পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৮: বিষয়: ভূগোল ও নৈতিকতা (সমন্বিত) সিলেবাস: i) ভূগোল ও দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা (সম্পূর্ণ); ii) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (সম্পূর্ণ)।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি?
  1. দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. ভারতীয় উপদ্বীপ
  4. উত্তর আমেরিকার কলোরাডো
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- কয়েকটি পাহাড়ের সম্মিলিতস্থানে যে সমতল অঞ্চল তৈরি হয় তাই মালভূমি।
- পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তৃর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে।

⇒ অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন প্রকার। যথা:
• পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি,
• পাদদেশীয় মালভূমি,
•মহাদেশীয় মালভূমি।

⇒ পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি:
- পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি পর্বত দ্বারা বেষ্টিত থাকে।
- এশিয়ার তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি।
- এটি উত্তরে কুনলুন পর্বতমালা এবং দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত।
- এছাড়া তারিম মালভূমি, মঙ্গোলিয়া, বলিভিয়া ও মেক্সিকো পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি।

অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া এবং উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি হলো পাদদেশীয় মালভূমি।
- ভারতীয় উপদ্বীপ, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ড, সৌদি আরব, এন্টার্কটিকা প্রভৃতি হলো মহাদেশীয় মালভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ' নিম্নের কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. পলিনেশিয়া
  2. মেলানেশিয়া
  3. মাইক্রোনেশিয়া
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোনেশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ পলিনেশিয়া:
- মধ্য ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে পলিনেশিয়া অঞ্চল গঠিত।
- এটিকে বৃহত্তর ওশেনিয়া অঞ্চলের একটি উপ-অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়।
- পলিনেশিয়ার আদি অধিবাসীদেরকে 'পলিনেশীয়' বলা হয়।
- নিউজিল্যান্ড পলিনেশিয়ার বৃহত্তম দেশ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জটিকেও পলিনেশিয়ার অন্তর্গত করা হয়; এটি পলিনেশিয়া ত্রিভুজের উত্তর শীর্ষবিন্দুটি গঠন করেছে।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা; টুভ্যালু ও সামোয়া।

⇒ মেলানেশিয়া:
- 'মেলানেশিয়া' শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে এবং এর অর্থ 'কালো দ্বীপ'।
- মেলানেশিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল।
- এটি প্রায় ২,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ; ফিজি; ভানুয়াতু; ও পাপুয়া নিউগিনি।

⇒ মাইক্রোনেশিয়া:
- মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলটি ফিলিপাইনের পূর্বে এবং নিউগিনি দ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু; পালাউ; কিরিবাতি; মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়া।

উৎস: World Atlas.
.
কুমিল্লা জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. গোমতী
  2. ডাকাতিয়া
  3. কাঁকরী নদী
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গোমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোমতী
ব্যাখ্যা
কুমিল্লা জেলা:
- কুমিল্লা জেলা ২৩°০১' থেকে ২৩°৪৭' ৩৬" উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯০°৩৯' থেকে ৯১°২২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিস্তৃত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলা অতিক্রম করেছে।
- এই জেলার কিছু অংশ গঠিত হয়েছে প্লাবন ভূমি দ্বারা এবং কিছু অংশ পাহাড়ি বৈশিষ্ট্যময়, বাকি অংশ সমতলভূমি।
- এ জেলার অধিকাংশ এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন বা বর্তমান যুগেই।

⇒ কুমিল্লা জেলা মেঘনা সমভূমি হতে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সমুদ্রতীর থেকে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশের গড় উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট, আর মেঘনা সমভূমির পশ্চিম ভাগের গড় উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট।
- সুতরাং জেলার এই সমভূমির ঢাল মৃদু এবং পশ্চিম দিকে কুমিল্লা শহরের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত, উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত লালমাই পাহাড় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নিম্ন জলাভূমি ব্যতীত সমগ্র সমভূমিটিকে সাধারণ ভাবে পশ্চিম-ঢাল সম্বলিত একটি সমতল ভূমি বলা যেতে পারে।

⇒ কর্কট ক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করার জন্য এ জেলা ক্রান্তীয় অঞ্চলের অর্ন্তভূক্ত।

