পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
“Award Mania: Season - 8” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীলিমা ইব্রাহিম, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী। ২. অন্যান্য লেখকগণ: গোবিন্দচন্দ্র দাস, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, নবীনচন্দ্র সেন, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, ফররুখ আহমদ, বদরুদ্দীন ওমর, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে, মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ, মামুনুর রশিদ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নজিবর রহমান, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
.
কারবালার যুদ্ধের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. ইতিহাসমালা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস: 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত। তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।

- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।

- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।

- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

--------------------
অন্যদিকে,
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।

• ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়। তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

• 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ। বাংলা ভাষায় এবং আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ। গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত কাব্য কোনটি?
  1. প্রভাতসঙ্গীত
  2. সঙ্গীতসার
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

অন্যদিকে, 
• ‘প্রভাতসঙ্গীত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• ‘প্রেম প্রবাহিণী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. মিহির
  3. সওগাত
  4. জ্ঞানের আলো
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
• ‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।
• ‘সওগাত’ একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড কোন ভাষায় পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ইংরেজি ভাষায়
  2. পর্তুগিজ ভাষায়
  3. বাংলা ভাষায়
  4. গ্রিক ভাষায়
ব্যাখ্যা
• অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল লেঙ্গুয়েজ:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

--------------------------
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘রাজাবলি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
.
ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের কবি ছিলেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
.
মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. মুসাফির
  2. গৌড়তটবাসী মশা 
  3. গাজী মিয়াঁ
  4. উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- মুসাফির।
• ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. দেবযান
  2. দৃষ্টি প্রদীপ
  3. যাত্রাবদল
  4. চাঁদের পাহাড়
ব্যাখ্যা
• যাত্রাবদল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ- যাত্রাবদল।
- 'যাত্রাবদল' নামে এই গ্রন্থে একটি গল্পোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। এর গল্পসমূহ হলো-
- ভণ্ডুলমামার বাড়ি,
- পেয়ালা,
- উইলের খেয়াল,
- কনে দেখা,
- সার্থকতা,
- একটি দিন,
- বাইশ বছর,
- বৈদ্যনাথ,
- ডানপিটে,
- যাত্রাবদল।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পেগ্রন্থগুলো হলো:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ বদরুদ্দীন উমর রচিত রাজনৈতিক গবেষণা ও প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯৮৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধ।
১২.
ত্রয়োদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশের রাজনৈতিক পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. মৃণালিনী
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
• ত্রয়োদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশের রাজনৈতিক পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস- মৃণালিনী।

------------------------- 
• ‘মৃণালিনী’ উপন্যাস:

- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

---------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
‘নষ্ট ছেলে’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘নষ্ট ছেলে’ মুনির চৌধুরী রচিত রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ একটি নাটক।
- নাটকটি প্রথম ঢাকায় মঞ্চস্থ হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ হলো:
- এরতাজুল করিম,
- জাহাংগীর,
- এম্রাণ,
- খোকা,
- আমিন।

--------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- ‘মানুষ’ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- ‘নষ্ট ছেলে’ রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- ‘দণ্ডকারণ্য’ তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); ‘নষ্ট ছেলে’ নাটক।
১৪.
‘পদচারণ’ প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘পদচারণ’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- পদচারণ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৯ সালে। 

------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় মূলক দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. নীতিকথা
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
‘নীতিকথা’ মুনশী তারিণীচরণ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।  

• কিংবদন্তিও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত ‘রাজাবলি’ গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠরূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. নয়া খান্দান
  2. আলোছায়া
  3. নেমেসিস
  4. রূপলেখা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৭.
কোনটি গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন?
  1. অশোক সংগীত
  2. সনেট পঞ্চশৎ
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. ফুলরেণু
ব্যাখ্যা
• ‘ফুলরেণু’ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন/কাব্যগ্রন্থ।

---------------------
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট এর সংকলন।
• প্রমথ চৌধুীর মূলত গদ্যশিল্পী হলেও সনেট লেখায় পারদর্শিতা দেখিয়েছে। ‘সনেট পঞ্চশৎ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সনেট কাব্যগ্রন্থ।
• কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৮.
'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. ভারতী
  3. বঙ্গদূত
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
• 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীত:
- 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটির প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- সঙ্গীতটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতবিতান'র স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।
- এটি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের 'বঙ্গভঙ্গ' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড জাতিতে ছিলেন-
  1. পর্তুগিজ
  2. ব্রিটিশ
  3. গ্রিক
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।

- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম। তিনি জাতিতে একজন ব্রিটিশ ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundit ‘ গ্রন্থ:
হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন। পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। কাজেই এটি ছিল একটি ত্রি-স্তরীয় কাজ, যদিও প্রথম দুই স্তরের পন্ডিতদের নাম গ্রন্থে উল্লিখিত হয়নি। পরবর্তী দশকে এ গ্রন্থটির কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ফরাসি ও জার্মান ভাষায়ও এর অনুবাদ হয়। এর মাধ্যমেই বয়স তিরিশে পৌঁছার আগেই হ্যালহেডের খ্যাতি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

• ‘A Grammar of the Bengal Language’ গ্রন্থ:
ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড তাঁর দ্বিতীয় প্রকল্প বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনায় ব্যাপৃত হন। তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
এ গ্রন্থ প্রকাশের পর হ্যালহেড লন্ডনে ফিরে যান এবং ১৭৮৪ সালে আবার কলকাতায় ফিরে আসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০.
‘ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
• ‘Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez’ গ্রন্থ:
ভোকাবুলারিও (Vocabulario)  প্রথম মুদ্রিত বাংলা  ব্যাকরণ। পুরো নাম Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez, সংক্ষেপে Vocabulario। এটি সংকলন করেছিলেন বেশ কয়েকজন পর্তুগিজ ধর্মযাজক এবং সম্পাদনা করেছিলেন Manoel da Assumpcam। ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল। পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলায় আসেন এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তাঁরা এখানে ধর্ম প্রচারের কাজ চালিয়ে যান। এ কাজের জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। কিন্তু যেহেতু তারা গ্রামে বাস করত এবং অভিধানটি ধর্মযাজকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল, সেহেতু মুদ্রিত ৪০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি স্থানীয় ভাষার আদলে রচনা করা হয়। এতে  সংস্কৃত ভাষার কোনো প্রভাব ছিল না। পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার লোকদের কথোপকথনের ভিত্তিতে ব্যাকরণটি রচিত হয়। এখানেই এর বিশেষত্ব।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
‘সুখ ও সভ্যতা’ উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ (বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের  ভাবানুবাদ।)
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. নাট্যকার
  2. ভাষা-সাহিত্যিক
  3. ঔপন্যাসিক
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. নবান্ন
  2. নুরলদীনের সারা জীবন
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 
• নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক - কুলীনকুলসর্বস্ব।
• ‘সুবচন নির্বাসনে’ আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি বিখ্যাত নাটক। নাটকের পটভূমি দেশের একটি মধ্যবিত্ত পরিবার।

------------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত অপরাপর নাটকগুলো হলো:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
‘পৃথিবীজোড়া গান’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ফররুখ আহমদ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। প্রিয়জনেরা ‘রতু’ বলে ডাকতেন।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৫.
বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. চোরাবালি
  2. রুচি ও প্রগতি
  3. উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

----------------------
• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২৬.
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ইতল বিতল
  2. ডাইনী বউ
  3. হলদে পরীর দেশে
  4. দোলা আমার কনক চাঁপা
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা,
- ডাইনী বউ,

- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল। 
- 'হলদে পরীর দেশে' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
- আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- দোলা আমার কনক চাঁপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি। 

----------------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. রোমান
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ জাতিতে একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবংচ বাংলাপিডিয়া।
২৯.
নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্য নয় কোনটি?
  1. রৈবতক
  2. প্রভাস
  3. ভানুমতী
  4. কুরুক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্য নয়- ভানুমতী।

-----------------------
• নবীনচন্দ্র সেন:

- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন ‘অবকাশরঞ্জিনী’ প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

• তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৩০.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি কোনটি?
  1. বামাতোষিণী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. গীতাঙ্কুর
  4. রামারঞ্জিকা
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩১.
নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শতকরা আশি
  2. যেমন ইচ্ছা তেমন
  3. নরসুন্দর
  4. আলোছায়া
ব্যাখ্যা
• ‘নরসুন্দর’ নুরুল মোমেন রচিত একটি রম্যগ্রন্থ।

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।