পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
৪৪তম বিসিএস সাবজেক্ট ফাইনাল - বাংলাদেশ বিষয়াবলী-১ (টপিকগুলোর বিস্তারিত সিলেবাস বাটনে বা পিএসসির সিলেবাসেই পাবেন।) [১০০ নাম্বার] ১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি ২) বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ ৩) বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪) বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
অস্থায়ী প্রবাসী সরকার কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে কবে?
  1. ক) ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. গ) ২৫ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের অস্থায়ী সদরদপ্তর স্থাপন করা হয় ৮, থিয়েটার রোড, কলকাতায়।

দীর্ঘ নয় মাসের সশ্বস্ত্র সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। এতে করে ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১ অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের সদস্যরা কলকাতা থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ও ডেইলি স্টার)
.
হিউয়েন সাঙ কার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন?
  1. ক) বর্ধমান
  2. খ) গৌতম বুদ্ধ
  3. গ) অতীশ দীপঙ্কর
  4. ঘ) শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাঙ একজন বিখ্যাত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। সপ্তম শতকে ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি উত্তর ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন। হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে হিউয়েন সাঙ উত্তর ভারতে আসেন।

তিনি নালন্দা মহাবিহারে প্রায় আট বছর অতিবাহিত করে বিহারের বাঙালি অধ্যক্ষ শীলভদ্রের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলার বিভিন্ন অংশ এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত ভ্রমণ করে পুনরায় মধ্য এশিয়া হয়ে চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
.
সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত লোকসঙ্গীত কোনটি?
  1. ক) ভাওয়াইয়া গান
  2. খ) আলকাপ গান
  3. গ) ধামাইল গান
  4. ঘ) গম্ভীরা গান
ব্যাখ্যা
সিলেট অঞ্চলে লোকসঙ্গীত সমূহের মধ্যে ধামাইল গান অন্যতম। ধামাইল (ধামালী) মূলত নারীদের আচারকেন্দ্রিক নাচ-গান। সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলায় হিন্দু মেয়েরা ব্রত, পালা-পার্বণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং জন্ম, বিবাহ প্রভৃতি সামাজিক উৎসবে ঘটা করে ধামাইল নাচ-গান করে থাকে।

সুরের দিক থেকে ভাটিয়ালি ঠাটের অন্তর্গত হলেও ধামাইল গানে দীর্ঘ টান বা মীড়ের দোলা নেই। করতালি দ্বারা গানের তাল রক্ষা করা হয়, স্বতন্ত্র বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
.
একুশ দফার প্রধান দাবী ছিলো কোনটি?
  1. ক) জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ
  2. খ) পূর্ব বাংলার স্বায়ত্বশাসন
  3. গ) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
  4. ঘ) অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।

২১ দফার প্রথম দফা বা দাবী ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
বঙ্গবন্ধু কোথায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ক) পল্টন ময়দান
  2. খ) আরমানিটুলা ময়দান
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১লা মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর অংশ হিসেবে ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (সাবেক রেসকোর্স ময়দান) একটি জনসভার আয়োজন করা হয়।

এই জনসভাতেই বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে ২৫শে মার্চ পুনরায় ঘোষিত জাতীয় পরিষদের যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবী উত্থাপন করেন।

এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
- ‍নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত করা
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।

৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬ এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) ৪ জানুয়ারি ১৯৭২
  2. খ) ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ৪ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ঘ) ৪ জুলাই ১৯৭২
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:
- ভুটান (প্রথম দেশ) : ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ভারত (দ্বিতীয় দেশ) : ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- পূর্ব জার্মানি : ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
- সোভিয়েত ইউনিয়ন : ২৫ জানুয়ারি ১৯৭২
- মালয়েশিয়া : ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২
- সেনেগাল : ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- যুক্তরাজ্য : ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- ইরাক : ৮ জুলাই ১৯৭২
- ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- জাপান : ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- পাকিস্তান : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- চীন : ৩১ আগস্ট ১৯৭৫।

(তথ্যসূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিস্ট দেশগুলোর সরকারি ওয়েবসাইট, নিউইয়র্ক টাইমস ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)
.
ফরায়েজী আন্দোলন ছিলো একটি-
  1. ক) কৃষক আন্দোলন
  2. খ) নীলকর বিরোধী আন্দোলন
  3. গ) ব্রিটিশ বিরোধী সশ্বস্ত্র আন্দোলন
  4. ঘ) ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল।