⇒ প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। 
- ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ হয় ডেপুটি কমিশনার।
- ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু'টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

⇒ নদ-নদী:
- কুমিল্লায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী রয়েছে।
- এখানে প্রধান নদী গোমতী।
- কুমিল্লা জেলা প্রধানত গোমতী নদীর তীরেই অবস্থিত।
- ডাকাতিয়া, কাঁকরী নামে আরো দুটি নদী ও রয়েছে।
- গোমতীর উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকায়।
- গোমতীর দৈর্ঘ্য ১৩০.১২২ কিলোমিটার।
- এটি কুমিল্লার সদর, বুড়িচং, ব্রা্হ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দাউদকান্দি হয়ে মেঘনায় মিলেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
সাগরের সীমা সাধারণত কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. প্রাকৃতিকভাবে
  2. অর্থনৈতিকভাবে
  3. রাজনৈতিকভাবে
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিকভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিকভাবে
ব্যাখ্যা
মহাসাগর ও সাগর:
- পৃথিবীর জলরাশির যে আধার তার প্রধান ক্ষেত্র মহাসাগর ও সাগরসমূহ।
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- এর মধ্যে বৃহত্তম প্রশান্তমহাসাগর।
- এটির আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং ক্ষুদ্রতম হলো দক্ষিণ মহাসাগর যার আয়তন ১ কোটি ৪৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

⇒ মহাসাগরগুলোর গড় গভীরতাও সমান নয়।
- গড় গভীরতা সবচেয়ে বেশি প্রশান্তমহাসাগরের (৪,২৭০ মিটার) এবং সবচেয়ে কম গড় গভীরতা দক্ষিণ মহাসাগরের (১৪৯ মিটার)।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর সাগরসমূহ মহাদেশগুলোর উপকূলভাগে অবস্থিত।
- পৃথিবীতে অনেকগুলো সাগর রয়েছে।
- যেমন: আরব সাগর, পীত সাগর, জাপান সাগর প্রভৃতি।

⇒ সাগরগুলোর আয়তন মহাসাগরের তুলনায় অনেক কম এবং সাগরের সীমা সাধারণত প্রাকৃতিকভাগে নির্ধারিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নের কোন জলপ্রপাতটি সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত?
  1. স্ট্যানলি জলপ্রপাত
  2. গুয়ারিয়া জলপ্রপাত
  3. স্টবাক জলপ্রপাত
  4. লিভিংস্টোন জলপ্রপাত
সঠিক উত্তর:
স্টবাক জলপ্রপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টবাক জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা
স্টবাক জলপ্রপাত:
- স্টবাক জলপ্রপাত সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট (৯৮৪ ফুট)।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়াও,
- গুয়ারিয়া জলপ্রপাত ব্রাজিলে অবস্থিত।
- এঞ্জেল জলপ্রপাত ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।
- স্ট্যানলি ও লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত। 

উৎস: Britannica.
.
জিব্রাল্টার সংলগ্ন দেশ কোনটি?
  1. শ্রীলংকা
  2. ফ্রান্স
  3. ইরান
  4. স্পেন
সঠিক উত্তর:
স্পেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পেন
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার:
- ভূমধ্যসাগরের তীরে স্পেন উপকূলে ব্রিটিশ শাসিত একটি ভূখণ্ড জিব্রাল্টার।
- অঞ্চলটি ব্রিটিশদের অন্যতম সামরিক ও নৌঘাঁটি।
- এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে ‘রক অব জিব্রাল্টার’, যার পাদদেশে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের বসবাস।

⇒ জিব্রাল্টার নামটি নেওয়া হয়েছে আরবি জবাল তারিক বা তারিকের পাহাড় থেকে। 
- ১৭০৪ সালে স্পেনের কাছ থেকে জ্রিব্রাল্টার দখল করে ব্রিটিশরা।
- এর পর থেকেই অঞ্চলটি ব্রিটিশদের দখলে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি রয়েল নেভির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল।

⇒ জিব্রাল্টার প্রণালি বা স্ট্রেইট অব জিব্রাল্টার নামে পরিচিত প্রণালিটির পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর আর পূর্বে ভূমধ্যসাগর।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
- আর পৃথক করেছে ইউরোপের স্পেন এবং আফ্রিকার মরক্কোকে।
- জিব্রাল্টার প্রণালির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৪.৩ কিলোমিটার।
- বর্তমানেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস:  Britannica.
.
'বলিশিয়া ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
ভ্যালি:
- দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী প্রশস্ত সমতল ক্ষেত্র বা অসমতল ঢালু ক্ষেত্রকে উপত্যকা বা ভ্যালি বলে।

