা

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
তৎ + হিত  > তদ্ধিত।

অন্যদিকে:
------------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
-  পক্ব > পক্ক।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরে উচ্চারিত হওয়া 'ই/উ' আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
চারি > চাইর,
মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
কোন ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে?
  1. কথ্যরীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. সাধুরীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
'উত্তাপ' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্‌ + ত
  2. ত্‌ + ত
  3. ও্‌ + ত 
  4. ত্‌ + ও 
ব্যাখ্যা

• 'উত্তাপ' শব্দের যুক্তবর্ণটি 'ত্‌ + ত = ত্ত' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্‌ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = খ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
'উক্তি ও বাচ্য' নিয়ে ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব 
  4. রূপতত্ত্ব  
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. প্রত্যয়
  4. পুরুষ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ:
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1.  প্রীতি > পিরীতি
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3.  সত্য > সত্যি
  4. স্রেফ > সেরেফ
ব্যাখ্যা

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
-বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
--------------
• অন্তর্হতি-  আলাহিদা > আলাদা। 
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি-  প্রীতি > পিরীতি; স্রেফ > সেরেফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দেশ
  2. খেলা 
  3. এলো 
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• 'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
'এ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ (এ), কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি (এটি), দেশ [দেশ), এলো [এলো]।
এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা), খেলা [খ্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।

.
কোনটি আদি স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. লাল > নাল
  2. কবাট > কপাট
  3. স্টেশন > ইস্টিশন
  4. লাঙ্গল > নাঙ্গল
ব্যাখ্যা

• আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
স্কুল > ইস্কুল,
স্টেশন > ইস্টিশন,
স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
উষ্মধ্বনির কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ?




ব্যাখ্যা

• উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত হয়?
  1. ফারসি 
  2. রোমান 
  3. তুর্কি 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
- পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।

- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'। এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। (অর্থ্যাৎ, কোনোটিই নয় উত্তর)

- এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

- ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষারীতি কোনটি?
  1. চলিত রীতি
  2. আঞ্চলিক রীতি
  3. কাব্য রীতি 
  4. সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৩.
স বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. সালাত
  2. সালাম 
  3. আস্তে
  4. সাধারণ
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [সৃগাল্]।
ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন], সামান্য [শামান্‌না]।
স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌] সালাত [সালাত্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ল্ট
  2. ল্ফ
  3. ন্ধ
  4.  ষ্ট 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ, ষ্ট ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ + ধ), ন্ধ (ন্‌ + ধ), ব্ধ (ব্‌ + ধ), ভ্র (ভ্‌ + র ), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১৫.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে-  
  1. বঙ্গকামরূপী থেকে 
  2. মাগধী প্রাকৃত থেকে 
  3. গৌড়ি প্রাকৃত থেকে 
  4. গৌড়ি অপভ্রংশ থেকে 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। তাঁর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে দশম শতাব্দীতে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপীর মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে। এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে সপ্তম শতাব্দীতে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. পদক্রম
  3. রূপতত্ত্ব
  4.  ভাষাতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয়- ভাষাতত্ত্ব।

ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত:
• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
মূল আলোচ্য ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক কোনটি?
  1. ঈ 
  2. ঊ 
  3.  ঔ
  4. ঋ 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক স্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫টি। বাংলা ভাষার দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক ২টি, যথা: ঔ, ঐ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৮.
ভাষা পরিবারের সদস্য নয় কোনটি? 
  1. অস্ট্রো-দ্রাবিড়ীয়
  2. অস্ট্রো-এশিয়
  3. সেমীয়-হেমীয়
  4. চিনা-তিব্বতীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা পরিবারের সদস্য নয়- অস্ট্রো-দ্রাবিড়ীয়। 

-------------------
• ভাষা পরিবার ও বাংলা ভাষার উৎপত্তি:

- পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলাপিডিয়া।

১৯.
বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল কত সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে? 
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ক্রিকেট:
- বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে।
- বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয় লাভ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
- ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্ট জয় পায়।
- ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
- জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইট।

