পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৫৫
সিলেবাস
রিভিশন পরীক্ষা [নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি বাটনের বিগত ৬টি পরীক্ষার টপিকের উপর রিভিশন পরীক্ষা] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৫ প্রশ্ন

.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি? 
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৯৭০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১২০১-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শহীদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করেছেন—
প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ),
• মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান)।
- তিনি মীননাথকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম কবি হিসেবে গণ্য করেছেন।
- কারন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের সূচনাকে চর্যাপদ রচনার আগের সময়কাল থেকে ধরেছেন। 

অন্যদিকে,
- সুনীতিকুমারের মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তবে শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী এটি ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ ধরে ধরা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

.
‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ' নূরন্নেসা খাতুনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছে?
  1. সাহিত্য নন্দিনী 
  2. সাহিত্য সরস্বতী
  3. বিদ্যার ঝুড়ি 
  4. বিদ্যাবিনোদিনী 
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য সরস্বতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য সরস্বতী
ব্যাখ্যা

নূরন্নেসা খাতুনকে ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাহিত্য সরস্বতী' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। 
----------------------------------------
নূরন্নেসা খাতুন:
- নূরন্নেসা খাতুন ছিলেন প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা খোন্দকার হাবিবুস সোবহান সরকারি চাকুরে ছিলেন।
- ১৯২৩ সালে শ্রীরামপুর (হুগলী) থেকে তাঁর প্রথম উপন্যাস স্বপ্নদৃষ্টা প্রকাশিত হয়। 
- স্বপ্নদৃষ্টা উপন্যাসটি বেগম রোকেয়ার পদ্মরাগের (১৯২৪) চেয়ে এক বছর আগে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জানকী বাঈ বা ভারতে মোসলেম বীরত্ব, আত্মদান, ভাগ্যচক্র, বিধিলিপি, নিয়তি প্রভৃতি উপন্যাস ও উপন্যাসধর্মী রচনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি’ তাঁকে বিদ্যাবিনোদিনী উপাধিতে অভিহিত করে। 
- এবং ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁকে সাহিত্য সরস্বতী উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৫ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

.
“অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকবে।”- উক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাস থেকে নেওয়া।
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’। 
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
- রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে:
• চোখের বালি,
• গোরা,
• ঘরে বাইরে,
• শেষের কবিতা,
• নৌকাডুবি, 
• যোগাযোগ,
• দুই বোন,
• মালঞ্চ,
• চার অধ্যায়,
রাজর্ষি,
• প্রজাপতির নির্বন্ধ। 
---------------------------------------
• নৌকাডুবি: 
"অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকাবে।
                   — নৌকাডুবি।  

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ (১৯০৬) একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো রমেশ, কমলা, হেমনলিনী ও নলিনাক্ষ।
- ঝড়ের কারণে নৌকাডুবির পর দুটি দম্পতির জীবনের পরিবর্তন ও জটিল পরিণতি নিয়ে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে।
- রমেশ ভুলবশত কমলাকে নিজের স্ত্রী মনে করে গ্রহণ করেন।
- পরে এই ভুল প্রকাশ পেলে সম্পর্কের টানাপড়েন, প্রেম ও ত্যাগের নতুন বাস্তবতা প্রকাশ পায়। 

উৎস:
'নৌকাডুবি' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
সমরেশ বসুর প্রধান ছদ্মনাম কী ছিল? 
  1. সুরথনাথ
  2. কালকূট
  3. ভ্রমরী
  4. গঙ্গাবতী 
সঠিক উত্তর:
কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকূট
ব্যাখ্যা

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ লেখক সমরেশ বসু মূলত কালকূট ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ভ্রমর ছদ্মনামেও কিছু সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন।
- কালকূট নামটি ব্যবহার করে তিনি বিশেষভাবে ভ্রমণকাহিনী ও জীবনমুখী উপন্যাস লিখতেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল সুরথনাথ বসু।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়।
- তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের লোক ছিলেন?
  1. কামরূপ
  2. গৌড়
  3. রাঢ়
  4. মিথিলা
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ ও লুইপা:
- চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন। 
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।


- চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা লুইপা।
- অনেক পণ্ডিত লুইপাকেই প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন।
- তাঁর জীবিতকাল ছিল ৭৩০–৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সে সময় বিহার রাজ্যের ধর্মপালের রাজত্বকাল চলছিল।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লুইপাকে চর্যাপদর প্রাথমিক কবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি ছিলেন রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- চর্যার ১ম ও ২৯তম পদ তাঁর রচিত বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া তার ৫টি সংস্কৃত গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর। 

.
উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জে. সি. মার্শম্যান
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. জেমস অগাস্টাস হিকি
  4. আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক
সঠিক উত্তর:
জেমস অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেমস অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন- জেমস অগাস্টাস হিকি। 
-----------------------------------------------
• বেঙ্গল গেজেট:
- ভারত তথা উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র হলো বেঙ্গল গেজেট (বা হিকি'স বেঙ্গল গেজেট)।
- এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও মালিক ছিলেন আইরিশ ব্যক্তি জেমস অগাস্টাস হিকি।
- পত্রিকাটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হতো।
- এটি ‘ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভারটাইজার’ নামেও পরিচিত ছিল।
- হিকি তার সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশের ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দেওয়ার ব্রত নিয়েছিলেন।
- যদিও এটি মাত্র দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল, তবুও বেঙ্গল গেজেট ভারতের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
• শ্রীরামপুর মিশন থেকে জে. সি. মার্শম্যান সমাচার দর্পন প্রকাশ করতেন।
• ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য বাঙ্গাল গেজেট পরিচালনা করতেন।
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা আজাদী চট্টগ্রাম থেকে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

