পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮৯
সিলেবাস
Exam - 20 Full Model Test - 10 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৮৯ প্রশ্ন

.
দণ্ডবিধিতে বর্ণিত সকল অপরাধের তদন্ত, বিচার, ইনকোয়ারি কোন আইন অনুসারে হবে?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধি।
  2. দেওয়ানী কার্যবিধি।
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন।
  4. দণ্ডবিধি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫ ধারার বিধান: দন্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধের বিচারঃ (১) দন্ডবিধিতে বর্ণিত সকল অপরাধের তদন্ত, ইনকোয়ারী, বিচার ও অন্য ব্যবস্থা অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে করা হবে।

(২) অন্যান্য আইন অনুযায়ী অপরাধের বিচারঃ অন্য আইনে উল্লেখিত সমস্ত অপরাধের তদন্ত, ইনকোয়ারী, বিচার এবং অন্য ব্যবস্থা একই বিধান অনুযায়ী করা হবে; কিন্তু বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে এসমস্ত অপরাধের তদন্ত, ইনকোয়ারী, বিচার অথবা অন্য ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি অথবা স্থান সম্পর্কে বিধান থাকলে তা-ই প্রযোজ্য হবে।

♦অর্থাৎ দণ্ডবিধিতে বর্ণিত সকল অপরাধের তদন্ত, বিচার, ইনকোয়ারি ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হবে।

♦ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে। যেমন ফৌজদারী কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি। Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

♦ যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

♦ দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন। কিন্তু এই অপরাধের বিচার পদ্ধতি দণ্ডবিধিতে উল্লেখ করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধের বিচার করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে ফৌজদারী কার্যবিধিতে। এই কারণে ফৌজদারী কার্যবিধি হলো পদ্ধতিগত আইন।

♦ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay)। প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন G.W. Anderson, F. Millet, এবং J.M. Macleod। ১৮৩৭ সালে এই কমিশন দন্তবিধি প্রণয়নের জন্য খসড়া জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ১৮৬০ সালে বিলটি পাস হয় এবং দণ্ডবিধি ১লা জানুয়ারী ১৮৬২ সালে আইনটি কার্যকর হয়।
.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতার বিধান আছে?
  1. দ্বিতীয় তফসিলে
  2. চতুর্থ অধ্যায়
  3. দ্বিতীয় অধ্যায়
  4. চতুর্থ তফসিলে
ব্যাখ্যা
♦ ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ৪৬টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ৫৬৫টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৫টি তফসিল (Schedule) এবং ৯টি ভাগ (Part) রয়েছে। কিভাবে অপরাধের তদন্ত করতে হবে, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালনা করা হবে সেটা ফৌজদারী কার্যবিধি থেকে জানা যায়।  ১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারী হতে ফৌজদারী কার্যবিধি বলবৎ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়, আবার কিছু ধারা আবার বিভিন্ন সময়ে বাতিলও করা হয়।ফৌজদারী কার্যবিধিতে আরো কিছু বিষয় আছে, অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে। বর্তমানে বলবৎ আছে ৪টি তফসিল।

i) ১ম তফসিল (First Schedule) - বাতিল।

ii)  ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে।

iii) ফৌজদারি কার্যবিধির তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা (Ordinary powers of Magistrates) উল্লেখ রয়েছে।

iv) ফৌজদারি কার্যবিধির ৪র্থ তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।

v) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম তফসিলে ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।

♦ অর্থাৎ চতুর্থ তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতার বিধান আছে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫টি তফসিলের মধ্যে দ্বিতীয় তফসিলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে।
.
পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে না নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে?
  1. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী হলে
  2. কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হলে
  3. পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া করলে
  4. আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। যথা-
i) কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেছে বা জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ (reasonable
suspicion) থাকলে;

ii) আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত কোন ব্যক্তির নিকট ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম (Implement of house breaking) থাকলে;

iii) কোন ব্যক্তিকে অপরাধী ঘোষণা করা হলে (proclaimed as an offender);

iv) কোন ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (stolen property) পাওয়া গেলে বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলে;

v) কোন ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে অথবা আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে (escape from lawful
custody) অথবা পলায়নের চেষ্টা করলে;

vi) সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী (deserter);

vii) বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে;

viii) মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী (released convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে; অথবা 

ix) যে ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

♦ অর্থাৎ শুধুমাত্র পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া করলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে না। বাকি তিন ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।
.
একটি অপরাধ সংঘটিত করার জন্য 'A' কে সন্দেহ করা হচ্ছে। যার জন্য পুলিশ তাকে যেকোন সময় গ্রেফতার করতে পারবে। 'A' আদালতে জামিন আবেদন করে এবং জামিন মঞ্জুর করা হয়। 'A' কে কোন ধরনের জামিন মঞ্জুর করা হয়?
  1. আগাম জামিন
  2. জামিনযোগ্য অপরাধের জন্য জামিন
  3. মুচলেকা রেখে জামিন
  4. জামিন অযোগ্য অপরাধের জন্য জামিন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতাঃ (১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপীল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবীকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান অনুসারে আগাম জামিন বা Anticipatory Bail এর দরখাস্ত বিবেচনা করা যায়। এই ধারায় in any case শব্দমালাকে ব্যাখ্যা করে আগাম জামিন দেওয়া হয়।

♦ জামিনঅযোগ্য অপরাধে আটক বা গ্রেফতারের আশংকা আছে এমন ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালতে আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) আবেদন করতে পারেন। ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী আদালত জামানতের পরিমাণ হ্রাস করতে পারে।

♦ যেহেতু 'A' কে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং পুলিশ তাকে যেকোন সময় গ্রেফতারের আশংকা আছে। 'A' আদালতে জামিন আবেদন করে এবং জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাই বলা যায় A' কে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
.
Habeas Corpus এর আদেশ দিতে পারে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. সরকার
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. দায়রা জজ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করতে পারে। যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাব আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট [ writ of habeas corpus] পিটিশন দায়ের করা যায়। যে কোন ব্যক্তি বন্দী হাজির রিট দায়ের করতে পারবে। বন্দী হাজির অর্থ হলো বন্দীকে আদালতে হাজির করা।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধানঃ (১) হাইকোর্ট বিভাগ যখনই উপযুক্ত মনে করেন, তখন নির্দেশ দিতে পারবেন যে,
ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হোক;
খ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী দিবার জন্য উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক;
ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট হাজির করা হোক;
ঙ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
চ) বাদ দেয়া হয়েছে।

(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীমকোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান বলবৎ কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।

♦ অর্থাৎ ৪৯১ ধারামতে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির আদেশ প্রদান করতে পারে, যথা 
i) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে।
ii) বেআইনী বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারী হেফাজতে আটক ব্যক্তির মুক্তিত
iii) জেলখানা বা কারাগারে আটক কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করতে
iv) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট বিচার বা সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য হাজির;
v) এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে বিচারের জন্য কোন বন্দিকে স্থানান্তর।
.
ফৌজদারী কার্যবিধিতে জরিমানা অনাদায়ে কারাদন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটগণের ক্ষমতার বিধান রয়েছে-
  1. ৩৪ ধারায়
  2. ৩৩ ধারায়
  3. ৩৫ ধারায়
  4. ৩৩ক ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৩ ধারার বিধান জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেটগণের দত্ত প্রদানের ক্ষমতা (Power of Magistrates to sentence to imprisonment in default of fine): জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনে অনুমোদিত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন- তবে শর্ত হলোঃ
(ক) কারাদণ্ডের মেয়াদ এই কার্যবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার বাইরে হবে না;
(খ) ম্যাজিস্ট্রেট যে মামলার বিচার করবেন তাতে মূল দণ্ডের অংশ হিসাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড দেওয়া হবে তার মেয়াদ ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অপরাধের জন্য জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হিসাবে ছাড়া অন্যভাবে যে দণ্ড দিতে পারেন তার এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না।

♦৩২ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট যে সর্বাধিক মেয়াদের মূল কারাদণ্ড দিতে পারেন তার সাথে এই ধারা অনুসারে প্রদত্ত কারাদণ্ড যোগ করা যেতে পারে।

♦দণ্ডবিধির ৬৭ ধারার বিধান কেবল অর্থদন্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদন্ডঃ
অপরাধটি যদি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হয়, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত যে কারাদণ্ডের আদেশ দিবেন, তা বিনাশ্রম হবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিবেন, তা নিম্নে নির্দেশিত বিভিন্ন পরিমাণের অধিক হবে না, যথা: অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে, অনূর্ধ্ব দুই মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে; অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশত টাকার অধিক না হলে, অনতিরিক্ত চার মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; এবং এতদ্ব্যতীত অপর যে কোন ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ।

♦জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোন অপরাধের বিচার করার সময় মূল দণ্ডের অংশ হিসেবে সাজা প্রদান করে, সেই ক্ষেত্রে জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য কারাবাস উক্ত অপারাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড প্রদান করে তার ১/৪ অংশের বেশী হবে না। এই বিধানটি শুধুমাত্র যেক্ষেত্রে কারাবাসসহ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শুধুমাত্র অর্থদণ্ডের ক্ষেত্রে অনাদায়ী কারাবাসের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৬৭ ধারা প্রযোজ্য হবে।
.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে?
  1. ৪১ ধারার
  2. ৪২ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৭ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান ক্ষমতাদি প্রত্যাহরকরণঃ (১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেনঃ

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে।
-------------------------------------------------------------------------
♦ section 41. Withdrawal of powers: (1) The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:

Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.

