পরীক্ষা আর্কাইভ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

পরীক্ষাবিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]তারিখ১ জানুয়ারি, ২০২৩সময়01 hr 30 mins১৯৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০০
সিলেবাস
৪৯তম স্পেশাল বিসিএস [উদ্ভিদবিদ্যা (৫৮১)] মূল প্রশ্নপত্রের উপর Live পরীক্ষা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস] · ১ জানুয়ারি, ২০২৩ · ২০০ প্রশ্ন

.
ইকোটাইপ কোন পরিবেশগত ধারণার উদাহরণ?
  1. জৈবিক উপাদানের আধিক্য
  2. অজৈবিক উপাদানের আধিক্য
  3. স্থানীয় অবস্থার সাথে অভিযোজন
  4. জনসংখ্যার ঘনত্বের পরিমাপ
ব্যাখ্যা

- একই প্রজাতির এমন কিছু জনগোষ্ঠী যারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজিত, তাদের ইকোটাইপ বলা হয়। 
- একটি প্রজাতি বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করলে পরিবেশগত প্রভাবের কারণে তাদের দেহগঠন, জীবনধারা বা বৃদ্ধি–প্রকৃতিতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। এই পার্থক্য জিনগত (genetic) এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বজায় থাকে। এইভাবে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত জনগোষ্ঠীকে বলা হয় ইকোটাইপ। উদাহরণ: সমতলভূমির ঘাস ও পাহাড়ি অঞ্চলের ঘাস একই প্রজাতির হলেও, পরিবেশের পার্থক্যের কারণে তাদের বৃদ্ধি, ফুল ফোটার সময় ও রূপে পার্থক্য দেখা যায়।

- “An ecotype is a genetically distinct population adapted to local environmental conditions.” অর্থাৎ, ইকোটাইপ হলো স্থানীয় পরিবেশগত অবস্থার সাথে অভিযোজিত জেনেটিকভাবে পৃথক জনগোষ্ঠী। Odum, E. P. (1971). Fundamentals of Ecology. W. B. Saunders Company.
- “Ecotypes are locally adapted forms of a species showing genetic differentiation along environmental gradients.” Begon, M., Townsend, C. R., & Harper, J. L. (2006). Ecology: From Individuals to Ecosystems. Blackwell Publishing.
- “একই প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠী স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হলে তাদের ইকোটাইপ বলা হয়।” পরিবেশবিদ্যা (Ecology), প্রফেসর ড. মো. আব্দুল গফফার/প্রফেসর ড. মো. আব্দুল কাদের

.
ট্যাপেটামের কাজ কি?
  1. পুষ্টি যোগানো
  2. প্রজননে সহায়তা
  3. সুরক্ষা
  4. শস্য উৎপাদন
ব্যাখ্যা

ট্যাপেটাম হলো অ্যান্থারের ভিতরে পরাগথলির সবচেয়ে ভিতরের স্তর। এটি মাইক্রোস্পোর মাদার সেলকে ঘিরে থাকে। ট্যাপেটাম বিগলিত হয়ে পরিস্ফুটিত পরাগরেণুর পুষ্টি সাধন করে।

জীবিবিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
সিমবায়োটিক নাইট্রেপাজেন সংবন্ধনে লেগহিমোগ্লোবিল কোন ভূমিকা পালন করে?
  1. ব্যাক্টেরিয়ার কাছে অক্সিজেন পরিবহন করে
  2. অ্যামোনিয়াকে নাইট্রেট রূপান্তর করে
  3. নাইট্রোজিনেজের inactivation রোধ করার জন্য অক্সিজেন এর মাত্রা কম রাখে 
  4. নডিউলের ATP উৎপাদন বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা

লেগহিমোগ্লোবিন হলো এক ধরনের লাল রঙের প্রোটিন, যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে (root nodule) পাওয়া যায়। এটি উদ্ভিদ ও রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া উভয়ের যৌথভাবে উৎপন্ন পদার্থ। “অক্সিজেন নাইট্রোজিনেজ এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।”

- “Leghemoglobin regulates oxygen concentration within nodules, protecting nitrogenase from inactivation.” Odum, E.P. – Fundamentals of Ecology

- “Leghemoglobin acts as an oxygen buffer in legume nodules, ensuring adequate respiration while keeping oxygen low enough for nitrogenase activity.” Taiz & Zeiger – Plant Physiology and Development.

- “Leghemoglobin gives pink colour to nodules and regulates oxygen concentration.” Singh, Pandey & Jain – Economic Botany / Plant Physiology (Indian context, degree level)

.
কোনটি প্রয়োজনে টেরিডোফাইটগুলো সংকীর্ণ ভৌগলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ?
  1. আলো
  2. মাটি
  3. পানি
  4. শীতল শুষ্ক স্থান
ব্যাখ্যা

• পানির কারণে টেরিডোফাইট (Pteridophytes) বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদগুলো সংকীর্ণ ভৌগলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে।
• টেরিডোফাইটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- তারা হলো বীজবিহীন ভাসকুলার উদ্ভিদ (seedless vascular plants)।
- প্রজনন প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু (antherozoid / sperm) ব্যবহার হয়।
- শুক্রাণু দুইটি ফ্ল্যাজেলা যুক্ত এবং সাঁতার কেটে ডিম্বক (egg) পর্যন্ত পৌঁছায়।
• পানির ভূমিকা: শুক্রাণু সঠিকভাবে ডিম্বকে fertilize করতে পানির উপস্থিতি অপরিহার্য।
শুকনো বা উষ্ণ এলাকায় পানি অনুপস্থিত হলে নিষেক সম্ভব হয় না।
• ফলাফল: যার কারণে টেরিডোফাইটরা সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে, ছায়াযুক্ত বন বা আর্দ্র পরিবেশে জন্মায়। ফলে এদের ভৌগলিক বিস্তার সংকীর্ণ হয়। উদাহরণ: ফার্ন (Dryopteris) – ছায়াযুক্ত আর্দ্র বন। Lycopodium – আর্দ্র পাহাড়ি ঢাল। Selaginella – আর্দ্র পাথুরে জায়গা
 
রেফারেন্স বই:
B.P. Pandey – Botany for Degree Students (Pteridophyta section)

- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এর একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ে এটি সরাসরি নেই, তবে 'নিষেকের জন্য পানি প্রয়োজন' কথাটি উল্লেখ আছে।

- টেরিডোফাইটদের নিষেকের জন্য পানি অপরিহার্য। শুক্রাণু পানি ছাড়া ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তাই এরা কেবল আর্দ্র পরিবেশে বৃদ্ধি পায় এবং সংকীর্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে। 

.
কোন পদ্ধতিতে নিষেক ব্যতীত ভ্রুন তৈরী হয়?
  1. Apogomy
  2. Cytogenesis
  3. Sporogenesis
  4. Oogenesis
ব্যাখ্যা

- ডিম্বাণু ছাড়া ভ্রূণথলির অন্য যে কোনো কোষ (যেমন সহকারি কোষ, প্রতিপাদকোষ ইত্যাদি) থেকে ভ্রূণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাপোগ্যামি বলে। এক্ষেত্রে নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- পার্থেনোজেনেসিস, অ্যাপোস্পোরি, অ্যাপোগ্যামি এবং অ্যাডভেনটিটিভ এমব্রায়োনি এর প্রতিটি প্রক্রিয়াতেই নিষেক ছাড়া ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। ডিম্বাণু, ভ্রূণথলি বা ডিম্বকের অন্যান্য কোষ থেকে নিষেক ছাড়াই ভ্রুণ তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে বলা হয় অ্যাগামোস্পার্মি।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি

.
Polyembryony দেখা যায়-
  1. Citrus ফল
  2. জিমনোস্পার্ম
  3. ক ও খ 
  4. কোনটাই না
ব্যাখ্যা

- Polyembryony হলো একটি বীজে একাধিক ভ্রুণ (embryo) জন্ম হওয়া। ফলে একটি বীজ থেকে একাধিক উদ্ভিদ জন্ম নিতে পারে। এটি উদ্ভিদের উৎপাদনশীলতা ও জেনেটিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে। উদাহরণ = Citrus, Mango, Coconut ইত্যাদি। একটি ডিম্বক থেকে একাধিক ভ্রূণ তৈরি হয়, ফলে একটি বীজ থেকে একাধিক চারা জন্মাতে পারে।

একটি ডিম্বক থেকে একাধিক ভ্রূণ গঠিত হলে তাকে বহুভ্রূণতা বা Polyembryony বলে।
- Citrus (কমলা)-এর বীজে এ ধরনের অবস্থা দেখা যায়।
- জিমনোস্পার্ম যেমন পাইন প্রজাতিতে একাধিক আর্কেগোনিয়াম নিষিক্ত হয়ে একাধিক ভ্রূণ তৈরি হতে পারে।
Singh, P. — Plant Embryology (Gymnosperms and Angiosperms)

B.P. Pandey, Botany for Degree Students, 2nd Edition, S. Chand & Company Ltd., Chapter: Angiosperm Reproduction.

Taiz, Zeiger, Plant Physiology and Development, Sinauer Associates, Chapter: Seed Development.

- “Polyembryony is the occurrence of more than one embryo in a single seed. It is common in Citrus, Opuntia, and many Gymnosperms like Pinus.” Maheshwari, P. (1950) — An Introduction to the Embryology of Angiosperms

- “In Citrus, additional embryos arise from the nucellar tissue (apomictic). In Gymnosperms like Pinus, several archegonia may be fertilized, producing multiple embryos.” B.P. Pandey — Plant Reproduction & Embryology

.
কোষ বিভাজনের সময়ে কোষ প্লেট তৈরীতে সাহায্য করে কোন অঙ্গানু?
  1. মাইক্রোটিউবিউলস
  2. গলগি বডি
  3. রাইবোসোম
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা

- “During cytokinesis in plant cells, vesicles derived from the Golgi bodies accumulate at the equatorial region of the cell. These vesicles fuse to form the cell plate which later develops into the new cell wall between two daughter cells.” B.P. Pandey – Botany for Degree Students (Cell Biology Section)।
- “Golgi-derived vesicles carry cell wall polysaccharides to the plane of division, where they coalesce to form the cell plate. This cell plate subsequently matures into the middle lamella and primary cell wall.” Taiz & Zeiger – Plant Physiology and Development (7th Edition)
- “উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিসের সময় কোষের মধ্যভাগে নতুন কোষ প্রাচীরের সূচনা ঘটে, যাকে কোষপ্লেট বলে। এটি গলজি দেহ থেকে নির্গত ভেসিকলগুলোর মিলিত হয়ে গঠিত।” জীববিজ্ঞান (প্রথম পত্র), ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
মূলের ত্বককে কি বলে?
  1. এপিডার্মিস
  2. এপিব্লেমা
  3. হাইপোডার্মিস
  4. কর্টেক্স
ব্যাখ্যা

মূলের বাইরের ত্বককে এপিব্লেমা বলে। এপিব্লেমার কোনো কোনো কোষ হতে এককোষী রোম উৎপন্ন হয়। এদেরকে মূলরোম বলে। 

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

Epiblema (এপিব্লেমা): এটি হলো মূলের সবচেয়ে বাইরের একস্তর বিশিষ্ট কোষীয় আবরণ। একে অনেক সময় rhizodermisও বলা হয়। এটি মূলকে বাহ্যিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং জল ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।

Root Hair (মূলরোম): Epiblema-এর কিছু কোষ থেকে সূক্ষ্ম এককোষী রোম উৎপন্ন হয়। এই রোমগুলো মাটির গভীরে প্রসারিত হয়ে জল ও খনিজ শোষণ বৃদ্ধি করে। মূলরোম স্বল্পস্থায়ী (short-lived) হয় এবং নিয়মিত নতুন রোম তৈরি হয়।

.
কোন উদ্ভিদে CAM প্রক্রিয়া দেখা যায়?
  1. গম
  2. গিনি ঘাস
  3. পাট
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

- CAM (Crassulacean Acid Metabolism) হলো এক বিশেষ ধরনের সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতি যা শুষ্ক ও মরুভূমি অঞ্চলের রসালো উদ্ভিদে (succulent plants) দেখা যায়।

- এই প্রক্রিয়ায় রাতে স্টোমাটা খোলে → কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে → ম্যালিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয় ও সংরক্ষিত থাকে। দিনে স্টোমাটা বন্ধ থাকে → সংরক্ষিত ম্যালিক অ্যাসিড ভেঙে CO₂ মুক্ত করে → Calvin cycle চালায়। ফলে পানি ক্ষয় কম হয় এবং উদ্ভিদ শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে।উদাহরণ: 
- Bryophyllum (পাথরকুচি),
- Opuntia (নাগফণী),
- Kalanchoe, 
- Aloe vera 

B.P. Pandey – Plant Physiology
Taiz & Zeiger – Plant Physiology and Development, Chapter: Photosynthetic Pathways.

১০.
মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস কোথায় ঘটে?
  1. অ্যানথার
  2. ওভিউল
  3. ষ্টিগমা
  4. স্টাইল
ব্যাখ্যা

পরাগধানির (Anther) ভেতরে মাইক্রোস্পোর মাদার সেল থেকে মিয়োসিসের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড মাইক্রোস্পোর উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াকে মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস বলে। 

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র (একাদশ–দ্বাদশ)।

১১.
কোনটি সত্য নয়-
  1. প্রোটন এমাইনো এসিডের পলিমার
  2. প্রোটিন এমাইনো এসিডের পলিমার
  3. প্রোটিনকে ‘বায়োমার্কার' বলা হয়
  4. উচ্চতাপে প্রোটিনের স্বভাব-বিচ্যুতি ঘটে
ব্যাখ্যা

(ক) প্রোটিন অ্যামাইনো অ্যাসিডের পলিমার। সত্য প্রোটিন গঠিত হয় অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড দ্বারা (peptide bond-এ যুক্ত)।

(খ) একই বক্তব্য পুনরাবৃত্ত 

(ঘ) উচ্চ তাপে প্রোটিনের স্বভাব-বিচ্যুতি (denaturation) ঘটে। সত্য তাপ, pH বা রাসায়নিকের প্রভাবে প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হয়।

(গ) প্রোটিনকে ‘বায়োমার্কার’ বলা হয় — সব প্রোটিনের ক্ষেত্রে এটি সর্বজনীন সত্য নয়। যদিও কিছু প্রোটিন (যেমন Troponin, Albumin) বায়োমার্কার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সব প্রোটিনই বায়োমার্কার নয়। এই বক্তব্যটি আংশিক সত্য।

- বায়োমার্কার হলো এমন অণু যা জীবদেহের অবস্থা নির্দেশ করে। প্রোটিন এর একটি ধরন হতে পারে, কিন্তু সব প্রোটিনই এমন নয়। তাই “প্রোটিন হলো বায়োমার্কার” — এটি সাধারণীকৃতভাবে বলা ভুল।
- “প্রোটিন হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত বৃহৎ অণু, যা তাপ বা রাসায়নিক প্রভাবে বিকৃতি (denaturation) প্রাপ্ত হয়।”

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র (একাদশ–দ্বাদশ)।
Lehninger – Principles of Biochemistry
Campbell & Reece – Biology (11th Ed.)

১২.
ধান গাছের পাতার বাদামী দাগ রোগের প্যাথোজেন কোনটি?
  1.  Fusarium moniliforme
  2. Macrophomina
  3. Xanthomonas oryzae
  4. Helminthosporium oryzae
ব্যাখ্যা

• ধান গাছের বাদামী দাগ রোগ Helminthosporium oryzae নামক ছত্রাক দ্বারা সংঘটিত হয়।
• ধানের পাতায় বাদামী দাগ রোগ (Brown spot disease) সৃষ্টি করে একটি ছত্রাক (fungus)- Helminthosporium oryzae (বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম Bipolaris oryzae)। এই রোগে পাতায় চক্রাকার বা ডিম্বাকার বাদামী দাগ দেখা যায়। দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে পাতার রং পরিবর্তন করে এবং পাতার সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়।
• রোগের লক্ষণ:
- পাতায় ছোট বাদামী বা ধূসর দাগ তৈরি হয়।
- দাগ বড় হয়ে পাতা শুকিয়ে যায়।
- শস্যের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

• রোগজীবাণুর ধরন:
- ছত্রাকজাত রোগজীবাণু (Fungus)
- শ্রেণি: Deuteromycetes
- প্রজাতি: Helminthosporium oryzae (syn. Bipolaris oryzae)

ক) Fusarium moniliforme ছত্রাক ধানের বীজ পচন বা foot rot

খ) Macrophomina phaseolina ছত্রাক জুটে স্টেম রট (Stem rot)

গ) Xanthomonas oryzae ব্যাকটেরিয়া ধানে ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট (Bacterial leaf blight)।

Agrios, G.N. (2005) — Plant Pathology (5th Edition)
B.P. Pandey — Plant Pathology

১৩.
ভিরয়েড এবং ভাইরাস এর মধ্যে মূল পার্থক্য কোনটি?
  1. ভাইরাসের একটি প্রেটিন আবরণ থাকে যা ভিরয়েড এ থাকে না 
  2. ভিরয়েড কেবল ব্যাক্টেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে, উদ্ভিদকে না
  3. ভাইরাসের বিপরীতে ভিরয়েড এর জীনগত উপাদান হিসাবে DNA থাকে
  4. ভাইরাসের জন্য একটি পোষক কোষ এর প্রয়োজন কিন্তু ভিরয়েডের জন্য নয়।
ব্যাখ্যা

ভাইরাসে প্রোটিন আবরণযুক্ত DNA বা RNA থাকে, কিন্তু ভিরয়েডে কেবল RNA থাকে এবং কোনো প্রোটিন আবরণ থাকে না। ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র (একাদশ–দ্বাদশ),

মূল পার্থক্য: ভাইরাসের প্রোটিন আবরণ থাকে, কিন্তু ভিরয়েডে প্রোটিন আবরণ থাকে না।

১৪.
যে সব উদ্ভিদ ছায়ায় জন্মায় তাদের কি বলে? 
  1. Psamophyten
  2. Heliophyten
  3. Sciophytes 
  4. Monocots
ব্যাখ্যা

- Sciophytes (ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ): Scio অর্থ ছায়া (shade) + phyte অর্থ উদ্ভিদ। এরা এমন উদ্ভিদ যারা কম আলো বা ছায়াযুক্ত স্থানে ভালোভাবে জন্মায়। এদের পাতাগুলি সাধারণত বড়, পাতলা, বেশি ক্লোরোফিলযুক্ত হয়। যাতে অল্প আলোতেও যথেষ্ট সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব হয়। উদাহরণ: ফার্ন (Pteris), মস (Moss), Begonia, Calathea ইত্যাদি।

- Heliophytes (সূর্যালোকপ্রিয় উদ্ভিদ): Helios অর্থ সূর্য। সূর্যালোক ভালোবাসা উদ্ভিদ। খোলা জায়গায়, প্রচুর আলোতে বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ: ধান, গম, সূর্যমুখী, ভুট্টা ইত্যাদি।

ক) Psamophyte বালুময় মাটিতে জন্মানো উদ্ভিদ বালুকাভূমি উদ্ভিদ Cactus, Casuarina

খ) Heliophyte সূর্যালোকপ্রিয় উদ্ভিদ খোলা আলোতে জন্মায় ধান, গম

গ) Sciophyte ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ ছায়ায় জন্মায় ফার্ন, মস

ঘ) Monocots একবীজপত্রী উদ্ভিদ বীজে একটি cotyledon ধান, গম।

যে উদ্ভিদ কম আলো বা ছায়াযুক্ত স্থানে জন্মায়, তাদের ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ বা Sciophytes বলে। ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র (একাদশ–দ্বাদশ)।

Odum, E.P. (1971) — Fundamentals of Ecology
Begon, Townsend & Harper — Ecology: From Individuals to Ecosystems

১৫.
কোনটি প্রাকৃতিকভাবে Opium এ থাকে না?
  1. মরফিন
  2. কোডিন
  3. নাক্রোটিন
  4. হিরোইন
ব্যাখ্যা

• আফিম হলো Papaver somniferum (আফিম গাছ) এর অপরিণত ফল থেকে নির্গত এক ধরনের ল্যাটেক্স। এতে অনেক alkaloid যৌগ প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান থাকে।
• Opium-এ প্রাকৃতিকভাবে থাকা প্রধান Alkaloids:
- Morphine, Narcotic alkaloid, ব্যথানাশক (Pain killer)
- Codeine, Narcotic alkaloid, কাশির ওষুধে ব্যবহৃত
- Narcotine (Noscapine), Non-narcotic alkaloid, কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত
- Papaverine, Isoquinoline alkaloid, রক্তনালিকা প্রসারণে ব্যবহৃত।
• Heroin (ডাইঅ্যাসিটাইল মরফিন) প্রাকৃতিক নয়, এটি মরফিনের রাসায়নিক পরিবর্তিত রূপ (semi-synthetic derivative)। ল্যাবরেটরিতে মরফিনে acetic anhydride যোগ করে হিরোইন তৈরি করা হয়। তাই এটি Opium-এ প্রাকৃতিকভাবে থাকে না।
Trease & Evans – Pharmacognosy (16th Ed.)
Tyler, Brady & Robbers,- Pharmacognosy

“আফিমের সক্রিয় উপাদানগুলির মধ্যে মরফিন, কোডিন, নাক্রোটিন ও প্যাপাভারিন উল্লেখযোগ্য; হিরোইন আফিম থেকে প্রাপ্ত হলেও এটি কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র (একাদশ–দ্বাদশ)।

১৬.
দু'টি ভিন্ন উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের মিলনস্থানের উদ্ভিদ এবং পাহাড়ের ঢালু এলাকার উদ্ভিদ জরীপ করার জন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
  1. Transect method (ট্রানসেক্ট পদ্ধতি) 
  2. Bisect method (সমদ্বিখন্ডক পদ্ধতি)
  3. Line intercept (রেখা ইন্টারসেপ্ট পদ্ধতি)
  4. Quadrate method (বর্গক্ষেত্র পদ্ধতি)
ব্যাখ্যা

- Transect Method (ট্রানসেক্ট পদ্ধতি) হলো এমন একটি পরিবেশগত জরিপ পদ্ধতি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট রেখা বরাবর (অথবা তার পাশে) উদ্ভিদের প্রজাতি ও সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়।

- এই পদ্ধতি বিশেষভাবে উপযোগী: যখন দুই ভিন্ন উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের সংযোগস্থল (ecotone) অধ্যয়ন করতে হয় অথবা ঢালু ভূমি, পাহাড়ি অঞ্চল বা পরিবেশগত গ্রেডিয়েন্ট (environmental gradient) বরাবর উদ্ভিদের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
- পদ্ধতির ধরণ:
১. Line transect: একটি দড়ি বা মাপার ফিতা নির্দিষ্ট দিক বরাবর টানা হয়।
২. Belt transect: সেই রেখার দুই পাশে নির্দিষ্ট প্রস্থের একটি বেল্ট ধরে সব উদ্ভিদ রেকর্ড করা হয়।

- “দুই ভিন্ন উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের সংযোগস্থল বা ঢালু ভূমিতে উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের বিন্যাস জানার জন্য ট্রানসেক্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।”
- Transect method is used to study vegetation along an environmental gradient or ecotone.Odum, E.P. (1971). Fundamentals of Ecology.
- “The transect method is suitable for studying vegetation variation across slopes and transition zones.” Misra, R. (1968). Ecology Workbook.

