পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়28 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
৪৫তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [বিশেষ রিভিশন পরীক্ষা] বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [৮০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশী হয়?
  1. ক) মিশ্র রীতি
  2. খ) চলিত রীতি
  3. গ) সাধু রীতি
  4. ঘ) আঞ্চলিক রীতি
ব্যাখ্যা
সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।

সাধু রীতি
- বাংলা লেখ্য সাধু‌ রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'পদ্মআঁখি' কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্ধ সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
'আঁখি পদ্মের ন্যায়- পদ্মআঁখি'- কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ।  

• যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, 
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, 
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, 
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. ক) আমি
  2. খ) তুমি
  3. গ) সে
  4. ঘ) উনি
ব্যাখ্যা
'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ।
.
'বদনাম' শব্দের 'বদ' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম উপসর্গ
  2. খ) বাংলা উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'বদনাম' শব্দের 'বদ' ফারসি ভাষার উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'মা শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন' বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন: 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
.
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল'- এখানে দ্বিরুক্তি শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে
  2. খ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  3. গ) তীব্রতা বোঝাতে
  4. ঘ) ভাবের গভীরতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল'- এখানে দ্বিরুক্তি শব্দটি পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

আরো কিছু দ্বিরুক্তি শব্দের প্রয়োগ: 
ফোঁড়াটা টন টন করছে'- 'অনুভূতি বা ভাব' বোঝাতে। 
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর'- 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' বোঝাতে। 
'পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির'- অব্যয়ের দ্বিরুক্তির ক্ষেত্রে। 
'ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।'- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'জন্ম > জম্ম' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
'জন্ম > জম্ম'- সমীভবন এর উদাহরণ। 

সমীভবন (Assimilation) :
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: 
- জন্ম > জম্ম,
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)
.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) নে + অন = নয়ন
  2. খ) গৈ + অক = গায়ক
  3. গ) গো + আদি = গবাদি
  4. ঘ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ
ব্যাখ্যা
'গো + অক্ষ = গবাক্ষ' নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 

 নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি 
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
গো+অক্ষ = গবাক্ষ
প্র+এষণ = প্রেষণ
কুল+অটা = কুলটা
পর+পর = পরস্পর
অন্য + অন্য = অন্যান্য,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
'প্রাতিপদিক'- ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়। 
 
প্রাতিপদিক
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
- যেমন: মুখ, পা, বই ইত্যাদি। 
- প্রাতিপদিক ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়।

বাকিগুলো ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মাধ্য + ষ্ণিক
  2. খ) মাধ্য + মিক
  3. গ) মধ্যম + ষ্ণিক
  4. ঘ) মাধ্যমিক + অ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক' 

মাধ্যমিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক 
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী, 
- মধ্যস্থ
- মধ্যম সম্পর্কিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১.
'গামছা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) ফারসি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) পর্তুগিজ শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গামছা' দেশি শব্দ।
যার অর্থ- মোছার কাপড়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
'কালিকলম' শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দযোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম + ফারসি
  2. খ) আরবি + ফারসি
  3. গ) বাংলা + আরবি
  4. ঘ) বাংলা + ফারসি
ব্যাখ্যা
'কালিকলম' মিশ্র শব্দটি 'বাংলা + আরবি' এর সমন্বয়ে গঠিত। 


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) স্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অসমীকরণ 
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে অসমীকরণ বলে। 
যেমন: টপ + টপ >টপাটপ, ধপ + ধপ > ধপাধপ, ফট + ফট > ফটাফট। ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  2. খ) অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা
  3. গ) মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  4. ঘ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
ব্যাখ্যা
'মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রসা কর।'-  বাক্যটি সঠিক নয়।
এখানে বানানজনিত ভুল রয়েছে। 
- 'মুমুর্ষূ' এবং 'শুশ্রসা' বানান ভুল। 
 
এর শুদ্ধ বাক্য: 'মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।'  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) সজন্য
  2. খ) শোউজোন্‌নো
  3. গ) শউজন্য
  4. ঘ) সোওজন্য
ব্যাখ্যা
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'