(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
.
যে ব্যক্তির উপর সমন জারি করতে হবে তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে নিযুক্ত থাকেন, তাহলে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কার নিকট সমন প্রেরণ করবেন?
  1. জেনারেল ম্যানেজার
  2. তার পরিবারের নিকট
  3. অফিসের প্রধান কর্মকর্তা
  4. যে কোন একজনকে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭২ ধারায় প্রজাতন্ত্রের বা সরকারী কর্মচারীর উপর সমন জারির বিধান রয়েছে। যে ব্যক্তির উপর সমন জারি করতে হবে তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের সক্রিয় চাকুরীতে নিযুক্ত থাকেন, তাহলে উক্ত অফিসের প্রধান কর্মকর্তার (head of the office) নিকট আদালত সমনের দ্বি-নকল বা প্রতিলিপি (duplicate copy) প্রেরণ করবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭২ ধারার বিধান: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি বরাবর সমন জারিঃ
(১) যে ব্যক্তির উপর সমন জারী করতে হবে, তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের সক্রিয় চাকুরীতে নিযুক্ত থাকেন তাহলে সমন প্রদানকারী আদালত সাধারণ অবস্থায় উক্ত ব্যক্তি যে অফিসে কার্যরত আছে উহার প্রধান কর্মকর্তার নিকট দুই কপি সমন প্রেরণ করবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা অতঃপর ৬৯ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে সমন জারী করবেন এবং উক্ত ধারার প্রয়োজনানুসারে পৃষ্ঠাঙ্কন করবেন এবং তার স্বাক্ষরসহ আদালতে প্রত্যাপণ করবেন।
(২) এরূপ স্বাক্ষর যথাযথভাবে সমন জারীর  প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
.
নিম্নলিখিত কে সমন জারিকারক হতে পারে?
  1. আদালতের নির্ধারিত অফিসার
  2. কোন সরকারি কর্মচারী
  3. পুলিশ অফিসার
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮(১) ধারামতে প্রত্যেকটি সমন প্রতিলিপিসহ লিখিত হতে হবে এবং আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার বা সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত অপর কোন অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সীলমোহরকৃত হবে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮(২) ধারা অনুযায়ী সমন জারি করতে পারেন  i) পুলিশ অফিসার, ii) আদালতের নির্ধারিত অফিসার, অথবা iii) অপর কোন সরকারি কর্মচারী সমন জারি করবে।
১০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারায় কী সম্পর্কে বলা আছে ?
  1. সমন জারি
  2. গ্রেফতারের পদ্ধতি
  3. আটক ব্যক্তিদের তল্লাশী
  4. মহিলাদের দেহ তল্লাশী
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারায় গ্রেফতারের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই ধারা অনুযায়ী সাধারনত কোন ব্যক্তির দেহ স্পর্শ, অবরোধ বা বন্দী করে গ্রেফতার করা যায়।
♦ গ্রেফতারে বাধা প্রদান করলে গ্রেফতারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা যে কোন ধরনের পন্থা অবলম্বন করতে পারবে। তবে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত না হলে, গ্রেফতার করতে গিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে না।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান গ্রেফতারের পদ্ধতি: (১) কথা অথবা কাজের দ্বারা হেফাজতে আত্মসমর্পণ করা না হলে পুলিশ অফিসার অথবা গ্রেফতারকারী অন্য কোন ব্যক্তি গ্রেফতার করার সময় যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তার দেহ স্পর্শ বা আটক করবেন।
(২) গ্রেফতারের চেষ্টায় প্রতিরোধঃ এরূপ ব্যক্তি যদি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধ্য দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াইতে চেষ্টা করে তাহলে উক্ত পুলিশ অফিসার পারবেন ।
(৩) এই ধারায় এরূপ কোন অধিকার দেয়া হয়নি যার ফলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত নহে এরূপ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যেতে পারে।

♦ ৪৬ ধারার ২ উপধারা মতে, অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য গ্রেফতারকারী ব্যক্তি তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এটা, গ্রেফতার কার্যকরী করার জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
১১.
ফৌজদারী কার্যবিধি কত ধারায় জেল আপীলের বিধান আছে?
  1. ৪২০ ধারায়
  2. ৪১৯ ধারায়
  3. ৪২১ ধারায়
  4. ৪২২ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারার বিধান আপীলকারী জেলে অবস্থান করলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতিঃ আপীলকারী জেলে থাকলে আপীলের নকলসহ তার আপীলের দরখাস্ত জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করতে হবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত দরখাস্ত ও নকল যথাযথ আপীল আদালত বরাবর প্রেরণ করবেন।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারামতে আপীলকারি কারাগারে থাকলে , আপীলকারি তার রায়ের নকলসহ আবেদনপএ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দাখিল করবে এবং উক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে আপীল দাখিল করবেন।

 ♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারার আধিন দায়ের করা আপীলকে  জেল আপীল বলে।

---------------------------------------------------------------------
♦ Section 420. Procedure when appellant in jail: If the appellant is in jail, he may present his petition of appeal and the copies accompanying the same to the officer in charge of the jail, who shall thereupon forward such petition and copies to the proper Appellate Court.
১২.
আদালত কখন তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন?
  1. কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে
  2. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে
  3. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে:

(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।

অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই। অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশী বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে :
তখন ইহা তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশী বা পরিদর্শন করতে পারবেন।

(২) এখানে বর্ণিত কোন কিছুই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবস্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু তল্লাশীর জন্য পরোয়ানা মঞ্জুর করার কর্তৃত্ব দিবে না।

♦ অর্থাৎ ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-

i) কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে;

ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং

iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

♦৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
১৩.
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারবেন না?
  1. উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা
  2. কোন ব্যক্তির আত্মহত্যার আশংকা
  3. দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা
  4. মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা
ব্যাখ্যা
♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-

i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা,

ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা;

iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা ;

iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা ; এবং

v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে 

অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আত্মহত্যার আশংকা থাকলে  ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়না।

১৪৪ ধারার আদেশ ম্যাজিস্ট্রেটের স্বেচ্ছাধীন/বিবেচনামূলক (Discretionary) ক্ষমতা।


♦ ১৪৪ ধারা জারির ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সাধারণ নিয়মাবলী অনুসরণ করা হয় । যথা-

i) সাধারণত নোটিশ জারি করার পর ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কিন্তু জরুরী পরিস্থিতিতে নোটিশ ব্যতীত একতরফাভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা যায়। এই আদেশ কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অথবা বিশেষ স্থানে ঘন ঘন গমনকারী বা সফরকারী জনসাধারণের প্রতি নির্দেশ হতে পারে।
(ii) ১৪৪ ধারার আদেশে কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখতে অথবা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি ম্যাজিস্ট্রেটের দখলে বা ব্যবস্থাধীনে নেয়ার নির্দেশ থাকতে পারে।
iii) ১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে ।

♦ ১৪৪(৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। ১৪৪ ধারা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।

♦ ১৪৪ ধারার আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যাবে।
১৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগকে কোন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. আপীলের
  2. রিভিশনের
  3. মামলা স্থানান্তর করার
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ কে মামলা স্থানান্তর এর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৬ ধারা মতে হাইকোর্ট বিভাগ মামলা স্থানান্তর করতে পারবেন বা স্বয়ং এর বিচার করতে পারবেন (High Cour Division may transfer case or itself try it)

♦ হাইকোর্ট কোন মামলা বা আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন ফৌজদারী স্বয়ং হাইকোর্ট বা দায়রা আদালতে হস্থান্তর বা প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারে।[ধারা- ৫২৬(১)]

♦ নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ এরূপ আদেশ দিতে পারে; যথা-

১) ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান বা বিচার পাওয়া যাবে না, অথবা
২) কোন অসাধারণ জটিল আইনের প্রশ্ন উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা আছে, অথবা
৩) যে স্থানে বা স্থানের নিকট কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা পরিদর্শন করা উক্ত অপরাধের সন্তোষজনক অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। 
৪) পক্ষসমূহ বা সাক্ষীগণের সাধারণভাবে সুবিধা হবে।
৫) ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে [ধারা- ৫২৬(১)]
১৫.
একজন বিচারাধীন আসামি কোন ধারার বিধান অনুযায়ী তার defence এর সমর্থনে সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. ৩৪০ ধারার
  2. ৩৪১ ধারার
  3. ৩৪২ ধারার
  4. ৩৪৪ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪০ ধারার বিধান: 

(১) ফৌজদারী আদালতে কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির অথবা এরূপ কোন আদালতে এই আইনানুসারে যার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে কৌসুলীর দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার তার থাকবেত
(২) এরূপ কোন আদালতে যার বিরুদ্ধে ১০৭ ধারা অথবা দশম অধ্যায়, একাদশ অধ্যায়, দ্বাদশ অধ্যায়, ষষ্ঠ বিংশ অধ্যায় বা ৫৫২ ধারা অনুসারে মামলা রুজু করা হয়েছে, সেই ব্যক্তি নিম্নে উক্ত মামলার সাক্ষী হিসাবে হাজির হতে পারবে্থ
(৩) কোন অপরাধের দায়ে ফৌজদারী আদালতে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি আসামী পক্ষে সাক্ষী হবার যোগ্য বা তার সাথে একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে প্রণীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য দিতে পারবেঃ

তবে শর্ত এই যে,

ক) সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হবেনা; অথা
খ) সে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে যে কোন মন্তব্য করতে পারবে না অথবা ইহা দ্বারা তার বিরুদ্ধে বা তার সাথে এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে কোন অনুমানের উদ্ভব হবে না।


♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় ২টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:

      (i) উকিলের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
      (ii) অভিযুক্ত ব্যক্তির সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা

      শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে আহ্বান করা যাবে না তার লিখিত অনুরোধ ছাড়া। অর্থাৎ সাক্ষী শুধুমাত্র লিখিত অনুরোধ করলে, আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করতে পারে।
১৬.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 161 অনুযায়ী সাক্ষীদের পরীক্ষা (Examine) করতে পারেন-
  1. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারা মতে পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষাকরণ: ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী সাক্ষীকে তলব করে ১৬১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ [অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা] অভিযোগের সাথে পরিচিত যেকোনো ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে/জবানবন্দি নিতে পারবে। এবং  পুলিশ জবানবন্দি রেকর্ড বা লিপিবদ্ধ করে নিবে এবং নিজে স্বাক্ষর করবে।

♦ সাক্ষী বা অভিযোগের সাথে পরিচিত ব্যক্তি বা বিবৃতিদাতা জবানবন্দিতে সকল প্রকার প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য, কিন্তু যেসব প্রশ্নের জবাব দিলে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তি হবে, সে সকল প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য থাকবে না। ১৬২ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিবৃতিদাতা বা সাক্ষীকে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করবে না।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষাঃ (১) এই অধ্যায় মতে তদন্ত সম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা, অথবা এ ব্যাপারে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে প্রকার নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন সে প্রকার পদের নিম্নের কোন পদে অধিষ্ঠিত নহেন এরূপ এবং ঐরূপ অফিসারের অধি- যাচন অনুসারে কার্যসম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির তথ্যাদি এবং পারিপার্শ্বিক- তার সাথে পরিচিত আছে বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(২) ঐরূপ ঘটনা সম্বন্ধে উক্ত কর্মকর্তা, যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাঁকে ফৌজদারী অভিযোগে অভিযুক্ত করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা কোন কিছুতে তার অধিকার খোয়াইতে চাইতে পারে সেসব প্রশ্ন ব্যতিরেকে যেসকল প্রশ্ন তাকে করবেন তার যথার্থ উত্তর প্রদান করতে ঐরূপ ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(৩) এ ধারামতে পরীক্ষা করার সময় তার নিকট কোন বিবৃতি দেয়া হলে তিনি তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এবং যদি তিনি ঐরূপ করেন তাহলে, তিনি এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির, বিবৃতির একটি পৃথক ও সত্য নথি তৈয়ার করবেন, যার বিবৃতি তিনি নথিভুক্ত করেন।
১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সমাপ্ত করার বিধানটি ?
  1. বিবেচনামূলাক
  2. বাধ্যতামূলাক
  3. নির্দেশনামূলক
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সমাপ্ত করার বিধানটি নির্দেশনামূলক।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধানঃ
(১) যখন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং ইহা প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ় ভিত্তিক, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি যদি সাব-ইনসপেকটর পদের নিম্ন পর্যায়ের না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরীতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত নকল নিকটবতী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, এবং একই সময়ে আসামীকে উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

