পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫৫: আইন বিষয়াবলী - ২১ Subject: The Constitutional Law Topic: History of Making the Constitution, Schedules, Preamble, Article 1-47A (Part I: The Republic, Part II: Fundamental Principles of State Policy, Part III: Fundamental Rights,).
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য কী হিসাবে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েম
  3. শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. জাতীয় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা" করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই সমাজব্যবস্থায় আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।

সংবিধানের ভাষ্যে স্পষ্ট উল্লেখ:
"আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে;"

অতএব, সংবিধানের ভিত্তিতে "শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা" রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো: 
ক) ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠা: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোর মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ধর্মীয় শাসনের ধারণার বিপরীত।
খ) সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েম: সংবিধানে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরোধী।
ঘ) জাতীয় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা নিশ্চিত করা: সংবিধানে ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি থাকলেও রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
.
সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিধানাবলী উল্লেখ আছে?
  1. প্রথম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. চতুর্থ ভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিধানাবলী তৃতীয় ভাগে (Articles 26 to 47A) উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যেমন জীবন, স্বাধীনতা, সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা, কর্মের অধিকার ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধান আছে।
- তৃতীয় ভাগের আওতায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে এবং রাষ্ট্রের প্রতি সেই অধিকার বাস্তবায়ন ও রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা আছে।
.
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব কীসের দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. আইন
  2. সংবিধান
  3. রাষ্ট্রপতির আদেশ
  4. প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়। সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে নাগরিকত্ব অর্জন বা হারানোর বিষয়টি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়।
- এটি একটি বৈধ আইনি প্রক্রিয়া, যা নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্বকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- নাগরিকত্বের নিয়মনীতির জন্য নির্দিষ্ট আইন প্রণীত হয়েছে যা নাগরিকত্বের বিভিন্ন শর্ত, প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী স্পষ্ট করে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬ নাগরিকত্ব:
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। 
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।
.
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন কী হবে?
  1. স্থগিত হবে
  2. বাতিল হবে
  3. সংশোধিত হবে
  4. কার্যকর থাকবে
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিধানাবলীর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন প্রচলিত আইন সংবিধান-প্রবর্তন হতে ততখানি বাতিল হয়ে যাবে।
- অর্থাৎ, যদি কোন আইন মৌলিক অধিকারসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেই আইনটি বাতিল হয়ে যাবে এবং রাষ্ট্র কোন নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারবে না যা মৌলিক অধিকারগুলোর সাথে অসমঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল:
(১) এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে। 
(৩) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
.
সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ছাড়া কী গ্রহণ করতে পারবেন না?
  1. বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব
  2. বিদেশী রাষ্ট্রের সম্মান
  3. বিদেশী রাষ্ট্রের পুরস্কার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩০ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করতে পারবেন না।
- এই বিধান নাগরিকদের জন্য বিদেশী রাষ্ট্র থেকে সম্মান বা পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে।
- এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা।

⇒ প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনগুলো হলো:
ক) বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব: যেমন নাইটহুড, স্যার, ডেম ইত্যাদি।
খ) বিদেশী রাষ্ট্রের সম্মান: কোনো বিশেষ সম্মাননা বা পদক।
গ) বিদেশী রাষ্ট্রের পুরস্কার: কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কার বা স্বীকৃতি।
ঘ) উপরের সবগুলো: অর্থাৎ খেতাব, সম্মান ও পুরস্কার সবই।
⇒ যেহেতু সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদে খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ সবই উল্লেখ আছে, তাই সঠিক উত্তর হবে ঘ) উপরের সবগুলো।

সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য:
এই বিধানটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করে যে, কোনো নাগরিক বিদেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো ধরনের সম্মান বা পুরস্কার গ্রহণ করলে তা যেন রাষ্ট্রের মর্যাদা বা নিরাপত্তাকে প্রভাবিত না করে।