⇒ দেশের বিভিন্ন ভ্যালি:

- ভেঙ্গি ভ্যালি: রাঙামাটি,
- হালদা ভ্যালি: খাগড়াছড়ি,
- বলিশিয়া ভ্যালি: মৌলভীবাজার,
- সাজেক ভ্যালি: রাঙামাটি,
- সাঙ্গু ভ্যালি: চট্টগ্রাম,
- নাপিত খালি ভ্যালি: কক্সবাজার,
- মাইনমুখী ভ্যালি: রাঙামাটি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
সমুদ্রের যে অংশের মধ্যে জোয়ার-ভাঁটার সময় পানি উঠানামা করে তাকে বলা হয় -
  1. তটদেশীয় অঞ্চল
  2. ঝিনুক অঞ্চল
  3. মহীঢাল
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তটদেশীয় অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তটদেশীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
মহীসোপান (Continental Shelf):
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিয়দংশ ক্রমশ সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে।
- এরূপ ক্রমনিম্ন স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।

⇒ মহীসোপান অংশের পানির গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্তহয়ে থাকে।
- এটি এক ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপান অঞ্চলটি সমুদ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
- মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়।
- আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
- এ অংশের বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়।
- উপকূলভাগের বন্ধুরতার উপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে।
- মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে।

⇒ উপকূলীয় ঢালকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. তটদেশীয় অঞ্চল এবং
খ. ঝিনুক অঞ্চল।

ক. তটদেশীয় অঞ্চল (Litoral Zone):
- মহীসোপানের যে অংশের মধ্যে জোয়ার-ভাঁটার সময় পানি উঠানামা করে তাকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে।
- স্থল হতে সমুদ্র পর্যন্ত এ অঞ্চল প্রায় ৩.২ কিলোমিটার প্রশস্ত।
- পৃথিবীর তটদেশীয় অঞ্চলের আয়তন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার।

খ. ঝিনুক অঞ্চল (Neritic Zone):
- তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের শেষ সীমা পর্যন্তঅংশকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
- এ অঞ্চলে সমুদ্র তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল।
- সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয় ও গঠন প্রক্রিয়া এখানে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়।
- পৃথিবীতে ঝিনুক অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নের কোন কারণে খরা দেখা দিতে পারে?
  1. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা
  2. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ
  3. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

⇒ খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
মিসিসিপি নদীর উৎপত্তিস্থল -
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ইটাস্কা হ্রদ
  3. সুপিরিয়র হ্রদ
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
সঠিক উত্তর:
ইটাস্কা হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইটাস্কা হ্রদ
ব্যাখ্যা
মিসিসিপি নদী:
- মিসিসিপি নদী হলো উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য ৬২৭০ কি.মি.।
- নদীটির উৎস ইটাস্কা হ্রদ, যা আমেরিকার মিনোসোটার রাজ্যে অবস্থিত।
- মিসিসিপি নদীর প্রশস্ত অংশ বেনা।

উল্লেখ্য,
⇒ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তিস্থল:
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
ক্যানারি স্রোত কোনদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  3. ঘূর্ণন আকারে
  4. চক্রাকারে
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার দিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

⇒ আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয় কোনটি?
  1. কোস্টারিকা
  2. ফিলিপাইন
  3. আলবেনিয়া
  4. ব্রুনাই
সঠিক উত্তর:
আলবেনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবেনিয়া
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇒ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।

অন্যদিকে,
⇒ ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
'ব-দ্বীপ' কোন ধরনের সমভূমি?
  1. সঞ্চয়জাত
  2. হিমবাহ
  3. ক্ষয়জাত
  4. কার্স্ট
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়জাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়জাত
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে। 
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

⇒ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

⇒ অবস্থান ও গঠনপ্রণালির ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সমভূমিকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১) ক্ষয়জাত সমভূমি,
২) হৈমবাহিক সমভূমি,
৩) কার্স্ট সমভূমি,
৪) সঞ্চয়জাত সমভূমি.