২০.
’আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  2. তারেক মাসুদ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:  
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'। পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। 
- হারুনর রশীদ পরিচালিত 'মেঘের অনেক রং' সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। 
- নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত সিনেমা 'গেরিলা'।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস থেকে নির্মিত হয় সিনেমাটি।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা। 

২১.
হাডুডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয় কবে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৭২ সালে হাডুডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয় এবং এ খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।

কাবাডি
- কাবাডি ১২.৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের আয়তাকার মাঠ থাকে।
- প্রতি দলে ১২ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে অনুষ্ঠিত দুটি দলের খেলা।
- প্রতি দলে ১২ জন করে খেলোয়াড় থাকলেও ৭ জন খেলোয়াড় কোর্টে খেলে।
- এবং বাকি ৫ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে কোর্টের বাইরে থাকে।
-  প্রতিযোগিতার সময় দুই অর্ধ মিলিয়ে মোট ৪০ মিনিট ও দুই অর্ধের মাঝামাঝি ৫ মিনিট বিরতি।
- কোনো পক্ষ তার বিপক্ষের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আউট করার সুবাদে একটি করে পয়েন্ট লাভ করে,
- বিপক্ষ দলের সমস্ত খেলোয়াড়কে আউট করতে পারলে লোনা বাবদ অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট পায়। 
- ১৯৭২ সালে হাডুডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয় এবং এ খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২২.
বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রবর্তন করা হয় কত সালে? 
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি পুরস্কার:
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়: ১৯৬০ সালে।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪:
- কবিতা- মাসুদ খান,
- নাটক ও নাট্যসাহিত্য- শুভাশিস সিনহা,
- প্রবন্ধ/গদ্য- সলিমুল্লাহ খান,
- বিজ্ঞান: রেজাউর রহমান,
- অনুবাদক: জি এইচ হাবিব,
- গবেষণা- মুহম্মদ শামজাহান মিয়া,
- ফোকলোর- সৈয়দ জামিল আহমেদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি  ওয়েবসােইট।

২৩.
‘চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হয়েছে?
  1. দেশভাগ 
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

উৎস: প্রথম আলো। 

২৪.
চাকমা মৌজা প্রধান হলেন- 
  1. আদাম
  2. কার্বারী
  3. হেডম্যান
  4. মেম্বার 
ব্যাখ্যা

- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান'।

চাকমা জাতিসত্তা: 

- পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে চাকমারা জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম। 
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলাতে তাদের বসবাস রয়েছে।
- এছাড়া চাকরিসূত্রে চাকমারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। 
- আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ও দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক চাকমা বসবাস করে।
- খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ এবং রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে চাকমা সার্কেল যার প্রধান হলেন চাকমা চীফ বা চাকমা রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও দুটি সার্কেলের মতো চাকমা সার্কেলও অনেক মৌজা নিয়ে গঠিত। 
- চাকমা ভাষায় গ্রামকে আদাম বা পাড়া বলা হয়। 
- গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 
- কয়েকটি 'আদাম' বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক-একটি মৌজা।
- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান'।
- যার নেতৃত্বে মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের বিচারসহ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের ভালমন্দ দেখভালের কাজগুলো পরিচালিত হয়। 

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই।

২৫.
২০২৫ সালে নজরুল পুরস্কার কারা পেয়েছেন?
  1. শবনম মুশতারী ও আফজালুল বাশার
  2. আনোয়ারুল হক ও মোহাম্মদ আজম
  3. আনোয়ারুল হক ও শবনম মুশতারী
  4. আবুল কাসেম ফজলুল হক ও জগলুল আসাদ
ব্যাখ্যা

নজরুল পুরস্কার-২০২৫:
 - ২০২৫সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী ছিল।
- এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক এবং নজরুল সংগীতশিল্পী শবনম মুশতারী।
- বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। 
- মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
- ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার চালু করে।
- পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ২ লাখ টাকার চেক, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক এবং পুষ্পস্তবক।

উৎস: বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট।

২৬.
বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা-
  1. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
  2. ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি
  3. ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ
  4. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ব্যাখ্যা

ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা): 
- ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা)  বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা।
- ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই এটি পুরোদস্ত্তর সংবাদ সংস্থায় পরিণত হয়।
- এই সংস্থা ঘটনাবহুল বছর ১৯৭০-৭১ সালের সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জননন্দিত হয়।
- এই সংস্থার কার্যক্রম একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়েই স্থগিত ছিল।
- স্বাধীনতার অব্যবহিত পর ১৯৭১ সালে এনা আবার কার্যক্রম শুরু করে।

অন্যদিকে,
- অনলাইন ভিত্তিক দেশে প্রধান নিউজ সংস্থা হলো Bdnews24.com.
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)  ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে এক সরকারি আদেশবলে জাতীয় সংবাদ সংস্থা হিসেবে আবির্ভূত হয়। 
- ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)  ১৯৮৮ সালে সংবাদ সংস্থাটি কার্যক্রম শুরু করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২৭.
বাংলাদেশে মগ নামে পরিচিত কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী? 
  1. চাকমা 
  2. রাখাইন
  3. সাঁওতাল
  4. খাসিয়া 
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- রাখাইনরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

২৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে? 
  1. চট্টগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশে 'ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর' সংখ্যা মোট ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: হলো চাকমা।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয়: মারমা।
- জেলা হিসেবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

২৯.
প্রতি বছর কত জন ব্যক্তিকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ৫জন
  2. ২জন
  3. ৩জন
  4. ৭জন
ব্যাখ্যা

 রবীন্দ্র পুরস্কার: 
- রবীন্দ্র সাহিত্যের গবেষণা ও সমালোচনা এবং রবীন্দ্রসংগীতের আজীবন সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে।
- প্রতি বছর দুজনকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ১,০০,০০০.০০ (এক লক্ষ) টাকা।
- বাংলা একাডেমি আয়োজিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক, সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

• রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৫:
- রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায়  ড. অসীম দত্ত এবং রবীন্দ্রসংগীতচর্চায় শিল্পী এ এম এম মহীউজজামান চৌধুরী ময়না  ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৫’এ ভূষিত হয়েছেন।

উৎস: বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট।

৩০.
এশিয়া কাপ ক্রিকেট (পুরুষ) ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক আয়োজক কোন দেশ?
  1. পাকিস্তান
  2. ভারত
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

• এশিয়া কাপ ক্রিকেট (পুরুষ) ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক আয়োজক দেশ হলো- ভারত।

• এশিয়া কাপ- ২০২৫:
- ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত এশিয়া কাপ (পুরুষ)- ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে।
- টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিযোগিতার সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
- এবারের আসরে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান মোট আটটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
- আটটি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।
- 'এ' গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এবং 'বি' গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং।
প্রত্যেক দল গ্রুপ পর্বে ৩টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

• এবারের আসরের আয়োজক ভারত।
- ভারত আনুষ্ঠানিক আয়োজক হলেও এবারের এশিয়া কাপের সব ম্যাচ আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

৩১.
বাসেল কনভেনশন কোথায় গৃহীত হয়েছিল?
  1. জার্মানি
  2. ব্রাজিল
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

• বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে।

• বাসেল কনভেনশন:
- জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) বিপজ্জনক বা বিষাক্ত বর্জ্য এবং এটির আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বাসেল কনভেনশন নামে একটি কনভেনশন গ্রহণ করে।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- এটি গৃহীত হয়: ২২শে মার্চ, ১৯৮৯, বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যকরী হয়: ৫ মে, ১৯৯২।
- সদস্য: ১৯১টি।
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বাসেল কনভেনশন বলে।
- বাসেল কনভেনশন এর উদ্দেশ্য: উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য স্থানান্তর রোধ করা।

উল্লেখ্য,
-  বাংলাদেশ বাসেল কনভেনশন কার্যকর করে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন।