.
‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ প্রবাদ বাক্যের অর্থ কী?
  1. অপরের সম্পদে নজর দিলে নিজেরই ক্ষতি হয়। 
  2. নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
  3. ধনই জীবনের লক্ষ্য।
  4. নিজে নিজে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করা যায় না। 
সঠিক উত্তর:
নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
ব্যাখ্যা

নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে। 
- প্রবাদ বাক্যটি নিজস্ব লোভ ও অসতর্কতার ফলাফলকে নির্দেশ করে।
------------------------------------- 
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকা
  2. নতুন চর্যাপদ
  3. বাঙালীর ইতিহাস 
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ: 
- আনোয়ার পাশা (১৯২৮-১৯৭১) ও মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯) ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক। 
- তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। 
- তারা যৌথভাবে প্রাচীনযুগের চর্যাপদ বিষয়ক চর্যাগীতিকা নামক সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
- তাদের যৌথ কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চর্যাগীতিকার একটি বিশেষ সংস্করণ;
-  যা মূলত চর্যাপদের আধুনিক ও সহজবোধ্য রূপে পুনঃসংকলন।
- এছাড়া তারা মধ্যযুগের চারটি বাংলা মহাকাব্যও সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
------------------------------------ 

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন। 
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও প্রকাশনা:

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ – “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থের রচয়িতা।\
• মনীন্দ্রমোহন বসু – চর্যাপদের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে।
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই – “চর্যাগীতিকা” যৌথভাবে সম্পাদনা।
• সৈয়দ মুহম্মদ শাহেদ – “নতুন চর্যাপদ” প্রকাশ।
•“বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)” – ড. নীহাররঞ্জন রায়। 
• “History of Ancient Bengal” – রমেশচন্দ্র মজুমদার।


উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর। 

.
মুনিদত্তের টীকাকে তিব্বতিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. বিধুশেখর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের টীকা: 
-
চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

- চর্যাপদের মূল টীকাকার ছিলেন মুনিদত্ত। 
- তিনি সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা লিখেছিলেন, যা চর্যার গূঢ়ার্থ ও যোগ-রহস্য ব্যাখ্যা করে।
- তবে মুনিদত্ত ১১ নম্বর পদের টীকা লিখেননি।

- মুনিদত্তের টীকাকে তিব্বতিতে অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র
- এই তিব্বতি অনুবাদ প্রথম আবিষ্কার ও সংগ্রহ করেন ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে।
- এছাড়া, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুযায়ী, চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নম্বর) তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন ড. সুকুমার সেন। 

- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে;
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৫০টি, আর সুকুমার সেনের মতে ৫১টি।
--------------------------------------------------
সুতরাং, 
• মূল টীকাকার: মুনিদত্ত (সংস্কৃত)। 
• তিব্বতি অনুবাদক: কীর্তিচন্দ্র। 
• তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কারক: ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 

১০.
শূন্যপুরাণ গ্রন্থের টীকার নাম কী?  
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. নিরঞ্জনের টীকা
  3. নিরঞ্জনের উষ্মা
  4. ক+গ 
সঠিক উত্তর:
ক+গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ 
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ ও নিদর্শন": 
- বাংলা সাহিত্যের “অন্ধকার যুগ” বলতে ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালকে বোঝানো হয়।
- এ যুগকে “সন্ধ্যাযুগ” বা “বন্ধ্যাযুগ” ও বলা হয়।
- বখতিয়ার খলজির বঙ্গবিজয়ের (১২০৪ খ্রিঃ) পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চা প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
- তবুও এই সময়ের কিছু উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
 - যার মধ্যে ‘সেক্‌ শুভোদয়া' ও “শূন্যপুরাণ” অন্যতম।
 “শূন্যপুরাণ” ও “সেক্‌ শুভোদয়া”—উভয়ই সংস্কৃত ভাষায় রচিত - দুইটি গ্রন্থই গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে।
- গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখার কারণে এদের বলা হয় “চম্পু কাব্য”।

“শূন্যপুরাণ':
- এই যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত “শূন্যপুরাণ” বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই গ্রন্থটি প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
- এটি পূজা-প্রচারমূলক ধর্মগ্রন্থ।
- রামাই পণ্ডিত এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয়ে এক নতুন মতবাদ-“শূন্যধর্ম” প্রচারের চেষ্টা করেছেন।
- “শূন্যপুরাণ” গ্রন্থটির অন্তর্গত টীকা হলো “নিরঞ্জনের রুষ্মা বা উষ্মা”।

“নিরঞ্জনের রুষ্মা বা উষ্মা”:
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ বা ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ হলো শূন্যপুরাণ কাব্যের অন্তর্গত একটি অংশ।
- এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচারের গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি মুসলমানদের জাজপুরে আগমন এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীদের রাতারাতি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- এটি দেখায় যে, ব্রাহ্মণ শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসনের প্রবর্তনের পক্ষে রচনাকারীর মনোভাব, যা তৎকালীন সামাজিক পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক;
বাংলাপিডিয়া।  

১১.
একটি সংখ্যা ১৫ থেকে যত বেশি ৪৫ থেকে তত কম, তবে সংখ্যাটি কত?
  1. ২০ 
  2. ২৫
  3. ৩০
  4. ৪০
সঠিক উত্তর:
৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সংখ্যা ১৫ থেকে যত বেশি ৪৫ থেকে তত কম, তবে সংখ্যাটি কত?

