পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়18 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ: ১. বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) ২. ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। [ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) ণ-ত্ব বিধান
  2. খ) সন্ধি
  3. গ) ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
.
ধ্বনি সৃষ্টিতে কোন প্রত্যঙ্গের ব্যবহার হয় না?
  1. ক) ফুসফুস
  2. খ) নাক
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
বাগযন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।

মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস 
২. শ্বাসনালী
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

অর্থাৎ, ধ্বনি সৃষ্টিতে হৃৎপিণ্ড ব্যবহৃত হয় না। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোন ভাষা গোষ্ঠী থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) ইন্দো-ইউরোপীয়
  2. খ) চীনা-তিব্বতীয়
  3. গ) দ্রাবিড়ীয়
  4. ঘ) অস্ট্রো-এশীয়
ব্যাখ্যা
বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

• পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
.
ব্যাকরণ মূলত কোনটি নিয়ে আলোচনা করে?
  1. ক) ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি
  2. খ) ভাষার বিন্যাস
  3. গ) ভাষার ভুলত্রুটি
  4. ঘ) ভাষার সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
 • ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা ব্যাকরণের কাজ। ব্যাকরণগ্রন্থে এসব বৈশিষ্ট্যকে সূত্রের আকারে সাজানো হয়ে থাকে।

• যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পোর্তগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথায়িল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
.
বাগ্‌ধারা ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাগর্থতত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি। বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনি। এই ধ্বনি, শব্দ, বাক্য – প্রত্যেকটি অংশই ব্যাকরণের আলোচ্য। এছাড়া শব্দের ও বাক্যের বহু ধরনের অর্থ হয়। সেসব অর্থ নিয়েও ব্যাকরণে আলোচনা করা হয়। ব্যাকরণের এসব আলোচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে, যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।

ধ্বনিতত্ত্ব
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি। 

রূপতত্ত্ব
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

বাক্যতত্ত্ব
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে ।

অর্থতত্ত্ব
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্ববলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।
 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় বলা হয় কোন ভাষাকে?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) অহমিয়া
  3. গ) ওড়িয়া
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

• পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
.
ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান -
  1. ক) বাক্য
  2. খ) শব্দ
  3. গ) ধ্বনি
  4. ঘ) বর্ণ
ব্যাখ্যা
ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি।
বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে।
আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে।
এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনি। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
.
ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) রাম মোহন রায়
  4. ঘ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানােএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।
- এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমােহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরাে দুটি উল্লেখযােগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমােহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২১ সংস্করণ )
১০.
লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম -
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) পদ্মাপূরাণ
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
১১.
বাংলা লেখ্য রীতিতে প্রমিত রীতির সূচনা হয় কোন সময়ে?
  1. ক) উনিশ শতকের শুরুতে
  2. খ) উনিশ শতকের শেষে
  3. গ) বিশ শতকের শুরুতে
  4. ঘ) বিশ শতকের মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি:
বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
১২.
বাংলা প্রমিত রীতি অনুসারে কোন শব্দটি সঠিক?
  1. ক) ধুলো
  2. খ) তুলো
  3. গ) মুলো
  4. ঘ) সবচেয়ে
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন – 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, - করবে, করছিল, করেছিল, করব, করতে, করে, করলে, করার।
সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন - তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি।
অনুসর্গের ক্ষেত্রে যেমন – থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।

(খ) প্রমিত রীতিতে শব্দ ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়। একইভাবে ‘চন্দ্ৰ’-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায় ।

(গ) প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়, যেমন 'ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো, সবচে' - ইত্যাদি না লিখে ‘ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা, সবচেয়ে' ইত্যাদি লিখতে হয়।


উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)
১৩.
নিচের কোনটি সাধুরীতির ক্রিয়াপদ?
  1. ক) করিল
  2. খ) করেছে
  3. গ) করত
  4. ঘ) করলাম
ব্যাখ্যা
সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)
১৪.
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় কোথায় বাধাপ্রাপ্ত হয়?
  1. ক) কন্ঠনালিতে
  2. খ) মুখ বিবরে
  3. গ) ওষ্ঠে
  4. ঘ) কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হয় না
ব্যাখ্যা
• যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
স্বরধ্বনির প্রতীককে বলা হয় স্বরবর্ণ।
যেমন: অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি।

• যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতিককে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ।
যেমন: ক, খ, গ, ঘ ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
কারবর্ণের সংখ্যা -
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
কারবর্ণ:
স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ।
কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
বাংলা প্রমিত রীতির অপর নাম -
  1. ক) মান রীতি
  2. খ) গৌড়ীয় রীতি
  3. গ) আদর্শ রীতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি:
বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।

একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।
১৭.
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় -
  1. ক) অনুবর্ণ
  2. খ) রেফ
  3. গ) বর্ণসংক্ষেপ
  4. ঘ) ফলা
ব্যাখ্যা
অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। 
অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে 
- ফলা, 
- রেফ ও 
- বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে, যেমন – ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ (‘)।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮.
কোন ধ্বনির উচ্চারন বিবৃত হয়?
  1. ক) অ
  2. খ) আ
  3. গ) ই
  4. ঘ) অ্যা
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সনয় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত
- অর্ধ- সংবৃত
- অর্ধ- বিবৃত
- বিবৃত 

- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

'আ' - এর উচ্চারণ বিবৃত হয়।





উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯.
কোনটি যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ?
  1. ক) আ
  2. খ) ঋ
  3. গ) ঔ
  4. ঘ) অ্যা
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বি-স্বর নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বি-স্বরে দুটো স্বর থাকে, একটি পূর্ণ আরেকটি অপূর্ণ। 
- বাংলায় পরের স্বরটি সাধারণত অর্ধ হয়। 
- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি আছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক ২টি বর্ণ আছে; আবং । 
- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোনটি দন্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি?
  1. ক) ন
  2. খ) ল
  3. গ) স
  4. ঘ) ধ
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের , র, , দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২১.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্ প্রতঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পথ, তল টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
- উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প ফ ব ভ
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত থ দ ধ
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট ঠ ড ঢ
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ ছ জ ঝ
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক খ গ ঘ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ
২২.
নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি?
  1. ক) গ
  2. খ) চ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) খ
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে 'গ' ঘোষ ধ্বনি এর উদাহরণ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনি দ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
ঘোষধ্বনি যথা- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি।  

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
অঘোষ ধ্বনি যথা - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ ইত্যাদি 



[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১, ২০১৯ সংস্করণ]
২৩.
কোন বর্ণের নিজস্ব কোন ধ্বনি নেই?
  1. ক) ং
  2. খ) ঞ
  3. গ) ক্ষ
  4. ঘ) ৎ
ব্যাখ্যা
বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই।
স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন: মিঞা [মিয়াঁ], চঞ্চল [চন্‌চল্‌], গঞ্জ [গন্‌জো]।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২৪.
'আহ্বান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) আহ্‌বান্‌
  2. খ) আও্‌ভান্‌
  3. গ) আহোবান্‌
  4. ঘ) আওবা্ন্‌
ব্যাখ্যা
আহ্বান (আও্‌ভান্‌)
[স. আ+√হ্বে+অন]
- বিশেষ্য
- নিমন্ত্রন, আমন্ত্রন
- সম্বোধন, ডাক 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫.
'ঙ' ধ্বনিটির সঠিক উচ্চারণ হলো -
  1. ক) উমো
  2. খ) উঁঅ 
  3. গ) ইঁয়ো
  4. ঘ) উম্য
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
'ঙ' বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের পঞ্চম বর্ণমালা এবং ক-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। 
'ঙ' ধ্বনিটির সঠিক উচ্চারণ = উঁঅ 
২৬.
নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় কিভাবে?
  1. ক) আলজিভ নিচে নেমে এলে
  2. খ) জিভ মূর্ধা স্পর্শ করলে
  3. গ) জিভ তালুতে স্পর্শ করলে
  4. ঘ) ঠোঁটের ফাকা কম বেশি হলে
ব্যাখ্যা
আলজিভ
মুখগহ্বরেরর কোমল তালুর পেছনে ঝুলন্ত মাংসপিন্ডের নাম আলজিভ। 
- ধনির উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। 
- এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি উচ্চারিত হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭.
'ভ্রূ' এর বিশ্লেষিত রূপ -
  1. ক) ভ্‌ + র্‌ + উ
  2. খ) ভ্‌ + র + ঊ
  3. গ) ভ্‌ + র্‌ + ঊ
  4. ঘ) ভ + র +উ
ব্যাখ্যা
'ভ্রূ'  এর সঠিক রূপ হলো ভ্ + র্ + ঊ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ত = ক্ত,
- ক্ + ম = ক্ম,
- ক্ + র = ক্র,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + স = ক্স,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।]
২৮.
[ই] উচ্চারণের সময়ে জিভের অবস্থান –
  1. ক) উচ্চ-সম্মুখ
  2. খ) নিম্ন-সম্মুখ
  3. গ) উচ্চ-পশ্চাৎ
  4. ঘ) নিম্ন-পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]।

• সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।



উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. ক) অনাথ
  2. খ) অদ্য
  3. গ) অনেক
  4. ঘ) কথা
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
'স্বপ্ন > স্বপন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) আদি স্বরাগম
  4. ঘ) মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
১. আদি স্বরাগম (Prothesis):
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন – স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। এরূপ – আস্তাবল, আস্পর্ধা।

২. মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

৩. অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis ):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন – দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ, বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি ।