উৎস: UN Basel Convention  ওয়েবসাইট।

৩২.
বর্তমানে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR) হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করছেন? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. মিশেল বাচেলেট
  2. ইউসুফ সিদ্দিক
  3. ফিলিপ্পো গ্রান্ডি
  4. ভলকার টার্ক
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন- ফিলিপ্পো গ্রান্ডি।

• ফিলিপ্পো গ্রান্ডি:
- ফিলিপ্পো গ্রান্ডি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- তিনি ১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে এই পদে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে তার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- তিনি একজন ইতালীয় কূটনীতিক। 

• UNHCR:
- UNHCR-এর পূর্ণরূপ: United Nations High Commissioner for Refugees বা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা।
- UNHCR শরণার্থী, আশ্রয় প্রার্থীদের এবং বিভিন্ন ধরনের বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার রক্ষা ও তাদের সহায়তা প্রদানে কাজ করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় শরণার্থীদের সেবার প্রেক্ষাপটে UNHCR গঠিত হয়।
- এর মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ, সংঘাত, অত্যাচার, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের নিরাপত্তা এবং সহায়তা নিশ্চিত করা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫০।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজাল্যান্ড।
- কার্যক্রম: বিশ্বের ১৩৫টি দেশে।

উৎস: UNHCR ওয়েবসাইট।

৩৩.
কোন সংস্থার উদ্যোগে 'Earth Hour' কর্মসূচি পালিত হয়?
  1. IPCC
  2. Greenpeace
  3. IUCN
  4. WWF
ব্যাখ্যা

• WWF -এর উদ্যোগে 'Earth Hour' কর্মসূচি পালিত হয়।

Earth Hour:
- Earth Hour কর্মসূচির আয়োজক সংস্থা WWF (World Wide Fund for Nature).
- এটি একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন, যা পরিবেশ রক্ষার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে। 

• Earth Hour হলো WWF (World Wide Fund for Nature) দ্বারা পরিচালিত একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ, যেখানে মানুষ, সম্প্রদায় এবং ব্যবসায় প্রতি বছর এক ঘণ্টার জন্য অপ্রয়োজনীয় আলো ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি সচেতনতা প্রকাশ করে।
- প্রতি বছর মার্চ মাসের শেষ শনিবার আর্থ আওয়ার পালিত হয়।
- Earth Hour-এর প্রধান লক্ষ্য পরিবেশগত সমস্যা, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং শক্তি সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- Earth Hour কর্মসূচি প্রথম আয়োজন করা হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৩১শে মার্চ, ২০০৭, শনিবার।
- শুরুতে ২০০৭ সালে Earth Hour কর্মসূচির “lights off” moment নামে পরিচিত ছিল।
- অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিশ্বের প্রথম আর্থ আওয়ারে ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষ এক ঘন্টার জন্য তাদের বাতি নিভিয়ে রেখেছিলেন।
- Earth Hour ২০২৫ সালে মার্চ মাসের শেষ শনিবার, অর্থাৎ ২৯ মার্চ, রাত ৮:৩০ থেকে ৯:৩০ পর্যন্ত পালিত হয়।

উৎস:
i) WWF ওয়েবসাইট।
ii) Earth Hou ওয়েবসাইট।

৩৪.
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বহুল আলোচিত আলাস্কা বৈঠকটি হয়েছে কত তারিখে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১১ আগস্ট, ২০২৫
  2. ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  3. ১৭ আগস্ট, ২০২৫
  4. ২০ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলোচিত আলাস্কা বৈঠক স্থানীয় সময় ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

• ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক- ২০২৫:
- যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’ তে শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ এ বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
- ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি ছাড়াই তাদের বৈঠকটি শেষ হয়েছে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

৩৫.
Climate Vulnerable Forum (CVF) এর বর্তমান সভাপতি দেশ কোনটি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. মালদ্বীপ
  2. মার্শাল আইল্যান্ড
  3. বার্বাডোস
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

• Climate Vulnerable Forum (CVF) এর বর্তমান সভাপতি দেশ হলো- বার্বাডোস।

• CVF:
- Climate Vulnerable Forum জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এবং ক্ষতিগ্রস্থ দেশসমূহের একটি সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০০৯ সালে।
- সদস্য: ৭৪টি।
- বর্তমান সভাপতি: বার্বাডোস।
- বার্বাডোসের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী Mia Amor Mottley (২০২৪-২০২৬) মেয়াদে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ২০২০ সালে CVF-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করে।