(২) এই ধারার অধীন আসামীকে যে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার এখতিয়ার থাকুক বা না থাকুক, তিনি উপযুক্ত মনে করলে আসামীকে হেফাজতে আটক রাখার জন্য সময়ে সময়ে ক্ষমতা প্রদান করবেন, তবে এরূপ আইনের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে পনেরো দিনের অধিক হবে না। তার যদি মামলাটি বিচার করার বা বিচারের জন্য পাঠাবার এখতিয়ার না থাকে এবং তিনি যদি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন তাহলে তিনি আসামীকে এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন, তবে শর্ত এই যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত নহেন এরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আসামীকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন না ।

(৩) এই ধারার অধীন আসামীকে পুলিশহেফাজতে আটক রাখার ক্ষমতাদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এরূপ আদেশ দিলে তিনি আদেশ দিবার কারণসহ আদেশের একটি নকল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, তিনি যার অব্যবহিত অধস্তন।

(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,

ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং

খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,
তবে শর্ত এই যে, আসামীকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেনঃ

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যাঃ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ মামলাটি যে দিন তার নিকট পেশ করা হবে, অনুমোদন গ্রহণের সময় সেই দিন হতে গণণনা শুরু হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আদেশ পাবার তারিখে উহা সমাপ্ত বলে গণ্য হবে।
১৮.
“No appeal in certain cases when accused pleads guilty”- বিধানটি কোন ধারার?
  1. ৪১০ ধারার
  2. ৪১২ ধারার
  3. ৪১৩ ধারার
  4. ৪১৪ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, এর ধারা ৪১২ মতে 
♦Guilty plead অর্থ হলো অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা। আসামী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দণ্ড দিলে সেই দন্ডাদেশের বিরুদ্ধ আপিল চলে না।

♦ Guilty plead বা অভিযোগের সত্যতা স্বীকারের উপরের ভিত্তি করে আসামীকে দণ্ড দেওয়া হলে আসামী উক্ত দন্ডের পরিমাণ এবং বৈধতা বা যৌক্তিকতা বিষয়ে আপিল করতে পারে এবং এমন আপিল চলবে।

♦ ৪১২ ধারার বিধান আসামী দোষ স্বীকার করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপীল চলবে নাঃ ইতোপূর্বে এই কার্যবিধিতে যা-ই উল্লেখ থাকুক না কেন, আসামী দোষ স্বীকার করলে এবং উক্ত স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে দায়রা আদালত বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে শাস্তি প্রদান করলে দণ্ডের পরিমাণ বা দণ্ডাদেশের বৈধতা ব্যতীত উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আপীল দায়ের করা চলবে না।

----------------------------------------------------------
No appeal in certain cases when accused pleads guilty.
Notwithstanding anything hereinbefore contained where an accused person has pleaded guilty and has been convicted by a Court of Session or any Metropolitan Magistrate or Magistrate of the first class on such plea, there shall be no appeal except as to the extent or legality of the sentence.
১৯.
ক্রোক সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কোনটি প্রমাণ করতে হয়?
  1. পরোয়ানা কার্যকরীকরণ এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করে নাই
  2. সে পলাতক ছিল না
  3. হুলিয়ার নোটিশ পায় নাই
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৮৯ ধারা মতে ক্রোকী সম্পত্তি ফেরৎ পাওয়ার জন্য ৮৮(৭) ধারা অনুযায়ী হুলিয়াধীন ব্যক্তি যদি ২ বৎসরের মধ্যে হাজির হয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি পলাতক ছিলেন না বা আত্মগোপন করেন নাই বা হুলিয়ার নোটিশ পান নাই, তাহলে আদালত ক্রোক সম্পর্কিত খরচ কেটে রেখে বাকি সম্পত্তি অবমুক্ত করতে পারেন।
২০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২২ ধারার অনুযায়ী আদালত দণ্ডের তারিখ হতে একমাসের মধ্যে বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তির দখল দিবার আদেশ দিতে পারবেন। যদি কোন স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখ করা হয়-
  1. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ দ্বারা
  2. শক্তি প্রদর্শন দ্বারা
  3. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন দ্বারা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২২ ধারার বিধানঃ (১) যখন কোন ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সহযোগে কৃত অপরাধে দণ্ডিত হয়, এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ বল প্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন স্থাবর সম্পত্তিতে বেদখ করা হয়েছে, তখন আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডদানের সময় বা এই দণ্ডের তারিখ হতে একমাসের মধ্যে যেকোন সময় বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তির দখল দিবার আদেশ দিতে পারবেন।

(২) কোন ব্যক্তি দেওয়ানী মামলার দ্বারা এরূপ স্থাবর সম্পত্তিতে কোন অধিকার বা স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে উক্ত আদেশ দ্বারা তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

(৩) যেকোন আপীল আদালত, দণ্ড অনুমোদন, রেফারেন্স বা রিভিশন আদালত এই উপধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।
২১.
দণ্ডবিধিতে কত প্রকার কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৭ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধিতে ২ প্রকার কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং খ) বিনাশ্রম (Simple).

 দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:

      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)

      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)

      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:

          ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং

          খ) বিনাশ্রম (Simple)

      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)

      (v) অর্থদণ্ড (fine)

    ♦ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
২২.
প্রকাশ্যে মাতাল ব্যক্তির অশুভ আচরণ এর জন্য শাস্তি কী?
  1. এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং 100 টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড
  2. ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দশ টাকা জরিমান
  3. ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড
  4. একদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং 50 টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্যে মাতাল ব্যক্তির অশুভ আচরণ এর জন্য শাস্তি হতে পারে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা 10 টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। ৫১০ ধারাটিতে দণ্ডবিধির সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ আছে।

♦ দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি দ্বারা প্রকাশ্যে অসদাচরণ:- কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

----------------------------------------------------------------------- 
♦ Section 510. Misconduct in public by a drunken person :- Whoever, in a state of intoxication appears in any public place, or in any place which it is a trespass in him to enter, and there conducts himself in such a manner as to cause annoyance to any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to twenty-four hours, or with fine which may extend to ten taka, or with both.
২৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দেহ বা শরীর সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় না?
  1. ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণের ক্ষেত্রে
  2. দুইব্যক্তির মারামারি করার সময়
  3. মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণের ক্ষেত্রে
  4. আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে আটক রাখলে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা মতে যখন নিজ দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু ঘটানো যা:- উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারণাটিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে দেহ রক্ষার প্রয়োজনে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের মৃত্যু সংঘটন বা অপর যে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করা যেতে পারে যদি যে অপরাধটির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করার আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে সে অপরাধটি নিম্নোক্ত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়। যথা:-

প্রথমত:- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষামূলক অধিকারের অবাধ প্রয়োগ না করলে সে আঘাতে সে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

দ্বিতীয়ত:- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, প্রতিরোধ না করলে সে আঘাতের বা আক্রমণের ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

তৃতীয়ত:- ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

চতুর্থত:- অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

পঞ্চমত:- শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাত;

ষষ্ঠত:- কোন ব্যক্তিকে অন্যায় বা বেআইনীভাবে আটক করার উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতিতে *অর উপর হামলা, যে পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবেই সে ব্যক্তির মনে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, সে মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নিতে সমর্থন হবে না।


♦ অর্থাৎ ধারা ১০০ অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:

      (i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
      (ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
      (iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
      (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।

♦ অর্থাৎ দুইব্যক্তির মারামারি করার সময় দেহ বা শরীর সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় না।
২৪.
চুরির শর্ত নয় কোনটি?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. অনুমতি ব্যতীত সম্পত্তি সরানো
  3. সম্পত্তির দখল
  4. স্থাবর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:

(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা।

(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।

(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।

(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।

(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

♦ অর্থাৎ চুরির শর্ত মতে স্থাবর সম্পত্তি চুরি করা যায় না।
২৫.
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ১৪ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-

(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------------------------------------------------------
♦ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

♦ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
২৬.
নিচের কোন সম্পত্তি চোরাই মাল হিসেবে গণা হবে?
  1. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  2. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
  3. দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই  মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা মতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণা হবে তা হল-

(i) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি

(ii) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি

(iii) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি এবং 

(iv) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

♦ ধারা ৪১০ মতে চোরাই সম্পত্তি :- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ‘চোরাই সম্পত্তি' বলে । কিন্তু উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
২৭.
কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলে-
  1. Extortion
  2. Theft
  3. Dishonest Misappropriation of property
  4. Dacoity
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৩৮৩ ধারাতে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion) রয়েছে। কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে।

♦ অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।
২৮.
বেআইনি শ্রমে বাধ্য করা বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের শাস্তির বিধান আছে কত ধারায়?
  1. ৩৭০ধারায়
  2. ৩৭১ ধারায়
  3. ৩৭৩ ধারায়
  4. ৩৭৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
 ♦ দণ্ডবিধি ৩৭৪ ধারার বিধান বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা :- (১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যাঃ এই “যুদ্ধবন্দী” এবং “আশ্রিত ব্যক্তি” অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই :- আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

দণ্ডবিধি ৩৭৪ ধারা মতে বেআইনি শ্রমে বাধ্য করা বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের ২ ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।
(i) কোন ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমদান করতে বাধ্য করার শাস্তি- অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভদণ্ড।
(ii) কোন যুদ্ধবন্ধী বা অন্য কোন আশ্রিত লোককে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে বাধ্য করার শাস্তি- অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড।
২৯.
'ক' রাতে বাসায় আসার পথে 'খ' পিস্তল দেখিয়ে 'ক' এর টাকার ব্যাগ দাবী করে। ফলে 'ক' ব্যাগটি 'খ' কে দিতে বাধ্য হয়। 'খ' কোন ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. ডাকাতি
  2. প্রতারণা
  3. দস্যুতা
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা মতে, চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে। দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

