পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৫: বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান) টপিক: প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান (পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট) পদার্থ বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র, বলবিদ্যা, ধাতু ও অধাতু, চৌম্বক, তরঙ্গ ও শব্দ, কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি, তাপ, আলো, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, ইত্যাদি, রসায়ন বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: পদার্থের অবস্থা, পরমাণুর গঠন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বিক্রিয়া, এসিড, ক্ষার, লবণ, জৈব রসায়ন। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
বৈদ্যুতিক কলিংবেলে কোন চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. পারম্যালয়
  3. অস্থায়ী চুম্বক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• স্থায়ী চুম্বক:
- কোনো ফেরোচৌম্বক পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করার পর চুম্বকায়ন শক্তি অপসারণ করলেও যদি চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে ঐ চুম্বককে স্থায়ী চুম্বক বলে।
• অস্থায়ী চুম্বক:
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলা হয়।
• অস্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্য:
- এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ প্রবাহ চলাকালীন চুম্বকের মতো কাজ করে।
- সাধারণত নরম লোহার কোর ব্যবহার করা হয়, যা সহজে চুম্বকত্ব হারায়।
- এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈদ্যুতিক কলিংবেল তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয়। 

• বৈদ্যুতিক কলিংবেল (Electric Bell) কাজ করে তড়িৎ-চুম্বকীয় নীতির (Electromagnetic Principle) উপর।
- এতে একটি অস্থায়ী চুম্বক (Electromagnet) ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চুম্বকে পরিণত হয় এবং প্রবাহ বন্ধ হলে চুম্বকত্ব হারায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
.
ট্রান্সফর্মার কোন নীতিতে কাজ করে?
  1. তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
  2. ওহমের সূত্র
  3. জুলের তাপীয় প্রভাব
  4. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অত্যন্ত সক্রিয়
  2. যোজনী স্তর পূর্ণ
  3. ধাতব ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বা নোবেল গ্যাস (Noble Gases) পর্যায় সারণীর ১৮তম গ্রুপের মৌল।
-  এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যোজনী স্তর পূর্ণ (Full Valence Shell), যা এদেরকে রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- যোজনী স্তর পূর্ণ:
- এদের সর্ববহিঃস্থ শেলে ইলেকট্রন সংখ্যা পূর্ণ থাকে। ফলে এদের যোজনী স্তর পূর্ণ থাকে। 
উদাহরণ: নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p6 (৮টি যোজনী ইলেকট্রন)।

• রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা:
- যোজনী স্তর পূর্ণ থাকায় এরা সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- ব্যতিক্রম: ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন: Xe, Kr) কিছু বিশেষ অবস্থায় ফ্লোরিন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
শূন্যস্থানে আলোর বেগ কত?
  1. 3×106 m/s
  2. 3×108 m/s
  3. 3×1010 m/s
  4. 3×105 m/s
ব্যাখ্যা
• আলোর বেগ একটি সার্বজনীন ধ্রুবক।
- আলোর চেয়ে বেশি বেগে যে আর কোনো বস্তু চলতে পারে না, এটা প্রথম বলেছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

• শূন্যস্থানে (ভ্যাকুয়ামে) আলোর গতি একটি মৌলিক ধ্রুবক (Fundamental Constant) এবং এর মান প্রায় 3 × 108 মিটার প্রতি সেকেন্ড (m/s)।
• একে "c" দ্বারা প্রকাশ করা হয় (c = 3 × 108 m/s)

• শূন্যস্থানের মধ্যে কোনো বস্তুই আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলতে পারে না। 
- মাইলে আলোর গতি ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল/সেকেন্ড এবং কিলোমিটারে আলোর গতি ৩ লাখ কিলোমিটার/সেকেন্ড। 
• আলো এক সেকেন্ডে যায় ৩,০০,০০০ কিলোমিটার। আলো এই গতিতে চলে এক বছরে অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই হলো এক আলোক বর্ষ।
-  এক আলোক বর্ষ  হলো প্রায় 9.46×1015 মিটার বা 9.46×1012 কিলোমিটার।
• শূন্যস্থান ছাড়া অন্য মাধ্যমে (যেমন: পানি, কাচ) আলোর গতি কমে যায় (পানিতে ≈ 2.25 × 108 m/s, কাচে ≈ 2 × 108 m/s)।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
.
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর মান সর্বোচ্চ কোথায়?
  1. বিষুবরেখায়
  2. মেরুতে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠে
  4. চাঁদের পৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলে প্রভাব মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকা বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
-  একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• g - মান নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।