উৎস: i) Climate Vulnerable Forum ওয়েবসাইট।

৩৬.
"Green Climate Fund" কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

• "Green Climate Fund" ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে COP16 সম্মেলনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি গ্লোবাল ওয়ার্মিং মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জলবায়ু তহবিল, অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের জন্য কাজ করে।
- COP15-এ তহবিল গঠনের ধারণা উত্থাপিত হয়েছিল এবং উন্নত দেশগুলো ২০২০ সাল থেকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

• Green Climate Fund: 
- প্রতিষ্ঠিত: ২০১০ সালে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো,
- সদর দপ্তর: ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- COP16: Green Climate Fund আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আয়োজক দেশ: মেক্সিকো।

• আলোচ্য বিষয়:
- গ্লোবাল ওয়ার্মিং,
- কার্বন নিঃসরণ হ্রাস,
- জলবায়ু তহবিল,
- অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণ।

• Note:
- COP15: সবুজ জলবায়ু তহবিল গঠনের ধারণা ও প্রস্তাবনা উত্থাপিত হয়।
- উন্নত দেশগুলো বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ২০২০ সাল থেকে।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।

৩৭.
কত তারিখে বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালন করা হয়?
  1. ২ এপ্রিল
  2. ৩১ মার্চ
  3. ২ ফেব্রুয়ারি
  4. ৪ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• '২ ফেব্রুয়ারি' বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালন করা হয়।

• বিশ্ব জলাভূমি দিবস:
- প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হয়।
- ১৯৯৭ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
- দিনটি উদযাপিত হয় ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইরানের রামসার শহরে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি 'রামসার কনভেনশনের' স্মরণে।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- এই চুক্তি জলাভূমি সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে।

• উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান সুন্দরবন এবং টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বর্তমানে জলাভূমির গুরুত্ব ও তা সংরক্ষণের জন্য এই দিবসটি বাংলাদেশেও বিশেষভাবে উদযাপিত হয়।

তথ্যসূত্র- রামসার কনভেনশন ওয়েবসাইট।

৩৮.
সম্প্রতি আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কোথায়? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ইরানে
  2. তুরস্কে
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. ফ্রান্সে
ব্যাখ্যা

• সম্প্রতি আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে।

• আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি:
- ৮ আগস্ট, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। 
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান।
- এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
 
• উল্লেখ্য যে,
- বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত।
- অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
- আর্মেনিয়া নাগোর্নো কারাবাখের দখল নেয়ার পর কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয় দুই দেশের মধ্যে।
- ২০২৩ সালে পুনরায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারবাইজান।

তথ্যসূত্র- নিউজ প্রতিবেদন। [link]

৩৯.
Gulf Cooperation Council (GCC)-এর বর্তমান সদস্য দেশ সংখ্যা কত? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• Gulf Cooperation Council (GCC)-এর বর্তমান সদস্য দেশ সংখ্যা ৬টি।

• GCC:
- Gulf Cooperation Council (GCC) হলো পারস্য উপসাগর তীরবর্তী আরব উপদ্বীপের দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক জোট।
- এটি ১৯৮১ সালে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত।
- এর সদস্য সংখ্যা ৬টি। (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)

• এগুলো হলো:
- সৌদি আরব,
- সংযুক্ত আরব আমিরাত,
- কাতার,
- কুয়েত,
- বাহরাইন এবং
- ওমান।

তথ্যসূত্র - GCC ওয়েবসাইট।

৪০.
গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত প্রটোকল কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত প্রটোকল হলো- কিয়োটো প্রটোকল।

