পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ ও প্রত্যয়। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী। [এই পরীক্ষা থেকে পড়া শুরু করলে আগামী ১৫০ দিনে বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাস কাভার হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
'হেডপণ্ডিত' মিশ্র শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
  1. ক) ইংরেজি + তদ্ভব
  2. খ) ফ্রেঞ্চ + তৎসম
  3. গ) ইংরেজি + তৎসম
  4. ঘ) ফ্রেঞ্চ + তদ্ভব
ব্যাখ্যা

মিশ্র শব্দ (সংকর শব্দ):
বাংলা ভাষায় ‘মিশ্র শব্দ’ নামে আরেক ধরনের শব্দ আছে। এই শব্দগুলাে বিভিন্ন ভাষার বিদেশি শব্দ কিংবা দেশি ও বিদেশি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। এগুলােকে সংকর শব্দ বলা যেতে পারে।

যেমন :
- ইংরেজি ‘হেড’ + তৎসম ‘পণ্ডিত = হেডপণ্ডিত;
- ইংরেজি ‘খ্রিস্ট’ + তৎসম ‘অব্দ = খ্রিস্টাব্দ;
- ইংরেজি ‘ডাক্তার’ + ফারসি ‘খানা’ = ডাক্তারখানা;
- তদ্ভব ‘হাট’ + ফারসি ‘বাজার' = হাটবাজার;
- তদ্ভব ‘রাজা’ + ফারসি ‘বাদশা’ = রাজা-বাদশা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'ঢিপি' কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) দেশী
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) প্রাকৃত
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ:
- আর্য জাতি বাংলা দেশে আসার আগে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক প্রভৃতি যে-সব প্রাক্-আর্য জাতি এদেশে বসবাস করত তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। সে-সব শব্দরাজিই ‘দেশি' শব্দ। অর্থাৎ সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য, বাংলা দেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষার শব্দাবলিকে ‘দেশি শব্দ’ বলা হয়।
যেমন : কুড়ি (কোল ভাষা), পেট (তামিল ভাষা) , চুলা (মুণ্ডারি ভাষা)।
এরকম- খুঁটি , ঝিঙে, চিংড়ি, চাল, ট্যাংরা, ডিঙা, ঢিল , ঢিপি, ঝাটা, মুড়ি, মুড়কি, চেঁকি, ঢােল, ঝােল, ডাহা, ডাঙা, বঁটি, কামড়, দোয়েল, ফিঙে, খাঁচা, খড়, কুলা, গাড়ি, ঘােড়া, ঘােমটা, আঁকা, ধামা, বােঝা, চোঙ্গা, চাঙ, টোপর, ডাব ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অকাজ' শব্দের 'অ' কী?
  1. ক) শব্দ বিভক্তি
  2. খ) প্রকৃতি
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