সমাধান: 
মনে করি, 
সংখ্যাটি = x

প্রশ্নমতে,
x - ১৫ = ৪৫ - x
বা, x + x = ৪৫ + ১৫
বা, ২x = ৬০
বা, x = ৬০/২
∴ x = ৩০

∴ সংখ্যাটি = ৩০ ।

১২.
কমিশনের হার ৩% হলে ২২০০ টাকা মূল্যের জিনিস বিক্রি করলে কত কমিশন হবে?
  1. ৪২ টাকা 
  2. ৪৮ টাকা 
  3. ৫৬ টাকা 
  4. ৬৬ টাকা 
সঠিক উত্তর:
৬৬ টাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৬ টাকা 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কমিশনের হার ৩% হলে ২২০০ টাকা মূল্যের জিনিস বিক্রি করলে কত কমিশন হবে?

সমাধান: 
১০০ টাকায় কমিশন পাওয়া যায় = ৩ টাকা 
∴ ১ টাকায় কমিশন পাওয়া যায় = ৩/১০০ টাকা 
∴ ২২০০ টাকায় কমিশন পাওয়া যায় = (৩ × ২২০০)/১০০ টাকা 
= ৬৬ টাকা । 

১৩.
৬, ১৫ এবং ৩৬ এর চতুর্থ সমানুপাতিক কত? 
  1. ৯০ 
  2. ৮০ 
  3. ৬০ 
  4. ১২০ 
সঠিক উত্তর:
৯০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৬, ১৫ এবং ৩৬ এর চতুর্থ সমানুপাতিক কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি,
সমানুপাতিকের ক্ষেত্রে,
১ম সংখ্যা × ৪র্থ সংখ্যা = ২য় সংখ্যা × ৩য় সংখ্যা
বা, ৬ × ৪র্থ সংখ্যা = ১৫ × ৩৬
বা, ৪র্থ সংখ্যা = (১৫ × ৩৬)/৬
∴ ৪র্থ সংখ্যা = ৯০ 

১৪.
একটি ৩০ ফুট লম্বা বাঁশ এমনভাবে কেটে দু'ভাগ করা হল যেন ছোট অংশ বড় অংশের দুই-তৃতীয়াংশ হয়, ছোট অংশের দৈর্ঘ্য কত? 
  1. ১০ ফুট
  2. ১২ ফুট
  3. ১৬ ফুট
  4. ১৮ ফুট
সঠিক উত্তর:
১২ ফুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ফুট
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ৩০ ফুট লম্বা বাঁশ এমনভাবে কেটে দু'ভাগ করা হল যেন ছোট অংশ বড় অংশের দুই-তৃতীয়াংশ হয়, ছোট অংশের দৈর্ঘ্য কত? 

সমাধান: 
মনে করি, 
বড় অংশ = ক ফুট
∴ ছোট অংশ = (ক এর ২/৩)
= ২ক/৩ ফুট 

প্রশ্নমতে, 
ক + (২ক/৩) = ৩০
বা, (৩ক + ২ক)/৩ = ৩০
বা, ৫ক = ৯০
বা, ক = ৯০/৫
∴ ক = ১৮

∴ ছোট অংশের দৈর্ঘ্য = (২ × ১৮)/৩
= ১২ ফুট ।

১৫.
একটি দ্রব্য ২০% ক্ষতিতে বিক্রয় করা হলো। বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা বেশি হলে ২০% লাভ হতো। দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত? 
  1. ৩০০ টাকা
  2. ৪০০ টাকা
  3. ৬০০ টাকা
  4. ৮০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
৩০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি দ্রব্য ২০% ক্ষতিতে বিক্রয় করা হলো। বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা বেশি হলে ২০% লাভ হতো। দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?

সমাধান: 
দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে,
২০% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য = (১০০ - ২০) টাকা = ৮০ টাকা
২০% লাভে বিক্রয়মূল্য = (১০০ + ২০) টাকা = ১২০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য = (১২০ - ৮০) টাকা
= ৪০ টাকা

বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য ৪০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০/৪০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য ১২০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = (১০০ × ১২০)/৪০ টাকা
= ৩০০ টাকা

∴ দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য = ৩০০ টাকা।

১৬.
২/৫, ৩/৪, ৫/৭ ভগ্নাংশগুলোর ল.সা.গু কত? 
  1. ১০ 
  2. ১৫ 
  3. ২০ 
  4. ৩০ 
সঠিক উত্তর:
৩০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২/৫, ৩/৪, ৫/৭ ভগ্নাংশগুলোর ল.সা.গু কত?

