পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়30 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
পার্ট – ১: বাংলা ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ (সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ) ২. পদ-প্রকরণ (পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ) ৩. বাক্য প্রকরণ (বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ---------------- পার্ট – ২: সাধারণ বিজ্ঞান টপিকসমূহ: জীববিজ্ঞান: ১. পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, উদ্ভিদ টিস্যু, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, প্লান্ট নিউট্রেশন, উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি ও পরাগায়ন ইত্যাদি। ২. প্রাণিজগৎ ও প্রাণিবিজ্ঞান, জেনেটিক্স, জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও প্রজনন, প্রাণী টিস্যু, প্রাণী অর্গান ও অর্গান সিস্টেম, মানব হৃদ্পিণ্ড ও হৃদরোগ, স্নায়ু ও স্নায়ুরোগ, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির জীববিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
‘হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন’ এটি কোন ধরণের বাচ্য?
  1. ক) ভাববাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) কর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য - এখানে কর্তার অর্থ প্রাধান্য পায় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়।
- যেমন: 
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 

• কর্মবাচ্য: 
- কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি হয়। 
- দ্বারা,দিয়ে ও কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার হয়। 
- ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়ে থাকে।
যেমন: 
হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।

• ভাববাচ্য: 
- এই বাচ্যে কোন কর্ম থাকে না।
- ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়।
যেমন-
- আমার খাওয়া (কর্তায় ষষ্ঠী) হল না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়া) এ কাজ হবে না।  
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা 
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা  
  4. ঘ) আকাঙ্খা 
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
.
‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’- বাক্যে ‘জনে জনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মকারকে ৭মী
  2. খ) করণ কারকে ২য়া
  3. গ) কর্মকারকে ৩য়া     
  4. ঘ) করণ কারকে ২য়া
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মকারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয় - দুধকে(উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা(বিধেয় কর্ম)। 

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
- ১মা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক, বই এনো, বাঘে মানুষ খায়। 
- ২য়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক, তাকে বল।
- ৬ষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
- ৭মী বিভক্তি: ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
  2. খ) বেশ ঘুম হয়েছে
  3. গ) সে ঘুমিয়ে আছে
  4. ঘ) আমি ঘুম থেকে জেগেছি
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হচ্ছে - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। 
- এখানে ঘুম হচ্ছে কর্ম এবং ঘুমিয়েছি হচ্ছে ক্রিয়াপদ। 

• সমধাতুজ কর্ম: 
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হয়।
- একে ধাত্বর্থকও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'খাসমহল' শব্দের 'খাস' উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) বিবিধ
  2. খ) সাধারণ
  3. গ) বিশেষ
  4. ঘ) অভাব
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে 'খাস' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করে।
- 'খাস' একটি আরবি উপসর্গ। 
যেমন:  খাস ( বিশেষ) > খাসমহল, খাসখবর।

এ ভাষায় আরো কয়েকটি উপসর্গ অর্থসহ দেওয়া হলো -
- আম (সাধারণ) > আমজনতা, আমদরবার, আমমোক্তার।
- বাজে ( বিবিধ) > বাজেখরচ, বাজেকাজ।
- লা (না) > লাপাত্তা,লাখেরাজ।
- গর ( অভাব) > গরমিল,গররাজি। 
- খয়ের ( ভাল) > খয়ের খাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোন শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) সিংহাসন
  2. খ) প্রতিদিন
  3. গ) জমাখরচ
  4. ঘ) মুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জমাখরচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জমাখরচ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে দ্বন্দ্ব সমাস হচ্ছে জমাখরচ। 

• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
- এক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযোগ ঘটে।
যেমন: জমাখরচ, ভালোমন্দ, ধীরেসুস্থে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'লোকে কিনা বলে' - বাক্যের 'লোক' শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
  1. ক) -তে বিভক্তি
  2. খ) -রে বিভক্তি
  3. গ) -এ বিভক্তি
  4. ঘ) -কে বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) -এ বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) -এ বিভক্তি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে -এ বিভক্তি বসেছে।
- এখানে লোক + এ = লোকে শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

