পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, প্লান্ট নিউট্রেশন, পরাগায়ন ইত্যাদি। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই। [এই পরীক্ষা থেকে পড়া শুরু করলে আগামী ১৫০ দিনে বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাস কাভার হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা হয় কোথায়?
  1. ক) শারীরবিদ্যা (Physiology)
  2. খ) হিস্টোলজি (Histology)
  3. গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
  4. ঘ) কোষবিদ্যা (Cytology)
ব্যাখ্যা

শারীরবিদ্যাঃ জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালােকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলােচিত হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।
হিস্টোলজিঃ জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলােচনা করা হয়।
ভ্রূণবিদ্যাঃ জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
(উৎসঃ ১ থেকে ৪০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৯ম- ১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান থেকে নেয়া)

.
জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান-
  1. ক) জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)
  2. খ) অণুজীববিজ্ঞান (Micro-biology)
  3. গ) বংশগতিবিদ্যা (Genetics)
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
.
কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়?
  1. ক) অঙ্গসংস্থান
  2. খ) হিস্টোলজি
  3. গ) জীবভূগোল
  4. ঘ) অণুজীববিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
অণুজীববিজ্ঞান ফলিত জীববিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
.
নিচের কোনটিতে আদিকোষ থাকে?
  1. ক) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) অধিকাংশ জীবকোষে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা

আদিকোষঃ 
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
  2. খ) প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে
  3. গ) ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি
  4. ঘ) ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা

কোষপ্রাচীর (cell wall)
কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।

.
সবুজ ফল পাকার সময় বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় কিভাবে?
  1. ক) ক্লোরােপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে
  2. খ) ক্রোমােপ্লাস্ট ক্লোরােপ্লাস্ট-এ রূপান্তরিত হয়ে
  3. গ) অ্যামাইটোপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রোমােপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
সবুজ ফল পাকার সময় ক্লোরােপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
টমেটোর যে লাল টকটকে রং দেখা যায় তা এ ক্রোমােপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়।

.
নিচের কোনটিকে আত্নঘাতী থলিকা বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) লাইসোজোম
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা

লাইসােজোম (Lysosome)
লাইসােজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে বক্ষা করে। এর উতসেচক আগত জীবাণুগুলােকে হজম করে ফেলে। এর পরিপাক করার উৎসেচকগুলাে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
দেহে আক্সজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসােজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এর আশেপাশের অঙ্গগুলাে নষ্ট হয়ে যায়। কখনাে কোষটিই মারা যায়।

.
আবরণী টিস্যুর (Epithelial Tissue) কাজ কোনটি?
  1. ক) অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা (protection)
  2. খ) প্রােটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা (secretion)
  3. গ) বিভিন্ন পদার্থ শােষণ করা (absorption)
  4. ঘ) সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue)
এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ (lining) হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। এই টিস্যুর আরও চারটি কাজ হলাে:
অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা (protection),
প্রােটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা (secretion),
বিভিন্ন পদার্থ শােষণ করা (absorption) এবং
কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ (transcellular transport)করা।

.
একটি আদর্শ নিউরনের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) সিন্যাপস
  4. ঘ) অ্যাক্সন
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ নিউরনের তিনটি অংশ থাকেঃ
কোষদেহ,
ডেনড্রাইট এবং
অ্যাক্সন।
নিউরন কোষ বহুভুজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।

১০.
আলােক বর্ণালির কোন অংশটুকুতে সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা

আলােক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়।
আলাের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরােফিল উৎপাদন কম হয়।
ফলে সালােকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানােমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলােতে সালােকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালাে হয়।

১১.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকাঃ 
নাইট্রোজেন: উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরােফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
পটাশিয়াম: পত্ররন্ধ্র খেলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শােষণে সাহায্য করে। কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
ফসফরাস: মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান । ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।

১২.
অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) ম্যাংগানিজ
  2. খ) কপার
  3. গ) মােলিবডেনাম
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

ম্যাংগানিজ: ক্লোরােপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়ােজন।
কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োেজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
বােরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বােরন প্রয়ােজন, চিনি পরিবহনে বােরন পরােক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
মােলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মােলিবডেনাম আবশ্যক।
ক্লোরিন: সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়ােজন।

১৩.
উদ্ভিদে ক্লোরোসিস হয় কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরােফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরাোেফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরােসিস (chlorosis) বলে।
লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরােসিস হতে পারে কেননা এগুলােও ক্লোরােফিল উৎপাদনের সাথে কোনাে না কোনােভাবে জড়িত।
ক্লোরােসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

১৪.
গয়টার বা গলগন্ড মানবদেহের কোন গ্রন্থির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) পিটুইটারি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) থাইরয়েড
  4. ঘ) লালাগ্রন্থি
ব্যাখ্যা