সাধিত শব্দ:
যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় বা ভাঙা যায় এবং ভগ্ন অংশের সুস্পষ্ট অর্থ থাকে সেরকম বিভাজ্য শব্দকে সাধিত শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ থেকেই সাধারণত সাধিত শব্দ গঠন করা হয়। সাধিত শব্দ মাত্রেই বিশ্লেষণযােগ্য। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
উদাহরণ :
(ক) অকাজ (অ+কাজ) , এখানে ‘অ’ উপসর্গ।
(খ) নাম প্রকৃতির সঙ্গে শব্দ-বিভক্তি বা কারক-বিভক্তি যােগ করে– মানুষকে (মানুষ + কে); এখানে 'মানুষ’ নাম-প্রকৃতি এবং ‘কে’ শব্দ-বিভক্তি।
(গ) ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিভক্তি যােগ করে। যেমন : পড়া (পড়ু+আ); এখানে ‘পড়’ ধাতু এবং ‘আ’ কৃৎ প্রত্যয়।
(ঘ) শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যােগ করে। যেমন : ঢাকাই (ঢাকা+আই); এখানে ‘ঢাকা’ একটি শব্দ এবং ‘আই' তদ্ধিত প্রত্যয়। এরকম : মেঘলা (মেঘ + লা)।
(ঙ) সমাসবদ্ধ করে। যেমন : রাজপুত্র (রাজার পুত্র); নীলাকাশ (নীল যে আকাশ) ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ক্ট = ক্ + ট
  2. খ) ক্ম = ক্ + ন
  3. গ) ঙ্ক = ঙ্ + ক
  4. ঘ) ত্থ = ত্ + থ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়।
১) স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ, যেমনঃ ক্ট = ক্ + ট, জ্জ = জ্ + জ, ন্ট = ন্ + ট ইত্যাদি।
২) অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণঃ ক্ম = ক্ + ম, ঙ্ক = ঙ্ + ক, ত্থ = ত্ + থ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
.
কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্‌চিহ্ন না থাকলে সেখানে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কী আছে বলে ধরে নেওয়া যায়?
  1. ক) কিছু নেই
  2. খ) অ
  3. গ) ো
  4. ঘ) খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
স্বরবর্ণের মোট ১০ টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। এগুলোকে বলে কার বর্ণ।
যেমন - া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ে-া, ৈ-া
কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্‌চিহ্ন না থাকলে ধরে নেওয়া যায় সেখানে ব্যঞ্জনের সঙ্গে একটি 'অ' আছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
.
কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. ক) ধাতুমূল
  2. খ) কৃদন্তমূল
  3. গ) ক্রিয়ামূল
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমনঃ পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
.
নিচের কোনটি প্রাতিপদিক?
  1. ক) লাজ
  2. খ) ঘর
  3. গ) বড়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

.
নিচের কোনটি মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
  1. ক) [ফ্]
  2. খ) [ত্]
  3. গ) [হ্]
  4. ঘ) [ণ্]
ব্যাখ্যা
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০ টি।
এরমধ্যে আছে - [ফ্], [ত্], [হ্], [ঙ্]।
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হচ্ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
.
‘ষ্ণ’ যুক্তবর্ণটি কিভাবে তৈরী?
  1. ক) ষ্ + ঙ
  2. খ) ষ + ঙ
  3. গ) ষ্ + ণ
  4. ঘ) ষ + ণ
ব্যাখ্যা
ষ্ণ = ষ্ + ণ
ক্ষ = ক্ + ষ
ক্ষ্ম = ক্ + ষ্ + ম
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১০.
'চলিষ্ণু' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন।
  1. ক) √চল + ইষ্ণু
  2. খ) √চল্‌ + ইষ্ণু
  3. গ) চল্‌ + ইষ্ণু
  4. ঘ) চল + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা

চলিষ্ণু (বিশেষণ)
১ গতিশীল; সচল।
২ চঞ্চল; অস্থির।
৩ প্রস্থান করতে উদ্যত (চলিষ্ণু হাঁসের মত-মাযহারুল ইসলাম)।
{(বাংলা) √চল্‌+ইষ্ণু(ইষ্ণুচ্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

১১.
কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দীর্ঘতম
  2. খ) অশ্বতর
  3. গ) বহতা
  4. ঘ) শত্রুতা
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ দীর্ঘতম, অশ্বতর, শত্রুতা
কৃৎ প্রত্যয়ঃ বহতা, কাটতি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১২.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) বর্ধমান
  2. খ) চত্বর
  3. গ) নাতিন
  4. ঘ) রান্না
ব্যাখ্যা

- তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ নাতিন, বেহায়াপনা
- কৃৎ প্রত্যয়ঃ রান্না, কান্না, বর্ধমান, চত্বর
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১৩.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ
  2. খ) পুত্র + অ = পৌত্র
  3. গ) দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র
  4. ঘ) শক্তি + অ = শক্ত
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ হলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যযোগে গঠিত শব্দ৷
এরূপ-
- যদু + অ = যাদব
- পুত্র + অ = পৌত্র
- দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র
- শক্তি + অ = শাক্ত
- পতঞ্জলি + অ = পাতঞ্জল
- তিল + অ = তৈল
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৪.
জয় শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √জি + অয়
  2. খ) √জ + অ
  3. গ) √জি + অ
  4. ঘ) জি + অ
ব্যাখ্যা

