পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়16 minutes
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬ টপিক: (খ) দার্শনিক কাব্য (গীতা) গীতার পরিচয়; গীতার উদ্ভব; গীতার অধ্যায় ভিত্তিক পরিচয়। উৎস: ৩য় ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
গীতার প্রথম অধ্যায়ের নাম কী?
  1. কর্মযোগ
  2. সাংখ্যযোগ
  3.  অর্জুন-বিষাদ যোগ
  4. ভক্তিযোগ
সঠিক উত্তর:
 অর্জুন-বিষাদ যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 অর্জুন-বিষাদ যোগ
ব্যাখ্যা

গীতার প্রথম অধ্যায় হলো অর্জুন-বিষাদ যোগ। এখানে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় অর্জুন আত্মীয়দের দেখে বিষাদগ্রস্ত হয়ে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান। এই দ্বন্দ্ব থেকেই গীতার সূচনা।

.
গীতার প্রথম শ্লোকে কে কাকে প্রশ্ন করেছিলেন?
  1. সঞ্জয় → কৃষ্ণকে
  2.  ধৃতরাষ্ট্র → সঞ্জয়কে
  3. অর্জুন → কৃষ্ণকে
  4.  ভীষ্ম → দ্রোণকে
সঠিক উত্তর:
 ধৃতরাষ্ট্র → সঞ্জয়কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ধৃতরাষ্ট্র → সঞ্জয়কে
ব্যাখ্যা

গীতার প্রথম শ্লোকে ধৃতরাষ্ট্র সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসা করেন – ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেত যোদ্ধারা কী করছে? এখান থেকেই গীতা শুরু।

.
অর্জুন কেন যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন?
  1. শত্রুভয়
  2. আত্মীয়-বন্ধু হত্যার ভয়
  3. যুদ্ধনীতি দুর্বলতা
  4. শ্রীকৃষ্ণের আদেশ
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়-বন্ধু হত্যার ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়-বন্ধু হত্যার ভয়
ব্যাখ্যা

অর্জুন দেখলেন কুরুক্ষেত্রে দুই পক্ষের যোদ্ধারা তার আপনজন। তাদের হত্যা করলে পাপ হবে—এই দ্বিধাতেই তিনি যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন।

.
অর্জুনের রথচালক হিসেবে কার ভূমিকা ছিল?
  1. ভীম
  2. সঞ্জয়
  3.  যুধিষ্ঠির
  4. কৃষ্ণ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৃষ্ণ অর্জুনের রথচালক হন। এভাবেই তিনি তাকে উপদেশ দেওয়ার সুযোগ পান, যা পরে গীতা নামে পরিচিত হয়।

.
প্রথম অধ্যায়ে অর্জুনের অবস্থা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
  1. করুণাবশ ও বিষাদগ্রস্ত
  2. স্থিরচিত্ত
  3. বাক্রুদ্ধ
  4. আনন্দিত
সঠিক উত্তর:
করুণাবশ ও বিষাদগ্রস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করুণাবশ ও বিষাদগ্রস্ত
ব্যাখ্যা

অর্জুন আত্মীয়দের হত্যা করতে হবে ভেবে করুণাভরে ভেঙে পড়েন। তার শরীর কাঁপতে থাকে, গাণ্ডীব ধনুক হাত থেকে পিছলে যায়। তাই অধ্যায়ের নাম অর্জুন-বিষাদ যোগ।

.
কোন অধ্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রের দুই পক্ষের সেনাদের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়?
  1. প্রথম অধ্যায়
  2.  দ্বিতীয় অধ্যায়
  3.  সপ্তম অধ্যায়
  4. দ্বাদশ অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রথম অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

প্রথম অধ্যায়ে উভয় পক্ষের সেনাপতি ও যোদ্ধাদের নাম ধৃতরাষ্ট্রের প্রশ্নের উত্তরে সঞ্জয় উল্লেখ করেন। যেমন ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, ভীম, অর্জুন প্রমুখ।