গয়টার (Goitre)
প্রচলিত অর্থে গলগণ্ড বলতে থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনাে ফোলাকে বােঝায়। গলগণ্ডের কিছু বিশেষ ধরনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গয়টার নামে ডাকা হয়, অর্থাৎ সব গলগণ্ড গয়টার নয়।
টিউমার, ক্যান্সার, প্রদাহসহ নানা কারণে থাইরয়েড ফুলে যেতে পারে, সেগুলাে গয়টার নয়। গয়টার থাইরয়েড গ্রন্থির কোনাে নির্দিষ্ট রােগ বােঝায় না, বরং থাইরয়েডের বিভিন্ন রােগের এক সাধারণ বহিঃপ্রকাশকে বােঝায়। নানা কারণে গয়টার হতে পারে। খাবারে আয়ােডিনের অভাব গলগণ্ডের অন্যতম কারণ। সমুদ্র থেকে দূরে উত্তর বঙ্গ এবং পার্বত্য এলাকার মাটিতে আয়ােডিন কম থাকায় ওই সব অঞ্চলের মানুষের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

১৫.
উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে প্রধানত সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ফ্লোরিজেন
  3. গ) বার্নালিন
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায়্য করে। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে।
ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

১৬.
কোন ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়?
  1. ক) অক্সিন
  2. খ) জিবেরেলিন
  3. গ) সাইটোকাইনিন
  4. ঘ) ইথিলিন
ব্যাখ্যা

সাইটোকাইনিনঃ
এই ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। কোনাে কোনাে উদ্ভিদের মূলেও এদের পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এটি বিভিন্ন ঘনত্বে অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে।

১৭.
শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লোরিনেশন
  2. খ) ভার্নালাইজেশন
  3. গ) ভার্নাকুলেশন
  4. ঘ) এক্সিলারেশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং পুষ্পায়নে আলাের মতাে তাপ এবং শৈত্যেরও প্রভাব রয়েছে। দেখা গেছে অনেক উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজকে শৈত্য প্রদান করা হলে তাদের ফুল ধারণের সময় এগিয়ে আসে। শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন (Vernalization) বলে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে উদ্ভিদের পুষ্প সৃষ্টিতে উষ্ণতার প্রভাব পড়ে। শীতের গম গরমকালে লাগালে ফুল আসতে বহু দেরি হয়। কিন্তু বীজ রােপণের পূর্বে 2° সেলসিয়াস 5° সেলসিয়াস উষ্ণতা প্রয়ােগ করলে উদ্ভিদে স্বাভাবিক পুষ্প প্রস্ফুটন ঘটে।

১৮.
ফুলের বাইরের স্তবককে কী বলে?
  1. ক) বৃত্যাংশ
  2. খ) পুষপাক্ষ
  3. গ) পুষ্পবৃন্ত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। এর প্রতিটি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে। সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুতির কাজে অংশ নেয়। এদের প্রধান কাজ ফুলের ভিতরের অংশগুলােকে রােদ, বৃষ্টি এবং পােকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
১৯.
ফুলের গর্ভপত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) গর্ভদণ্ড
  3. গ) গর্ভমুণ্ড
  4. ঘ) গর্ভকেশর
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরের অবস্থান ফুলটির কেন্দ্রে। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত হতে পারে।
একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ
যথা:
গর্ভাশয় (Ovary),
গর্ভদণ্ড (Style) এবং
গর্ভমুণ্ড (Stigma)।

২০.
ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ কোনটি?
  1. ক) বৃতি ও দলমন্ডল
  2. খ) দলমন্ডল ও স্ত্রীস্তবক
  3. গ) দলমন্ডল ও পুংস্তবক
  4. ঘ) পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

পুংস্তবক (Androecium):
এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর (stamen) বলে।
পুংকেশরের দণ্ডের মতাে অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতাে অংশকে পরাগধানী থলি বলে। পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযােগকারী অংশকে যােজনী বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগ উৎপন্ন হয়।
স্ত্রীস্তবক
স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরের অবস্থান ফুলটির কেন্দ্রে। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত হতে পারে।

২১.
নিচের কোনটি যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া?
  1. ক) মুকুলােদগাম
  2. খ) বিভাজন
  3. গ) নিষেক
  4. ঘ) খণ্ডায়ন
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতে দুই ধরনের প্রজনন দেখা যায়, অযৌন প্রজনন (Asexual reproduction) এবং যৌন প্রজনন (Sexual reproduction)।
অযৌন প্রজনন: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন ঘটে। মুকুলােদগাম (Budding), বিভাজন, খণ্ডায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অযৌন প্রজনন হয়।
যৌন প্রজনন: যে প্রক্রিয়ায় দুইটি বিপরীত লিঙ্গের প্রাণী পুং ও স্ত্রী জনন কোষ বা গ্যামেট (Gamete) উৎপন্ন করে এবং তাদের নিষেকের মাধ্যমে প্রজনন ঘটায় এবং সন্তান-সন্তুতি উৎপন্ন করে, তাকে যৌন প্রজনন বলে।