♦The Penal Code, 1860 এর ৩৯০ ধারা মতে যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্যহয়ঃ প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

♦যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ  কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা ;

♦বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
৩০.
কমপক্ষে ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হয় কোনটিতে?
  1. ডাকাতি
  2. বেআইনী সমাবেশে
  3. দস্যুতা
  4. ক ও খ উভই
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।
ডাকাতির অভিযোগ প্রমান করতে হলে দস্যুতার অভিযোগকেও প্রমান করতে হবে।

♦ ডাকাতির উপাদান:
(i) পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;

(ii) উক্ত দলের এক বা একাধিক ব্যক্তি দস্যুতা করেছিল বা করার চেষ্টা করেছিল;

(iii) ডাকাত দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিল এবং এ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিল।

♦ ডাকাতির চেষ্টা করা কোন আলাদা অপরাধ নয়, ডাকাতির চেষ্টা করাও ডাকাতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।যেক্ষেত্রে আদালত ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতির চার্জ গঠন করেছে কিন্তু পরবর্তীতে ৫ এর কম সংখ্যক ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে আদালত ডাকাতির শাস্তি দিতে পারেনা কিন্তু তাদেরকে দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-

১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
♦ বেআইনী সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লেখিত ৫ ধরনে সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) রযে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।

♦অর্থাৎ কমপক্ষে ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হয় ডাকাতির এবং বেআইনী সমাবেশে।
৩১.
দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান কী?
  1. ডাকাতির সাজা
  2. দস্যুতা সাজা
  3. খুনসহকারে ডাকাতি সাজা
  4. ডাকাত দলে থাকার সাজা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান খুনসহকারে ডাকাতির সাজাঃ যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে, অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

♦দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি করতে গেলে এবং সে ঘটনায় কোনো একজন খুন করলে “খুনসহ ডাকাতি”-এর অপরাধে সকল ডাকাতকে শাস্তি দেওয়া যাবে যদিও তারা প্রত্যেকে খুনে অংশগ্রহণ করেনি।
৩২.
X এর মনিব কিছু মালপত্র বিক্রি করে টাকা আনার জন্য X কে পাঠায়। X তার মনিবকে বিক্রিত মালের টাকা দেয় নাই। X কি ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. প্রতারণা
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ
  3. সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৪০৫ ধারা মতে বিশ্বাসভরে ভারপ্রাপ্ত হয়ে অথবা আইনগত চুক্তির মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অপরাধীর দখলে আসার পর অপরাধী উক্ত বিশ্বাস বা চুক্তির বরখেলাপ করে সম্পত্তিটি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করলে বা অসাধুভাবে নিজের ব্যবহারে লাগালে তাকে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ বা Criminal Breach of Trust বলে।

♦ দণ্ডবিধি ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:- কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।

♦অর্থাৎ  X এর মনিব কিছু মালপত্র বিক্রি করে টাকা আনার জন্য X কে পাঠায়। X তার মনিবকে বিক্রিত মালের টাকা দেয় নাই। এই ক্ষেত্রে  X অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
৩৩.
নিচের কোনটি অপথে গৃহে প্রবেশ হবে না?
  1. তালা খুলে বা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করলে
  2. নতুন পথ তৈরি করে গৃহে প্রবেশ করলে
  3. প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য যে পথ তা দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে
  4. বন্ধ দরজা বা পথ খুলে গৃহে প্রবেশ করলে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-

(i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে 

(ii) তালা খুলে বা ভেঙ্গে 

(iii) নতুন পথ তৈরি করে

(iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে 

(v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা 

(vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।

♦অর্থাৎ প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য যে পথ তা দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহে প্রবেশ হবে না।
৩৪.
শিক্ষক রেজাল্টসিটে অভিবাবকের স্বাক্ষর নিয়ে জমা দিতে বললে, ইমরান তার বাবার স্বাক্ষর নিজে করে স্কলে রেজাল্টসিট জমা দেয়। ইমরান এর কাজটি দণ্ডবিধি অনুযায়ী-
  1. নকল
  2. প্রতারণা
  3. জালিয়াতি
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-

(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;

(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;

(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:

(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা

(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।

অর্থাৎ ইমরান তার বাবার স্বাক্ষর নিজে করে স্কলে রেজাল্টসিট জমা দেয় কাজটি জালিয়াতি।
৩৫.
ইভ-টিজিং করার সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৫০৯ ধারা অনুযায়ী কোন নারীর শ্লীলতাহানী বা অমর্যাদা করার উদ্দেশ্যে কোন কথা, অঙ্গভঙ্গি, বস্তু প্রদর্শন বা কোন কাজ করার শাস্তি হলো অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। ইভ-টিজিং করার শাস্তি ৫০৯ ধারায় প্রদান করা হয়।

♦ অর্থাৎ ইভ-টিজিং করার সর্বোচ্চ শাস্তি ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
৩৬.
‘A’ ‘B’ কে একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তার ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ‘A’ কর্তৃক কী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে?
  1. অত্যাচার
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. অপরাধমূলক আত্মসাৎ
  4. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তিকে আতঙ্কিত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি বা সুনাম বা দেহের ক্ষতি ( injury to property, reputation or person) করার ভয় বা হুমকি (threat) দেখানো হলে, তাকে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা Criminal Intimidation বলে।

♦ এখানে ‘A' দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার অধীনে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করেছে।

♦ দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি রয়েছে যা অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩৭.
A রাস্তায় কিছু টাকা পেল। A জানতো না যে কে ঐ টাকার মালিক। প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করেই A উক্ত টাকা নিজে খরচ করে ফেললো। A এর উক্ত কাজটি-
  1. অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ
  2. অপরাধমূলক সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ
  3. চুরি
  4. লোভ
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার অধীনে অপরাধমূলক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে। 

♦ পেনাল কোডের ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ: কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা তা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ১ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাত্ত এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নেই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি তার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে তা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না;
কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও তা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে তা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে। অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে তার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে তার মালিক তা জানার আবশ্যকতা নেই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় সেটা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।

♦ যেহেতু A টাকা নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে, তাই সে অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে। তাই সে ৪০৩ ধারায় দণ্ডিত হবে।
৩৮.
দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার বিধান কী?
  1. Voluntarily
  2. Common object
  3. Common Intention
  4. Good Faith
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার বিধান কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী:

যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকেই উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।

♦দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায় (Common Intention) এর বিধান রয়েছে:
(i) সাবধান অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে 
(ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা থাকবে উক্ত অপরাধ সংঘটিত করতে।
(iii) অপরাধটি সফল করার জন্য তারা অপরাধে  অংশগ্রহণ করবে।
৩৯.
সাক্ষী সমন অমান্য করলে কি ব্যবস্থা নেয়া যাবে?
  1. শুধুমাত্র গ্রেফতারি পরোয়ানা 
  2. গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং ক্রোকাদেশ
  3. শুধুমাত্র ক্রোকাদেশ
  4. শুধুমাত্র জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ১৬ বিধি-১০ মোতাবেক সাক্ষী সমন অমান্য করলে:

ক) আদালত উক্ত সাক্ষীর প্রতি হুলিয়া জারি করতে পারবেন। হুলিয়ার একটি কপি তার বাসগৃহে বা প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে।

খ) গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আদালত চাইলে সম্পত্তি ক্রোকাদেশ দিতে পারেন।

♦তবে স্বল্প এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত স্থাবর সম্পত্তি  ক্রোকের কোন আদেশ দিতে পারবেন না।
৪০.
কোন ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়?
  1. ধারা-১১৫ (২)
  2. ধারা-১১৫ (৩)
  3. ধারা-১১৫ (৪)
  4. ধারা -১১৫(১)
ব্যাখ্যা
♦ রিভিশন বলতে বুঝায়, নিম্নে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক বিচারিক প্রতিকার সংশোধন করা।দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশন সম্পর্কিত বিধান আছে।

♦ ১১৫ (৪) অনুসারে, দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ২য় রিভিশন দায়ের করা যায় কিন্তু ২য় আপিল করা যায় না। তবে ২য় রিভিশন সাধারণত দায়ের করা যায় হাইকোর্ট বিভাগে। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক রিভিশন মামলায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে অনুমতি সাপেক্ষে রিভিশন দায়ের করতে পারে

♦ অর্থাৎ ২য় রিভিশন দায়ের করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন।
৪১.
রিভিশন দায়েরের শর্ত কি?
  1. আপিলঅযোগ্য ডিক্রি বা আদেশ
  2. গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে
  3. আপিলযোগ্য আদেশ বা ডিক্রি কিন্তু আপিল করা হয় নি
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ রিভিশন বলতে বুঝায়, নিম্নে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক বিচারিক প্রতিকার সংশোধন করা।দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশন সম্পর্কিত বিধান আছে।

ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ যে কোন পক্ষ আবেদন করতে পারে।নিম্ন আদালতের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করতে হয়। রিভিশনের এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলা জজ আদালতকে দেয়া আছে।

রিভিশন দায়েরে শর্তসমূহ:

♦২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-

♦ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।

♦ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।

♦ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।

♦ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ।

♦ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না ।
৪২.
কোন একটা সম্পত্তি কামাল সাহেবের দখলে আছে কিন্তু কামাল সাহেব তার প্রকৃত মালিক না। তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে চায় কিন্তু রফিক ও সফিক নামের দুইজন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে। এই ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য হবে-
  1. কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits দায়ের করবেন
  2. রফিক বা সফিক স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits দায়ের করবেন
  3. কামাল সাহেব সম্পত্তি পলিশের কাছে জমা দিবেন
  4. কামাল সাহেব সম্পত্তি আদালতে জমা দিবেন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
 বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
 
♦  তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
♦ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

♦উল্লেখিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits করে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন।  এই মামলায় শুধু মাত্র মামলার খরচ ব্যতীত অন্য কোনো স্বার্থ থাকে না কামাল সাহেবের।
৪৩.
কখন ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির আবেদন করা যায়?
  1. ডিক্রিদার মারা গেলে
  2. দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করলে
  3. আদালত ডিক্রি জারির আবেদন গ্রহণ না করলে
  4. আদালত ডিক্রি জারি করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হলে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮ এ কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারী বারিত করা হয়েছে-
(১) নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতিত অন্য কোন ডিক্রি জারীর জন্য আবেদন না করা হয়ে থাকলে সেই একই ডিক্রি জারীর জন্য