- Quadrat method সমতল অঞ্চলের উদ্ভিদ ঘনত্ব, সংখ্যা ও বন্টন নির্ণয়ে।

- Transect method ঢালু অঞ্চল বা দুই সম্প্রদায়ের মিলনস্থলে উদ্ভিদের পরিবর্তন নির্ণয়ে।

- Line intercept রেখা বরাবর গাছের আচ্ছাদন নির্ণয়ে।

- Bisect method প্রাণীর চলাচল বা ক্ষেত্র বিভাজনের জন্য (অপ্রচলিত)।

১৭.
একপ্রতিসম ফুলের উদাহরণ হল-
  1. ধুতুরা
  2. জবা
  3. সরিষা
  4. অপরাজিতা
ব্যাখ্যা

ফুলের প্রতিসাম্য (Symmetry) দুই প্রকার। যথা-
১. বহুপ্রতিসম ফুল (Actinomorphic): ফুলের যে কোনো ব্যাস বরাবর সমান দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। উদাহরণ: ধুতুরা, জবা, সরিষা ইত্যাদি।
২. একপ্রতিসম ফুল (Zygomorphic): ফুলটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সমতল বরাবর সমান দুটি ভাগে বিভক্ত হয়। উদাহরণ: অপরাজিতা (Clitoria), মটর (Pisum sativum), Cassia, Bean ইত্যাদি।

- অপরাজিতা ফুলে উপরি ও নিচের পাপড়িগুলির গঠন অসমান, তাই এটি একপ্রতিসম (zygomorphic)।

- Clitoria and Pisum are examples of zygomorphic (bilaterally symmetrical) flowers. B.P. Pandey- Botany for Degree Students (Morphology of Flowering Plants)
- “Zygomorphic flowers like Clitoria and Cassia can be divided into two equal halves only in one plane.” N.C.E.R.T. Biology, Class XI, Chapter: Morphology of Flowering Plants

“যে ফুলকে কেবল একটি সমতল দ্বারা সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় তাকে একপ্রতিসম ফুল বলে। যেমন- অপরাজিতা, মটর ইত্যাদি।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র (একাদশ–দ্বাদশ)।

১৮.
ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী চিকিৎসায় কোন উদ্ভিদের রাইজোম একটি শক্তিশালী প্রদাহ রোধকারী এবং হজম সহয়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. থানকুনি
  2. সিনকোনা
  3. আদা
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা

- আদার রাইজোমে থাকা জিনজেরল (gingerol) এবং শোগল (shogaol) ধরনের যৌগগুলো শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং কারমিনেটিভ/হজম-সহায়ক কার্য দেখায়। তাই বিশ্বজুড়ে ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় আদার রাইজোম পেটের সমস্যা, বদহজম, বমি ও প্রদাহ হ্রাসে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

- হলুদে কুরকুমিনও প্রদাহ-রোধী, কিন্তু হজম-সাহায্যে আদাই প্রধান হিসেবে বিবেচিত।

Trease & Evans — Pharmacognosy (medicinal uses of ginger)

B.P. Pandey — Economic Botany (medicinal plant uses)

WHO monograph/ethnobotanical sources on Zingiber officinale

১৯.
স্নেহ জাতীয় পদার্থের বায়োসিনথেসিস প্রধানত কোথায় হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2.  ক্লোরোপ্লাষ্ট
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

- স্নেহ জাতীয় পদার্থ (লিপিড) বলতে ট্রাইগ্লিসারাইড, ফসফোলিপিড, স্টেরল ইত্যাদি বোঝায়। এই সব যৌগের বায়োসিনথেসিস বা সংশ্লেষণ প্রধানত কোষের সাইটোপ্লাজমে (বিশেষত স্মুথ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম– SER) এ ঘটে। এখানে Acetyl-CoA থেকে ক্রমান্বয়ে Fatty acid synthesis ঘটে, যা পরে ফসফোলিপিড ও ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়।

- “স্নেহ জাতীয় পদার্থের সংশ্লেষণ প্রধানত কোষের সাইটোপ্লাজমে, বিশেষত মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে সম্পন্ন হয়।” 
Lehninger, A.L. — Principles of Biochemistry (5th Edition)

- “Most lipid synthesis takes place in the smooth endoplasmic reticulum, a cytoplasmic organelle.” Albert’s Molecular Biology of the Cell।

২০.
কোন অঙ্গানুটি অটোফ্যাগীতে (Authophogy)-তে জড়িত?
  1. লাইসোসোম
  2. লাইবোসোম
  3. অমসৃণ এডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. গলগি বডি
ব্যাখ্যা

- তীব্র খাদ্যাভাবের সময় লাইসোসোমের প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলো বিনষ্ট করে দেয়। এ কাজকে বলে স্বগ্রাস বা অটোফ্যাগী। এভাবে সমস্ত কোষটিও পরিপাক হয়ে যেতে পারে। একে বলা হয় অটোলাইসিস। 

- “তীব্র খাদ্যাভাবের সময় লাইসোসোমের প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলো বিনষ্ট করে দেয়। এ কাজকে বলে স্বগ্রাস বা অটোফ্যাগী। এভাবে সমস্ত কোষটিও পরিপাক হয়ে যেতে পারে। একে বলা হয় অটোলাইসিস।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান (দ্বিতীয় পত্র)।

- অটোফ্যাগি (Autophagy): লাইসোসোম ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় অঙ্গানুগুলোকে “খেয়ে ফেলে” অর্থাৎ ভেঙে দেয়। এটি কোষের “self-cleaning” প্রক্রিয়া।

- অটোলাইসিস (Autolysis): যদি লাইসোসোমের ঝিল্লি সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং এর এনজাইমগুলো কোষের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পুরো কোষটাই ভেঙে গলে যায় একে বলে অটোলাইসিস বা “self-digestion”।

- কোষের Autophagy ও Autolysis দুই প্রক্রিয়াতেই লাইসোসোম (Lysosome) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২১.
কোনটি সরল লিপিড নয়?
  1. চর্বি
  2. তেল
  3. রাবার
  4. মোম
ব্যাখ্যা

লিপিড (Lipid) হলো জৈব যৌগের একটি শ্রেণি যা পানিতে অদ্রবণীয় এবং জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। এগুলো সাধারণত ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল দ্বারা গঠিত হয়।

• লিপিডের শ্রেণিবিন্যাস:

১. সরল লিপিড (Simple lipids): ফ্যাটি অ্যাসিড + অ্যালকোহল‌। উদাহরণ:
- চর্বি (Fat) – প্রাণী উৎসের
- তেল (Oil) – উদ্ভিদ উৎসের
- মোম (Wax) – উদ্ভিদ ও প্রাণীর ত্বকে সুরক্ষার জন্য থাকে

২. যৌগিক লিপিড (Compound lipids): লিপিড + অন্য রাসায়নিক উপাদান. উদাহরণ: ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড

৩. উৎপন্ন বা ডেরাইভড লিপিড (Derived lipids): লিপিড থেকে উৎপন্ন উপাদান যেমন- ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল, স্টেরল ইত্যাদি

• রাবার (Rubber): রাবার একটি পলিমার (Polyisoprene)। যে সব যৌগ আইসোপ্রিন এককের পলিমার দিয়ে গঠিত তাকে টারপিনয়েড লিপিড বলে। স্টেরয়েড, টারপিনস, রাবার ইত্যাদি টারপিনয়েড লিপিডের উদাহরণ।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২২.
Cruciferae পরিবারে সম্পূরক নাম কি?
  1. Brassicaceae
  2. Capporidaceae
  3. Annouaceae
  4. Rubiaceae 
ব্যাখ্যা

Cruciferae হলো একটি উদ্ভিদ পরিবার (plant family), যার আধুনিক বা সম্পূরক নাম হলো Brassicaceae। “Cruciferae” শব্দটি এসেছে “cruciform” (ক্রস-আকৃতির) ফুল থেকে। এ পরিবারের ফুলগুলো সাধারণত চারটি পাপড়ি (petal) বিশিষ্ট, এবং ক্রস আকৃতিতে সাজানো থাকে।

- পুরোনো নাম Cruciferae

- নতুন (সম্পূরক) নাম Brassicaceae

- বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুল ৪-মণ্ডলবিশিষ্ট, ক্রস-আকৃতি

- গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সরিষা (Brassica campestris), বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা

- “Cruciferae, according to modern taxonomy, is synonymous with Brassicaceae.” Rendle, A.B. (1952) — The Classification of Flowering Plants, Vol. II

- “The family Cruciferae (Brassicaceae) is characterized by cruciform corolla and siliqua fruit.” Lawrence, G.H.M. (1951) — Taxonomy of Vascular Plants

- ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) অনুযায়ী, “Brassicaceae” হলো Accepted family name, আর “Cruciferae” হলো alternative or conserved name।

- “Cruciferae is now known as Brassicaceae according to ICBN (International Code of Botanical Nomenclature).” ড. আমানুল্লাহ ভূঁইয়া ও মকবুল হক, উদ্ভিদবিদ্যা (Botany — Taxonomy part)।

২৩.
অ্যাঞ্জিওস্পার্মের দ্বি-নিষেকের ফলে কি তৈরী হয়?
  1. শুধুমাত্র এম্ব্রায়ো
  2. শুধুমাত্র এ্যন্ডাস্পার্ম
  3. জাইগোট ও এন্ডোস্পার্ম উভয়েই
  4. বীজ আবরণ
ব্যাখ্যা

অ্যাঞ্জিওস্পার্মে (Angiosperms) একটি বিশেষ প্রকার নিষেক প্রক্রিয়া ঘটে যাকে বলা হয় দ্বি-নিষেক (Double fertilization)। এটি flowering plants-এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য।

দ্বি-নিষেক প্রক্রিয়া (Process of Double Fertilization):

১. প্রথম নিষেক (Syngamy): এক male gamete ডিম্বাণুর (egg cell) সাথে যুক্ত হয়ে জাইগোট (zygote) গঠন করে। এটি থেকে পরবর্তীতে ভ্রূণ (embryo) তৈরি হয়।

২. দ্বিতীয় নিষেক (Triple fusion): অপর male gamete কেন্দ্রীয় কোষের (central cell) দুটি polar nuclei-এর সাথে মিলিত হয়। এর ফলে triploid (3n) primary endosperm nucleus তৈরি হয়, যা থেকে পরে endosperm গঠিত হয়।

“অ্যাঞ্জিওস্পার্মে দুটি নিষেক একসাথে ঘটে—একটি থেকে জাইগোট ও অন্যটি থেকে এন্ডোস্পার্ম তৈরি হয়। একে দ্বি-নিষেক বলে।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান,

জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

“In angiosperms, one male gamete fuses with the egg to form zygote and another with the polar nuclei to form primary endosperm nucleus — this is called double fertilization.” Vashishta, P.C., Sinha & Singh (Botany for Degree Students — Angiosperms)

“Double fertilization results in the formation of both zygote and endosperm, a unique feature of flowering plants.” Maheshwari, P. (1950). An Introduction to the Embryology of Angiosperms.

২৪.
কোন খনিজ লবণের অভাবে গাছের পাতা ও ফুল ঝরে যায়? 
  1. জিংক
  2. আয়রণ
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

- ক্যালসিয়াম কোষপ্রাচীরের স্থায়িত্ব বজায় রাখে এবং পেকটিক পদার্থের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর অভাবে মধ্যস্তর দুর্বল হয়ে যায় এবং পাতা ও ফুল ঝরে যায়।

- “Calcium deficiency causes loss of cell adhesion, leading to leaf and flower abscission.” Salisbury & Ross (Plant Physiology, 1992)

- “ক্যালসিয়ামের অভাবে কোষপ্রাচীর দুর্বল হয়ে পাতা ও ফুল ঝরে যেতে পারে।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান।

২৫.
কোনটিতে ক্যাসপেরিয়ান ষ্ট্রিপ পাওয়া যায়?
  1.  অধ:ত্বক
  2. কর্টেক্স
  3. অন্ত:ত্বক
  4. পরিচক্র
ব্যাখ্যা

• ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ (Casparian strip) হলো এক বিশেষ ধরনের suberin পদার্থ দ্বারা গঠিত বেল্ট-আকৃতির জমা স্তর, যা মূলের অন্তঃত্বকের (endodermis) কোষপ্রাচীরে উপস্থিত থাকে।

• অন্তঃত্বক (Endodermis): এটি মূলের কর্টেক্সের (cortex) সর্বশেষ স্তর। এর কোষগুলোর রেডিয়াল ও ট্রান্সভার্স দেওয়ালে suberin জমা হয়ে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ তৈরি করে। এটি পানি ও খনিজের নিয়ন্ত্রিত পরিবাহনে সাহায্য করে।

• ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপের কাজ:

- পানি ও খনিজের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

- অপ্রয়োজনীয় পদার্থ ভাসকুলার সিলিন্ডারে প্রবেশে বাধা দেয়।

- শোষণ অঞ্চল পর্যন্ত পানি পরিবহণে সহায়তা করে।

• “অন্তঃত্বকের কোষপ্রাচীরের রেডিয়াল অংশে সাবেরিন পদার্থের আস্তরণ জমে ‘ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ’ গঠন করে।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

• “Casparian strip is a band-like thickening of suberin on the radial and transverse walls of endodermal cells.” Eames & MacDaniels (1947) – An Introduction to Plant Anatomy

• “Endodermis is characterized by the presence of Casparian strips which regulate the flow of water and solutes.” Esau, K. (1977) – Plant Anatomy.

২৬.
Ergotism এর কারণ-
  1. Rhizopus
  2. Claviceps purpurea
  3. Aspergillus
  4. Neurospora
ব্যাখ্যা

• Ergotism হলো একটি বিষক্রিয়া (poisoning) যা Claviceps purpurea নামক ছত্রাকের (fungus) সংক্রমিত খাদ্যদ্রব্য, বিশেষত রাই (rye) শস্যে থাকা Ergot alkaloids গ্রহণের ফলে ঘটে।

• কারণ:

- Claviceps purpurea হলো Ascomycetes শ্রেণির একটি পরজীবী ছত্রাক। এটি রাই, গম, যব, ওট ইত্যাদি শস্যের ফুলের ডিম্বাণুতে (ovary) সংক্রমণ ঘটায়। সংক্রমিত ডিম্বাণু কালো-বেগুনি রঙের sclerotium (Ergot)-এ রূপান্তরিত হয়। এতে থাকে toxic alkaloids যেমন — Ergotamine, Ergometrine, Ergobasine ইত্যাদি।

• Ergotism রোগের লক্ষণ:

- স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব: খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন, বিভ্রম

- রক্ত চলাচলে প্রভাব: রক্তনালীর সংকোচন

- প্রজননে প্রভাব: গর্ভাশয়ের সংকোচন (uterine contraction)

• “Claviceps purpurea infects rye and produces ergot alkaloids responsible for ergotism in humans and animals.” Alexopoulos, C.J. & Mims, C.W. (1979) – Introductory Mycology

• “Consumption of grains contaminated with ergot sclerotia of Claviceps purpurea leads to ergotism, characterized by hallucination and gangrene.” Prescott, Harley & Klein (Microbiology, 9th ed.)

২৭.
উদ্ভিদ কোষের অভ্যন্তরে PH রক্ষা করে কোনটি?
  1. কোষগহ্বর
  2. নিউক্লিওপ্লাজম
  3. গ্লাইঅক্সিজেম
  4. সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ কোষে কোষগহ্বর (Vacuole) হলো একটি ঝিল্লি-বেষ্টিত তরলপূর্ণ অঙ্গানু, যা কোষের অভ্যন্তরে pH বা অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য (acid-base balance) রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• কোষগহ্বরের গঠন: এটি একটি একক স্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি (Tonoplast) দ্বারা আবৃত। এর অভ্যন্তরের তরলকে বলা হয় কোষরস (Cell sap)।

• কোষরসে থাকে: পানি, খনিজ লবণ, জৈব অ্যাসিড, চিনির দ্রবণ, রঞ্জক এবং এনজাইম ইত্যাদি।

• কোষগহ্বরের কাজ:

- pH নিয়ন্ত্রণ: কোষরসে উপস্থিত জৈব অ্যাসিড ও লবণ আয়নের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে কোষের অভ্যন্তরীণ pH ভারসাম্য বজায় রাখে।

- Osmotic balance বজায় রাখা (জলচাপ বা turgor pressure নিয়ন্ত্রণ)

- অপ্রয়োজনীয় পদার্থ সংরক্ষণ ও নির্গমন

- রঞ্জক পদার্থ সংরক্ষণ (যেমন anthocyanin)

- কোষ বৃদ্ধি সহায়তা- পানি শোষণ করে আয়তন বৃদ্ধি করে।

• “কোষগহ্বর কোষের অভ্যন্তরে জলচাপ ও pH এর ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দ্রবণ সংরক্ষণ করে।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

• “The vacuole maintains osmotic and pH balance of the cell through its sap containing organic acids and salts.” Vashishta, Sinha & Singh, Botany for Degree Students – Cytology

• “The vacuole helps in maintaining the internal pH of plant cells by regulating ion concentration and proton gradients across the tonoplast.” Alberts et al. (Molecular Biology of the Cell)

২৮.
জাইলেম ও ফ্লোয়েমের বিভক্তির মাধ্যমে মূল-কান্ডের ট্রানজিশন ঘটে কোন উদ্ভিদে?
  1. Mirabilis
  2. Cucurbita
  3. Fumaria
  4. Phoenix
ব্যাখ্যা

- “In Cucurbita, transition from root to stem occurs by splitting of xylem and phloem strands.” Esau, K. (Plant Anatomy, 1977)

- “The vascular transition in Cucurbita is achieved through the division (splitting) of xylem and phloem bundles.” Eames & MacDaniels (1947)

-“Cucurbita-তে মূলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিভক্ত হয়ে কান্ডের স্টিলের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ট্রানজিশন বলা হয়।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র।

২৯.
ক্রোমোসোমের আকৃতির জন্য কোনটি সত্য নয়?
  1. V-মেটাসেন্ট্রিক
  2. L-সাবমেটাসেন্ট্রিক
  3. A-এক্রোসেন্টিক
  4. I-টেলোসেন্ট্রিক
ব্যাখ্যা

“সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুসারে ক্রোমোসোমকে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, এক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক ভাগে বিভক্ত করা হয়।” ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ গুলো হলো-

১. Metacentric (মেটাসেন্ট্রিক): ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থান মধ্যবর্তী। দুই বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় সমান। ক্রোমোজোমটি V-আকৃতির বা symmetrical দেখায়।

২. Submetacentric (সাবমেটাসেন্ট্রিক): ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থান মধ্যবিন্দু থেকে সামান্য সরে গেছে।এক বাহু বড়, অন্যটি ছোট। ক্রোমোজোমটি L-আকৃতির দেখায়।

৩. Acrocentric (এক্রোসেন্ট্রিক): সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থান প্রায় এক প্রান্তে। এক বাহু দীর্ঘ, অন্যটি খুব ছোট। ছোট বাহুটি প্রায় নগণ্য। এটাকে A আকৃতির বলা হয়েছে। ক্রোমোজোমটি J-আকৃতির দেখায়।

৪. Telocentric (টেলোসেন্ট্রিক): সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থান একদম প্রান্তে। এক বাহু অনুপস্থিত। ক্রোমোজোমটি I-আকৃতির দেখায়।

৩০.
অধিকাংশ অ্যান্জিওস্পার্ম এর ভ্রুনথলি হলো-
  1. 7-Celled, 8 nucleate
  2. 8-Celled, 8 nucleate
  3. 4-Celled, 4 nucleate
  4. 6-Celled, 7 nucleate
ব্যাখ্যা

অ্যাঞ্জিওস্পার্মের অধিকাংশ উদ্ভিদে ভ্রুনথলি (Embryo sac) Polygonum type হয়, যা সবচেয়ে প্রচলিত ভ্রুনথলির ধরন। এই ভ্রুনথলিতে মোট ৮টি নিউক্লিয় (nuclei) থাকে, কিন্তু কোষের সংখ্যা ৭টি। ভ্রুনথলিটি প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত: প্রথমে Egg apparatus, যা ভ্রুনথলির এক প্রান্তে থাকে এবং এতে থাকে একটি Egg cell ও দুটি Synergids। এই কোষগুলো নিষেক এবং পরবর্তী ভ্রুন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভ্রুনথলির কেন্দ্রীয় অংশে থাকে দুটি Polar nuclei, যা একত্রিত হয়ে Central cell তৈরি করে। এই কেন্দ্রীয় কোষ পরবর্তী সময়ে Endosperm গঠন করতে নিষেকের সাথে যুক্ত হয়। অন্য প্রান্তে থাকে তিনটি Antipodal cells, যা সাধারণত পুষ্টি সংরক্ষণে সাহায্য করে। এইভাবে মোট কোষ সংখ্যা হয় ৭, কিন্তু নিউক্লিয় সংখ্যা হয় ৮।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি
Raven, Evert & Eichhorn (Biology of Plants, 8th Edition)
Bajaj, Embryology of Angiosperms

৩১.
হাইড্রোকার্বন ভাঙার জন্য বায়োরিমেডিয়েশন পদ্ধতিতে সাধারণত কোন জীব ব্যবহার করা হয়? 
  1. E.coli
  2. Pseudomonas putida
  3. Bacillus anthracis
  4. Clostridium perfringens
ব্যাখ্যা

বায়োরিমেডিয়েশন (Bioremediation) হলো পরিবেশ থেকে দূষিত পদার্থ, বিশেষত হাইড্রোকার্বন, তেল বা অন্যান্য অর্গানিক দূষক দূর করার জীববিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া।

Pseudomonas putida হলো এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যা অ্যারোম্যাটিক ও অ্যালিফাটিক হাইড্রোকার্বন ভাঙতে সক্ষম।

এই ব্যাকটেরিয়া হাইড্রোকার্বনের বিভিন্ন এনজাইম ব্যবহার করে তা সহজ যৌগে পরিণত করে এবং শেষ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব উপাদানে ভেঙে ফেলে।

এটি মাটির দূষণ, তেল দাগ এবং রাসায়নিক বর্জ্য অপসারণে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।

Rastogi, R.P., & Madamwar, D. (2006). Bioremediation of hydrocarbon-contaminated soil.
Dwivedi, S., & Singh, D. (2017). Microbial Bioremediation of Hydrocarbon Pollution.

৩২.
অ্যাগার অসগার কোন শৈবাল থেকে পাওয়া যায়?
  1. Gelidium
  2. Laminaria
  3. Sargassum
  4. Ulothrix
ব্যাখ্যা

অ্যাগার হলো একটি প্রাকৃতিক পলিস্যাকারাইড, যা প্রধানত রেড শৈবাল (Rhodophyta) থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো Gelidium প্রজাতি, যদিও কিছু ক্ষেত্রে Gracilaria থেকেও এটি প্রাপ্ত হতে পারে। Gelidium-এর শৈবাল থেকে প্রাপ্ত অ্যাগার জলীয় দ্রবণে জেল (gel) তৈরি করতে সক্ষম, যার কারণে এটি খাদ্য, ওষুধ এবং মাইক্রোবায়োলজির কালচার মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, Laminaria এবং Sargassum হলো ব্রাউন শৈবাল (Brown algae), যেগুলি প্রধানত Alginate উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, অ্যাগারের উৎস নয়। Ulothrix হলো গ্রিন শৈবাল (Chlorophyta), যা অ্যাগার উৎপাদনে ব্যবহার হয় না। তাই, অ্যাগারের জন্য সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রচলিত উৎস হলো Gelidium প্রজাতির রেড শৈবাল।

Guiry, M.D., & Guiry, G.M., AlgaeBase – Gelidium is a primary source of agar.

 Fritsch, F.E. (1935). The Structure and Reproduction of the Algae.

৩৩.
সুক্রোজের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়-
  1.  বিজারক চিনি
  2. কেহলিং দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে লাল অধ:ক্ষেপ তৈরী করে
  3. ডাইস্যাকারাই
  4. আদ্র বিশ্লেষণে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ পাওয়াযায়।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

- রিডিউসিং শ্যুগার বা বিজারক শর্করা: যেসব কার্বোহাইড্রেটে কমপক্ষে একটি মুক্ত অ্যালডিহাইড (-CHO) বা কিটোন (CO) গ্রুপ থাকায় ক্ষারীয় আয়নকে বিজারিত করতে পারে তাদেরকে রিডিউসিং শ্যুগার বা বিজারক শর্করা বলে। যেমন-গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ প্রভৃতি। এরা বেনেডিকটম বিকারক এবং ফেহলিং বিকারকের সাথে বিক্রিয়া করে।

- নন-রিডিউসিং শ্যুগার বা অবিজারক শর্করা: যেসব কার্বোহাইড্রেটে একটিও মুক্ত অ্যালডিহাইড (-CHO) বা কিটোন (=CO) গ্রুপ না থাকায় ক্ষারীয় আয়নকে বিজারিত করতে পারে না তাদেরকে নন-রিডিউসিং শ্যুগার বা অবিজারক শর্করা বলে। যেমন-সুকরোজ, ট্রেহালোজ প্রভৃতি। 
ক ও খ উভয়ই  সত্য নয়। কারণ সুক্রোজ একটি অবিজারক ডাইস্যাকারাইড, যা Fehling’s reagent-এর সাথে বিক্রিয়া করে না।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৪.
হাইডাথোড (Hydathode) দেখা যায় না কোন উদ্ভিদে?
  1. মরিচ
  2. কচু
  3. টমেটো
  4. ঘাস
ব্যাখ্যা

- হাইডাথোড (Hydathode) হলো পাতার প্রান্তে অবস্থিত একটি অঙ্গ যা গুটেশন (guttation) প্রক্রিয়ায় পানি নির্গমন করে। এটি মূলত মেসোফাইল কোষ থেকে পানি নির্গত করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে মাটির জলাধারণ বেশি হলে।

- কচু, টমেটো, ঘাসে হাইডাথোড দেখা যায়।

- মরিচে হাইডাথোড থাকে না, তাই এটি গুটেশন করতে পারে না।

Fahn, A., Plant Anatomy, 5th Edition

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৫.
কোন রন্জক পদার্থ ফটোসিস্টেম-Il এ আলোক শোষণ করে?
  1. P680
  2. P700
  3. ক্যারটিনয়েড
  4. জ্যান্থফিল
ব্যাখ্যা

- ফটোসিস্টেম II (PS II) হলো আলো-নির্ভর ফটোসিন্থেসিসের প্রথম ধাপ। PS II মূল রিঅ্যাকশন কেন্দ্রের রঞ্জক পদার্থ হলো P680, যা 680 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো শোষণ করে।

- P700 হলো ফটোসিস্টেম I (PS I)-এর রিঅ্যাকশন কেন্দ্র।

- ক্যারোটিনয়েড এবং জ্যান্থফিল হলো সহায়ক রঞ্জক পদার্থ, যা আলো শোষণ করে এবং শক্তি PS II বা PS I-তে স্থানান্তর করে।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Taiz & Zeiger, Plant Physiology, 6th Edition

৩৬.
Bread mold বা রুটির চিতা নামে পরিচিত কোনটি?
  1. Pythium
  2. Phytophthora
  3. Rhizopus
  4. Mucor
ব্যাখ্যা

Bread mold বা রুটির চিতা হলো সাধারণত Rhizopus stolonifer, যা একটি Zygomycota শ্রেণীর ছত্রাক।

এটি রুটির উপর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রুটির পৃষ্ঠে কালো বা ধূসর স্পোরিং কাঠামো গঠন করে।

Rhizopus হলো saprophytic fungus, অর্থাৎ এটি মৃত জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে।
Pythium – Oomycota, মূলত উদ্ভিদের পাতা বা শিকড়ের রোগের জন্য দায়ী।
Phytophthora – Oomycota, উদ্ভিদের late blight ইত্যাদি রোগের জন্য দায়ী।
Mucor – Zygomycota, কিন্তু সাধারণত Bread mold হিসেবে Rhizopus-এর তুলনায় কম পরিচিত।

Line: “Rhizopus stolonifer is the common bread mold, a fast-growing saprophytic fungus producing black spores on bread
.” Alexopoulos, C.J., Mims, C.W., & Blackwell, M. Introductory Mycology, 4th Edition.