• বিভক্তি: 
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বুঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সাথে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- যেমন: -তে, -রে, -এ, -কে, -য়, -য়ে, -য়ের, -এর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
"কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়" - এ বাক্যে 'কৃষক' কোন কর্তা?
  1. ক) প্রযোজক কর্তা
  2. খ) মুখ্য কর্তা
  3. গ) প্রযোজ্য কর্তা
  4. ঘ) ভাববাচ্যের কর্তা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক কর্তা
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা। 

- কর্তৃকারকে বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের রীতি ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে বাক্যের কর্তা কয়েক রকমের হতে পারে।
যেমন:

মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়। 
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

প্রযোজক কর্তা
- মুখ্য কর্তা যখন অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করায় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
-  কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়।
এখানে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।

প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে মুখ্য কর্তার কাজ সম্পাদিত হয় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
- মিতা বাচ্চাটিকে হাঁটাচ্ছে।
এখানে 'বাচ্চাটি' হলো প্রযোজ্য কর্তা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
"ওসমান ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিস্ময়সূচক বাক্য
  2. খ) বিবৃতিমূলক বাক্য
  3. গ) প্রশ্নবোধক বাক্য
  4. ঘ) আদেশসূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃতিমূলক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃতিমূলক বাক্য
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নে 'ওসমান ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে' হচ্ছে - বিবৃতিমূলক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্য: 
- এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। 
- এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে - 
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
যে বাক্যে বক্তার নিজের কথাই অবিকল উদ্ধৃত হয় তাকে কি বলে?
  1. ক) উক্তি
  2. খ) প্রত্যক্ষ উক্তি
  3. গ) পরোক্ষ উক্তি
  4. ঘ) বাচ্য
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যক্ষ উক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যক্ষ উক্তি
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে বক্তার নিজের কথাই অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।

• উক্তি:
- কোনো কিছু বলার নামই উক্তি।
- উক্তি দুই প্রকার। 
- যথা: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
অর্থ অনুসারে বাংলা বাক্যকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে বাংলা বাক্যকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়।

অর্থ অনুসারে বাংলা বাক্যের শ্রেণিবিভাগ: 
- বর্ণনা বা বিবৃতিমূলক বাক্য।
- প্রশ্নবোধক বাক্য।
- আদেশসূচক বাক্য।
- ইচ্ছাসূচক বাক্য। 
- বিস্ময়সূচক বাক্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব"- এই যৌগিক বাক্যের সরলরূপ হবে -
  1. ক) তুমি আসলে এরপর আমি চলে যাব।
  2. খ) তুমি আসো তারপর আমি যাব
  3. গ) তুমি এলে আমি যাব।
  4. ঘ) তুমি আসার পরপরই আমি চলে যাব।
সঠিক উত্তর:
গ) তুমি এলে আমি যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুমি এলে আমি যাব।
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত বাক্যটির সরলরূপ হচ্ছে - তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না। 
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
উদাহরণ: 
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব। 
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
"হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল না।
  2. খ) হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।
  3. গ) হৈমন্তী চুপ করে ছিল।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
খ) হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের নেতিবাচক রূপ হচ্ছে - হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিণত করার নিয়ম: 
- বাক্যের বিশেষণ পদটি বিপরীত শব্দে রূপান্তরিত করতে হবে।
- হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
- বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে নেতিবাচক করতে হবে।

এখানে,
- অপশনে 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল না' বাক্যে 'না' থাকলেও এটি নেতিবাচক বাক্য নয়। কারণ এতে বাক্যের ভাব পরিবর্তন হয়ে যায়।
- তাই অপশনের 'হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না' বাক্যটি সঠিক।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
  2. খ) শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
  3. গ) নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না।
  4. ঘ) শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
সঠিক উত্তর:
গ) নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না।
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে -
• উপসর্গের ক্ষেত্রে ঠিক নয় - নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় না। 
উপসর্গ: 
- এটি অব্যয়সূচক শব্দাংশকে বোঝায় যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- এর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই।
- উপসর্গ অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে ৷

এছাড়া উপসর্গের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে - 
- উপসর্গের ফলে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
- শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় ৷
- শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
- শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
- শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

সোর্স: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. ক) অ্যাারিস্টটল
  2. খ) জন রে
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) থিওফ্রাস্টাস
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়।

- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।

- তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens.

- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
১৬.
মানুষের প্রধান খাদ্য কোনটি?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন।
যেমন:

উদ্ভিজ্জ উৎস
শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস।
ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।
গ্লকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

প্রাণিজ উৎস
ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৭.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ক) ১২ ধরনের
  2. খ) ১৫ ধরনের
  3. গ) ১৮ ধরনের
  4. ঘ) ২০ ধরনের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার:
১. প্রাণিজ আমিষ  ও
২. উদ্ভিজ আমিষ।

• প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

• উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে (লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইনকে) অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮.
ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ কোনটি?
  1. স্কার্ভি
  2. অস্টিওম্যালাসিয়া
  3. পেলেগ্রা
  4. জেরপথ্যালমিয়া
সঠিক উত্তর:
জেরপথ্যালমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরপথ্যালমিয়া
ব্যাখ্যা
ভিটামিন A এর অভাবজনিত রােগ:

- ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা রােগ হয়।
- এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রােগ বলে। এই রােগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরােপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে ছোটদের রিকেটস ও বড়দের অস্টিওমেলাসিয়া রোগ হয়।
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- নিয়াসিন বা ভিটামিন বি ৩ এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। ফলে, ত্বকে লালচে দাগ পড়ে ও খসখসে হয়ে যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
নিম্নের কোন মৌলটির অভাবে রিকেটস রোগ হয়?
  1. ক) লৌহ (Fe)
  2. খ) ক্যালসিয়াম (Ca)
  3. গ) ফসফরাস (P)
  4. ঘ) পটাসিয়াম (K)
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম (Ca)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম (Ca)
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।


- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।


- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল।

প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।


- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 


- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২০.
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি পান করা প্রয়োজন?
  1. ক) ১-২ লিটার
  2. খ) ২-৩ লিটার
  3. গ) ৩-৪ লিটার
  4. ঘ) ৪-৫ লিটার 
সঠিক উত্তর:
খ) ২-৩ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২-৩ লিটার
ব্যাখ্যা
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন।


- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।  এ ছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে।


- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। মাছ, মাংস কিংবা শাক-সবিজিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে। 


- গরম আবহাওয়া ও কঠোর পরিশ্রমে দেহে পানির অভাব দেখা দেয়। শরীরে পানির অভাব হলে তীব্র পিপাসা হয়, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ত্বক কুঁচকে যায়। পানির অভাবে স্নায়ু ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।


- দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। শরীর থেকে যে পরমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, খাবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২১.
সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের স্বাভাবিক রক্ত চাপ পারদ স্তম্ভের কত মিলিমিটার?
  1. ক) ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. খ) ৯০-১১০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. গ) ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনি প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।


- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা ও রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।


- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ মিলিমিটার (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।


- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২২.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ক) ৫০-১০০ mg/dl
  2. খ) ১০০-২০০ mg/dl
  3. গ) ১৫০-২৫০ mg/dl
  4. ঘ) ২০০-৩০০ mg/dl
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০-২০০ mg/dl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০-২০০ mg/dl
ব্যাখ্যা
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।


- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।


- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।


- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।


- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl

- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালী অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালী গহ্বর ছোট হয়ে যায়।


- এই কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিথিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে। এর প্রভাবে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে।


- ধমনির গায়ে ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধপ্রাপ্ত হয়। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 


-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৩.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) লিউকেমিয়া
  3. গ) থ্যালাসেমিয়া
  4. ঘ) পলিসাইথিমিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।


- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।


- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:


১। পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।


২। অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।


৩। লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।


৪। লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।


৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।


৬। পারপুরা: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।


৭। থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।


- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৪.
এইডস (AIDS) রক্তের কোন অংশকে আক্রমণ করে?
  1. ক) B- সেল লিম্ফোসাইট
  2. খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। এটি একটি সংক্রামক রোগ।


- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।


- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে।


- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।


- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।


- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 


- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।


- AIDS প্রতরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৫.
জীব বিজ্ঞানের কোন শাখায় কীট পতঙ্গ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ইকোলজি
  2. খ) এন্টোমোলজি
  3. গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ঘ) মাইক্রোবায়োলজি
সঠিক উত্তর:
খ) এন্টোমোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এন্টোমোলজি
ব্যাখ্যা
- ইকোলজি: এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইকোলজির বাংলা প্রতিশব্দ হলো বাস্তুবিদ্যা


- এন্ডোক্রাইনোলজি: জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।


- এন্টোমোলজি: কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি


- মাইক্রোবায়োলজি: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি


- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: এ শাখায় জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।


-জেনেটিক্স: জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
২৬.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে নিচের কোনটি?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। প্লাস্টিড তিন ধরনের- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।


- ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 


- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে।


- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।


- ক্রোমোপ্লাস্ট: এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।


- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়।


- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।


- লিউকোপ্লাস্ট: যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 


- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
২৭.
সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের কতটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। বায়ুমণ্ডলের CO₂ পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে।


- আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP, NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়।


- সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন: ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক।


- ক্যালভিন চক্র বা C₃ গতিপথ: CO₂ আত্তীকরণের এ গতিপথকে আবিষ্কারকদের নামানুসারে ক্যালভিন-বেনসন ও ব্যাশাম চক্র বা সংক্ষেপে ক্যালভিন চক্র বলা হয়। অধিকাংশ উদ্ভিদে এই প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ 3-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড বলে এই ধরনের উদ্ভিদকে বলে C₃ উদ্ভিদ।


- ক্যালভিন তাঁর এ আবিষ্কারের জন্য ১৯৬১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।


- হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C₄ গতিপথ: অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M.D. Hatch ও C.R. Slack (1996 সালে) CO₂ বিজারণের আর একটি গতিপথ আবিষ্কার করেন। এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো 4-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড, তাই একে C₄ গতিপথ বলে।


- C₄ উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়।


- C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত ভূট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারন্যথাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C₄ পরিচালিত হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
২৮.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রো উপাদান কতটি?
  1. ক) ৬টি 
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।


- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।

 

- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।


- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।


- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।


-মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।


- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৯.
নিচের কোনটির অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি হয়?
  1. ক) ম্যাগনেশিয়াম
  2. খ) সালফার
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
ব্যাখ্যা
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে।


- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩০.
নিচের কোনটির অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়?
  1. ক) আয়রন
  2. খ) বোরন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
ব্যাখ্যা
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- বোরন (B) কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃড়তা দেয়। বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।


- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃড়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।


- বোরনের অভাবে কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩১.
কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে 
  4. ঘ) ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।


- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা। 

- প্যারেনকাইমা: উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়,পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়।


- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে।


- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্য দ্রব্য পরিবহন করা


- কোলেনকাইমা: কোলেনকাইমাগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়। কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়। তবে এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। এ টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়। এতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে। কোষপ্রাচীর চৌকোনাকার, সরু বা তির্যক হতে পারে।


- খাদ্য প্রস্তুত এবং উদ্ভিদদেহকে দৃঢতা প্রদান করা কোলেনকাইমার প্রধান কাজ। পাতার শিরা এবং পত্রবৃন্তে এদের দেখা যায়। এ কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন এরা খাদ্য প্রস্তুত করে।


- স্ক্লেরনকাইমা: এ টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়। প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগিনিনযুক্ত এবং যান্ত্রিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুকে স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু বলে।