ক) যে ডিক্রি জারীর আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ, অথবা

খ) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশ দ্বারা কোন নির্ধারিত তারিখে বা আবর্তক মেয়াদে টাকা পরিশোধ বা কোন সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এরূপ পরিশোধ বা প্রদানের তারিখ হতে যে ডিক্রি জারীর প্রার্থনা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ১২ বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেলে কোন নতুন আবেদনের উপর জারীর আদেশ প্রদান করা যাবে না ।

(২) এই ধারার কোন বিধান-

ক) আবেদনের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারীর ব্যাপারে রায়ের দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারী ব্যাহত করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর দাখিলকৃত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারীর আদেশ দানে আদালতকে বারণ করবে বলে গণ্য হবে না; অথবা

খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকরতা সীমাবদ্ধ বা অন্য কোনরূপ প্রভাবিত করবে না।
৪৪.
সমন অমান্য বা হাজির করতে বাধ্য করার জন্য কোন ধরনের সাজা দেয়া যেতে পারে?
  1. গ্রেফতারের এর জন্য পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন;
  2. সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
  3. অনধিক ৫০০/- (পাঁচশত টাকা) জরিমানা করতে পারেন;
  4. উল্লেখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ আদালত যাকে সমন প্রদান করেন, সে ব্যক্তি উক্ত সমন অমান্য করলে অথবা উক্ত ব্যক্তি কে হাজির হওয়ার জন্য ধারা ৩২ অনুযায়ী নিম্নের আদেশের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারে-
ক) গ্রেফতারের এর জন্য পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন;

) সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;

গ) অনধিক ৫০০/- (পাঁচশত টাকা) জরিমানা করতে পারেন;

ঘ) হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেওয়ার আদেশ প্রদান করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে কারাগারে পাঠাতে পারেন।
৪৫.
একই জেলার অধীন এক আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে হলে কোন আদালতের নিকট আবেদন করতে হবে?
  1. যে আদালতে মামলা দায়ের করা আছে
  2. আপিল আদালতে
  3. যে আদালতে স্থানান্তর করা হবে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-২৩ তে মামলা স্থানান্তরের জন্য কোন আদালতে আবেদন করতে হবে তা বলা আছে।

১। যখন এখতিয়ার সম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারা অনুসারে আবেদন পেশ করতে হবে।

২। যখন এখতিয়ার সম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীন হয়, তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হয়।

 ♦ দেওয়ানি মামলার আপিল আদালত দুটিঃ

১। জেলা জজ আদালত;
২। হাইকোর্ট বিভাগ;

♦ একই জেলার অধীন এক আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে হলে আপিল আদালতের নিকট আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে কখনো কখনো জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে। কারণ দেওয়ানী মামলার আপিল আদালত হচ্ছে জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ।
♦ অপরদিকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় দেওয়ানী আদালতে মামলা স্থানান্তর জন্য আবেদন করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারার বিধান একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা স্থানান্তরের ক্ষমতা: একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা কোন একটি আদালতে দায়ের করা হলে, বিবাদী অন্য একটি আদালতে মোকদ্দমা হস্তান্তর করতে চাইলে নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে-
অপর পক্ষকে নোটিশ দিবে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ ও বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা পূর্বে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে । 
আদালত এরূপ আবেদনপত্র পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে কোন আদালতে মামলার বিচার হবে, তা স্থির করবেন।
৪৬.
প্রত্যার্পণের দরখাস্তে কোন ধারা উল্লেখ করা যেতে পারে?
  1. ১৪৪, ২(২)ধারা
  2. ১৫১, ৯৬ ধারা
  3. ১৪৪,১৫১ ধারা
  4. ধারা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় প্রত্যর্পণ বা Restitution এর বিধান রয়েছে । ১৪৪ ধারামতে যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে পরিবর্তিত ডিক্রির আওতায় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তির আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করবেন যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকত সে অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যায়। এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদ বদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তবর্তীকালীন মুনাফা পাওয়ার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন।

♦ অর্থাৎ সহজভাবে বলা যায়, বিচারিক আদালতের ডিক্রি যখন আপিল বা রিভিশন আদালত কর্তৃক পরিবর্তন বা রদ করা হয়, তখন ইতোমধ্যে ঐ ডিক্রি বলবৎ করার কারণে কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তাকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে বলা হয় প্রত্যর্পণ বা Restitution। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৫১ ধারার অধীন Restitution এর আবেদন করা হয়।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী-
১) যদি কোন ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা রদ করা হয় এবং অনরুপ ডিক্রি বা আদেশের দ্বারা (যার পক্ষে ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা রদ করা হয়) ঐ পক্ষ কোন সুবিধা পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, তিনি তা ফিরে পাবার জন্য প্রত্যর্পণের দরখাস্ত করতে  পারেন।
২) দখল  প্রত্যর্পণের আদেশ আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নয় বরং আইনানুগভাবে  আদালতের উপর ন্যাস্ত ।
৩) প্রত্যর্পণের দরখাস্তে ১৪৪ ও ১৫১ ধারা উল্লেখ করা যেতে পারে।

♦ উল্লেখ্য যে, ধারা-১৫১তে আদালতের অন্তর্নিহিত সহজাত ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে।
♦ কোন দেওয়ানি আদালত কর্তৃক ন্যায় সংগতভাবে বিচারকার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে উক্ত  আদালতের উপর অর্পিত বিশেষ এখতিয়ার সম্পন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকারকে সহজাত ক্ষমতা বলে।
♦ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে অথবা আদালতের কার্য প্রণালীর অপব্যবহার রোধ করার জন্য এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
৪৭.
রেফারেন্সের আবেদন কে করতে পারে?
  1. পক্ষদ্বয়
  2. অধস্তন আদালত
  3. শুধু বাদী
  4. আদালত ও পক্ষদ্বয় উভয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির অধস্তন কোন আদালত কোন সময়ে যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে মোকদ্দমার বিষয়ে মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগে এরুপ অভিমত চাওয়াকে  Referance বলে।

♦ রেফারেন্স সম্পর্কিত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ এ দেয়া আছে।

♦ হাইকোর্ট বিভাগের অধ:স্তন আদালত তথ্যগত ও আইনগত জটিল প্ৰশ্ন বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স এর আবেদন করতে পারে।
৪৮.
ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকার বেশি হলে সাব্যস্ত দেনাদারকে কত দিন আটক রাখা যাবে?
  1. ৬ সপ্তাহ
  2. ৩মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ মাস
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৮ অনুসারে,ডিক্রি জারির জন্য সাব্যস্ত দেনাদারকে আটক করার ক্ষেত্রে ২টি ভাগ রয়েছে। যথা:

ক) ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকা বা তার কম হলে ৬ সপ্তাহ আটক রাখা যাবে; এবং 

খ) ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকার বেশি হলে ৬ মাস আটক রাখা যাবে।

♦ তবে উক্ত ব্যক্তিকে আটকের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মুক্তি দেয়া যাবে যদি- যেকোন উপায়ে ডিক্রির দেনা পরিশোধ করে দেয় কিংবা যাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে আটক রাখা হয়েছে তিনি অনুরোধ করলে।

♦ এই ক্ষেত্রে যে ডিক্রি জারিতে মুক্তি দেয়া হবে সেই বিষয়ে তাকে পুনরায় আটক করা যাবে না।
৪৯.
ডিক্রিদানকারী আদালত অন্য কোন উপযুক্ত আদালত কে Judgment debtor (যার বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়া হয়) এর মালিকানাধীন সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিলে,তা কতদিনের বেশি কার্যকর থাকবে না?
  1. ২ মাস
  2. ৩মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা- ৪৬ অনুসারে,Decree Holder এর আবেদনক্রমে ডিক্রিদানকারী আদালত ডিক্রিজারি করতে পারে অন্য কোন উপযুক্ত আদালত কে Judgment debtor (যার বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়া হয়) এর মালিকানাধীন সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আদেশপত্র জারি করতে পারেন। আদেশনামার আওতাধীন কোন ক্রোক আদেশ ২ মাসের বেশি  কার্যকর থাকবে না।
৫০.
আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে কোন পক্ষের আপত্তি থাকলে তা কখন উত্থাপন করা যায়?
  1. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  2. ডিক্রি ঘোষণার পর্যায়ে
  3. প্রথম সম্ভব‍্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে 
  4. আপত্তি করা যায় না
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা- ২১ মতে আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে কোন পক্ষের আপত্তি থাকলে যে আদালতে প্রথম মামলা করা হয়, সে আদালতে প্রথম সম্ভব‍্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে উথাপন করতে হবে।

♦ আদালতের আর্থিক এখতিয়ার সম্পর্কে শীঘ্রতম সন্ধিক্ষণে বা প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (as earliest as possible opportunity) আপত্তি উথাপন না করলে তা পরিত্যক্ত (waived) হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এমনকি পরিবর্তীতে আপিল বা রিভিশন বা আদালত মামলা দায়েরের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি মঞ্জুর করবে না। তবে ন্যায় বিচার বিঘ্ন হলে বা ন‍্যায় বিচারের স্বার্থে  আপিল বা  রিভিশন আদালত দায়েরের স্থান সম্পর্কে আপত্তি করতে পারে।
৫১.
স্ত্রী "ক" বিচ্ছেদ ও নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে মামলা করে স্বামীর "খ” বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে "খ" নাবালক সন্তানের অভিভাবক হওয়ার জন্য আরেকটি মামলা দায়ের করে। এই ক্ষেত্রে-
  1. দুটো মামলাই চলতে থাকবে
  2. "ক"এর মামলাটা স্থগিত হবে
  3. "খ" এর মামলাটা স্থগিত হবে
  4. আদালত যেকোন রকম সিদ্ধান্ত নিবেন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০ অনুযায়ী মামলা স্থগিতকরণ (stay of suit)/Res-subjudice) সম্পর্কে বলা আছে।

♦ যখন পূর্বে দায়েরকৃত বিচারধীন মামলার পক্ষসমূহ ও বিচার্য বিষয় এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলার পক্ষসমূহ ও বিচার্য বিষয় একই হয়, তখন পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলাটির বিচারকার্য আদালত স্থগিত বা মূলতবি (stay of suit / Res-Subjudice) করে দিবেন।

