পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ পরীক্ষার টপিক: ১. কারক ও বিভক্তি, ২. বচন, লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, যতিচিহ্ন, ৩. পদ প্রকরণ। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
'সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে।'- এখানে 'সৌন্দর্যে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তৃ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে। 
[বাক্যকে 'কোনো বিষয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সৌন্দর্যে'। তাই বাক্যে 'সৌন্দর্য' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1.  শুক
  2. অরক্ষণীয়া
  3. শিল্পী
  4. রজক
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। 
যেমন-
- এয়ো,
- সতীন,
- সৎমা,
- সধবা,
- কুলটা,
- বিধবা,
- অরক্ষণীয়া,
- সপত্নী ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- শুক - শারি।
- রজক - রজকী।
'শিল্পী' একটি উভয়লিঙ্গ শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
নিচের কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. ফুল
  2. লবণ
  3. জনতা
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:  এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:  গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

.
"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে  ২য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা

"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি।
এখানে,
- মানুষকেও' পদটিতে 'মানুষকে' হল পদের মূল অংশ, যার সাথে 'ও' অনুসর্গটি যুক্ত হয়েছে।
- এখানে 'মানুষকে' শব্দটি বাক্যের কর্মপদ, কারণ যাকে দেখা হচ্ছে সেই কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে 'মানুষকে' উদ্দেশ্য করে। তাই এটি কর্ম কারক।
-  'ও' একটি সংযোজক অনুসর্গ যা পদের সাথে যুক্ত হয়েছে।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'মরদ' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ভবানী
  2. জেনানা
  3. মর্দিনী
  4. জিগা
ব্যাখ্যা

• 'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ — 'জেনানা'।

এখানে,
- 'মরদ' শব্দের অর্থ - পুরুষ, পতি। 
- 'জেনানা' শব্দের অর্থ - পত্নী, নারী।

• যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদেরকে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান-খানম, 
- মরদ-জেনানা,
- মালেক-মালেকা, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'খুব ভালো খবর।'  বাক্যে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

.
'কাজের বেলা গোল করো না।' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

•'কাজের বেলা গোল  করো না।' এখানে 'বেলা' অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুণিনী
  2. ডাক্তারনি
  3. অরণ্যানী
  4. নাটিকা
ব্যাখ্যা

ডাক্তারনি একটি অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ। 

অবজ্ঞাসূচক কয়েকটি স্ত্রী-বাচক শব্দ হচ্ছে:
- ডাক্তার - ডাক্তারনি, 
- দারোগা - দারোগানি, 
- জমিদার - জমিদারনি, 
- মাস্টার - মাস্টারনি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- গুণিনী - সংস্কৃত ইন্‌ ভাগান্ত লিঙ্গান্তরে স্ত্রীবাচক শব্দ।
- অরণ্যানী - বৃহদার্থে  স্ত্রীবাচক শব্দ।
- নাটিকা - ক্ষুদ্রার্থে  স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
"সে নিজে অঙ্কটা করছে।" বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

১০.
"কত ধানে কত চাল তা আমি জানি।" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

- কত ধানে কত চাল তা আমি জানি। অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
- ধান হতে উৎপত্তি বুঝিয়েছে তাই অপাদান কারক।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
'মাতঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতঙ্গা
  2. মাতঙ্গী
  3. ভুজঙ্গ
  4. মাতাঙ্গী
ব্যাখ্যা

• 'মাতঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ মাতঙ্গী।
• শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
- মানব-মানবী, 
- ময়ূর-ময়ূরী, 
- রাক্ষস-রাক্ষসী, 
- সিংহ-সিংহী, 
- সুন্দর-সুন্দরী, 
- হরিণ-হরিণী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই

• সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন
এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

১৩.
'কেঁদে মরি আঁখিজলে।' বাক্যে 'আঁখিজলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