• কিয়ােটো প্রটোকল:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানাের উদ্দেশ্যে জাপানের কিয়ােটো শহরে কিয়ােটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটো শহরে অনুষ্ঠেয় ৩য় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন বা Conference of Parties (CoP)-3 এ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- ‘কার্বন ক্রেডিট’ কিয়ােটো প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত। 
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- প্রথম স্তরের মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালে।
- মেয়াদ বাড়ানোর পরে সর্বশেষ এটির মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালে।
- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর এবং
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে অনুমোদন দেয়।  
- কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহারকারী প্রথম দেশ - কানাডা।
 
অন্যদিকে,
- 'মন্ট্রিল প্রটোকল' ওজোনস্তর ক্ষয়কারী বস্তু-সামগ্রীর উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল।
- 'কার্টাগেনা প্রটোকল' জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- 'নাগোয়া প্রটোকল' বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য স্বাক্ষরিত প্রটোকল।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং রয়টার্স।

৪১.
IPCC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৯৩টি
  2. ১৯৫টি
  3. ১৭৭টি
  4. ১৬০টি
ব্যাখ্যা

• IPCC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৫টি।

• IPCC:
- IPCC-এর পূর্ণরূপ: Intergovernmental Panel on Climate Change.
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ১৯৮৮ সালে IPCC প্রতিষ্ঠা করে।
- বর্তমানে সদস্য: ১৯৫টি।[জুলাই, ২০২৫]
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- IPCC জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এর প্রভাব এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি এবং অভিযোজন ও প্রশমনের বিকল্পগুলির নিয়মিত মূল্যায়ন প্রদান করে।

উৎস: IPCC ওয়েবসাইট।

৪২.
সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ কোন আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হন?
  1. Youth for Nature
  2. Green Belt Movement
  3. Fridays For Future
  4. Save the Children
ব্যাখ্যা

• সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ 'Fridays For Future' আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হন।

ফ্রাইডেস ফর ফিউচার (Fridays For Future):
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলন হলো একটি পরিবেশবাদী আন্দোলন।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের এটি একটি বৈশ্বিক মুভমেন্ট।
- ২০১৮ সালে সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ নামের ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী এই আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
- থুনবার্গ স্কুল বর্জন করে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
- তার এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্টের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

• গ্রেটা থুনবার্গ:
- গ্রেটা থুনবার্গ ছিলেন একজন পরিবেশবাদী আন্দোলনকর্মী।
- গ্রেটা থুনবার্গের বাবা স্ভান্তে থুনবার্গ একজন অভিনেতা এবং রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ী বিজ্ঞানী স্ভান্তে আরহেনিয়াসের উত্তরসূরি।
- ২০১৮ সালের মে মাসে গ্রেটার বয়স যখন ১৫, সেসময় গ্রেটা স্থানীয় এক পত্রিকার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এক রচনা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পান।
- অগাস্ট, ২০১৮-এ সুইডেনের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করা শুরু করেন তিনি।
- সুইডেন সরকার যেন ২০১৫ সালের প্যারিস সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় ঠিক হওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, সেলক্ষ্যে বিক্ষোভ করে গ্রেটা।
- 'স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট' লেখা একটি লেখা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে তিনি পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়ান।
- সে শুক্রবার স্কুল ফাঁকি দেয়া শুরু করে। 
- সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিক্ষোভ ভাইরাল হয় এবং তার প্রতিবাদের কারণ দিনদিন জনপ্রিয়তা পায়।
- ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী গ্রেটার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজ নিজ দেশে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
ক) Youth for Nature:
- Youth for Nature হলো একটি আন্তর্জাতিক কিশোর-কিশোরী পরিবেশবাদী আন্দোলন।
- যা মূলত যুব সমাজকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন ও সক্রিয় করতে কাজ করে।

খ) Green Belt Movement:
 -গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট হলো কেনিয়ার নাইরোবি ভিত্তিক একটি পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন।
- এর মাধ্যমে গ্রাম্য অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
- শুরুর সময় - ১৯৭৭ সাল।
- গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট শুরু করেছিলেন কেনিয়ার নাগরিক প্রফেসর ওয়াঙ্গেরি মাথাই। 