• শব্দমধ্যস্থিত “অ” (ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত) আদ্য- 'অ'-এর মতোই ই, (f), ঈ (ী), উ ( ू ), ঊ ( ), ঝ (, )-কার এবং ক্ষ, জ্ঞ, J (য)-ফলার আগে থাকলে সে 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়ে থাকে।
যথা-
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'
কাকলি এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
প্রণতি এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
অবগতি এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৬.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) অপরাহ্ণ
  2. খ) কল্যাণ
  3. গ) উত্তরায়ণ
  4. ঘ) নারায়ণ
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন-
- কল্যাণ, 
- নিপুণ,
- মাণিক্য,
- বাণিজ্য,
- লবণ,
- মণ,
- গুণ,
- বিপণি,
- পাণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'Pancreas' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) পুস্তিকা
  2. খ) ক্রোড়পত্র
  3. গ) অগ্ন্যাশয়
  4. ঘ) গাঁজানো
ব্যাখ্যা
'Pancreas' এর বাংলা পরিভাষা- 'অগ্ন্যাশয়' 

'Supplement' এর বাংলা পরিভাষা- 'ক্রোড়পত্র'
'Pamphlet' এর বাংলা পরিভাষা- 'পুস্তিকা'
'Fermentation' এর বাংলা পরিভাষা- 'গাঁজানো'

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৮.
'লাফ > ফাল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) ব্যঞ্জনবিকৃতি
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ঘ) অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
'লাফ > ফাল'- ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ। 

• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
তলোয়ার > তরোয়াল
নকশা > নশকা
রিক্সা > রিস্কা
লাফ > ফাল

• ব্যঞ্জনবিকৃতি
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
কবাট > কপাট 
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

 • বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১৯.
'অপোগণ্ড' শব্দের অর্থ-
  1. ক) ঋণী
  2. খ) অপদার্থ
  3. গ) সম্প্রীতি
  4. ঘ) উৎকণ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে, 
অপোগণ্ড (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ-
- অপদার্থ,
- অল্পবয়স্ক;
- নাবালক,
- অযোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান। 
২০.
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম'- বাক্যে 'দর্শন করলাম' কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘আমরা তাজমহল দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়াপদ এর উদাহরণ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
বিশেষ্যের পরে: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে: মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২১.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তির শব্দ?
  1. ক) এই
  2. খ) আগামীকাল
  3. গ) তখন
  4. ঘ) ওখানে
ব্যাখ্যা
'তখন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ 
এখন - তখন 
আগামীকাল - পরদিন  
ইহা - তাহা
গতকাল - আগেরদিন
আজ - সেদিন 
ওখানে - ঐখানে
গতকল্য - পূর্বদিন 
এখানে - সেখানে 
এ - সে 

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)। 
২২.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষার চলিত রূপ?
  1. ক) শুষ্ক
  2. খ) করবার
  3. গ) হইল
  4. ঘ) দেন নাই
ব্যাখ্যা
'করিবার' এর চলিত রূপ: 'করবার'

তাছাড়া, 
- 'শুষ্ক' এর চলিত রূপ: 'শুকনো'
- 'হইল' এর চলিত রূপ: 'হলো'
- 'দেন নাই' এর চলিত রূপ: 'দেননি' 

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪.
'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্য বর্গ
  2. খ) বিশেষণ বর্গ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে। যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৫.
'আহা ! বেচারার এত কষ্ট।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) বিরক্তি আবেগ
  2. খ) আতঙ্ক আবেগ
  3. গ) বিস্ময় আবেগ
  4. ঘ) করুণা আবেগ
ব্যাখ্যা
'আহা ! বেচারার এত কষ্ট।'- বাক্যটিতে করুণা আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

⇒ করূণা আবেগ: 
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬.
নিচের কোনটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. ক) চোদ্দ
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) একাদশ
  4. ঘ) তেসরা
ব্যাখ্যা
'চোদ্দ'- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন: এক, দুই, তিন ইত্যাদি।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 
- যেমন 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ' প্রথম', 'পহেলা', 'প্রথমা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে। 

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়, 
সাধারণ পূরণবাচক: যেমন- তৃতীয়, একাদশ;
তারিখ পূরণবাচক: যেমন- তেসরা;
ভগ্নাংশ পূরণবাচক: যেমন- আধ, সাড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।