.
অর্জুন যুদ্ধ না করার জন্য কোন যুক্তি দেন না?
  1. আত্মীয়হত্যা পাপ
  2. বংশধ্বংস হবে
  3. নরকের পথ খুলবে
  4. যশ লাভ হবে
সঠিক উত্তর:
যশ লাভ হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশ লাভ হবে
ব্যাখ্যা

 অর্জুন বলেন—যুদ্ধে আত্মীয়দের মারা গেলে বংশধ্বংস, ধর্মনাশ ও নরকগতি হবে। কিন্তু "যশ লাভ" তিনি যুদ্ধ না করার যুক্তি হিসেবে কখনোই দেননি।

.
প্রথম অধ্যায়ে অর্জুন কী করেন?
  1. যুদ্ধ শুরু করেন
  2. ধনুক ফেলে বসে পড়েন
  3. কৃষ্ণকে উপদেশ দেন
  4. যুধিষ্ঠিরের কাছে যান
সঠিক উত্তর:
ধনুক ফেলে বসে পড়েন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনুক ফেলে বসে পড়েন
ব্যাখ্যা

যুদ্ধের আগে অর্জুন বিষণ্ণ হয়ে গাণ্ডীব ধনুক ফেলে দেন ও রথে বসে পড়েন। তখন কৃষ্ণ তাকে শিক্ষা দিতে শুরু করেন।

.
অর্জুন-বিষাদ যোগ আসলে কী প্রকাশ করে?
  1. কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি
  2. যুদ্ধনীতি
  3. অর্জুনের দ্বিধা ও করুণাজনিত দুর্বলতা
  4.  ধৃতরাষ্ট্রের লোভ
সঠিক উত্তর:
অর্জুনের দ্বিধা ও করুণাজনিত দুর্বলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জুনের দ্বিধা ও করুণাজনিত দুর্বলতা
ব্যাখ্যা

 অর্জুন-বিষাদ যোগে তার মনোবেদনা, করুণা ও আত্মীয়হত্যার ভয়ে দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এর মধ্য দিয়েই গীতার মূল শিক্ষার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

১০.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কোন গ্রন্থের অংশ?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. পুরাণসমূহ
  4.  উপনিষদ
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
ব্যাখ্যা

গীতা মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অংশ, ৭০০ শ্লোকে সংকলিত। মহাভারত ব্যাসদেব রচিত, আর গীতাকে বলা হয় “উপনিষদ্‌সার”। এতে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্ম, জ্ঞান ও যোগের শিক্ষা প্রদান করেন।

১১.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হলো-
  1. উপনিষদদের উপনিষদ
  2. মহাভারতের হৃদয়
  3. যোগশাস্ত্র
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

গীতাকে বলা হয়— উপনিষদসমূহের সার, কারণ এতে আত্মা, ব্রহ্ম ও যোগের মূল শিক্ষা আছে। একে মহাভারতের হৃদয় বলা হয়, কারণ মহাভারতের কেন্দ্রীয় দার্শনিক অংশ এটি। গীতা হলো যোগশাস্ত্রও, যেখানে জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ, ভক্তিযোগ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১২.
গীতার প্রারম্ভিক শ্লোক কার মুখে উচ্চারিত?
  1.  সঞ্জয়
  2. কৃষ্ণ
  3. ধৃতরাষ্ট্র
  4.  অর্জুন
সঠিক উত্তর:
ধৃতরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৃতরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

গীতার প্রথম শ্লোকটি ধৃতরাষ্ট্রের মুখে উচ্চারিত— “ধৃতরাষ্ট্র উবাচ”। তিনি সঞ্জয়কে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বিবরণ জিজ্ঞাসা করেন। সঞ্জয় তখন দৃষ্টিদানপ্রাপ্ত হয়ে সবকিছু বর্ণনা করতে থাকেন।

১৩.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মোট কতটি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১২
  2. ১৫
  3. ১৮
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৮টি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রতিটি অধ্যায়ে ভিন্ন যোগ ও জ্ঞানের দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন— প্রথম অধ্যায় অর্জুনবিষাদযোগ, শেষ অধ্যায় মোক্ষসংন্যাসযোগ।

