পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয়, কাল ও কালের প্রয়োগ, এক কথায় প্রকাশ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. অন্তর্দ্বন্দ্ব
  2. নবরত্ন
  3. গণপতি
  4. নবীনবরণ
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার= পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

অন্যদিকে, 
অন্তরের দ্বন্দ্ব = অন্তর্দ্বন্দ্ব; 
গণের পতি = গণপতি;
নবীনদের বরণ = নবীনবরণ; 
[ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. পড়া
  2. জিত
  3. গত
  4. হার
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
ক্ত-প্রত্যয়:
- √খ্যা + ক্ত (খ্যা+ত) = খ্যাত।
- √গম্ + ক্ত (গম্+ত) = গত।
- √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত।

অন্যদিকে, 
--------------------
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
অ-প্রত্যয়: কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্ + অ = ধর,
- √মার + অ = মার।

আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত

আ-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'আ' প্রত্যয় হয়।
যেমন: √পড় + আ = পড়া (পড়া বই)। এরূপ- রাঁধ (বিশেষ্য), রাঁধা (বিশেষণ), কেনা, বেচা, ফোটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
নিচের কোন বাক্যে সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। 
  4. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। 
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

অন্যদিকে, 
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)। 

.
'যা আহুত (ডাকা) হয় নি' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. অনাহুত
  2. অনাহত
  3. অনহুত
  4. অনহূত
ব্যাখ্যা

• 'যা আহুত (ডাকা) হয় নি' এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহুত।

অন্যদিকে, 
• 'যা আঘাত পায় নি' এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
• 'যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে' এক কথায বলে - প্রত্যুৎপন্নমতি।
• 'যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই' এক কথায বলে - অকুতোভয়।
• 'কথায় প্রকাশ করার অযোগ্য' এক কথায় প্রকাশ - অবক্তব্য।
• 'যা পূর্বে শোনা যায় নি এমন' এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব।
• 'যা কখনো নষ্ট হয় না এমন' এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. মিশকালো
  2. জয়ধ্বনি
  3. বিদ্যাধন
  4. বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি। 

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- মিশির মতো কালো = মিশকালো। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. বুভুক্ষা
  2. উক্ত
  3. বক্তব্য
  4. বিবক্ষা
ব্যাখ্যা

• 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।

অন্যদিকে,
• 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
• 'বলা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - উক্ত।
• 'বলা হবে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'লাঘব' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. লঘু + আব 
  2. লঘু + ষ্ণ
  3. লাঘ + অব
  4. লাঘ + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও অ সন্ধিতে 'অব' হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ (অ) = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. গৃহান্তর
  2. বিরানব্বই
  3. দর্শনমাত্র
  4. নির্বিঘ্ন
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়। তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

অন্যদিকে,
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই, 
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান 
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১০.
'ছেলেটির উঠতি বয়স।' বাক্যে 'উঠতি' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'তি' বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়: 
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'তি' প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি,
- √বাড়্‌ +তি-বাড়তি, 
- √উঠ্‌ + তি = উঠতি। 

এরূপ, কাটতি, উঠতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১.
'ধনুকের ধ্বনি' এক কথায় কী বলে?
  1. নিক্বণ
  2. শিঞ্জন
  3. টঙ্কার
  4. ঝংকার
ব্যাখ্যা

• 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- টঙ্কার।  

অন্যদিকে, 
- 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- নিক্বণ। 
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন। 
- 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- ঝংকার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
'গায়ে-হলুদ' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. অলুক বহুব্রীহি
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি সমাস: 
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমান বলে।
যেমন: 
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।

এরকম: কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু, হাতেখড়ি, পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
নিচের কোনটি ঘটমান অতীতকালের ক্রিয়া?
  1. পৌঁছেছিলাম
  2. পড়ছিলাম
  3. জানিয়েছিলে
  4. উঠতাম
ব্যাখ্যা

সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৪.
কোনটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ? 
  1. কেনা
  2. ফোটা 
  3. কেষ্টা
  4. রাঁধা
ব্যাখ্যা

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আ-প্রত্যয়':
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট+ আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে : ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ=বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা। এরূপ: রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ-বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট+আ-জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে মহিষ>ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা> দখনে (হাওয়া)।

অন্যদিকে,
------------------
• বিশেষ নিয়ম সাধিত বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- আ-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'আ' প্রত্যয় হয়। 
যেমন: √পড় + আ = পড়া (পড়া বই)। এরূপ- রাঁধ (বিশেষ্য), রাঁধা (বিশেষণ), কেনা, বেচা, ফোটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫.
'পা দিয়ে যে চলেনা' এক কথায় কী বলে?
  1. প্লবগ
  2. বিহগ
  3. উরগ
  4. পন্নগ
ব্যাখ্যা

• 'পা দিয়ে যে চলেনা' এক কথায় প্রকাশ- পন্নগ।

অন্যদিকে, 
• 'লাফিয়ে চলে যে' এক কথায় প্রকাশ - প্লবগ।
• 'বিহায়সে (আকাশে) বিচরণ করে যে' এর এক কথায় প্রকাশ - বিহগ।
• 'উরস (বক্ষ) দিয়ে হাটে যে' এক কথায় প্রকাশ উরগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
'অগ্ন্যুৎপাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞা বর্তমান কালের দৃষ্টান্ত? 
  1. আমি স্কুলে যাচ্ছি।
  2. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
  3. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  4. আমি অঙ্কটি করেছি।
ব্যাখ্যা

বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৮.
ভাব অর্থে 'ই' প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পোদ্দারি
  2. ডাক্তারি
  3. মোক্তারি
  4. উমেদারি
ব্যাখ্যা

ই/ঈ-বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• ভাব অর্থে: বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার + ই = উমেদারি।
• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার-ডাক্তারি, মোক্তার-মোক্তারি, পোদ্দার-পোদ্দারি, ব্যাপার-ব্যাপারি, চাষ-চাষি।
• মালিক অর্থে: জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।
• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বোঝাতে: ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৯.
'মনোগত ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. লিপ্সা
  2. ঈপ্সিত
  3. ঈপ্সু
  4. জুগুপ্সা
ব্যাখ্যা

• 'মনোগত ইচ্ছা' এক কথায় প্রকাশ- ঈপ্সিত।

অন্যদিকে, 
• লাভ করা ইচ্ছা - লিপ্সা।
• কুৎসা বা অপবাদ রটানোর ইচ্ছা - জুগুপ্সা। 
• পেতে ইচ্ছুক - ঈপ্সু।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২০.
'কাল তুল্য সাপ' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১.
নিচের কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. আদেশ করুন জাহাপনা।
  2. তোমরা কাজ করো।
  3. চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
  4. মিথ্যা কথা বলো না।
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা:
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে, 
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২২.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. দারোয়ান
  2. জমকালো
  3. সওদাগর
  4. জবানবন্দি
ব্যাখ্যা

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ- জমক + আলো = জমকালো। 

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:

১. ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ-মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ-দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
২. ওয়ান-আন (হিন্দি): গাড়ি-গাড়োয়ান, দার-দারোয়ান
৩. আনা-আনি (হিন্দি): মুনশি-মুনশিয়ানা, বিবি-বিবিআনা, হিন্দু-হিন্দুয়ানি।
৪. সা (হিন্দি): পানি-পানসা> পানসে, এক-একসা, কাল (কাল)-কালসা>কালসে।
৫. গর> কর (ফারসি): কারিগর, বাজিকর, সওদাগর
৬. দার (ফারসি): তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
৭. বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি): কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ, গলাবাজ-ই-গলাবাজি (বিশেষ্য)।
৮. বন্দি (কদ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
৯. সই (মতো অর্থে): জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
১০. পনা (মতো অর্থে): গিন্নীপনা, বেহায়াপনা।

অন্যদিকে,
-------------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল> দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক-ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৩.
'হাতের তৃতীয় আঙুল' এক কথায় কী বলে?
  1. মধ্যমা
  2. কনিষ্ঠা
  3. তর্জনী
  4. অনামিকা
ব্যাখ্যা

• 'হাতের তৃতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - মধ্যমা।

অন্যদিকে, 
• 'হাতের পঞ্চম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ -  কনিষ্ঠা।
• 'হাতের দ্বিতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - তর্জনী।
• 'হাতের চতুর্থ আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অনামিকা। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
•  হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
• হাতের কনুই থেকে কজি পর্যন্ত অংশ - প্রকোষ্ঠ।
• হাতের তালু - করতল।
• হাতের প্রথম আঙুল - অঙ্গুষ্ঠ।
• হাতের কব্জি - মণিবন্ধ। 
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. পোড়াকপালে
  2. একচোখা
  3. দুকানকাটা
  4. বোঁটাখসা
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস: 
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখ। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা/একচোখো। 

এরকম- ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।  

অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালো বরণ যার = কালোবরণ;
- পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- দু কান কান কাটা যার = দুকানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
'তাহিয়া গান গাইছে।' কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ
  2. নিত্যবৃত্ত
  3. পুরাঘটিত
  4. ঘটমান
ব্যাখ্যা

• ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,
যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
'যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয়না' এক কথায় কী বলে?
  1. অনসূয়া
  2. অসূর্যম্পশ্যা
  3. অনন্যা
  4. শুচিস্মিতা
ব্যাখ্যা

• 'যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয়না' এক কথায় বলে - অনন্যা।

নারী সম্পর্কিত কিছু বাক্য সংকোচন:
• যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই - অবীরা। 
• যে নারী বীর - বীরাঙ্গনা।
• যে নারীর হিংসা নেই - অনসূয়া। 
• যে নারীর হাসি সুন্দর - সুহাসিনী। 
• যে নারীর হাসি পবিত্র - শুচিস্মিতা। 
• যে নারী কখনো সূর্যকে দেখে নাই -  অসূর্যম্পশ্যা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২৭.
'তেল-নুন-লাকড়ি' কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. বহুপদী দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• বহুপদী দ্বন্দ্ব:
তিন বা বহু পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন-
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি;
- রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ = রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ-স্পর্শ।

এ-রকম: পশু-পাখি-কীট-পতঙ্গ, বাল-বৃদ্ধ-বনিতা, চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা, টক-ঝাল-মিষ্টি, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল, নাচ-গান-বাজনা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
'কাজটি কি তুমি করেছিলে?' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
--------------------
• সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
'দুঃশাসন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস 
  2. দ্বন্দ্ব সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস 
ব্যাখ্যা

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস: 
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধার সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে সাধারণ কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

বিশেষণ + বিশেষ্য:
মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা; কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা; দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন; দুঃ যে অবস্থা = দুরবস্থা। এ-রকম: ঝরাপাতা, মহানগর, গুণিজন, মহানবি, কুশাসন, ক্ষুধিত-পাষাণ, সুকীর্তি, সৎকর্ম, খাস-কামরা, সুখ্যাতি ইত্যাদি।

বিশেষণ + বিশেষণ:
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর, যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল।
এরকম: অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, কাঁচামিঠা, গরমভাজা, গণ্যমান্য, গুরুমশাই, গাঢ়নীল, দীনহীন, দীনদরিদ্র, দীনদুঃখী, বাঁধাধরা, ভীষণসুন্দর, মিঠেকড়া, মোটাতাজা, সহজসরল, সাদাকালো, স্নিগ্ধসজল, হৃষ্টপুষ্ট ইত্যাদি।

বিশেষ্য + বিশেষণ:
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, বাটা যে হলুদ = হলুদবাটা। এ-রকম: নরাধম, মাছভাজা, চালভাজা, পটলতাজা, নরোত্তম, বেগুনপোড়া, লঙ্কাবাটা ইত্যাদি।

বিশেষ্য + বিশেষ্য:
যিনিই দাদা তিনিই ভাই = দাদাভাই, যিনিই মৌলভি তিনিই সাহেব = মৌলভিসাহেব। এ-রকম: খোকাবাবু, খাঁসাহেব, গোলাপফুল, ভূলোক, গুরুদেব, গিন্নিমা, ঠাকুরদাদা, ডাক্তারসাহেব, ঢাকানগরী, শুকতারা, দাদাশ্বশুর, দেবর্ষি, ঠাকুরমশাই, লাটসাহেব, জ্ঞাতিশত্রু, জজসাহেব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়?
  1. সিদ্ধি
  2. দাতব্য
  3. মাতা
  4. রক্ষণীয়
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধু + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ+ ক্তি = বুদ্ধি,
- √শক্ + ক্তি = শক্তি।

অন্যদিকে,
-------------
• তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পট্ + তব্য = পঠিতব্য।
• অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ + অনীয় = রক্ষণীয়। এরূপ-দর্শনীয়, পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে): প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়। যেমন-√দা + তৃচ্ =√দা + তৃ; দা+তা = দাতা; মা + তৃচ্ = মাতা, ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।