পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বিষয়: বাংলা সাহিত্য ⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯ টপিক: i) বাংলা সাহিতের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম, ii) সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা ও সাময়িকী, iii) কবি-সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি, চরিত্র, সংলাপ ও উক্তি, iv) ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য v) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। [নম্বর কাভার - ১১]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
'বঙ্গদূত' পত্রিকাটি  সম্পাদনা করেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নীলমণি হালদার
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বঙ্গদূত:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমনি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘ছন্দোরাজ’ বলা হয় কাকে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কায়কোবাদ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. রাগবিনোদ
  2. সংগীতসুধা
  3. গীতরত্ন
  4. টপ্পাবাণী
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3.  স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সবাই 
ব্যাখ্যা
• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. শুকুর মাহমুদ
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা
• শুকুর মাহমুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসে বৌদ্ধ, নাথ ও সুফি ভাবধারার মিলনে এক মিশ্র তত্ত্বজ্ঞানের কথা বর্ণিত হয়েছে। 

শুকুর মাহমুদ:
- শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মহামহোপাধ্যায়' কার উপাধি?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়। 

----------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবির নাম কী?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. কানাহরি দত্ত 
  3. কবি কঙ্ক
  4. বড়ু চণ্ডীদাস 
ব্যাখ্যা
• কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম।
- পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকটি কোন বালককে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. রতন
  2. মেহের আলি
  3. মধুসূদন
  4. অমল
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'।
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র 'কুমুদিনী, মধুসূদন' প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'জীবন আমার বোন' কী?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. জেলে কেন্দ্রিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে। 
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
 • উপন্যাস:
- কালো বরফ; 
- জীবন আমার বোন;
- অনুর পাঠশালা;
- নিরাপদ তন্দ্রা;
- অশরীরী;
- চিক্কোর কাবুল ;
- খেলাঘর;
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০.
'মালাধর বসু' কোন সুলতানের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌
  2. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কোন শতকে রচিত?
  1. পঞ্চদশ
  2. ষোড়শ
  3. সপ্তদশ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সপ্তদশ শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

• ''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।  

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ?
  1. রক্তকরবী
  2. গীতিমাল্য
  3. জীবনস্মৃতি
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
• 'গীতিমাল্য '- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'রক্তকরবী' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
• 'জীবনস্মৃতি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
• 'রাজর্ষি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ-বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র:
- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের চরিত্র: মাধবী (বড়দিদি), প্রমীলা, ব্রজরাজ, সুরেন্দ্রনাথ।
- ‘দেবদাস’ উপন্যাসের চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার রচয়িতা কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. দ্বিজ কানাই
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক - মনসুর বয়াতি।

• 'দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল;
- দুলাল;
- মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ কে লিখেছেন?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমদ 
  4. সেলিনা হোসেন 
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. শেষলেখা
  3. মানসী
  4. পূরবী
ব্যাখ্যা
• 'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা।

• ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ।
১৭.
"দেখো যতীন, চেনা বামুনের পৈতের দরকার হয় না" - লাইনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন রচনার?
  1. মাল্যদান
  2. মণিহারা
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. নিশীথে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মাল্যদান' গল্পের অংশবিশেষ:
আত্মীয়সমাজে 'পটল' নামে খ্যাত এই মেয়েটি বলিয়া উঠিল,'আর মিথ্যা বড়াই করিতে হইবে না। তোমার ইহজন্মের সব খবরই তো রাখি, মশায়। ছি ছি, এত বয়স হইল, তবু একটা সামান্য বউও ঘরে আনিতে পারিলে না। আমাদের ঐ-যে ধনা মালীটা, ওরও একটা বউ আছে-- তার সঙ্গে দুইবেলা ঝগড়া করিয়া সে পাড়াসুদ্ধলোককে জানাইয়া দেয় যে, বউ আছে বটে। আর তুমি যে মাঠের দিকে তাকাইয়া ভান করিতেছ, যেন কার চাঁদমুখ ধ্যান করিতে বসিয়াছ, এ-সমস্ত চালাকি আমি কি বুঝি না-- ও কেবল লোক দেখাইবার ভড়ং মাত্র। দেখো যতীন, চেনা বামুনের পৈতের দরকার হয় না-- আমাদের ঐ ধনাটা তো কোনোদিন বিরহের ছুতা করিয়া মাঠের দিকে অমন তাকাইয়া থাকে না; অতিবড়ো বিচ্ছেদের দিনেও গাছের তলায় নিড়ানি হাতে উহাকে দিন কাটাইতে দেখিয়াছি-- কিন্তু উহার চোখে তো অমন ঘোর-ঘোর ভাব দেখি নাই। আর তুমি মশায়, সাতজন্ম বউয়ের মুখ দেখিলে না-- কেবল হাসপাতালে মড়া কাটিয়া ও পড়া মুখস্থ করিয়া বয়স পার করিয়া দিলে, তুমি অমনতরো দুপুরবেলা আকাশের দিকে গদ্‌গদ হইয়া তাকাইয়া থাক কেন। না, এ-সমস্ত বাজে চালাকি আমার ভালো লাগে না। আমার গা জ্বালা করে।'

যতীন হাতজোড় করিয়া কহিল,'থাক্‌ থাক্‌, আর নয়। আমাকে আর লজ্জা দিয়ো না। তোমাদের ধনাই ধন্য। উহারই আদর্শে আমি চলিতে চেষ্টা করিব। আর কথা নয়, কাল সকালে উঠিয়াই যে কাঠকুড়ানি মেয়ের মুখ দেখিব, তাহারই গলায় মালা দিব-- ধিক্কার আমার আর সহ্য হইতেছে না।'

উৎস: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মাল্যদান' গল্প।
১৮.
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘শহীদ স্মরণে’ - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  2. রফিক আজাদ
  3. মোহম্মদ মনিরুজ্জামান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতাটি লিখেছেন।
---------------------------
• কবিতাটির প্রেক্ষাপট:
- "শহীদ স্মরণে" কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এই কবিতায় স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------- 
কবি পরিচিতি:
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরের খড়কী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেন। পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি মনিরুজ্জামান ১৯৬৯ সালে লন্ডনের International Who’s Who in Poetry থেকে “Certificate of Merit for Distinguished Contribution to Poetry” সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
--------------------------- 
শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস:
- ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতা, মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
- বাংলাপিডিয়া।
১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম -
  1. ভানুমতি ঠাকুর
  2. বিস্যাসুন্দর 
  3. দিকশূণ্য ঠাকুর 
  4. বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• 'ভানুমতি ঠাকুর', বিস্যাসুন্দর, দিকশূণ্য ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
"অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যা রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১.
'ডাকার্ণব', 'সরোজবজ্রের দোহাকোষ' কোন যুগের সাহিত্যের নিদর্শন?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• 'ডাকার্ণব', 'সরোজবজ্রের দোহাকোষ' - প্রাচীন যুগের নিদর্শন।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।