⇒ সঞ্চয়জাত সমভূমি:
- বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- নদী, বায়ুপ্রবাহ ও হিমবাহের মাধ্যমে উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পলিমাটি, কাঁকর, বালু, কর্দম প্রভৃতি নিম্নস্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে সঞ্চয়জাত সমভূমি বলে।
- এ জাতীয় সমভূমি যে কোনো ভূমির তুলনায় অধিক উর্বরতাসম্পন্ন। 
- 'ব-দ্বীপ' এক ধরনের সঞ্চয়জাত সমভূমি।

⇔ ব-দ্বীপ:
- নদীর গতিপথের সর্বশেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সমুদ্রে পতিত হওয়ার পূর্বে নদীর গতি সর্বাধিক মন্থর থাকে এবং পানিতে পলির পরিমাণ থাকে সর্বাধিক।
- ফলে নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়।
- এ পলি সঞ্চিত হতে হতে বাংলা মাত্রাহীন 'ব' এর মতো যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে.
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, পাকিস্তানের সিন্ধু, মিশরের নীল, ব্রহ্মদেশের ইরাবতী, চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো, উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি, ইতালির পো প্রভৃতি নদীর মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর নিচের কোন প্রভাবটি পড়ে?
  1. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

⇒ নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি। 

এছাড়াও
- অতিবৃষ্টি, বন্যা, শহরে জলাবদ্ধতা, বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের এ সকল সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- তাই এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা তথা উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের জীবনরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি কোন ধরনের মালভূমি?
  1. আগ্নেয়জাত মালভূমি
  2. চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি
  3. পাদদেশীয় মালভূমি
  4. পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি
সঠিক উত্তর:
পাদদেশীয় মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাদদেশীয় মালভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি সুউচ্চ, বিস্তীর্ণ, প্রায় সমতল ভূমিরূপকে মালভূমি বলে।
- সমুদ্র পৃষ্ট হতে মালভূমির উচ্চতা কয়েকশত মিটার হতে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ও ভূ- পৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন ভূমি গঠন প্রক্রিয়ার কারণে মালভূমির সৃষ্টি হতে পারে।
- যেমন: পাত সঞ্চালন, ভূ-আন্দোলন, ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও লাভা সঞ্চয়ের মাধ্যমে মালভূমি গঠিত হয়ে থাকে।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা পাঁচ ভাগ জুড়ে মালভূমি অবস্থিত।

⇒ উৎপত্তির ধরণ অনুসারে পৃথিবীর মালভূমি সমূহকে প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন:
• ভূ-গাঠনিক মালভূমি (Tectonic Plateau),
• সঞ্চয়জাত মালভূমি (Depositional Plateau) ,
• ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional Plateau)।

⇒ অবস্থান, আকার-আকৃতি, গঠন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে মালভূমি সমূহকে প্রধানতঃ ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
(ক) পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি বা পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau),
(গ) চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি (Horst Plateau),
(ঘ) লাভা বা আগ্নেয়জাত মালভূমি (Lava Plateau),
(ঙ) ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional or Residual Plateau),
(চ) শীল্ড বা মহাদেশীয় মালভূমি (Shield or Continental Plateau)। 

⇔ পাদদেশীয় মালভূমি:
- উচ্চ পর্বতগাত্র থেকে নদী, হিমবাহ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সমূহ পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির একপাশে সাধারনতঃ সমভূমি বা সমুদ্র থাকে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি একটি পাদদেশীয় মালভূমি।

উৎস: ভূমিরূপ বিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
কোন মহাসাগরটি ইংরেজি 'S' অক্ষরের মতো?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean):
- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এ মহাসাগর আয়তনে প্রশান্তমহাসাগরের প্রায় অর্ধেক হলেও গুরুত্ব সর্বাধিক।
- কারণ পৃথিবীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান অংশ এ মহাসাগর দিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

⇒ এ মহাসাগরের আয়তন ৮ কোটি ২৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা ৩,৯৩২ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ৯,১৮৮ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগর তুলনামূলকভাবে প্রশান্তমহাসাগরের চেয়ে কম প্রশস্ত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ইংরেজি S অক্ষরের মতো বিস্তৃত।