- প্রাথমিক অবস্থায় কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম উপস্থিত থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে মৃত কোষে পরিণত হয়। উদ্ভিদদেহে দৃঢতা প্রধান এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা এর মূল কাজ।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি


৩২.
নিচের কোনটির দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত?
  1. ক) মানুষ 
  2. খ) অ্যামিবা
  3. গ) তিমি মাছ 
  4. ঘ) বট গাছ
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি। একটিমাত্র কোষ দিয়ে প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয়। বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি জীবদেহের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ  বৈশিষ্ট্য।


- কোনো কোনো জীবের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত, এদের বলা হয় এককোষী (unicellular) জীব। যেমন: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি। এককোষী জীব বিভাজনের মাধ্যমেই একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীব উৎপন্ন করে।


- আবার অনেক জীব একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত, এদের বলা হয় বহুকোষী (multicellular) জীব। যেমন: মানুষ, বট গাছ, তিমি মাছ ইত্যাদি জীব কোটি কোটি কোষ দিয়ে গঠিত।


- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একসময় কোটি কোটি কোষের একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়। আবার কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টি হয়ে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়।


- জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্যে কোষ বিভাজনের (cell division) মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে থাকে।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩৩.
নিচের কোনটি শ্বসন প্রক্রিয়ার বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) পানি
  4. ঘ) অজৈব লবণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অজৈব লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অজৈব লবণ
ব্যাখ্যা
- শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই রকম হতে পারে।

 

- বাহ্যিক প্রভাবক:

তাপমাত্রা
: ২০° সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫° সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসন হার কমে যায়। শ্বসনের জন্য উত্তম তাপমাত্রা ২০° সেলসিয়াস থেকে ৪৫° সেলসিয়াস।

অক্সিজেন: সবাত শ্বসনে পাইরুবিক এসিড জারিত হয়ে CO₂ ও H₂O উৎপন্ন করে। কাজেই অক্সিজেনের অভাবে সবাত শ্বসন কোনোক্রমেই চলতে পারে না।
পানি: পরিমিত পানি সরবরাহ শ্বসন ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু অত্যন্ত কম কিংবা অতিরিক্ত পানির উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

আলো: শ্বসন কার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলা আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O₂ গ্রহণ ও  CO₂ ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড: বায়ুতে CO₂ -এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার একটু খানি কমে যায়।

- অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:

খাদ্যদ্রব্য
: শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য (শ্বসনিক বস্তু) ভেঙ্গে  শক্তি, পানি এবং CO₂ নির্গত করে, তাই কোষে খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরণ শ্বসন হার নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎসেচক: শ্বসন প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এনজাইমের ঘাটতি শ্বসনের হার কমিয়ে দেয়।

কোষের বয়স: অল্প বয়স্ক কোষে, বিশেষ করে ভাজক কোষে প্রোটোপ্লাজম বেশি থাকে বলে সেখানে বয়স্ক কোষ থেকে শ্বসনের হার বেশি হয়।

অজৈব লবণ: কোনো কোনো লবণ শ্বসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করলেও কোষের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কোষের ভিতরে অজৈব লবণ থাকতে হয়।

কোষমধ্যস্থ পানি: বিভিন্ন শ্বসনিক বস্তু দ্রবীভূত করতে এবং এনজাইমের কার্যকারিতা প্রকাশের জন্য পানির প্রয়োজন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩৪.
একটি আদর্শ ফুলের কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।


- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা: পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।


- পুষ্পাক্ষ: ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপরে সাজানো থাকে তাকে বলা হয় পুষ্পাক্ষ। সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে। পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে। এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।


- বৃতি: একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি। এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা হয়। এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। তবে বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নে সাহায্য করে।


- দলমন্ডল: বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়। এরা সাধারণত রঙিন হয়।


- পুংস্তবক: দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এ স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। 


- পুংকেশরে দন্ডের ন্যায় অংশকে পুংদন্ড (Filament) এবং শীর্ষে থলের ন্যায় অংশকে পরাগধানী বা পরাগরেণুথলি (Anther) বলা হয়। পরাগধানী ও পুংদন্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বলা হয়।


- পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এ পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনল গঠন করে। এ পরাগনলে পুংজনন কোষ উৎপন্ন হয়। পুংজনন কোষ সরাসরি জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে।


- স্ত্রীস্তবক: পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। এটি ফুলের আরও একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। স্ত্রীস্তবকে এক বা একাধিক গর্ভপত্র থাকতে পারে। এর গর্ভপত্রের তিনটি অংশ থাকে। যথা: গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদন্ড (Style) ও গর্ভমুন্ড (Stigma)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম। 
৩৫.
শক্তি পিরামিডের শীর্ষে অবস্থান করে নিচের কোনটি?
  1. ক) খাদক
  2. খ) চূড়ান্ত খাদক
  3. গ) উৎপাদক 
  4. ঘ) সেকেন্ডারি খাদক
সঠিক উত্তর:
খ) চূড়ান্ত খাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চূড়ান্ত খাদক
ব্যাখ্যা
- একটি বাস্তুতন্ত্রের নির্দিষ্ট এলাকাতে এবং নির্দিষ্ট সময়কালে বিভিন্ন খাদ্যস্তরের জীব কর্তৃক ব্যবহৃত মোট শক্তির হিসেব অনুযায়ী অঙ্কিত লৈখিক চিত্রকে শক্তির পিরামিড বলা হয়।
- সাধারণত কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকা এবং এক বছর সময়কালের একক হিসেবে ব্যবহৃত শক্তির হিসাব করা হয়। 
- কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকায় এক বছর সময়কালে প্রথম খাদ্যস্তরের জীব তথা উৎপাদক যে পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করে, তা দ্বিতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি, আবার দ্বিতীয় স্তরের সংগৃহীত শক্তি তৃতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি।
-  চতুর্থ স্তরের জীব সবচেয়ে কম শক্তি ব্যবহার করে। এজন্য উৎপাদক পিরামিডের ভূমিতে এবং চূড়ান্ত খাদক শীর্ষে অবস্থান করে
- খাদ্য শৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ সব সময়ই একমুখী। এ শক্তি প্রবাহকে কখনো বিপরীতমুখী করা যায় না। প্রতিটি ধাপে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ শক্তি কমে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম। 
৩৬.
ইউরিয়া নিম্নের কোথায় তৈরি হয়?
  1. ক) বৃক্কে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) দেহকোষে
  4. ঘ) রেনাল ধমনিতে
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, বৃক্ক রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে নাইট্রোজেনেঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ইত্যাদি দেহ থেকে বের করে দেয়।
অর্থাৎ, মানবদেহে ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে আর রক্ত থেকে আলাদা করে বের করে দেয় বৃক্ক।


উৎস: National Library of Medicine, USA.
৩৭.
নিম্নের কোন অঙ্গজ জননের মাধ্যমে  মিষ্টি আলু তাদের বংশবৃদ্ধি করে?
  1. ক) দেহের খন্ডায়নের মাধ্যমে
  2. খ) মূলের মাধ্যমে
  3. গ) রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে
  4. ঘ) পাতার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
খ) মূলের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূলের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
- কোন ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

- অঙ্গজ জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়।

- যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে।


- প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন:


দেহের খন্ডায়ন: সাধারণত নিম্ন শ্রেণীর উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খন্ডিত হলে প্রতিটি খন্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে।

মূলের মাধ্যমে: কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন: পটল, সেগুন ইত্যাদি। কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসালো হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়, যেমন: মিষ্টি আলু

রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে: উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয় অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। যেমন: টিউবার, রাইজোম, কন্দ (বাল্ব), স্টোলন, অফসেট, বুলবিল ইত্যাদি রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে এরা নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। যেমন: আলু, আদা, পিঁইয়াজ, রসুন ইত্যাদি।

পাতার মাধ্যমে: কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন: পাথরকুচি

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি