পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ৫ টপিক: ১. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল (ম্যানগ্রোভ, রেইন, পাহাড়ি ইত্যাদি), ২. ভৌগোলিক উপনাম, প্রণালি, ৩. দেশীয় ও বৈশ্বিক স্থান ও স্থাপনা (ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ), ৪. দেশীয় ও বৈশ্বিক ভাষা, জনমিতিক বিষয় ইত্যাদি, ৫. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সীমারেখা ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট কোনটি?
  1. সিনহারাজা
  2. অ্যামাজন
  3. কঙ্গো
  4. কিনাবালু
ব্যাখ্যা
কঙ্গো রেইনফরেস্ট:
- মধ্য আফ্রিকায় অবস্থিত কঙ্গো রেইনফরেস্ট বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট।
- পুরো বনের আয়তন ৭ লাখ ৮১ হাজার ২৪৯ বর্গ মাইল।
- কঙ্গো রেইনফরেস্ট পৃথিবীর ৮ শতাংশ কার্বন মজুদ করে রাখতে পারে বলে একে পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ বলা হয়।
- এটি বেশি পরিচিত মূলত এর জীববৈচিত্র্যের কারণে। 
- এই বনে আছে ৬০০-এরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ, ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী।
- বনের ক্যানোপি ট্রির উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট। 
- রেইনফরেস্টের আবহাওয়া প্রায় সময়ই উত্তপ্ত থাকে। বেশির ভাগ অংশ গভীর ও ঘন বলে, মাত্র ১ শতাংশ সূর্যের আলো প্রবেশ করে বনের ভেতরে।
এছাড়া,
- সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ শ্রীলঙ্কার একটি রেইন ফরেস্ট।
- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই নিয়ে বোর্নিও রেইনফরেস্টের অবস্থান। এই রেইন ফরেস্টের বয়স প্রায় ১৪০ মিলিয়ন বছর পুরোনো বলে অনুমান করা হয়। 
- সেই হিসাবে, এটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন রেইন ফরেস্ট বলা হয়। 
- এর আয়তন ২ লাখ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার।
- মালয়েশিয়ার সর্বপ্রথম জাতীয় উদ্যান কিনাবালু। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং এশিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ বোর্নিওর উত্তর দিকের শেষ প্রান্তে এর অবস্থান।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।  
.
বাংলাদেশের শালবন সম্পর্কে কোনটি সত্য নয়?
  1. এটি গজারি বন নামেও পরিচিত।
  2. এগুলো প্লাইস্টোসিন যুগের ভূমিরূপ।
  3. এটি চিরহরিৎ বন।
  4. বাংলাদেশের ৫ টি বিভাগে এই বন দেখা যায়।
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শালবন  এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ (Shorea robusta) মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- মুল কর্তিত গাছ থেকে পুনরায় গজানোর গুণ থাকায় এগুলোকে গজারি বন ও বলা হয়। 
- মধুপুর ও বরেন্দ্র এলাকার উত্তর-দক্ষিণ প্রলম্বিত লালাভ বাদামি দ্বীপসমূহ বাংলাদেশে প্লাইসটোসিন সোপানের নমুনা বলে ধারণা করা হয়।
- মোটামুটি ব্যাপক হলেও শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো। বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়। 
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত। 
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের শালবন এলাকা সবচেয়ে বড়, ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা নদীর মাঝে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এ বনভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কি.মি এবং চওড়া ৮ থেকে ২৪ কি.মি। 
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত। 
- এছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর এবং রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন বিদ্যমান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
আমাজন জঙ্গল নিচের কোন দেশের অংশ নয়?
  1. প্যারাগুয়ে
  2. সুরিনাম
  3. বলিভিয়া
  4. পেরু
ব্যাখ্যা
আমাজন জঙ্গল:
- আমাজন রেইনফরেস্ট হল বিশ্বের বৃহত্তম বন এবং এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছপালা এবং প্রাণী দ্বারা আচ্ছাদিত শেষ বড় স্থান। 
- আমাজন বনাঞ্চল হল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট যা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত।
- এটি ৯ টি দেশে বিস্তৃত যথা: ব্রাজিল, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, ফ্রেঞ্চ গায়ানা এবং গায়ানা।
- এর আয়তন প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার যার বৃহত্তম অংশ (৬০%) ব্রাজিলে অবস্থিত এবং সেই দেশের প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে।
- বিশ্বের মোট প্রাণী বৈচিত্র্যের ১০ ভাগের এক ভাগের আবাসস্থল আমাজন।
- এটি বিশ্বের ২০% মিঠাপানির উৎস।
- এটি বিশ্বের ২০% অক্সিজেনের উৎস।
- পৃথিবীর ফুসফুস নামে খ্যাত।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, আমাজনের ওয়েবসাইট [লিঙ্ক] এবং ওয়াইল্ডলাইফ ডট ওআরজি [লিঙ্ক]
.
সাত পাহাড়ের শহর কোনটি?
  1. ভেনিস
  2. কিটো
  3. রোম
  4. আমস্টারডাম
ব্যাখ্যা
রোম:
- ইতালির রাজধানী রোম।
- এ নগরীতে সাতটি পাহাড় রয়েছে।
- এগুলোর নাম হলো অ্যাভেনটাইন, কেইলিয়ান, ক্যাপিটোলাইন, ইসকুইলিন, প্যালেটাইন, কুইরিনাল ও ভিমিনাল। 
- এই পাহাড়গুলো নগরীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। 
- এজন্য রোম নগরীকে সাত পাহাড়ের শহর বলা হয়।
- এটিকে চির শান্তির শহর এবং নীরব শহর ও বলা হয়।
এছাড়া 
- ভেনিস নিশ্চুপ সড়কের শহর, রাজপ্রাসাদের শহর, দ্বীপের নগরী ইত্যাদি নামে পরিচিত।
- কিটোকে বলা হয় চির বসন্তের শহর।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
.
কিউবায় অবস্থিত কুখ্যাত কারাগারটির নাম কী?
  1. এভিন কারাগার
  2. গুয়ানতানামো কারাগার
  3. সাবানেতা কারাগার
  4. গিতারামা কারাগার
ব্যাখ্যা
▪ গুয়ানতানামো কারাগার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খণ্ডের বাইরে কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত একটি কারাগার যা বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত। এই কারাগারটি ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
----------------------------
• কুখ্যাত ‘এভিন কারাগার’ ইরানে অবস্থিত। রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক ও বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার কারণে তেহরানে এই কারাগারের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
▪ সাবানেতা কারাগার ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
▪ গিতারামা কেন্দ্রিয় কারাগার রুয়ান্ডায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২ এবং বিবিসি বাংলা।
.
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ বলা হয় কোন দেশ কে?
  1. সাইপ্রাস
  2. তুর্কিয়ে
  3. রোমানিয়া
  4. বেলারুশ
ব্যাখ্যা
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ:
- অষ্টাদশ শতক নাগাদ তুর্কিয়ে সামরিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সব দিক থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। 
- তাছাড়া এই সময় থেকে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতেও তুরস্ক ব্যর্থ হতে থাকে। 
- এইসব দুর্বলতার জন্যই ব্যঙ্গ করে তুর্কিয়েকে 'ইউরোপের রুগ্ন 'মানুষ' বলা হত।
এছাড়া,
বেলারুশকে সাদা রাশিয়া বলা  হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
.
কোনটি গোলাপি শহর নামে পরিচিত?
  1. লক্ষ্ণৌ
  2. যোধপুর
  3. আহমেদাবাদ
  4. জয়পুর
ব্যাখ্যা
জয়পুর: 
- জয়পুর ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
- ১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসকে শহরে স্বাগত জানাতে মহারাজা রাম সিং শহরটিকে গোলাপী রঙে সাজিয়ে তুলেছিলেন। 
- লর্ড অ্যালবার্ট প্রথমবারের মতো ‘pink city’ নামটি ব্যবহার করেন
- এইভাবেই শহরের আরেক নাম পিংক সিটি বা গোলাপী শহর নামে পরিচিত হয়।

উৎস: রাজস্থানের ট্যুরিজমের ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
.
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পৃথককারী রেখা কোনটি?
  1. ডুরান্ড লাইন
  2. র‍্যাডক্লিফ লাইন
  3. ম্যাকমোহন লাইন
  4. লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল
ব্যাখ্যা
ডুরান্ড লাইন:
- আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যকার নির্ধারিত সীমান্ত।
- ১৮৯৩ সালে এটি নির্ধারণ করা হয়। 
- বর্তমানে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন কারাকোরাম পর্বত, খাইবার পাস ইত্যাদি স্থান অতিক্রম করেছে।
- এটি আফগানিস্তানের ১২ টি প্রদেশ এবং পাকিস্তানের ৩ টি প্রদেশে বিস্তৃত।
এছাড়া,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা।
- ম্যাকমোহন লাইন ও লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তরেখা।


উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
.
দুই কোরিয়াকে পৃথক করেছে-
  1. ১৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা 
  2. ২৪ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
  3. ৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
  4. ৪৯ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
ব্যাখ্যা
৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা:
- উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথককারী রেখা।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে পটস্‌ডাম কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কুশীলবরা এটিকে সামরিক সীমা হিসেবে বেছে নেয়।
- এর এক পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যপাশে সোভিয়েত বাহিনী অবস্থান নেয়।
- পরে ১৯৫০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাতের পর এর অস্ত্র বিরতি অনুযায়ী এটিকে দুই কোরিয়ার সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- এই লাইনের দুই কিলোমিটার এলাকাকে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়।
- এটি ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
এছাড়া,
- ১৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা সাবেক উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামকে পৃথককারী রেখা।
- ২৪ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা হলো পাকিস্তানের দাবিকৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত রেখা।
- ৪৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 
১০.
ম্যাজিনো লাইন অবস্থিত-
  1. এশিয়ায়
  2. ইউরোপে
  3. উত্তর আমেরিকায়
  4. দক্ষিণ আমেরিকায়
ব্যাখ্যা
ম্যাজিনো লাইন:
- ইউরোপের দুই প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে অবস্থিত সীমান্ত বরাবর নির্মিত দুর্ভেদ্য লাইন।
- ফ্রান্স ১৯৩০ এর দশকে এটি নির্মাণ করে।
- জার্মান আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নির্মিত হয়।
- ১৯৩৮ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১১.
‘কুতুব মিনার‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. পুনে
  2. কলকাতা
  3. আগ্রা
  4. দিল্লি
ব্যাখ্যা
- কুতুব মিনার ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত।
- শাহী দিল্লির আইকনিক স্থাপত্য কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করেছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক, যিনি ছিলেন মুহম্মদ ঘোরীর একজন সেনাপতি।
১১৯২ সালে মুহম্মদ ঘোরীর কাছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ের পরই দিল্লিতে হিন্দু শাসনের অবসান হয়, আর তার কয়েক বছর পরেই শুরু হয় এই মিনারের নির্মাণকাজ।

উৎসঃ বিবিসি
১২.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় কত সালে?
  1. ১৮৬২
  2. ১৮৬৭
  3. ১৮৭২
  4. ১৮৭৬
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:
- ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে ১৮৭২ সালে। 
- পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে। এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ। 
- -প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে।
- কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে এক বছর পিছিয়ে যায়।
- ২০২২ সালে এটিকে জনশুমারি নাম দেয়া হয়।
- ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন। 
- ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা। [লিঙ্ক]
১৩.
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ কোনটি?
  1. নাইজেরিয়া
  2. মিশর
  3. আলজেরিয়া
  4. ইথিওপিয়া
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া।
- এর জনসংখ্যা ২০ কোটির কিছুটা বেশি।
- এটি বিশ্বের সপ্তম জনবহুল দেশ।
- রাজধানী আবুজা।
- বৃহত্তম শহর লাগোস।
- ইথিওপিয়া ও মিশর যথাক্রমে আফ্রিকার ২য় ও ৩য় জনবহুল দেশ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]
১৪.
নিচের কোনটি দেশটি ভাষাগত দিক থেকে ভিন্ন?
  1. মিশর
  2. কাতার
  3. ইরান
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
- ইরান দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি মুসলিম রাষ্ট্র। 
- ইরান বিশ্বের সবচেয়ে পর্বতময় দেশগুলির একটি।
- সৌদি আরবের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
-  ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতন ঘটায় এবং ইরানে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র স্থাপন করে।
- ইরান ৩০টি প্রদেশে বিভক্ত।
- ফার্সি ইরানের জাতীয় ভাষা।
- জাতীয় ভাষা আরবি না হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হয়েও ইরানকে আরব দেশ বলা হয় না।
- মিশর, কাতার ও সিরিয়ার সরকারি ভাষা আরবি।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 
১৫.
ব্রাজিলের অধিকাংশ মানুষ কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. স্প্যানিশ
  2. পর্তুগীজ
  3. ল্যাটিন
  4. ফ্রেঞ্চ
ব্যাখ্যা
ব্রাজিল:
- আয়তন ও জনসংখ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ।
- আমাজনের ৬০% ব্রাজিলের অভ্যন্তরে।
- ষোড়শ শতাব্দী থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছর পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের উপনিবেশ ছিল ব্রাজিল। 
- ১৮২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের শাসন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তারা। 
- এরপর থেকে সেটি ছিল ব্রাজিলিয়ান সাম্রাজ্য। 
- ১৮৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রথম ব্রাজিলিয়ান প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে ব্রাজিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রথম ভাষা হচ্ছে পর্তুগিজ।
- সময়ের পরিক্রমায় পর্তুগাল-ব্রাজিল উভয় দেশেই পর্তুগিজ ভাষায় ব্যাপক রূপান্তর এসেছে। দুটি দেশই তাদের বানানগুলোকে অনেকাংশে প্রমিত করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১৬.
বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন স্পর্শ করে কবে?
  1. ১৫ অক্টোবর ২০২২
  2. ১৫ নভেম্বর ২০২২
  3. ১৫ ডিসেম্বর ২০২২
  4. ১৫ জানুয়ারি ২০২৩
ব্যাখ্যা
- ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন স্পর্শ করে।
- ১৮০৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ১ বিলিয়ন। ১ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়নে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১২৩ বছর। ১৯৫০ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন, যা দ্বিগুণে পৌঁছায় ১৯৮৭ সালে ৫ বিলিয়নে। তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চ হার ছিল। ২০১০ সালের ৭ বিলিয়ন জনসংখ্যা ৮ বিলিয়নে সময় নিয়েছে মাত্র ১২ বছর।
- তবে ৯০০ কোটি হতে প্রায় ১৫ বছর (২০৩৭ সাল পর্যন্ত) সময় লাগবে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ার সামগ্রিক হার ধীর হয়ে যাচ্ছে।

উৎস: জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল। [লিঙ্ক]
১৭.
নিচের কোনটি বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল নয়?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. সৌদি আরব
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে পৃথিবীকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা যেতেপারে। যথা:

১. নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল;
২. পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল;
৩. বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল এবং
৪. প্রায় জনহীন অঞ্চল ।

বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল: 

- কোনো দেশ বা অঞ্চলে যদি প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ থেকে ৫০ জন লোক বাস করে তবে তাকে বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল বলে। যেমন- দক্ষিণ আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আইসল্যান্ড, সৌদি আরব, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি, দক্ষিণ আমেরিকার পম্পাস, ইউরেশিয়ার স্টেপস্ ।
অপরদিকে, 
- মেক্সিকো পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল।


উৎস: ভূগোল দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
প্রাচ্যের ডান্ডি নামে খ্যাত-
  1. নরসিংদী
  2. গাজীপুর
  3. বরিশাল
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
নারায়ণগঞ্জ: 
- দেশের ক্ষুদ্রতম জেলা। 
- দেশের বৃহত্তম নদীবন্দর।
- পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকায় এ জেলায় নিবিড় বসতি গড়ে উঠেছে। 
- এখানে অসংখ্য শিল্প-কারখানা রয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। 
- এসব কারণে নারায়নগঞ্জকে ‘প্রাচ্যের ডান্ডি' বলে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
শিখদের পবিত্র স্বর্ণমন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. অযোধ্যা
  2. অমৃতসর
  3. চন্ডীগড়
  4. বেনারস
ব্যাখ্যা
স্বর্ণমন্দির:
- শিখ ধর্মের প্রধান তীর্থস্থল স্বর্ণ মন্দির।
- এটি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে অবস্থিত। 
- স্বর্ণ মন্দির নামে প্রসিদ্ধ হলেও এটি হরমিন্দর সাহিব বা শ্রী দরবার সাহিব নামেও খ্যাত। 
- শিখ ধর্মের পঞ্চম গুরু অর্জনদেব স্বর্ণ মন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন।
- মন্দির তৈরির সময়, এটি সোনার চাদরে মোড়া ছিল না। 
- পরে উনবিংশ শতাব্দীতে মহারাজা রঞ্জিত সিং পঞ্জাবকে বহিরাগত আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং একে পুনরুদ্ধার করেন। 
- তিনিই মন্দিরের ওপরের অংশ সোনায় মুড়ে দেন। 
- স্বর্ণ মন্দির তৈরির আগে প্রথম শিখ গুরু, গুরু নানক এই স্থানে ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন।
- সম্পূর্ণ মন্দির শহরের সমতল থেকে নীচুতে তৈরি করা হয়েছে। 
- স্বর্ণ মন্দিরের ভাস্কর্যে মোগল ও ভারতীয় বাস্তুকলার ছাপ স্পষ্ট।
- ‘খালিস্তান' নামে শিখ ধর্মাবলম্বীদের পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি দমন করতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ‘অপারেশন ব্লু-স্টার' নামধারী সেনা অভিযান চালানো হয়েছিল এখানে৷ 
- এর কারণ শিখদের পবিত্র স্বর্ণমন্দির চত্বরে ঘাঁটি গেড়ে সরকার বিরোধী সহিংস তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিখ জঙ্গি নেতা জার্নেল সিং ভিন্দ্রানওয়ালা৷

উৎস: হিন্দুস্তান টাইমস্‌ বাংলা। [লিঙ্ক]
২০.
চীনের বর্তমান মহাপ্রাচীরটি কোন রাজ বংশের আমলে নির্মিত?
  1. হান
  2. মিং
  3. জিং
  4. সুই
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China) হচ্ছে চীনে অবস্থিত পাথর ও ইট দিয়ে তৈরি দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী। 
- এটি পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি। 
- পৃথিবীর এই  দীর্ঘতম প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ২১,১৯৬.১৮ কিলোমিটার এবং উচ্চতা ৫ থেকে ৮ মিটার। 
- প্রাচীরটি চওড়ায় প্রায় ৯.৭৫ মিটার।
- প্রশস্ত প্রাচীরের ওপর চলাচলের জন্য রাস্তা করা আছে। 
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতক পর্যন্ত সময়ে চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়। 
- এ সময় প্রায় একই রকম অনেক প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল, তবে খ্রিস্টপূর্বাব্দ ২২০ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াঙের অধীনে নির্মিত প্রাচীরটিই সবচেয়ে বিখ্যাত। 
- এটি বর্তমান প্রাচীরের একেবারে উত্তরে অবস্থিত এবং এর খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে।
- দস্যুদের হাত থেকে চীনকে রক্ষা করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল।
- হান, সুই, নরদান ও জিং সাম্রাজ্যের সময়েও ইতিহাসে একই কারণে চীনের মহাপ্রাচীরের পরিবর্ধন, পরিবর্তন, সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের উল্লেখ আছে। 
- চীনের মহাপ্রাচীর চাঁদ থেকে দেখা যায় বলে জনশ্রুতি থাকলেও এটি সত্য নয়। 
- তবে কয়েকজন নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে এটি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন।
- বর্তমান প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২১.
বিখ্যাত অপেরা হাউজ কোথায় অবস্থিত?
  1. সিউল
  2. টোকিও
  3. সিডনি
  4. মেলবোর্ন
ব্যাখ্যা
সিডনি অপেরা হাউজ:
- সিডনি অপেরা হাউজ স্থায়ী অবকাঠামোবিশেষ। 
- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বন্দরে এর অবস্থান। 
- ১৯৫৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে প্রায় সাড়ে চার একর জায়গার ওপর নৌকার পাল আকৃতি স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। 
- স্থাপনাটির দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট ও প্রস্থ ৩৯৪ ফুট। 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থাপনাটির সর্বোচ্চ স্থানটির উচ্চতা ২১৩ ফুট, যা প্রায় ২২ তলা ভবনের সমান উঁচু।
- অনেক ধরনের অনুষ্ঠান এখানে অনুষ্ঠিত হয়। 
- অপেরা হাউজটি মহাসাগরের এক প্রান্তে তৈরী করা হয়েছে যা দেখতে অনেকটা উপত্যকার মতো।
- এতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের আসন রয়েছে।
- ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় এটিকে ২০০৭ সালে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২২.
তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. যমুনা
  2. গঙ্গা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. কাভেরী
ব্যাখ্যা
তাজমহল: 
- ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধিসৌধ। 
- মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী, যিনি মুমতাজ বেগম নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। 
- সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। 
- তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। 
- এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। 
- তখন একে বলা হয়েছিল “the jewel of Muslim art in India and universally admired masterpiece of the world's heritage"।
- বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২৩.
শশী লজ কোথায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুরে
  2. বগুড়ায়
  3. গাজীপুরে
  4. ময়মনসিংহে
ব্যাখ্যা
শশী লজ:
- বাংলার বিখ্যাত মহারাজা শশীকান্ত আচার্য্যের পরিবার বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ এর আমলে প্রথম জমিদারী লাভ করে এবং তারা মুক্তাগাছাকে কেন্দ্র করে জমিদারী পরিচালনা করতে থাকে। 
 - ক্রমান্বয়ে আঠারশ শতকে মহারাজা মুক্তাগাছার বাহিরে বর্তমান টিচার্স ট্রেনিং কলেজের স্থলে রাজবাড়ী তৈরী করেন, যা স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
- মহারাজা সূর্যকান্ত তার দত্তক পুত্র শশীকান্তের নামে অনেক যত্নে নির্মাণ করেছিলেন এ প্রাসাদ। 
- ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত এ রাজবাড়ীর প্রতিটি ইঞ্চিতে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য্য নাম দিয়েছিলেন শশী লজ। 
- আর এ শশী লজ এবং তার সম্মুখস্থ গ্রীক সৌন্দয্যের দেবী ভেনাসের ভাস্কর্যটি আজ ময়মনসিংহ জেলার আইকনিক প্রতিনিধি হয়ে দাড়িয়েছে। 
- ৯ একর জমির উপর অনেক সবুজের সমারোহে অতীত ঐতিহ্য ধারণ করে শশী লজ মহাকালের সাক্ষীরূপে অম্লান হয়ে আছে। 
- ভবনের পেছনে অবস্থিত 'জলঘর' খ্যাত দোতলা পুকুর ঘাটলা। এই ভাস্করের পরিচয় জানা যায়নি। 

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৪.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে ভারতের তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. সিলেট
  3. কুড়িগ্রাম
  4. রাঙামটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত:
- বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৪৭ সালের র‍্যাডক্লিফ লাইন দ্বারা বিভক্ত।
- বাংলাদেশের প্রায় তিনদিকেই ভারতের অবস্থান।
- মোট ৩২ টি সীমান্তবর্তী জেলার মধ্যে ৩০ টি জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- তন্মধ্যে একমাত্র কুড়িগ্রাম জেলার সাথে তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কুচবিহার জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম প্রদেশের ধুবড়ী ও মেঘালয় রাজ্যের তুরা পার্বত্য জেলা।
- আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে ২৭৮.২৮ কিলোমিটার। 
 

উৎস: কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৫.
কোন দেশের সাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক দেশের সীমান্ত রয়েছে?
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. মঙ্গোলিয়া
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
সর্বাধিক সীমান্ত যুক্ত দেশ:
- বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার সাথে সর্বাধিক সংখ্যক দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- কিন্তু এর মধ্যে আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওশেটিয়া নামের দুইটি স্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিবিহীন দেশ ও রয়েছে।
- অন্যান্য দেশগুলো হলো উত্তর কোরিয়া, চীন, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, লিথুনিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, বেলারুশ, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে।
- এর মধ্যে রাশিয়া-কাজাখস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সীমান্ত।
- চীনের সাথেও ১৪ টি স্বাধীন দেশের সীমান্ত রয়েছে। 
- তবে স্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিবিহীন দুইটি দেশ সহ রাশিয়ার সাথেই সর্বোচ্ছ সংখ্যক দেশের সীমান্ত রয়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]
২৬.
নিচের কোন দুইটি দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত নেই?
  1. রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া
  2. আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল
  3. কানাডা-মেক্সিকো
  4. মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
- কানাডা ও মেক্সিকো দুইটি দেশই উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এদের মধ্যে কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।
- এই দুইটি দেশের মাঝে আমেরিকা অবস্থিত।
- পৃথিবীর বৃহত্তম রাষ্ট্র রাশিয়ার সাথে ১৬ টি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- তন্মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সাথে সবচেয়ে কম ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
- আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যকার সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৮৩ মেইল। 
- দ্বীপ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার সাথে বোর্ণিও দ্বীপে মালেশিয়ার ১২৫৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২৭.
বাংলাদেশের বন বিভাগের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বন আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মোট ভূমির কত শতাংশ?
  1. ১০.৯
  2. ১১.৭
  3. ১২.৮
  4. ১৩.৩
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বন বিভাগের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বন আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মোট ভূমির ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। 
- এর আগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী যা ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ।
- এই হিসাবে বনের বাইরের গাছ আমলে নেয়া হয়নি। 
- কিন্তু বন বিভাগের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বনের বাইরে গাছের পরিমাণ মোট ভূমির ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। 
- এসব গাছের বেশির ভাগই বেড়ে উঠেছে মূলত সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে। 
- সেই হিসাবে বনের ভেতর ও বাইরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মোট ভূমির সাড়ে ২২ শতাংশ।
- দেশের ২৮ টি জেলায় রাষ্ট্রীয় বনভূমি নেই।

উৎস: সময় নিউজ। [লিঙ্ক]
২৮.
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেট জেলার কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. জৈন্তাপুর
  2. কানাইঘাট
  3. গোয়াইনঘাট
  4. কোম্পানিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। 
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল। 
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। 
- আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। 
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি। এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।
 
উৎস: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৯.
বাংলাদেশের মোট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কত শতাংশ জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান?
  1. ৩৯%
  2. ৪৭%
  3. ৫১%
  4. ৫৭%
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত। 
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বনজ বৈচিত্রের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী (Heritiera fomes), গেওয়া, গরান এবং কেওড়া।
- ঘাস ও গুল্মের মধ্যে শন, নল খাগড়া , গোলপাতা রয়েছে সুবিন্যস্তভাবে।
- বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
- এটি দেশের বনজ সম্পদের একক বৃহত্তম উৎস। 
- এই বন কাঠের উপর নির্ভরশীল শিল্পে কাঁচামাল জোগান দেয়। 
- এছাড়াও কাঠ, জ্বালানী ও মন্ডের মত প্রথাগত বনজ সম্পদের পাশাপাশি এ বন থেকে নিয়মিত আহরণ করা হয় ঘর ছাওয়ার পাতা, মধু, মৌচাকের মোম, মাছ, কাঁকড়া এবং শামুক-ঝিনুক। 
- বৃক্ষপূর্ণ সুন্দরবনের এই ভূমি একই সাথে প্রয়োজনীয় আবাসস্থল, পুষ্টি উৎপাদক, পানি বিশুদ্ধকারক, পলি সঞ্চয়কারী, ঝড় প্রতিরোধক, উপকূল স্থিতিকারী, শক্তি সম্পদের আধার এবং পর্যটন কেন্দ্র।
- বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫১ শতাংশ জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান, বন থেকে আসা মোট আয়ে অবদান প্রায় ৪১ শতাংশ এবং কাঠ ও জ্বালানী উৎপাদনে অবদান প্রায় ৪৫ শতাংশ। 
- অনেকগুলি শিল্প (যেমন: নিউজপ্রিন্ট, দিয়াশলাই, হার্ডবোর্ড, নৌকা, আসবাবপত্র) সুন্দরবন থেকে আহরিত কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল।

উৎস: খুলনা জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৩০.
বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল রয়েছে-
  1. ব্রাজিলে
  2. চীনে
  3. কানাডায়
  4. রাশিয়ায়
ব্যাখ্যা
বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল:

- বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল রয়েছে রাশিয়ায়।
- বিশ্বের বৃহত্তম এই দেশে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ বনভূমির অবস্থান।
- রাশিয়ার মোট ভূমির ৪৫ শতাংশ বন দ্বারা আচ্ছাদিত।
- এখানে প্রায় ৮১৫ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি বিদ্যমান।
- এছাড়া ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো হলো অন্যান্য দেশ যেখানে ১০০ মিলিয়ন হেক্টরের অধিক বনাঞ্চল রয়েছে।

উৎস: Worldatlas [লিঙ্ক]
৩১.
কোনটিকে ইউরোপের ককপিট বলা হয়?
  1. তুর্কিয়ে
  2. ব্রিটেন
  3. জার্মানি
  4. বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
- প্রায়ই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এরুপ স্থানকে ককপিট বলা হয়। 
- বেলজিয়ামকে ইউরোপের ককপিট বা ইউরোপের সমরক্ষেত্র বা রণক্ষেত্র বলা হয়।
- কারণ এখানে বিখ্যাত ওয়াটুর লু যুদ্ধসহ অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়া,
- তুর্কিয়ে কে ইউরোপের রুগ্ন মানুষ এবং
- ব্রিটেনকে সমুদ্রের বধু বলা হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩২.
নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে পৃথক করেছে-
  1. সুন্দা প্রণালী
  2. বেরিং প্রণালী
  3. কুক প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
কুক প্রণালী:
- নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপকে পৃথক করেছে।
- তাসমান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি প্রায় ১৪ মাইল প্রশস্ত এবং ৪২০ ফুট গভীর।
- ১৬৪২ সালে ডাচ নাবিক আবেল তাসমান এটিকে উপসাগর ভেবে প্রবেশ করেন।
- ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন জেমস্‌ কুক এটির সত্যতা যাচাই করে প্রণালী হিসেবে অভিহিত করেন।
- তার নামানুসারে এটি কুক প্রণালী হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া,
- সুন্দা প্রণালী সুমাত্রা থেকে জাভাকে পৃথক করেছে এবং ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে যুক্ত করেছে।
- বেরিং প্রণালী এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং বেরিং সাগর ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।
- ডোভার প্রণালী ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে পৃথক করেছে এবং ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।