৪. অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১.
'ধাইমা > দাইমা' কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) অন্তর্হতি
  2. খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. গ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ঘ) ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি । যেমন – ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি ।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন— কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি ৷ 

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন— বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি । 

ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন : - ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরূপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
পরাশ্রয়ী ধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ক) ং
  2. খ) ঃ
  3. গ) ঁ
  4. ঘ) ৎ
ব্যাখ্যা
পরাশ্রয়ী ধ্বনি:
- ং, ঃ, ঁ এ তিনটি স্বাধীন ভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। 
- এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। 
- তাই এ বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ। 

- খণ্ড-ত (ৎ)- ‘ত বর্ণের হস-চিহ্ন যুক্ত (ত্)-এর রূপভেদ মাত্র। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
অপিনিহিতির ফলে আগে উচ্চারিত ই/উ তার পাশাপাশি স্বরধ্বনির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সন্ধিতে মিলিত হয়ে স্বরধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটায় তাকে বলা হয় -
  1. ক) অন্তর্হতি
  2. খ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. গ) অভিশ্রুতি
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির ফলে আগে উচ্চারিত ই/উ তার পাশাপাশি স্বরধ্বনির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সন্ধিতে মিলিত হয়ে স্বরধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটায় তাকে অভিশ্রুতি বলে।

- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির ওপর নির্ভরশীল, অপিনিহিতি ছাড়া অভিশ্রুতি হয় না। 
- বাংলা চলিত ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো অভিশ্রুতি।

যেমন -
করিয়া > কইর‍্যা > করে
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে
গাছুয়া > গাউছা > গেছো
কন্যা > কইন্যা > কনে

------------------------
অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
উদাহরণ: ফাল্গুন - ফাগুন, ফলাহার - ফলার, আলাহিদা - আলাদা।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন - পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল,।

স্বরসঙ্গতি: 
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।


উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
৩৪.
'ধনুঃকাণ্ড' এর সঠিক উচ্চারণ হবে -
  1. ক) ধনুক্‌কাণ্‌ড
  2. খ) ধোনুক্‌কান্‌ডো
  3. গ) ধনুকান্‌ডো
  4. ঘ) ধোনুকান্‌ডো
ব্যাখ্যা
ধনুঃকাণ্ড (বিশেষ্য)
উচ্চারণ - ধোনুক্‌কান্‌ডো 

অর্থ - ধনুক ও তির

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫.
কোনটি কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি?
  1. ক) র
  2. খ) ড়
  3. গ) ঢ়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।


উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২২ সংস্করণ )
৩৬.
দ্বি-স্বর এর গঠন প্রণালী -
  1. ক) পূর্ণস্বর + অর্ধস্বর
  2. খ) পূর্ণস্বর + পূর্ণস্বর
  3. গ) অর্ধস্বর + অর্ধস্বর
  4. ঘ) অর্ধস্বর + পূর্ণস্বর
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বি-স্বর নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
- দ্বি-স্বরে দুটো স্বর থাকে, একটি পূর্ণ আরেকটি অপূর্ণ। 
- বাংলায় পরের স্বরটি সাধারণত অর্ধ হয়। 
- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি আছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক ২টি বর্ণ আছে; ঐ আবং ঔ। 
- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই। 

অর্থাৎ, দ্বি-স্বর এর গঠন প্রণালী - পূর্ণস্বর + অর্ধস্বর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কোনটি অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ছ
  2. খ) ঢ
  3. গ) জ
  4. ঘ) ফ
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে 'গ' ঘোষ ধ্বনি এর উদাহরণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- ফ, ব, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি




উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১, ২০১৯ সংস্করণ
৩৮.
ধ্বনি বিপর্যযয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কাঁদনা > কান্না
  2. খ) পিশাচ > পিচাশ
  3. গ) লাল > নাল
  4. ঘ) সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন– জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন : - ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরূপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি ।

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন – পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি । 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
'বিসদৃশ' - এর সঠিক উচ্চারণ হবে -
  1. ক) বিশদ্‌দৃশো
  2. খ) বিশদ্‌দৃশ্‌
  3. গ) বিসদ্‌দৃশ্‌
  4. ঘ) বিসোদ্‌দৃশ্‌
ব্যাখ্যা
বিসদৃশ (বিশেষণ)
উচ্চারণ - বিশদ্‌দৃশো 

অর্থ - অন্যরকম, বিপরীত, সামঞ্জস্যহীন, বিরুদ্ধ। 

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০.
কোন শব্দে পার্শ্বিক ব্যঞ্জনের ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) সাগর
  2. খ) লোহিত
  3. গ) কাণ্ড
  4. ঘ) ঝাঁটা
ব্যাখ্যা
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
একইভাবে 'লোহিত' শব্দে  'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।