১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৯ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
এর মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও নদীপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) আ স ম আব্দুর রব
  3. গ) অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১০.
পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১১ জানুয়ারি ১৯৪৮
  2. খ) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  3. গ) ২৫ মার্চ ১৯৪৮
  4. ঘ) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এই অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতায় তার দাবী গৃহীত হয়নি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম ছয়দফা উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৬৫ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ২৩ জুন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়। ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৩.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এগারো দফা প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এগারো দফা দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৪.
বাংলাদেশের ধান চাষের মৌসুম কতটি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ধান চাষের মৌসুম হলো তিনটি।
এগুলো হলো:
- আউশ
- আমন এবং
- বোরো।

আউশ ধানের চাষ হয় চৈত্র/বৈশাখ থেকে আষাঢ়/শ্রাবণ সময়ে।
আমন ধানের চাষ হয় শ্রাবণ/ভাদ্র থেকে কার্তিক/অগ্রহায়ণ সময়ে।
বোরো ধানের চাষ হয় কার্তিক থেকে জ্যেষ্ঠ মাসে।

(তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট)
১৫.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম কতভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ২০ ভাগ
  2. খ) ২৫ ভাগ
  3. গ) ৩০ ভাগ
  4. ঘ) ৪০ ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়। তবে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৬.
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে উঠে কোথায়?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) হবিগঞ্চ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে উঠে সিলেটের মালিনীছড়ায় ১৮৫৪ সালে। তবে প্রথম চায়ের চাষ শুরু হয় চট্টগ্রামে ১৮৪০ সালে।
বর্তমানে দেশে চা বোর্ডের অধীনে মোট ১৬৭টি চা বাগান ও টি এস্টেট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড)
১৭.
দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভালুকা, ময়মনসিংহ
  2. খ) চকোরিয়া, কক্সবাজার
  3. গ) করমজল, খুলনা
  4. ঘ) সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
খুলনা জেলার করমজলে সরকারিভাবে পরিচালিত দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত।
এটি একটি লোনা পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্র। বন বিভাগের অধীনে ২০০৫ সালে এখানে কুমির প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম কুমির খামার গড়ে উঠে ময়মনসিংহে।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বিডিনিউজ)
১৮.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. ক) চাপালিশ
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) তেলসুর
  4. ঘ) সেগুন
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তেলসুর, চাপালিশ ও সেগুন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১৯.
কৃষি ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কীসের অভাব পূরণ করে?
  1. ক) পটাশিয়াম
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ফসফেট
  4. ঘ) জিংক
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার হলো কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রধান রাসায়নিক সার। এটি নাইট্রোজেনের অভাব পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয়। ইউরিয়া সার উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২০.
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
  1. ক) গজারি
  2. খ) সুন্দরী
  3. গ) সেগুন
  4. ঘ) গরান
ব্যাখ্যা
টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
শালবনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি।
শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
২১.
নিচের কোনটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাত?
  1. ক) ব্রি ধান-৫২
  2. খ) ব্রি ধান-৫৫
  3. গ) ব্রি ধান-৬২
  4. ঘ) ব্রি ধান-৬৭
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
- ব্রি ধান-৬৭
- ব্রি ধান-৬৯
- বিনা ধান-১০

অন্যদিকে,
- ব্রি ধান ৫২ : জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত
- ব্রি ধান ৫৫ : খরা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ
- ব্রি ধান ৬২ : জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতসমূহ।

(তথ্যসূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট)
২২.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) আখ
  3. গ) তৈলবীজ
  4. ঘ) আলু
ব্যাখ্যা
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলা হয়।
বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলসমূহ:
- পাট
- চা
- আখ বা ইক্ষু
- তামাক
- তুলা
- রাবার
- ফুল প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
তৈলবীজ, আলু ও পেঁয়াজ হলো খাদ্যশস্য।

(তথ্যসূত্র: ‍ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩.
BADC প্রধানত কী কাজ করে?
  1. ক) কৃষি উপকরণ সরবরাহ
  2. খ) ধানের জাত উন্নয়ন
  3. গ) কৃষি ঋণ বিতরণ
  4. ঘ) গম ও ভুট্টার জাত উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান।
BADC এর কার্যাবলি সমূহ:
- বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ
- সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন
- কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ প্রভৃতি।