৩৭.
প্রকৃত কোষে DNA রেপ্লিকেশন কোথায় ঘটে?
  1. সাইটোপ্লাজম
  2. নিউক্লিওপ্লাজম
  3. কোষ গহ্বর
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা

- প্রকৃত কোষে (eukaryotic cell) DNA থাকে নিউক্লিয়াসের ভিতরে, যা nucleoplasm বা nuclear sap দ্বারা ভরা থাকে। DNA রেপ্লিকেশন ঘটে নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে, কারণ এখানে সমস্ত প্রয়োজনীয় এনজাইম এবং ফ্যাক্টর উপলব্ধ থাকে।
- সাইটোপ্লাজম: এখানে RNA ট্রান্সলেশন ও প্রোটিন সংশ্লেষণ হয়, DNA রেপ্লিকেশন নয়।
- কোষগহ্বর (Vacuole): প্রধানত পানি ও অন্যান্য পদার্থ সংরক্ষণ করে, DNA সংশ্লেষণের সাথে সম্পর্ক নেই।
- রাইবোসোম: প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান, DNA রেপ্লিকেশন হয় না।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Alberts B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

৩৮.
উদ্ভিদ শ্রেণীবিন্যাসে পদ্ধতির সঠিকক্রম কোনটি? 
  1. Division → Family → Class→ Order → Genus → Species
  2. Division → Class → Order → Family → Genus → Species
  3. Division → Class → Family →  Order → Species → Genus
  4. Division → Order → Class → Family → Species → Genus
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ (বা জীব) শ্রেণীবিন্যাসে পদ্ধতি (taxonomic hierarchy) হলো সর্বাধিক সাধারণ থেকে সবচেয়ে বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত ক্রম। উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী সঠিক ক্রম হলো:
1. Division (Phylum) – বৃহত্তম বিভাগ, উদ্ভিদদের মূল ধরণ অনুযায়ী ভাগ করে।
2. Class – Division-এর মধ্যে ভাগ করা উপবিভাগ।
3. Order – Class-এর মধ্যে আরও ছোট গোষ্ঠী।
4. Family – Order-এর মধ্যে সম্পর্কিত উদ্ভিদদের গোষ্ঠী।
5. Genus – Family-এর মধ্যে আরও সীমিত গোষ্ঠী।
6. Species – সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও নির্দিষ্ট শ্রেণি, একই প্রজাতির উদ্ভিদ।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি। 
Simpson, M.G., Plant Systematics, 3rd Edition

৩৯.
'ক্রান্জ এনাটমি' কোন ধরণের উদ্ভিদে দেখা যায়?
  1. C3 উদ্ভি
  2. C4 উদ্ভিদ
  3. CAM উদ্ভিদ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

Kranz anatomy হলো C4 উদ্ভিদের পাতায় দেখা একটি বিশেষ কাঠামো, যা C4 ফটোসিন্থেসিসকে কার্যকর করে। পাতায় দুই ধরনের কোষ থাকে: bundle sheath cells, যেখানে Calvin cycle ঘটে, এবং mesophyll cells, যেখানে CO₂ প্রথমে ধরে রাখার জন্য PEP carboxylase কাজ করে। C3 উদ্ভিতে এই কাঠামো নেই, কারণ সেখানে Calvin cycle শুধুমাত্র mesophyll cells-এ ঘটে। CAM উদ্ভিতেও (যেমন পাথরকুচি) দিন ও রাত আলাদা সময়ে ফটোসিন্থেসিস হয়, কিন্তু Kranz anatomy দেখা যায় না। উদাহরণ: Maize, Sugarcane, Sorghum

Taiz & Zeiger, Plant Physiology, 6th Edition

৪০.
কোনটি সত্য-
  1. DNA ও RNA নিউক্লিওটাইডের পলিমার
  2. ষ্টার্চ ও সেলুলেজ গ্লুকোজের পলিমার
  3. প্রাকৃতিক রাবার আইসোপ্রিলের পলিমার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

- DNA ও RNA: এগুলো নিউক্লিওটাইডের পলিমার, অর্থাৎ nucleotides একসাথে যুক্ত হয়ে long chains তৈরি করে।
- স্টার্চ (Starch) ও সেলুলোজ (Cellulose): এগুলো গ্লুকোজের পলিমার, অর্থাৎ monosaccharide গ্লুকোজ একত্রিত হয়ে polysaccharide তৈরি করে।
- প্রাকৃতিক রাবার (Natural rubber): এটি isoprene units-এর পলিমার, যা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়।

সুতরাং, উপরের তিনটি বিবৃতিই সত্য, তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরের সবগুলো।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Campbell, N.A., Biology, 11th Edition, Chapter: Molecules of Life

৪১.
কোন মিথক্রিয়াটি নেতিবাচক?
  1. Neutralism
  2. Ammensalism
  3. Commensalism
  4. Protocooperation
ব্যাখ্যা

মিথস্ক্রিয়া বা symbiotic interactions হলো দুই বা ততোধিক জীবের মধ্যে সম্পর্ক, যা তাদের উপকার বা ক্ষতি নির্ধারণ করে।
- Neutralism (0,0): উভয় পক্ষের জন্য কোনো প্রভাব নেই। উদাহরণ: দুই ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ যেগুলো একে অপরকে প্রভাবিত করে না।
- Ammensalism (-,0) – এক পক্ষের জন্য ক্ষতি হয়, অন্য পক্ষের জন্য কোনো প্রভাব নেই। উদাহরণ: Penicillium ছত্রাক দ্বারা উৎপন্ন পেনিসিলিন ব্যাকটেরিয়াকে হত্যা করে, কিন্তু ছত্রাকের কোনো ক্ষতি হয় না। এটি নেতিবাচক মিথক্রিয়ার উদাহরণ।
- Commensalism (+,0) – এক পক্ষ উপকার পায়, অন্য পক্ষের জন্য কোনো প্রভাব নেই। উদাহরণ: Orchids গাছের ডালে বসে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
- Protocooperation (+,+): উভয় পক্ষ উপকার পায়, কিন্তু সম্পর্ক বাধ্যতামূলক নয়। উদাহরণ: পোল বীজের উপর মাকড়সা এবং পোকা খাওয়া।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Begon, M., Townsend, C.R., Harper, J.L., Ecology: From Individuals to Ecosystems, 4th Edition

৪২.
হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদকে কি প্রয়োগের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড হোমোজাইগাস উদ্ভিদে পরিণত করা সম্ভব?
  1. কলচিসিন
  2. ইথিলিন
  3. অক্সিন
  4. কুইনাইন
ব্যাখ্যা

- Haploid উদ্ভিদ হলো এমন উদ্ভিদ যার কোষে কেবল একটি ক্রোমোজোম সেট থাকে। এদের ডিপ্লয়েড হোমোজাইগাস উদ্ভিদে পরিণত করা যায় কলচিসিন (Colchicine) ব্যবহার করে।

- এটি মাইক্রোটিউবুলের বিভাজন রোধ করে, ফলে mitosis সম্পূর্ণ হয় না, এবং কোষে ক্রোমোজোম দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ haploid উদ্ভিদ ডিপ্লয়েড (2n) এবং হোমোজাইগাস হয়ে যায়। এই পদ্ধতি বীজবৃদ্ধি ও উদ্ভিদ বংশগতির উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়।

- ইথিলিন, অক্সিন, কুইনাইন – উদ্ভিদ বৃদ্ধিতে বা স্টিমুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়, কিন্তু haploid থেকে diploid উদ্ভিদ তৈরি করতে নয়।
Bhojwani, S.S., & Razdan, M.K., Plant Tissue Culture: Theory and Practice, 2nd Edition

৪৩.
কোনটিকে বাষ্ট ফাইবার বলে?
  1. একবীজপত্রী মূল
  2. পাটের আঁশ
  3. জাইলেম প্যারেনকাইমা
  4. Gnetum এর ভেসেল
ব্যাখ্যা

- Bast fiber (বাস্ট ফাইবার) হলো উদ্ভিদের তন্ত্রের বাহ্যিক অংশের শিরা বা বর্ণালীকৃত তন্তু, যা ফাইব্রিল বা শক্তিশালী সেলুলোজে সমৃদ্ধ। এগুলো সাধারণত phloem বা জৈবিক ঝিল্লির পাশের কোষ থেকে সংগৃহীত হয়।

- পাটের আঁশ (Jute): উদ্ভিদের বাহ্যিক ফাইব্রাম (phloem fiber), যা Bast fiber হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- একবীজপত্রী মূল: প্রধানত storage বা পার্থক্যকোষে সমৃদ্ধ, ফাইবার নয়।

- জাইলেম প্যারেনকাইমা: তন্তু নয়, জল পরিবহন ও পুষ্টি সংরক্ষণে ব্যবহার হয়।

- Gnetum-এর ভেসেল: ভেসেল হলো জাইলেমের conduct­ing element, ফাইবার নয়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Eames, A.J., & MacDaniels, L.H., An Introduction to Plant Anatomy

৪৪.
এক ব্যক্তির ক্রোমোজোম-২১ এর তিনটি কপি থাকলে তার কি রোগ আছে?
  1. Klinefelter Syndrome
  2. Turner Syndrome
  3. Down Syndrome
  4. Patau Syndrome
ব্যাখ্যা

- Down Syndrome হলো একটি ক্রোমোসোমাল অস্বাভাবিকতা, যেখানে ক্রোমোসোম-21-এর তিনটি কপি (Trisomy 21) থাকে।
- Klinefelter Syndrome (XXY): পুরুষদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত X ক্রোমোসোম
- Turner Syndrome (XO): মহিলাদের ক্ষেত্রে একটি X ক্রোমোসোমের অভাব
- Patau Syndrome (Trisomy 13): ক্রোমোসোম 13-এর অতিরিক্ত কপি

Griffiths, A.J.F., Introduction to Genetic Analysis, 11th Edition

৪৫.
'Cereals' কোন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. Fabaceae
  2. Poaceae
  3. Solanaceae
  4. Rosaseae
ব্যাখ্যা

- Cereals (ধান, গম, জোয়ার, ভুট্টা ইত্যাদি) হলো প্রধান খাদ্যশস্য, যা Poaceae (Grass family) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদগুলো প্রধানত খাদ্যশস্য বা খাদ্য যোগানের জন্য চাষ করা হয়।
- Fabaceae: বীনজাতীয় উদ্ভিদ
- Solanaceae: আলু, টমেটো, মরিচের পরিবার
- Rosaceae: গোলাপ, আপেল, স্ট্রবেরি পরিবার

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Eames, A.J., & MacDaniels, L.H., An Introduction to Plant  Anatomy, 5th Edition

৪৬.
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের প্রকৃতিক পরিবেশে পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায়-
  1. Cycas revoluta
  2. Cycas circinalis
  3. Cycas pectinata
  4. Cycas Media
ব্যাখ্যা

- Cycas pectinata হলো Gymnosperm শ্রেণীর উদ্ভিদ, যা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে জন্মায়।

- Cycas revoluta, C. circinalis, C. media – দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে জন্মায়, বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে কম পাওয়া যায়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৭.
ব্যাক্টেরিয়ার ট্রান্সডাকশন পদ্ধতিকে মধ্যস্থা করে?
  1. প্লাজমিড
  2. ব্যাক্টেরিওফাজ
  3. ফ্লাজেলা
  4. ফাইলাস
ব্যাখ্যা

ট্রান্সডাকশন (Transduction) হলো ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে জিন স্থানান্তরের একটি পদ্ধতি, যা ব্যাক্টেরিওফাজের মাধ্যমে মধ্যস্থ হয়। ব্যাক্টেরিওফাজ যখন ব্যাক্টেরিয়াকে সংক্রমণ করে, তখন কখনও কখনও ভাইরাসের DNA-এর সাথে ব্যাক্টেরিয়ার DNA যুক্ত হয়ে যায়। পরে ভাইরাসটি অন্য ব্যাক্টেরিয়ায় প্রবেশ করলে এই DNA নতুন ব্যাক্টেরিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে জিন পরিবর্তন বা বৈচিত্র্য আসে। অন্য পদ্ধতি যেমন conjugation বা transformation-এ জিন স্থানান্তর ঘটে Plasmid বা মুক্ত DNA ব্যবহার করে, কিন্তু ট্রান্সডাকশনে প্রধান মধ্যস্থক Bacteriophage।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Madigan, M.T., Martinko, J.M., Bender, K., Brock Biology of Microorganisms, 15th Edition

৪৮.
কোনটি Monoecious (একবাসি)? 
  1. Ginko
  2. Cycas
  3. Pinus
  4. Gnetum
ব্যাখ্যা

- Ginkgo biloba described as monoecious with male and female reproductive organs on the same plant. P. C. Vashishta, S. Chand Publication – Botany for Degree Students: Gymnosperms
- Mentions that Ginkgo trees may show both male and female organs, representing a primitive monoecious condition. C. J. Chamberlain – Gymnosperms: Structure and Evolution (1935)
- Ginkgo biloba হলো একটি জীবিত জীবাশ্ম (living fossil) এবং জিমনোস্পার্ম (Gymnosperm) বিভাগের সদস্য। যদিও অনেক জিমনোস্পার্ম দ্বিবাসী (dioecious), কিন্তু Ginkgo biloba সাধারণত একবাসি (monoecious) অর্থাৎ একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় প্রজনন অঙ্গ পাওয়া যায়।

এই এক গাছেই উভয় ধরণের প্রজনন অঙ্গ উপস্থিত থাকার কারণে একে monoecious plant বলা হয়।

৪৯.
অ্যালজিনিক এসিড কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Rhodophyceae
  2. Chlocophyceae
  3. Phaeophyceae
  4. Cyanophyceae
ব্যাখ্যা

- Alginic acid (Algin) হলো একটি পলিস্যাকারাইড, যা প্রধানত Phaeophyceae (brown algae) থেকে প্রাপ্ত। এটি কোষ প্রাচীরে থাকে এবং উদ্ভিদকে পানি ধারণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

- বাণিজ্যিকভাবে, এটি গেল, ইমালসিফায়ার এবং ভিজকোসিটি বৃদ্ধি করার জন্য খাদ্য, ঔষধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়। 
উদাহরণ: Laminaria, Macrocystis, Sargassum

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Graham, L.E., Graham, J.M., Wilcox, L.W., Algae, 2nd Edition

৫০.
চক্রীয় ফোরাইলেশনে- 
  1. পানির প্রয়োজন হয়
  2. ফটোসিস্টেম I ও II অংশগ্রহন করে
  3. ইলেকট্রন প্রবাহ একমুখী
  4. অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না
ব্যাখ্যা

চক্রীয় ফটোফসফোরিলেশন (Cyclic Photophosphorylation) হলো ফটোসিন্থেসিসের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে Photosystem I সক্রিয় থাকে এবং ইলেকট্রন চক্রাকারে (cyclic) প্রবাহিত হয়।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- শুধুমাত্র Photosystem I অংশগ্রহণ করে; Photosystem II এতে প্রয়োজন হয় না।
- ইলেকট্রন চক্রাকারে ফিরে আসে, তাই NADPH তৈরি হয় না।
- ATP উৎপাদন হয়, কিন্তু NADPH উৎপাদন হয় না।
- পানি ভাঙা হয় না, তাই অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না।
অতএব, চক্রীয় ফটোফসফোরিলেশনে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি। 
Taiz, L., Zeiger, E., Plant Physiology, 6th Edition

৫১.
সাইকোসের এন্ডোস্পার্ম হলো-
  1. n (হ্যাপলয়েড)
  2. 2n (ডিপ্লয়েড)
  3. 3n (ট্রিপলয়েড)
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা

• Cycas হলো একটি Gymnosperm, এবং এর বীজে এন্ডোস্পার্মের ধরন ভিন্ন।
- Gymnosperms-এর ক্ষেত্রে: ডিম্বক নিষেকের আগে মেগাস্পোরজেনেসিস হয়। একটি হ্যাপ্লয়েড (n) মেগাস্পোর ডিম্বক গঠন করে।
- Cycas-এর ক্ষেত্রে: এন্ডোস্পার্ম (n) মূলত মাতৃকোষ থেকে তৈরি হয়। অর্থাৎ, fertilization- এর আগে হ্যাপ্লয়েড এন্ডোস্পার্ম গঠন হয়, যাকে pre-fertilization haploid endosperm বলা হয়।
- তুলনায় Angiosperm-এর সাথে: Angiosperms-এর এন্ডোস্পার্ম সাধারণত 3n (triploid), কারণ এটি double fertilization থেকে তৈরি হয়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students: Gymnosperms
Sporne, K.R., The Morphology of Gymnosperms

৫২.
কোন উদ্ভিদ জাইলেম ও ফ্লোয়েম উভয়ই দেখা যায় কিন্তু বীজ হয় না? 
  1. ব্রায়োফাইটস
  2. টেরিডোফাইটস
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

Pteridophytes (টেরিডোফাইটস) হলো সঁচল, জায়গা নির্দিষ্ট তৃণজাতীয় উদ্ভিদ, যেমন শুঁটকির মতো পাতা বিশিষ্ট ফার্ন।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- Vascular tissue (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) থাকে, তাই জল এবং খনিজ লবণ পরিবহন সম্ভব।

- বীজ উৎপন্ন হয় না, অর্থাৎ তারা স্পোরের মাধ্যমে প্রজনন করে। উদাহরণ: Pteris, Adiantum, Equisetum

Bryophytes (ব্রায়োফাইটস) – জাইলেম ও ফ্লোয়েম থাকে না, স্পোরের মাধ্যমে প্রজনন করে।

Gymnosperms (জিমনোস্পার্ম) – জাইলেম ও ফ্লোয়েম থাকে এবং বীজ উৎপন্ন হয়, স্পোর নয়।

টেরিডোফাইটস হলো এমন একটি উদ্ভিদগোষ্ঠী যেখানে দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত, এদের জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিদ্যমান থাকে, যা উদ্ভিদকে জল, খনিজ লবণ এবং অন্যান্য পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, এরা ভাস্কুলার (vascular) উদ্ভিদ। দ্বিতীয়ত, টেরিডোফাইটস বীজ উৎপন্ন করে না। এদের প্রজনন সম্পূর্ণরূপে স্পোরের মাধ্যমে হয়। এ কারণে তারা বীজবিহীন ভাস্কুলার উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, Pteris, Adiantum, এবং Equisetum এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

এদের তুলনা অন্য উদ্ভিদগোষ্ঠীর সাথে করলে আরও স্পষ্ট হয়। ব্রায়োফাইটস জাইলেম ও ফ্লোয়েমের অভাবে ভাস্কুলার নয় এবং স্পোরের মাধ্যমে প্রজনন করে। অন্যদিকে, জিমনোস্পার্ম জাইলেম ও ফ্লোয়েম সহ বীজ উৎপন্ন করে, স্পোর নয়। তাই শুধুমাত্র টেরিডোফাইটসই এমন উদ্ভিদ যেখানে ভাস্কুলার টিস্যু থাকে কিন্তু বীজ উৎপন্ন হয় না।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি, অধ্যায়: টেরিডোফাইটস

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students: Pteridophytes, pp. 45–48

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি, অধ্যায়: টেরিডোফাইটস

Vashishta, P.C., Botany for Degree St
udents: Pteridophytes, pp. 45–48

৫৩.
'চালতা' নিচের কোনটি?
  1. রূপান্তরিত বৃতি
  2. রূপান্তরিত পাপড়ি
  3. ফল
  4. রূপান্তরিত পুংকেশর
ব্যাখ্যা

চালতা (Spathe) হলো রূপান্তরিত বৃতি (modified bract)। এটি সাধারণত ফুলের চারপাশে বা ফুলের নীচে থাকে এবং ফুলকে আবৃত করে বা সুরক্ষা প্রদান করে। কিছু উদ্ভিদে, চালতা বড়, রঙিন ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে, যেমন: Colocasia, Alocasia, Anthurium। এদের ফুলের চারপাশে বড় রঙিন চালতা থাকে। চালতা মূলত পাপড়ি নয়; এটি বৃতির পরিবর্তিত রূপ। এটি পরাগনকারীকে আকর্ষণ করার কাজও করে, তবে কাঠামোগতভাবে ফুলের অংশ নয়।

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students: Angiosperms

৫৪.
কোনটি ক্যারিওটাইপ থেকে নির্ণয় করা যায়?
  1. নির্দিষ্ট জিন মিউটেশনের উপস্থিতি
  2. ক্রোমোজোমের সংখ্যার বা গঠনের ব্যাপক পরিবর্তন
  3. একটি জিনের সঠিক নিউক্লিওটাইড সিক্যুয়েন্স একটি
  4. সুনির্দিষ্ট Single gene এর disorder
ব্যাখ্যা

ক্যারিওটাইপ হলো কোনো জীবের ক্রোমোজোমের ছবি, যেখানে ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকার ও গঠন দেখা যায়। এর মাধ্যমে আমরা বড় ধরনের ক্রোমোজোমিক সমস্যা শনাক্ত করতে পারি, যেমন: ক্রোমোজোম বেশি বা কম থাকা (উদাঃ Down Syndrome-trisomy 21), ক্রোমোজোমের আকার পরিবর্তন বা স্থান পরিবর্তন (উদাঃ translocation বা deletion) কিন্তু ছোট জিনের পরিবর্তন বা single gene disorder ক্যারিওটাইপে দেখা যায় না। এগুলো শনাক্ত করতে DNA পরীক্ষা বা molecular technique ব্যবহার করতে হয়।

Gardner, R.J.M., Human Cytogenetics
Gardner, R.J.M., Human Cytogenetics: Karyotyping and Chromosomal Analysis, 3rd Edition

৫৫.
প্রথম বংশধর F1 এর হেটারোজাইগাস ও তার মাতা পিতার এক সদস্যের সাথে ক্রস করানোকে বলে-
  1. টেস্ট ক্রস
  2. ব্যাক ক্রস
  3. মনেনাহাইব্রিড ক্রস
  4. ডাইহাইব্রিড ক্রস
ব্যাখ্যা

যখন F1 প্রজন্ম (যা সাধারণত হেটারোজাইগাস, যেমন Tt) কে তার পিতা বা মাতার যেকোনো একজনের সাথে (TT বা tt) ক্রস করানো হয়, তখন তাকে ব্যাক ক্রস বলা হয়।
Vashishta, P.C., Botany for Degree Students: Genetics

৫৬.
ব্যাক্টেরিয়ার গঠনে মাইটোকন্ড্রিয়ার মত কাজ করে কোনটি?
  1. সাইটোপ্রাজম
  2. কোষ প্রাচীর
  3. প্রাজমামেমব্রেন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না। কিন্তু ATP উৎপাদনের কাজ তারা প্রাজমা-মেমব্রেনের ভাঁজ বা ইনফোল্ডিং-এর মাধ্যমে করে। এই ভাঁজগুলোতে ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন ও প্রোটন গ্রেডিয়েন্ট গঠিত হয়, যা মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো এনার্জি উৎপাদনে সহায়ক। ফলে ব্যাকটেরিয়ার কোষও অক্সিডেটিভ ফসফরাইলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। এই প্রক্রিয়া বিশেষভাবে দেখা যায় যেমন Pseudomonas, Bacillus এবং অন্যান্য অ্যাক্টিনোব্যাকটেরিয়ায়। অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজম বা কোষ প্রাচীর ATP উৎপাদনের সরাসরি কাজ করে না।
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Madigan, M.T., Martinko, J.M., Brock Biology of Microorganisms, 15th Edition

৫৭.
ছত্রাকের সম্পূর্ণ দেহ প্রজাননে অংশ নিলে তাকে বলে? 
  1. হলোকার্পিক (Holocarpic)
  2. ইউকার্পিক (Eucarpic)
  3. হেটেরোকার্পিক (Heterocarpic)
  4. অর্থোকার্পিক (Arthocarpic)
ব্যাখ্যা

- Holocarpic ছত্রাক হলো সেই ছত্রাক যার সম্পূর্ণ দেহই প্রজননে ব্যবহার হয়। অর্থাৎ পুরো কোষ বা থ্যালাস স্পোর উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। উদাহরণ: Chytrids পরিবারের কিছু ছত্রাক। এর বিপরীতে Eucarpic ছত্রাক শুধু দেহের একটি অংশই স্পোর তৈরি করে, পুরো দেহ প্রজননে অংশ নেয় না।
- Heterocarpic: ভিন্ন ধরনের স্পোর তৈরি করে।
- Arthocarpic: অংশে ভাগ হয়ে স্পোর উৎপাদন করে।
Alexopoulos, C.J., Introductory Mycology, 4th Edition

৫৮.
এক অনু নাইট্রোজেন-কে আবদ্ধ করতে কয় অনু ATP প্রয়োজন?
  1. ১২
  2. ২০

  3. ১৬
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায়, নাইট্রোজেনেজ এনজাইম N₂ থেকে 2 NH₃ তে রূপান্তরিত করে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রচুর শক্তি লাগে কারণ N₂-এর ট্রিপল বন্ড (N≡N) অত্যন্ত শক্ত। প্রতিটি N₂ অনু আবদ্ধ করতে প্রায় 16 ATP খরচ হয়। ATP শক্তি সরবরাহ করে নাইট্রোজেনেজকে N₂ ভেঙে H₂ এবং NH₃ উৎপাদনে সক্ষম করে। উদাহরণ: Rhizobium, Azotobacter প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ায়।

Raven, P.H., Evert, R.F., & Eichhorn, S.E., Biology of Plants, 8th Edition

৫৯.
কোন প্রক্রিয়ায় RNA হতে DNA তৈরী হয়? 
  1. ট্রান্সলেশন
  2. রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ
  3. রেপ্লিকেশন
  4. ট্রান্সক্রিপশন
ব্যাখ্যা

- Reverse transcriptase হলো একটি এনজাইম যা RNA-কে টেমপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করে DNA তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া প্রধানত ঘটে Retrovirus-এ, যেমন HIV।
-Transcription: DNA থেকে RNA তৈরি হয়
- Translation: RNA থেকে প্রোটিন তৈরি হয়
- Replication: DNA নিজে থেকে DNA তৈরি করে। 
- কিন্তু Reverse transcription হল বিপরীত প্রক্রিয়া, যেখানে RNA থেকে DNA তৈরি হয়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

৬০.
Micropropagation এর সবেচেয়ে বড় সুবিধা হল-
  1. Genetic variability
  2. Pathogen free clones
  3. Low multiplication rate
  4. Seasonal dependence
ব্যাখ্যা

- Micropropagation বা in vitro প্রজনন হলো একটি টিস্যু কালচার পদ্ধতি, যা উদ্ভিদ থেকে দ্রুত, নিয়ন্ত্রিতভাবে অনেক ক্লোন তৈরি করতে সাহায্য করে।
- এর প্রধান সুবিধা হলো: 
• এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ প্যাথোজেন-ফ্রি (রোগমুক্ত) অবস্থায় উৎপন্ন হয়।
• উদ্ভিদগুলো জেনেটিকালি অভিন্ন (clones) হয়, তাই উৎপাদন একরূপ থাকে।
- Micropropagation-এর প্রধান সুবিধা হলো রোগমুক্ত ক্লোন তৈরি করা, যা বাণিজ্যিক উদ্ভিদ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Bhojwani, S.S. & Razdan, M.K., Plant Tissue Culture: Theory and Practice, 2nd Edition

৬১.
কোনটিতে protoplat fusion সহযোগীতা করে?
  1. Somatic Hybridization
  2. Sex determination
  3. Meiosis
  4. Crossing over
ব্যাখ্যা

- Somatic hybridization হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুই ভিন্ন উদ্ভিদের সেল থেকে প্রোটোপ্লাস্ট তৈরি করে তাদের সংযুক্ত করা হয়।
- Protoplast fusion মূল উপায় হিসেবে কাজ করে, যাতে দুই ভিন্ন উদ্ভিদের সোমাটিক (শরীরিক) কোষের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে নতুন হাইব্রিড কোষ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেনেটিকালি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করা যায়, যা রূপান্তরিত বৈশিষ্ট্য বহন করে।Bhojwani, S.S. & Razdan, M.K., Plant Tissue Culture: Theory and Practice, 2nd Edition

৬২.
কোনটি অসম্পূর্ণ প্রকটতার অনুপাত?
  1. ৩:১
  2. ২:১
  3. ১:২:১
  4. ১:১:২
ব্যাখ্যা

অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) হলো এমন জিনেটিক অবস্থা যেখানে ডোমিন্যান্ট এলিল পুরোপুরি প্রাধান্য দেখায় না, ফলে হেটেরোজাইগাসের ফেনোটাইপ মধ্যবর্তী রঙ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। উদাহরণ: Mirabilis jalapa (ধুতুরা) ফুল।

লাল (RR) × সাদা (rr) → F1 = সব গোলাপি (Rr)

F1 × F1 ক্রস → F2 প্রজন্মের রঙের অনুপাত = 1 লাল : 2 গোলাপি : 1 সাদা (1:2:1)
Vashishta, P.C., Botany for Degree Students: Genetics

৬৩.
সাকারের মাধ্যমে কোন উদ্ভিদ জন্মায়?
  1. আদা
  2. কলা
  3. হলুদ 
  4. পেঁয়াজ
ব্যাখ্যা

কলা একটি বীজহীন উদ্ভিদ (parthenocarpic) অর্থাৎ সাধারণভাবে বীজ দিয়ে প্রজনন হয় না। তাই কলার নতুন উদ্ভিদ উৎপাদনের প্রধান উপায় হলো সাকারের মাধ্যমে ক্লোন তৈরি।

সাকার (Sucker বা Offshoot) হলো মূল গাছের থেকে উদ্ভূত ছোট নতুন গাছ। মূল কলার মূলবৃন্তের পাশ থেকে সাকার বৃদ্ধি পায়। এই সাকারগুলো আলাদা করে মাটিতে রোপণ করলে নতুন গাছ জন্মায়। যেহেতু সাকার মূল উদ্ভিদ থেকেই উদ্ভূত, তাই নতুন গাছটি জেনেটিকভাবে অভিন্ন (clonal) হয়।

এই পদ্ধতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- দ্রুত উৎপাদন: একবার বড় কলার গাছ থাকলেই অনেক নতুন গাছ তৈরি করা যায়।
- বীজহীন প্রজাতি: যেহেতু কলা বীজহীন, তাই এটি সাকারের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ছাড়া অন্যভাবে সম্ভব নয়।
- জেনেটিক অভিন্নতা: সব নতুন গাছ মূল গাছের মতো একই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

- আদা ও হলুদ: মূলত রাইজোমের মাধ্যমে প্রজনন হয়।
- পেঁয়াজ: পেঁয়াজ গঠন বা বাল্ব থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Bhojwani, S.S. & Razdan, Plant Tissue Culture: Theory and Practice, 2nd Edition

৬৪.
কোনটি পরজীবি শৈবাল?
  1. Cephaleuros
  2. Nostoc
  3. Anabaexa
  4. Chlamydomonas
ব্যাখ্যা

- Cephaleuros হলো একটি পরজীবী (Parasitic) শৈবাল, যা উদ্ভিদ পাতা ও ডালের উপর বাস করে এবং তাদের থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। এটি রেড অ্যালজ (Rhodophyta) পরিবারের একটি উদ্ভিদ।
- Nostoc: সায়ানোব্যাকটেরিয়া, মাটিতে বা পানিতে মুক্তভাবে বাস করে, পরজীবী নয়।
- Anabaena: সায়ানোব্যাকটেরিয়া, মুক্তভাবে বা লেগুমের রাইজোবিয়ামের সাথে সিমবায়োটিক সম্পর্ক রাখে।
- Chlamydomonas: এককোষী সবুজ শৈবাল, পরজীবী নয়।
Lee, R.E., Phycology, 4th Edition
Graham, L.E., et al., Algae, 2nd Edition

৬৫.
একখন্ড দ্বি-সূত্রক DNA তে ৩০% A আছে, G এর % কত হবে?
  1. ৭০%
  2. ২০%
  3. ৪০%
  4.  ৩০%
ব্যাখ্যা

- ডবল-হেলিক্স DNA-এর নিয়ম (Chargaff’s Rule) অনুযায়ী: A = T এবং G = C
- সমস্ত নিউক্লিওটাইডের যোগফল = 100%
• ধরা যাক A = 30% তাহলে T = 30% (কারণ A = T), মোট A + T = 30% + 30% = 60% বাকি 40% = G + C, যেহেতু G = C সুতরাং G = 40 ÷ 2 = 20%

Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition
Campbell, N.A. & Reece, J.B., Biology, 10th Edition

৬৬.
কোন ছত্রাকটি ডাইমরফিক (dimorphic)?
  1. Puccinia
  2. Fusarium
  3. Saprolegnia
  4. Aspergillus
ব্যাখ্যা

ডাইমরফিক ছত্রাক হলো এমন ছত্রাক যা দুটি ভিন্ন আকারে বৃদ্ধি পায়, পরিবেশ বা তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে:
১. থলরূপ (Yeast form): উষ্ণ পরিবেশ বা মানব/প্রাণীর শরীরে বৃদ্ধি পায়।
২. ফিলামেন্টাস/মাইসেলিয়াম রূপ (Mycelial form): শীতল বা সাধারণ পরিবেশে বৃদ্ধি পায়।

Fusarium এর কিছু প্রজাতি এই ধরনের ডাইমরফিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যেখানে তারা শীতল তাপমাত্রায় filamentous (hyphal) রূপে এবং উষ্ণ তাপমাত্রায় yeast-like রূপে বৃদ্ধি পায়।

Puccinia, Saprolegnia, Aspergillus শুধু filamentous রূপে বৃদ্ধি পায় এবং ডাইমরফিক নয়।
Alexopoulos, C.J., Introductory Mycology, 4th Edition, 1996

৬৭.
(এপিক্যাল ডমিনেন্স) শীর্ষ প্রকটতা মূলত কোন্ হরমন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. অক্সিন
  2. সাইটোকাইনিন
  3. জিবেরেলিন
  4. অ্যাবসিসিক এসিড
ব্যাখ্যা

শীর্ষ প্রকটতা বা Apical Dominance হলো একটি উদ্ভিদের শীর্ষ অংশ (shoot tip) বৃদ্ধির কারণে পার্শ্বপ্রান্তিক কুঁড়িগুলো (lateral buds) ধীরগতিতে বা বন্ধ অবস্থায় থাকা। এই প্রক্রিয়াটি মূলত অক্সিন হরমনের নিয়ন্ত্রণে ঘটে। শীর্ষ কুঁড়ি থেকে সৃষ্ট অক্সিন লিভ বা স্টেমের মধ্য দিয়ে নীচের পার্শ্ব কুঁড়িগুলোতে প্রবাহিত হয় এবং তাদের বিকাশকে দমন করে।

সাইটোকাইনিন: পার্শ্ব কুঁড়ির বৃদ্ধি উৎসাহিত করে।

জিবেরেলিন: লম্বা বৃদ্ধি (stem elongation) বৃদ্ধি করে।

অ্যাবসিসিক এসিড: শীর্ষ কুঁড়ি ও পার্শ্ব কুঁড়ি উভয়কে dormancy তে রাখতে সাহায্য করে।

অতএব, শীর্ষ প্রকটতার মূল নিয়ন্ত্রণকারী হরমন হলো অক্সিন।

Taiz, L., Zeiger, E., Plant Physiology, 6th Edition
Salisbury, F.B., Ross, C.W., Plant Physiology, 5th Edition

৬৮.
কোনটি মুক্তভাবে বসবাসরত নাইট্রোজেন সংবন্দনকারী অবায়বীয় ব্যাক্টেরিয়া?
  1. Rhodospirillum
  2. Azotobacter
  3. Anobaena
  4. Desulfovibrio
ব্যাখ্যা

মুক্তভাবে বাস করা নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী ব্যাক্টেরিয়া হলো এমন ব্যাক্টেরিয়া যা উদ্ভিদ বা অন্যান্য হোস্টের সঙ্গে সিম্বায়োসিস ছাড়া মাটিতে বা জলজ পরিবেশে নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂) স্থিতিশীল করতে পারে।

Rhodospirillum হলো অ্যাক্রোবিক বা অ্যানঅ্যারোবিক অবস্থায় মুক্তভাবে বাস করা ফটোব্যাক্টেরিয়া, যা নাইট্রোজেন স্থিতিশীল করতে সক্ষম। এটি বিশেষত জলজ পরিবেশে দেখা যায়।

Azotobacter: মাটিতে স্বাধীনভাবে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করতে পারে এবং অ-সিম্বায়োটিক। তবে এটি strictly অবায়বীয় নয়, অনেক সময় অর্ধ-অ্যানঅ্যারোবিক অবস্থায় কাজ করে।

Anabaena: সিম্বায়োটিক সায়ানোব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদের সাথে সম্পর্কিত।

Desulfovibrio: সালফার রিডাকশনের জন্য পরিচিত, নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী নয়।

সুতরাং, মুক্তভাবে বাস করা অবায়বীয় নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী ব্যাক্টেরিয়া Rhodospirillum।

Prescott, L.M., Harley, J.P., Klein, D.A., Microbiology, 9th Edition

Tortora, Funke, Case, Microbiology: An Introduction, 12th Edition

Madigan, M.T., Martinko, J.M., Brock Biology of Microorganisms, 15th Edition

৬৯.
পরাগধানী সর্বমুখ বা ভার্সেটাইল কোন পরিবারের সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য?
  1. Cyperaceae
  2. Poaceae
  3. Liliaceae
  4. Orclidaceae
ব্যাখ্যা

Poaceae (ঘাস) পরিবারের উদ্ভিদে পরাগধানী সাধারণত versatile বা সর্বমুখীভাবে স্থাপন থাকে, অর্থাৎ পরাগধানীটি ফ্লেক্সিবল এবং বিভিন্ন দিকে ঘুরতে সক্ষম। এটি প্রধানত বায়ুপ্রীত পরাগায়ন (anemophilous pollination) সুবিধার জন্য প্রয়োজন। Versatile পরাগধানী হাওয়ার প্রভাবে সহজে দানাদানী গ্রহণ এবং পরাগায়নে সহায়ক।

Cyperaceae: পরাগধানী সাধারণত স্থির বা axis-এ সংযুক্ত।

Liliaceae: পরাগধানী স্থির ও তিনভাগবিশিষ্ট।

Orchidaceae: পরাগধানী বিশেষভাবে মিলিত থাকে, versatile নয়।

সুতরাং, সর্বমুখ বা versatile পরাগধানী Poaceae পরিবারের সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students
Sharma, P.D., Plant Taxonomy, 3rd Edition

৭০.
কোন চক্রের কোন দশায় DNA সংশ্লেষণ ঘটে?
  1. G1- দশায়
  2. G2- দশায়
  3. S-দশায়
  4. M-দশায়
ব্যাখ্যা

কোষচক্র (Cell cycle) হলো কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি মূলত চারটি ধাপে বিভক্ত: G1, S, G2, M।
G1-phase: কোষের বৃদ্ধি ও প্রোটিন উৎপাদন হয়।
S-phase (Synthesis phase): এই পর্যায়ে DNA-র পূর্ণাঙ্গ রেপ্লিকেশন/সংশ্লেষণ ঘটে। ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোমের দ্বিগুণ কপি তৈরি হয়।
G2-phase: DNA সংশ্লেষণের পর কোষ বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয়, প্রোটিন ও অর্গ্যানেল বৃদ্ধি পায়।
M-phase (Mitosis): কোষ বিভাজন ঘটে এবং ক্রোমোজোম বিভক্ত হয়।
তাই, DNA সংশ্লেষণ S-দশায় ঘটে।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition
Lodish, H. et al., Molecular Cell Biology, 8th Edition

৭১.
ফাইটোপ্লাংটন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
  1. পানি বাহিত রোগে সৃষ্টি করে
  2.  পচনশীল
  3. নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে
  4. অক্সিজেন উৎপন্ন করে
ব্যাখ্যা

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন হলো জলজ পরিবেশে ভেসে থাকা সবুজ শৈবাল বা মাইক্রোঅর্গানিজম, যা ফটোসিন্থেসিস করে। তারা সূর্যের আলো ব্যবহার করে CO₂ ও জল থেকে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং প্রাথমিক উৎপাদক হিসেবে খাদ্য শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ছাড়া জলজ বাস্তুতন্ত্রের প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারবে না, কারণ এরা অক্সিজেন সরবরাহ ও জৈবপদার্থের উৎস হিসেবে কাজ করে। যদিও কিছু ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নাইট্রোজেন স্থিতিশীল করতে পারে (যেমন: সায়ানোব্যাকটেরিয়া), প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো অক্সিজেন উৎপাদন।
Odum, E.P., Fundamentals of Ecology, 5th Edition
Begon, M., Townsend, C.R., Harper, J.L., Ecology: From Individuals to Ecosystems
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৭২.
উদ্ভিদ দেহে বিদ্যমান কোন স্টেরমেডটি হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. আর্গস্টেরল
  2. স্টিগমাস্টেরল
  3. ডিজিটালিন
  4. ক্লোরেষ্টরল
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের স্টেরয়েড বা স্টেরমেড যৌগ বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে Digitalin হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড, যা হৃদরোগের চিকিৎসায় (Cardiac treatment) ব্যবহৃত হয়।

Digitalin মূলত Digitalis species (যেমন: Digitalis lanata, Digitalis purpurea) থেকে উদ্ভিদ দেহে পাওয়া যায়।

এটি হৃদপিণ্ডের সংকোচন শক্তি বাড়ায় এবং ধীর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

Argesterol: উদ্ভিদের ঝিল্লী ও কলেস্টেরল সংশ্লেষে ভূমিকা।

Stigmasterol: উদ্ভিদকোষের ঝিল্লীতে পাওয়া যায়, মেডিসিনাল কাজে খুব সীমিত।

Cholesterol: প্রধানত প্রাণীকোষে থাকে।

তাই, হৃদরোগে ব্যবহৃত উদ্ভিদ স্টেরমেড = Digitalin।

Pandey, S.N., Plant Products in Medicine

Trease, G.E., Evans, W.C., Pharmacognosy, 15th Edition

৭৩.
টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে-
  1. ss DNA
  2. ds DNA
  3. ss RNA
  4. ds RNA
ব্যাখ্যা

• টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস (Tobacco Mosaic Virus – TMV) হলো একটি অত্যন্ত সুপরিচিত উদ্ভিদ ভাইরাস।
• এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
- জেনোম একক-সুত্রবিশিষ্ট RNA (ss RNA) দ্বারা গঠিত।
- প্রোটিন ক্যাপসিড দ্বারা আবৃত। DNA নেই।
- উদ্ভিদে সংক্রমণ ঘটায় এবং পাতায় মোজাইক (বিভিন্ন রঙের দাগ) সৃষ্টি করে।
- TMV হলো নির্দিষ্ট উদ্ভিদ সংক্রমণকারী ভাইরাস, বিশেষ করে তামাক এবং অন্যান্য Solanaceae উদ্ভিদে।

Agrios, G.N., Plant Pathology, 5th Edition
Dubey, R.C., A Textbook of Microbiology

৭৪.
Nucleosowe এর কেন্দ্র কোন হিষ্টোন প্রেটিন থাকে?
  1. H1, H2A, H2B, H3
  2.  H2A, H2B, H3, H4
  3. H1, H3, H4, H2B
  4. H1, H2A, H3, H4
ব্যাখ্যা

নিউক্লিওসোম (Nucleosome) হলো ইউকারিওটিক ক্রোমাটিনের মূল একক। এটি DNA কে সংক্ষেপে প্যাক করার জন্য দায়ী। নিউক্লিওসোমের কেন্দ্র হিস্টোন অক্টামার (histone octamer), যা H2A, H2B, H3, H4 প্রোটিন চার জোড়া নিয়ে গঠিত।

DNA প্রায় 147 base pair দীর্ঘ একটি অংশ এই অক্টামের চারপাশে সেলাই হয়।

H1 হিষ্টোন সাধারণত linker DNA-কে সংযুক্ত রাখতে এবং ক্রোমাটিনকে উচ্চতর গঠন (30 nm fiber) আকারে প্যাক করতে সাহায্য করে। তবে এটি অক্টামের অংশ নয়।

Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

Lodish, H. et al., Molecular Cell Biology, 8th Edition

৭৫.
কোন উপাদানটিকে উদ্ভিদের জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়? 
  1. ম্যালনেসিয়াম
  2. সালফার
  3. বোরন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের জন্য পুষ্টি উপাদানগুলো দুই প্রকার: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট: যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম – বড় পরিমাণে প্রয়োজন।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুব ছোট পরিমাণে প্রয়োজন, যেমন বোরন, ম্যানগানিজ, জিঙ্ক, কপার।

বোরন (Boron): কোষপ্রাচীরের গঠন ও স্থিতিশীলতায় সহায়ক। পলিস্যাকারাইডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে উদ্ভিদ কোষকে মজবুত করে। ফুল, বীজ ও ফলের সঠিক বিকাশে অপরিহার্য।

ম্যাঙ্গানিজ – মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট

সালফার – ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট

হাইড্রোজেন – পানির H₂ অংশ হিসেবে থাকে, পুষ্টি নয়।

Taiz, L., Zeiger, E., Plant Physiology, 6th Edition
Pandey, S.N., Plant Nutrition
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৬.
Bt-collon কি উৎপাদন করে কীট কে প্রতিহত করে? 
  1. Herbicide
  2. Crytoxin
  3. Chinitase
  4. Sinencing RNA
ব্যাখ্যা

- Bt-cotton হলো Bacillus thuringiensis (Bt) জিন অন্তর্ভুক্ত করা কটন, যা উদ্ভিদকে কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- Bt জিন Cry টক্সিন উৎপন্ন করে, যা প্রাপ্তবয়স্ক কীট বা লার্ভার খাদ্য গ্রহণ করলে তাদের পাচনতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং মৃত্যুর কারণ হয়। এটি পদার্থবিজ্ঞানের দিক থেকে প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল কীটনাশক, তাই পরিবেশের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
- Cry টক্সিন মূলত লেপিডোপ্টেরা (মথ ও বাটারফ্লাই লার্ভা) এবং কিছু অন্যান্য কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে কার্যকর।

Herbicide → আগাছা নাশক

Chitinase → ছত্রাক বা কোষ প্রাচীর ভাঙতে সক্ষম এনজাইম

Silencing RNA → জিন নিঃসক্রিয় করতে ব্যবহৃত, কীটনাশক নয়

Taiz, L., Zeiger, E., Plant Physiology, 6th Edition

Agrios, G.N., Plant Pathology, 5th Edition

৭৭.
Nilvogenase enzyme complex-এর active site- এ কোন মৌলটি মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. সালফার
  2. কপার
  3. মলিবডেনাম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজিনেজ (Nitrogenase) এনজাইম কমপ্লেক্স হলো নাইট্রোজেন স্থিতিশীলকরণ (Nitrogen fixation) প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুক্ত বাতাসের নাইট্রোজেন (N₂) কে অ্যামোনিয়া তে (NH₃) রূপান্তর করে।

Nitrogenase-এর active site-এ মলিবডেনাম (Mo) মৌলটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।

Mo এর উপস্থিতিতে N₂ আবদ্ধ হয়ে পুনঃসংহত হয়, এবং ATP ব্যবহার করে হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয়।

কমপ্লেক্সের অন্যান্য অংশ যেমন Fe প্রোটিনও ইলেকট্রন স্থানান্তরে সহায়ক।

Buchanan, B.B., Gruissem, W., Jones, R.L., Biochemistry & Molecular Biology of Plants, 2nd Edition

Voet, D., Voet, J.G., Biochemistry, 4th Edition

৭৮.
একটি ক্রোমোসোমের যে অঞ্চলে দুইটি সিষ্টার ক্রোমাটিড একসাথে থাকে তাকে কি বলে?
  1. ক্রোমাটিড জংশন 
  2. ক্রোমাটিন
  3. সেন্ট্রোসিয়ার
  4. টেনোমিয়ার
ব্যাখ্যা

একটি ক্রোমোজোমের কেন্দ্রীয় অঞ্চল যেখানে দুইটি সিস্টার ক্রোমাটিড সংযুক্ত থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলা হয়।

সেন্ট্রোমিয়ার হলো ক্রোমোজোমের সংযুক্তি বিন্দু, যা মাইটোসিস বা মিওসিস চলাকালীন স্পিন্ডল ফাইবারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ক্রোমাটিড বিভাজনে সাহায্য করে।

এই অঞ্চলে প্রোটিন এবং ডিএনএ মিলিয়ে একটি জটিল কাঠামো তৈরি হয়, যা ক্রোমাটিডকে ঠিকঠাক বিভাজন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ক্রোমাটিন: DNA ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ, ক্রোমোজোমের গঠনকে সহজলভ্য রাখে।

টেলোমিয়ার: ক্রোমোজোমের শেষ অংশ, সুরক্ষা দেয়।

ক্রোমাটিড জংশন: সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যবর্তী অংশ, কিন্তু সেন্ট্রোমিয়ার নামকরণ হয় না।

Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

Lodish, H. et al., Molecular Cell Biology, 8th Edition

৭৯.
Agrobacterium এর Ti plasmid কি জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1.  ব্যাক্টেরিয়াকে মারা জন্য
  2. উদ্ভিদে T-DNA transfer করার জন্য
  3. Antibiotic তৈরীর জন্য
  4. নাইট্রোজেন সংবন্ধন করার জন্য
ব্যাখ্যা

Agrobacterium tumefaciens হলো একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়া যা উদ্ভিদকে সংক্রমণ করতে সক্ষম। এই ব্যাক্টেরিয়ার Ti (Tumor-inducing) প্লাজমিড উদ্ভিদের T-DNA স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়।

T-DNA হলো প্লাজমিডের একটি নির্দিষ্ট অংশ যা উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে এবং গ্যাল্ল (tumor-like growth) বা টিউমার সৃষ্টি করে।

বায়োটেকনোলজিতে Ti প্লাজমিডকে জিন স্থানান্তরের ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়, উদাহরণস্বরূপ উদ্ভিদের জিনেটিক মডিফিকেশন বা ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরিতে।

Ti প্লাজমিড সরাসরি উদ্ভিদকে মারা দেয় না এবং নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে না।

Taiz, L., Zeiger, E., Plant Physiology, 6th Edition
Agrios, G.N., Plant Pathology, 5th Edition

৮০.
পার্পল ব্যাক্টেরিয়ার(Purple bacteria) সালোক সংশ্লেষণ হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. অক্সিজেনিক
  2. অ্যানোক্সিজেনিক
  3. উভয়ই
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা

পার্পল ব্যাক্টেরিয়া (Purple bacteria) হলো একধরনের ফটোসিন্থেটিক ব্যাক্টেরিয়া, যা অক্সিজেন উৎপন্ন না করে (O₂-free) আলো ব্যবহার করে শক্তি উৎপন্ন করে। এই ব্যাক্টেরিয়ার চলিত ফটোসিন্থেসিসে জল (H₂O) ব্যবহার হয় না, তাই তারা অক্সিজেন উত্পাদন করে না। ইলেকট্রন উৎস হিসেবে সাধারণত H₂S বা অন্যান্য রিডাক্ট্যান্ট ব্যবহার করা হয়।তাই তাদের photosynthesis পদ্ধতিকে Anoxygenic photosynthesis বলা হয়। বিপরীতে উদ্ভিদ ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার ফটোসিন্থেসিস হলো Oxygenic, কারণ জল ভাঙার মাধ্যমে O₂ উৎপন্ন হয়।

Madigan, M.T., Martinko, J.M., Brock Biology of Microorganisms, 15th Edition
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

৮১.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডেল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোসোমের বিন্যস্ত হওয়াকে কি বলে?
  1. মেটাকাইনেসিস
  2. ডায়াকাইনেসিস
  3. সাইটোকাইনেসিস
  4. ক্যারিওকাইনেসিস
ব্যাখ্যা

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোসোমগুলো বিভিন্ন ধাপে বিন্যস্ত হয়। মেটাকাইনেসিস হলো সেই পর্যায় যেখানে সকল ক্রোমোসোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় (equatorial) রেখায় সাজানো থাকে। এই অবস্থায় প্রতিটি সিস্টার ক্রোমাটিড স্পিন্ডল ফাইবারের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা নিশ্চিত করে যে বিভাজনের সময় ক্রোমাটিডগুলো সমানভাবে দুটি কন্যা কোষে বিতরণ হবে।মেটাকাইনেসিসের আগে প্রোফেজ ধাপে ক্রোমোসোম ঘন হয় ও স্পিন্ডল তৈরি হয়। মেটাকাইনেসিসের পর অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে কোষের বিপরীত প্রান্তে চলে যায়। সাইটোকাইনেসিস হলো কোষের সাইটোপ্লাজম বিভাজনের ধাপ।ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

৮২.
কেমোট্যাক্সোনমিতে কোন অণুর উপস্থিতি গ্রাম পজিটিভ ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়?
  1. Lipopolyraccharides
  2. Teichoic acid
  3. Flagelliu
  4. Peptidoglycan
ব্যাখ্যা

- কেমোট্যাক্সোনমি হলো ব্যাক্টেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাসের একটি পদ্ধতি যা কোষের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে। বিশেষভাবে, গ্রাম পজিটিভ ব্যাক্টেরিয়ার কোষ প্রাচীরের মূল উপাদানগুলো কেমোট্যাক্সোনমিক পরীক্ষা দ্বারা সনাক্ত করা যায়।

- Teichoic acid হলো গ্রাম পজিটিভ ব্যাক্টেরিয়ার কোষ প্রাচীরে উপস্থিত পলিমার, যা তাদের অন্য গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়া থেকে আলাদা করে।

- গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়ার কোষ প্রাচীরে Lipopolysaccharides (LPS) থাকে, কিন্তু গ্রাম পজিটিভ ব্যাক্টেরিয়ায় LPS নেই।

- Peptidoglycan উভয় গ্রাম পজিটিভ ও নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়ায় থাকে, কিন্তু মাত্রা ও সমন্বয় ভিন্ন।

Prescott, L.M., Harley, J.P., & Klein, D.A., Microbiology, 9th Edition

Tortora, Funke, Case, Microbiology: An Introduction, 12th Edition

৮৩.
নিষেকের পর ডিম্বক কিসে পরিণত হয়?
  1. ভ্রুন
  2. ফল
  3. বীজ
  4. টেষ্টা
ব্যাখ্যা

ডিম্বক হলো উদ্ভিদের বীজ গঠনের মূল অংশ, যার মধ্যে থাকে ডিম্বাণু (egg cell)। যখন উদ্ভিদে নিষেক ঘটে, তখন পুরুষকোষের স্পার্ম ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (zygote) তৈরি করে। এই জাইগোট ধীরে ধীরে বিভাজিত হয়ে ভ্রুন (embryo) গঠন করে, যা ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হবে। নিষেকের পর ডিম্বকটির অন্যান্য অংশ যেমন এন্ডোস্পার্ম এবং বীজ আবরণ (testa) গঠন করে। ফলে ডিম্বক সম্পূর্ণভাবে বীজে (seed) পরিণত হয়। বীজের ভিতরে ভ্রুণ থাকে এবং বীজের চারপাশের ডিম্বাশয় (ovary) বৃদ্ধি পেয়ে ফল (fruit) তৈরি করে।