১৪.
গীতার কোন অধ্যায়ে “কর্মযোগ” ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
  1. ২য় অধ্যায়
  2. ৩য় অধ্যায়
  3. ৫ম অধ্যায়
  4. ৭ম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
৩য় অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য় অধ্যায়
ব্যাখ্যা

তৃতীয় অধ্যায়— কর্মযোগ, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— নিষ্কাম কর্মই মুক্তির পথ। শুধু জ্ঞান বা ভক্তিই নয়, কর্তব্যকর্মকে ফলাসক্তিহীনভাবে সম্পাদন করাই শ্রেষ্ঠ যোগ।

১৫.
বিশ্বরূপ দর্শন কোথায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৭ম অধ্যায়
  2. ১০ম অধ্যায়
  3.  ১১তম অধ্যায়
  4. ১৫তম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
 ১১তম অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১১তম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

একাদশ অধ্যায়— বিশ্বরূপ দর্শনযোগ, এখানে কৃষ্ণ অর্জুনকে দিব্যদৃষ্টি প্রদান করে তাঁর বিশ্বরূপ প্রকাশ করেন। অর্জুন এতে অভিভূত হয়ে কৃষ্ণকে সর্বোচ্চ ঈশ্বররূপে উপলব্ধি করেন।

১৬.
গীতার শেষ অধ্যায়ের নাম কী?
  1. মোক্ষসংন্যাসযোগ
  2. সন্ন্যাসযোগ
  3. গুণত্রয়বিভাগযোগ
  4. কর্মবৈরাগ্যযোগ
সঠিক উত্তর:
মোক্ষসংন্যাসযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোক্ষসংন্যাসযোগ
ব্যাখ্যা

অষ্টাদশ অধ্যায়— মোক্ষসংন্যাসযোগ, যেখানে জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির সমন্বয়ে পরমমুক্তির পথ বর্ণিত হয়েছে। এই অধ্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে চূড়ান্তভাবে শরণাগতির শিক্ষা দেন।

১৭.
গীতার বর্ণনার “বক্তা–শ্রোতা” শৃঙ্খল সঠিক কোনটি?
  1. কৃষ্ণ → সঞ্জয় → ধৃতরাষ্ট্র → জনমেজয়
  2.   কৃষ্ণ → অর্জুন; সঞ্জয় → ধৃতরাষ্ট্র; বৈশম্পায়ন → জনমেজয়
  3.  অর্জুন → কৃষ্ণ; ধৃতরাষ্ট্র → সঞ্জয়; সৌতি → শৌনক
  4.  কৃষ্ণ → ধৃতরাষ্ট্র → সঞ্জয় → অর্জুন
সঠিক উত্তর:
  কৃষ্ণ → অর্জুন; সঞ্জয় → ধৃতরাষ্ট্র; বৈশম্পায়ন → জনমেজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
  কৃষ্ণ → অর্জুন; সঞ্জয় → ধৃতরাষ্ট্র; বৈশম্পায়ন → জনমেজয়
ব্যাখ্যা

কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণ অর্জুনকে শিক্ষা দেন। যুদ্ধের কাহিনি সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে শোনান (দিব্যদৃষ্টিপ্রাপ্ত)। পুরো মহাভারত বৈশম্পায়ন জনমেজয়কে বর্ণনা করেন; আর বিভিন্ন স্থানে সৌতি শৌনকাদের বলেন। এই বহুস্তরীয় ন্যারেটিভ ফ্রেম বোঝা পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

১৮.
গীতা মহাভারতের কোন পর্বে, এবং মোট অধ্যায়/শ্লোক কত (প্রচলিত পাঠ অনুযায়ী)?
  1. শল্যপর্ব; ১৬ অধ্যায়, 600 শ্লোক
  2. দ্রোণপর্ব; ১৮ অধ্যায়, 745 শ্লোক
  3. ভীষ্মপর্ব; ১৮ অধ্যায়, 700 শ্লোক
  4. শান্তিপর্ব; ১৪ অধ্যায়, 701 শ্লোক
সঠিক উত্তর:
ভীষ্মপর্ব; ১৮ অধ্যায়, 700 শ্লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীষ্মপর্ব; ১৮ অধ্যায়, 700 শ্লোক
ব্যাখ্যা

