পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬ যুগসন্ধিক্ষণ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বিহারীলাল চক্রবর্তী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা [Live Class - 9 & 10]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. অক্ষমা
  2. এইক্ষণে
  3. পুরাতন ভৃত্য
  4. আত্মসমর্পণ
ব্যাখ্যা

⇒ ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 - ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতাটি চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 

• চিত্রা কাব্যগ্রন্থ:
- চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 

• কবিতাগুলো হচ্ছে: 
- চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ, পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়, দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা, রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।

পুরাতন ভৃত্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -

ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর-
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।”
উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে।
যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে।
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”—
যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।
তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে;
একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা করে আনে।
যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা;
মহাকলরবে গালি দেই যবে “পাজি হতভাগা গাধা”—
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সে হাসে, দেখে জ্বলে যায় পিত্ত।
তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার- বড়ো পুরাতন ভৃত্য।

অন্যদিকে,
‘অক্ষমা’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ কবিতা সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
‘এইক্ষণে’ কবিতাটি বলাকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ‘পুরাতন ভৃত্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ।

.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত প্রথম সার্থক গীতিকবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত
  3. সারদা মঙ্গল
  4. নিসর্গ
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. সঙ্গীত শতক
  2. নিসর্গ সন্দর্শন
  3. সাধের আসন
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
⇒ “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।’

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক, 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা?
  1. হায় চিল
  2. তপসে মাছ
  3. মেথর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) যুগসন্ধিক্ষণের কবি।
- ছদ্মনাম : ভ্রমণকারী বন্ধু
- উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।
- সম্পাদনা : সংবাদ প্রভাকর। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে সপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা করে এবং ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
- ঈশ্বরগুপ্তের সাহিত্যকর্ম : প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) এবং  হিত প্রভাকর (১৮৬১), এটি গদ্যে-পদ্যে লেখা গল্প। 
- বিখ্যাত কবিতা : স্বদেশ, নীলকর, আনারস, পাঁঠা, তপসে মাছ, কে, বাঙালির মেয়ে। 

অন্যদিকে,
‘হায় চিল’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা।
‘মেথর’ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতা।
‘মানুষ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত কবিতা হচ্ছে-
  1. কৃষ্ণকলি
  2. মানসী
  3. উর্বশী
  4. মরণ
ব্যাখ্যা

• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা : মরণ, প্রশ্ন।

‘মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ :
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয় :
ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি। প্রকাশক

• ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে। এই পদগুলোর প্রথম চরণ হচ্ছে :

১. বসন্ত আওল রে, ২. শুনহ শুনহ বালিকা, ৩. হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে, ৪. শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর, ৫. সজনি সজনি রাধিকা লো, ৬. বঁধুয়া, হিয়া' পর আও রে. ৭. শুন সখি, বাজই বাঁশি, ৮. গহন কসমকঞ্জমাঝে ৯. সতিমির রজনা, সচকিত সজনী, ১০. বাজাও রে মোহন বাশি, ১১. আজু সাখ, মুহু মুহু, ১২. শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে, ১৩. সজনি গো শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা, ১৪. বাদরবরখন নীরদগরজন ১৫. মাধব, না কহ আদরবাণী, ১৬. সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব ১৭. বার বার সখি, বারণ করিনু ১৮. হম যব না রব সজনী, ১৯. মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান ও ২০. কো তুঁহুঁ বোলবি মোয় ।
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' যখন প্রকাশিত হয়, তখন কবির বয়স ছিল ২৩ বছর। ১১ সংখ্যক পদ ‘আজু সখি মুহু মুহু' ও ১৯ সংখ্যক পদ 'মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান' কবির ‘ছবি ও গান' (১২৯০) গ্রন্থে সংকলিত হয়। ২০ সংখ্যক পদ ‘কো তুঁহু বোলবি মোয়' ১২৯৩ সনে প্রকাশিত 'কড়ি ও কোমল'-এর প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল । 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'তে সংকলিত পদের সিংহভাগই গ্রন্থবদ্ধ

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। ------ একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
  1. কূলে
  2. খেতে
  3. তরীতে
  4. মাঠে
ব্যাখ্যা
• সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
  (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সেকাল
  2. মোহ
  3. খেয়া
  4. প্রার্থনা
ব্যাখ্যা

⇒ নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,<br />ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।- পঙক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত মোহ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• কণিকা কাব্যগ্রন্থ:
- ‘মোহ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতার সংকলন ‘কণিকা’র অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট কবিতা। 
- ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৯ সালে। ছোট ছোট কবিতার সংকলন তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য এটি। কণিকাকে অণুকাব্যও বলা যায়। কাব্যের নামের সাথে অন্তে মিল আছে।

কবিতাটি নিম্নরূপে বর্ণিত----

মোহ 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।

উৎস: ‘মোহ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।