অর্থাৎ, নিষেকের পর ডিম্বক বীজে পরিণত হয়, ভ্রুণ বীজের ভিতরে অবস্থান করে, এবং ডিম্বাশয় ফলের কাজ করে।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Raven, P.H., Evert, R.F., Eichhorn, S.E., Biology of Plants, 8th Edition

৮৪.
ছত্রাক দ্বারা উৎপর স্কেলেরোসিয়াম (Sclerotium) কি?
  1. একটি ভূ-গর্ভস্থ গঠন
  2. একটি শক্ত বিশ্রামরত দেহ
  3. প্রধান খাদ্য সংরক্ষণকারী অঙ্গ
  4. সহজেই বাতাস দ্বারা বাহিত অঙ্গ
ব্যাখ্যা

স্ক্লেরোটিয়াম (Sclerotium) হলো ছত্রাকের এমন একটি বিশেষ কাঠামো যা কঠিন ও শক্ত, পরিবেশের প্রতিকূলতা (যেমন শুষ্কতা বা তাপ) সহ্য করতে সক্ষম। এটি মূলত ছত্রাকের বিশ্রামরত দেহ (resting body) হিসেবে কাজ করে এবং খাদ্য সংরক্ষণও করতে পারে। অনুকূল পরিবেশে স্ক্লেরোটিয়াম থেকে নতুন থ্যালি (mycelium) জন্মাতে পারে। উদাহরণ: 
Sclerotinia sclerotiorum 
Claviceps purpurea

Alexopoulos, C.J., Mims, C.W., & Blackwell, M., Introductory Mycology, 4th Edition

Webster, J., Introduction to Fungi, 3rd Edition

৮৫.
ইষ্ট এর অবাত শ্বসনে কি উৎপাদন হয়?
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. অ্যালকোহল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. এ্যাসিটাইল COA
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

ইস্ট (Saccharomyces) হলো একধরনের খামির শৈবাল, যা অ্যানারোবিক শ্বসন (Anaerobic respiration / Fermentation) প্রক্রিয়ায় শর্করা (glucose) ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করে। নিষ্কাশিত শক্তির অংশ ATP আকারে ইস্টের জীবিক্রিয়ায় ব্যবহার হয়। এ সময় গ্লুকোজের রাসায়নিক ভেঙে পাইরুভেট তৈরি হয় এবং পাইরুভেট থেকে ইথানল (C₂H₅OH) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়।

CO₂: রুটি ফোলাতে সাহায্য করে।

ইথানল: অ্যালকোহলিক পানীয় উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

অর্থাৎ, নিষ্ক্রিয়ভাবে শর্করা ভেঙে ইস্ট শুধু অ্যালকোহল এবং CO₂ উৎপন্ন করে, ল্যাকটিক অ্যাসিড বা অন্য কোনো প্রোডাক্ট সাধারণত এখানে তৈরি হয় না।

রাসায়নিক সমীকরণ (Simplified):

C_6H_{12}O_6 → 2 C_2H_5OH + 2 CO_2 + energy

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৬.
DNA-র ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়- 
  1. DNA পজিটিভ চার্জযুক্ত
  2. DNA-তে ডিঅক্সিরাইবোজ সুগার পাওয়া যায়
  3. DNA ডানঘুনী দ্বি-হেলিক্স বিশিষ্ট
  4. DNA-তে সূত্র দু'টি পরষ্পর বিপরীতমূখী এবং সমান্তরাল
ব্যাখ্যা

DNA এর পেছনে থাকা ফসফেট গ্রুপগুলোর কারণে DNA নেগেটিভ চার্জযুক্ত। তাই DNA কখনো পজিটিভ চার্জযুক্ত নয়।

DNA-এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য: 
- এতে ডিঅক্সিরাইবোজ সুগার থাকে।
- এটি ডানঘুনী (right-handed) দ্বি-হেলিক্স গঠন বিশিষ্ট।
- দুটি শৃঙ্খল পরস্পর বিপরীতমুখী (antiparallel) এবং সমান্তরাল নয়।

Watson, J.D., & Crick, F.H.C., Molecular Biology of the Gene, 7th Edition
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৭.
একটি প্রজাতিতে যদি ২০% A এবং ৩০% G থাকে, তাহলে C-এর % কত হবে?
  1.  ২০%
  2. ৩০%
  3. ৫০%
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা

DNA-তে Chargaff-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ডাবল-স্ট্র্যান্ডের শৃঙ্খলে: 
- অ্যাডেনিনের (A) শতাংশ = থাইমিনের (T) শতাংশ
- গুয়ানিনের (G) শতাংশ = সাইটোসিনের (C) শতাংশ

- প্রদত্ত তথ্য: A = 20% , T = 20%, G = 30% এবং C = ?

- নিয়ম অনুসারে, G = C, তাই C = 30%।

মোট যোগফল: 20% + 20% + 30% + 30% = 100%, যা সঠিক।

- যদি DNA-তে ২০% A এবং ৩০% G থাকে, তবে C-এর শতাংশ ৩০% হবে।

Watson, J.D., & Crick, F.H.C., Molecular Biology of the Gene, 7th Edition
Alberts, B. et al., Molecular Biology of the Cell, 6th Edition

৮৮.
কোনটি চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিন নয়?
  1. ভিটামিন-কে
  2. ভিটামিন-এ
  3. ভিটামিন-ই
  4. ভিটামিন-সি
ব্যাখ্যা

চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিনগুলো হলো A, D, E, K, যা মূলত লিপিডে দ্রবণীয়।

ভিটামিন A: চোখ ও চামড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

ভিটামিন D: হাড় ও ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে

ভিটামিন E: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধার জন্য

- ভিটামিন C হলো পানি-দ্রবণীয় (water-soluble) এবং প্রধানত সাইট্রাস ফল ও সবজি থেকে পাওয়া যায়।

- চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K; কিন্তু ভিটামিন C চর্বিতে দ্রবণীয় নয়।

Berg, J.M., Tymoczko, J.L., & Gatto, G.J., Biochemistry, 9th Edition
Harper’s Illustrated Biochemistry, 31st Edition

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি বই অনুযায়ী:
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো A, D, E, K। ভিটামিন-সি এই শ্রেণীতে পড়ে না, কারণ এটি পানি-দ্রবণীয় (water-soluble)। ভিটামিন-সি প্রধানত সাইট্রাস ফল ও সবজি থেকে পাওয়া যায় এবং এটি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংক্ষেপে, চর্বিতে দ্রবণীয়: A, D, E, K এবং পানি-দ্রবণীয়: C, B কমপ্লেক্স।

৮৯.
Puccinia Graminis এর জীবনচক্র সম্পূর্ণ করতে কয় প্রকারের স্পোরের প্রয়োজন হয়?
  1.  ০৪ (চার)
  2. ০৩ (তিন)
  3. ০৬ (ছয়)
  4. ০৫ (পাঁচ)
ব্যাখ্যা

Puccinia graminis হলো দুই হোস্টযুক্ত (heteroecious) রাষ্ট্রীয় ছত্রাক, যা শস্যজাতীয় উদ্ভিদ (যেমন গম) এবং বার্বেরি (Berberis) উদ্ভিদে জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে। এর জীবনচক্রে পাঁচ প্রকারের স্পোর থাকে:

1. Pycniospores – বার্বেরির পাতে উৎপন্ন, যৌন প্রজননে অংশ নেয়।

2. Aeciospores – বার্বেরি থেকে গমে সংক্রমণ ঘটায়।

3. Urediniospores – গমে পুনঃসংক্রমণ ঘটায় (asexual cycle)।

4. Teliospores – স্থায়ী ও শীতকালীন পর্যায়, meiotic division ঘটায়।

5. Basidiospores – টেলিওস্পোর থেকে উৎপন্ন, বার্বেরিতে সংক্রমণ ঘটায়।

Alexopoulos, C.J., Introductory Mycology, 4th Edition
Agrios, G.N., Plant Pathology, 5th Edition

৯০.
কোনটি এককোষী অন্ত:পরজীবি? 
  1. Saccharomyces cerevisiae
  2. Synchytrium endobioticum
  3. Aspergillus nigen
  4. Fusarium Udum
ব্যাখ্যা

Synchytrium endobioticum হলো এককোষী অন্তঃপরজীবী (obligate endoparasitic) ছত্রাক, যা আলুর কোষের ভিতরে বসবাস করে এবং কোষের মধ্যে বৃদ্ধি ও প্রজনন করে। এটি ছত্রাকজাতীয় রোগ “আলু কালো ফোসকা রোগ” এর কারণ।

Saccharomyces cerevisiae – এককোষী কিন্তু স্বাধীনভাবে বাস করে (সাধারণ yeast)

Aspergillus niger – বহুকোষী, ফাইলামেন্টাস ছত্রাক

Fusarium udum – বহুকোষী, উদ্ভিদ প্যাথোজেন

Alexopoulos, C.J., Introductory Mycology, 4th Edition

Agrios, G.N., Plant Pathology, 5th Edition

৯১.
কোনটি প্রাইম বেস (Prime base)?
  1. Cytosine 
  2. Uracil
  3. Thymive
  4. Guanine
ব্যাখ্যা

ষDNA ও RNA-এর মৌলিক গঠন ব্লক হলো নিউক্লিওটাইড, যা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১. একটি পেন্টোজ সুগার (ডিঅক্সিরাইবোজ বা রাইবোজ),
২. একটি ফসফেট গ্রুপ এবং 
৩. একটি নাইট্রোজেনযুক্ত বেস

• নাইট্রোজেনযুক্ত বেস দুটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. Purines (দুই রিং যুক্ত বেস): Adenine (A) এবং Guanine (G)।
২. Pyrimidines (এক রিং যুক্ত বেস): Cytosine (C), Thymine (T, DNA) এবং Uracil (U, RNA)

• Purines হলো প্রাইম বেস (Prime base), কারণ এরা বৃহৎ, দুটি আবরিত রিং নিয়ে গঠিত এবং DNA-এর স্থিতিশীলতা ও জোড়া গঠন নিশ্চিত করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে Guanine হলো এই প্রাইমারি বেস।

Berg, J.M., Tymoczko, J.L., & Gatto, G.J., Biochemistry, 9th Edition
Nelson, D.L., Cox, M.M., Lehninger Principles of Biochemistry, 8th Edition

৯২.
এঙ্গলার এবং প্রান্টল সমগ্র উদ্ভিদ জগতকে কয়টি ভাগে বিভক্ত করেন?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি 
  4.  ১৫টি
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদবিজ্ঞানী এঙ্গলার (Engler) এবং প্রান্টল (Prantl) উদ্ভিদ জগতকে ফিলোজেনেটিক ও ক্রোমোজোম ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ১৩টি বিভাগে (Divisions) ভাগ করেছেন। তাদের শ্রেণিবিন্যাস প্রাথমিকভাবে অংশবৎকৃত (Thallophyta থেকে Spermatophyta) উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করে।

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students

Evert, R.F. & Eichhorn, S.E., Raven Biology of Plants, 8th Edition

৯৩.
কোনটি বীজবিহীন ভাস্কুলার টিস্যুযুক্ত উদ্ভিদ?
  1. ব্যায়োফাইট
  2. টেরিডোফাইট
  3. জিম্নোস্পার্ম
  4. আনজিওসম্পার্ম
ব্যাখ্যা

- টেরিডোফাইটস (Tracheophytes) হলো বীজবিহীন ভাস্কুলার উদ্ভিদ, যা জাইলেম ও ফ্লোয়েমসহ পরিপূর্ণ ভাস্কুলার টিস্যু ধারণ করে। এগুলি বীজ ছাড়া স্পোরের মাধ্যমে প্রজনন করে। উদাহরণস্বরূপ: ফার্ন (Pteridophyta), সেলাগিনেলা, লাইকোপডিয়াম।
- ব্যায়োফাইট (Bryophytes): বীজবিহীন কিন্তু ভাস্কুলার টিস্যু নেই, উদাহরণ: মস, হর্নওয়ার্ট।
- জিম্নোস্পার্ম (Gymnosperms): বীজধারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ।
- অ্যাঞ্জিওস্পার্ম (Angiosperms) – বীজধারী ও ফ্লাওয়ারিং উদ্ভিদ।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

Vashishta, P.C., Botany for Degree Students

Raven, P.H., Evert, R.F., & Eichhorn, S.E., Biology of Plants, 8th Edition

৯৪.
কোন উপায়ে ব্যাক্টেরিয়ার জেনেটিক বস্তুত পূনঃবিন্যাস হতে দেখা যায় না?
  1. কনজুগেশন
  2. ট্রান্সডাকশন
  3. ট্রান্সক্রিপশন
  4. ট্রান্সফরমেশন
ব্যাখ্যা

ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে জেনেটিক পুনর্বিন্যাস (genetic recombination) ঘটে মূলত তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে:
১. কনজুগেশন (Conjugation): দুটি ব্যাক্টেরিয়া সরাসরি সংযুক্ত হয়ে DNA বিনিময় করে।
২. ট্রান্সডাকশন (Transduction): ব্যাক্টেরিওফেজের মাধ্যমে DNA স্থানান্তরিত হয়।
৩. ট্রান্সফরমেশন (Transformation): মৃত ব্যাক্টেরিয়ার DNA গ্রহণ করে নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্য অর্জন।

ট্রান্সক্রিপশন (Transcription) হলো DNA থেকে RNA সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, যা জেনেটিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং জিন এক্সপ্রেশন নিয়ন্ত্রণের অংশ।

Madigan, M.T., Martinko, J.M., Bender, K., Buckley, D., & Stahl, D., Brock Biology of Microorganisms, 15th Edition
Tortora, G.J., Funke, B.R., & Case, C.L., Microbiology: An Introduction, 13th Edition
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৫.
হ্যাপ্রোডিপ্লোবায়েন্টিক জীবন চক্র দেখা যায় কোনটিতে?
  1. Saccharomyces Cerevisiae
  2. Saccharomycodes luduigii
  3. Schizosaccharomyces octosporm
  4. Penicillium
ব্যাখ্যা

- Saccharomyces cerevisiae (ইস্ট) হলো হ্যাপ্লো-ডিপ্লয়েড (haplodiplobiontic) জীবনচক্রযুক্ত। অর্থাৎ জীবনের এক পর্যায়ে এটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ হিসেবে থাকে এবং অন্য পর্যায়ে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ হিসেবে থাকে। এই জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড কোষ মাইসিসের মাধ্যমে যোগ দেয় এবং ডিপ্লয়েড কোষ মাইটোসিসের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।

- Saccharomycodes ludwigii – প্রায়ই হ্যাপ্লয়েড জীবনচক্র
- Schizosaccharomyces octosporus – মূলত হ্যাপ্লয়েড
- Penicillium – অ্যাসেক্সুয়াল ও সেক্সুয়াল জীবনচক্র (হ্যাপ্লয়েড প্রধান)

Alexopoulos, C.J., Mims, C.W., & Blackwell, M., Introductory Mycology, 4th Edition
Tortora, G.J., Funke, B.R., & Case, C.L., Microbiology: An Introduction, 13th Edition

৯৬.
উদ্ভিদ দ্বারা সবচেয়ে দ্রুত শোষিত হয় কোনটি? 
  1. Fe++
  2. K+
  3. Ca+
  4. Mg++
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের মধ্যে পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) হলো সবচেয়ে দ্রুত শোষিত। কারণ K⁺ হলো ছোট, একক চার্জযুক্ত ধনাত্মক আয়ন, যা রুট হেয়ারসের মাধ্যমে সক্রিয় ও প্যাসিভ ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে সহজে প্রবেশ করে।

Ca²⁺ এবং Mg²⁺ আয়ন তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে শোষিত হয়, কারণ এগুলো বড় আকারের দ্বি-ধনাত্মক আয়ন।

Fe²⁺ (লোহা) শোষণ আরও জটিল, যেহেতু Fe³⁺ এর স্থিতিশীল রূপ এবং অ্যাসিডিক পরিবেশ প্রয়োজন।

উদ্ভিদ দেহে খনিজ লবণ শোষণের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম (K⁺) সবচেয়ে দ্রুত শোষিত হয়। কারণ এটি একক চার্জযুক্ত ধনাত্মক আয়ন, যা রুট হেয়ারস এবং অ্যাকটিভ ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহজে কোষে প্রবেশ করে।

ক্যালসিয়াম (Ca²⁺) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg²⁺) তুলনায় ধীর গতিতে শোষিত হয়।

লোহা (Fe²⁺) শোষণ আরও সীমিত, বিশেষ করে মাটি উচ্চ pH বা অক্সিজেন সমৃদ্ধ হলে।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৭.
ব্রায়োফাইটার স্পোরোফাইট হলো- 
  1. স্বাধীন
  2. নির্ভরশীল
  3. মুক্ত জীবিত
  4. সালোকসংশ্লেষণকারী
ব্যাখ্যা

ব্রায়োফাইট (যেমন—মস, লিভারওয়ার্ট) উদ্ভিদে স্পোরোফাইট (sporophyte) হলো গ্যামেটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ স্পোরোফাইট নিজে স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে পারে না, বরং গ্যামেটোফাইট থেকে পুষ্টি ও জল সংগ্রহ করে বৃদ্ধি পায়।

ব্রায়োফাইটের জীবনচক্র হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটোফাইট প্রধান, এবং ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট ছোট ও নির্ভরশীল হয়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Raven, P.H., Evert, R.F., & Eichhorn, S.E., Biology of Plants, 8th Edition

৯৮.
একজন কৃষক গম গাছের কান্ডে বাদামী রঙের ফুসকুড়ি লক্ষ্য করেছেন। এটি কোন রোগের লক্ষণ?
  1. স্মার্ট
  2. রাস্ট
  3. ব্লাস্ট
  4. মোজাইক
ব্যাখ্যা

গম গাছের কান্ড বা পাতা ও দানায় বাদামী রঙের ফুসকুড়ি বা pustules দেখা দিলে এটি হলো রাস্ট রোগের লক্ষণ। এই রোগটি Puccinia graminis ছত্রাক দ্বারা সৃষ্টি হয়।

লক্ষণ: বাদামী বা হলুদ রঙের পুস্তুল বা ফুসকুড়ি, যা পরে স্পোর ছাড়ে।

প্রভাব: পাতার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফটোসিন্থেসিস কমে যায়, ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি।

Alexopoulos, C.J., Introductory Mycology, 4th Edition.

৯৯.
পুকুর কোন ধরণের বাস্ততন্ত্রের উদাহরণ?
  1. লটিক
  2. লেন্টিক
  3. স্থলজ
  4. মরুজ
ব্যাখ্যা

লেন্টিক (Lentic) বাস্ততন্ত্র হলো স্থির বা ধীর প্রবাহমান জলের বস্তু যেমন পুকুর, হ্রদ, জলাধার। এখানে পানি স্থির থাকে এবং প্রবাহ নেই বা খুব কম থাকে।

লটিক (Lotic) হলো দ্রুত প্রবাহমান জল যেমন নদী বা খাল।

স্থলজ (Terrestrial) হলো স্থলভিত্তিক পরিবেশ।

মরুজ (Desert) হলো শুষ্ক, কম জলের পরিবেশ।

Odum, E.P., Fundamentals of Ecology, 3rd Edition.

১০০.
মরুজ পরিবেশের জন্য CAM উদ্ভিদ কেন উপযুক্ত?
  1. দিনের বেলায় ষ্টোমাটা খোলা থাকে
  2. রাত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড আবদ্ধ করে
  3. এদের শ্বসন হয় না
  4. পানি সংরক্ষণ করে রাখে
ব্যাখ্যা

CAM (Crassulacean Acid Metabolism) উদ্ভিদ যেমন পাথরকুচি বা অগাভে, উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে অভিযোজিত। তারা দিনের আলোতে পানি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে ষ্টোমাটা বন্ধ রাখে এবং রাত্রে CO₂ শোষণ করে। শোষিত CO₂ কে অ্যাসিড আকারে সংরক্ষণ করা হয় এবং দিনের বেলায় Calvin cycle-এ ব্যবহার করা হয়। ফলে, CAM উদ্ভিদ শুষ্ক পরিবেশে পানি সংরক্ষণ করতে পারে। এটি মরুজ বা আধা মরুভূমি অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত। উদাহরণ: পাথরকুচি (Opuntia)।

Taiz & Zeiger, Plant Physiology, 6th Edition.

১০১.
'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক। প্রশ্নে দেওয়া বাক্য ‘পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু’-এর মধ্যে ‘থেকে’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘ই’ শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

• বলক:

যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০২.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১০৩.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?
[মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল]
  1. শ্বাস
  2. প্রতিজ্ঞা
  3. কোমর
  4. প্রতিশ্রুত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) কোমর।
-------------------
প্রথমে শব্দের অর্থগুলো জেনে নিই-

• বদ্ধ শব্দের অর্থ- বাঁধা; আবদ্ধ; বাঁধানো।
• পরিকর অর্থ- কটিবন্ধ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,




ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর” — এখানে ‘পরিকর’ শব্দের অর্থ কোমর।
‘বদ্ধ পরিকর’ মানে কোমর বেঁধে প্রস্তুত হওয়া বা দৃঢ় সংকল্প করা।

অর্থাৎ বাক্যটির ভাবার্থ —
“এ কাজটি করতে আমি দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; Accessible Dictionary by Bangla Academy.
---------------------

সংস্কৃত ‘বদ্ধ’ এবং ‘পরিকর’ শব্দ সহযোগে গঠিত শব্দ হলো বদ্ধপরিকর। এটি বিশেষণ পদ। বদ্ধপরিকর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কঠোর প্রতিজ্ঞা, দৃঢ়সংকল্প, কোনো কাজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এমন বোঝায় প্রভৃতি। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘বদ্ধ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘বাঁধা’ আর ‘পরিকর’ শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি অর্থ হলো, কোমর বা কটিবন্ধ, কোমরবন্ধনী। ইংরেজিতে যেটিকে আমরা বলি বেল্ট। সেই হিসেবে বদ্ধপরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হয় কোমর বা কটিবন্ধ বাঁধা। সংস্কৃত থেকে জাত কোমরবন্ধনী বাঁধা প্রসঙ্গটিই কালক্রমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্থরূপে পরিগ্রহ করেছে।

সূত্র: 'আজকের পত্রিকা'র রিপোর্ট - "শব্দের আড়ালে গল্প: বদ্ধপরিকর", লেখক: রাজীব কুমার সাহা, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক।
----------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:
এই প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের জন্য আমরা বিগত ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন যদি পর্যালোচনা করি।

'গড্ডালিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারায় 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
ক) গরু
খ) ছাগল
গ) ভেড়া
ঘ) মহিষ

• ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্ধভাবে অনুসরণ। কিন্তু এখানে আক্ষরিক অর্থে 'গড্ডল' শব্দের অর্থ 'ভেড়া' হয়েছে।

একইভাবে, এখানেও 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- বাক্যে পরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ ধরলে সেটার অর্থ হয় কটি বা কোমর।

১০৫.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৬.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে —
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?
  1. ক্রন্দন > কাঁদা
  2. অঞ্চল > আঁচল
  3. সংগীত > গীতিকা
  4. দন্ত > দাঁত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সংগীত > গীতিকা।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে শব্দের রূপান্তর ঘটে, যা প্রায়শই তৎসম, তদ্ভব বা দেশি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুসারে, তৎসম শব্দ থেকে তদ্ভব শব্দে রূপান্তরের সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, যেমন স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন।

চলুন অপশন বিশ্লেষণ করি —
ক) ক্রন্দন → কাঁদা:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত। তৎসম শব্দ ‘ক্রন্দন’ (অর্থ: কান্না) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘কাঁদা’ (ক্রিয়া, অর্থ: কাঁদা বা কান্না করা) গঠিত হয়েছে।

খ) অঞ্চল → আঁচল:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ। তৎসম শব্দ ‘অঞ্চল’ (অর্থ: কাপড়ের প্রান্ত বা অঞ্চল) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘আঁচল’ (অর্থ: শাড়ির প্রান্ত) গঠিত হয়েছে।

গ) সংগীত → গীতিকা:
‘সংগীত’ থেকে ‘গীতিকা’ গঠনের জন্য কোনো সরাসরি ধ্বনিগত পরিবর্তন নেই। বরং এটি অন্য একটি শব্দগঠন (প্রত্যয়যুক্ত রূপ)। ‘গীতিকা’ একটি তৎসম শব্দ, যা ‘গীত’ (গান) শব্দের সঙ্গে ‘-ইকা’ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত। 'গীতিকা' সংগীতের একটি রূপ বা ছোট গান বোঝায়, কিন্তু ‘সংগীত’ থেকে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি উৎপন্ন হয় না।

ঘ) দন্ত → দাঁত:
এটি স্পষ্ট ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ (স্বরবিকৃতি ও উচ্চারণগত পরিবর্তন)। তৎসম শব্দ ‘দন্ত’ (অর্থ: দাঁত) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘দাঁত’ গঠিত হয়েছে।

অতএব, যথাযথ নয় — গ) সংগীত > গীতিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর-
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
---------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।

- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:

- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
  1. জোর
  2. ঊর্ধ্ব
  3. আড়াল
  4. গতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষেপণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষেপণ (মূল শব্দ)

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষেপণ মানে হচ্ছে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা বা উচ্চে ছোড়া।

যেমন: রকেটের উৎক্ষেপণ (রকেটকে আকাশে ঊর্ধ্বে পাঠানো)।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১১.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. হাসপাতাল
  3. আকাশছোঁয়া
  4. গুণমান
ব্যাখ্যা

• ডাক্তারখানা - শব্দটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ডাক্তারখানা:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত। ‘ডাক্তার’ শব্দটির সঙ্গে ‘-খানা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘ডাক্তারখানা’ গঠিত হয়েছে। ‘খানা’ একটি প্রত্যয়, যা স্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ডাক্তারখানা’ মানে ডাক্তারের চিকিৎসার স্থান বা হাসপাতাল। এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শব্দ, যার কোনো অংশ বাংলায় প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত হয়নি। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।

গ) আকাশছোঁয়া:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘আকাশছোঁয়া’ একটি সমাসবদ্ধ শব্দ এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত, প্রত্যয়ের মাধ্যমে নয়।

ঘ) গুণমান: এটি সঠিক শব্দ নয়। এর শুদ্ধ শব্দ হবে ‘গুণবান’।

তাই, ডাক্তারখানা শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও বচনের
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বচনের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