২২.
নিচের কোনটি ডিপ্লয়েড?
  1. ক) শুক্রাণু
  2. খ) ডিম্বাণু
  3. গ) জাইগোট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যৌন প্রজননের জন্য নিষেক প্রয়ােজন। এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। যৌন প্রজননে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়। একীভূত হয়ে যে কোষটি উৎপন্ন হয় তাকে জাইগােট বলে।
ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উভয়ই হ্যাপ্নয়েড (n) অর্থাৎ এক প্রস্থ ক্রোমােজোম (Chromosome) বহন করে।
জাইগােট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুই প্রস্থ ক্রোমােজোমবিশিষ্ট। স্ত্রী ও পুং উভয় জননকোষের পূর্ণতা প্রাপ্তি নিষেকের পূর্বশর্ত।

২৩.
নিচের কোনটিতে বহিঃ নিষেক ঘটে?
  1. ক) মাছ
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিড়াল
  4. ঘ) ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীতে
ব্যাখ্যা

বহিঃ নিষেক: যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তা বহিঃ নিষেক নামে পরিচিত। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যেমন: বিভিন্ন ধরনের মাছ, ব্যাঙ প্রভৃতি। তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন: হাঙ্গর।
অন্তঃ নিষেক: স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক অন্তঃনিষেক নামে পরিচিত। সাধারণত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ ধরনের নিষেক ঘটায়।
অন্তঃনিষেক ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২৪.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে সকল প্রাণী অ্যানিম্যালিয়া জগতের অন্তর্ভুক্ত। অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।
এই নয়টি পর্বের প্রথম আটটি পর্বের প্রাণীরা অমেরুদণ্ডী এবং শেষ পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী।
(উৎসঃ ৪১ থেকে ৫০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান থেকে নেয়া)

২৫.
কোন পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সরলতম বহুকোষী প্রাণী। দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
কোনাে পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না।
উদাহরণ: Spongilla, Scypha

২৬.
হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা

নিডারিয়াঃ এই পর্ব ইতােপূর্বে সিলেন্টারেটা নামে পরিচিত ছিল।
পৃথিবীর প্রায় সকল অঞ্চলে এই পর্বের প্রাণী দেখা যায়। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক।
দেহ দুটি ভ্রণীয় কোষন্তর দ্বারা গঠিত। দেহের বাইরের দিকের স্তরটি এক্টাডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডাডার্ম।
দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এটা একাধারে পরিপাক ও সংবহনে অংশ নেয়।
এক্টোডার্মে নিডােব্লাস্ট নামে এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে। এই কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
উদাহরণঃ Hydra, Obelia

২৭.
কোন পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক?
  1. ক) মলাস্কা
  2. খ) একাইনোডার্মাটা
  3. গ) নিডারিয়া
  4. ঘ) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

এই পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক। পৃথিবীর সকল মহাসাগরে এবং সকল গভীরতায় এদের বসবাস করতে দেখা যায়। এরা অধিকাংশ মুক্তজীবী।
দেহত্বক কাঁটাযুক্ত। দেহ পাঁচটি সমান ভাগে বিভক্ত।
পানি সংবহনতন্ত্র থাকে এবং নালিপদের সাহায্যে চলাচল করে। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে, অঙ্কীয় ও পৃষ্ঠদেশ নির্ণয় করা যায় কিন্তু মাথা চিহ্নিত করা যায় না।
উদাহরণ: তারামাছ, সমুদ্র শশা।

২৮.
জনন কোষ উৎপন্নের সময় কোন কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়ােসিস
  4. ঘ) সমীকরণিক
ব্যাখ্যা

জনন কোষ উৎপন্নের সময় মিয়ােসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
এ ধরনের কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমােজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
এ বিভাজনে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ ধরনের বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়।
জনন মাতৃকোষ থেকে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপন্নের সময় এ ধরনের কোষ বিভাজন হয়।

২৯.
ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত কোনটির বিভাজনকে বোঝায়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসের
  2. খ) সাইটোপ্লাজমের
  3. গ) রাইবোজোমের
  4. ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়ার
ব্যাখ্যা

ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলা হয় মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়
ধাপগুলাে-
১. প্রােফেজ,
২. প্রাে-মেটাফেজ,
৩. মেটাফেজ,
৪. অ্যানাফেজ ও
৫. টেলােফেজ।
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে মূলত সাইটোকাইনেসিস বলে। নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলােফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়।

৩০.
উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ইমবাইবিশন
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) হাইড্রোনেশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের (যেমন- স্টার্চ, সেলুলােজ, জিলেটিন ইত্যাদি) পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলা হয়।