♦  তবে পূর্ববতী মামলা যদি কোন বিদেশী আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে, তখন মামলার কারণ একই হওয়ার সত্ত্বেও বাংলাদেশের কোন আদালতে পরবর্তী মামলা বিচারে বাধা সৃষ্টি করবেনা।
৫২.
নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মামলা করার অনুমতির জন্য কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যদি-
  1. নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন দাখিল করা নাহলে;
  2. উক্ত নিঃস্ব ব্যক্তি আবেদন করার ২ মাস পূর্বে প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে
  3. নিঃস্ব ব্যক্তির আবেদনে কোন কারণ উল্লেখ না থাকলে;
  4. উপরের সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ-৩৩, বিধি-১: নিঃস্ব ব্যক্তির সংজ্ঞা- যে ব্যক্তি মোকদ্দমার জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা অনির্ধারিত কোর্ট ফি-এর ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং উক্ত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, উক্ত ব্যক্তিকে নিঃস্ব ব্যক্তি বলা হবে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৩ নং আদেশে নিঃস্ব ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে।

♦ কোন নিঃস্ব ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়ের করতে হলে প্রথমে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মামলা করার অনুমতির জন্য আদালতে আবেদন করতে হয়।

♦ বিবাদীকে নোটিশ- ৩৩ নং আদেশের ৬ বিধিতে বলা হয়েছে, আদালত যদি আবেদনটি মঞ্জুর করেন তাহলে বিবাদী এবং সরকারী উকিলকে (জিপি) ১০ কার্যদিবসের একটি নোটিশ দিবেন আবেদনকারীর নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য আছে কিনা তা বলার জন্য।

আদালত নিম্নলিখিত কারণে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মামলা করার অনুমতির জন্য কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যথা-

ক) নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন দাখিল করা নাহলে;

খ) আবেদনকারী নিঃস্ব নাহলে;

গ) নিঃস্ব ব্যক্তির আবেদনে কোন কারণ উল্লেখ না থাকলে;

ঘ) উক্ত নিঃস্ব ব্যক্তি আবেদন করার ২ মাস পূর্বে প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে।
৫৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী আদালত নিচের কোন কারণে কমিশন নিয়োগ করতে পারে না?
  1. সাক্ষীকে পরীক্ষা
  2. স্থানীয় তদন্ত
  3. স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নিধারণ করতে
  4. হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয়
ব্যাখ্যা
♦ আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে যেসব ঘটনা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না সে সকল ক্ষেত্রে আদালত কমিশন প্রেরণ করেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ থেকে ৭৮ ধারা এবং ২৬ নং আদেশে দেওয়ানী মামলায় কমিশন সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

♦ আদালত নিজে বা কোন পক্ষের এফিডেভিটসহ আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন নিয়োগ করতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ নং আদেশের বিধি ৩ এবং ৪(২) অনুযায়ী কমিশনার হিসেবে আদালত সাধারনত কোন উকিল বা অন্য কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী আদালত ৪টি কারণে কমিশন নিয়োগ করতে পারে। যথা-

i) কোন ব্যক্তি বা সাক্ষীকে পরীক্ষা (to examine any person); [ধারা-৭৫(ক)]

ii) স্থানীয় তদন্ত (local investigation); [ধারা-৭৫(খ)]

iii) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় (to examine and adjust accounts); (ধারা- ৭৫(গ)

iv) সম্পত্তি বাটোয়ারা (for partition)। [ ধারা-৭৫(ঘ)]

♦ স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নিধারণ করতে আদালত কমিশন নিয়োগ করতে পারে না।
৫৪.
আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে কত দিনের জন্য বিচার্য বিষয় গঠন মুলতুবি (Adjourn) রাখতে পারেন?
  1. অনধিক ১০ দিনের
  2. অনধিক ২০ দিনের
  3. অনধিক ১৫ দিনের
  4. অনধিক ১ মাস
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ১৪ বিধি ৩ অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলির বা তাদের কতকগুলি হতে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন:

ক) পক্ষগণ কর্তৃক বা তাদের পক্ষে উপস্থিতি কোন ব্যক্তি কর্তৃক বা সেই পক্ষদের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে রচিত অভিযোগসমূহ

খ) আরজি জবাবের বা মামলায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তররের মধ্যে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ

গ) কোন পক্ষ কর্তৃক উপস্থাপিত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু।

♦ আদেশ ১৪ বিধি-৪ বিধান আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন:
আদালত কোন ব্যক্তির জবানবন্দি বা কোন দলিল পেশ করার প্রয়োজন মনে করলে অনধিক ১৫ দিনের জন্য বিচার্য বিষয় গঠন মুলতুবি (Adjourn) করে উক্ত ব্যক্তি বা দলিল হাজির করার জন্য সমন জারি করতে পারেন।
৫৫.
কোন ধরনের মামলায় বাদী মামলার খরচ ছাড়া মামলার বিষয়বস্তুর উপর কোন দাবি থাকে না?
  1. নাবালক কর্তৃক মামলায়
  2. ইন্টারপ্লিডার স্যুটে
  3. জনস্বার্থ সম্পর্কিত মোকদ্দমায়
  4. নাবালকের নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক মামলায়
ব্যাখ্যা
♦ধারা-৮৮ এবং আদেশ ৩৫ তে ইন্টারপ্লিডার স্যুট সম্পর্কে বলা আছে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
 বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
 
♦  তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
♦ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

♦উল্লেখিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits করে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন।  এই মামলায় শুধু মাত্র মামলার খরচ ব্যতীত অন্য কোনো স্বার্থ থাকে না কামাল সাহেবের।
৫৬.
ডিক্রি জারির জন্য নিম্নের কোন সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না?
  1. ব্যাংক নোট
  2. হিসাবের খাতা
  3. হুন্ডি
  4. বিল অফ এক্সচেঞ্জ
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৬০ অনুসারে,

♦ ডিক্রি জারির জন্য যে সকল সম্পত্তি  ও বিক্রি করা যাবে তা হলো:

জমি, বাসগৃহ বা অন্যান্য দালানকোঠা, মালপত্র, নগদ টাকা, ব্যাংক নোট, চেক, বিল অফ এক্সচেঞ্জ, হুন্ডি, প্রমিজরি নোট, গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি, কোম্পানির শেয়ার।

♦ যে সকল সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা যাবে না তা হলো:
দেনাদার বা তাহার স্ত্রীর বা সন্তানের পরিধেয় বস্ত্র, রান্নার  বাসনপত্র, এমন গহনা যা ধর্মীয় বিধানমতে খুলে ফেলা উচিত নহে, দেনাদার কারিগর  হলে কারিগরের হাতিয়ারপত্র বা চাষি হলে চাষের হাতিয়ার পত্র, গো- মহিষাদি, বীজ, হিসাবের খাতা-পত্র ইত্যাদি।
৫৭.
'এই আইনের কোনো বিধান চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করিবে না' এটি তামাদি আইনের কত ধারার বলা আছে?
  1. ১৮ ধারার
  2. ৩ ধারার
  3. ২৯ ধারার
  4. ২৮ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৯ ধারার বিধান সংরক্ষণ:

(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের (১৮৭২ সালের ৯নং আইনে) ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের বিধান অনুসারে কোনো মামলা, আপিলে বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-

(ক) এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হইতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হইবে, যেই পরিমাণ উহা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নহে, এবং
(খ) এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) এই আইনের কোনো বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন (১৮৬৯ সালের ৪ নং আইন) অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) যেই সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতা আপাতত সম্প্রসারিত করা হইবে, সেই সকল এলাকা হইতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত ‘সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হইবে না।
৫৮.
সর্বশেষ কত সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
৫৯.
Condonation of delay নীতি তামাদি আইনের কোন ধার‍ার-
  1. ৪ ধারায়
  2. ৫ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

♦ Condonation of delay, sufficient cause (বিলম্ব মওকুফ, যথেষ্ট কারণ) এসব শব্দাবলি ৫ ধারার সাথে সংশ্লিষ্ট।


♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal)
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision)
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)

♦ এছাড়া অন্যকোন ক্ষেত্রে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের সুযোগ নেয়া যাবে না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী আপিলকারী বা দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হলে তা পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে- মারাত্মক অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, আইনজীবী বা উকিলের ভুল ইত্যাদি।
 
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।

♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।
৬০.
আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে বুঝায়?
  1. উন্মাদ (insane)
  2. জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot)
  3. নাবালকত্ব (minor)
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane); এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot).

♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।

♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপরাগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হবে।

♦ আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়। 
♦ কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয়।
৬১.
তামাদির মেয়াদ গণনার সময় যে দিন গুলো বাদ যাবে-
  1. রায় বা ডিক্রির নকল পেতে ব্যয়িত সময়
  2. রায় ঘোষণার দিন
  3. রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময়
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।

(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।

♦ তামাদি আইনের ১২ ধারামতে তামাদির মেয়াদ গণনার সময় নিম্নলিখিত দিনগুলো বাদ দিয়ে তামাদি গণনা করতে হবে। যথা-

i) তামাদির মেয়াদ আরম্ভের দিন বা যে তারিখ হতে তামাদি গণনা শুরু হবে;

ii) রায় ঘোষণার দিন 

iii) রায় বা ডিক্রির নকল পেতে ব্যয়িত সময় 

iv) রোয়েদাদ নামঞ্জুর করার দরখাস্তের জন্য রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময়

v) যে তারিখে কোন নাবালক সাবালকত্ব অর্জন করে ঐ তারিখটিও ১২ ধারার বিধান অনুসারে তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে। নিলাম ডিক্রিতে কোন সম্পত্তি বিক্রয় করা হলে এবং ঐ নিলামের কোন ক্রেতার ক্রয়কে আটকানোর জন্য কোন দরখাস্ত বা মামলা (রদ) হলে ঐ সময় বাদ যাবে।

♦ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন উক্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিনটি এবং যে ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশ সম্পর্কে আপীল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যে সময় ব্যয় হবে, তা বাদ দিতে হবে।
৬২.
তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান কী?
  1. প্রতারণার ফলাফল
  2. আইনগত অপারগতা
  3. বিলম্ব মওকুফ
  4. সুখাধিকার
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-

(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা

(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

♦ যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
♦  অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান  প্রতারণার ফলাফল।
৬৩.
'চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হতে থাকে' এটি তামাদি আইনের কত ধারার বিধান-
  1. ২১ ধারার
  2. ২২ ধারার
  3. ২৩ ধারার
  4. ২৫ ধারার
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করাঃ

যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।

 ♦এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
৬৪.
চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ বর্ণিত আছে তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে?
  1. ৩ অনুচ্ছেদে
  2. ১১৩ অনুচ্ছেদে
  3. ১১৪ অনুচ্ছেদে
  4. ১১৬ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।

