ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দই দেশি শব্দ।
• দেশি শব্দ:
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসীদের ভাষা থেকে নেওয়া যে শব্দগুলো আজও অপরিবর্তিতভাবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো দেশি শব্দ নামে পরিচিত।
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসী—যেমন দ্রাবিড়, অনার্য, কোল, মুণ্ডাসহ ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে কিছু শব্দ আজও বাংলায় টিকে আছে। এই শব্দগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে এসব শব্দের সঠিক উৎস জানা না গেলেও কোন ভাষা থেকে এসেছে, তার ধারণা পাওয়া যায়; যেমন—
- কুড়ি (বিশ) কোল ভাষা থেকে এসেছে;
- পেট (উদর) তামিল থেকে এসেছে;
- আর চুলা (উনুন) মুণ্ডারী ভাষা থেকে এসেছে।
- আর ও কিছু উদাহরণ: জমজম, জারুল, কুলা, গঞ্জ, ঢেঁকি, টোপর, বেগুনী, কালো, পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল, ময়না, খিচুড়ি, রুই, সেমাই ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• তৎসম শব্দ:
- যে শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং ব্যবহারের সময় যেগুলোর মূল রূপ সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে সেগুলোই তৎসম শব্দ।
- “তৎসম” শব্দটি ‘তৎ’ (তার) ও ‘সম’ (সমান)—এই দুই অংশ থেকে এসেছে, অর্থাৎ “সংস্কৃতের সমান”।
- উদাহরণ: কমলা, ধর্ম, শাক, নারিকেল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, গৃহ, ভাষা, দধি, নীল ইত্যাদি।
• তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় পৌঁছেছে, সেগুলো তদ্ভব শব্দ।
- এসব শব্দের মূল সংস্কৃত হলেও ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলায় এদের রূপ অনেকটাই ভিন্ন হয়েছে। বাংলায় নিজস্ব রূপে ব্যবহৃত এসব শব্দকে একেবারে স্বতন্ত্র ধরা হয়।
- তদ্ভব শব্দকে অনেকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে থাকেন।
- উদাহরণ : আকাশ, বাতাস, পাখি, পাতা, কান, হাত, চাঁদ, চামার, মা ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
বাংলাপিডিয়া।