ভীষ্মপর্বে গীতা সংকলিত। প্রচলিত সমন্বিত পাঠে ১৮ অধ্যায় ও ৭০০ শ্লোক ধরা হয় (কিছু আঞ্চলিক পাঠভেদের সামান্য তারতম্য থাকলেও পরীক্ষায় ৭০০-ই স্ট্যান্ডার্ড)। এই তথ্যটি সরাসরি এমসিকিউতে আসে।

১৯.
দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘সাঙ্খ্য’ ও ‘কর্ম’—এ দুয়ের সম্পর্ক গীতা কীভাবে স্থির করে?
  1. সাঙ্খ্যই যথেষ্ট, কর্ম অনাবশ্যক
  2. কেবল ভক্তিই যথেষ্ট
  3. কর্মই সব, জ্ঞানের দরকার নেই
  4. জ্ঞান (সাঙ্খ্য) ভিত্তি; কিন্তু নিষ্কাম কর্মই সাধকের কর্তব্য
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান (সাঙ্খ্য) ভিত্তি; কিন্তু নিষ্কাম কর্মই সাধকের কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান (সাঙ্খ্য) ভিত্তি; কিন্তু নিষ্কাম কর্মই সাধকের কর্তব্য
ব্যাখ্যা

২য় অধ্যায় “সাঙ্খ্যযোগ”—আত্মার অবিনাশিতা স্থাপন করে; সেখানেই নিষ্কাম কর্ম-নীতির বীজ (২.৪৭ ইত্যাদি) রোপণ হয়। গীতা জ্ঞান–কর্ম–ভক্তি—এই ত্রয়ীর সামঞ্জস্য চায়; জ্ঞান বোধ জাগায়, কর্ম অহংমুক্ত সেবারূপে জীবনে প্রয়োগ ঘটায়।

২০.
“কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মাফলেষু কদাচন”—এ শিক্ষার মর্ম সঠিক কোনটি?
  1. ফল ত্যাগ মানে কর্মও ত্যাগ
  2. ফলের ওপর আসক্তি না রেখে কর্তব্যকর্ম করা
  3. কেবল ধ্যান করলেই হবে
  4. কেবল যজ্ঞ করলেই হবে
সঠিক উত্তর:
ফলের ওপর আসক্তি না রেখে কর্তব্যকর্ম করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলের ওপর আসক্তি না রেখে কর্তব্যকর্ম করা
ব্যাখ্যা

গীতা কর্মপলাশ্রয়ী নৈতিকতা শেখায়—কর্তব্য করো, কিন্তু ফলাসক্তি ত্যাগ করি। এতে অহংকার–দুঃখ কমে, কর্ম যোগ হয়ে ওঠে। ফলবিমুখতা অকর্মণ্যতা নয়; বরং দায়িত্বশীল কর্মের আধ্যাত্মিক রূপান্তর।

২১.
“কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ”—গীতার মতে প্রধান শত্রু কে/কী?
  1. অবিদ্যা (অজ্ঞান)
  2. কাম/ক্রোধ—রজোগুণজাত, যা জ্ঞানকে ঢাকে
  3. তামোগুণমাত্র
  4. স্বার্থপরতা, কিন্তু কাম নয়
সঠিক উত্তর:
কাম/ক্রোধ—রজোগুণজাত, যা জ্ঞানকে ঢাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাম/ক্রোধ—রজোগুণজাত, যা জ্ঞানকে ঢাকে
ব্যাখ্যা

 ৩য় অধ্যায়ে কাম–ক্রোধকে মহাশত্রু বলা হয়; এগুলো রজোগুণজাত, জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে। এদের নিয়ন্ত্রণে অভ্যাস, বৈরাগ্য, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ জরুরি। নইলে কর্ম স্বার্থ–হিংসায় কলুষিত হয়।