সমাধান: 
আমরা জানি, 
ভগ্নাংশগুলোর ল.সা.গু = লবগুলোর ল.সা.গু/হরগুলোর গ.সা.গু
এখানে,
২, ৩, ৫ লবগুলোর ল.সা.গু = ৩০
এবং
৫, ৪, ৭ হরগুলোর গ.সা.গু = ১ 

∴ ২/৫, ৩/৪, ৫/৭ ভগ্নাংশগুলোর ল.সা.গু = ৩০/১ 
= ৩০ ।

১৭.
মুনাফা-আসল একত্রে ১২০০ টাকা। মুনাফা, আসলের ১/৪ হলে, মুনাফা কত টাকা? 
  1. ২২০ টাকা 
  2. ২৪০ টাকা 
  3. ২৬০ টাকা 
  4. ২৯০ টাকা 
সঠিক উত্তর:
২৪০ টাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪০ টাকা 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: মুনাফা-আসল একত্রে ১২০০ টাকা। মুনাফা, আসলের ১/৪ হলে, মুনাফা কত টাকা? 

সমাধান: 
ধরি,
মুনাফা = ক টাকা
আসল = ৪ক টাকা
∴ মুনাফা-আসল = (ক + ৪ক) টাকা
= ৫ক টাকা

প্রশ্নমতে,
৫ক = ১২০০
বা, ক = ১২০০/৫
= ২৪০ টাকা

∴ মুনাফা = ২৪০ টাকা।

১৮.
কোন পরীক্ষায় ৬০% ছাত্র ইংরেজীতে কৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজীতে অকৃতকার্যের সংখ্যা মোট ৯০ জন হলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত? 
  1. ২২৫ জন
  2. ২৭৫ জন
  3. ৩০০ জন
  4. ২৫০ জন
সঠিক উত্তর:
২২৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৫ জন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন পরীক্ষায় ৬০% ছাত্র ইংরেজীতে কৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজীতে অকৃতকার্যের সংখ্যা মোট ৯০ জন হলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত?  

সমাধান: 
ইংরেজীতে কৃতকার্য হয়েছে = ৬০% 
∴ ইংরেজীতে অকৃতকার্য হয়েছে = (১০০ - ৬০)% 
= ৪০% 

৪০ জন অকৃতকার্য হলে মোট পরীক্ষার্থী = ১০০ জন 
∴ ১ জন অকৃতকার্য হলে মোট পরীক্ষার্থী = ১০০/৪০ জন 
∴ ৯০ জন অকৃতকার্য হলে মোট পরীক্ষার্থী = (১০০ × ৯০)/৪০ জন 
= ২২৫ জন 

∴ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা = ২২৫ জন।

১৯.
২/৩ এর লব এবং হরের সাথে কোন একই সংখ্যা যোগ করলে ভগ্নাংশটির মান ৩/৪ হয়? 
  1. ৩ 
  2. ৪ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২/৩ এর লব এবং হরের সাথে কোন একই সংখ্যা যোগ করলে ভগ্নাংশটির মান ৩/৪ হয়? 

সমাধান: 
ধরি,
সংখ্যাটি = x 

প্রশ্নমতে, 
(২ + x)/(৩ + x) = ৩/৪
বা, ৮ + ৪x = ৯ + ৩x 
বা, ৪x - ৩x = ৯ - ৮
∴ x = ১

∴ সংখ্যাটি = ১ । 

২০.
৫০ লিটার পরিমাণ মিশ্রণে এসিড ও পানির অনুপাত ৩ : ২। ঐ মিশ্রণে কী পরিমাণ পানি মিশ্রিত করলে এসিড ও পানির অনুপাত ২ : ৩ হবে? 
  1. ১০ লিটার
  2. ১৫ লিটার
  3. ২০ লিটার
  4. ২৫ লিটার
সঠিক উত্তর:
২৫ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ লিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৫০ লিটার পরিমাণ মিশ্রণে এসিড ও পানির অনুপাত ৩ : ২। ঐ মিশ্রণে কী পরিমাণ পানি মিশ্রিত করলে এসিড ও পানির অনুপাত ২ : ৩ হবে? 

সমাধান: 
এসিড : পানি = ৩ : ২ 
∴ মিশ্রণে এসিডের পরিমাণ = {৫০ × (৩/৫)} = ৩০ লিটার
∴ মিশ্রণে পানির পরিমাণ = {৫০ × (২/৫)} = ২০ লিটার

ধরি, 
x লিটার পানি মিশ্রিত করলে এসিড এবং পানির অনুপাত হবে = ২ : ৩ 

প্রশ্নমতে, 
৩০ : (২০ + x) = ২ : ৩
বা, ৩০/(২০ + x) = ২/৩ 
বা, ৯০ = ৪০ + ২x 
বা, ২x = ৯০ - ৪০ 
বা, ২x = ৫০ 
বা, x = ৫০/২ 
∴ x = ২৫ 

∴ ২৫ লিটার পানি মিশ্রিত করতে হবে।

২১.
"IBADU" শব্দের বর্ণগুলোকে নতুন করে সাজালে প্রধানত নিচের কোনটি পাওয়া যাবে?
  1. একটি শহর
  2. একটি প্রাণী
  3. একটি দেশ
  4. একটি সাগর
সঠিক উত্তর:
একটি শহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি শহর
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: "IBADU" শব্দের বর্ণগুলোকে নতুন করে সাজালে প্রধানত নিচের কোনটি পাওয়া যাবে?