বানানের ভুল:
বাক্যে “চায়না” লেখা হয়েছে, যা ভুল। বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “চায় না”।
“চায়না” একটি অপ্রমিত রূপ, যা কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিক লেখায় গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ‘চাওয়া’ এর নেতিবাচক রূপে ‘চায় না’ লেখা হয়। উদাহরণ: “সে যেতে চায় না।”

বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।

বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-
  1. ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর
  2. বিদেশি শব্দের অনুবাদ
  3. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
  4. ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।

ব্যাখ্যা:
পরিভাষিক শব্দ বলতে এমন শব্দ বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, পেশা, শাস্ত্র, বা ক্ষেত্রের (যেমন: বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, সাহিত্য) সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এই শব্দগুলো সাধারণত একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের অর্থ সাধারণ ব্যবহারের থেকে আলাদা বা সীমিত হতে পারে। উদাহরণ: ‘পরিবাহক’ (conductor, বিদ্যুৎ পরিবহনের প্রেক্ষাপটে), ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ (pedagogy, শিক্ষাবিজ্ঞানে)।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ শুধু ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর নয়। এটি যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তৎসম, তদ্ভব, বা নতুন গঠিত শব্দ হতে পারে। উদাহরণ: ‘অণুজীব’ (microbe) ইংরেজি থেকে এলেও, এটি বিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে সুনির্দিষ্ট।

খ) বিদেশি শব্দের অনুবাদ: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ বিদেশি শব্দের অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো স্থানীয়ভাবে গঠিত বা বিষয়ভিত্তিক শব্দও হতে পারে। উদাহরণ: ‘গ্রন্থাগার’ (library) বিদেশি শব্দের অনুবাদ, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে এটি গ্রন্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট।

ঘ) ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ: আংশিকভাবে সঠিক, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।
কিছু পরিভাষিক শব্দ নতুন করে গঠিত হতে পারে (যেমন: ‘দূরদর্শন’ বা ‘টেলিভিশন’), কিন্তু সব পরিভাষিক শব্দ নবনির্মিত নয়। অনেক পরিভাষা তৎসম বা প্রচলিত শব্দ থেকেও আসে (যেমন: ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ বা ‘অর্থনীতি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়?
  1. বানর
  2. সিংহ
  3. পশু
  4. বন
ব্যাখ্যা

• 'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' বলতে 'পশু' বোঝানো হয়।

• উল্লেখ্য,
'মৃগ' শব্দের অর্থ - হরিণ, পশু।
'মৃগয়া' শব্দের অর্থ - হরিণ শিকার; বন্য পশুপাখি শিকার।

অন্যদিকে,
• 'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদরসুলভ স্বভাববিশিষ্ট, শাখামৃগ, মর্ব।
• 'সিংহ' শব্দের অর্থ - মৃগেন্দ্র, স্ত্রী. সিংহী /শিংহি।
• 'বন' শব্দের অর্থ - অরণ্য, জঙ্গল, কানন, কুঞ্জ, গহন, বিপিন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১৫.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
  1. নীরব
  2. উজ্জ্বল
  3. মানোত্তীর্ণ
  4. সংগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দটি হলো - নীরব।
শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ, নিঃ + রব = নীরব।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌ হয়। যেমন - উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম।

- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৬.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১৭.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. লেখার ধরনে
  2. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  3. সংখ্যাগত পরিমানে
  4. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

-------------
ব্যাখ্যা:

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৮.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সুকুমার সেন।

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া পদাবলী। এই পদগুলো মূলত প্রাচীন বাংলা, মৈথিলি, ওড়িয়া, এবং অসমীয়ার মতো পূর্ব ভারতীয় ভাষার মিশ্রণে রচিত। চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয় তিব্বতে, এবং এগুলো তিব্বতি ভাষায় অনুবাদিত বা টীকাকৃত আকারে পাওয়া যায়।
-------------
প্রেক্ষাপট:
• প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করছে যে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং) তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় কে রূপান্তর করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুসারে, এই কাজটি করেছেন সুকুমার সেন। তিনি আনুমানিকভাবে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

• ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপিতে ২৩ এর খণ্ডিত, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং পদগুলো ছিল না।

• অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে,
মূল পুথির চারখানা পাতা লুপ্ত। এই চর্যাটির শেষ চার পঙ্‌ক্তি ও টীকা, ২৪ নং চর্যার সমস্ত অংশ ও টীকা এবং তার পরের অর্থাৎ ২৫ নং চর্যার মূল ও টীকার প্রথম অংশ বিনষ্ট। তবে এই চর্যাগুলির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে। ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৯৪২ সালে। সেই অনুবাদ অবলম্বনে এই চর্যাগুলির মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ-পরিকল্পনা দিয়েছেন ডক্টর হুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাীতি পদাবলী' গ্রন্থের ৭৬ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায়।


অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: ভুল।
তিনি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এর সাহিত্যিক ও ভাষাগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। তাঁর গবেষণা, বিশেষ করে The Origin and Development of the Bengali Language এবং চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এই কাজের জন্য উল্লেখযোগ্য।

খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: ভুল।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার বা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিব্বতি অনুবাদ ১৯৫৬ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তিভিক্ষু শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত হয়।

গ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র: ভুল।
রাজেন্দ্রলাল মিত্র (১৮২৪-১৮৯১) চর্যাপদ আবিষ্কারের (১৯০৭) অনেক আগে মারা যান। তিনি সংস্কৃত সাহিত্য ও পুরাতত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘ) সুকুমার সেন: সঠিক।
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে, সুকুমার সেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীর সংস্কৃত অনুবাদের ভিত্তিতে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন এবং তা প্রকাশ করেন।
--------------------
--------------------
'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; চর্যাগীতি_পরিক্রমা- ড. নির্মল দাশ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- সুকুমার সেন, Buddhist Mystic Songs- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন
  4. স্বত্তের-অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

১২০.
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
  1. হরফের ছড়া
  2. বর্ণশিক্ষা
  3. বর্ণপরিচয়
  4. সহজ ছড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) হরফের ছড়া।

------------------
‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:

‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।
‘বর্ণশিক্ষা’ বলতে কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১২১.
Pick the correctly spelt word:
  1. Conscintious
  2. Consientious
  3. Concientious
  4. Conscientious
ব্যাখ্যা

• The correctly spelt word: Conscientious.

• Conscientious (adjective):
- English Meaning: Meticulous, careful; Feeling a moral responsibility to do your work carefully and to be fair to others.
- Bangla Meaning: বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

• Example:
- A conscientious public servant.
- She has always been a very conscientious worker.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২২.
They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an-
  1. participle
  2. infinitive
  3. verbal noun
  4. gerund
ব্যাখ্যা

• They talked about going on a vacation.
- Here 'going' is a gerund.

- Here, “going” comes after the preposition “about”, so it must function as a noun.
- প্রদত্ত বাক্যে, going (verb+ing)- preposition “about” -এর object হিসেবে বসে noun -এর কাজ করেছে তাই এটি gerund.
- অর্থাৎ, 'going' এখানে যাওয়ার কাজ (an act or instance of going) বুঝাচ্ছে।
- এটি participle নয়, কারণ এই বাক্যে এটি কোনো noun/pronoun কে modify করেনি।

• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

• Functions of the Gerund:
1. As a subject of a verb: Rising early is a good habit.
2. As an object of a verb: I like reading poetry.
3. As an object of a preposition: I am tired of waiting.
4. As a complement of a verb: Seeing is believing.
5. As absolutely (part of a compound noun): This is my writing table.

অন্যদিকে,
• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- Present participle দ্বারা চলমান sense বোঝায়।
- যেমন: Everything was in going order.

• Infinitive:
- Infinitive হচ্ছে verb এর base form অথবা to + base form.
- যেমন: go, to go.

• Infinitive দুই রকম হতে পারে। যেমন:
- To -যুক্ত infinitive এবং
- To -বিহীন infinitive বা Bare Infinitive.

• Verbal Noun:
- কোন বাক্যের Verb + ing - এর পূর্বে the এবং পরে of থাকলে তাকে Verbal Noun বলে।
- The + verb+ing + of = verbal noun.
- যেমন: The making of the plan is in hand.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৩.
The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname-
  1. Ellise Bellet
  2. Ellis Belle
  3. Ellis Bell
  4. Una Elis
ব্যাখ্যা

• The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the pen name Ellis Bell.

• Wuthering Heights:

- Emily Bronte রচিত এই উপন্যাসটি ১৮৪৭ সালে Ellis Bell ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়।
- 'Heathcliff' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন এতিম বালক।
- অন্যের আশ্রয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে আশ্রয়দাতার কন্যা Catherine Earnshaw -এর সাথে তার মনের মিলন ঘটে, দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে ফেলে।
- কিন্তু Catherine প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অন্যত্র বিয়ে করলে Heathcliff নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
- যখন ফিরে আসে তখন সে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক।
- কাহিনীর এ পর্যায়ে তাকে তার মালিকের বাড়ি Wuthering Heights কিনে নেয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন প্রেমিকা Catherine -এর ননদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সম্পত্তির লোভে তাকে বিয়ে করতে দেখা যায়।
- পরবর্তীতে এই বিয়েটা ভেঙে যায় এবং এরপর Catherine মারা যায়। তার ভাই Hindley ও মারা যায়। কিন্তু তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
- Heathcliff -এর সন্তানও এদের সাথে যোগ দেয়। এভাবে কাহিনী এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মের মাঝে এগিয়ে চলে।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ট্র্যাজেডি এবং Gothic Novel -এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

• Main characters:
- Catherine Earnshaw,
- Cathy Linton,
- Edgar Linton,
- Heathcliff (The central character)
- Lockwood, etc.

• Emily Bronte (1818-1848):
- Emily Bronte ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা ও কবি।
- তার পুরো নাম Emily Jane Bronte, তার ছদ্মনাম Ellis Bell.
- তিনি Charlotte Bronte -এর ছোট বোন।
- “Wuthering Heights” উপন্যাসকে ঘিরেই মূলত তার পরিচতি।
- মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই এই উপন্যাসিক মৃত্যু বরণ করেন।

• Notable Works:
- Poems by Currer, Ellis and Acton Bell,
- Wuthering Heights, etc.

Source: Britannica.

১২৪.
Which gender is the noun 'neighbour'?
  1. Masculine
  2. Feminine
  3. Neuter
  4. Common
ব্যাখ্যা

• 'Neighbour' is a Common gender.

• Neighbour (noun, adjective, verb)
- English Meaning: one living or located near another.
- Bangla Meaning: প্রতিবেশী; প্রতিবাসী; পড়শি।

- The noun "neighbour" refers to a person (male or female) who lives near or next to another.

• Common gender:
- A noun that denotes either a male or female is said to be of the common gender.
- অর্থাৎ, Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Infant (শিশু), Deer (হরিণ), student (ছাত্র/ছাত্রী), lawyer (উকিল), Neighbor (প্রতিবেশী), orphan (এতিম), parent (মা, বাবা), spouse (দম্পতি) etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.

১২৫.
'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
In this sentence the verb 'sneezed' is-
  1. causative
  2. intransitive
  3. transitive
  4. factitive
ব্যাখ্যা

• 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
- In this sentence, the verb 'sneezed' is intransitive.

- "sneezed" এখানে Intransitive verb কারণ এটি কোনো Direct object গ্রহণ করেনি।
- Intransitive verb হলো এমন Verb যা কোন Direct object ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
-
The verb "sneezed" does not take a direct object - it expresses an action that does not pass over to an object.
- অর্থাৎ এটি কেবল subject -এর কাজ বোঝাচ্ছে, sneezed কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে (object) প্রভাবিত করছে না।

• Intransitive verb:
- An intransitive verb is a verb that denotes an action which does not pass over to an object, or which expresses a state or being.
- অর্থাৎ, intransitive verb হলো subject নিজের দ্বারাই যে কাজ সম্পন্ন হয়, action (কাজ) সম্পন্ন হওয়ার জন্য object -এর দ্বারস্থ হতে হয় না।
- যে verb -এর কর্ম (direct object) নেই তাকে Intransitive verb বলে।
- এই verb কে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না। Direct object থাকে না বলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না।
- সাধারণত verb-এর পরে কোনো word না থাকলে অথবা verb-এর পরে adverb/preposition থাকলে সেটি Intransitive verb হবে।

• More Examples:
- The glass broke.
- We shall stop here a few days.
- The leaves fall in winter.

অন্যদিকে,
• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়।
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He always has me do his work. (সে সব সময় আমাকে দিয়ে তার কাজ করিয়ে নেয়।)

• Transitive verb:
- যে verb এর object আছে তাকে transitive verb বলে৷
- Transitive verbs এর সাধারণ Structure হচ্ছে: subject + verb + object.
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun অথবা Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- আবার intransitive verb এর শেষে preposition + object যুক্ত করেও তাকে transitive verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He writes a letter. write হলো transitive verb, কারণ এর object হলো a letter.

• Factitive Verb:
- যে Verb এর Object বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে Factitive Verb বলে।
- Factitive Verb হলো এমন ক্রিয়া যা দুটি object নেয় - একটি direct object এবং একটি object complement।
- এই verb direct object কে object complement হিসেবে বর্ণিত অবস্থায় পরিণত করে বা নিয়োগ দেয়।
- কিছু factitive verbs হলো: Elect, Select, Make, Appoint, Call, Name, etc.

- যেমন: The manager appointed him secretary.
- উল্লিখিত বাক্যে secretary হচ্ছে Objective Complement Factitive Object.
- "The manager appointed him" দ্বারা বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে না, তাই Objective Complement হিসেবে secretary বসানোর পর বাক্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- যেহেতু Object (him) বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়নি তাই এটি Factitive Verb.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৬.
A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an-
  1. immigrant
  2. expatriate
  3. emigrant
  4. migrant
ব্যাখ্যা

• A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called an emigrant.

• Emigrant (Noun, Adjective)
- English Meaning: A person who leaves his/her own country to settle permanently in another country.
- Bangla Meaning: স্বদেশত্যাগী; বাস্তুত্যাগী বা দেশান্তরী (ব্যক্তি)।

অন্যদিকে,
• Immigrant (Noun):
- English Meaning: A person who comes to a country to take up permanent residence.
- Bangla Meaning: বহিরাগত; অভিবাসী; বসবাসের জন্য বিদেশে আগমনকারী।

• Expatriate (Noun, verb, adjective):
- English Meaning: A person who lives in a foreign country.
- Bangla Meaning: প্রবাসী ব্যক্তি।

• Migrant (Noun):
- English Meaning: A person who moves from one place to another, especially in order to find work or better living conditions; a bird or animal that migrates.
- Bangla Meaning: বসবাসের উদ্দেশ্যে এক স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র গমনকারী (বিশেষত পাখি)।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৭.
Identify the word that can be used as both singular and plural:
  1. light
  2. shot
  3. criterion
  4. cannon
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- ঘ) cannon.

• Cannon (Noun & Verb):
- English meaning: An old type of large, heavy gun, usually on wheels, that fires solid metal or stone balls.
- Bangla meaning: (collective; plural- এর স্থলে প্রায়ই 'singular ব্যবহৃত হয়) (বিশেষত ধাতুর তৈরি নীরেট গোলানিক্ষেপক, প্রাচীন) কামান; আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানে ব্যবহৃত গোলানিক্ষেপক ভারী, স্বয়ংক্রিয় কামান।

- Cannon -এর plural form হলো দুইটি- cannons or cannon.
- তবে সাধারণত plural হিসেবে cannon-ই ব্যবহার করা হয়।
- cannon (same form in military contexts).

অন্যদিকে,
• Light [uncountable noun] - আলোক; আলো → singular: light, plural: lights.

• Shot [countable noun] - গুলি; গুলিবর্ষণ; গুলির শব্দ → singular: shot, plural: shots.
- তবে ছোট সীসা বা ইস্পাতের গুলি, বিশেষ করে শটগানের জন্য চার্জ তৈরি করা অর্থে plural noun: shot ব্যবহৃত হয়।
- প্রচলিত plural form হলো- Shots.
- যেমন: Several shots were fired.

• Criterion (plural criteria বিচারের মাপকাঠি; মানদণ্ড) → singular: criterion, plural: criteria.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৮.
Identify the correct passive form, "People thought that the despot was corrupt"
  1. The despot had been thought to be corrupt.
  2. It was thought that the despot was corrupt.
  3. The despot was thought to be corrupt.
  4. The despot is thought to be corrupt.
ব্যাখ্যা

- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- এই ধরনের complex বাক্যে যেখানে that-clause আছে, সেখানে passive form তৈরির দুটি উপায় আছে:
- প্রথম উপায় (Impersonal passive) দ্বিতীয় অংশকে 'It' ধরে। যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: It was thought that the despot was corrupt.

- Subject হিসেবে People থাকলে Passive voice -এ সাধারণত তা লেখা হয় না।
- তবে, দ্বিতীয় অংশে transitive verb থাকলে দ্বিতীয় অংশেরও Passive করতে হয়।

- দ্বিতীয় উপায় (Personal passive):
- সাধারণত Acknowledge, assume, think, claim, believe, know, report, understand, ইত্যাদি verb যুক্ত Active voice এর Passive করার নিয়ম-
- Personal object টিকে subject ধরা হয়।
- Tense অনুযায়ী auxiliary verb বসে।
- মূল verb -এর past participle + to be + direct object + by + subject -এর objective form.
- যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- তবে এই প্রশ্নে গ) অপশনটিই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে কারণ:
- Option গ) is more direct and commonly used when the focus is on the despot as the subject of the belief.

অন্যান্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ:
ক) The despot had been thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (had been = past perfect) ব্যবহার হয়েছে।

ঘ) The despot is thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (is = present, কিন্তু মূল বাক্যে past tense) ব্যবহার হয়েছে।

১২৯.
'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a /an-
  1. adverb
  2. adjective
  3. noun
  4. conjunction
ব্যাখ্যা

• 'After lunch we went for a leisurely stroll'.
- Here 'leisurely' is an adjective.

- The word "leisurely" describes the noun "stroll" — it tells what kind of stroll it was.
- When a word modifies a noun, it functions as an adjective.
- অর্থাৎ, 'leisurely' শব্দটি noun 'stroll' এর আগে বসে এটিকে বর্ণনা করছে।

• Leisurely (adjective)
- English Meaning: acting or done at leisure; unhurried or relaxed.
- Bangla Meaning: ব্যস্ততাহীন।

• Leisurely (adverb)
- English Meaning: without haste: deliberately.
- Bangla Meaning: মন্থরগতিতে; ধীরে ধীরে; ব্যস্ততাহীনভাবে।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৩০.
The play "Englishmen for My Money" was written by-
  1. Christopher Marlowe
  2. Thomas Kyd
  3. William Haughton
  4. Ben Jonson
ব্যাখ্যা

• The play "Englishmen for My Money" was written by William Haughton.

• Englishmen For My Money: Or A Woman Will Have Her Will:
- Englishmen for My Money, or A Woman Will Have Her Will হলো এলিজাবেথীয় যুগের একটি কমেডি নাটক, যা ১৫৯৮ সালে William Haughton রচনা করেছিলেন।
- Scholars and critics often cite it as the first city comedy.
- এই নাটকটি একটি dramatic subgenre সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে Thomas Dekker, Thomas Middleton, Ben Jonson, এবং অন্যান্যরা পরবর্তী বছর ও দশকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করেছিলেন।

• Summary:
- গল্পটি আবর্তিত হয় এক ধনী বিধবা মিসেস ফ্লাওয়ারডেলকে নিয়ে, যাকে তিনজন পুরুষ - স্যার লিওনেল ফ্রিভিল, স্যার থমাস লং এবং মাস্টার গ্যালিয়ার্ড - এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রতিটি পুরুষ তার স্নেহ ও ভাগ্য জয়ের চেষ্টা করে, কিন্তু মিসেস ফ্লাওয়ারডেল তার নিজের পথ নির্ধারণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সে এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয় যে তার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নাটকটি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার গতিশীলতার উপর একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিনোদনমূলক দৃষ্টিপাত। হটনের লেখনী ধারালো ও হাস্যরসাত্মক, এবং চরিত্রগুলি সুসংহত ও স্মরণীয়।

• William Haughton (1575-1605):
- William Haughton ছিলেন এলিজাবেথীয় যুগের একজন ইংরেজ নাট্যকার।
- তিনি ১৫৯৭ থেকে ১৬০৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রখ্যাত Admiral’s Men (a theatrical company) নাট্যকোম্পানির জন্য নাটক লিখতেন।
- He collaborated in many plays with Henry Chettle, Thomas Dekker, John Day and Richard Hathway.
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হলো "Englishmen For My Money", এই নাটকটিকেই ইংরেজি ভাষার প্রথম প্রহসন-ভিত্তিক শহুরে কমেডি (City Comedy) হিসেবে ধরা হয়।

• Notable works:
- Englishmen For My Money,
- The Devil and His Dame,
- The English Moor, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Goodreads.com

১৩১.
"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". the statement occurs in
  1. Robinson Crusoe
  2. A Doll's House
  3. Vanity Fair
  4. Gulliver's Travels
ব্যাখ্যা

"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". - এই উক্তিটি এসেছে Jonathan Swift-এর বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক রচনা Gulliver’s Travels থেকে।

• Gulliver's Travels:

- Jonathan Swift রচিত একটি novel, তিনি Augustan age এর একজন Author, তাই এটি Augustan age এর রচনা।
- এটি 18th century এর একটি famous satire.
- এটি ৪ খন্ডের একটি রম্য রচনা।
- এর full title হচ্ছে - Travels into Several Remote Places in the World.
- এই novel টি ১৭২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• Lemuel Gulliver সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় এবং পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ভেঙ্গে যায়।
- Gulliver প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু এক অদ্ভুত দেশে নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সবার উচ্চতা ৬ ইঞ্চির নিচে।
- তার বিশাল দেহ নিয়ে লিলিপুটদের নানা উপকারে আসে, এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য Blefuscu এর সাথে চলমান যুদ্ধেও লড়াই করে।
- এভাবে সে লিলিপুটদের রাজ্যে একপ্রকার হিরোতে পরিণত হয়।
- যদিও এক পর্যায়ে Gulliver তাদের রোষের শিকার হয় এবং তার শাস্তি হয় তার চোখ তুলে ফেলা হবে।
- পরিশেষে Gulliver শাস্তি এড়াতে সমর্থ হয় এবং বেঁচে ফিরে আসে।

• Jonathan Swift:
- তিনি একজন Anglo-Irish author এবং clergyman ছিলেন।
- তিনি Augustan age এর একজন Author.
- Jonathon Swift, an Anglo-Irish author, who was the foremost prose satirist in the English language.
- অর্থাৎ, ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গরচয়িতা বা satirist হলেন Jonathan Swift.
- তার রচিত বিখ্যাত satire হলো ‘Gulliver’s Travels’.
- তাঁর ছদ্মনাম Isaac Bickerstaff.

• Famous works:
- Gulliver's Travels,
- A Tale of a Tub,
- A Modest Proposal,
- The Battle of Books.

Other options,
ক) Robinson Crusoe
লেখক: Daniel Defoe.

খ) A Doll’s House
লেখক: Henrik Ibsen.

গ) Vanity Fair
লেখক: William Makepeace Thackeray.

Source: Britannica & Live MCQ lecture.

১৩২.
'We know that the earth is a planet'. The underlined part is a/an-
  1. noun clause
  2. adverbial clause
  3. adjective clause
  4. principal clause.
ব্যাখ্যা

We know that the earth is a planet. The underlined part is a/an - Noun clause.
- এখানে "that the earth is a planet" অংশটি 'know' verb -এর object হিসেবে কাজ করছে।

• Noun clause:

- যে সব subordinate- clause noun এর কাজ করে থাকে অর্থাৎ, subject, object, compliment, বা case in apposition- এর কাজ করে থাকে তাদেরকে বলে noun clause.
- Noun clauses are used when a single word isn't enough.

• একটি বাক্যের যেসব স্থানে Noun clause বসতে পারে -

1. Verb এর subject হিসেবে।
Example: That he has much money is known to all.

2. Verb এর object হিসেবে।
Example: I know that he has done it.

3. Verb এর complement হিসেবে।
Example: This is what I said.

4. Preposition এর object হিসেবে;
Example: I cannot understand the meaning of what he said.

5. Noun/ pronoun - এর apposition হিসেবে।
Example: The fact that he is a thief is clear to all.

Source:
- A Passage to the English Language, S.M. Zakir Hussain.
- Advanced Learner's Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain.

১৩৩.
Select the sentence in which 'better' is an adverb.
  1. We're helping for better weather tomorrow.
  2. Sound travels better in water than in air.
  3. It's hard to decide which one is better.
  4. He joined the gym to better his health.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) Sound travels better in water than in air.
- এই বাক্যে 'better' শব্দটি 'travels' verb কে বর্ণনা করছে।
- এটি বলছে শব্দ কীভাবে ভ্রমণ করে।
- অর্থাৎ, "শব্দ পানিতে বেশি ভালোভাবে ভ্রমণ করে"।
- যেহেতু এটি verb কে modify করছে, তাই এটি adverb.

Better: [adverb]
English meaning: in a more excellent or pleasant way; to a higher or greater degree.
Bangla meaning: কোনো কাজ বা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বা বেশি আনন্দদায়কভাবে ঘটেছে।

Example:
- She sings much better than I do.
- Sound travels better in water than in air.

Other options,

ক) We're hoping for better weather tomorrow.
- 'better' এখানে adjective.
- এটি noun 'weather' কে বর্ণনা করছে।

গ) It's hard to decide which one is better.
- এখানে better হচ্ছে adjective।
- এখানে "better" শব্দটি "which one" কে বর্ণনা করছে।
- এটি verb 'is' এর পরে complement হিসেবে এসেছে।

ঘ) He joined the gym to better his health.
- এখানে better হলো verb, অর্থাৎ “উন্নত করা”।

Source:
- Oxford Dictionary.

১৩৪.
Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it _______ the park with her performance in culinary art.
  1. outside
  2. out of
  3. inside
  4. off
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) out of.

Complete sentence: Selina knocked it out of the park with her performance in culinary art.
Bangla: সেলিনা রান্নার শিল্পে তার পারফরম্যান্স দিয়ে অসাধারণ সফলতা পেয়েছে/দুর্দান্ত করেছে।

knock sb/sth out of the park: [idiom]

English meaning: to do something much better than someone else, or to be much better than someone or something else/ to do something extremely well.
Bangla meaning: কারো চেয়ে অনেক ভালো কিছু করা, বা কারো/কিছুর চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করা/ কোনো কাজ চরমভাবে দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা।

Example:
- Hotel Ferrero knocks everyone out of the park with their breakfast.
- The BBC is hitting them all out of the park at the moment, in children's drama at least.
- I feel like I can write anything for this actor, and she'll knock it out of the park.
- If I don't hit this out of the park, I'm finished.