⇒ এ মহাসাগরের পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- আর্কটিক সাগরসহ এটি সবচেয়ে লম্বা মহাসাগর যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
- স্থলভাগ সংলগ্ন অনেকগুলো অগভীর সাগর যেমন- আর্কটিক, বাল্টিক, ক্যারাবিয়ান, ভূ-মধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগর রয়েছে।
- এ মহাসাগরে পতিত নদীগুলোর মধ্যে আমাজান এবং কঙ্গো অন্যতম।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগরে বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে।
- এর মধ্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড অন্যতম।
- এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ, আইসল্যান্ড, সেন্ট পল বক দ্বীপ প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'বজ্রপাতের দেশ' বলা হয় কোনটিকে?
  1. জাপান
  2. ভুটান
  3. তিব্বত
  4. থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ভুটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুটান
ব্যাখ্যা
বজ্রপাতের দেশ:
- বজ্রপাতের দেশ: ভুটান।

অন্যদিকে,
⇒ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক উপনাম:
- নিশীথ সূর্যের দেশ: নরওয়ে।
- সূর্যোদয়ের দেশ: জাপান।
- নিষিদ্ধ দেশ: তিব্বত।
- শান্ত দেশ: কোরিয়া।
- সাদা হাতির দেশ: থাইল্যান্ড।
- সোনালী প্যাডোডার দেশ: মিয়ানমার।
- ধীবরের দেশ: নরওয়ে।
- হাজার হ্রদের দেশ: ফিনল্যান্ড।
- নীল নদের দেশ: মিশর।
- মরুভুমির দেশ: আফ্রিকা।
- চীর সবুজের দেশ: নাটাল (দ: আফ্রিকা)।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- দক্ষিণের গ্রেট ব্রিটেন: নিউজিল্যান্ড।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।
- ম্যাপল পাতার দেশ: কানাডা।

উৎস: Britannica.
১৮.
নিচের কোন বিষয়টি প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের সাথে জড়িত?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. নদী ভাঙন
  4. আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত।
- এগুলোকে প্লেট বলা হয়।

⇒ এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।

⇒ একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়।
- এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে।
- একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
- একেই ভূমিকম্প বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৯.
নিচের কোন গ্রন্থটি 'ইমানুয়েল কান্ট' রচিত?
  1. Critique of Practical Reason
  2. The Elements of Ethics
  3. Power: A New Social Analysis
  4. An Introduction to the Principles of Morals and Legislation
সঠিক উত্তর:
Critique of Practical Reason
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Critique of Practical Reason
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে,
- Power: A New Social Analysis ও The Elements of Ethics বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত। 
- জেরেমি বেন্থাম রচিত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২০.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. জ্যাক রুশো
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডেরিখ নীটশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডেরিখ নীটশে
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: Britannica.
২১.
সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে -
  1. EEC
  2. World Bank
  3. IMF
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

⇒ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
- বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নি:স্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ -
  1. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  2. সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  3. ঐশ্বরিক মতবাদ
  4. বল প্রয়োগ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনমূলক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনমূলক মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ হলো ঐশ্বরিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো- বিধাতাই রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা।
- রাজা বা শাসক, সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
- শাসক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- শাসকের মনোনয়ন কিংবা বিনাশ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।
- তবে শাসক ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিক শক্তিশালী গোত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে।
- পরবর্তীতে পরাজিত গোত্রের ওপর আইন কানুন চাপিয়ে আনুগত্য আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করা হয়।
- এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তিই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ পরম শান্তিতে বসবাস করত।
- তারা প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।
- ঐতিহাসিক বিবর্তনের পথে নানা উপাদানের প্রভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
- বিবর্তনবাদকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যুক্তিযুক্ত ও সর্বজন গ্রাহ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
- সুতরাং রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মতবাদ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
'নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন' - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আইভর ব্রাউন
  2. থমাস হবস
  3. জেমস মিল
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
আইভর ব্রাউন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইভর ব্রাউন
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ 'Ethics' যা গ্রিক শব্দ 'ইথস' (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো 'চরিত্র' বা রীতিনীতি (Character or Custom)।
- প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।