সমাধান:
'IBADU' শব্দের বর্ণগুলোকে নতুন করে সাজালে 'DUBAI' পাওয়া যাবে। 

Dubai হলো United Arab Emirates (সংযুক্ত আরব আমিরাত)-এর একটি প্রধান শহর এবং একটি আমিরাত (Emirate)।

২২.
একজন দৌড়বিদ ১০ মিটার/সেকেন্ড বেগে দৌড়ালে ৫ কি.মি. দৌড় সম্পূর্ণ করতে তার কত সময় লাগবে? 
  1. ৭ মিনিট
  2. ৮ মিনিট
  3. ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  4. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন দৌড়বিদ ১০ মিটার/সেকেন্ড বেগে দৌড়ালে ৫ কি.মি. দৌড় সম্পূর্ণ করতে তার কত সময় লাগবে? 

সমাধান:
দেওয়া আছে,
গতিবেগ = ১০ মিটার/সেকেন্ড
দূরত্ব = ৫ কি.মি. = ৫ × ১০০০ = ৫০০০ মিটার

∴ সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
= ৫০০০ ÷ ১০
= ৫০০ সেকেন্ড

৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট
∴ ৫০০ সেকেন্ড = ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড

∴ ৫ কি.মি. দৌড় সম্পূর্ণ করতে তার ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় লাগবে

২৩.
4 টা 30 মিনিটের সময় ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণ কত?
  1. 55°
  2. 45°
  3. 70°
  4. 65°
সঠিক উত্তর:
45°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 4 টা 30 মিনিটের সময় ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণ কত?

সমাধান: 
মধ্যবর্তী কোন = │(11m - 60h)/2│°
= │(11 × 30 -  60 × 4)/2│°
= │(330 - 240)/2│°
= │90/2│°
= 45°

২৪.
যদি SEVEN + EIGHT= 114 হয় তাহলে, SEVEN - EIGHT  =?
  1. - 1
  2. 1
  3. 14
  4. 16
সঠিক উত্তর:
16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি SEVEN + EIGHT= 114 হয় তাহলে, SEVEN - EIGHT  =?

সমাধান:
 

∴ S + E + V + E + N
= 19 + 5 + 22 + 5 + 14
= 65

∴ E + I + G + H + T
= 5 + 9 + 7 + 8 + 20 
= 49

∴ SEVEN + EIGHT = 65 + 49 = 114
∴ SEVEN - EIGHT = 65 - 49 = 16

২৫.
লঞ্চ ও স্রোতের গতিবেগ যথাক্রমে ঘণ্টায় ১৮ কি.মি. ও ৬ কি.মি.। নদী পথে ১৯২ কি.মি. যেতে এবং ফিরে আসতে লঞ্চটির কত সময় লাগবে?
  1. ১০ ঘণ্টা
  2. ২৪ ঘণ্টা
  3. ১৮ ঘণ্টা
  4. ১৬ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
২৪ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: লঞ্চ ও স্রোতের গতিবেগ যথাক্রমে ঘণ্টায় ১৮ কি.মি. ও ৬ কি.মি.। নদী পথে ১৯২ কি.মি. যেতে এবং ফিরে আসতে লঞ্চটির কত সময় লাগবে?

সমাধান: 
স্রোতের অনুকূলে গতিবেগ = ১৮ + ৬ = ২৪ কি.মি./ঘণ্টা 
স্রোতের প্রতিকূলে গতিবেগ = ১৮ - ৬ = ১২ কি.মি./ঘণ্টা 

∴ মোট সময় = (১৯২/১২) + (১৯২/২৪) ঘণ্টা 
= (১৬ + ৮) ঘণ্টা 
= ২৪ ঘণ্টা

২৬.
একটি ট্যাঙ্কের দুইটি নলের মধ্যে প্রথম নল ২০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় নল ৩০ মিনিটে ট্যাঙ্কটি পূর্ণ করে। দুটি নল একসাথে খুলে দিলে ১০ মিনিটে ট্যাঙ্কের কত অংশ পূর্ণ হবে?
  1. ৪/৫ অংশ
  2. ৫/৮ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ৫/৬ অংশ
সঠিক উত্তর:
৫/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ট্যাঙ্কের দুইটি নলের মধ্যে প্রথম নল ২০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় নল ৩০ মিনিটে ট্যাঙ্কটি পূর্ণ করে। দুটি নল একসাথে খুলে দিলে ১০ মিনিটে ট্যাঙ্কের কত অংশ পূর্ণ হবে?

সমাধান:
১ম নল দ্বারা,
২০ মিনিটে পূর্ণ হয় ১ বা সম্পূর্ণ অংশ
∴ ১ মিনিটে পূর্ণ হয় = ১/২০ অংশ

২য় নল দ্বারা,
৩০ মিনিটে পূর্ণ হয় ১ বা সম্পূর্ণ অংশ
∴ ১ মিনিটে পূর্ণ হয় = ১/৩০ অংশ

এখন,
দুইটি নল একত্রে খোলা থাকলে,
১ মিনিটে পূর্ণ করে = (১/২০) + (১/৩০) = (৩ + ২)/৬০ = ৫/৬০ = ১/১২ অংশ 
∴ ১০ মিনিটে পূর্ণ করে = (১/১২) × ১০ = ৫/৬ অংশ

২৭.
কোন শব্দটি পৃথক বৈশিষ্ট্যের?
  1. দন্তী
  2. হুতাশন
  3. কৃশানু
  4. বায়ুসখা
সঠিক উত্তর:
দন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তী
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন শব্দটি পৃথক বৈশিষ্ট্যের?