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: BADC ওয়েবসাইট)
২৪.
‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) রাবার
  2. খ) চিংড়ি
  3. গ) তুলা
  4. ঘ) পাট
ব্যাখ্যা
চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্যে বাংলাদেশে চিংড়িকে 'হোয়াইট গোল্ড' বলা হয়।
গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ২৯ কোটি ইউএস ডলার।
চিংড়ি উৎপাদনের আধিক্যের জন্যে খুলনা অঞ্চলকে কুয়েত সিটি বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বনিকবার্তা)
২৫.
পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ক) রাজবাড়ী
  2. খ) পাবনা
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) নাটোর
ব্যাখ্যা
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন : ২৫.৬ লক্ষ মে. টন।
পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ তিন জেলা:
- প্রথম : পাবনা (৬.০১ লক্ষ মে. টন)
- দ্বিতীয় : ফরিদপুর (৪.৯১ লক্ষ মে. টন)
- তৃতীয় : রাজবাড়ী (৩.৩৭ লক্ষ মে. টন)।

(তথ্যসূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর)
২৬.
বাংলাদেশের জিডিপিতে কোন খাতের অবদান সর্বাধিক?
  1. ক) সেবাখাত
  2. খ) কৃষিখাত
  3. গ) মৎস্যখাত
  4. ঘ) শিল্পখাত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি নির্ণয়ে প্রধান খাত হলো তিনটি।
এগুলো হলো:
- কৃষিখাত
- শিল্পখাত
- সেবাখাত।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে স্থিরমূল্যে জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান:
- কৃষিখাত : ১২.০৭ শতাংশ
- শিল্পখাত : ৩৬.০১ শতাংশ
- সেবাখাত : ৫১.৯২ শতাংশ।

বাংলাদেশের জিডিপিদে সেবাখাতের অবদান সর্বাধিক। শিল্পখাতের অবদান ক্রমবর্ধমান। কৃষিখাতে সর্বাধিক জনশক্তি নিয়োজিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
২৭.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়?
  1. ক) বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক
  2. খ) বেসিক ব্যাংক
  3. গ) রূপালি ব্যাংক
  4. ঘ) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ৬টি।
এগুলো হলো:
- সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
- জনতা ব্যাংক লিমিটেড
- অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
- রূপালি ব্যাংক লিমিটেড
- বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
- বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকের সংখ্যা তিনটি।
এগুলো হলো:
- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
২৮.
দেশের বৃহত্তম চিনিকল কোনটি?
  1. ক) নর্থবেঙ্গল সুগার মিলস লি.
  2. খ) ফরিদপুর সুগার মিলস লি.
  3. গ) সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লি.
  4. ঘ) কেরু এন্ড কোং (বিডি) লি.
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সর্ববৃহৎ চিনিকল হলো কেরু এন্ড কোং (বিডি) লিমিটেড। এটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় অবস্থিত যা ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের অধীনে মোট ১৫টি চিনিকল রয়েছে৷ এর মধ্যে নাটোরে অবস্থিত নর্থবেঙ্গল চিনিকল দেশের প্রথম চিনিকল।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ওয়েবসাইট)
২৯.
কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ সর্বাধিক রেমিট্যান্স আহরণ করে?
  1. ক) সৌদি আরব
  2. খ) মালয়েশিয়া
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা
২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ২৪.৭৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

দেশ অনুযায়ী রেমিট্যান্স প্রবাহের শীর্ষ উৎস:
- প্রথম : সৌদি আরব (৫৭২.১৪ কোটি মা. ডলার)
- দ্বিতীয় : যুক্তরাষ্ট্র (৩৪৬.১৬ কোটি মা. ডলার)
- তৃতীয় : সংযুক্ত আরব আমিরাত (২৪৩.৯৯ কোটি মা. ডলার)
- চতুর্থ : যুক্তরাজ্য (২০২.৩৬ কোটি মা. ডলার)
- পঞ্চম : মালয়েশিয়া (২০০.২৩ কোটি মা. ডলার)

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
৩০.
নিচের কোন দেশে বাংলাদেশ রপ্তানি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে?
  1. ক) সিঙ্গাপুর
  2. খ) ইউক্রেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশসহ মোট ৩৮টি দেশে রপ্তানি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে।
ইইউ বর্হিভূত দেশগুলো হলো:
- যুক্তরাজ্য
- অস্ট্রেলিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- জাপান
- কানাডা
- তুরস্ক
- রাশিয়া
- বেলারুশ
- লিচেনস্টাইন
- নরওয়ে এবং
- সুইজারল্যান্ড।

(তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৩১.
GDP হিসাবের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি গণ্য করা হয় না?
  1. ক) দেশে কর্মরত বিদেশীদের আয়
  2. খ) রপ্তানি আয়
  3. গ) প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স
  4. ঘ) ইপিজেডসমূহের উৎপাদন
ব্যাখ্যা
GDP (Gross Domestic Product) স্থূল দেশজ উৎপাদন হলো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে উৎপন্ন সকল পণ্য ও সেবার মূল্যের সমষ্টি।

GDP হিসাব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত প্রবাসীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয় না। তবে দেশে কর্মরত বিদেশীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
মোট জাতীয় আয় (GNP) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অর্জিত আয় বা রেমিট্যান্স যুক্ত হয় এবং দেশে অবস্থিত বিদেশীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয় না।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি)
৩২.
নিচের কোনটি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নির্বাহী কমিটি?
  1. ক) বিএসইসি
  2. খ) এনইসি
  3. গ) একনেক
  4. ঘ) নিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নির্বাহী কমিটি হলো ECNEC (Executive Committee of the National Economic Council)। এটি ১৯৮২ সালে গঠিত হয়।
ECNEC এর চেয়ারপার্সন হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকল্প চেয়ারপার্সন অর্থমন্ত্রী।

অন্যদিকে,
NEC (National Economic Council) হলো জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল
BSEC (Bangladesh Securities and Exchange Commission) হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন
NICAR (National Implementation Committee for Administrative Reform) হলো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসজনিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৩৩.
সাধারণ করদাতাদের জন্যে করমুক্ত আয়ের সীমা কত টাকা?
  1. ক) ৩ লক্ষ টাকা
  2. খ) ৩.৫ লক্ষ টাকা
  3. গ) ৪.৫ লক্ষ টাকা
  4. ঘ) ৪.৭৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা
চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা:

- সাধারণ ব্যক্তি করদাতা : ৩ লক্ষ টাকা
- তৃতীয় লিঙ্গ, মহিলা ও ৬৫ বছর উর্ধ্ব করদাতা : ৩.৫ লক্ষ টাকা
- প্রতিবন্ধি করদাতা : ৪.৫ লক্ষ টাকা
- গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা : ৪.৭৫ লক্ষ টাকা

(তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট)
৩৪.
কোন দেশের সহায়তায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ভারত
  3. গ) চীন
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটির অবস্থান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায়।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়। বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) জয়েন্ট বেঞ্চার হিসেবে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয়ের ৮০ শতাংশ চীন ঋণ সহায়তা বাবদ প্রদান করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই উৎপাদনে আসে।

(তথ্যসূত্র: NWPGCL ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার)
৩৫.
ক্লিংকার কোনটির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) প্লাস্টিক উৎপাদন
  2. খ) সার উৎপাদন
  3. গ) সিমেন্ট উৎপাদন
  4. ঘ) কাঁচ তৈরি
ব্যাখ্যা
ক্লিংকার সিমেন্ট তৈরির প্রধান সেকেন্ডারি কাঁচামাল। এটি এক প্রকার ছোট দানাদার জাতীয় বস্তু যা চুনাপাথর ও মাটিকে অত্যধিক তাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ক্লিংকারের সাথে জিপসাম মিশিয়ে সিমেন্ট তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশে লাফার্জ সুরমা কারখানা নিজেরা ক্লিংকার তৈরি করে। অন্যসব সিমেন্ট কারখানা বিদেশ থেকে ক্লিংকার আমদানি করে সিমেন্ট তৈরি করে থাকে।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও বাংলাদেশ ব্যাংক)
৩৬.
নিচের কোনটি অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য?
  1. ক) পাটজাত পণ্য
  2. খ) চামড়াজাত পণ্য
  3. গ) ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য
  4. ঘ) হস্তশিল্পজাত পণ্য
ব্যাখ্যা
যেসব রপ্তানি পণ্যের মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ৭০% এর কম সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য ধরা হয়।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
- বাইসাইকেল
- হোম টেক্সটাইল
- ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য
- পেট্রোলিয়াম উপজাত
- ঔষধ
- রাসায়নিক সার
- কসমেটিকস
- ওভেন গার্মেন্টস
- কটন প্রোডাক্টস প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- যেসব রপ্তানি পণ্যের কাঁচামালের যোগান স্থানীয় উৎস অথবা যেসব পণ্যের মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ৭০% বা তার বেশি সেগুলো হলো প্রচলিত রপ্তানি পণ্য।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
- পাট ও পাটজাত পণ্য
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
- শাকসবজি
- তাঁত ও হস্তশিল্পজাত পণ্য
- চা
- মাছ
- ফল
- চিংড়ি প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৩৭.
নিচের কোনটি খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য-দ্রব্য বিক্রি করে থাকে?
  1. ক) বিএডিসি
  2. খ) টিসিবি
  3. গ) বিএসটিআই
  4. ঘ) বিসিক
ব্যাখ্যা
Trading Corporation of Bangladesh (TCB) খোলা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন পণ্য-দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ করা, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আপদকালীন সময়ের জন্য বিভিন্ন পণ্য মজুদ করা, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা ইত্যাদি কার্যাদিও টিসিবি করে থাকে।

টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: টিসিবি ওয়েবসাইট)
৩৮.
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের অধীন শিল্পনগরীর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৭৫টি
  2. খ) ৭৬টি
  3. গ) ৭৯টি
  4. ঘ) ৮০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে দেশে বর্তমানে বিসিক শিল্পনগরীর সংখ্যা ৭৬টি। এসব শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত মোট শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৪,৬৬৬টি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)
৩৯.
প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বাধিক ব্যবহার হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন
  2. খ) সার উৎপাদন
  3. গ) গৃহস্থালি কাজে
  4. ঘ) ক্যাপটিভ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানির সিংহ ভাগ পূরণ করে থাকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ১০৮৫.৬ বিলিয়ন ঘনফুট।
খাত অনুযায়ী প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার:
- বিদ্যুৎ উৎপাদন : ৪৫.৯ শতাংশ
- শিল্পখাত : ১৫.৭ শতাংশ
- ক্যাপটিভ : ১৫.৩ শতাংশ
- গৃহস্থালি : ১৩.৩ শতাংশ
- সার উৎপাদন : ৫.৫ শতাংশ
- সিএনজি : ৩.৬ শতাংশ
- বাণিজ্যিক : ০.৭ শতাংশ
- চা বাগান : ০.১ শতাংশ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ : পৃষ্ঠা-১৪২)
৪০.
নিচের কোনটি অ-তফসিলি ব্যাংক?
  1. ক) বেসিক ব্যাংক লি.
  2. খ) পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক
  3. গ) প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক
  4. ঘ) কমিউনিটি ব্যাংক লি.
ব্যাখ্যা
অ-তফসিল ব্যাংক হলো সেসব ব্যাংক যেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত নয়। এসব ব্যাংক বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশের অ-তফসিলি ব্যাংকসমূহ হলো:
- আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক
- কর্মসংস্থান ব্যাংক
- গ্রামীণ ব্যাংক
- জুবিলি ব্যাংক এবং
- পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।

অন্যদিকে,
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হলো তফসিলভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক।
বেসিক ব্যাংক লিমিটেড হলো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক।
কমিউনিটি ব্যাংক হলো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
৪১.
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে বাংলাদেশ একটি-
  1. ক) অনুন্নত দেশ
  2. খ) নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ
  3. গ) উন্নয়নশীল দেশ
  4. ঘ) উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০৪৫ মা. ডলারের অধিক হওয়ায় ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ করবে।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
৪২.
২০১৫-২০১৬ ভিত্তি বছর অনুসারে বাংলাদেশের মোট জিডিপি কত বিলিয়ন মার্কিন ডলার?
  1. ক) ৩৫৩ বিলিয়ন
  2. খ) ৩৭১ বিলিয়ন
  3. গ) ৪১৬ বিলিয়ন
  4. ঘ) ৪৩৮ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
নতুন ভিত্তিবছর ২০১৫-২০১৬ অনুসারে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের:
- মোট জিডিপি : ৪১৬.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- মোট জাতীয় আয় : ৪৩৮.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট জিডিপি : ৩৫,৩০১,৮৪৮ কোটি টাকা
- মোট জাতীয় আয় : ৩৭,১৫৯,৯৬৬ কেটি টাকা।
- মাথাপিছু জিডিপি : ২,৪৬২ মার্কিন ডলার
- মোট জাতীয় আয় : ২,৫৯১ মার্কিন ডলার।

(তথ্যসূত্র: বিবিএস ওয়েবসাইট)