উল্লেখ্য,
- ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।"
- Godiwalla & Faramarz এর মতে, " নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।"
- Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
ব্যক্তি জীবনে মূল্যবোধ অর্জনের সর্বোত্তম সময় কোনটি?
  1. শিশুকাল
  2. শিক্ষাজীবন
  3. চাকরিজীবন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাজীবন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫.
'গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ' - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. এরিস্টটল
  4. মিলার
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।

⇒ আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
জাতিসংঘ কত সালে সুশাসনের 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২৭.
অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে, সুনাগরিকের গুণাবলী হলো ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও _____________।
  1. জ্ঞান
  2. বিবেক
  3. আচরণ
  4. নিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
নিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
'রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন'- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. ম্যাকিয়াভ্যালি
  3. রুশো
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবাদপত্র জনমত গঠনের অন্যতম বাহন।
- সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে জনগণ স্থানীয়, দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যাবতীয় তথ্য ও সংবাদ জানতে পারে।
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।
- সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনার ভয়ে সরকার সংযত থাকে।
- এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, সংবাদ মাধ্যম যেভাবে বলে, জনমত সেভাবে গড়ে ওঠে।
- তবে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন সুষ্ঠু জনমত গঠনে সহায়ক নয়।
- অধ্যাপক লাস্কি তাই বলেন, "রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৯.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড' -উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. উইলিয়াম
  4. মেরিল
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩০.
ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার কোনটি?
  1. পরিবার
  2. আইনসভা
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. সংবাদ মাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।
- জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

• পরিবার:
- ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার হল পরিবার।
- শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি, নির্দেশনা, আনুগত্য, মতপ্রকাশ, শিষ্ঠাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, চিন্তা ও আদর্শ- এ সবই শিশুকাল থেকে শুরু করে সারাজীবন ধরে শেখে এবং অর্জন করে নিজ পরিবার থেকে।
- রাষ্ট্রে জনমত গঠনে পরিবার তাই প্রাথমিক ও স্থায়ী বাহন।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
নিচের কোনটি সমাজকর্মের মূল্যবোধ?
  1. আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  2. আচার-আচরণ পরিচালনা
  3. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার
  4. সমান সেবাদান
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
সমাজকর্ম মূল্যবোধ:
- সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা (helping profession), যা সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা সমৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রাপ্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে থাকে।
- অন্যান্য পেশার ন্যায় সমাজকর্মেরও কতিপয় পেশাগত মূল্যবোধ রয়েছে, যা সমাজকর্ম মূল্যবোধ নামে পরিচিত।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে পেশাগত মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে সমাজকর্মীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ কিছু মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, যা পেশাগত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণত যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের উপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।

⇒ সমাজকর্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে জুডিথ সেভেন ও অন্যান্যরা তাঁদের "Social Work Skill: Demonstrated Begining Direct Practice" গ্রন্থে বলেন, "সমাজকর্ম একটি অনুশীলনধর্মী পেশা, যা কিছু মৌলিক মূল্যবোধ যেমন- আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতায়ন, গোপণীয়তা এবং সকল মানুষের মূল্য ও মর্যাদার বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
- সমাজবিজ্ঞানী চালর্স এ. লেভী (Charles S. Levy) তাঁর "The Value Base of Social Work" গ্রন্থে বলেন, "জনগণের পছন্দ, ফলাফল, তাদের অধিকতর পছন্দের ধারণা ও জনগণের সাথে কাজ করার রীতিগত সমষ্টি হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজকর্ম একটি মানবকল্যাণমুখী পেশাগত কর্মকাণ্ড।
- সমাজকর্ম অনুশীলন ও সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা প্রদান ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সমাজকর্ম মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- যেমন- ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকার, সকলের সমান সুযোগ দান, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ইত্যাদি।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
'গোপনীয়তা বজায় রাখা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে।
- যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
'নারী ও মানব পাচার' কোন ধরনের অপরাধ?
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. সংগঠিত অপরাধ
  3. ভদ্রবেশী অপরাধ
  4. আত্মবিনাশ অপরাধ
সঠিক উত্তর:
সংগঠিত অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগঠিত অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

• অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪.
গণতন্ত্রের প্রাণ বলা যায় কোনটিকে?
  1. সহমর্মিতা
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. সৌহার্দ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
- অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
- সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।