ঘ) Save the Children:
- সেভ দ্য চিলড্রেন (Save the children) একটি আর্ন্তজাতিক বেসরকারী সংস্থা।
- এটি যুক্তরাজ্যের শিশুবিষয়ক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯১৯ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা: এগল্যান্টাইন জেব।

উৎস: Fridays For Future ওয়েবসাইট।

৪৩.
'UN Ocean Conference-2025' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লিসবন, পর্তুগাল
  2. নিস, ফ্রান্স
  3. নাপোলি, ইতালি
  4. পার্থ, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: খ) নিস, ফ্রান্স।
-  ২০২৫ সালের UN Ocean Conference (তৃতীয় সম্মেলন) ৯–১৩ জুন ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল Nice, France-এ।

- এই বছরের সম্মেলনটিতে ফ্রান্স ও কোস্টারিকা সহ-আয়োজক ছিল।
- প্রথম সম্মেলন হয়: ২০১৭ সালে নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে।
- দ্বিতীয় সম্মেলন হয় ২০২২ সালে লিসবন, পর্তুগাল।

• UN Ocean Conference  এর মূল থিম ও লক্ষ্য:
- SDG ১৪: Life Below Water
- সামুদ্রিক দূষণ হ্রাস।
- অতিরিক্ত মাছ শিকার বন্ধ।
- সমুদ্র-সম্পদের টেকসই ব্যবহার।
- সমুদ্রের ৩০% এলাকা ২০৩০ সালের মধ্যে সংরক্ষণ (৩০×৩০ লক্ষ্য)।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা।
- Deep-sea mining ও bottom trawling-এর মতো ক্ষতিকর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ।

উৎস: এস ডি জি ওয়েবসাইট।

৪৪.
কোন সংস্থা 'বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক' প্রকাশ করে?
  1. Earthwatch
  2. Worldwatch
  3. Germanwatch
  4. Greenpeace
ব্যাখ্যা

• Germanwatch 'বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক' প্রকাশ করে।

• Germanwatch:
- এটি একটি অলাভজনক বেসরকারি পরিবেশ এবং বাণিজ্য সংস্থা।
- এটি শিল্পোন্নত দেশের সাথে অনুন্নত দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
- এটি প্রতি বছর “বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক” প্রকাশ করে।
- সদর দপ্তর: বন, জার্মানি।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৯১ সালে।

উৎস: Germanwatch এর ওয়েবসাইট।

৪৫.
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিককালের অননুমেয় আচরণকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভাষায় কী থিওরি নামে অভিহিত করা হয়?  [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. Tupocracy Theory
  2. Madman Theory
  3. Situational Leadership Theory
  4. Iron Law of Oligarchy
ব্যাখ্যা

• ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিককালের অননুমেয় আচরণকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভাষায় 'Madman Theory' বা 'খ্যাপাটে তত্ত্ব' নামে অভিহিত করা হয়।

• Madman Theory:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা "ম্যাডম্যান থিওরি" বলতে বোঝান এমন একটি পরিস্থিতিকে যেখানে একজন বিশ্ব নেতা তাঁর প্রতিপক্ষকে এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন যে তিনি মানসিকভাবে যেকোনো কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন, যাতে করে প্রতিপক্ষ ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

- এটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় রিচার্ড নিক্সন দ্বারা প্রবর্তিত একটি কূটনৈতিক কৌশল, যেখানে একজন নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে অপ্রত্যাশিত, আক্রমণাত্মক এবং অপ্রতিরোধ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন যাতে শত্রু দেশ ভয় পেয়ে কৌশলগত ভুল করে বা ছাড় দেয়।
- সাম্প্রতিককালের ডোনাল্ড ট্রাম্পের অননুমেয় আচরণ (যেমন: হঠাৎ করেই নীতি পরিবর্তন, আগ্রাসী বক্তব্য, অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত) এই তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ট্রাম্পের এই কৌশলকে "Madman Theory" হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন ৬ জুলাই ২০২৫।

তথ্যসূত্র: পত্রিকার প্রতিবেদন, ব্রিটানিকা এবং বিবিসি। [link]