সমাধান:
- দন্তী হলো হাতির সমার্থক শব্দ।
- এদিক থেকে এটি ভিন্ন।
- হুতাশন, কৃশানু ও বায়ুসখা হলো আগুনের সমার্থক শব্দ।

•'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, দ্রুমারি, গজ ইত্যাদি।

• 'অগ্নি/আগুন' এর সামর্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, হুতাশন, কৃশানু, পাবক, দহন, সর্বভুক, বায়ুসখা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
দুটি ট্রেনের গতিবেগের অনুপাত ৫ : ৬। যদি প্রথম ট্রেনটি ৫ ঘণ্টায় ৬০০ কি.মি. যায়। তাহলে, দ্বিতীয় ট্রেনের গতিবেগ কত?
  1. ১৭৮ কি.মি./ঘণ্টা
  2. ১২০ কি.মি./ঘণ্টা
  3. ১৪৪ কি.মি./ঘণ্টা
  4. ১০৪ কি.মি./ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
১৪৪ কি.মি./ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৪ কি.মি./ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি ট্রেনের গতিবেগের অনুপাত ৫ : ৬। যদি প্রথম ট্রেনটি ৫ ঘণ্টায় ৬০০ কি.মি. যায়। তাহলে, দ্বিতীয় ট্রেনের গতিবেগ কত?

সমাধান:
দেয়া আছে
দুটি ট্রেনের গতিবেগের অনুপাত = ৫ : ৬

ধরি
১ম ট্রেনের গতিবেগ = ৫ক
২য় ট্রেনের গতিবেগ = ৬ক

আবার
১ম ট্রেনের গতিবেগ = ৬০০/৫ কি.মি./ঘণ্টা
= ১২০ কি.মি./ঘণ্টা

প্রশ্নমতে
৫ক = ১২০
∴ ক = ২৪

২য় ট্রেনের গতিবেগ = (৬ × ২৪) কি.মি./ঘণ্টা
= ১৪৪ কি.মি./ঘণ্টা

২৯.
গ, ছ, ট, ণ, ধ, ......... ধারাটির পরবর্তী বর্ণটি কী হবে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: গ, ছ, ট, ণ, ধ, ......... ধারাটির পরবর্তী বর্ণটি কী হবে?

সমাধান:
, ঘ, ঙ, চ, , জ, ঝ, ঞ, , ঠ, ড, ঢ, , ত, থ, দ, , ন, প, ফ,

৩০.
পিকিং মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. লাস্কো গুহা, ফ্রান্স
  2. নিয়ান্ডার ভ্যালি, জার্মানি
  3. অল্ডুভাই গর্জ, তানজানিয়া
  4. ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
সঠিক উত্তর:
ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৩১.
আলজেরিয়ার মুদ্রা কী?
  1. ইউরো
  2. দিনার
  3. ডলার
  4. পাউন্ড
সঠিক উত্তর:
দিনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনার
ব্যাখ্যা

আলজেরিয়া:
- আলজেরিয়া আয়তনের দিক থেকে আফ্রিকা মহাদেশের এবং আরব বিশ্বের বৃহত্তম দেশ।
- এটি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল  অবিস্থিত।
- রাজধানী: আলজিয়ার্স (Algiers)।
- বৃহত্তম শহর: আলজিয়ার্স।
- সরকার পদ্ধতি: আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র।
- রাষ্ট্রপতি: আবদেল মাজিদ তেবৌন।
- মুদ্রা: আলজেরীয় দিনার (DZD)।
- ভাষা: আরবি ও তামাঝাইট (অফিসিয়াল), ফরাসি (বাণিজ্যিক ও শিক্ষায় বহুল ব্যবহৃত)।
- অ্যাটলাস পর্বতমালা: দেশটির উত্তরাঞ্চলে সাহারা এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝখানে এই পর্বতমালা অবস্থিত।
- ফরাসি শাসন: ১৩২ বছরের দীর্ঘ ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৬২ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আলজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
- আঞ্চলিক শক্তি: আলজেরিয়া আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU), আরব লীগ এবং ওপেকের (OPEC) অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য।

উল্লেখ্য,
- ফিলিস্তিন ইস্যু: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলজেরিয়া ফিলিস্তিনের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা, আল জাজিরা নিউজ।  

৩২.
ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান কী?
  1. কাগজ আবিষ্কার
  2. বর্ণমালার উদ্ভাবন
  3. চাকা আবিষ্কার
  4. কৃষিকাজের সূচনা
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালার উদ্ভাবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালার উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।

• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।

• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।

• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট  এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

৩৩.
নিচের কোন দেশটির সাথে ইসরায়েলের সীমান্ত নেই?
  1. লেবানন
  2. জর্ডান
  3. ইরাক
  4. মিশর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

-  ইরাকের সাথে ইসরায়েলের  সীমান্ত নেই। 

ইসরায়েল:

- ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের একমাত্র ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
- রাজধানী: জেরুজালেম (জেরুজালেমকে ইসরায়েল তার রাজধানী হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিতর্কিত এবং অধিকাংশ দেশের দূতাবাস তেল আবিব-এ অবস্থিত)।
- আইনসভা (Knesset): ইসরায়েলের পার্লামেন্ট 'নেসেট' নামে পরিচিত, যা ১২০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- সীমানা: উত্তরে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্ডান, দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর।
- মুদ্রা: নিউ ইসরায়েলি শেকেল।
- ভাষা: হিব্রু (Hebrew) দাপ্তরিক ভাষা।