সঠিক idiom টি হলো - knock out of the park তাই উল্লিখিত অন্য অপশন গুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

Source:
- Cambridge Dictionary.

১৩৫.
The idiom 'icing on the cake' means -
  1. a slice of the cake
  2. an attractive but unnecessary addition
  3. an attractive service
  4. an attractive and essential enhancement
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

• The icing on the cake:
[idiom]
English meaning: If you describe something as the icing on the cake, you mean that it makes a good thing even better, but it is not essential.
Bangla meaning: এর মানে হলো এটি ইতিমধ্যেই ভালো কিছুকে আরও ভালো করে তোলে, কিন্তু এটি অপরিহার্য নয়।

Example:

- I was just content to see my daughter in such a stable relationship, but a grandchild, that really was the icing on the cake.

- I love my job, and getting public recognition is merely the icing on the cake.

- The third goal was the icing on the cake.

Other options,
ক) a slice of the cake:
→ কেকের একটি টুকরো।

খ) an attractive but unnecessary addition:
→ আকর্ষণীয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সংযোজন।

গ) an attractive service:
→ আকর্ষণীয় সেবা।

ঘ) an attractive and essential enhancement:
→ আকর্ষণীয় এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন।

অপশন গুলোর অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায়, সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Collins Dictionary.

১৩৬.
Choose the synonym for 'fright':
  1. placidity
  2. composure
  3. apprehension
  4. equanimity
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) apprehension.

• Fright: [noun]

English meaning: the feeling of fear, especially if felt suddenly, or an experience of fear that happens suddenly.
Bangla meaning: আকস্মিক প্রচণ্ড ভীতি; আতঙ্ক; ত্রাস; সন্ত্রাস; শঙ্কা।

Other options,

ক) Placidity: [noun]
English meaning: the fact of being calm and peaceful, with very little movement.
Bangla meaning: শান্ততা; প্রসন্নতা।

খ) Composure: [noun]
English meaning: the state of being calm and in control of your feelings or behaviour.
Bangla meaning: শান্তি; স্থৈর্য; আত্মসংবরণ।

গ) Apprehension: [noun]
English meaning:
- worry about the future, or a fear that something unpleasant is going to happen.
- an act of catching and arresting someone who has not obeyed the law.
- the act of understanding something, or the way that something is understood.

Bangla meaning:

- [Countable noun, Uncountable noun] আশঙ্কা; ভবিষ্যৎ বিষয়ে উৎকণ্ঠার অনুভূতি: filled with apprehension; an apprehension of failure.
- [Uncountable noun] (আইন সম্বন্ধীয়) গ্রেফতার: the apprehension of a thief.
- [Uncountable noun] উপলব্ধি; চেতনা; বোধ: apprehension of truth.

ঘ) Equanimity: [noun]
English meaning: a calm mental state, especially after a shock or disappointment or in a difficult situation
Bangla meaning: মনমেজাজের প্রশান্তি।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, Fright এর synonym হলো - Apprehension.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Accessible Dictionary.
- Oxford Dictionary.

১৩৭.
"Rubiyat of Khayyam" is attributed to
  1. Edward FitzGerald
  2. Scott Fitzgerald
  3. Thomas Fitzgerald
  4. William Fitzgerald
ব্যাখ্যা

সাহিত্য কর্মটির সঠিক নাম - The Rubaiyat of Omar Khayyam.

The Rubaiyat of Omar Khayyam:
- এটি রচনা করেন সাহিত্যিক Edward Fitzgerald.
- যুগ শ্রেষ্ঠ জ্যেতির্বিজ্ঞানী ওমার খৈয়ামের রচনা থেকে অনুপ্রাণিত।
- এটি মূলত: অনুবাদ নয় বরং মূল গ্রন্থকে সামনে রেখে মৌলিক রচনা।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি Classic হিসেবে বিবেচিত।
- It is one of the most frequently quoted lyric poems, and many of its phrases are passed into common currency.
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- ইংরেজি সংস্করণে এই নামের সাথে যুক্ত হয়- "the Astronomer-Poet of Persia" বাক্যটি।

• Edward Fitzgerald:
- Edward Fitzgerald belongs to the Victorian Period.
- He was born on March 31, 1809, in England.
- FitzGerald was educated at Trinity College, Cambridge, where he formed a lifelong friendship with William Makepeace Thackeray.

• Notable Work:
- The Rubaiyat of Omar Khayyam.

Source: Live MCQ English Essence and Britannica.

১৩৮.
'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an
  1. adjective
  2. noun
  3. preposition
  4. pronoun
ব্যাখ্যা

We work every day except Friday. In this sentence, 'except' is a/an - Preposition.
- এখানে except শব্দটি বোঝাচ্ছে "Friday-এর বাইরে" বা "Friday ছাড়া"।
- অর্থাৎ এটি Friday-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা হলো preposition-এর কাজ।
- এটি দেখাচ্ছে যে শুক্রবার ছাড়া বাকি সব দিন কাজ হয়।

• Except: [preposition]
English meaning: ​used before you mention the only thing or person about which a statement is not true.
Bangla meaning: ব্যতীত; ছাড়া।

Example:
- We work every day except Sunday.
- They all came except Matt.
- I had nothing on except for my socks.

Source:
- Oxford Dictionary.
- Accessible Dictionary.

১৩৯.
Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?
  1. Claire Clairmont
  2. Marry Wollstonecraft
  3. Mary Wollstonecraft Godwin
  4. Mary Shelley
ব্যাখ্যা

A Vindication of the Rights of Woman:
- এটি রচনা করেন British writer Mary Wollstonecraft Godwin.
- এটি ১৭৯২ সালে প্রকাশিত একটি প্রসিদ্ধ নারীবিদ্বেষ-বিরোধী প্রবন্ধ, যা ব্রিটিশ লেখক এবং নারী অধিকার কর্মী Mary Wollstonecraft লিখেছেন।
- এই রচনায় নারীদের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ এবং বিবাহে ক্ষমতায়ন (empowerment) নিশ্চিত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

Mary Wollstonecraft/ Mary Wollstonecraft Godwin:
- জন্ম ২৭ এপ্রিল, ১৭৫৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড — মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর, ১৭৯৭, লন্ডন।
- তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি লেখিকা এবং নারীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সমতার প্রবল সমর্থক। তিনি তার বিশ্বাসসমূহ “A Vindication of the Rights of Woman” (১৭৯২) গ্রন্থে উপস্থাপন করেন, যা নারীবাদ (ফেমিনিজম)-এর একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।

Notable works:
- A Vindication of the Rights of Woman,
- Letters Written During a Short Residence in Sweden, Norway, and Denmark,
- Maria; or, The Wrongs of Woman.

Other option,
খ) Marry Wollstonecraft: Marry ভুল বানান, সঠিক বানান হলো - Mary Wollstonecraft.

-----------
উল্লেখ্য -
• Mary Wollstonecraft:
- Married name: Mary Wollstonecraft Godwin is actually her full married name, but she is generally known as Mary Wollstonecraft.
- Spouse name: William Godwin.
- Daughter: Mary Wollstonecraft Shelley.

Source: Britannica.

১৪০.
Which sentence is correct?
  1. The picture was hanged on the wall.
  2. The picture was hung on the wall.
  3. The picture was hunged on the wall.
  4. The picture had hanged on the wall.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) The picture was hung on the wall.

"Hang" verb এর past tense ও past participle আলাদা ব্যবহারে বিভক্ত।


• Hang(verb) ঝোলা; ঝুলে থাকা; ঝুলানো; ঝুলিয়ে রাখা।
- এই অর্থে এর past tense, past participle form হবে Hung.
- hang something from the ceiling; a picture hanging on the wall; windows hung with curtains.

• Hang (verb) ফাঁসি দেওয়া; ফাঁসি হওয়া; ফাঁসি নেওয়া
- এই অর্থে এর past tense, past participle form hanged হবে।
- He was hanged for murder, খুনের দায়ে ফাঁসি হয়েছে;
- He hanged himself, ফাঁস নিয়ে মরেছে।

অর্থাৎ, যখন কোনো ছবি বা বস্তু দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hung.
- যখন কারো ফাঁসিতে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hanged.

• যেহেতু এখানে ছবি দেয়ালে ঝুলানো হয়েছে, তাই সঠিক ব্যবহার হবে: was hung.

Other options,

ক) The picture was hanged on the wall.
- Hanged ব্যবহার হয় ফাঁসিতে ঝুলানো এর জন্য, যেমন Execution-এর ক্ষেত্রে।
- এখানে ছবির প্রসঙ্গ, তাই ভুল।

খ) The picture was hunged on the wall.
- এখানে, Hunged হলো ভুল বানান; English-এ hung হলো সঠিক past participle.

ঘ) The picture had hanged on the wall.
- hanged ফাঁসির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া, past perfect tense "had hanged" এখানে প্রয়োজন নেই, কারণ সাধারণ description দেওয়া হচ্ছে।

Source:
- Accessible Dictionary.

১৪১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস'। তমুদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন
  2. পদার্থ বিজ্ঞান
  3. অর্থনীতি
  4. ইসলামী শিক্ষা
ব্যাখ্যা

⇒ 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

♦ তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
→ ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
→ পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
→ এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ২১ ফেব্রুয়ারী
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা

⇒ ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।

♦ স্বাধীনতা দিবস:
→ ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
→ ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
→ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
→ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস।
→ ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'।

♦ বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস:
→ ০২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।
→ ০১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস।
→ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।
→ ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস'।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৩.
নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন ভূমি সীমানা নেই।

♦ বাংলাদেশের সীমান্ত:
→ বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
→ বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
→ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
→ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
→ বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

♦ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
→ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।
→ এটি পৃথিবীর ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
→ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যসমূহ: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ওয়ার্ল্ড এটলাস ও Statistica.com

১৪৪.
আয়নাঘর কী?
  1. স্বচ্ছ কামরা
  2. পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ
  3. গোপন কারাগার
  4. একটি হলিউড মুভি
ব্যাখ্যা

⇒ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত 'গোপন কারাগার'।

♦ আয়নাঘর:
→ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাউন্টার-টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম আয়নাঘর।
→ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত হয়।
→ এটি রাজনৈতিক বিরোধীদের, সরকার-সমালোচকদের, সন্দেহভাজন 'চরমপন্থী' বা 'সন্ত্রাসী'দের গুম করে আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
→ মূলত সরকার-বিরোধী চক্রান্তে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা হত এখানে।
→ শুধু তৎকালীন সরকারের সমালোচকেরা নন, ‘চরমপন্থী’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত করেও বহু মানুষকে ‘আয়নাঘর’ বা সেই জাতীয় গোপন বন্দিশালাগুলিতে আটক করা হয়েছিল।

♦ আয়নাঘরের অবস্থান:
→ আয়নাঘরের অবস্থান ঢাকা সেনানিবাস এলাকায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, যেখানে প্রাচীর-আবৃত অন্ধকার কক্ষসমূহ ছিল।
→ এতে কমপক্ষে ১৬টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটিতে ৩০ জন করে বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
→ রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি স্পট পরিদর্শন করেন তিনি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিম্নের কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বাক-স্বাধীনতার অধিকার
  2. শিক্ষার অধিকার
  3. সভা সমাবেশের অধিকার
  4. ধর্মচর্চার অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়:
→ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় মৌলিক অধিকার।
→ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বাক-স্বাধীনতার অধিকার, সভা সমাবেশের অধিকার ও ধর্মচর্চার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

♦ তৃতীয় অধ্যায়ের অন্যান্য আলোচ্য বিষয়সমূহ:
→ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৬.
'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসূদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

♦ বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা:
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ।
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থে যে ৪২টি নিবন্ধ রয়েছে।
→ সেগুলির মধ্যে প্রথম ৩৯টি ১৯৭২ ও ৭৩ সালে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
→ এই গ্রন্থে প্রকাশিত ৪২-টি নিবন্ধ পাচ মিশালা হহলেও প্রত্যেকাঢর মূল বক্তব্য অভিন্ন।
→ প্রবন্ধগুলোতে নানান দিকে উদ্ভুত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানেরই পথ-নির্দেশনা লেখক তার লেখাগুলো দিয়েছেন।
→ অনেক বিষয়ে তিনি লেখা ও আলোচনা শুরু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সবার উপর।

♦ আবুল মনসুর আহমেদ:

→ তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
→ তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

♦ ব্যঙ্গরচনা:
→ আয়না,
→ ফুড কনফারেন্স,
→ গালিভারের সফরনামা

♦ স্মৃতিকথা:
→ আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
→ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
→ শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
→ সত্যমিথ্যা,
→ জীবন ক্ষুধা,
→ আবে-হায়াৎ

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. হাকিম আজমল খান
  2. শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হক
  3. স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস:
→ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
→ বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন' এবং 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির' সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
→ নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
→ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
→ ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
→ ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৮.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৯.
জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. Generalized System of Preference
  2. Global System of Positioning
  3. Global Strategic Partnership
  4. Government Support Program
ব্যাখ্যা

⇒ জিএসপি (GSP) এর পূর্ণরূপ 'Generalized System of Preferences'.

♦ GSP:
→ Generalized System of Preferences (GSP) হল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এক ধরণের শুল্কমুক্ত বা শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা।
→ GSP হচ্ছে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
→ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম GSP সুবিধা চালু করে।
→ নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রথম জিএসপি সুবিধা দেয় ১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে।
→ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা হারায় ২৭ জুন, ২০১৩ সালে।
→ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র - ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

১৫০.
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কি?
  1. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
  2. সংসদের আসন বৃদ্ধি
  3. সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল
  4. পি আর (PR) চালু করা
ব্যাখ্যা

⇒ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ।

♦ সংস্কার প্রস্তাব:
→ এই সংস্কারে বর্তমান এককক্ষ সংসদের পরিবর্তে নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে।
→ যাতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু, জনকেন্দ্রিক এবং চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স সহ নিশ্চিত হয়।
→ নিম্নকক্ষে ৪০০ সদস্য (৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ১০০ নারী সংরক্ষিত সরাসরি নির্বাচিত) এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ সদস্য (১০০ সমানুপাতিক + ৫ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন, ৩০% নারী সংরক্ষিত) থাকবে।

♦ উল্লেখ্য:
→ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরির জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার।
→ সেগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কমিশন।
→ সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
→ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই কমিশনের সভাপতি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৫১.
বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথম কে অবস্থান করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান উপদেষ্টা
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

জুলাই, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী:

রাষ্ট্রপতি (President of the Republic) এর অবস্থান সর্ব প্রথম।

উল্লেখ্য,
২. প্রধানমন্ত্রী
৩. সংসদের স্পিকার
৪. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ।
৫. কেবিনেট মন্ত্রিগণ; কেবিনেটের প্রধান হুইপ; সংসদের ডেপুটি স্পিকার; সংসদে বিরোধী দলের নেতা
৬. কেবল পদমর্যাদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সমমানের পদে থাকা ব্যক্তিরা।
৭. বিশেষ দূত ও কমনওয়েলথ দেশের হাইকমিশনারগণ, যারা বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত।
৮. প্রধান নির্বাচন কমিশনার; পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান; সংসদে বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা;সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ(আপিল বিভাগ); রাষ্ট্রের রাজ্য মন্ত্রীগণ; হুইপ।

এছাড়াও,
ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সে মোট ২৫টি পদক্রম রয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৫২.
পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি সাত্তার
  2. বিচারপতি সায়েম
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি হামদুর রহমান
ব্যাখ্যা

• ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

১৯৭০ এর নির্বাচন:

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৩১০টি আসন বরাদ্দ ছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি সাধারন আসন ও ১০টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. মৌলভীবাজার
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• চা-বাগান:
- চা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধকৃত দেশে মোট চা-বাগানের সংখ্যা - ১৭০ টি।
- মৌলভীবাজার জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ৯০ টি।
- হবিগঞ্জ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২৫ টি।
- সিলেট জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১৯ টি।
- চট্টগ্রাম জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২২ টি।
- রাঙ্গামাটি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২ টি।
- পঞ্চগড় জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১১ টি।
- ঠাকুরগাওঁ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১ টি।
- খাগড়াছড়ি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা -১ টি

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

১৫৪.
চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
  1. ইয়াংসি
  2. লিজিয়াং
  3. হয়াইলি
  4. ইয়ারলাং সাংপো
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo):
- ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রবাহিত: চীন, ভারত, এবং বাংলাদেশ।
- ব্রহ্মপুত্র নদী চীনের তিব্বত মালভূমিতে উৎপন্ন হয় এবং সেখানে এ নদীকে “ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নামে ডাকা হয়।
- পরে এটি ভারতে প্রবেশ করে “সিয়াং” নামে পরিচিত হয় এবং বাংলাদেশে এসে “ব্রহ্মপুত্র” নামে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের ভূখণ্ডে ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। - এমন একটি প্রকল্প যা ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

১৫৫.
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।

১৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. তথ্য মন্ত্রণালয়
  2. প্রেস কাউন্সিল
  3. বিটিআরসি
  4. বাংলাদেশ টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রেস কাউন্সিল।

♦ প্রেস কাউন্সিল:
→ প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মানোন্নয়ন ও মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়।
→ প্রেস কাউন্সিল একটি আধা-বিচারিক সংস্থা।
→ প্রেস কাউন্সিলের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং তাদের মান উন্নত ও বজায় রাখা।

♦ প্রেস কাউন্সিলের কার্যাবলী:
• সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
• উচ্চ পেশাগত মান অনুযায়ী সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।
• সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের দ্বারা জনসাধারণের উচ্চমানের রুচি বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকলের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মনোভাব বৃদ্ধি করা।
• জনস্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ ও প্রচারে বাধা সৃষ্টিকারী যেকোনো উন্নয়ন পর্যালোচনা করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় ব্যক্তিদের জন্য সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা।



তথ্যসূত্র -
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওয়েবসাইট।
Media Landscapes

১৫৭.
Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
  1. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  2. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
  3. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
  4. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬৪) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে।
- বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯১১ জন।
- তার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হলো ১১ কোটি ৭ লাখ প্রায়, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.২৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং প্রথম আলো।

১৫৮.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
  4. তিব্বত-বর্মী
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি,
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
  1. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী
  2. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
  3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
  4. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ব্যাখ্যা

• লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার আগে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

• চার্লস কর্নওয়ালিস:

সেভেন ইয়ার্স ওয়ার (১৭৫৬–৬৩)-এর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন কর্নওয়ালিস।
এই যুদ্ধে (১৭৬২ সালে) তিনি তার পিতার আর্ল উপাধি ও অন্যান্য পদবি উত্তরাধিকার সূত্রে পান।
তিনি যদিও উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের প্রতি ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি আমেরিকান বিপ্লব দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

- ১৭৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেমিক বাহিনীকে নিউ জার্সি থেকে বিতাড়িত করেন, কিন্তু ১৭৭৭ সালের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন আবার রাজ্যের একটি অংশ পুনর্দখল করেন।

- ১৭৮০ সালের জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নওয়ালিস জেনারেল হোরেশিও গেটসের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যারোলিনার ক্যামডেনে (১৬ আগস্ট, ১৭৮০) এক বড় জয় লাভ করেন।

- পূর্ব নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ভার্জিনিয়ায় অগ্রসর হয়ে তিনি জোয়ারভাটার বন্দর নগর ইয়র্কটাউনে তার ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- সেখানে তিনি আমেরিকান ও ফরাসি স্থলবাহিনীর (ওয়াশিংটন ও কমতে দ্য রোশামবো এর নেতৃত্বে) এবং ফরাসি নৌবাহিনীর (কমতে দ্য গ্রাস এর নেতৃত্বে) দ্বারা অবরুদ্ধ হন।
- অবশেষে তিনি এক দীর্ঘ অবরোধের পর তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করেন।

- যদিও ইয়র্কটাউনে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি যুদ্ধকে উপনিবেশবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত করে দেয়, তবুও কর্নওয়ালিস নিজ দেশে উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখেন।
- ১৭৮৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পদ গ্রহণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৬০.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে।
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

১৬১.
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে সাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৯
  4. ১৯৬০
ব্যাখ্যা

♦ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট ১৯৪৯ সালে সাক্ষরিত হয়।

NATO:

- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।

⇒ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে এক চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।
- এছাড়াও, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬২.
বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?
  1. International Conference on Civil and Political Rights
  2. International Conference of Civil and Political Rights
  3. International Covenant on Civil and Political Rights
  4. International Covenant of Civil and Political Rights
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ International Covenant on Civil and Political Rights.

ICCPR:

- ICCPR-এর পূর্ণরূপ: International Covenant on Civil and Political Rights.

⇒ এটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ১৯৬৬ সালে।
- কার্যকর হয়: ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে।
- আন্তর্জাতিক এই চুক্তি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি পেশার এবং প্রতিটি মানুষ যেন সমান অধিকার পায় সেই লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে দুইটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যেমন-জীবনের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের অধিকার সুরক্ষা করা।
- এতে মোট ৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এই চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি (UN Human Rights Committee)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এটি ২০০০ সালে অনুমোদন করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৬৩.
গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুইডেন
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।
- এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস। আরও আছে পৃথিবীর বিরল কিছু ধাতু, যেগুলোর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৬৪.
বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম কি?
  1. এন্থনি মাসকারেনহাস
  2. লরেঞ্চ জিরিং
  3. লরেঞ্চ লিফশূলজ্
  4. হেনরি কিসিঞ্জার
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম লরেঞ্চ জিরিং।

অধ্যাপক লরেঞ্চ জিরিং:
- 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারণা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়'- লরেঞ্চ জিরিং (Lawrence Ziring) কর্তৃক প্রদত্ত।
- তিনি তাঁর গ্রন্থ 'বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস'-এই গ্রন্থে এই পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- যেখানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণ করেছেন।
- এই গ্রন্থে জিরিং উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার প্রথম বিশ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যারা জনগণের অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বা ধারণার ভিত্তি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

- মূলত এটি একটি নিরপেক্ষ ইতিহাসের বই। ১৯৪০-১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের শাসনকাল, তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা/অস্থিরতা সহ বিভিন্ন বিষয় নিরপেক্ষভাবে উঠে এসেছে।

⇒ এছাড়াও, তিনি "মুজিব, এরশাদ ও হাসিনা: রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ইতিহাস" নামক একটি বইয়ের লেখক।


Link: core.ac.uk page: 124.

উৎস: বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস।

১৬৫.
বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?
  1. UNOSOM
  2. UNMOGIP
  3. UNTSO
  4. UNEF
ব্যাখ্যা

♦ বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী UNTSO (United Nations Truce Supervision Organization).

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৮ সালে।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।

১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. ভারসাই চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
ব্যাখ্যা

♦ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি:

- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্থান: ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের হল অফ মিররসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর যে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল, তা মূলত স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles)-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এই চুক্তিটি জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করে এবং মিত্র দেশগুলোর ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে।
- ফলাফল: যুদ্ধের কারণে মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষতি হয়েছিল, তার জন্য জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১৬৭.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
  1. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি, বুজভেল্ট
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. জর্জ ডারিও বুশ
ব্যাখ্যা

♦ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

হ্যারি এস. ট্রুম্যান:
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতিত্বে উন্নীত হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে শীতল যুদ্ধের উত্থান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর নেতৃত্ব দেন।
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'। পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।

উৎস: History.com

১৬৮.
ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা

♦ ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ ODS (Ozone Depleting Substances) হলো এমন পদার্থ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং অ্যারোসলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

১৬৯.
আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. চীন ও আফগানিস্তান
  2. চীন ও ইংল্যান্ড
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

♦ আফিম যুদ্ধ চীন ও ইংল্যান্ড- এই দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।

আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

• নানকিং চুক্তি:
- প্রথম আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনের শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- চিনা কমিশনার চিইং (Chiying) এবং নব নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি পট্টিনগার (Sir Henry Pottinger) -এর উদ্যোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ সালে
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া চীন কর্তৃক ব্রিটেনকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বাধ্য হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে চীন সরকার ৯৯ বছরের জন্যে হংকংকে ব্রিটেনের নিকট লিজ দেয় এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজের মেয়াদ শেষে ব্রিটেন পুনরায় চীনের নিকট হংকং কে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.