সুতরাং, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো নাগরিক বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব, সম্মান বা পুরস্কার গ্রহণ করতে পারবেন না।
.
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করে গ্রহণের তারিখটি বাংলা ক্যালেন্ডারে কোন তারিখ?
  1. ১৩ কার্তিক, ১৩৭৯
  2. ১৮ কার্তিক, ১৩৭৯
  3. ২৬ ফাল্গুন, ১৩৭৯
  4. ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৯
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। এই তারিখটি বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক তারিখে পড়ে।

সংবিধানের ভাষ্যে স্পষ্ট উল্লেখ:
"এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।"

অতএব, বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করে গ্রহণের তারিখ বাংলা ক্যালেন্ডারে ১৮ কার্তিক, ১৩৭৯।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো:
ক) ১৩ কার্তিক, ১৩৭৯: এই তারিখটি সংবিধান গ্রহণের পূর্ববর্তী সময়ের, তাই এটি সঠিক নয়।
গ) ২৬ ফাল্গুন, ১৩৭৯: ফাল্গুন মাস সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে পড়ে, যা সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলছে না।
ঘ) ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৯: অগ্রহায়ণ মাস সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে পড়ে, তবে ৪ নভেম্বর ১৯৭২ এর বাংলা তারিখ ১৮ কার্তিক, ১৩৭৯ ছিল।
.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কী রয়েছে?
  1. পাটগাছ , শাপলা, তারকা ও চাঁদ
  2. ধান্যশীর্ষ, শাপলা, বটগাছ ও তারকা
  3. ধান্যশীর্ষ, শাপলা, পাটগাছ ও তারকা
  4. পাটগাছ , ধান্যশীর্ষ, শাপলা ও সূর্য
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) ধান্যশীর্ষ, শাপলা, পাটগাছ ও তারকা। 

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকটি একটি সজীব ও প্রাকৃতিক চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। এতে দুটি প্রধান উপাদান রয়েছে:
- ধান্যশীর্ষ (ধানগাছের শীর্ষ), যা বাংলাদেশের কৃষি ও জীবিকার প্রতীক।
- শাপলা (জলকুমুদিনী ফুল), যা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
- পাটগাছের তিনটি পরস্পর সংযুক্ত পত্র, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।
- দুইটি তারকা, যা বাংলাদেশে সাধারণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে।
এই প্রতীকটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনা এবং ঐতিহ্যকে ব্যক্ত করে।
-------
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:
 (১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলি আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

             
.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি কী?
  1. ধর্মীয় ঐক্য
  2. রাজনৈতিক সংহতি
  3. অর্থনৈতিক সমতা
  4. ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হলো ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তা।
- এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯-এ বর্ণিত, যেখানে বলা হয়েছে যে, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

- এটি বোঝায় যে, বাঙালী জাতীয়তা শুধুমাত্র ধর্ম বা রাজনৈতিক সংহতির উপর ভিত্তি করে নয়, বরং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতেও প্রতিষ্ঠিত।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ ছিল এই একক সত্তা প্রতিষ্ঠার পক্ষে, যেখানে বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে।
.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা- এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২ক
  2. অনুচ্ছেদ-৩
  3. অনুচ্ছেদ-৪
  4. অনুচ্ছেদ-৪ক
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংবিধানের প্রথম ভাগ এর অনুচ্ছেদ-৩ তে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে।
- এটি বাংলাদেশের ভাষাগত পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং দেশের সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা এবং স্বীকৃতির প্রতি একটি শক্তিশালী অঙ্গীকার।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ রাষ্ট্রভাষা:
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
১০.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ কোনটি?
  1. ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। এই তারিখটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
২৫ মার্চ ১৯৭১: এই রাতে পাকিস্তানি বাহিনী "অপারেশন সার্চলাইট" পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর গণহত্যা চালানো হয়। তবে এ দিন স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়নি।
৭ মার্চ ১৯৭১: বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতার প্রস্তুতির নির্দেশ দেন, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: এদিন পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে, তবে স্বাধীনতা ঘোষণার দিন নয়।