• বিষুব রেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায় ব্যাসার্ধ R-এর মান ততই কমতে থাকে এবং মেরু বিন্দুতে সর্ব নিম্ন হয়।
• বিষুব অক্ষরে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় 9.78 ms- 2.
অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। মেরু এলাকায় g-এর মান প্রায় 9.83 ms- 2.

 
তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি তরলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন আছে
  2. নির্দিষ্ট আকার নেই
  3. প্রবাহিত হতে পারে
  4. নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• তরল পদার্থ:
- পদার্থের ৩ টি প্রধান অবস্থার মধ্যে একটি হলো তরল।

• তরলের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের আয়তন নির্দিষ্ট (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)।
- তরলের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই; এটি যে পাত্রে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল প্রবাহিত হতে পারে (যেমন: পানি, তেল)। 
- তরলের অণুগুলোর মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম কিন্তু গ্যাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ঘনত্ব
  4. গলনাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেওয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে। 

আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার (Number of Protons) ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
• 1913 সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
-  পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় (Period) বা অনুভূমিক সারি এবং 1৪টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বামদিকে গ্রুপ 1 থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ 18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
-  মূল পর্যায় সারণির নিচে আলাদাভাবে ল্যান্থানাইড ও অ্যাকটিনাইড সারির মৌল হিসেবে দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে 6 এবং 7 পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. লোহা
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় সাধারনত কোনটি ঘটে?
  1. কঠিন থেকে তরলে রূপান্তর
  2. কঠিন থেকে বায়বীয়তে সরাসরি রূপান্তর
  3. তরল থেকে বায়বীয়তে রূপান্তর
  4. বায়বীয় থেকে কঠিনে রূপান্তর
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।

- নিশাদল (NH4CI), কর্পূর (C10H16O), ন্যাফথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি উদ্বায়ী পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ উদ্বায়ী পদার্থকে মিশ্রণ থেকে সহজে পৃথক করা যায়, যেমন নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যাবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১০.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় (Exothermic Reaction) কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. তাপের নির্গমন ঘটে
  3. তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১১.
আইসোটোপ বলতে কী বোঝায়?
  1. একই প্রোটন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যা
  2. একই নিউট্রন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যা
  3. একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন পারমাণবিক সংখ্যা
  4. একই ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- আইসোটোপ গুলো একই মৌলের পরমাণু হয়ে থাকে।
যেমন- হাইড্রোজেন পরমাণুর ৭ টি আইসোটোপ আছে। যার মধ্যে ৩ টি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

অপরদিকে,
• আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা একই ও পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলা হয়

• আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ও প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
ইলেকট্রনের আধানের ধর্ম কী?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সকল পদার্থের পরমাণু হাইড্রোজেন ছাড়া তিনটি কণা দিয়ে তৈরি।
- সেগুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundmental) বা মৌলিক কণা বলে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে।

• ইলেকট্রন:
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মৌলিক কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক (নেগেটিভ)।
- এ আধানের পরিমাণ - 1.6 × 10- 19 কুলম্ব। একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11 × 10- 28 g।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই এর আপেক্ষিক ভরকে শূন্য ধরা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৩.
রংধনু তৈরি হওয়ার কারণ কী?
  1. বিবর্ধন
  2. ব্যতিচার
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• রংধনু বা রামধনু (Rainbow): 
- রংধনু একটি আলোকীয় ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর আবার যখন সূর্য উঠে তখন কখনও কখনও সূর্যের বিপরীত দিকে আকাশে উজ্জ্বল রঙের অর্ধবৃত্ত দেখা যায়। একে বলা হয় রংধনু ।
- রংধনুতে বর্ণালির ৭টি রং থাকে। সূর্যের বিপরীতে গঠিত হয় বলে সকালে পশ্চিমাকাশে এবং বিকালে পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায়।
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে।  রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে।
- তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়।
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।