'বর্ষ' হলো সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় এর উদাহরণ। এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √বৃষ্ + অ।
এরূপ—
- √জি + অ = জয়
- √ক্ষি + অ = ক্ষয়
- √ভূ + অ = ভব ।
- √হন্ + অ = বধ
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৫.
'বিদ্ধ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কী?
  1. ক) √ব্যধ + ত
  2. খ) √ব্যধ্ + ত
  3. গ) ব্যধ্ + ত
  4. ঘ) √বিধ্ + ত
ব্যাখ্যা

√ব্যধ্ + ত = বিদ্ধ হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
- কৃ + ত = কৃত
- √জন + ত = জাত
- √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট
- √ইষ্ + ত = ইষ্ট
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৬.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) √স্ব্প্ + ত = সুপ্ত
  2. খ) √রুজ্ + ত = রুগ্‌ণ
  3. গ) √মস্‌জ্‌ + ত(ক্ত) = মগ্ন
  4. ঘ) √দুহ্ + ত = দুগ্ধ
ব্যাখ্যা
-√স্বপ্ + ত = সুপ্ত
-√রুজ্ + ত = রুগ্‌ণ
-√মস্‌জ্‌ + ত(ক্ত) = মগ্ন
-√দুহ্ + ত = দুগ্ধ
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৭.
'মা' কোন ধরনের শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) বিদেশী
  4. ঘ) বাংলা
১৮.
'সাম্পান' শব্দটি কোন ভাষা হতে বাংলায় আগমন করেছে?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) চীনা
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা

ফরাসি: ডিপাে, রেস্তোরাঁ, কুপন, কার্তুজ।

ওলন্দাজ: ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি৷

অন্যান্য ভাষার শব্দ :
- রিকসা (রিক্সা) (জাপানি);
- চা, চিনি, লিচু, সাম্পান (চিনা);
- লুঙ্গি, ঘুঘনি, (বর্মী অর্থাৎ মায়ানমারের);
- স্টুডিও, ম্যালেরিয়া (ইতালীয়);
- সাগু (মালয়ী);
- কচুরি, লােটা, খানাপিনা, লাগাতার, বন, টালমাটাল (উর্দু/হিন্দি);
- হরতাল, খদ্দর (গুজরাটি) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৯.
নিচের কোনটি কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনি
  1. ক) শ
  2. খ) ঢ়
  3. গ) ঙ
  4. ঘ) ন
ব্যাখ্যা
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
-যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
-কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২০.
ওষ্ঠ সৃষ্ট ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধ
  2. খ) ঢ
  3. গ) ক
  4. ঘ) প
ব্যাখ্যা

সৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলােকে সৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলােকে ওষ্ঠ স্পষ্ট, দন্ত স্পষ্ট, মূর্ধা স্পষ্ট, তালু স্পষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট – এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
-ওষ্ঠ সৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ
-দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ
-মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ
-তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ
-কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২১.
অসমীকরণের উদাহরণ চিহ্নিত করুন।
  1. ক) ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. খ) কবাট > কপাট
  3. গ) ধােবা > ধােপা
  4. ঘ) ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা

অসমীকরণ (Dissimilation) : একই বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ। যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত
হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২২.
'লুঙ্গি' শব্দটি কোন ভাষা হতে বাংলায় আগমন করেছে?
  1. ক) বর্মী
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ওলন্দাজ
  4. ঘ) অসমীয়া
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ভাষার শব্দ:
- ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (ওলন্দাজ)
- রিকসা (রিক্সা), সাম্পান (জাপানি);
- চা, চিনি, লিচু, তুফান (চিনা);
- লুঙ্গি, ঘুঘনি, (বর্মী অর্থাৎ মায়ানমারের);
- স্টুডিও, ম্যালেরিয়া (ইতালীয়);
- সাগু (মালয়ী);
- কচুরি, লােটা, খানাপিনা, লাগাতার, বন, টালমাটাল (উর্দু/হিন্দি);
- হরতাল, খদ্দর (গুজরাটি) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২৩.
'নিন্দক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন।
  1. ক) √নিন্দ + অক
  2. খ) √নিন্দ্‌ + অক
  3. গ) √নিন্দা + অক
  4. ঘ) √নিন্দ্‌ + উক
ব্যাখ্যা

নিন্দক, নিন্দুক (বিশেষণ) কুৎসাকরণ; নিন্দাকরণ; অপবাদ দান (তেমনি কতগুলি লোক তাঁহার গ্রন্থের নিন্দক ছিল-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √নিন্দ্‌+অক(ণ্বুল্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

২৪.
'দাপট' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন।
  1. ক) √দাপ + ট
  2. খ) দাপ্ + ট
  3. গ) দাপ + ট
  4. ঘ) √দাপ্ + ট
ব্যাখ্যা

দাপট (বিশেষ্য):
- প্রবল প্রতাপ; দুর্দান্ত; প্রভাব; তেজ (দাপটে অস্থির)।
{দাপ+ট}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

২৫.
'গামলা' কী শব্দ?
  1. ক) গ্রিক
  2. খ) মেক্সিকান
  3. গ) স্প্যানিশ
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ শব্দ :
- আচার, আনারস, আতা, আলকাতরা, আলপিন, আলমারি, ইস্তিরি , ইস্পাত, কামরা, কাকাতুয়া, কামিজ, কেদারা, কেরানি, গামলা, গুদাম, গির্জা, চাবি, জানালা, তামাক, তােয়ালে, পাদ্রি, পাউরুটি, পেঁপে, পেরেক, পেয়ারা, পিস্তল, ফিতে, বালতি, বাসন, বােতাম, সাবান, সায়া ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় এক শ’ থেকে এক শ’ দশটির মতাে আছে পর্তুগিজ শব্দ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬.
কোনটি অর্ধস্বরধনি নয়?
  1. ক) ই্‌
  2. খ) আ
  3. গ) এ্‌
  4. ঘ) ও্‌
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌। স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবে,দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন -
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২৭.
‘ঝ’ কী ধরনের বর্ণ?
  1. ক) তালব্য
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২৮.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে ______ বলে।
  1. ক) তাড়িত ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) উষ্ম ব্যঞ্জন
  4. ঘ) কম্পিত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২৯.
‘চারি > চার’ কিসের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরলােপ
  2. খ) স্বরাগম
  3. গ) সম্প্রকর্ষ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ :
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনাে স্বরধ্বনির সােপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন– বসতি > বস্‌তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলােপ (Aphesis) : যেমন— অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার » উধার » ধার।
খ. মধ্যস্বর শােপ (Syncope) : অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ » স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লােপ (Apocope) : আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা) , সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। ( স্বরলােপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩০.
কোনটি অঘোষধ্বনি?
  1. ক) ব
  2. খ) হ
  3. গ) ম
  4. ঘ) ন
ব্যাখ্যা

অঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।
- ব, ম, ন এগুলো ঘোষ ব্যঞ্জন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩১.
'হারাম' শব্দটি কোন ভাষা হতে বাংলায় আগমন করেছে?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) কুর্দি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা

আরবি শব্দ : বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়-
() ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহু, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।

() প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২.
ব্যঞ্জনবর্ণের কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. ক) ফ, ব, ভ, ন
  2. খ) ঠ, ন, ম, য
  3. গ) ষ, স, হ, ড়
  4. ঘ) স, হ, র, ৎ
ব্যাখ্যা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