সংবিধানের ভাষ্যে স্পষ্ট উল্লেখ:
"আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া…"
অতএব, সংবিধানের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ২৬ মার্চ ১৯৭১-ই স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ।
১১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৫
  2. অনুচ্ছেদ ৩৪
  3. অনুচ্ছেদ ৩৩
  4. অনুচ্ছেদ ৩২
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৪-এ জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ এবং যদি এই বিধান লঙ্ঘিত হয়, তবে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এটি মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৪ জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ:
(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।
১২.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় কোনটি বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং এর রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

সংবিধানের ভাষ্যে স্পষ্ট উল্লেখ:
"আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।"

অতএব, "সংবিধানের প্রাধান্য"-ই বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ হিসেবে সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো:
ক) ধর্মীয় স্বাধীনতা: যদিও সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে, তবে এটিকে জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তির মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
গ) রাজনৈতিক স্বাধীনতা: সংবিধানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি প্রস্তাবনায় জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তির রূপে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত নয়।
ঘ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: সংবিধানে অর্থনৈতিক সাম্য ও সুবিচারের কথা বলা হলেও, এটিকে সরাসরি জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
১৩.
সংবিধানের ৪৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩১, ৩৫(১) ও (৩), এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হবে না?
  1. যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত
  2. গণহত্যাজনিত অপরাধের অভিযুক্ত
  3. মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ক অনুচ্ছেদ বিশেষ কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার অপ্রযোজ্য ঘোষণা করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অপরাধসমূহের জন্য আইন প্রযোজ্য হয়, তার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩১, ৩৫(১) ও (৩), এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধিকার প্রযোজ্য হবে না।
→  এই অপরাধগুলো হলো:
১) যুদ্ধাপরাধ (War Crimes)
২) গণহত্যা (Genocide)
৩) মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity)
৪) আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধ

এর ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তির কিছু অধিকার খর্ব হয়:
- ৩১ অনুচ্ছেদ: আইনের সমান সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার।
- ৩৫(১) অনুচ্ছেদ: আইনের ব্যতিরেকে কাউকে শাস্তি না দেওয়া।
- ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ: সুবিচারের জন্য প্রাসঙ্গিক আইনি সুবিধা পাওয়া।
- ৪৪ অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে হাইকোর্টে রিট করার অধিকার।
এছাড়াও, ৪৭ক(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো প্রতিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার অধিকার থাকবে না।

অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধানের নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য হবে না।
তাই, সঠিক উত্তর: "ঘ) উপরের সবগুলো"।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ক অনুচ্ছেদ: সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা:
- (১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না। 
- (২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোন প্রতিকারের জন্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করিবার কোন অধিকার সেই ব্যক্তির থাকিবে না।
১৪.
ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য কোনটি বিলোপ করা হবে?
  1. ধর্মীয় শিক্ষা
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. সাম্প্রদায়িকতা
  4. ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ করা হবে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২-এ বর্ণিত।
- ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রমে কোনো ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব না থাকা এবং প্রতিটি ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা।

- এখানে সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ করার মাধ্যমে রাষ্ট্র ধর্মীয় বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতা বন্ধ করার চেষ্টা করবে, যাতে সব ধর্মের অনুসারীরা সমান মর্যাদা পায় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে।

- অন্যদিকে, ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বাস্তবায়নে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে এসব বিষয় রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের বাইরে থাকবে।
--------------- 
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২ ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা:
 ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য 
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, 
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, 
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, 
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, 
বিলোপ করা হইবে।
১৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন তফশিলে শপথ ও ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. প্রথম তফশিল
  2. দ্বিতীয় তফশিল
  3. তৃতীয় তফশিল
  4. চতুর্থ তফশিল
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তফশিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফশিল সংযোজন করা হয়েছে।
- প্রথম তফশিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফশিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফশিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফশিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলি।
- পঞ্চম তফশিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফশিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফশিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