• বেলফোর ঘোষণা (১৯১৭):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর একটি ঘোষণা দেন, যা 'বেলফোর ঘোষণা' নামে পরিচিত।
- ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য একটি 'জাতীয় আবাসভূমি' প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানায়।

• জাতিসংঘের বিভক্তি পরিকল্পনা (১৯৪৭): ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নবগঠিত জাতিসংঘের ওপর ছেড়ে দেয়।
- ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে 'রেজোলিউশন ১৮১' পাস হয়,
- যাতে ফিলিস্তিনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র ও একটি আরব রাষ্ট্র এবং জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইহুদিরা এটি মেনে নিলেও আরবরা প্রত্যাখ্যান করে।

• ১৯৪৮ সালের ১৪ মে তেল আবিবে ডেভিড বেন-গুরিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্রুত এই নতুন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: Israel Government Portal এবং Britannica.

৩৪.
ক্যালডীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. সাইরাস
  2. সারগন
  3. নবোপোলাসার
  4. হাম্মুরাবি
সঠিক উত্তর:
নবোপোলাসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবোপোলাসার
ব্যাখ্যা

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):
- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যাবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে :নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫.
ইরানের অধিকাংশ জনগণ কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. সুন্নি মুসলিম
  2. শিয়া মুসলিম
  3. ইহুদি
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
শিয়া মুসলিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিয়া মুসলিম
ব্যাখ্যা

ইরান: 
- ঐতিহাসিকভাবে পারস্য নামে পরিচিত।
- অফিসিয়াল নাম: ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান (Islamic Republic of Iran)।
- রাজধানী: তেহরান (এটি দেশটির বৃহত্তম শহর এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কেন্দ্র)।
- বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader): আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
- মুদ্রা: রিয়াল (Rial)।
- ভাষা: ফার্সি (অফিসিয়াল)। এছাড়া কুর্দি, আজারি এবং লুরি ভাষা প্রচলিত।
- ধর্ম: ইসলাম। জনসংখ্যার ৯০% এর বেশি শিয়া মুসলিম; বাকিরা সুন্নি এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মের।
- ইরান দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর এবং দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর।
- এটি তুরস্ক, ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সীমানা রয়েছে।

• ইরানের ইসলামিক বিপ্লব:
- এই বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বিপ্লবের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আবির্ভূত হয় ইরান।
- শেষ রাজা ছিলেন শাহ পাহলভী।
- ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী।
- তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন।

উৎস: Britannica.

৩৬.
হাইডেলবার্গ মানবের আবিষ্কৃত চোয়ালের হাড়টি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৮৯১ সালে 
  2. ১৯০৭ সালে 
  3. ১৯২৭ সালে 
  4. ১৯৩৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে 
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):
- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

৩৭.
প্রাচীনকালে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
সর্বপ্রথম কে সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে একক শাসনাধীনে নিয়ে আসেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনত করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুই বাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন কোন সুলতানের রাজত্বকালে?
  1. শাশামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  4. মুহম্মদ বিন তুঘলক
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে।
- তাঁর ‘রেহেলা-ই-ইবনে বতুতা’ নামক ভ্রমণ বিবরণীতে সমসাময়িক বাংলায় আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন।
- এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- ইবনে বতুতা ভারতে আসেন মুহম্মদ বিন তুঘলক শাসনামালে।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
- প্রায় আট বছর তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪০.
ইলবার্ট বিল প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

ইলবার্ট বিল: 
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে উত্থাপিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হিসেবে উদারপন্থী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন।
- ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগে সমতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি উত্থাপন করেন লর্ড রিপনের আইনমন্ত্রী সি. পি. ইলবার্ট। তবে বিলটি ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যারা ভারতীয় বিচারকদের অধীনে বিচার হতে রাজি ছিল না।
- অবশেষে ইউরোপীয়দের চাপে লর্ড রিপন বিলটি সংশোধন করে জুরি ব্যবস্থার শর্তে পাস করেন।
- এই বিতর্ক ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪১.
উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ভাস্কো-দা-গামা
  2. আলবুকার্ক
  3. ম্যাজিলানও
  4. বার্থলমিউ দিয়াজ
সঠিক উত্তর:
আলবুকার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবুকার্ক
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
- পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
- সুস্বাদু ফল আনারস, পেপে, পেয়ারা, জলপাই, কামরাঙ্গা প্রভৃতি তাঁরাই এদেশে প্রচলন করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী
করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
চাণক্য কার রাজত্বকালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত 
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা

চাণক্য:
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।
- তিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন।
- তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।
- চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টার কাজ করেছিলেন। 
- চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়।
- তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা।
- তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়।

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. শেরশাহ
  3. শশাঙ্ক 
  4. লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক 
ব্যাখ্যা

 শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা।
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট শশাঙ্ককে বৌদ্ধবিদ্বেষী ও বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারীরূপে চিহ্নিত করেন।
- প্রতিভা বলে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

উল্লেখ্য,
- সেন বংশের সর্বশেষ সার্বভৌম ও বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষণ সেন।
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।