২২.
গীতায় মোট কত শ্লোক রয়েছে?
  1. ৬৯৯
  2. ৭০০
  3. ৭০১
  4. ৭১০
সঠিক উত্তর:
৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০০
ব্যাখ্যা

প্রাচীন গণনায় গীতার শ্লোকসংখ্যা ৭০০ ধরা হয়। ভীষ্মপর্বে মোট ৭০০ শ্লোক গীতারূপে সংকলিত হয়েছে। তবে কিছু পাঠভেদে এক-দুইটি শ্লোক অতিরিক্ত পাওয়া যায়।

২৩.
ভগবদ্‌গীতার মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. যুদ্ধকৌশল শেখানো
  2. ধর্মতত্ত্ব প্রচার
  3. অর্থনীতির জ্ঞান দেওয়া
  4. ভূগোল শিক্ষা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
ধর্মতত্ত্ব প্রচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মতত্ত্ব প্রচার
ব্যাখ্যা

গীতার মূল উদ্দেশ্য মানবজীবনের কর্তব্য, ধর্ম, জ্ঞান ও ভক্তির মেলবন্ধন ঘটানো। কৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের উপদেশ দেন। এতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মের চিরন্তন নীতি শেখানো হয়েছে।

২৪.
ভগবদ্‌গীতা মূলত কোন আকারে উপস্থাপিত?
  1. প্রশ্নোত্তর
  2. কাহিনী
  3.  নাটক
  4. প্রার্থনা
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নোত্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নোত্তর
ব্যাখ্যা

গীতা কৃষ্ণ ও অর্জুনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রশ্নোত্তরমূলক সংলাপ। অর্জুন বিভ্রান্ত হলে কৃষ্ণ তাঁকে কর্তব্য ও ধর্মের শিক্ষা দেন। সংলাপধর্মী আকারে গীতা সহজবোধ্য ও উপদেশমূলক হয়ে উঠেছে।

২৫.
ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে প্রধানত কোন যোগের শিক্ষা দেন?
  1. রাজযোগ
  2.  হঠযোগ
  3. কর্মযোগ
  4. মন্ত্রযোগ
সঠিক উত্তর:
কর্মযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মযোগ
ব্যাখ্যা

গীতায় কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ আলোচিত হলেও কৃষ্ণ কর্মযোগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ ফলের প্রতি আসক্তি না রেখে কর্তব্যকর্ম সম্পাদনই প্রকৃত ধর্ম। এজন্য গীতা কর্মনিষ্ঠ জীবনের আদর্শ গ্রন্থ।

২৬.
 ভগবদ্‌গীতাকে কেন ‘উপনিষদ’ বলা হয়?
  1. এতে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্ব আছে
  2. এতে অনেক পুরাণকথা আছে
  3. এতে কাহিনী বর্ণনা আছে
  4. এটি ভক্তিমূলক গান
সঠিক উত্তর:
এতে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্ব আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তত্ত্ব আছে
ব্যাখ্যা

উপনিষদে যেমন আত্মা, পরমাত্মা ও ব্রহ্মতত্ত্ব আলোচনা করা হয়, তেমনি গীতায়ও সেই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই গীতাকে কখনো “গীতোপনিষদ” বলা হয়। এটি দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক সাধনার সারাংশ।

২৭.
ভগবদ্‌গীতা রচনার উদ্দেশ্য কী?
  1. যুদ্ধবিজয়ের পথ দেখানো
  2. ধর্মগ্রন্থের সংকলন
  3. আধ্যাত্মিক মুক্তির উপদেশ
  4. অর্থনীতি ও রাজনীতি শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক মুক্তির উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক মুক্তির উপদেশ
ব্যাখ্যা

গীতার মূল লক্ষ্য মানুষের কর্তব্য নির্ধারণ ও আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ প্রদর্শন। কৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের মাধ্যমে জীবনের চূড়ান্ত সত্য উপলব্ধি করান। তাই এটি জীবনদর্শনের সারগ্রন্থ।