১৬.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে কোনটি পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা হবে?
  1. আইন বিভাগ
  2. সামরিক বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রশাসনিক বিভাগ
ব্যাখ্যা
→বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা হবে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গ (যেমন: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ) থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা যাতে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
- এই পৃথকীকরণের ফলে বিচারকরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন এবং কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের শিকার হবেন না, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি এবং জনগণের জন্য ন্যায়ের অধিকার নিশ্চিত করে।
-------
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ: 
 রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷
১৭.
হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি এমন একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য কে ছিলেন?
  1. আব্দুর রউফ
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. শাহ আজিজুর রহমান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানে একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য যিনি স্বাক্ষর করেননি, তিনি হলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

→ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংবিধান প্রণয়নের সময় তিনি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
- তবে তিনি বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি, এবং তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কারণে বিরোধিতা ছিল।
১৮.
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হলে তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও বাতিল হবে না?
  1. সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ
  3. খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধানের অধিকার নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, যদি সংসদ কোনো আইনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে সেটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কার্যকর করার জন্য প্রণীত হয়েছে, তবে তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও বাতিল হবে না।
বিশেষত, নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর জন্য করা আইন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও সংবিধানবিরোধী হিসেবে বাতিল হবে না—
- (ক) সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল।
- (খ) বাণিজ্যিক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ।
- (গ) খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধান ও লাভের অধিকার নিয়ন্ত্রণ।
এছাড়াও, এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি সরকার কোনো শিল্প, ব্যবসা বা বাণিজ্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলেও বাতিলযোগ্য হবে না।
তাই, ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে উপরের সবগুলো বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সঠিক উত্তর: "ঘ) উপরের সবগুলো"।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭: কতিপয় আইনের হেফাজত:
(১) নিম্নলিখিত যে কোন বিষয়ের বিধান-সংবলিত কোন আইনে (প্রচলিত আইনের ক্ষেত্রে সংশোধনীর মাধ্যমে) সংসদ যদি স্পষ্টরূপে ঘোষণা করেন যে, এই সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহের কোন একটিকে কার্যকর করিবার জন্য অনুরূপ বিধান করা হইল, তাহা হইলে অনুরূপ আইন এই ভাগে নিশ্চয়কৃত কোন অধিকারের সহিত অসমঞ্জস কিংবা অনুরূপ অধিকার হরণ বা খর্ব করিতেছে, এই কারণে বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে না:
(ক) কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল কিংবা সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা;
(খ) বাণিজ্যিক বা অন্যবিধ উদ্যোগসম্পন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ;
(গ) অনুরূপ যে কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপক, এজেন্ট ও কর্মচারীদের অধিকার এবং (যে কোন প্রকারের) শেয়ার ও স্টকের মালিকদের ভোটাধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ;
(ঘ) খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধান বা লাভের অধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ;
(ঙ) অন্যান্য ব্যক্তিকে অংশতঃ বা সম্পূর্ণতঃ পরিহার করিয়া সরকার কর্তৃক বা সরকারের নিজস্ব, নিয়ন্ত্রণাধীন বা ব্যবস্থাপনাধীন কোন সংস্থা কর্তৃক যে কোন কারবার, ব্যবসায়, শিল্প বা কর্মবিভাগ-চালনা; অথবা
(চ) যে কোন সম্পত্তির স্বত্ব কিংবা পেশা, বৃত্তি, কারবার বা ব্যবসায়-সংক্রান্ত যে কোন অধিকার কিংবা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারী প্রতিষ্ঠান বা কোন বাণিজ্যিক বা শিল্পগত উদ্যোগের মালিক বা কর্মচারীদের অধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ।
(২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও প্রথম তফসিলে বর্ণিত আইনসমূহ (অনুরূপ আইনের কোন সংশোধনীসহ) পূর্ণভাবে বলবৎ ও কার্যকর হইতে থাকিবে এবং অনুরূপ যে কোন আইনের কোন বিধান কিংবা অনুরূপ কোন আইনের কর্তৃত্বে যাহা করা হইয়াছে বা করা হয় নাই, তাহা এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অনুরূপ কোন আইনকে সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিল করা হইতে নিবৃত্ত করিবে না।
(৩) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য28[বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন] কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।
১৯.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগ কীভাবে কার্যকর হবে?
  1. সংসদের সিদ্ধান্তে
  2. রাষ্ট্রপতির নির্দেশে
  3. প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে
  4. সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হিসেবে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তবে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
-----------
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ বিধানের প্রাধান্য:
(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।
২০.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য পাঠ করানোর দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী:
→ স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ স্পিকার সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