♦অর্থাৎ চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
৬৫.
The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের মোট অনুচ্ছেদ কয়টি?
  1. ১১৩ টি অনুচ্ছেদ
  2. ১৭৩ টি অনুচ্ছেদ
  3. ১৮৩ টি অনুচ্ছেদ
  4. ১৩৮ টি অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের মোট ধারা-৩২টি; মোট ভাগ/খন্ড-৫টি এবং মোট তফসিল-৩টি তবে বর্তমানে শুধুমাত্র ১ম তফসিলটি বলবৎ আছে, কেননা ২য় ও ৩য় তফসিল বাতিল করা হয়েছে। তামাদি আইনের এই ১টি তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

♦ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে তামাদির মেয়াদ বর্ণিত রয়েছে। তামাদি আইনের ৩০ থেকে ৩২ (মোট ৩টি) ধারা বাতিল (repeal ) করা হয়েছে।

♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
৬৬.
শুধু দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়েরে তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৯ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা বেদখল হওয়ার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে।
♦আইন বহির্ভূতভাবে ও সম্মতি ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হলে, উক্ত স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারামতে মামলা করা যাবে। বাদীকে যে যথাযথ আইনের মাধ্যম ছাড়াই বেদখল করেছে, সে যদি মূল মালিকও হয় কিংবা তার দ্বারা কোন দাবিদারও হয় তবু বাদী তার দখলচ্যুতির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে তার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় মামলা করতে পারবে। ৯ ধারামতে যিনি স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিলেন, তিনিই মামলা করতে পারেন। কেননা এই ধরনের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় এবং ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন অবান্তর।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য উক্ত সম্পত্তিতে দখল এবং বিগত ৬ মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া প্রমাণ করতে হবে, তবে স্বত্ব প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যে, ৮ ধারায় দখল প্রমাণের প্রয়োজন নেই তবে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে।
৬৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য বলে গণ্য করতে হয়?
  1. The Code of Civil Procedure, 1908 
  2. The Registration Act, 1908
  3. The Contract Act, 1872
  4. The Evidence Act, 1872
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যেসব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যেসব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
৬৮.
কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না, যদি না চুক্তিটি হয়- 
  1. লিখিত
  2. প্রত্যায়িত ও সত্যায়িত
  3. সত্যায়িত
  4. লিখিত ও নিবন্ধিত
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২১(ক) অনুযায়ী, এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-

(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং

(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
৬৯.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন যাদের অনুকূলে করা যায় না তাদের সম্পর্কে বর্ণনা কোন ধারায় দেয়া আছে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা-২৪ অনুসারে প্রতিকারের পথে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন নিম্নোক্ত ৪ ধরনের ব্যক্তিদের পক্ষে করা যায় নাঃ

(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না:

(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;

(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেচে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা

(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পর্ণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
৭০.
A তার ব্যবসায়ের অংশীদার B কে অংশীদারি দেনা ও লাভ গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে একটি নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করলো। দেখা গেল A অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানের হিসাব বই দখল করে রেখেছে এবং B কে তা দেখতে দিচ্ছেনা। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে।
  2. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
  3. শর্তসাপেক্ষে জরিমানা করবে।
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৫৬ অনুযায়ী নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যেতে পারে নাঃ

(ক) মামলায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হচ্ছে, সে মামলা রুজুর প্রেক্ষিতে একটি বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার উদ্দেশ্যে, যদি না কার্যধারার পৌনঃপুনিকতা রোধের জন্য তেমন নিবৃত্তি আবশ্যক হয়;

(খ) যে আদালতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হচ্ছে, সে আদালতের অধীনস্থ নয় এমন কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;

(গ) কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হতে বিরত রাখার জন্য;

(ঘ) সরকারের কোন বিভাগের সরকারী কর্তব্যের বা বিদেশী সরকারের কোন সার্বভৌম কাজের হস্তক্ষেপের জন্য;

(ঙ) কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;

(চ) যে চুক্তির কাজ সম্পাদন সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না, তেমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে;

(ছ) উৎপাতের অজুহাতে এমন কোন কাজ নিরোধকের জন্য যা যুক্তিসঙ্গতভাবে সুস্পষ্ট হয় যে, তা উৎখাতের পর্যায়ে পড়বে;

(জ) এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রদান করেছে:

(ঝ) যখন জিম্মা ভঙ্গের মামলা ব্যতীত সমপরিমাণ ফলোৎপাদক প্রতিকার নিশ্চিতভাবেই অন্য কোন সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়;

(ঞ) যখন আবেদনকারী বা তার এজেন্টের আচরণ এমন হয় যে, তা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে;

(ট) যেখানে মামলার সারবস্তুতে আবেদনকারীর কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
৭১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. আইনটি কোনো সম্মতিকে [agreement] কার্যকরের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে না
  2. আইনটি কোনো দেওয়ানি অধিকারকে খর্ব করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করবে 
  3. আইনটি রেজিস্ট্রেশন আইনকে প্রভাবিত করবে না 
  4. আইনটি দণ্ডমূলক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োগযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৪ মতে,যদি না এই আইনে কোথাও অন্যরূপে সুস্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ থাকে, তবে এই আইনে কোন কিছুকেই এরূপ গণ্য করা হবে না, যাতে

(ক) চুক্তি নয়, এমন কোন অঙ্গীকারের ব্যাপারে প্রতিকারের কোন অধিকার প্রদান করা হয়;

(খ) কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিকারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ছাড়া, যা সে কোন চুক্তির অধীনে পেতে পারত; অথবা

(গ) দলিলসমূহের উপর রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োগকে প্রভাবিত করা হয়।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৭ মতে  শুধু দণ্ডমূলক আইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় না।
৭২.
A ধোঁয়া দ্বারা বাতাসকে এত দূষিত করে যে তা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসবাসরত B ও C এর দৈনন্দিন আরাম-আয়েশে উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। B ও C সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকার পেতে পারে?
  1. এই আইনে প্রতিকার নেই
  2. ধারা ৫৪
  3. ধারা ৫৫
  4. ধারা ৫৭
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৫৪ অনুসারে,এই অধ্যায়ের অন্তর্ভূক্ত বা এই বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।

♦ যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন। যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর পারেন :
 
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার; 

(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই; 

(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;

(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;

(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
৭৩.
The breach of a contract to transfer immovable property cannot be adequately relieved by compensation in money” বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে? 
  1. ধারা ২৩
  2. ধারা ১২
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে ঃ

(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্তহয়;

(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;

(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা

(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা : যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।


--------------------------------------------------------------
Explanation
- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
৭৪.
চুক্তির একটি অংশ অন্য অংশ থেকে স্বাধীন ও পৃথক হলে উক্ত স্বাধীন ও পৃথক অংশের ফলাফল কি?
  1. স্বাধীন ও পৃথক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন যোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন যোগ্য নয়
  3. চুক্তির সমস্ত অংশ কার্যসম্পাদন যোগ্য
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১৬ অনুসারে, যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে,
তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
৭৫.
যে ঘটনা বিশেষভাবে কারও অবগতির মধ্যে থাকে তা প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত এই বিধানটি কত ধারার?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা
  4. সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী যে ঘটনা বিশেষভাবে কারও অবগতির মধ্যে থাকে তা প্রমাণের দায়িত্ব: কোন ঘটনা যখন বিশেষভাবে কোন ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত।

♦ কোন ব্যক্তি যখন এমন ইচ্ছা প্রণোদিত হয়ে একটি কাজ করে, যা উক্ত কাজের প্রকৃতি ও পরিস্থিতি হতে অনুমিত ইচ্ছা অপেক্ষা ভিন্ন, তখন ঐ ইচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যাস্ত।
৭৬.
প্রশ্নের মধ্যেই তার উত্তর দেওয়া হলে তাকে কী বলে?
  1. প্রমানিত প্রশ্ন
  2. ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন
  3. পুনঃজবানবন্দী
  4. জেরার
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নঃ প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তাহার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাহাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয় ৷

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাইবে নাঃ বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।

যেসকল বিষয় ভুমিকামূলক অথবা অবিসংবাদিত অথবা পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হইয়াছে বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই সকল বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করিবার অনুমতি আদালত অবশ্যই দিবেন।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন করা যাইতে পারেঃ জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।

♦ অর্থাৎ প্রশ্নের মধ্যেই তাহার উত্তর দেওয়া হলে তাহাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলে।
৭৭.
‘রহিম করিমকে খুন করার জন্য অভিযুক্ত'- রহিমের বিরূদ্ধে করিমকে খুনের বিচারে নিচের কোনটি প্রাসঙ্গিক?
  1. ঘটনাস্থলে রক্তরঞ্জিত ছুরি
  2. ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন
  3. ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ প্রাসঙ্গিক বিষয় (Relevant Facts) - যে ঘটনাটি অন্য কোন ঘটনার অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতা প্রমাণ করে, তাই প্রাসঙ্গিক ঘটনা বা Relevant Fact। কোন বিষয়কে প্রাসঙ্গিক হতে হলে উক্ত ঘটনাকে কোন না কোন দিক হতে বিচার্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। সাক্ষ্য আইনের ৫ থেকে ৫৫ ধারায় বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা (Relevance of Facts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
♦যেমন- সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে সকল বিষয় বিচার্য বিষয় নয় কিন্তু তা যদি কোন বিচার্য বিষয়ের সাথে এরূপভাবে সংশ্লিষ্ট হয় যে, তা একই কার্যের অংশ রূপে গণ্য হতে পারে, তবে উক্ত বিষয় বা ঘটনা দুটি একই সময়ে এবং একই স্থানে সংঘটিত না হয়ে ভিন্ন সময় ও ভিন্ন স্থানে সংঘটিত হলেও প্রাসঙ্গিক হবে।

♦উদাহরণস্বরূপ, খ-কে প্রহার করে হত্যা করার অপরাধে 'ক' অভিযুক্ত হয়েছে। প্রহারের সময় বা প্রহারের পূর্বে-পরে অথবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা যাই করে থাকুক বা বলে থাকুক, সেগুলি যদি উক্ত প্রহারের ঘটনার সাথে একই ঘটনার অংশরূপে বিবেচনা করা যায়, তবে সেগুলি প্রাসঙ্গিক বিষয়।

♦ রহিমের বিরূদ্ধে করিমকে খুনের বিচারে- ঘটনাস্থলে রক্তরঞ্জিত ছুরি, ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ সব প্রাসঙ্গিক।
৭৮.
মৃত্যুকালীন ঘোষণার প্রাসঙ্গিকতার আবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. মৃত্যুকালীন ঘোষণা দেওয়ার পর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুবরণ করতে হবে
  2. মৃত্যুকালীন ঘোষণাটি লিখিত ও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হতে হবে
  3. মৃত্যুকালীন ঘোষণা দেওয়া ব্যক্তির বর্ণিত কারণটিই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হতে হবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ধারা ৩২(১) এর অধীন মৃত্যুকালীন ঘোষনা দেয়ার পর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুবরণ করতে হবে। 
- Evidence Act  এর ধারা-৩২(১) এর বিধান মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