২৮.
ভগবদ্‌গীতার মূল শিক্ষা কী?
  1. সংসার ত্যাগ করা
  2. কর্তব্যকর্ম ফলের প্রতি আসক্তিহীনভাবে করা
  3. ধ্যানের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া
  4. ভক্তি করলেই পরিত্রাণ
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যকর্ম ফলের প্রতি আসক্তিহীনভাবে করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যকর্ম ফলের প্রতি আসক্তিহীনভাবে করা
ব্যাখ্যা

গীতায় কৃষ্ণ কর্তব্যকর্মকে আসক্তিহীনভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দেন। কর্মই জীবনের ভিত্তি, তবে তার ফলের প্রতি লোভ না রাখাই প্রকৃত যোগ। এই নীতি আধুনিক জীবনেও সমান প্রাসঙ্গিক।

২৯.
গীতা কেন সর্বজনীন গুরুত্ব লাভ করেছে?
  1. এটি সনাতন হিন্দু ধর্মের সকলের জন্য শিক্ষা দেয় বলে
  2. এটি যুদ্ধকৌশল শেখায় বলে
  3. এতে কৃষ্ণ-অর্জুনের কাহিনী রয়েছে বলে
  4. এতে মানবজীবনের সার্বজনীন নীতি আছে
সঠিক উত্তর:
এতে মানবজীবনের সার্বজনীন নীতি আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে মানবজীবনের সার্বজনীন নীতি আছে
ব্যাখ্যা

গীতা ধর্ম, কর্ম ও ভক্তির সর্বজনীন শিক্ষা দেয়, যা কেবল একটি ধর্মের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো জাতি বা কালের মানুষের জন্য এর শিক্ষাগুলো প্রযোজ্য। এজন্য গীতার প্রভাব বিশ্বব্যাপী।

৩০.
ভগবদ্‌গীতাকে কোন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ
  2. জীবনদর্শনের সারগ্রন্থ 
  3. পুরাণকাহিনী
  4. পবিত্র গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
জীবনদর্শনের সারগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনদর্শনের সারগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

গীতাকে শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সর্বজনীন জীবনদর্শনের সারগ্রন্থ বলা হয়। এতে জীবনের সমস্যার সমাধান, কর্তব্য, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ আলোচিত হয়েছে।

৩১.
গীতার নবম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু কী?
  1. জ্ঞানযোগ
  2. কর্মযোগ
  3. সন্ন্যাসযোগ
  4. রাজবিদ্যা রাজগুহ্য যোগ
সঠিক উত্তর:
রাজবিদ্যা রাজগুহ্য যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবিদ্যা রাজগুহ্য যোগ
ব্যাখ্যা

নবম অধ্যায়ের নাম “রাজবিদ্যা রাজগুহ্য যোগ”। এতে কৃষ্ণ ভক্তির মাহাত্ম্য ও ভক্তের প্রতি নিজের সর্বাত্মক আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন।

৩২.
গীতার ১১তম অধ্যায়ে কৃষ্ণ কোন রূপ প্রদর্শন করেন?
  1. শঙ্খচক্রধারী রূপ
  2.  নারায়ণ রূপ
  3. চতুর্ভুজ রূপ
  4. বিশ্বরূপ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বরূপ
ব্যাখ্যা

একাদশ অধ্যায় “বিশ্বরূপ দর্শন যোগ”। এখানে কৃষ্ণ অর্জুনকে দিব্যদৃষ্টি দেন এবং তাঁর বিশ্বরূপ প্রকাশ করেন। এই রূপ অসীম, ভীতিজাগানিয়া ও অলৌকিক।

৩৩.
ভগবদ্‌গীতাকে কোন দর্শনের সারসংক্ষেপ বলা হয়?
  1.  সাংখ্য ও যোগ
  2. ন্যায় ও বৈশেষিক
  3. মীমাংসা ও বেদান্ত
  4.  চার্বাক
সঠিক উত্তর:
 সাংখ্য ও যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সাংখ্য ও যোগ
ব্যাখ্যা

গীতায় মূলত সাংখ্য দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব ও যোগ দর্শনের সাধনাপদ্ধতি আলোচিত হয়েছে। কৃষ্ণ এগুলোকে ভক্তি ও কর্মের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।

৩৪.
গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ে কোন তিন গুণের আলোচনা আছে?
  1. ধর্ম, অর্থ, কাম
  2. কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি
  3. সত্ত্ব, রজ, তম
  4. ইষ্ট, অনিষ্ট, মুক্তি
সঠিক উত্তর:
সত্ত্ব, রজ, তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্ত্ব, রজ, তম
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ অধ্যায় “ত্রিগুণ বিভাগ যোগ”। এখানে কৃষ্ণ তিনটি প্রাকৃতিক গুণ— সত্ত্ব, রজ ও তম— এর প্রভাব ব্যাখ্যা করেন। এগুলো মানুষকে বেঁধে রাখে এবং মুক্তির পথে বাধা হয়।

৩৫.
গীতার কোন অধ্যায়ে আত্মার অমরত্ব প্রথম স্পষ্টভাবে বর্ণিত?
  1. প্রথম অধ্যায়
  2. দ্বিতীয় অধ্যায়
  3. ষষ্ঠ অধ্যায়
  4.  অষ্টাদশ অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধ্যায়
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় অধ্যায় “সাংখ্যযোগ”-এ কৃষ্ণ আত্মার অমরত্ব ও শরীরের নশ্বরতা বর্ণনা করেন। আত্মা জন্মমৃত্যুর ঊর্ধ্বে— এই শিক্ষা গীতার মৌলিক ভিত্তি।

৩৬.
গীতার সপ্তম অধ্যায়ের নাম কী?
  1. জ্ঞানযোগ
  2. ধ্যানযোগ
  3. জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ 
  4. সন্ন্যাসযোগ
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ 
ব্যাখ্যা

সপ্তম অধ্যায় হলো “জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ”। এখানে কৃষ্ণ নিজের প্রকৃতি, ভক্তির মাহাত্ম্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয় আলোচনা করেন।

৩৭.
গীতার ষোড়শ অধ্যায়ে কী আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ভক্তির শ্রেষ্ঠত্ব
  2. দৈব-আসুর-সম্পদ-বিভাগ যোগ 
  3. কর্মযোগ
  4.  আত্মার অমরত্ব
সঠিক উত্তর:
দৈব-আসুর-সম্পদ-বিভাগ যোগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈব-আসুর-সম্পদ-বিভাগ যোগ 
ব্যাখ্যা

ষোড়শ অধ্যায়ে মানুষকে দুই প্রকারে বিভক্ত করা হয়েছে— দैব (শুভ) ও আসুর (অশুভ) স্বভাব। এই অধ্যায় নৈতিক শিক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

৩৮.
ভগবদ্‌গীতায় ধর্মকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. কর্তব্যকর্ম 
  2. মন্দিরে পূজা
  3. দান-ধ্যান
  4. যজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যকর্ম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যকর্ম 
ব্যাখ্যা

গীতায় ধর্ম মানে নিজের কর্তব্যকর্ম। কৃষ্ণ বলেন, স্বধর্ম পালন করা পরধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই কর্তব্যই প্রকৃত ধর্ম।

৩৯.
গীতার শেষ বার্তা কী?
  1. ধ্যান করো
  2. যজ্ঞ করো
  3. সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে কৃষ্ণের শরণ নাও
  4. কর্ম ত্যাগ করো
সঠিক উত্তর:
সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে কৃষ্ণের শরণ নাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে কৃষ্ণের শরণ নাও
ব্যাখ্যা

অষ্টাদশ অধ্যায়ে কৃষ্ণ বলেন— “সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ”। অর্থাৎ সব ধর্ম-কর্ম ত্যাগ করে কেবল তাঁর শরণ নেওয়াই মুক্তির চূড়ান্ত উপায়। এটাই গীতার সমাপ্তি বাণী।