পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়18 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ (সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ) ২. পদ-প্রকরণ (পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ) ৩. বাক্য প্রকরণ (বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কি বলে?
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
- সঠিক উত্তর হচ্ছে উপসর্গ

• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে ৷
যেমন:
উপসর্গ - শব্দ গঠন - সাধিত শব্দ 
 অ       -  অ+জানা  - অজানা।
অভি    - অভি+যোগ - অভিযোগ।
বে       - বে+তার  - বেতার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) সৃষ্টিনাম
  2. খ) স্থাননাম
  3. গ) ব্যক্তিনাম
  4. ঘ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
.
জাতি-বিশেষ্য কোনটি?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) সাগর
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) বাহিনী
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'সাগর' হচ্ছে জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন নদী, সাগর, পর্বত, মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
বস্তু-বিশেষ্য: যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি ।
সমষ্টি-বিশেষ্য: যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
.
'জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন' - কর্তাবাচ্যের বাক্যটির কর্মবাচ্যের রূপ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা ইমাম নিজে একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  2. খ) জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  3. গ) জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
  4. ঘ) জাহানারা ইমামের হাত ধরেই একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের কর্তাবাচ্যের বাক্যটি কর্মবাচ্যের রূপ - জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) উদ্ধারচিহ্ন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
১/ প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২/ পরোক্ষ উক্তি।
যেমন –
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' – বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে -
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের জটিল রূপ হচ্ছে যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। বাক্যে কোন কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যে 'ভেড়া দিয়ে' করণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে।

• করণ কারক
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আপন, তুমি
  2. খ) বলে, কয়ে
  3. গ) অভিমুখে, কাছে
  4. ঘ) জোরে, আস্তে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে অভিমুখে, কাছে অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. খ) প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. ঘ) আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
- 'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' বিবৃতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলোকে প্রশ্নবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
তোমার নাম কী?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
আমাকে একটি কলম দাও ।
তার মঙ্গল হোক ।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১০.
'দাকুমড়া' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) সমার্থক
  3. গ) বিরোধার্থক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- 'দাকুমড়া' বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ।

• পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
হিতাহিত = হিত ও অহিত,
অহিনকুল = অহি ও নকুল,
মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা,
ছোটবড় = ছোট ও বড়,
ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ,
দাকুমড়া = দা ও কুমড়া,
সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১১.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে' – বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. খ) বিপদের পরপরই দুঃখ আসে।
  3. গ) আগে বিপদ তারপর দুঃখও আসে।
  4. ঘ) বিপদ তারপর দুঃখ আসে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের যৌগিক বাক্যরূপ হচ্ছে বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১২.
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আত্মবাচক সর্বনাম
  2. খ) পারস্পরিক সর্বনাম
  3. গ) প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৩.
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) হাভাত
  2. খ) হাঘরে
  3. গ) হাপিত্যেশ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সবগুলো অপশন সঠিক।
- অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ - হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ

• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে ৷

 • বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) দুঃখপ্রাপ্ত
  2. খ) হাতঘড়ি
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) ঘরজামাই
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত অপশনগুলোতে দুঃখপ্রাপ্ত তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
ধানের খেত = ধানখেত
পথের রাজা = রাজপথ
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• অন্যান্য অপশন:
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি (কর্মধারয় সমাস)।
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই (কর্মধারয় সমাস)।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত (উপমান কর্মধারয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৫.
রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।” বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) রাজীব বললো যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  2. খ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  3. গ) রাজীব বলিল যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  4. ঘ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক ‘যে’ বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৬.
নিচের কোনটি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) প্রবীণ
  2. খ) ভিখারী
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) সেলাই
ব্যাখ্যা
- 'প্রবীণ' শব্দটি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

'প্র' উপসর্গে প্র+গতি = প্রগতি যা প্রকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'প্র' উপসর্গে প্র+কোপ = প্রকোপ যা প্রচণ্ড অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৭.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) চালাকচতুর
  3. গ) টাকমাথা
  4. ঘ) ঘিভাত
ব্যাখ্যা
- 'ঘিভাত' হচ্ছে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ।
- যেমন: ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, সেগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে।

ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত।
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি।
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই।
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

• অন্যান্য অপশন:
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা (দ্বিগু কর্মধারয়)।
 টাক যে মাথা = টাকমাথা (কর্মধারয় সমাস)।
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর (কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৮.
কারক কত প্রকার?
  1. ক) চার
  2. খ) পাঁচ
  3. গ) ছয়
  4. ঘ) সাত
ব্যাখ্যা
- কারক ছয় প্রকার।

• কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক থাকে কারক বলে।
- কারক ছয় প্রকার।
যেমন:
১/ কর্তা কারক,
২/ কর্ম কারক,
৩/ করণ কারক,
৪/ অপাদান কারক,
৫/ অধিকরণ কারক ও
৬/ সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।