১৭০.
কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. গালফ অফ গিনি
  2. ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া
  3. দক্ষিন আফ্রিকা
  4. পশ্চিম আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

♦ কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।

কেপ ভার্দে (Cape Verde):
- কেপ ভার্দে রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- রাজধানী: প্রাইয়া (Praia)।
- সরকারি ভাষা: পর্তুগিজ।
- মুদ্রা: কেপ ভার্দীয় এসকুডো (সিভিই)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক); এছাড়াও ইসলাম।
- এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি এবং এর সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

১৭১.
নিম্নোক্ত কোন দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?
  1. তিমুর লিস্টি
  2. দক্ষিন সুদান
  3. ওয়েস্টার্ন সাহারা
  4. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
ব্যাখ্যা

♦ ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়। তিমুর লিস্টি, দক্ষিন সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক জাতিসংঘের সদস্য দেশ।

ওয়েস্টার্ন সাহারা (পশ্চিম সাহারা):
- পশ্চিম সাহারা বা ওয়েস্টার্ন সাহারা আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন জনবহুল অঞ্চল যার বেশিরভাগই মরুভূমি।
- বৃহত্তম শহর: লায়াউন।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা একটি বিতর্কিত অঞ্চল।
- এটি পূর্বে স্পেনের উপনিবেশ (Spanish Sahara) ছিল। ১৯৭৫ সালে তা স্বাধীন হয়। কিন্তু মরক্কো ওই এলাকার অনেকটাই দখল করে নেয়। তখন থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই চলছে মরক্কোর।
- দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের নাম পোলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ চলার পর মরক্কো এবং পোলিসারিও-র মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পোলিসারিও নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র নয়। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে "Non-self-governing territory" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে,
- তিমুর-লিস্টি (পূর্ব তিমুর) ২০০২ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।

⇒ জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ জুন, ১৯৪৫।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি: ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১৭২.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?
  1. বুলগেরিয়া
  2. হাঙ্গেরি
  3. পোল্যান্ড
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ সুইজারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়। অন্যদিকে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (
European Union):
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে।
- সদরদপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ: ৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ: ২৭টি।

⇒ ইইউ দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া , স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে।
• ১৮ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে প্যারিসে একচুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয় কয়লা ও ইস্পাত পরিষদ (ECSE- European Coal and Steel Community) গঠিত হয়।
• ২৫ মার্চ, ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্, ইতালি ফ্রান্স ও সাবেক পশ্চিম জার্মানী এ ৬টি রাষ্ট্রের মধ্যে 'রোম চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ সালে European Economic Community (EEC) এবং Euratom প্রতিষ্ঠিত হয়।
• পরবর্তীতে EEC একটি একক ইউরোপিয় অর্থনীতি গঠন করার প্রয়াস চালায়।
- ১৯৬৫ সালে সম্পাদিত 'ব্রাসেলস চুক্তি' সংগঠনটিকে European Community (EC) রূপান্তরিত করে।
• ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত 'ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি'র ভিত্তিতে EC রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন European Union (EU) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

এছাড়াও,
- শেনজেনভুক্ত দেশ: ২৯টি।
- ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশ: ২০টি।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।

১৭৩.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ফ্রান্স
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

♦ 'Five Eyes' গোয়েন্দা জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশ নয় ফ্রান্স। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা Five Eyes-এর সদস্য।

Five Eyes:
- Five Eyes ইন্টেলিজেন্স অ্যালায়েন্স, যা FVEY নামেও পরিচিত।
- ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের একটি গোয়েন্দা জোট।
- জোটটি UKUSA চুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
- তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে একসাথে কাজ করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তারা তাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে একে অপরকে সাহায্য করছে।
- সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য তারা শেয়ার করে।

⇒ UKUSA চুক্তি:
- ১৯৪৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একটি সমবায় গোয়েন্দা চুক্তি গঠন করে যা BRUSA চুক্তি নামে পরিচিত।
- এই গোপন চুক্তিটি পরবর্তীতে UKUSA চুক্তি হিসাবে আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
- এই চুক্তিটি ফাইভ আই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: Five Eyes ওয়েবসাইট।

১৭৪.
"কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"-অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?
  1. Development as Freedom
  2. Women and Human Development
  3. Development through Disposition
  4. Development, Environment and Power
ব্যাখ্যা

♦ "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন 'Development as Freedom' গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন।

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

⇒ ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারণ" - এই উক্তিটি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর। তিনি তার "Development as Freedom" গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন। এখানে 'সামর্থ্যের অভাব' বলতে শুধু আর্থিক সংগতিই নয়, বরং মানুষের সক্ষমতার অভাবকেও বোঝানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুযোগ এবং স্বাধীনতা লাভের অভাব।

এছাড়াও,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন। বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Development as Freedom- Amartya Sen.

১৭৫.
নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়?
  1. আজারবাইজান
  2. ভারত
  3. পাকিস্তান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

♦ আজারবাইজান রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও ইরান সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য।

Shanghai Cooperation Organisation (SCO):
- সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) হলো একটি ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা।
- এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- গঠিত হয়: ১৫ জুন, ২০০১ সাল।
- সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন।
- প্রতিষ্ঠিত সদস্য দেশ: ৬টি (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি (রাশিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, বেলারুশ)।
- সর্বশেষ সদস্য: বেলারুশ।
- বর্তমান মহাসচিব: Nurlan Yermekbayev।
- ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র: আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালের Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩১ আগস্ট -১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি SCO-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন ছিল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

উৎস: Shanghai Cooperation Organisation ওয়েবসাইট।

১৭৬.
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৮০
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

♦ ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
------------------------

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty):
- ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে সিন্ধু পানি চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: করাচি, পাকিস্তান।
- মধ্যস্থতাকারী: বিশ্বব্যাংক।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান।

⇒ সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়।
- এই চুক্তি সিন্ধু নদের অববাহিকার ছয়টি নদী দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে।
- চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।
- অন্যদিকে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় তিনটি নদ–নদী অর্থাৎ সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাবের নিয়ন্ত্রণ। বলা হয় পশ্চিম অংশের এ তিনটি নদ–নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানে মোট পানির প্রায় ৮০ ভাগ সরবরাহ করে।
- চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান পায় ৭০ ভাগ পানি আর ভারত পায় ৩০ ভাগ পানি।
- চুক্তিটি কোনো দেশ একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। বরং এতে সুস্পষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
---------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:

১৯৬০ সালে IWT স্বাক্ষরিত হলেও, ভারত ভাগের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-বণ্টন বন্দোবস্ত হয়েছিল ৪ মে ১৯৪৮—Inter-Dominion Agreement on Punjab Canal Waters. এই চুক্তিতে ভারত পাকিস্তানের অববাহিকায় পানি সরবরাহ দেবে, আর পাকিস্তান বার্ষিক অর্থপ্রদান করবে—যা ছিল স্থায়ী চুক্তি হওয়া পর্যন্ত একটি স্টপগ্যাপ/অন্তর্বর্তী সমাধান।
এই অন্তর্বর্তী বন্দোবস্তই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক-মধ্যস্থ আলোচনার পথ খুলে দেয় এবং ১৯৬০ সালের IWT-তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তাই প্রশ্নটি যদি “ইন্দাস ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-ব্যবস্থাপনা চুক্তি/সমঝোতা”—এই অর্থে নেওয়া হয়, তহলে ক) ১৯৪৮ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। কিন্তু প্রশ্নে সরাসরি এই চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ঘুরিয়ে উত্তর নেওয়ার সুযোগ কম।


উৎস:
i) Britannica.
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
iii) Ministry of External Affairs, Government of India.

১৭৭.
হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
  1. ব্রুনেই
  2. মালয়েশিয়া
  3. সিংগাপুর
  4. তানজানিয়া
ব্যাখ্যা

♦ হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

হালিমা ইয়াকুব:
- হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের অষ্টম ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
- ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হালিমা ইয়াকুব ক্ষমতায় এসেছিলেন।
- ২০২৩ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ থারমান শানমুগারাতনাম হালিমা ইয়াকুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট পদ অনেকটা আলংকারিক। প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নগররাষ্ট্রটির পুঞ্জীভূত আর্থিক রিজার্ভ দেখভাল করেন, সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত অনুমোদন করেন। তবে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বেশ কঠিন কিছু শর্ত রয়েছে। সংবিধান মতে, প্রেসিডেন্ট হচ্ছে নির্দলীয় একটি পদ।

⇒ সিঙ্গাপুর:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর।
- রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি।
- মুদ্রা: সিঙ্গাপুরীয় ডলার।
- দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: লরেন্স ওং (Lawrence Wong)।
- দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট: থারমান শানমুগারাতনাম (Mr Tharman Shanmugaratnam)।
- সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৯ সালে সিঙ্গাপুর স্ব-শাসিত হয়ে ওঠে।

এছাড়াও,
- আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক হলেন লি কুয়ান ইউ। লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে , সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.

১৭৮.
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন্ রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পাকিস্তান পিপলস পাটি (PPP)
  2. পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)
  3. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
  4. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

♦ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার:
- মুহাম্মদ ইসহাক দার একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ।
- তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইসহাক দার পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।
- তিনি মুসলিম লীগ এন-এর প্রধান নওয়াজ শরীফের বেয়াই।

⇒ ২৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবতরণ করেন।
- ১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি ঢাকা সফর করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরটি যতটা কূটনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। তাঁর সফরকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১৭৯.
তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জালাল তালাবানী
  2. মাসুদ বারজানী
  3. মাজলুম আবদি
  4. আবদুল্লাহ ওচালান
ব্যাখ্যা

♦ তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওচালান।

Kurdistan Workers' Party (PKK):
- কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) একটি কুর্দি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- এটি মূলত তুরস্ক, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ায় কুর্দিদের অধিকারের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
- পিকেকে ১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ ওচালানের (Abdullah Ocalan) নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- পিকেকে শুরুতে একটি সাম্যবাদী বিপ্লবী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- সংগঠনটির মূল দাবি ছিল স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দেয়।
- পিকেকে-কে বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও, অনেকের কাছে এটি কুর্দিদের অধিকারের জন্য সংগ্রামী প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য,
- পিকেকে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
- পিকেকে'র আদর্শ বিপ্লবী মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগত-জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশ সহ অনেক দেশ পিকেকেকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
- পিকেকে'র প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হল তুরস্কের পুলিশ, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পদ।
- সম্প্রতি (১ মার্চ, ২০২৫) কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) দেশটির সরকারের সঙ্গে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Republic of Türkiye Ministry of Foreign Affairs.

১৮০.
প্রাচীনকালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত হয়?
  1. মিশর
  2. গ্রীস
  3. চীন
  4. রোম
ব্যাখ্যা

♦ প্রাচীনকালে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত চীনে।

সিভিল সার্ভিস:
- সিভিল সার্ভিস একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। এটি মূলত একটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনী, যারা সংবিধান ও সরকারের নীতিমালার আলোকে কাজ করে।
- এছাড়া, তারা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা স্তরে নিয়োজিত থাকেন।

⇒ সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয়েছে – প্রাচীন কালেই; যখন কিনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।
- এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, সিভিল সার্ভিসের ধারণার উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রীক সভ্যতার সময়।
- পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্য প্রশাসনিক দপ্তর নির্মাণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল; যা পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চগুলোও অনুসরণ করে।

⇒ চীনে খ্রিস্টপূর্ব ২ অব্দে সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয় যা চীনা সভ্যতা/সাম্রাজ্যকে দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়িত্ব দিয়েছে।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের প্রাচীনতম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো চীনের ইম্পেরিয়াল আমলাতন্ত্র।
- চীনে সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়। চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চ বেতনের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে।
- চীনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা মান্দারিন ভাষায় হয় ‘Guako’।
- খ্রিষ্টপূর্ব ২০৬ অব্দে চীনের হান রাজবংশের রাজা গাওজু (Gaozu) এর শাসনামলে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের উন্মেষ ঘটে। তিনি প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে রাজকর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করেন। এই সময়ে ইম্পেরিয়াল পরীক্ষা ব্যবস্থা (Keju বা Civil Service Examination) চালু হয়, যা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থা পরবর্তীতে সুই (৫৮১-৬১৮) এবং তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭) সময়ে আরও উন্নত হয়।
- পরবর্তীতে অন্যান্য রাজবংশের শাসনের সময় তা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে ও অধিক সুসংগঠিত হয়।
- সং সাম্রাজ্য (Song Dynasty – 960–1279) প্রথম যোগ্যতা (jinshi degree) ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়।
- মিং সাম্রাজ্যের (Ming dynasty – 1368–1644) সময় সিভিল সার্ভিস সিস্টেম চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে কিং সাম্রাজ্যও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে। এই সময় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ নিজের এলাকায় নিয়োগ না পাওয়া, এক স্থানে তিনবছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করা ইত্যাদি নিয়ম অন্তর্ভূক্ত হয়। তাছাড়া, উচ্চপদের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস অন্তর্ভূক্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়।
- চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর মূলত বর্তমান রাষ্ট্রীয় সিভিল সার্ভিসের প্রচলন ঘটে। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই সার্ভিসে যোগদান করে।

• তাই, সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হিসেবে চীন দেশকেই গণ্য করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর এই কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারত ও পাকিস্তানের নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামোতে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৮১.
একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
  1. 2√2 মিটার
  2. 2√3 মিটার
  3. 2 মিটার
  4. 2√6 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার

আমরা জানি,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 6a2, [যেখানে a হলো ঘনকের একটি বাহুর দৈর্ঘ্য।]

প্রশনমতে,
6a2 = 48
⇒ a2 = 48/6
⇒ a2 = 8
⇒ a = √8 = 2√2
∴ a = 2√2 মিটার

আবার,
আমরা জানি,
ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√3
= (2√2) × √3 ; [a = 2√2]
= 2√(2 × 3)
= 2√6

সুতরাং, ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য 2√6 মিটার।

১৮২.
একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?


  1. ১৬

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?

সমাধান:
ধরি,
বড় গোলকের ব্যাসার্ধ = R
ছোট গোলকের ব্যাসার্ধ, r = R/2

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন V = (4/3)πr3

এখন,
বড় গোলকের আয়তন = (4/3)πR3
ছোট গোলকের আয়তন = (4/3)π(R/2)3 = (1/8) × (4/3)πR3

∴ ছোট গোলকের সংখ্যা = বড় গোলকের আয়তন ÷ ছোট গোলকের আয়তন
= {(4/3)πR3} ÷ {(1/8) × (4/3)πR3}
= 1/(1/8)
= 8

সুতরাং, বড় গোলকটি গলিয়ে ৮টি সমান ছোট গোলক তৈরি করা সম্ভব।

১৮৩.
logx4 = - 2 হলে x = কত?
  1. 1/2
  2. - 1/2
  3. 2
  4. - 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: logx4 = - 2 হলে x = কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
logx4 = - 2
⇒ 4 = x- 2
⇒ 4 = 1/x2
⇒ x2 = 1/4
⇒ x2 = (1/2)2
∴ x = 1/2

১৮৪.
একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?

সমাধান:
ধরি,
দ্বিতীয় কোণ = x
প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক।
∴ প্রথম কোণ = x/2
এবং,
তৃতীয় কোণটি অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ।
অর্থাৎ, তৃতীয় কোণ = 3{x - (x/2)} = 3(2x - x)/2 = 3x/2

আমরা জানি,
ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি সর্বদা 180°

প্রশ্নমতে,
x + (x/2) + (3x/2) = 180°
⇒ (2x + x + 3x)/2 = 180°
⇒ 6x/2 = 180°
⇒ 3x = 180°
⇒ x = 180°/3
∴ x = 60°

অতএব, দ্বিতীয় কোণটি হলো 60°.

১৮৫.
একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?
  1. 100
  2. 150
  3. 200
  4. 300
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n - 1)d ; যেখানে a = প্রথম পদ, d = সাধারণ অন্তর।

সুতরাং,
সমান্তর ধারার 4র্থ পদ = a + (4 - 1)d = a + 3d
সমান্তর ধারার 12 পদ = a + (12 - 1)d = a + 11d

প্রশ্নমতে,
a + 3d + a + 11d = 20
∴ 2a + 14d = 20 ........ (1)

আবার,
সমান্তর ধারার প্রথম n পদের যোগফল = (n/2) × {2a + (n - 1)d}
∴ সমান্তর ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল = (15/2) × {2a + (15 - 1)d}
= (15/2) × {2a + 14d}
= (15/2) × 20 ; [(1) নং হতে]
= 15 × 10
= 150

সুতরাং, ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল 150

১৮৬.
x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?
  1. [-9, 3]
  2. [3, ∞)
  3. (-9, 3)
  4. (∞, -9)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
⇒ x2 + 6x - 27 < 0

এখন,
⇒ x2 + 9x - 3x - 27 = 0
⇒ x(x + 9) - 3(x + 9) = 0
⇒ (x + 9)(x - 3) = 0
হয়, (x + 9) = 0
∴ x = - 9

এবং, (x - 3) = 0
∴ x = 3

অসমতাটি হলো x2 + 6x - 27 < 0 যেহেতু এটি একটি দ্বিঘাত অসমতা, এর সমাধানটি মূল দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হবে। অর্থাৎ, x এর মান - 9 এবং 3 এর মধ্যে থাকবে।

সুতরাং, সমাধান সেট = (- 9, 3)

বিকল্প সমাধান:
যদি x = - 10 হয়, তাহলে (- 10)2 + 6(- 10) - 27 = 100 - 60 - 27 = 13 > 0
যদি x = 0 হয়, তাহলে (0)2 + 6(0) - 27 = 0 - 0 - 27 = - 27 < 0
যদি x = 4 হয়, তাহলে (4)2 + 6(4) - 27 = 16 + 24 - 27 = 13 > 0

সুতরাং, সমাধান সেটটি (-9, 3) এর মধ্যে অবস্থিত।

১৮৭.
একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?




ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?

সমাধান:
লাল বল = ৪
নীল বল = ৩
হলুদ বল = ২
সবুজ বল = ১
মোট = ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ বল

সমাধান করতে হবে: কমপক্ষে কয়টা বল তুললে অন্তত একটি লাল বল উঠবেই।

- কমপক্ষে লাল বল বের করার জন্য worst case বিবেচনা করতে হবে।
worst case = প্রথমে সব লাল না তুলে বাকি সব রঙের বল তুলতে হবে।

লাল নয় এমন বলের সংখ্যা = ৩ + ২ + ১ = ৬
অতএব, ৬টা বল তোলার পরও আমরা কোনো লাল বল নাও পেতে পারি।

এখন,
৬টা লাল নয় এমন বলের পর আরও ১টা বল তুললে লাল বল আসবেই।
অতএব, ৭টা বল তুলতে হবে।

সঠিক উত্তর: (গ) ৭

১৮৮.
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?
  1. { }
  2. {a, b}
  3. { 0 }
  4. {- a, - b}
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2}

প্রদত্ত রাশি,
N - M = {1, 2} - {a, b, 1, 2} = { }
N - M = { }

অথবা,
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান হলো একটি খালি সেট, অর্থাৎ ∅ বা { }। এর কারণ হলো N সেটের সকল উপাদান (1 এবং 2) M সেটে উপস্থিত রয়েছে। N - M মানে হলো N সেটের এমন সকল উপাদান যা M সেটে নেই, এবং এই ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান নেই।

সুতরাং, N - M = ∅ বা {}

১৮৯.
ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?
  1. (a2, b2)
  2. (a, b)
  3. (0, a)
  4. (a, 0)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ax + by = a2 ............ (1)
bx - ay = ab..........(2)

সমীকরণ (1)-কে b দিয়ে গুণ করে পাই, abx + b2y = a2b.......(3)
সমীকরণ (2)-কে a দিয়ে গুণ করে পাই, abx - a2y = a2b.......(4)

এখন, (3) - (4) করে পাই,
abx + b2y - abx + a2y = a2b - a2b
⇒ y(a2 + b2) = 0
∴ y = 0

y এর মান (1) নং এ বসিয়ে পাই,
ax + 0 = a2
⇒ x = a2/a = a
∴ x = a

সুতরাং, সমাধান (x, y) = (a, 0)

১৯০.
একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

  1. ১৬

  2. ১/২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
একটি গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn -1

দেওয়া আছে,
৫ম পদ, ar4 = 32 .........(১)
৮ম পদ, ar7 = 256 .........(২)

এখন, (২) নং কে (১) নং দ্বারা ভাগ করে পাই,
ar7/ar4 = 256/32
⇒ r3 = 8
⇒ r3 = 23
∴ r = 2

সুতরাং, ধারাটির সাধারণ অনুপাত ২ ।

১৯১.
একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

  1. ১.৫

  2. ০.৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

সমাধান:
ট্রেনের বেগ = ১০০ ফুট/সেকেন্ড
গুলির বেগ = ২০০ ফুট/সেকেন্ড
স্তম্ভের দূরত্ব = ৩০০ ফুট

ব্যক্তি ট্রেনের উপর থেকে সামনের দিকে গুলি ছুড়েছে, তাই গুলির আপেক্ষিক কার্যকর বেগ = ট্রেনের বেগ + গুলির বেগ।

কার্যকর বেগ = ২০০ + ১০০ = ৩০০ ফুট/সেকেন্ড
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = ৩০০ ÷ ৩০০ = ১ সেকেন্ড

১৯২.
দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-
  1. x2 - 4
  2. 2(x2 - 4)
  3. 4(x2 - 4)
  4. x + 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-

সমাধান:

[মূল প্রশ্নে 4x2 + 12x2 - 16x - 48 অংশটি ভুল দেওয়া আছে, এটি: 4x3 + 12x2 - 16x - 48 হবে, তাই ল,সা, গু 4x3 + 12x2 - 16x - 48 ধরে সমাধান করা হয়েছে]

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
গ,সা,গু = 2x + 4

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
অপর সংখ্যা = ?

আমরা জানি,
প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু

গ,সা,গু = 2x + 4 = 2(x + 2)

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
= 4(x2 + 5x + 6)
= 4(x + 2)(x + 3)

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
= 4(x3 + 3x2 - 4x - 12)
= 4[x2(x + 3) - 4(x + 3)]
= 4(x + 3)(x2 - 4)
= 4(x + 3)(x - 2)(x + 2)

প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু
দ্বিতীয় সংখ্যা = [4(x + 3)(x - 2)(x + 2) × 2(x + 2)] / [4(x + 2)(x + 3)]
= [8(x + 3)(x - 2)(x + 2)2] / [4(x + 2)(x + 3)]
= 2(x - 2)(x + 2)
= 2(x2 - 4)

১৯৩.
যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?
  1. শুক্রবার
  2. বুধবার
  3. সোমবার
  4. রবিবার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?

সমাধান:
গতকাল শুক্রবার ছিল।
অতএব, আজ শনিবার।
এখন আজ থেকে ৮১ তম দিন কোন বার হবে তা বের করতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে ৭ দিন থাকে, তাই আমরা ৮১ কে ৭ দিয়ে ভাগ করব:

৮১ ÷ ৭ = ১১ সপ্তাহ এবং ৪ দিন।
অতএব, ৮১ দিনের ব্যবধান মানে ৪ দিন পরের বার।

এখন আজ (শনিবার) থেকে ৪ দিন যোগ করি:
আজ = শনিবার (দিন ০)
দিন ১ = রবিবার
দিন ২ = সোমবার
দিন ৩ = মঙ্গলবার
দিন ৪ = বুধবার

∴ সঠিক উত্তর: বুধবার

১৯৪.
নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......


  1. ১০
  2. ১২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

সমাধান:
দেওয়া ধারা: ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = √৯ = ৩
তৃতীয় পদ = ৫
চতুর্থ পদ = √৪৯ = ৭
পঞ্চম পদ = ?

এখন সংখ্যাগুলি দেখি: ১, ৩, ৫, ৭.......

প্যাটার্ন: এটি একটি বিজোড় সংখ্যার ধারা যেখানে প্রতিটি পদ আগের পদ থেকে ২ বেশি।

১ থেকে ৩ = +২
৩ থেকে ৫ = +২
৫ থেকে ৭ = +২
৭ থেকে ? = +২
পরবর্তী সংখ্যা = ৭ + ২ = ৯

∴ সঠিক উত্তর: খ) ৯

১৯৫.
১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

  1. ২৫

  2. ১০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

সমাধান:
১ জন লোক ১ টা কলা = ১ মিনিট
১ জন লোক ৫ টা কলা = ৫ মিনিট

৫ জন লোক ১ টা করে কলা = ১ মিনিট (সবাই একসাথে খায়)
৫ জন লোক ৫ টা কলা = ১ মিনিট (প্রতিটি লোক ১ টা কলা খায়)

কারণ: যখন ৫ জন লোক একসাথে খায়, তারা একই সময়ে কলা খাওয়া শুরু করে এবং শেষ করে। প্রতিটি লোক ১ টা কলা খেতে ১ মিনিট সময় নেয়।

১৯৬.
একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?
  1. 200
  2. 300
  3. 400
  4. 500
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?

সমাধান:
ধরি,
বইটির ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
10% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য = 100 - 10 = 90 টাকা
5% লাভে, বিক্রয়মূল্য = 100 + 5 = 105 টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য বেশি = 105 - 90 = 15 টাকা

বিক্রয়মূল্য 15 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
বিক্রয়মূল্য 1 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100/15 টাকা
বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = (100 × 60)/15 টাকা
= 400 টাকা

সুতরাং, বইটির ক্রয়মূল্য 400 টাকা।

১৯৭.
কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?
  1. আস্তে
  2. জোরে
  3. একইভাবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?

সমাধান:

গিয়ার মেকানিজমের নীতি:

যখন দুটি গিয়ার চাকা সংযুক্ত থাকে, তখা তারা একে অপরকে স্পর্শ করে এবং চলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- ছোট চাকার দাঁতের সংখ্যা < বড় চাকার দাঁতের সংখ্যা
- যখন সংযুক্ত থাকে, উভয় চাকার দাঁত একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই সংখ্যক বার মিলিত হয়

গতির সম্পর্ক:
- ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘোরে (জোরে/বেগে ঘোরে)।

কারণ:
- যদি বড় চাকায় 100 দাঁত এবং ছোটটায় 20 দাঁত থাকে
- বড় চাকা 1 বার ঘুরলে, ছোট চাকা 5 বার ঘোরে
- তাই ছোট চাকা আরও বেশি দ্রুত ঘোরে
- সঠিক উত্তর: খ) জোরে

সুতরাং, ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে জোরে/দ্রুত গতিতে ঘোরে।

১৯৮.
১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?
  1. ৪৫
  2. ৩০
  3. ১৫

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?

সমাধান:

স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য = ১৫ মিটার
এক প্রান্তের ওজন = ১০ কেজি
পেরেক বিভাজন = ৩ : ২

৩ : ২ অনুপাতে পুরো ১৫ মিটারকে ৫ ভাগে ভাগ করলে পেরেকটি এক প্রান্ত থেকে ৯ মিটারে আছে। অপর অংশ = ৬ মিটার। ভারসাম্য শর্ত অনুযায়ী টর্ক সমান হবে।

বাঁ দিকের টর্ক = ১০ কেজি × ৯ মিটার = ৯০
ডান দিকের টর্ক = W × ৬ মিটার

W = ৯০ ÷ ৬ = ১৫ কেজি

সঠিক উত্তর: গ) ১৫ কেজি

১৯৯.
একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. 5/7
  2. 2/7
  3. 5/12
  4. 1/4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?

সমাধান:
প্রথম থলিতে, 3 টি সবুজ বল, 2 টি লাল বল
দ্বিতীয় থলিতে, 2 টি সবুজ বল, 5 টি লাল বল

অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - দুইটি বলই লাল
প্রথম থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 2/5
দ্বিতীয় থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 5/7

দুইটি লাল হওয়ার সম্ভাব্যতা = (2/5) × (5/7) = 2/7
অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - (2/7) = 5/7

∴ সঠিক উত্তর: ক) 5/7

২০০.
PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. PR = 2QR
  2. PQ = 2PR
  3. PR = 2PQ
  4. QR = 2PQ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?

সমাধান:
এখানে,
∠Q = 90°
∠P = 2∠R

আমরা জানি,
∠P + ∠Q + ∠R = 180°
∠Q = 90°
⇒ ∠P + ∠R = 90°

∠P = 2∠R
⇒ 2∠R + ∠R = 90°
⇒ ∠R = 30°,

∴ ∠P = 60°
সমকোণ ত্রিভুজে,
PR = অতিভুজ
QR = বিপরীত ∠P,
PQ = বিপরীত ∠R

sin P = QR / PR
→ sin 60° = √3/2
→ QR = (√3/2) PR

sin R = PQ/PR
→ sin 30° = 1/2
→ PQ = (1/2) PR
সুতরাং, PR = 2 PQ