২১.
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের নীতির কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৩
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ২৬
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রের নীতি অনুচ্ছেদ ২৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাধান, শক্তিপ্রয়োগ পরিহার, এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। এতে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শান্তি এবং সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন:
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র 
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন; 
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং 
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷
২২.
সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য কোন আদালতে মামলা করা যাবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা আদালত
  3. মহানগর আদালত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪৪(১) অনুচ্ছেদ:
এই অনুচ্ছেদের অধীনে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করানোর জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা দায়ের করা যায়।
৪৪(২) অনুচ্ছেদ:
সংসদ যদি চায়, তাহলে আইনের মাধ্যমে অন্য কোনো আদালতকেও নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে এই ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দিতে পারে। তবে বর্তমানে শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের মামলার এখতিয়ারভুক্ত আদালত।

→ অর্থাৎ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার পেতে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করতে হয়।
২৩.
সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন উদ্দেশ্যে গঠিত সমিতি বা সংঘ নিষিদ্ধ নয়?
  1. সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে
  2. ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে
  3. আইনসঙ্গত অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে
  4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।
⇒ তবে কিছু উদ্দেশ্যে গঠিত সমিতি বা সংঘ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন—
- ধর্মীয়, সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘ
- নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘ
- রাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘ
- সংবিধানের পরিপন্থী উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘ

কিন্তু, আইনসঙ্গত অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গঠিত সমিতি বা সংঘ নিষিদ্ধ নয়। এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার এবং মৌলিক অধিকারের অংশ।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সংগঠনের স্বাধীনতা:
জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি-
(ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা
(ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।
২৪.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া কত পৃষ্ঠা?
  1. ৯১ পৃষ্ঠা
  2. ৯৩ পৃষ্ঠা
  3. ১০৭ পৃষ্ঠা
  4. ১০৯ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
⇒ ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।


⇒ বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান প্রথমে স্বাক্ষর ছাড়াই ছিল ৯৩ পৃষ্ঠা।
স্বাক্ষরের পর এটি মোট ১০৯ পৃষ্ঠায় পরিণত হয়।
- হস্তলিখিত সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে এবং এতে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
→ স্বাক্ষর ছাড়া: ৯৩ পৃষ্ঠা। 
→ স্বাক্ষর সহ: ১০৯ পৃষ্ঠা।

সুতরাং, হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
২৫.
সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে কোন আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে?
  1. ভবিষ্যতে প্রণীত হবে এমন আইন ভঙ্গ করলে
  2. অপরাধ সংঘটনের পর প্রণীত আইন ভঙ্গ করলে
  3. অপরাধ সংঘটনের সময় বলবৎ আইন ভঙ্গ করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, "অপরাধের দায়যুক্ত কার্য সংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।"

→ এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি কেবল সেই আইন ভঙ্গ করলে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন, যা অপরাধ সংঘটনের সময় কার্যকর ছিল।
- এটি আইনের শাসন এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ, যা নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তি পশ্চাদমুখী (retroactive) আইন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো:
(ক) ভবিষ্যতে প্রণীত হবে এমন আইন ভঙ্গ করলে → সংবিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রণীত কোনো আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। এটি ex post facto law নিষিদ্ধ করার নীতি।
(খ) অপরাধ সংঘটনের পর প্রণীত আইন ভঙ্গ করলে → অপরাধ সংঘটনের পর নতুন কোনো আইন কার্যকর হলে তা পূর্ববর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(ঘ) উপরের সবগুলো → এটি ভুল, কারণ কেবলমাত্র অপরাধ সংঘটনের সময় বলবৎ থাকা আইন প্রয়োগ করা যাবে।