- বাক্যে 'আঁখিজলে' শব্দটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যম বা উপায় বোঝাচ্ছে।
- যেহেতু এটি ক্রিয়ার মাধ্যম, তাই এটি করণ কারক। শব্দটির শেষে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, যা ৭মী বিভক্তি নির্দেশ করে।

করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ শব্দ নয় কোনটি?
  1. কৃতদার
  2. অকৃতদার
  3. পুরোহিত
  4. হুজুর
ব্যাখ্যা

• হুজুরের স্ত্রীবাচক শব্দ: হুজুরাইন।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:

যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. চমকানো
  2. করাচ্ছেন
  3. কাটা
  4. উঠে পড়া
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

• সরল ক্রিয়া: 

একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে- এগুলো সরল ক্রিয়া।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
- কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
- ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
- পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া;
- খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
- মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

১৬.
'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• 'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কর্তৃকারক।

• কর্তৃকারক:

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
  খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
  মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার:
1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়।
  উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
  উদাহরণ: রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।
4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৭.
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. চয়
  2. রাজি
  3. গুচ্ছ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

 ‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়'- বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধরনবাচক
  2. কালবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।

১৯.
'সকাল থেকে কাজ করো।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৩য়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে ৩য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর: গ) অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

বাক্য: “সকাল থেকে কাজ করো।”
এখানে “সকাল থেকে” — যে সময় থেকে কাজ শুরু হচ্ছে → সূত্র বা উৎপত্তি বোঝাচ্ছে, তাই এটি অপাদান কারক। “থেকে” হলো ৫মী বিভক্তি (অপাদান বিভক্তি)।
অপাদান সাধারণত যা থেকে কিছু শুরু বা বিচ্যুত হয়— সেই অর্থ প্রকাশ করে।
তাই “সকাল থেকে” = অপাদান কারক + ৫মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:

- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও 'হইতে', 'হতে', 'থেকে', 'দিয়া', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২০.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয় কোনটি?
  1.  মালা
  2. আবলি
  3. গুচ্ছ
  4. সঙ্ঘ
ব্যাখ্যা

• ‘সঙ্ঘ’ বহুবচন লগ্নকটি প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'সামঞ্জস্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• সামঞ্জস্য(বিশেষ্য)

অর্থ:
১ সমীচীনতা, উপযুক্ততা।
২ মিল, সংগতি (সামঞ্জস্য বিধান)।

অন্যদিকে,
সামঞ্জস্যপূর্ণ(বিশেষণ)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
'দিব তোমা শ্রদ্ধাভক্তি।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা

- তোমা' (তোমাকে) পদটি এখানে যাকে কিছু দান করা হচ্ছে তাকে বোঝাচ্ছে।
- বাক্যে যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান, অর্চনা, বা সাহায্য করা হয়, সেই পদটি সম্প্রদান কারক হয়।
- এখানে 'শ্রদ্ধাভক্তি' স্বত্ব ত্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি সম্প্রদান কারক।

সম্প্রদান কারক: 

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)

(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"

জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২৩.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক হলো-
  1. দাম
  2. সব 
  3. বৃন্দ
  4. ব্রজ
ব্যাখ্যা

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল
- ব্রজ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।

২৪.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. এক
  2. প্রথম
  3. পহেলা
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা

সংখ্যাশব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক ও
২. পূরণবাচক।

• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।

পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক

তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন - আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

২৫.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ: 
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

• অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ তিন প্রকার : 
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• সংখ্যা শব্দ দুই প্রকার:
যথা-
- ক্রমবাচক শব্দ,
- পূরণবাচক শব্দ।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন:
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি।

• পূরণ বাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
পূরণবাচক শব্দ তিন ধরনের হয়।
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৭.
"কথায় কথা বাড়ে।" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• "কথায়" শব্দটি এখানে "কথা" (বিশেষ্য) পদের সঙ্গে "য়" (সপ্তমী) বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। 
• বাক্যে "কথা" ক্রিয়াপদের সম্পাদনে উপকরণ বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে, তাই এটি করণ কারক।

করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।