৪৪.
কোন সুবাদারের সময় থেকে বাংলার নবাবী শাসন শুরু হয়?
  1.  ইসলাম খান
  2.  শায়েস্তা খান
  3. আলীবর্দী খান
  4. মুর্শিদকুলী খাঁন
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খাঁন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খাঁন
ব্যাখ্যা

মুর্শিদকুলী খান ও নবাবী আমলের সূচনা:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- মুর্শিদকুলী খানের প্রাথমিক জীবন খুবই চমকপ্রদ।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
মহাকবি কালিদাসের 'রঘুবংশ' কাব্য অনুযায়ী প্রাচীন বঙ্গ জনপদটি কোন দুটি নদীর মধ্যবর্তী ব-দ্বীপ ছিল?
  1. গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র
  2. ভাগীরথী ও পদ্মা
  3. মেঘনা ও যমুনা
  4. তিস্তা ও ধরলা
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী ও পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী ও পদ্মা
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে তিনি ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন।
- আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গে দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর আর অন্যটি নাব্য। 
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় 'আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি 'বঙ্গাল' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
নিচের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেনি?
  1. মাগুরা
  2. ফরিদপুর
  3. জামালপুর
  4. রাজবাড়ি
সঠিক উত্তর:
জামালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামালপুর
ব্যাখ্যা

- জামালপুর জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেনি।

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

• কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - 
- চুয়াডাঙা,
- ঝিনাইদহ,
- মাগুরা,
- রাজবাড়ি,
- ফরিদপুর,
- ঢাকা,
- মুন্সীগঞ্জ,
- নারায়ণগঞ্জ,
- কুমিল্লা,
- খাগড়াছড়ি ও
- রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. ট্রপোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
- ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় কোন অঞ্চলে?
  1. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
  2. লালপুর, নাটোর
  3. লালাখাল, সিলেট
  4. হিমছড়ি, কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
লালাখাল, সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালাখাল, সিলেট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত:
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: নাটোর জেলার লালপুর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: সিলেট জেলার লালাখাল।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- বৃষ্টিপাতের তারতম্য: দেশের পূর্বাঞ্চলে বেশি এবং পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হয়।
- বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ গ্রীষ্মকালে হয়, আর শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।

• বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৯.
দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. সাঙ্গু
  4. ইছামতি
সঠিক উত্তর:
ইছামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতি
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী:
- দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী ইছামতি।
- নদীর দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- নদীটি খুলনা বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - (ভারত) ভৈরব-কপোতাক্ষ (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা)।
- নদীটির পতনমুখ - রায়মঙ্গল (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)।

• দেশের দীর্ঘতম নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- নদীটি তিন বিভাগের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- নদীটির পতনমুখ - মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।

• তৃতীয় দীর্ঘতম নদী:
- তৃতীয় দীর্ঘতম নদী সাঙ্গু।
- নদীর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার।
- নদীটি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - মিয়ানমার সীমান্ত (থানচি, বান্দরবান)।
- নদীটির পতনমুখ - বঙ্গোপসাগর (বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

৫০.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ কত?
  1. ০.৪১%
  2. ০.০৩%
  3. ২০.৭১%
  4. ৭৮.০২%
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N₂) ও অক্সিজেন (O₂)।
- এই দুটি গ্যাস মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৭৩ শতাংশ গঠন করে।
- নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি প্রায় ৭৮.০২ শতাংশ।
- অপরদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ, এটি জীবজগৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বালনির জারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বায়ুমণ্ডলে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
• নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
• অক্সিজেন (২০.৭১%),
• আর্গন (০.৮০%),
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
• জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১.
নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খনিজ তেল
  3. বায়োগ্যাস
  4. পীট কয়লা
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (বায়োগ্যাস, বায়োম্যাস, বায়োফুয়েল), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

• অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়?
  1. বরিশাল
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
‘চিকেনস নেক' নামে পরিচিত নিচের কোনটি?
  1. তিন বিঘা করিডোর
  2. শিলিগুড়ি করিডোর
  3. মানবিক করিডোর
  4. সেভেন সিস্টার্স
সঠিক উত্তর:
শিলিগুড়ি করিডোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিলিগুড়ি করিডোর
ব্যাখ্যা

শিলিগুড়ি করিডোর:
- শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের অন্তর্গত পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ড।
- এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।
- এই করিডোর অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে, তা ‘চিকেনস নেক' নামেও পরিচিত।
- এ ভূখণ্ডের প্রস্থ প্রায় ২১-৪০ কিমি।
- এটি ভারতের একমাত্র অংশ, যা চারটি ভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত।
- এর দুপাশে নেপাল, বাংলাদেশ এবং রাজতান্ত্রিক ভুটান করিডোরের উত্তর দিকে অবস্থিত।
- ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় বৃহত্তর বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হলে এই শিলিগুড়ি করিডোরের সৃষ্টি হয়।
- এই সংকীর্ণ করিডোরটির মাধ্যমে নয়াদিল্লির পক্ষে উত্তর–পূর্ব ভারতের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি রিপোর্ট, ব্রিটানিকা।

৫৪.
গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত
  2. আগ্নেয়
  3. পাললিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

• রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

⇒ রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
• পাললিক শিলা: কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

• আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
শুভলং ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবন
  2. সিলেট
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান- হ্রদ, চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বৌদ্ধ বিহার, পর্যটন ঝুলন্তত ব্রিজ, ফুরামোন পর্বত, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।