-মৃত্যুকালীন ঘোষণা [Dying Declaration); কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে তার  মৃত্যুর কারণ,  মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা যে সকল ঘটনার ফলে মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক ঘোষণা/বিবৃতি প্রদান করে, তাকেই মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলে। 

-মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
-মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয়ক্ষেত্রেই
-মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
-মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।

-মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। 
৭৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারার বিধান কী?
  1. প্রমাণের দায়
  2. মৃত্যুকালীন ঘোষণার
  3. ডিজিটাল রেকর্ড
  4. স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ১৭ ধারায় স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তির সংজ্ঞা দেয়া আছে: স্বীকৃতি হইতেছে মৌখিক বা লিখিত উক্তি যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তের সূচনা করে এবং যাহা পরে বর্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ বর্নিত পরিস্থিতি তে করে।

♦ সাক্ষ্য আইন ১৭ ধারার বিধান স্বীকৃতির সংজ্ঞা: স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা দালিলিক বিবৃতি অথবা ডিজিটাল রেকর্ড যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা প্রসঙ্গে কোনো অনুমানের ইঙ্গিত দেয়, এবং যা এ আইনের পরবর্তীতে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যে কেউ কর্তৃক প্রদত্ত হয়।
৮০.
কোনটি পাবলিক ডকুমেন্ট?
  1. বিক্রয় চুক্তি
  2. বিক্রয় দলিল
  3. কবলা দলিল
  4. সংসদের আইন
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং ২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document).

♦ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং এগুলো সবই সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

♦ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
৮১.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান আছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৮ ধারায়
  3. ৫৭ ধারায়
  4. ৫৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন।
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহঃ
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।
[বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিক স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
৮২.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে কোনটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য?
  1. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে দেখে নি
  2. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে শোনে নি
  3. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে দেখেছে
  4. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা অন্যের মতামত
ব্যাখ্যা
♦ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য (Direct evidence)- সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা মতে মৌখিক সাক্ষ্যকে অবশ্যই প্রতক্ষ হতে হবে (oral evidence must be direct) অর্থাৎ উপস্থিত সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা সে নিজে দেখেছে, শুনেছে বা উপলব্ধি করেছে।

♦ এছাড়া সাক্ষ্যে উল্লেখিত ঘটনা যদি কারো অভিমতের ভিত্তি হয়, তবে যে ব্যক্তি সেই অভিমত পোষণ করে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; তবে, বিশেষজ্ঞের অভিমত সম্পর্কিত গ্রন্থ (treatise) যদি সাধারণভাবে বাজারে বিক্রয় হয়, সেক্ষেত্রে সেই অভিমত এবং যে যুক্তির উপর তা প্রতিষ্ঠিত তা প্রমাণের জন্য সেই গ্রন্থ উপস্থাপন করা যেতে পারে, যদি সেই গ্রন্থের প্রণেতার মৃত্যু হয়ে থাকে, অথবা যদি তার সন্ধান পাওয়া না যায়, অথবা যদি তিনি সাক্ষ্য দিতে অপারগ হয়ে থাকেন, অথবা যদি তাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করতে বিলম্ব ও অযৌক্তিক ব্যয় হয়।

♦ এছাড়া মৌখিক সাক্ষ্যে যদি দলিল ভিন্ন অপর বস্তুর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, তবে আদালত উপযুক্ত মনে করলে সেই বস্তু আদালতের পরিদর্শনের জন্য দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
৮৩.
বোবা সাক্ষীর সাক্ষ্য কী বলে গণ্য হবে?
  1. লিখিত সাক্ষ্য
  2. বোবার সাক্ষ্য
  3. মৌখিক সাক্ষ্য
  4. দালিলিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারার বিধান বোবা সাক্ষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ধারা ১১৯ অনুযায়ী- যে সাক্ষী কথা বলতে পারে না, সে যদি লিখে বা ইশারার মাধ্যমে তার বক্তব্য বুঝাতে পারে তাহলে সেই ভাবে সে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবে।

♦ অর্থাৎ সে যোগ্য সাক্ষী। তবে লিখা বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয়ার কাজটি প্রকাশ্যে আদালতের সামনেই করতে হবে। এভাবে বোবার দেয়া সাক্ষী মৌখিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে।
৮৪.
A একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের বিষয়বস্তু গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে চায়। এক্ষেত্রে উক্ত দলিলটি যে হারিয়ে গেছে তা প্রমাণের দায়িত্ব কার উপর-
  1. A এর বিরোধী পক্ষের উপর
  2. ভূমি অফিসের উপর
  3. আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর
  4. A এর উপর              
ব্যাখ্যা
♦  যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের অস্তিত্ব দাবী করে সে বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর- ১০১ ধারা। ১০৪ ধারা অনুযায়ী কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পূর্বে যদি অন্য কোন ঘটনা প্রমাণ আবশ্যক হয় তবে সে ক্ষেত্রে উক্ত ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব যে সাক্ষ্য দিতে চায় তার উপর।
অতএব দলিলটি যে হারিয়ে গেছে তা প্রমাণের দায়িত্ব A এর উপর।

♦ যেমন A যদি B এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায় তাহলে এক্ষেত্রে A কে অবশ্যই B এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে।
৮৫.
অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হলে তজ্জন্য নতুন করে বিচার হবে না এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ১৬৭ ধারায়
  2. ১০৬ ধারায়  
  3. ১৫৭ ধারায়
  4. ১৬৫ ধারায় 
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন ১৬৭ ধারার বিধান অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হইলে এই জন্য নতুন করিয়া বিচার হইবে না।

♦ সাক্ষ্যের অবৈধ গ্রহণ বা বর্জন হইয়া থাকিলে যে আদালতে উহার বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়, সেই আদালত যদি মনে করেন যে, যে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে ও তাহার বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হইয়াছে, সেই সাক্ষ্য ব্যতীতও এমন সাক্ষ্য প্রমাণ আছে যদ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা প্ৰতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হইয়াছে, তাহা গ্রাহ্য করা হইলেও আদালতের সিদ্ধান্তের কোন তারতম্য হইত না তবে, কেবলমাত্র অন্যয়রূপে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করিবার অজুহাতেই কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাইবে না।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারায় কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হলে এর জন্য নতুন করে বিচার হবেনা।
৮৬.
বার কাউন্সিল সদস্যগণের অফিস ধারণের মেয়াদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী কোন তারিখে শুরু হয়?
  1. ১লা জুলাই
  2. ১লা জানুয়ারি
  3. ১লা মে
  4. ১লা জুন
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৪ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত বার কাউন্সিলের মেয়াদ থাকবে। অর্থাৎ বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর। বার কাউন্সিলের মেয়াদ শেষে বার কাউন্সিলের সদস্যগণ অফিস ধারণের যোগ্যতা হারাবেন।

♦ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের পদের মেয়াদ ৩ বৎসর। এই ৩ বৎসর শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের পর পহেলা জুলাই থেকে।
৮৭.
কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেট সাধারণত কত জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারেন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৮ জন
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 বিধি-৬০ এর বিধান:

♦ শিক্ষানবিশ: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি হবার পূর্বে কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেটের অধীনে দরখাস্তকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ মাস শিক্ষানবিশ থাকতে হবে।

♦আবেদনপত্রের সাথে ৫টি দেওয়ানি এবং ৫টি ফৌজদারি মোট ১০ টি মামলার লিখিত নোটবুক দাখিল করতে হবে।

♦কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে ৪ জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না।

♦অ্যাডভোকেটের সাথে শিক্ষানবিশ এর যে চুক্তি হবে তা এফিডেভিট সহ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারীর নিকট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

♦কোন অ্যাডভোকেট চুক্তি পত্রে মিথ্যা বিবৃতি বা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে পেশাগত অসদাচরনের জন্য দায়ী হবেন।

♦শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ ৫ বছরের জন্য অযোগ্য হবেন।

♦হাইকোর্ট বিভাগে প্রাকটিসের অনুমতির এবং রেজিস্ট্রেশন ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।

♦এম.সি.কিউ এবং লিখিত পরীক্ষা এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস অনুমতির পরীক্ষা সরকারী কলেজে হবে।

♦অর্থাৎ কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেট সাধারণত ৪ জন শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারেন।
৮৮.
ফৌজদারি মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব কী?
  1. আসামিকে সাজা দেয়া
  2. ন্যায়বিচার নিশ্চিত
  3. শুধু আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা
  4. আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করার
ব্যাখ্যা
♦ পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রাথমিক দায়িত্ব দায়িত্বই হচ্ছে- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। শুধু আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য ঘটনা গোপন রাখা বা সাক্ষীদের লুকিয়ে রাখা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

♦ অচরণবিধির অধ্যায় ৩, বিধি ৫ঃ ফৌজদারি মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব সাজা দেয়া নয় বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এজন্য তিনি কোন ঘটনা বা সাক্ষ্য কোনভাবে লুকাবেন না।

♦ The primary duty of an Advocate engaged in public prosecution is not to convict, but to see that the justice is done. The suppression of facts or the concealing of witnesses capable of establishing the innocence of the accused is highly reprehensible.
৮৯.
আইনজীবী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে কোন শর্তটি পূরণ করা প্রয়োজন নেই?
  1. বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  2. ২১বছর বয়সী হতে হবে
  3. অবিবাহিত হতে হবে
  4. আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 এর ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তির অন্য সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য অনূন্য বয়স হতে হবে ২১ বৎসর।

♦ আইনজীবী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে Bangladesh Legal Practitioner and Bar Council Order 1972 এর অনুচ্ছেদ – ২৭ অনুযায়ী নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবেঃ
১। প্রথমত তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
২। তাকে ২১বছর বয়সী হতে হবে;
৩। আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে-
বাংলাদেশের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত দেশের বাইরের কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের পূর্বে হলে পাকিস্তানের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ;
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পূর্বে হলে ভারতবর্ষের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
ব্যরিস্টার এট ল’ হয়ে থাকলে;
৪। বার কাউন্সিল কর্তৃক কোন পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে এবং পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি দিলে।

অর্থাৎ আইনজীবী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবিবাহিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।